সদ্য সংবাদ

বিভাগ: পতনউষার

কমলগঞ্জে কাল বৈশাখী ঝড়ে দু’শতাধিক ঘর বিধ্বস্ত ॥ রেল ও সড়ক যোগাযোগ বন্ধ ॥ বিদ্যুৎ ব্যবস্থা লন্ডভন্ড

 কমলকুঁড়ি রিপোর্ট


মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কাল বৈশাখী ঝড়ে উপজেলার পতনউষার, শমশেরনগর, মুন্সিবাজার ও পৌরসভার এলাকায় দুইশতাধিক ঘর বিধস্ত হয়েছে। উপড়ে পড়েছে হাজারো গাছ পালা। ১১ কেভির প্রায় ১০০টি স্থানে গাছ ভেঙে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা লন্ডভন্ড হয়ে পড়েছে। কমলগঞ্জ-কুলাউড়া সড়কে শমশেরনগর এয়ারপোর্ট রোডে ব্যাপক পালা গাছ পড়ায় সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এছাড়া লাউয়াছড়া পাহাড়ে রেল লাইনের উপর গাছ পড়ায় রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। ঢাকাগামী পারাবত এক্সপ্রেস ও সিলেটগামী আন্তনগর পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেন শ্রীমঙ্গল ও কুলাউড়া ষ্টেশনে আটকা পড়েছে। বিদ্যুৎ লাইন লন্ডভন্ড হয়ে যাওয়ার করণে বিদ্যুৎহীন ছিল পুরো কমলগঞ্জ। এছাড়া বজ্রপাতে পতনঊষার ইউনিয়নে এক কৃষকের ৪০ হাজার টাকার মহিষ মৃত্যু হয়েছে। ঝড়ের সাথে ছিল বিকট শব্দের বজ্রপাত। এতে উপজেলাবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।


জানা যায়, রোববার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে কাল বৈশাখীর ঝড়ে পতনউষার ইউনিয়নে পতনউষার, শ্রীরামপুর, চন্দ্রপুর, ধোপাটিলা, রসুলপুর, বৃন্দাবনপুর, দক্ষিনপল্কীসহ ১০টি গ্রামের বাড়িঘর ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রাস্তার গাছপালা উপড়ে পড়ে। পতনউষারের বিভিন্ন এলাকায় পল্লী বিদ্যুৎ এর ১১ কেভি লাইন ছিড়ে পড়েছে। এছাড়া পতনউষার গ্রামের আলাল মিয়া, দক্ষিনপল্কী গ্রামের বিধবা মহিলা আগুরী বিবিসহ প্রায় ২০টি ঘর সম্পূর্ণ বিধস্ত হয়। অপরদিকে একই সময় শমশেরনগর, মুন্সিবাজার ও কমলগঞ্জ পৌরসভায় ঝড়ে দু’শতাধিক ঘর সম্পূর্ণসহ শতাধিক বাড়িঘর বিধস্ত হয়। কমলগঞ্জ আব্দুল গফুর চৌধুরী মহিলা কলেজে আধাপাকা একাডেমিক ভবনের টিন ছাউনিসহ পৌরসভার ৫, ১, ২ নং ওয়ার্ডের ঘরের টিন উড়িয়ে নিয়েছে। কয়েক শতাধিক গাছ পালা উপড়ে পড়েছে। গ্রামঞ্চলের বিদ্যুত এর তার ছিড়ে পড়েছে। ৩টি ইউনিয়নে শতাধিক ঘর আংশিক বিধস্ত হয়েছে। এছাড়া প্রায় শতাধিক স্থানে বিদ্যুৎ লাইনের তার ছিড়ে পড়েছে। ঝড়ে বেশি গাছপালা বিধস্ত হয়েছে শমশেরনগর এলাকায়। বিমান ঘাটি এলাকার কুলাউড়া সড়কের উপর অধর্শতাধিক গাছ পালা ভেঙ্গে পড়ে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
পতনউষার ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নারায়ন মল্লিক সাগর জানান, তার ইউনিয়নে ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় দুই শত বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত ও কোটি টাকার গাছপালার ক্ষতিসাধন হয়েছে। তিনি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। বিধস্ত ঘর হওয়ায় খোলা আকাশে বসবাস করছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।


বাংলাদেশ রেলওয়ে শ্রীমঙ্গল জোনের উপসহকারী প্রকৌশলী মনির হোসেন ট্রেন আটকা পড়ার বিষয়টি স্বীকার করেন।
কমলগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মোবারক হোসেন জানান, ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। প্রায় শতাধিক স্থানে তার ছিঁড়ে গেছে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে ১ দিন লেগে যাবে।
কমলগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমর্কতা মো. আছাদুজ্জামান বলেন, তিনি সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করছেন। ঘরের তালিকা দেয়ার জন্য চেয়ারম্যানদের বলা হয়েছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) সুমি আক্তার বলেন, বিষয়টি তিনি জানেন। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা আসলে পরে ব্যবস্থা করা হবে।

কমলগঞ্জের আবুল ফজল চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ে মা সমাবেশ অনুষ্ঠিত

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার পতনউষার ইউনিয়নের আবুল ফজল চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ে শনিবার দুপুরে (২৭ এপ্রিল) মা সমাবেশ ও শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে অভিভাবক হিসেবে ‘মা’ -এর ভূমিকা শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি প্রভাষক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলা বিআরডিবি’র চেয়ারম্যান মো: ইমতিয়াজ আহমেদ বুলবুল। বিশেষ অতিথি ছিলেন পতনঊষার ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জি: তওফিক আহমদ বাবু, প্রধান শিক্ষক মো: মিছবাহুর রহমান চৌধুরী, সহকারী প্রধান শিক্ষক প্রমোদ চন্দ্র দেবনাথ, কমলকুঁড়ি পত্রিকার সম্পাদক পিন্টু দেবনাথ। সহকারি শিক্ষক নিখিল কান্তি গোস্বামীর সঞ্চালনায় মা’দের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন আনোয়ারা বেগম, রাজদিঘীরপার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইকবাল আহমদ, পরিচালনা কমিটির সদস্য হারুনুর রশীদ, বৈপুল বৈদ্য, মসুদ মিয়া, এখলাছ মিয়া, প্রাক্তন ছাত্র ফয়সল আহমদ, শিক্ষার্থী আয়েশা সিদ্দিকা নিশাত ও আলো সুলতানা।


বক্তরা বলেন, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে অভিভাবক হিসাবে মায়ের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মায়েদের হাতেই গড়ে ওঠে হাজারো সন্তান। একটি মেয়েকে পারিবারিক পরিবেশে সঠিক শিক্ষায় বেড়ে না উঠলে একটা জেনারেশন ডুবে যেতে পারে। শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক গুণাবলির বিকাশের বিষয়টি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকের ত্রিভুজ সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। শিক্ষার্থীদের একটি ‘বৃক্ষ’ হিসেবে ধরে নেওয়া যায়, যার সুন্দর ও যথাযথভাবে বেড়ে উঠা নির্ভর করে পরিচর্যার ওপর। পরিচর্যা যেমন হবে তার বেড়ে উঠাও তেমন হবে। অর্থাৎ শিক্ষার্থীদের সুন্দরভাবে বিকাশের বিষয়টি তাদের যথাযথভাবে দেখাশোনা এবং পরিচর্যার ওপর নির্ভরশীল। সন্তানকে একজন মা পারেন শিক্ষার মাধ্যমে সঠিক পথে নিতে। তাই শিক্ষার ক্ষেত্রে মায়ের ভূমিকা অপরিসীম।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ইমতিয়াজ আহমেদ বুলবুল ও বিশেষ অতিথি ইঞ্জি: তওফিক আহমদ বাবুকে মানপত্র প্রদান করা হয়।

বন্যপ্রাণীর বিচরণে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতরদিয়ে প্রবাহিত সড়কপথ অন্যত্র সরিয়ে নেয়া উচিত। – জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান

 

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট


মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার হীড বাংলাদেশ কনফারেন্স রুমে ‘ইকোলজি এন্ড কনজারভেশন অব হুল্লুক গিবন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে কর্মশালার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম এর সভাপতিত্বে ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. হাবিবুন নাহার এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. সেলিম ভূঁইয়া, বন্যপ্রাণি ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু মুছা শামসুল মোহিত চৌধুরী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে হুল্লুক গবেষণা ও প্রকল্প বিষয়ে সচিত্র উপস্থাপনা করেন সংযুক্ত আরব আমিরাত বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও প্রকল্প উপ-পরিচালক ড. সাবির বিন মুজাফ্ফর। কর্মশালা উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে অধ্যাপক ড. হাবিবুন নাহার এর নেতৃত্বে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪ সদস্যের একটি দল লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এলাকায় হুল্লুকের উপর গবেষণা পরিচালনা করবে।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, বিলুপ্তপ্রায় উল্লুকসহ বন্যপ্রাণীর বিচরণে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত সড়কপথ অন্যত্র সরিয়ে নেয়া উচিত। তাছাড়া প্রাচীন আমল থেকে সিলেট-আখাউড়া সড়কে প্রবাহিত রেলপথের লাউয়াছড়া উদ্যানের ভেতরের রেলপথকে আন্ডারপাস ও ঘন বনাঞ্চল এলাকার রেলপথকে স্থানান্তর করা যেতে পারে।
ড. সাবির বিন মুজাফ্ফর গবেষণা বিষয়ে উপস্থাপনায় বলেন, বন ফাঁকা হলে বন্যপ্রাণি খাবার ও আবাসস্থল সংকটে ছড়িয়ে পড়ে। ২০০১ সনে হুল্লুক নিয়ে গবেষণা বিষয়ে কাজ শুরু করার পর ২৮২টির সন্ধান পাওয়া যায়। অথচ ১৯৮০ সনে ধরা হতো ১ লাখ ৭০ হাজার ও ২০১০ সালে নেমে আসে ৩ থেকে ৫ হাজারে।

কমলগঞ্জে পতনঊষারে বজ্রপাতে দুই শিশু নিহত

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নে
বজ্রপাতে দুই শিশু নিহত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে আজ রবিবার (৩১মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টায় পতনউষার মহিলা মাদ্রাসার সামনে।

বজ্রপাতে ঘটনাস্থলে এক শিশু নিহত হয় ও আহত অপরজনকে মৌলভীবাজার হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে অপর শিশু মুত্যু হয়।

নিহত দুই শিশু জুনেদ আহমেদ এর দুই কন্যা সাদিয়া (৬) ও মুন্নী (৪)। পতনঊষার ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নারায়ন মল্লিক সাগর ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।

পতনঊষারে এক রাতে পাঁচ প্রতিষ্ঠানে চুরি

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট


মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নের শহীদনগর বাজারে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থানের আরও চারটি দোকান ও একটি কবরস্থানের ক্যাশ বাক্স ভেঙ্গে চুরির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দিবাগত রাতে চোর চক্র দোকান ও ক্যাশ বাক্সের তালা ভেঙ্গে চুরির ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয়রা জানান, শহীদনগর বাজারের বাদশাহ মিয়ার চালের দোকান, আতুড়ের ঘর সড়কে জোনাকি কমিউনিটি সেন্টারের পাশে তোয়াবুর রহমান এর স্টেশনারী দোকান, পতনঊষার কবরস্থানের ক্যাশ বাক্স, শ্রীরামপুর বাজারের লেখন মিয়া ও পাশ^বর্তী ময়নার মিলের মোহিন মিয়ার মোদি দোকানের তালা ভেঙ্গে চুরির ঘটনা ঘটে। পাঁচটি প্রতিষ্ঠান থেকে মালামাল, একটি স্বর্ণের আংটি ও নগদ টাকাসহ প্রায় লক্ষাধিক টাকার চুরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (ওসি) অরুপ কুমার চৌধুরী বলেন, এ ব্যাপারে তদন্ত করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন : অধ্যাপক মো: রফিকুর রহমান চেয়ারম্যান (আওয়ামীলীগ), রামভজন কৈরী ভাইস চেয়ারম্যান, বিলকিস বেগম মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

Pic-K
পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার নির্বাচন ভোট সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী নৌকা প্রতীকের অধ্যাপক মো. রফিকুর রহমান ৪৯,১৮৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি  স্বতন্ত্র প্রার্থী আনারস প্রতীকের মো: ইমতিয়াজ আহমেদ বুলবুল ১৯,৪৫০ ভোট ও ওয়ার্কার্স মনোনীত প্রার্থী হাতুড়ী প্রতীকের আব্দুল আহাদ মিনার ভোট ৩৬৫ পান।
ভাইস চেয়ারম্যান পদে টিউবওয়েল প্রতীকের রামভজন কৈরী ৩১,০১২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি তালা প্রতীকের মো: সিদ্দেক আলী ১৮,৭৭৯ ভোট, চশমা প্রতীকের শাব্বির এলাহী ৯,৭৬৮ ভোট ও মাইক প্রতীকের আব্দুল মুয়ীন ফারুক ৮,১৮২ ভোট পান।

Kamalgonj Pic-4
মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে পদ্মফুল প্রতীকের বিলকিস বেগম ৩৮,৭৭৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি ও বল প্রতীকের পারভীন আক্তার লিলি ২৮,৩৫৪ ভোট পান।
কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চাবাগানের কয়েকটি ভোট কেন্দ্র ব্যতীত অন্যান্য ভোট কেন্দ্র সমুহে ভোটারের উপস্থিতি ছিল খুবই নগন্য। সকাল ৮টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হলেও কেন্দ্র সমুহে দায়িত্বরত সংশ্লিষ্টরা বসে অলস সময় পার করেছেন। দু’একটি কেন্দ্রে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণ ভোট অনুষ্ঠিত হয।

Kamalgonj Pic-2
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, একটি পৌরসভা ও নয়টি ইউনিয়ন নিয়ে সীমান্তবর্তী এ উপজেলায় মোট ভোটারের সংখ্যা ১,৭৯,৪শ’ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৮৯ হাজার ৫৬৪ ও মহিলা ৮৯ হাজার ৮৩৬ জন। ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৭২টি ও ভোট কক্ষের সংখ্যা ৪৫৬টি। তবে সকাল থেকেই ভোট কেন্দ্র সমুহে ভোটারের উপস্থিতি চোখে পড়েনি। চা বাগানের কিছু কেন্দ্র সমুহে ভোটার উপস্থিতি ছিল সন্তোষজনক। উপজেলা সদর, পতনঊষার, শমশেরনগর, রহিমপুর ও মুন্সীবাজার ইউনিয়নের ভোট কেন্দ্র ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া যায়। বিকেলে কর্মী সমর্থকেরা বাড়ি বাড়ি থেকে কিছু ভোটার এনে ভোট প্রদান করেন। বেলা ১১টায় পতনঊষার মাইজগাঁও প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আনারস ও নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এছাড়া রহিমপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৌণে ১২টায় জাল ভোটের অভিযোগে প্রিসাইডিং অফিসারের সাথে নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী রফিকুর রহমানের সাথে বাকবিতন্ডার ঘটনা ঘটে। ইসলামপুরের বাঘাছড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬২টি ব্যালেট পেপার ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া পুরো উপজেলায় শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

জীববৈচিত্র রক্ষার স্বার্থে লাউয়াছড়ার ভিতরের রাস্তা ও ট্রেন লাইন নতুনভাবে নির্মান ও সরানোর বিষয়টি সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে – পরিবেশ ও বন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন

Pic-22কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে বিভিন্ন প্রাণী ও জীববৈচিত্র রক্ষার স্বার্থে লাউয়াছড়ার ভিতর দিয়ে যে রাস্তা ও ট্রেন লাইন রয়েছে সেটি নতুনভাবে নির্মান ও সরানোর বিষয়টি সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে। পাশাপাশি পাকা রাস্তাটি বন্ধ না করে উভয় পাশে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ফ্যানসিং করার পরিকল্পনা আছে। এটি বাস্তবায়িত হলে তখন আর লাউয়াছড়ায় বন্য প্রানী দূর্ঘটনায় মারা যাবেনা। পরিবেশ ও বন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন শনিবার (৯ মাচ) মৌলভীবাজার বর্ষিজুড়া ইকোপার্ক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

Pic-1
মন্ত্রী আরো বলেন, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক পলিথিন ব্যবহার আমরা এক সাথে বন্ধ করে দিলে তখন এমনিতেই পলিথিন বন্ধ হয়ে যাবে। তবে পলিথিন ব্যবহারের বিকল্প পাটের ব্যাগ ব্যবহারে আর্থীক অনুদান প্রদানের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পাটের ব্যাগ ব্যবহার শুরু হলে এমনিতেই পলিথিন চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। এসময় উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য নেছার আহমদ, মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) রোকন উদ্দিন, মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়র ফজলুর রহমান, মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহজালাল, বিভাগীয় বন কর্মকর্তাসহ জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ।

ইতিহাসে চির অম্লান তথা উজ্জ্বল হয়ে থাকবে ৭ মার্চের এই ভাষণ

images১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু রেসকোর্সের জনসভায় বাঙালির আকাক্সিক্ষত স্বপ্নের বাণী উচ্চারণ করেছিলেন। ঘোষণা করেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ একই সঙ্গে তিনি সাত কোটি বাঙালিকে মুক্ত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তাঁর এই ভাষণকে বিশ্বের ইতিহাসের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষণের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বলে গণ্য করা হয়। এই ভাষণই বাঙালি জাতিকে প্রস্তুত করেছিল সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে। পাকিস্তানী হানাদারদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সেই ভাষণ প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।
বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা সংগ্রামে শরিক হওয়ার ডাক দিয়েছিলেন। কিন্তু পাকিস্তানী শাসকদের সঙ্গে নিয়মতান্ত্রিক আলোচনার পথ থেকে পিছিয়ে যাননি। এটা নিঃসন্দেহে তাঁর বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতার পরিচয় বহন করে। কিন্তু পাকিস্তানী হানাদাররা বাঙালি জাতিকে নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্র করে। একদিকে আলোচনা চলেছে, অন্যদিকে তারা পশ্চিম পাকিস্তান থেকে সৈন্য ও অস্ত্র আনা অব্যাহত রেখেছে। তারা কখনই এ দেশের মানুষের ন্যায্য দাবি মেনে নিতে চায়নি। তারা চেয়েছিল বাংলার মানুষকে চিরকাল গোলাম করে রাখতে। ১৯৪৭ সালের দেশভাগ ও পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকে তারা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান বা পূর্ববঙ্গের মানুষের ন্যায্য দাবি কখনই মেনে নেয়নি। এখানকার মানুষকে তারা সমান অধিকার দেয়নি কখনই। বরং শুরু থেকেই নব্য ঔপনিবেশিক শাসন ও শোষণের যাঁতাকলে বেঁধেছে এখানকার মানুষকে। প্রথমে তারা আঘাত হেনেছে বাংলা ভাষার ওপর। উর্দুকে তারা পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা করার কথা ঘোষণা করেছিল। ১৯৪৮ সাল থেকেই পাকিস্তানী শাসকদের এ ষড়যন্ত্রমূলক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে পূর্ববঙ্গের মানুষ তীব্র প্রতিবাদ জানায়। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে প্রাণ দিতে হয় এদেশের মানুষকে। বরকত, সালাম, রফিক, জব্বার, শফিকসহ অনেককে ভাষার জন্য জীবন দিতে হয়। কিন্তু আন্দোলন থেমে থাকেনি। বরং পাকিস্তানীদের অন্যায় শোষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে এখানকার গণতান্ত্রিক আন্দোলন স্বাধিকার আন্দোলনে রূপ নেয় এবং তা ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় চূড়ান্ত লক্ষ্যের দিকে।
বস্তুত ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু যে ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন, তার একটি বিশাল ও রক্তক্ষয়ী পটভূমি রয়েছে। ১৯৪৭ সালের পর ২৩ বছরের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তা ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে। এ জন্য এ দেশের মানুষকে অনেক মূল্য দিতে হয়েছে, অনেক আত্মত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। কিন্তু ক্ষমতার গর্বে উন্মাতাল পাকিস্তানী শাসকরা কখনও উপলব্ধি করেনি, এভাবে অন্যায়-জুলুমের মধ্য দিয়ে কোন সচেতন মানবগোষ্ঠীকে দাবিয়ে রাখা যায় না।
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক রমনার রেসকোর্সের জনসভায় বঙ্গবন্ধুর চিরায়ত ভাষণের মধ্য দিয়ে এদেশের মানুষের ভবিষ্যত নির্ধারিত হয়। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মানুষ শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করেছে শান্তিপূর্ণভাবে-নিয়মতান্ত্রিক পথে সমস্যা সমাধানের। কিন্তু ২৫ মার্চ রাতে বিশ্বাসঘাতক পাকিস্তানী হানাদাররা সব নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে ঝাঁপিয়ে পড়ে নিরস্ত্র বাঙালীর ওপর। সেদিন ‘যার যা আছে তাই নিয়ে’ এ দেশের মানুষ হানাদারদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে। দীর্ঘ নয় মাসের নিরন্তর মুক্তির লড়াইয়ের পর বিজয়ী হয় বাঙালি জাতি। তাই ঐতিহাসিক ৭ মার্চের গুরুত্ব আজও অম্লান। মূলত ৭ মার্চের ভাষণই ছিল স্বাধীনতার ঘোষণা এবং একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা অর্জনের নির্দেশিত পথ। যতকাল বাংলাদেশ নামক ভূখন্ডটি বেঁচে থাকবে ভূমন্ডলে ততকাল বেঁচে থাকবেন তার মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

বর্ণাঢ্য আয়োজনে কমলগঞ্জের ভাষা উৎসব উদযাপিত : বহু ভাষাভাষি অধ্যুষিত কমলগঞ্জ উপজেলায় ভাষা চর্চা একাডেমি স্থাপনের দাবী

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

Vasha Pic Kamalgonj-2
বহু ভাষার ক্ষৃদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য কমলগঞ্জে ভাষা চর্চা একাডেমি স্থাপনের আহবান জানিয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে মৌলভীবাজারের সীমান্তবর্তী কমলগঞ্জের ভাষা উৎসব-২০১৯ উদযাপিত হয়েছে। ভাষাতাত্ত্বিক আলোচনা ও ১০টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শনিবার বিকেলে সমাপ্ত হলো কমলগঞ্জের ভাষা উৎসব। কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন এবং সাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদ, কমলগঞ্জ এর আয়োজনে শনিবার সকাল ১১টায় কমলগঞ্জ উপজেলা সদরস্থ জেলা পরিষদ অডিটরিয়াম প্রাঙ্গণে বেলুন উড়িয়ে দিনব্যাপী ভাষা উৎসবের শুভ উদ্বোধন করেন সাবেক চিফ হুইপ, সরকারি অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি, মুক্তিযোদ্ধা উপাধ্যক্ষ ড. মো: আব্দুস শহীদ এমপি।

Vasha Pic Kamalgonj-3

পরে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে অডিটরিয়ামে এসে শেষ হয়। জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সুচনার পর কমলগঞ্জের ভাষা-বৈচিত্র্য এবং ভাষাসংগ্রামী ‘ মো: ইলিয়াস জীবন ও কর্ম গ্রন্থদ্বয়ের মোড়ক উম্মোচন করা হয়। সম্মাননা প্রদান করা হয় ভাষাসংগ্রামী জননেতা মো: ইলিয়াস এর সহধর্মিনীকে। মূলত, ভাষাচর্চা, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষার বিপন্নতারোধ, চর্চা ও বিকাশের লক্ষে উপজেলা প্রশাসন এবং সাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদ যৌথভাবে এর আয়োজন করে। ভাষা উৎসবকে কেন্দ্র করে নানা ভাষার মানুষের বর্ণিল মেলবন্ধন ঘটেছিল। ভাষা উৎসব উপলক্ষে জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামের সামনে বিভিন্ন ধরণের স্টল বসেছিল।

Pic-1
দুপুরে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশেকুল হকের সভাপতিত্বে ও অধ্যাপক শাহাজান মানিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সরকারি অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি, মুক্তিযোদ্ধা উপাধ্যক্ষ ড. মো: আব্দুস শহীদ এমপি। সম্মানিত অতিথি ছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ সদস্য, মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক মো: রফিকুর রহমান, সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক, কমলগঞ্জ থানার ওসি মোঃ আরিফুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদ, কমলগঞ্জ এর আহবায়ক আহমদ সিরাজ। আলোচনায় অংশ নেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের উপ-পরিচালক নাজমুন্নাহার বেগম, লেখক ও ভাষাবিজ্ঞানী ড. সেলু বাসিত, কবি ও গবেষক প্রফেসার নৃপেন্দ্র লাল দাশ, লেখক ও গবেষক রসময় মোহান্ত, শিক্ষাবিদ ও গবেষক ড. আবুল ফতেহ ফাত্তাহ, লেখক ও গবেষক ড. শোয়াইব জিবরান, লেখক ও গবেষক ড. রণজিত সিংহ, কবি ও কথা সাহিত্যিক আকমল হোসেন নিপু, লেখক ও গবেষক পাভেল পার্থ, অধ্যাপক সাইয়্যিদ মুজিবুর রহমান, কমলগঞ্জ সরকারি গণ মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ কামরুজ্জামান মিয়া, সুজা মেমোরিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ ম. মুর্শেদুর রহমান, আব্দুল গফুর চৌধুরী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো: হেলাল উদ্দিন, অধ্যাপক অবিনাশ আচার্য্য, কবি সনাতন হামোম প্রমুখ।  অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদের আহবায়ক আহমদ সিরাজ।

Vasha Pic Kamalgonj-4
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাধ্যক্ষ ড. মো: আব্দুস শহীদ এমপি বলেন, কমলগঞ্জ উপজেলায় বেশ কয়েকটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী এবং চা বাগানে বসবাসরত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। সমতলের অন্য কোন উপজেলায় এতো ক্ষুদ্র ন-গোষ্ঠীর বসবাস বিরল। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর উন্নয়নে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
ভাষাতাত্ত্বিক আলোচনায় বক্তারা বলেন, কমলগঞ্জ উপজেলার মতো বাংলাদেশের আর কোন উপজেলায় এমনভাবে জনবৈচিত্র্যের বিপুল সম্ভার নেই। এই জনবৈচিত্র্যের সম্ভার ভাষা-মণিপুরী (তিনভাগি), খাসি, সাওতাল, মুন্ডা, গারো, তেলেগু, উরাং, ত্রিপুরী, ভুজপুরীসহ নানা ভাষার জনগোষ্ঠীর মানুষের বসবাস রয়েছে। বহুমাত্রিক ও বর্ণিল জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যসমৃদ্ধ সীমান্তবর্তী উপজেলা কমলগঞ্জ বাংলাদেশের অনেকগুলো বৈশিষ্ট্য স্পর্শ করে নান্দনিক চরিত্র বহন করছে। মূলত ভাষাচর্চা, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষার বিপন্নতারোধ, চর্চা ও বিকাশের লক্ষ্যে এই ভাষা উৎসবের আয়োজন। রাজধানী ঢাকার পরেই উপজেলা হিসেবে কমলগঞ্জে বহু ভাষাভাষার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। এজন্য এই উপজেলায় সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় একটা ভাষা চর্চা একাডেমি বা ভাষা চর্চা কেন্দ্র স্থাপন করা জরুরী।
অতিথিদের আলোচনার ফাঁকে ফাঁনে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়।

কমলগঞ্জে আইন শৃঙ্খলার উন্নয়নে সভা : মাদক ও জঙ্গী তৎপরতা রোধ করে জনগনকে আইন শৃঙ্খলার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে –সহকারী পুলিশ সুপার

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

Pic-2
আইন শৃঙ্খলার উন্নয়ন একা পুলিশের পক্ষে সম্ভব নয়। জন সংখ্যার তুলনায় পুলিশে লোকবল কম। তাই পুলিশের পাশে থেকে মাদক ও জঙ্গী তৎপরতা রোধ করে জনগনকে আইন শৃঙ্খলার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে। মাদকের সাথে কোন পুলিশ সদস্য জড়িত থাকলেও তাকে ছাড়া দেওয়া হবে না। শুক্রবার (১ মার্চ) রাত সাড়ে ৭টায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের পতনউষার ইউনিয়নে কমলগঞ্জ থানা ও পতনউষার ইউনিয়ন পরিষদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত আইন শৃঙ্খলার উন্নয়নে অনুষ্ঠিত সভায় এ কথাগুলো বলেন সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সার্কেল) মো. আশরাফুজ্জামান এ কথাগুলো বলেন।
পতনউষার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী তওফিক আহমদ বাবুর সভাপতিত্বে ও প্যানেল চেয়ারম্যান নারায়ন মল্লিক সাগরের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সার্কেল) মো. আশরাফুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান, পরিদর্শক তদন্ত সুধীন চন্দ্র দাস, শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক (তদন্ত) অরুপ কুমার চৌধুরী ও মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কমলগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের এজিএম ওবায়দুল হক।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি কমলগঞ্জ ইউনিটের সভাপতি আব্দুল হান্নান, কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবের সহসভাপতি প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ, সাংবাদিক নুরুল মোহামিন, ব্যবসায়ী নেতা অলি আহমদ ও ইউপি সদস্য আব্দুল খালিক। বক্তারা মাদক ব্যবসা, বাড়ি ঘর ও দোকানপাঠে চুরি, বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি রোধে পুলিশ সদস্যদের আরো দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান।
সভায় প্রধান অতিথি সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সার্কেল) মো. আশরাফুজ্জামান আরও বলেন, পুলিশ জনগনের বন্ধু। জনগন একটু সচেতন হয়ে পুলিশি কাজে সহায়তা করলে এসব চুরি ও মাদক প্রতিরোধ সহজ হবে। জনগন সেবা গ্রহনে ফাঁড়ি বা থানায় যেতে হবে। থানায় জিডি করতে কেউ হয়রানির শিকার হলে দ্রুত তাকে জানানোর অনুরোধ জানান। আর মাদককে কোন প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না। সঠিক তত্য প্রমাণসহ অভিযোগ দিলে বিহিত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।