কমলকুঁড়ি প্রতিবেদক :
একজন আদর্শ শিক্ষক শুধু শ্রেণিকক্ষেই জ্ঞানের আলো ছড়ান না, বরং নিজ সন্তানদেরও গড়ে তোলেন সুনাগরিক হিসেবে। এই সত্যেরই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের কৃতি সন্তান, কমলগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ হুমায়ূন কবীর। শিক্ষকতার দীর্ঘ কর্মজীবনে শত শত শিক্ষার্থীকে আলোর পথ দেখানো এই শিক্ষক ব্যক্তিগত জীবনেও আজ এক সফল ও গর্বিত বাবা।
গত ১০ জুলাই ‘সাহিদা পারভীন ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট’ কর্তৃক ‘সফল বাবা’ হিসেবে সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন তিনি। সততা, নিষ্ঠা ও আদর্শের আলোকবর্তিকা হিসেবে পরিচিত এই শিক্ষকের তিন সন্তানই আজ স্ব-স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত এবং মানবিক সেবায় নিয়োজিত।
তিনির স্ত্রী ছালেহা মাহমুদ কমলগঞ্জের কুমড়াকাপন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা।
মোঃ হুমায়ূন কবীরের তিন সন্তানই উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত এবং পেশাগত জীবনে অত্যন্ত সফল। তাঁর বড় ছেলে তানভীর আহমদ সিলেট নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজের লেকচারাল। মেয়ে ফারজানা বেগম সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজে লেকচারার এবং ছোট মেয়ে নওশীন আফসানা একই মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নরত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বাবা মোঃ হুমায়ূন কবীর ও মা’র আদর্শ লালন করে আজ তিন সন্তানই সমাজে নিজের অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। সন্তানদের এই সফলতার নেপথ্যে কঠোর পরিশ্রম, সুশিক্ষা এবং নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা দিয়েছেন এই শিক্ষক দম্পতি।
নিজের সন্তানদের সাফল্য এবং সম্মাননা প্রাপ্তি প্রসঙ্গে মোঃ হুমায়ূন কবীর বলেন, “শিক্ষক হিসেবে সব শিশুই আমার সন্তান। আর নিজ সন্তানদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে মানুষের মতো মানুষ করা একজন বাবার নৈতিক দায়িত্ব। আমার সন্তানদের এই সাফল্যে আমি গর্বিত। আমি তাদের জন্য সকলের দোয়া প্রার্থী।”
একজন শিক্ষক ও অভিভাবক হিসেবে মোঃ হুমায়ূন কবীরের অবদানকে স্বীকৃতি দিতেই ‘সাহিদা পারভীন ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট’ তাঁকে ‘সফল বাবা’ সম্মাননায় ভূষিত করে। এলাকার বিশিষ্টজনদের মতে, হুমায়ূন কবীর শুধু কমলগঞ্জের গর্ব নন, তিনি সকল বাবার জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। সততা ও নিষ্ঠার সাথে জীবন অতিবাহিত করলে এবং সন্তানদের সঠিক দিকনির্দেশনা দিলে যে সফল হওয়া যায়, তা তিনি প্রমাণ করেছেন।
Developed By Radwan Web Service