• বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৩:২১ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
শ্রীমঙ্গলে এনসিপি নেতাদের পুলিশী বাঁ/ধা তেতইগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠিত মৌলভীবাজারে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৯৫ কিমি সড়ক: নিম্নমানের কাজ ও পাহাড়ি ঢলে লাখো মানুষের দুর্ভোগ কমলগঞ্জে ১৪ ফুট লম্বা অজগর উদ্ধার মৌলভীবাজারে আইন-শৃঙ্খলা ও মাদক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত পাহাড়ি জীবনে স্বনির্ভরতার ছোঁয়া: কমলগঞ্জে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাঝে সেলাই মেশিন ও বাইসাইকেল বিতরণ মৌলভীবাজারের ক্যাশলেস টেংরা বাজার গড়ার প্রত্যয়ে পূবালী ব্যাংকের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সেলফ সার্ভিস কর্নারের উদ্বোধন কমলগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠিত কমলগঞ্জ জামিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসায় কৃতি সংবর্ধনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত কমলগঞ্জে পাহাড় রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

মৌলভীবাজারে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৯৫ কিমি সড়ক: নিম্নমানের কাজ ও পাহাড়ি ঢলে লাখো মানুষের দুর্ভোগ

কমলকুঁড়ি প্রতিবেদক : / ১৭ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬

 

 

অতিবৃষ্টি ও ভারতের পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের মনু ও ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে সৃষ্ট বন্যায় জেলার কমলগঞ্জ, রাজনগর, কুলাউড়া ও সদর উপজেলায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বন্যার পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও রেখে গেছে ভয়াবহ দুর্ভোগের চিহ্ন। জেলার চার উপজেলায় গ্রামীণ ও আঞ্চলিক সড়কসহ প্রায় ৯৫ কিলোমিটার পাকা সড়ক ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন লাখো মানুষ।

তবে শুধু প্রাকৃতি তাণ্ডবই নয়, স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ—অধিকাংশ গ্রামীণ রাস্তাঘাট ভেঙে যাওয়ার পেছনে মূল কারণ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও কর্তৃপক্ষের নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং অপরিকল্পিত ও দুর্নীতিগ্রস্ত কাজ।

এলজিইডি (স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর) সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক বন্যায় মৌলভীবাজারের অভ্যন্তরীণ পাকা সড়ক, আঞ্চলিক সড়ক এবং গ্রামীণ জনপদের রাস্তাঘাট পানির তীব্র স্রোতে তলিয়ে গেছে। অনেক স্থানে দেখা দিয়েছে বড় বড় গর্ত, আবার কোথাও সড়কের আস্তরণ সম্পূর্ণ ধসে বিলীন হয়ে গেছে। এর ফলে ভারী যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের হেঁটে চলাও দায় হয়ে পড়েছে।

কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদীর ভাঙনে আদমপুর-ইসলামপুর সড়কের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ধলাই নদীর ভাঙনে আদমপুর-ইসলামপুর সড়কের বেহাল দশা হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় রাস্তা ভেঙে গভীর খাদের সৃষ্টি হয়েছে। ঘরবাড়ি ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি যাতায়াতের এই বেহাল অবস্থা আমাদের জীবনকে পঙ্গু করে দিয়েছে।”

নদীর পানি উপচে ও বিভিন্ন স্থানে বাঁধ ভেঙে গ্রামীণ ও আঞ্চলিক সড়কগুলোর ওপর দিয়ে তীব্র বেগে প্রবাহিত হওয়ায় পিচ ও খোয়া উঠে রাস্তাগুলো চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

এলজিইডি মৌলভীবাজার সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক হিসাবে জেলার ৯৫ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার অর্থমূল্য প্রায় ২৮ কোটি টাকা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশ কিছু সেতু ও কালভার্টও।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। দুর্গতদের ভাষ্য, বন্যার পানি নামলেও তাদের দুর্দশার শেষ নেই। ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতির চেয়েও গ্রামীণ সড়কগুলোর বেহাল দশা তাদের জীবনযাত্রাকে স্থবির করে দিয়েছে।

ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের অভিযোগ, কেবল পাহাড়ি ঢল বা নদীর ভাঙনই নয়, বরং সড়ক নির্মাণের সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিম্নমানের কাজ ও দুর্নীতির কারণেই সামান্য পানির স্রোতে রাস্তাগুলো এমন মাকড়সার জালের মতো ছিঁড়ে গেছে। সঠিক ও টেকসই তদারকি না থাকায় প্রতিবার বন্যার পরই গ্রামীণ অবকাঠামোর এই চড়া মূল্য দিতে হয় সাধারণ জনগণকে।

জরুরি ভিত্তিতে এসব রাস্তাঘাট মেরামত ও পুনর্নির্মাণ করে যাতায়াত ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার জোর দাবি জানিয়েছেন মৌলভীবাজারের ক্ষতিগ্রস্ত জনপদের বাসিন্দারা।


আরো সংবাদ পড়ুন...
Developed By Radwan Web Service