সদ্য সংবাদ

বিভাগ: মাধবপুর

কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন : অধ্যাপক মো: রফিকুর রহমান চেয়ারম্যান (আওয়ামীলীগ), রামভজন কৈরী ভাইস চেয়ারম্যান, বিলকিস বেগম মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

Pic-K
পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার নির্বাচন ভোট সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী নৌকা প্রতীকের অধ্যাপক মো. রফিকুর রহমান ৪৯,১৮৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি  স্বতন্ত্র প্রার্থী আনারস প্রতীকের মো: ইমতিয়াজ আহমেদ বুলবুল ১৯,৪৫০ ভোট ও ওয়ার্কার্স মনোনীত প্রার্থী হাতুড়ী প্রতীকের আব্দুল আহাদ মিনার ভোট ৩৬৫ পান।
ভাইস চেয়ারম্যান পদে টিউবওয়েল প্রতীকের রামভজন কৈরী ৩১,০১২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি তালা প্রতীকের মো: সিদ্দেক আলী ১৮,৭৭৯ ভোট, চশমা প্রতীকের শাব্বির এলাহী ৯,৭৬৮ ভোট ও মাইক প্রতীকের আব্দুল মুয়ীন ফারুক ৮,১৮২ ভোট পান।

Kamalgonj Pic-4
মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে পদ্মফুল প্রতীকের বিলকিস বেগম ৩৮,৭৭৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি ও বল প্রতীকের পারভীন আক্তার লিলি ২৮,৩৫৪ ভোট পান।
কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চাবাগানের কয়েকটি ভোট কেন্দ্র ব্যতীত অন্যান্য ভোট কেন্দ্র সমুহে ভোটারের উপস্থিতি ছিল খুবই নগন্য। সকাল ৮টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হলেও কেন্দ্র সমুহে দায়িত্বরত সংশ্লিষ্টরা বসে অলস সময় পার করেছেন। দু’একটি কেন্দ্রে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণ ভোট অনুষ্ঠিত হয।

Kamalgonj Pic-2
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, একটি পৌরসভা ও নয়টি ইউনিয়ন নিয়ে সীমান্তবর্তী এ উপজেলায় মোট ভোটারের সংখ্যা ১,৭৯,৪শ’ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৮৯ হাজার ৫৬৪ ও মহিলা ৮৯ হাজার ৮৩৬ জন। ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৭২টি ও ভোট কক্ষের সংখ্যা ৪৫৬টি। তবে সকাল থেকেই ভোট কেন্দ্র সমুহে ভোটারের উপস্থিতি চোখে পড়েনি। চা বাগানের কিছু কেন্দ্র সমুহে ভোটার উপস্থিতি ছিল সন্তোষজনক। উপজেলা সদর, পতনঊষার, শমশেরনগর, রহিমপুর ও মুন্সীবাজার ইউনিয়নের ভোট কেন্দ্র ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া যায়। বিকেলে কর্মী সমর্থকেরা বাড়ি বাড়ি থেকে কিছু ভোটার এনে ভোট প্রদান করেন। বেলা ১১টায় পতনঊষার মাইজগাঁও প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আনারস ও নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এছাড়া রহিমপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৌণে ১২টায় জাল ভোটের অভিযোগে প্রিসাইডিং অফিসারের সাথে নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী রফিকুর রহমানের সাথে বাকবিতন্ডার ঘটনা ঘটে। ইসলামপুরের বাঘাছড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬২টি ব্যালেট পেপার ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া পুরো উপজেলায় শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

জীববৈচিত্র রক্ষার স্বার্থে লাউয়াছড়ার ভিতরের রাস্তা ও ট্রেন লাইন নতুনভাবে নির্মান ও সরানোর বিষয়টি সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে – পরিবেশ ও বন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন

Pic-22কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে বিভিন্ন প্রাণী ও জীববৈচিত্র রক্ষার স্বার্থে লাউয়াছড়ার ভিতর দিয়ে যে রাস্তা ও ট্রেন লাইন রয়েছে সেটি নতুনভাবে নির্মান ও সরানোর বিষয়টি সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে। পাশাপাশি পাকা রাস্তাটি বন্ধ না করে উভয় পাশে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ফ্যানসিং করার পরিকল্পনা আছে। এটি বাস্তবায়িত হলে তখন আর লাউয়াছড়ায় বন্য প্রানী দূর্ঘটনায় মারা যাবেনা। পরিবেশ ও বন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন শনিবার (৯ মাচ) মৌলভীবাজার বর্ষিজুড়া ইকোপার্ক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

Pic-1
মন্ত্রী আরো বলেন, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক পলিথিন ব্যবহার আমরা এক সাথে বন্ধ করে দিলে তখন এমনিতেই পলিথিন বন্ধ হয়ে যাবে। তবে পলিথিন ব্যবহারের বিকল্প পাটের ব্যাগ ব্যবহারে আর্থীক অনুদান প্রদানের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পাটের ব্যাগ ব্যবহার শুরু হলে এমনিতেই পলিথিন চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। এসময় উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য নেছার আহমদ, মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) রোকন উদ্দিন, মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়র ফজলুর রহমান, মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহজালাল, বিভাগীয় বন কর্মকর্তাসহ জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ।

ইতিহাসে চির অম্লান তথা উজ্জ্বল হয়ে থাকবে ৭ মার্চের এই ভাষণ

images১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু রেসকোর্সের জনসভায় বাঙালির আকাক্সিক্ষত স্বপ্নের বাণী উচ্চারণ করেছিলেন। ঘোষণা করেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ একই সঙ্গে তিনি সাত কোটি বাঙালিকে মুক্ত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তাঁর এই ভাষণকে বিশ্বের ইতিহাসের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষণের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বলে গণ্য করা হয়। এই ভাষণই বাঙালি জাতিকে প্রস্তুত করেছিল সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে। পাকিস্তানী হানাদারদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সেই ভাষণ প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।
বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা সংগ্রামে শরিক হওয়ার ডাক দিয়েছিলেন। কিন্তু পাকিস্তানী শাসকদের সঙ্গে নিয়মতান্ত্রিক আলোচনার পথ থেকে পিছিয়ে যাননি। এটা নিঃসন্দেহে তাঁর বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতার পরিচয় বহন করে। কিন্তু পাকিস্তানী হানাদাররা বাঙালি জাতিকে নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্র করে। একদিকে আলোচনা চলেছে, অন্যদিকে তারা পশ্চিম পাকিস্তান থেকে সৈন্য ও অস্ত্র আনা অব্যাহত রেখেছে। তারা কখনই এ দেশের মানুষের ন্যায্য দাবি মেনে নিতে চায়নি। তারা চেয়েছিল বাংলার মানুষকে চিরকাল গোলাম করে রাখতে। ১৯৪৭ সালের দেশভাগ ও পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকে তারা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান বা পূর্ববঙ্গের মানুষের ন্যায্য দাবি কখনই মেনে নেয়নি। এখানকার মানুষকে তারা সমান অধিকার দেয়নি কখনই। বরং শুরু থেকেই নব্য ঔপনিবেশিক শাসন ও শোষণের যাঁতাকলে বেঁধেছে এখানকার মানুষকে। প্রথমে তারা আঘাত হেনেছে বাংলা ভাষার ওপর। উর্দুকে তারা পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা করার কথা ঘোষণা করেছিল। ১৯৪৮ সাল থেকেই পাকিস্তানী শাসকদের এ ষড়যন্ত্রমূলক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে পূর্ববঙ্গের মানুষ তীব্র প্রতিবাদ জানায়। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে প্রাণ দিতে হয় এদেশের মানুষকে। বরকত, সালাম, রফিক, জব্বার, শফিকসহ অনেককে ভাষার জন্য জীবন দিতে হয়। কিন্তু আন্দোলন থেমে থাকেনি। বরং পাকিস্তানীদের অন্যায় শোষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে এখানকার গণতান্ত্রিক আন্দোলন স্বাধিকার আন্দোলনে রূপ নেয় এবং তা ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় চূড়ান্ত লক্ষ্যের দিকে।
বস্তুত ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু যে ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন, তার একটি বিশাল ও রক্তক্ষয়ী পটভূমি রয়েছে। ১৯৪৭ সালের পর ২৩ বছরের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তা ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে। এ জন্য এ দেশের মানুষকে অনেক মূল্য দিতে হয়েছে, অনেক আত্মত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। কিন্তু ক্ষমতার গর্বে উন্মাতাল পাকিস্তানী শাসকরা কখনও উপলব্ধি করেনি, এভাবে অন্যায়-জুলুমের মধ্য দিয়ে কোন সচেতন মানবগোষ্ঠীকে দাবিয়ে রাখা যায় না।
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক রমনার রেসকোর্সের জনসভায় বঙ্গবন্ধুর চিরায়ত ভাষণের মধ্য দিয়ে এদেশের মানুষের ভবিষ্যত নির্ধারিত হয়। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মানুষ শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করেছে শান্তিপূর্ণভাবে-নিয়মতান্ত্রিক পথে সমস্যা সমাধানের। কিন্তু ২৫ মার্চ রাতে বিশ্বাসঘাতক পাকিস্তানী হানাদাররা সব নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে ঝাঁপিয়ে পড়ে নিরস্ত্র বাঙালীর ওপর। সেদিন ‘যার যা আছে তাই নিয়ে’ এ দেশের মানুষ হানাদারদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে। দীর্ঘ নয় মাসের নিরন্তর মুক্তির লড়াইয়ের পর বিজয়ী হয় বাঙালি জাতি। তাই ঐতিহাসিক ৭ মার্চের গুরুত্ব আজও অম্লান। মূলত ৭ মার্চের ভাষণই ছিল স্বাধীনতার ঘোষণা এবং একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা অর্জনের নির্দেশিত পথ। যতকাল বাংলাদেশ নামক ভূখন্ডটি বেঁচে থাকবে ভূমন্ডলে ততকাল বেঁচে থাকবেন তার মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

বর্ণাঢ্য আয়োজনে কমলগঞ্জের ভাষা উৎসব উদযাপিত : বহু ভাষাভাষি অধ্যুষিত কমলগঞ্জ উপজেলায় ভাষা চর্চা একাডেমি স্থাপনের দাবী

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

Vasha Pic Kamalgonj-2
বহু ভাষার ক্ষৃদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য কমলগঞ্জে ভাষা চর্চা একাডেমি স্থাপনের আহবান জানিয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে মৌলভীবাজারের সীমান্তবর্তী কমলগঞ্জের ভাষা উৎসব-২০১৯ উদযাপিত হয়েছে। ভাষাতাত্ত্বিক আলোচনা ও ১০টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শনিবার বিকেলে সমাপ্ত হলো কমলগঞ্জের ভাষা উৎসব। কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন এবং সাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদ, কমলগঞ্জ এর আয়োজনে শনিবার সকাল ১১টায় কমলগঞ্জ উপজেলা সদরস্থ জেলা পরিষদ অডিটরিয়াম প্রাঙ্গণে বেলুন উড়িয়ে দিনব্যাপী ভাষা উৎসবের শুভ উদ্বোধন করেন সাবেক চিফ হুইপ, সরকারি অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি, মুক্তিযোদ্ধা উপাধ্যক্ষ ড. মো: আব্দুস শহীদ এমপি।

Vasha Pic Kamalgonj-3

পরে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে অডিটরিয়ামে এসে শেষ হয়। জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সুচনার পর কমলগঞ্জের ভাষা-বৈচিত্র্য এবং ভাষাসংগ্রামী ‘ মো: ইলিয়াস জীবন ও কর্ম গ্রন্থদ্বয়ের মোড়ক উম্মোচন করা হয়। সম্মাননা প্রদান করা হয় ভাষাসংগ্রামী জননেতা মো: ইলিয়াস এর সহধর্মিনীকে। মূলত, ভাষাচর্চা, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষার বিপন্নতারোধ, চর্চা ও বিকাশের লক্ষে উপজেলা প্রশাসন এবং সাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদ যৌথভাবে এর আয়োজন করে। ভাষা উৎসবকে কেন্দ্র করে নানা ভাষার মানুষের বর্ণিল মেলবন্ধন ঘটেছিল। ভাষা উৎসব উপলক্ষে জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামের সামনে বিভিন্ন ধরণের স্টল বসেছিল।

Pic-1
দুপুরে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশেকুল হকের সভাপতিত্বে ও অধ্যাপক শাহাজান মানিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সরকারি অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি, মুক্তিযোদ্ধা উপাধ্যক্ষ ড. মো: আব্দুস শহীদ এমপি। সম্মানিত অতিথি ছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ সদস্য, মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক মো: রফিকুর রহমান, সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক, কমলগঞ্জ থানার ওসি মোঃ আরিফুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদ, কমলগঞ্জ এর আহবায়ক আহমদ সিরাজ। আলোচনায় অংশ নেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের উপ-পরিচালক নাজমুন্নাহার বেগম, লেখক ও ভাষাবিজ্ঞানী ড. সেলু বাসিত, কবি ও গবেষক প্রফেসার নৃপেন্দ্র লাল দাশ, লেখক ও গবেষক রসময় মোহান্ত, শিক্ষাবিদ ও গবেষক ড. আবুল ফতেহ ফাত্তাহ, লেখক ও গবেষক ড. শোয়াইব জিবরান, লেখক ও গবেষক ড. রণজিত সিংহ, কবি ও কথা সাহিত্যিক আকমল হোসেন নিপু, লেখক ও গবেষক পাভেল পার্থ, অধ্যাপক সাইয়্যিদ মুজিবুর রহমান, কমলগঞ্জ সরকারি গণ মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ কামরুজ্জামান মিয়া, সুজা মেমোরিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ ম. মুর্শেদুর রহমান, আব্দুল গফুর চৌধুরী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো: হেলাল উদ্দিন, অধ্যাপক অবিনাশ আচার্য্য, কবি সনাতন হামোম প্রমুখ।  অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদের আহবায়ক আহমদ সিরাজ।

Vasha Pic Kamalgonj-4
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাধ্যক্ষ ড. মো: আব্দুস শহীদ এমপি বলেন, কমলগঞ্জ উপজেলায় বেশ কয়েকটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী এবং চা বাগানে বসবাসরত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। সমতলের অন্য কোন উপজেলায় এতো ক্ষুদ্র ন-গোষ্ঠীর বসবাস বিরল। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর উন্নয়নে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
ভাষাতাত্ত্বিক আলোচনায় বক্তারা বলেন, কমলগঞ্জ উপজেলার মতো বাংলাদেশের আর কোন উপজেলায় এমনভাবে জনবৈচিত্র্যের বিপুল সম্ভার নেই। এই জনবৈচিত্র্যের সম্ভার ভাষা-মণিপুরী (তিনভাগি), খাসি, সাওতাল, মুন্ডা, গারো, তেলেগু, উরাং, ত্রিপুরী, ভুজপুরীসহ নানা ভাষার জনগোষ্ঠীর মানুষের বসবাস রয়েছে। বহুমাত্রিক ও বর্ণিল জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যসমৃদ্ধ সীমান্তবর্তী উপজেলা কমলগঞ্জ বাংলাদেশের অনেকগুলো বৈশিষ্ট্য স্পর্শ করে নান্দনিক চরিত্র বহন করছে। মূলত ভাষাচর্চা, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষার বিপন্নতারোধ, চর্চা ও বিকাশের লক্ষ্যে এই ভাষা উৎসবের আয়োজন। রাজধানী ঢাকার পরেই উপজেলা হিসেবে কমলগঞ্জে বহু ভাষাভাষার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। এজন্য এই উপজেলায় সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় একটা ভাষা চর্চা একাডেমি বা ভাষা চর্চা কেন্দ্র স্থাপন করা জরুরী।
অতিথিদের আলোচনার ফাঁকে ফাঁনে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন-২০১৯ যাচাই বাছাইকালে কমলগঞ্জে ২ চেয়ারম্যান ও ২ ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

d7fcfd222801ecf80d258c195f0b515f-5c4728aa0ae3e
আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে দ্বিতীয় ধাপ ১৮ মার্চে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মনোনয়ন পত্র যাচাই বাছাই অনুষ্ঠিত হয় বুধবার মৌলভীবাজার জেলা রিটানির্ং অফিসার জেলা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয়ে। যাছাই বাচাইকালে কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগ মনোনিত প্রার্থী ১জন, ওয়ার্কাস পার্টির মনোনিত ১জন, এবং ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। মৌলভীবাজার জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এই চার প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিলের ঘোষণা দেন।
বুধবার সকাল ১১টায় মৌলভীবাজার জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দি প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাছাই বাচাই করা হয়। যাচাই বাছাই শেষে জেলা রিটার্নিং অফিসার ও নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ মঞ্জুরুল আলম চেয়ারম্যান পদে ব্যাংক ঋণ খেলাপী দেখিয়ে আওয়ামীলীগ মনোনিত প্রার্থী অধ্যাপক মো. রফিকুর রহমান এবং ওয়ার্কাস পার্টির মনোনিত প্রার্থী আব্দুল আহাদ মিনারকে আয়কর রিটার্ন জমা না দেওয়ায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন। একই সাথে ব্যাংক ঋণ খেলাপীর কারণে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক মো. সিদ্দেক আলী ও ভোটারের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরসহ স্বাক্ষরিত পত্রটিতে জালিয়াতির কারণে মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীনের মনোনয়ন পত্র বাতিল ঘোষণা করেন।
মৌলভীবাজার জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ মঞ্জুরুল আলম চেয়ারম্যান পদে ২ প্রাথী ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিলের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এখন প্রার্থীরা আপিলের সুযোগ পাবেন।
কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদে মনোনয়ন বাতিল হওয়া আওয়ামীলীগ মনোনিত প্রার্থী অধ্যাপক মো. রফিকুর রহমান বলেন, তিনি ঋণ খেলাপী নন। তিনি ঋণ পরিশোধ করেছেন আগেই। তবে ব্যাংক থেকে সঠিক কাগজ জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে পৌছেনি। ব্যাংকের কাগজপত্র তিনি নিজেও জমা করেছেন। এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে একটি প্রতিবেদন আসার কথা। তিনি এ ব্যাপারে আপিল করবেন বলে জানান। একই কথা জানান মনোনয়ন বাতিল হওয়া ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সিদ্দেক আলী।
উল্লেখ্য, গত সোমবার ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে কমলগঞ্জে আওয়ামীলীগ মনোনিত প্রার্থী অধ্যাপক মো. রফিকুর রহমান ও আওয়ামীলীগ ঘরোনার স্বন্ত্র প্রার্থী মৌলভীবাজার-৪ আসনের সাংসদ উপাধ্যক্ষ ড. মো: আব্দুস শহীদের ছোট ভাই ইতমিয়াজ আহমদ বুলবুল স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র জমা করেছিলেন। একই দিনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগ বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল গফুর ও ওয়ার্কার্স পার্টির মনোনিত প্রার্থী আব্দুল আহাদ মিনার জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে মনোনয়পত্র জমা করেছিলেন।
একই দিনে কমলগঞ্জে ভাইস চেয়ারম্যান পদে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামীলীগ যুগ্ম সম্পাদক মো. সিদ্দেক আলী, সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মী শাব্বির এলাহী, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রাম ভজন কৈরী, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিএনপির আব্দুল মুঈন ফারুক, মৃুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন মনোনয়নপত্র জমা করেছিলেন। অন্যদিকে এদিন কমলগঞ্জে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান পারভীন আক্তার (লিলি) ও মহিলা আওয়ামীলীগ নেত্রী শিক্ষিকা বিলকিছ বেগম মনোনয়নপত্র জমা করেছিলেন।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন-২০১৯ কমলগঞ্জে চেয়ারম্যান পদে ৩, ভাইস চেয়ারম্যান ৬ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২টি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

10
আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন-২০১৯ উপলক্ষে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে চেয়ারম্যান পদে ৩ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২ জন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৫টা পর্যন্ত চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোট ১১ জন প্রার্থী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। আগামী ১৮ মার্চ দ্বিতীয় ধাপে কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত চেয়ারম্যান পদে বর্তমান চেয়ারম্যান বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ সদস্য অধ্যাপক মো: রফিকুর রহমান, উপজেলা বিআরডিবি চেয়ারম্যান ইমতিয়াজ আহমেদ বুলবুল, উপজেলা আওয়ামীলীগ সদস্য শমশেরনগর ইউনিয়নের প্রাক্তন চেয়ারম্যান মো: আব্দুল গফুর, ভাইস চেয়ারম্যান পদে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো: ছিদ্দেক আলী, ব্যবসায়ী নারায়ণ পাল, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরী, আওয়ামীলীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন, সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মী শাব্বির এলাহী ও উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আং মুয়ীন (ফারুক), মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পারভীন আক্তার (লিলি) ও মহিলা আওয়ামীলীগ নেত্রী শিক্ষিকা বিলকিছ বেগম মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত চেয়ারম্যান পদে ৩ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২ জনসহ মোট ১১ জন প্রার্থী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের শেষ দিন।

কমলগঞ্জের মাধবপুর চা গাছ তুলে ঘর তুলছেন শ্রমিকেরা: উৎপাদন ব্যহত হওয়ার শংকা

 

সাজু  মার্চিয়াং : মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জের মাধবপুর চা বাগানের বসত ঘর নির্মাণের জমি না পেয়ে গত সোমবার দুপুরে। চা শ্রমিকরা প্লান্টেশন এলাকার প্রায় ৭০একর জমি জবর দখল করে ঘর নির্মাণ করছে বলে জানান, কমলগঞ্জ  মাধবপুর চা বাগানের প্রধান ব্যবস্থাপক মুরাদ চৌধুরী। এতে বাগানের উৎপাদন ব্যহত হওয়ার শংকা প্রকাশ করেন তিনি। তিনি জানান,বাগানের চা শ্রমিক মুন্না ভর,গোপাল নুনিয়া, রামহরি নুনিয়া,অখিল বাগতি,কানাই রবিদাসসহ বেশ কিছু চা শ্রমিক মলিত হয়ে প্রথম গত ২৫ডিসেম্বর মঙ্গলবার ৭নম্বর প্লান্টেশন এলাকা জবর দখল করেছিল। দখলকারী চা শ্রমিকরা প্রথমে কিছু এলাকা চা গাছ উপড়ে ফেলে করে সেখানে বসতঘর নির্মাণ শুরু করলে চা বাগান কর্তৃপক্ষ এ চা বাগানের ৯নম্বর সেকশনের পতিত জমিতে বসত ঘর নির্মাণের কথা জানালে কিছু চা শ্রমিক সেখানে গিয়ে বসতঘর নির্মাণ করে বসবাস শুরু করে। গত সোমবার দুপুরে আবার, মাধবপুর চা বাগানের শ্রমিক রামহরি নুনিয়া, সুমন নুনিয়া, সাধন বাগতি, রাধেশ্যাম দাশ, পলাশ শীল, মুন্না ভরের নেতৃত্বে বেশ কিছু শ্রমিক ৭ নম্বর সেকশনের প্রায় ৬০/ ৭০ একর প্লান্টেশন এলাকা দখল করে কিছু চা গাছ উপড়ে ফেলে সেখানে বসত ঘর নির্মাণ শুরু করে। রামহরি নুনিয়া, সুমন নুনিয়া সাংবাদিকদের জানান, চা বাগান ব্যবস্থাপন ৯নম্বর সেকশনের পতিত জমিতে বসত ঘর নির্মাণের কথা বললেও সে জমি বন্যা কবলিত ও দূরবর্তী এলাকায় পড়েছে। সেখানে তারা বসত ঘর নির্মাণ করবেন না। তাই ৭নম্বর সেকশনের এই উঁচু জমিতে তারা বসত ঘর নির্মাণ করছেন। মাধবপুর চা বাগানের প্রধান ব্যবস্থাপক মুরাদ চৌধুরী আরো বলেন, প্রথম দফায় এ চা বাগানের ৭ নম্বর প্লান্টেশন এলাকার জমি জবর দখল করে চা শ্রমিকরা বসত ঘর নির্মাণ শুরু করেছিল। তখর তাদের বুঝানোর পর চা শ্রমিকরা জমির দখল ছেড়ে দিয়েছিল। অনেক শ্রমিক আবার ৯ নম্বর সেকশনের পতিত জমিতে বসত ঘর নির্মাণ করে বসবাসও শুরু করেছে। সোমবার আবার একদল চা শ্রমিক ৭ নম্বর সেকশনের জমির দখল নিয়ে সেখানে বসতঘর নির্মাণ শুরু করে। এদের বেশীর ভাগই নিবন্ধিত চা শ্রমিক নয়। তিনি জানান, তারা আগে আবেদন করেছিল । আর বাগানের নিবন্ধিত শ্রমিক না হওয়া সত্যেও মানবিক কারণে তাদেরকে ৯ নম্বর সেকশনের জমিতে বসত ঘর নির্মাণের সুযোগ দিলেও কিছু শ্রমিক সেখানে বসতঘর নির্মাণ করে বসবাস করছে। আর একটি অংশ সে সুযোগ গ্রহন না করে তারা সোমবার জোর পূর্বক ৭ নম্বর সেকশন দখল করে রোপিত চা গাছ উপড়ে ফেলে অবৈধভাবে সেখানে বসত ঘর নির্মাণ করছে। বিষয়টি তিনি কোম্পানীর উর্ধতন কর্তৃপক্ষ ও কমলগঞ্জ থানাকে অবহিত করেছেন।
কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আরিফুর রহমান বলেন, ঘটনাটি মৌখিক ভাবে শুনেছেন বলে জানান। মাধবপুর চা বাগান কর্তৃপক্ষ এখন লিখিত কোন অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবে।

মাধবপুরে দিগন্ত যুব সংঘ এর আয়োজনে ব্যাডমিন্টন টুনামেন্ট ২০১৯ এর শুভ উদ্বোধন

received_2048712858583124

লিটন গঞ্জু, মাধবপুর
কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের পাত্রখোলা চা বাগানে মঙ্গলবার ২৩ জানু্য়ারি সন্ধ্যায় দিগন্ত যুব সংঘর আয়োজনে ব্যাডমিন্টন টুনামেন্টের শুভ উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনিষ্ঠানে উপস্থিতত ছিলেন ৮নং মাধবপুর ইউনিয়ন যুবলীগ এর অর্থ সম্পাদক মো: লিটন হোসেন,  লিটন গঞ্জু রাজু সভাপতি দিগন্ত যুব সংঘ, সাগর গড়ঁ সহ সাধারণ সম্পাদক দিগন্ত যুব সংঘ, স্বপন গড়ঁ রাধা অর্থ সম্পাদক দিগন্ত যুব সংঘ, সজল ভুমিজ , সুমন কৈরি, সনজিত ভুমিজ, স্বপন কৈরি, জয়প্রকাশ যাদব, মিটুন বাড়াইক, বিজন গোয়ালা, অজয় মান্দ্রাজী স্বেচ্ছা সেবক দিগন্ত যুব সংঘ।

মৌলভীবাজার ৪ টি আসনের মধ্যে ৩টি আওয়ামীলীগ ও ১টি ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীর বিজয়

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

MP

মৌলভীবাজার জেলার ৪টি আসনের মধ্যে ৩টি আওয়ামীলীগ ও ১টি ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী বিজয় লাভ করে।

মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী) আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. শাহাব উদ্দিন ৭৭ হাজার ৮শ ৬৩ ভোটের ব্যবধানে হ্যাটট্রিক জয় লাভ করেছেন। গতকাল রবিবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে সারা দেশে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়।
স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী আওয়ামী লীগ প্রাথী মো. শাহাব উদ্দিন নৌকা প্রতীকে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৬৭৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রাথী নাসির উদ্দিন মিঠু ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৬৫ হাজার ৮১৪ ভোট। এর আগে তিনি ২০০৮ ও ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের সাংসদ নির্বাচিত হন।
মৌলভীবাজার-২: সিলেট বিভাগ তথা সারাদেশজুড়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর জয়জয়কারের মধ্যেও জয়লাভ করেছেন মৌলভীবাজার-২ আসনের ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী সুলতান মুহাম্মদ মনসুর আহমদ। ২ হাজার ৫৭২ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন তিনি।
এই আসনের মোট ৯৩ কেন্দ্রের মধ্যে সুলতান মনসুর ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৭৪২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকা প্রতীকে বিকল্পধারার প্রার্থী এমএম শাহীন পেয়েছেন ৭৭ হাজার ১৭০ ভোট।

মৌলভীবাজার-৩ : মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনে ৭৯ হাজার ৯শ ৮৭ ভোটের ব্যবধানে প্রথমবারের মতো জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী নেসার আহমদ।
রবিবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে সারা দেশে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়। স্থানীয় সূত্রে ১৬৮টি কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত ফলাফলে জানা যায়, আওয়ামী লীগের প্রার্থী নেসার আহমদ পেয়েছেন ১ লক্ষ ৮৪ হাজার ৫শ ৭৯ ভোট। অপরদিকে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী নাসের রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৪ হাজার ৫শ ৯২ ভোট।

মৌলভীবাজার-৪: টানা ৬ষ্ঠ বারের মতো আবারো নির্বাচিত হয়েছেন মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল কমলগঞ্জ) সংসদীয় আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী ড. আব্দুস শহীদ। তার মোট প্রাপ্ত ভোট ২ লক্ষ ১১হাজার ৬১৩টি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মুজিবুর রহমান ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৯৩ হাজার ২৯৫টি। আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুস শহীদ মোট ১ লক্ষ ১৮ হাজার ৩১৮ ভোটের ব্যবধানে বেসরকারী ভাবে বিজয়ী হয়েছেন।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা সহকারি রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় হতে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৮০টি কেন্দ্রে নৌকা প্রতীকে ড. আব্দুস শহীদ মোট ভোট পেয়েছেন ১ লক্ষ ১৪ হাজার ৩৫০ টি, ধানের শীষ প্রতীকে মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী ৪৯ হাজার ৫০৯ ভোট, হাতপাখা প্রতীকে মো. সালাউদ্দিন ৭শ’ ১৭ ভোট এবং উদীয়মান সূর্য প্রতীকে শান্তিপদ ঘোষ ৮৬ ভোট।
কমলগঞ্জ উপজেলা সহকারি রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় হতে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী কমলগঞ্জ উপজেলার ৭২টি কেন্দ্রে নৌকা প্রতীকে মো. আব্দুস শহীদ মোট ভোট পেয়েছেন ৯৭ হাজার ২৬৩ টি, ধানের শীষ প্রতীকে মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী ৪৩ হাজার ৭৮৬ ভোট, হাতপাখা প্রতীকে মো. সালাউদ্দিন ৬শ’০৮ ভোট এবং উদীয়মান সূর্য প্রতীকে শান্তিপদ ঘোষ ৬১ ভোট।

শ্রীমঙ্গলে চা শ্রমিক সন্তানদের জন্য নির্মিত হচ্ছে ১০ তলা ছাত্রাবাস

শ্রীমঙ্গল সংবাদদাতা::

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল শহরের মৌলভীবাজার সড়কে অবস্থিত বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নিজস্ব জমিতে সরকারের অর্থায়নে চা শ্রমিক সন্তানদের জন্য নির্মিত হচ্ছে ১০ তলা বিশিষ্ট বহুবিধ সুবিধাসম্পন্ন ছাত্রাবাস। এ ছাত্রাবাসে শুধুমাত্র চা বাগান শ্রমিকদের পরিবারের গরীব ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা বিনামূল্যে বা স্বল্পব্যায়ে আবাসন সুবিধা পাবে। ৩০০ আসন বিশিষ্ট নির্মিতব্য এ ছাত্রাবাসে ১৫০টি আসন ছাত্রদের জন্য বাকি ১৫০টি আসন ছাত্রীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। এ ব্যাপারে সরকার ও বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দের দ্বিপাক্ষিক চুক্তি বৃহস্পতিবার (২৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় শ্রীমঙ্গলস্থ চা শিল্প শ্রম কল্যাণ বিভাগের হলরুমে সম্পন্ন হয়েছে।

সরকারের পক্ষে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষে শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অতিরিক্ত সচিব শিবনাথ রায় ও বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষে সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরী চুক্তিনামায় স্বাক্ষর করেন। চুক্তি অনুযায়ী নির্মিতব্য ভবনটির রক্ষণাবেক্ষণ, ছাত্রাবাসসহ সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনায় জেলা প্রশাসক বা তাঁর উপযুক্ত প্রতিনিধির সভাপতিত্বে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন শ্রীমঙ্গলস্থ বিভাগীয় শ্রম অধিদপ্তরের ১ জন প্রতিনিধি, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর শ্রীমঙ্গলের ১ জন প্রতিনিধি উপজেলা প্রশাসনের ২ জন প্রতিনিধি, চা শ্রমিক ইউনিয়নের ৬ জন প্রতিনিধি (১ জন সদস্য সচিবসহ) সহ মোট ১১ জনের সমন্বয়ে গঠিত বোর্ড/কমিটি ৩ বছর দায়িত্ব পালন করবেন এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ কর্তৃত গঠিত পরিচালনা কমিটি ভবনের সার্বিক দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শ্রম অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক গিয়াস উদ্দিন আহমদ, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষে সভাপতি মাখন লাল কর্মকার, বাংলাদেশ টি এস্টেট স্টাফ এসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুব রেজা, রাজঘাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক আহ্বায়ক বিজয় বুরার্জী, শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইসমাইল মাহমুদ, চা শ্রমিক ইউনিয়নের অর্থ সম্পাদক পরেশ কালিন্দী, বালিশিরা ভ্যালী কমিটির সভাপতি বিজয় হাজরা, সিলেট ভ্যালী সভাপতি রাজু গোয়ালা, মনু-ধলাই ভ্যালী সম্পাদক নির্মল দাস পাইনকাসহ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির ৩৪ জন সদস্য।

চুক্তি স্বাক্ষরের ব্যাপারে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষে সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরী বলেন, ‘চা শ্রমিক ছাত্রছাত্রীদের জন্য এটি বর্তমান চা শ্রমিকবান্ধব সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ এর জন্য কাজ করছিলেন। শেষ পর্যন্ত অনগ্রসর চা জনগোষ্টির প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সদইচ্ছার ফসল।

তিনি আশা করছেন, খুব তাড়াতাড়ি প্রয়োজনীয় কাজ কর্ম শেষে এর নির্মান কাজ শুরু হবে। এটি নির্মিত হবার পর শ্রমিক সন্তানদের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন হবে। তিনি যুগান্তকারী এ পদক্ষেপের জন্য বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সকল নেতৃবৃন্দ ও চা শিল্পে নিয়োজিত সকল শ্রমিকদের পক্ষ থেকে জননেত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।’