যান্ত্রিক শহরের ব্যস্ততা ও কোলাহলের মাঝেও মৌলভীবাজারের বিভিন্ন অলিগলি আর ব্যস্ত মোড়ে শোনা যায় চড়ই পাখির মনোমুগ্ধকর কিচিরমিচির শব্দ। বিশেষ করে পড়ন্ত বিকেলে দলবেঁধে এই ক্ষুদে পাখিদের কলকাকলি পথচারী ও শহরবাসীর মনে এনে দেয় এক অপূর্ব প্রশান্তি। দিনের ক্লান্তি শেষে যখন সূর্য ঢলে পড়ে, তখন চড়ইয়ের এই মেলা ক্লান্তি ভোলানোর এক প্রাকৃতিক ওষুধ হয়ে ওঠে।
শহরের কুসুমবাগ, সেন্ট্রাল রোড, এম সাইফুর রহমান রোডসহ বিভিন্ন আবাসিক এলাকার গাছপালা ও পুরোনো ভবনের কার্নিশে এদের আনাগোনা চোখে পড়ে। তবে এর মধ্যে শহরের প্রাণকেন্দ্র চৌমুহনী এলাকায় চড়ই পাখির বিচরণ ও কোলাহল সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে বাজারের বৈদ্যুতিক তার, সাইনবোর্ডের খাঁজ এবং ছাদের কোণায় হাজারো চড়ইয়ের কিচিরমিচির সুর পুরো পরিবেশকে এক অন্যরকম প্রাণবন্ত রূপ দেয়।
প্রকৃতির এই সহজ সুন্দর দৃশ্য আধুনিক কংক্রিটের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ রূপের কথা মনে করিয়ে দেয়। পরিবেশবিদদের মতে, শহরে কংক্রিটের দালানকোঠা বাড়লেও চড়ইয়ের মতো দেশীয় পাখির টিকে থাকা প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক। পড়ন্ত বিকেলে চৌমুহনীর এই চড়ইয়ের ডাক কেবল একটি শব্দ নয়, বরং ইট-পাথরের শহরে এক টুকরো প্রকৃতির গান, যা শুনলেই মন জুড়িয়ে যায়।
সংবাদকর্মী চিনু রঞ্জন তালুকদার বলেন, শহরের চৌমুহনায় বিকেল বেলা চড়ই পাখির শব্দ শুনতে খুব ভালো লাগে। একসাথে যখন তারা ডাকে পথচারীদের মুগ্ধ করে। একসময় গ্রামগঞ্জে ছনের ঘরে তারা বসবাস করতো। এখন নেই। তাই শহরমূখী হয়েছে। পরিবেশে ভারসাম্য রক্ষায় তাদের লালন পালনে সরকারি উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।
Developed By Radwan Web Service