কমলকুঁড়ি প্রতিবেদক :
মৌলভীবাজারে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় জেলাজুড়ে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল। বন্যা পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করতে শনিবার তিনি মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলার বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে অবস্থান নেওয়া ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নিয়েছেন।
আজ পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক মৌলভীবাজার সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের মাইজপাড়া দাখিল মাদ্রাসা এবং কনকপুর ইউনিয়নের শাহ বন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাময়িকভাবে স্থাপিত আশ্রয়কেন্দ্রগুলো ঘুরে দেখেন। সেখানে আশ্রয় নেওয়া নারী, শিশু ও বয়স্কদের দুর্দশার কথা শোনেন এবং তাদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী ও শুকনো খাবার বিতরণ করেন। তিনি আশ্রয়কেন্দ্রে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন।
এরপর জেলা প্রশাসক রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর গ্রামে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। সেখানেও তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা প্রদান করেন।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, “বন্যাদুর্গত প্রতিটি মানুষের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া আমাদের প্রধান লক্ষ্য। জেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষের নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী বিতরণে কোনো গাফিলতি সহ্য করা হবে না।”
তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং স্বেচ্ছাসেবকদের দুর্গতদের সহযোগিতায় সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি, বন্যার পানি নেমে না যাওয়া পর্যন্ত দুর্গত মানুষকে সচেতন থাকার এবং প্রশাসনের নির্দেশনাবলী মেনে চলার পরামর্শ দেন।
এ সময় জেলা প্রশাসকের সঙ্গে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), তানভীর হোসেনসহ মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং জেলা প্রশাসনের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বন্যা মোকাবিলায় পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী মজুদ রয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে দুর্গত প্রতিটি এলাকায় সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।
Developed By Radwan Web Service