রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে হঠাৎই এক মর্মান্তিক আর্তনাদ। কে জানতো, স্বাভাবিক এই ফেরাটাই হয়ে থাকবে জীবনের শেষ যাত্রা? মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে দুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিভে গেল একটি তাজা প্রাণ। ১৮ বছরের তরুণী রুমালি বেগম—যার চোখের পাতায় ছিল কতশত রঙিন স্বপ্ন—আজ এক লহমায় হারিয়ে গেলেন মহাকালের ঠিকানায়।
গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টা ২০ মিনিট। ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত গভীর হওয়ার পালা। উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের শ্রীনাথপুর মূল সড়ক দিয়ে বিপরীত দিক থেকে ছুটে আসা দুটি সিএনজি অটোরিকশা যেন মুখোমুখি হলো এক নির্মম নিয়তির খেলায়। মুহূর্তের মধ্যে বিকট শব্দে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেল যান দুটি। সড়কে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়লেন যাত্রীরা; রাতের চাদর মুড়ে থাকা বাতাস ভারী হয়ে উঠল আর্তনাদে।
স্থানীয়রা ছুটে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান তাঁদের। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। হাসপাতালের সাদা দেয়াল আর নিস্তব্ধ করিডোরকে ভারী করে চিকিৎসক যখন ঘোষণা করলেন রুমালি আর নেই, তখন চারপাশ যেন স্তব্ধ হয়ে আসে। রামচন্দ্রপুর গ্রামের এই তরুণীর মৃত্যুতে শোকে আচ্ছন্ন তাঁর পুরো পরিবার ও এলাকাবাসী।
এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও চারজন—হাফিজা (১৯), লিপন (২৮), নজির মিয়া (৫৫) এবং সিএনজিচালক শুভ চন্দ্র। তাদের মধ্যে হাফিজা ও নজির মিয়ার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। জীবনের সঙ্গে লড়াই করা এই মানুষগুলোকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত পাঠানো হয়েছে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় পুলিশ। কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কমর উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনা কবলিত দুটি সিএনজি উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
সড়কের এই নিষ্ঠুর নৃত্য যেন প্রতিবারই কেড়ে নেয় অমূল্য প্রাণ। রুমালির এই শূন্যতা হয়তো স্বজনদের হৃদয়ে আজীবন রক্তক্ষরণ ঘটিয়ে যাবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : পিন্টু দেবনাথ , মৌলভীবাজার, সিলেট, বাংলাদেশ। মোবাইলঃ 01716362944
ইমেইল : pintupress@gmail.com
© ২০২৪ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কমলকুঁড়ি | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি