• শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
কমলগঞ্জে ১৩৫তম “প্যাট্রিওটস ডে অব মণিপুর” উদযাপিত মৌলভীবাজার অনলাইন প্রেসক্লাবের যুগপূর্তি: প্রযুক্তির আলোকবর্তিকায় এক যুগ ও সংস্কৃতির মহামিলন আবহমান বাংলার লড়াকু সাধক আব্দুর রহমান ভান্ডারী: লোকসংস্কৃতির নিবেদিতপ্রাণ ভানুগাছ বাজারে পূবালী ব্যাংকের উদ্যোগে ক্যাশলেস বাংলাদেশ বিষয়ক মতবিনিময় সভা ও সেলফ সার্ভিস কর্ণার উদ্বোধন রাজনগরে টেংরাবাজার শাখায় পূবালী ব্যাংক পিএলসি-র “ডিজিটাল ইলেকট্রনিক বুথ” উদ্বোধন মৌলভীবাজার অনলাইন প্রেসক্লাবের একযুগপূর্তি উপলক্ষ্যে বর্ণাঢ্য র‍্যালির উদ্বোধন মৌলভীবাজার চক্ষু হাসপাতালে পূবালী ব্যাংক পিএলসি ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ফাইরোজ সায়ারা আহমদ জিপিএ ৫ পেয়ে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন মৌলভীবাজারের সরকার বাজারে পূবালী ব্যাংক পিএলসি-র ইলেকট্রনিক বুথ উদ্বোধন পূবালী ব্যাংক পিএলসি-র ইলেকট্রনিক বুথ শুভ উদ্বোধন

আবহমান বাংলার লড়াকু সাধক আব্দুর রহমান ভান্ডারী: লোকসংস্কৃতির নিবেদিতপ্রাণ

কমলকুঁড়ি প্রতিবেদক / ১৮ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬

শত অভাব-অনটন, জীবনের কঠিন সংগ্রাম আর নদীভাঙনের সঙ্গে লড়াই করেও যারা লোকসংস্কৃতির আলো জ্বেলে রাখেন, আব্দুর রহমান ভান্ডারী তাদেরই একজন। মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদীঘেঁষা রাজারগাঁও গ্রামের এক সাধারণ মুসলিম পরিবারে ১৯৬২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া এই গুণী মানুষটি আজ কেবল একটি নাম নন, বরং বাংলার লোকজ সংস্কৃতির এক জীবন্ত প্রবাদপ্রতিম চরিত্র।
দারিদ্র্য ও অভাব-অনটন ছিল তাঁর নিত্যদিনের সঙ্গী। এর জেরে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা মাত্র তৃতীয় শ্রেণিতে গিয়ে থেমে গেলেও তাঁর মননশীলতা ও সৃজনশীলতা ছিল জন্মগত। জীবনসংগ্রামের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়েও তিনি নিজেকে গড়ে তুলেছেন এক স্বশিক্ষিত ও প্রজ্ঞাবান মানুষ হিসেবে। জীবিকার তাগিদে অতীতে কাঠমিস্ত্রির মতো ভারী কাজ করতে হয়েছে তাঁকে। তবে অন্তরের গভীরে লালন করা সুর ও সাহিত্যের টানে তিনি বুঁদ হয়ে থাকতেন লোকগানের ভুবনে।
বাল্যকাল থেকেই লোকসাহিত্য ও গান-বাজনার প্রতি ছিল তাঁর গভীর অনুরাগ। এই টানেই তিনি একে একে রচনা করেছেন জারি, সারি, ভান্ডারী, মুর্শিদি, দেহতত্ত্ব ও শিশুতোষ কবিতা। লোকসংগীতের প্রতি তাঁর এই আজীবন সাধনা ও অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এলাকাবাসী তাঁকে ভালোবেসে ‘ভান্ডারী’ উপাধিতে ভূষিত করেন। আবহমান বাংলার লোকগীতি পরিবেশন করে তিনি সাধারণ মানুষের হৃদয়ে চিরস্থায়ী আসন করে নিয়েছেন।

নদীপাড়ের কেবল একখানা ভিটেমাটিই তাঁর সহায়-সম্পদ। স্ত্রী, চার ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে গড়া তাঁর সংসারটি কঠোর সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের এক অনন্য দলিল। সীমিত সামর্থ্যের মাঝেও তিনি সন্তানদের মানুষের মতো করে গড়ে তুলতে কোনো কমতি রাখেননি: বড় ছেলে: পেশায় একজন দক্ষ ওয়ার্কশপ কর্মী। মেজো ছেলে: উচ্চশিক্ষিত, অর্জন করেছেন মাস্টার্স ডিগ্রি। তৃতীয় ছেলে: নিয়োজিত আছেন মিস্ত্রি পেশায়। চতুর্থ ছেলে: পবিত্র কুরআনের হাফেজ। দুই মেয়ে: পড়াশোনা করেছেন এসএসসি পর্যন্ত। অভাবের তাড়নায় সন্তানদের জীবনে বিত্ত-বৈবব না দিতে পারলেও নৈতিকতা ও শিক্ষার আলো জ্বেলে দিতে পেরেছেন—এটাই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
বস্তুগত বিত্তহীনতা কখনোই তাঁর আধ্যাত্মিক মননকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। বিভিন্ন উরুস, আসর ও মোকাম-মঞ্জিলে নিয়মিত যাতায়াত এবং এলাকাবাসীর সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো তাঁর স্বভাবজাত গুণ। বার্ধক্য ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে বর্তমানে তিনি কর্মক্ষম নন এবং বেশিরভাগ সময় বাড়িতেই কাটে তাঁর দিন। তবে শারীরিক অবস্থা একটু ভালো থাকলে এখনো তিনি স্থানীয় বিভিন্ন নির্বাচনের মাইকিং ও স্টেজ প্রোগ্রামে অংশ নেন।
জীবনের পড়ন্ত বেলায় এসে এই লড়াকু সাধক পেলেন এক ঐতিহাসিক স্বীকৃতি। গত বুধবার, ১১ আগস্ট ২০২৬ মৌলভীবাজার অনলাইন প্রেসক্লাবের এক যুগপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এম. সাইফুর রহমান অডিটোরিয়ামে লোক সাধক ও লোকজ সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের জন্য তাঁকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

“গান ও সৃষ্টির মাঝে মানুষের প্রাণে চিরদিন বেঁচে থাকাই তাঁর জীবনের মূল চাওয়া।”

বস্তুগত বৈভবের মোহ ত্যাগ করে লোকসংস্কৃতির সাধনায় ব্রতী হওয়া আব্দুর রহমান ভান্ডারী তাঁর কর্ম ও সৃষ্টির মাধ্যমে মৌলভীবাজার তথা পুরো দেশের লোকমঞ্চে চিরকাল অমর হয়ে থাকবেন।


আরো সংবাদ পড়ুন...
Developed By Radwan Web Service