আপনি যে মতের বা যে দলের-ই হোন না কেনো,তাদেরকে আলাদা করে দেখতে পারবেন না,,,,,,,!
জীবনের পথচলায় মতের অমিল, রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য বা ব্যক্তিগত মতভেদ থাকতেই পারে এটাই বাস্তবতা। কিন্তু কিছু মানুষ থাকেন, যাঁরা সময়কে অতিক্রম করে সমাজের চেতনায় এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠেন। মৌলভীবাজার এমন তিনজন মহান সন্তানকে পেয়েছিল, যাঁরা রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে জেলার আত্মপরিচয়ের অংশ হয়ে গেছেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব আব্দুল আজিজ❤️
জাতির সবচেয়ে গর্বিত অধ্যায় ‘মুক্তিযুদ্ধ’ এর একজন সরাসরি অংশগ্রহণকারী ছিলেন। তিনি ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের সম্মানিত চেয়ারম্যান। একজন সৎ, নির্লোভ ও আদর্শবান নেতা হিসেবে তিনি স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে করেছেন মানুষের কল্যাণমুখী। উনার নেতৃত্ব, শান্ত মেজাজ আর প্রজ্ঞা আজো জেলাবাসীর হৃদয়ে অম্লান রয়েছে।যার মাঝে ছিল না কোন অহংকার হিংসা প্রতিহিংসার রাজনীতি। যিনি সব সময় মানুষের দোয়া ও ভালোবাসা নিয়ে পৃথিবীতে বেচে ছিলেন।
প্রয়াত এম সাইফুর রহমান❤️
তিনি শুধু মৌলভীবাজারের একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন না ছিলেন সমগ্র বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরের একজন স্থপতি। যাঁর নেশা ছিল মানুষের কল্যাণে কাজ করা, উন্নয়নকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। তিনি ছিলেন বহুবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্বপালনকারী অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী।
তাঁর হাত ধরেই দেশ পেয়েছে একটি শক্তিশালী বাজেট কাঠামো, প্রান্তিক মানুষের জন্য গৃহীত হয়েছে যুগান্তকারী পরিকল্পনা। বিশ্বব্যাংক, এডিবি, আইএমএফ-এর মতো বৈশ্বিক মঞ্চে তিনি ছিলেন বাংলাদেশের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। সাহসী সিদ্ধান্ত ও দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) চালু করেন, যা রাজস্ব ব্যবস্থাকে দেয় কাঠামোগত ভিত্তি।
তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন অর্থনীতি মানে শুধু সংখ্যা নয়, মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই হলো অর্থনীতির মূল লক্ষ্য। তাই শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো, গ্রামীণ অর্থনীতি এবং কর্মসংস্থান সবখানেই তিনি রেখেছেন সরব উপস্থিতি। মৌলভীবাজারে তাঁর রেখে যাওয়া উন্নয়নচিহ্ন আজও দৃশ্যমান—সেতু, মহাসড়ক, কলেজ, হাসপাতাল কিংবা বিদ্যুৎ প্রকল্পসবকিছুতেই রয়েছে তাঁর সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার ছাপ।
উনার কণ্ঠে যখন বাজেট বক্তৃতা উঠত, তখন পুরো জাতি শুনত মনোযোগ দিয়ে কারণ তিনি ছিলেন একজন প্রকৃত সফল অর্থমন্ত্রী, যাঁর প্রতিটি শব্দের ওজন ছিল।
প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মহসীন আলী❤️
সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী, যাঁর রাজনীতি ছিল মানুষের জন্য, মানুষের পাশে। তাঁর ব্যক্তিত্বে ছিল এক অনন্য মানবিকতা ও দায়িত্ববোধ। মৌলভীবাজারের মানুষের সুখ-দুঃখের সাথী হিসেবে নিজেকে নিবেদন করেছিলেন আজীবন। রাজনীতিকে তিনি দেখতেন সেবার মাধ্যম হিসেবে। তিনি বিশ্বাস করতেন, মানুষের চোখের জল মুছিয়ে দেওয়াটাই প্রকৃত জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব।
তাঁরা ছিলেন তিনটি আলাদা রাজনৈতিক মতের অনুসারী, কিন্তু মৌলভীবাজারের প্রতি তাঁদের ভালোবাসা ছিল অভিন্ন, নিঃস্বার্থ ও নিখাদ। এঁরা কেউ ছিলেন না কেবল দলের নেতা ছিলেন জেলার প্রতিটি মানুষের হৃদয়ের মানুষ।
👉 তাই এই মহামানবদের নিয়ে যে কোনো আলোচনা হোক সম্মানের সাথে, শ্রদ্ধার সাথে।
তাঁদের অবদান নিয়ে প্রশ্ন তোলা নয়, বরং গর্ব করা আমাদের দায়িত্ব।
তাঁরা ইতিহাস, তাঁরা প্রেরণা তাঁরা মৌলভীবাজারের আত্মা।
আপনি যদি এই মহান মানুষদের শ্রদ্ধা করেন, তাঁদের স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে ও প্রজন্মকে জানাতে পোস্টটি শেয়ার করুন।
#মৌলভীবাজার #স্বরণীয়তিনজন #গর্বেরনেতা #মুক্তিযোদ্ধা_আব্দুলআজিজ
#এম_সাইফুর_রহমান #সৈয়দ_মহসিন_আলী #ইতিহাস #বাংলাদেশ #LegendsofMoulvibazar
সম্পাদক ও প্রকাশক : পিন্টু দেবনাথ , মৌলভীবাজার, সিলেট, বাংলাদেশ। মোবাইলঃ 01716362944
ইমেইল : pintupress@gmail.com
© ২০২৪ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কমলকুঁড়ি | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি