• শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০০ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে কমলগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত শ্রীমঙ্গলে ক্রিকেট একাডেমি উদ্বোধন করলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী, নতুন স্টেডিয়ামের জায়গা পরিদর্শন শ্রীমঙ্গলে ৩নং সদর ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থীদের শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা ও বিলবোর্ড প্রচার মৌলভীবাজারে সাংবাদিকদের সাথে বারডেক্সের মতবিনিময় সভা: পঞ্চম শিল্প বিপ্লবের রূপরেখা ও অর্থনৈতিক মুক্তির আহ্বান কমলগঞ্জে হযরত বড়পীর আবদুল কাদির জিলানী (রহ.)-এর ঈসালে সাওয়াব মাহফিল সম্পন্ন ইতালি প্রবাসী বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের দেশে আগমন উপলক্ষে সিলেট বিভাগ ঐক্য পরিষদ পালেরমো শাখার সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত মৌলভীবাজারে কলেজছাত্র নাঈম হত্যা মামলায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড শ্রীমঙ্গলে গৃহপরিচারিকাকে অপহরণ ও দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা, গ্রেপ্তার ৩ মৌলভীবাজারে সেনা সদস্য পরিচয়ে মেলায় চাঁ/দা দাবি, গ্রে/ফ/তার ২ অভয় চরণ উচ্চ বিদ্যালয়ে সততা স্টোরের উদ্বোধন ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ 

মৌলভীবাজারে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৯৫ কিমি সড়ক: নিম্নমানের কাজ ও পাহাড়ি ঢলে লাখো মানুষের দুর্ভোগ

কমলকুঁড়ি প্রতিবেদক : / ৩১ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬

 

 

অতিবৃষ্টি ও ভারতের পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের মনু ও ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে সৃষ্ট বন্যায় জেলার কমলগঞ্জ, রাজনগর, কুলাউড়া ও সদর উপজেলায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বন্যার পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও রেখে গেছে ভয়াবহ দুর্ভোগের চিহ্ন। জেলার চার উপজেলায় গ্রামীণ ও আঞ্চলিক সড়কসহ প্রায় ৯৫ কিলোমিটার পাকা সড়ক ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন লাখো মানুষ।

তবে শুধু প্রাকৃতি তাণ্ডবই নয়, স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ—অধিকাংশ গ্রামীণ রাস্তাঘাট ভেঙে যাওয়ার পেছনে মূল কারণ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও কর্তৃপক্ষের নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং অপরিকল্পিত ও দুর্নীতিগ্রস্ত কাজ।

এলজিইডি (স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর) সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক বন্যায় মৌলভীবাজারের অভ্যন্তরীণ পাকা সড়ক, আঞ্চলিক সড়ক এবং গ্রামীণ জনপদের রাস্তাঘাট পানির তীব্র স্রোতে তলিয়ে গেছে। অনেক স্থানে দেখা দিয়েছে বড় বড় গর্ত, আবার কোথাও সড়কের আস্তরণ সম্পূর্ণ ধসে বিলীন হয়ে গেছে। এর ফলে ভারী যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের হেঁটে চলাও দায় হয়ে পড়েছে।

কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদীর ভাঙনে আদমপুর-ইসলামপুর সড়কের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ধলাই নদীর ভাঙনে আদমপুর-ইসলামপুর সড়কের বেহাল দশা হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় রাস্তা ভেঙে গভীর খাদের সৃষ্টি হয়েছে। ঘরবাড়ি ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি যাতায়াতের এই বেহাল অবস্থা আমাদের জীবনকে পঙ্গু করে দিয়েছে।”

নদীর পানি উপচে ও বিভিন্ন স্থানে বাঁধ ভেঙে গ্রামীণ ও আঞ্চলিক সড়কগুলোর ওপর দিয়ে তীব্র বেগে প্রবাহিত হওয়ায় পিচ ও খোয়া উঠে রাস্তাগুলো চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

এলজিইডি মৌলভীবাজার সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক হিসাবে জেলার ৯৫ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার অর্থমূল্য প্রায় ২৮ কোটি টাকা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশ কিছু সেতু ও কালভার্টও।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। দুর্গতদের ভাষ্য, বন্যার পানি নামলেও তাদের দুর্দশার শেষ নেই। ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতির চেয়েও গ্রামীণ সড়কগুলোর বেহাল দশা তাদের জীবনযাত্রাকে স্থবির করে দিয়েছে।

ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের অভিযোগ, কেবল পাহাড়ি ঢল বা নদীর ভাঙনই নয়, বরং সড়ক নির্মাণের সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিম্নমানের কাজ ও দুর্নীতির কারণেই সামান্য পানির স্রোতে রাস্তাগুলো এমন মাকড়সার জালের মতো ছিঁড়ে গেছে। সঠিক ও টেকসই তদারকি না থাকায় প্রতিবার বন্যার পরই গ্রামীণ অবকাঠামোর এই চড়া মূল্য দিতে হয় সাধারণ জনগণকে।

জরুরি ভিত্তিতে এসব রাস্তাঘাট মেরামত ও পুনর্নির্মাণ করে যাতায়াত ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার জোর দাবি জানিয়েছেন মৌলভীবাজারের ক্ষতিগ্রস্ত জনপদের বাসিন্দারা।


আরো সংবাদ পড়ুন...
Developed By Radwan Web Service