সদ্য সংবাদ

বিভাগ: জাতীয়

কমলগঞ্জে কাল বৈশাখী ঝড়ে দু’শতাধিক ঘর বিধ্বস্ত ॥ রেল ও সড়ক যোগাযোগ বন্ধ ॥ বিদ্যুৎ ব্যবস্থা লন্ডভন্ড

 কমলকুঁড়ি রিপোর্ট


মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কাল বৈশাখী ঝড়ে উপজেলার পতনউষার, শমশেরনগর, মুন্সিবাজার ও পৌরসভার এলাকায় দুইশতাধিক ঘর বিধস্ত হয়েছে। উপড়ে পড়েছে হাজারো গাছ পালা। ১১ কেভির প্রায় ১০০টি স্থানে গাছ ভেঙে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা লন্ডভন্ড হয়ে পড়েছে। কমলগঞ্জ-কুলাউড়া সড়কে শমশেরনগর এয়ারপোর্ট রোডে ব্যাপক পালা গাছ পড়ায় সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এছাড়া লাউয়াছড়া পাহাড়ে রেল লাইনের উপর গাছ পড়ায় রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। ঢাকাগামী পারাবত এক্সপ্রেস ও সিলেটগামী আন্তনগর পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেন শ্রীমঙ্গল ও কুলাউড়া ষ্টেশনে আটকা পড়েছে। বিদ্যুৎ লাইন লন্ডভন্ড হয়ে যাওয়ার করণে বিদ্যুৎহীন ছিল পুরো কমলগঞ্জ। এছাড়া বজ্রপাতে পতনঊষার ইউনিয়নে এক কৃষকের ৪০ হাজার টাকার মহিষ মৃত্যু হয়েছে। ঝড়ের সাথে ছিল বিকট শব্দের বজ্রপাত। এতে উপজেলাবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।


জানা যায়, রোববার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে কাল বৈশাখীর ঝড়ে পতনউষার ইউনিয়নে পতনউষার, শ্রীরামপুর, চন্দ্রপুর, ধোপাটিলা, রসুলপুর, বৃন্দাবনপুর, দক্ষিনপল্কীসহ ১০টি গ্রামের বাড়িঘর ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রাস্তার গাছপালা উপড়ে পড়ে। পতনউষারের বিভিন্ন এলাকায় পল্লী বিদ্যুৎ এর ১১ কেভি লাইন ছিড়ে পড়েছে। এছাড়া পতনউষার গ্রামের আলাল মিয়া, দক্ষিনপল্কী গ্রামের বিধবা মহিলা আগুরী বিবিসহ প্রায় ২০টি ঘর সম্পূর্ণ বিধস্ত হয়। অপরদিকে একই সময় শমশেরনগর, মুন্সিবাজার ও কমলগঞ্জ পৌরসভায় ঝড়ে দু’শতাধিক ঘর সম্পূর্ণসহ শতাধিক বাড়িঘর বিধস্ত হয়। কমলগঞ্জ আব্দুল গফুর চৌধুরী মহিলা কলেজে আধাপাকা একাডেমিক ভবনের টিন ছাউনিসহ পৌরসভার ৫, ১, ২ নং ওয়ার্ডের ঘরের টিন উড়িয়ে নিয়েছে। কয়েক শতাধিক গাছ পালা উপড়ে পড়েছে। গ্রামঞ্চলের বিদ্যুত এর তার ছিড়ে পড়েছে। ৩টি ইউনিয়নে শতাধিক ঘর আংশিক বিধস্ত হয়েছে। এছাড়া প্রায় শতাধিক স্থানে বিদ্যুৎ লাইনের তার ছিড়ে পড়েছে। ঝড়ে বেশি গাছপালা বিধস্ত হয়েছে শমশেরনগর এলাকায়। বিমান ঘাটি এলাকার কুলাউড়া সড়কের উপর অধর্শতাধিক গাছ পালা ভেঙ্গে পড়ে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
পতনউষার ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নারায়ন মল্লিক সাগর জানান, তার ইউনিয়নে ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় দুই শত বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত ও কোটি টাকার গাছপালার ক্ষতিসাধন হয়েছে। তিনি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। বিধস্ত ঘর হওয়ায় খোলা আকাশে বসবাস করছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।


বাংলাদেশ রেলওয়ে শ্রীমঙ্গল জোনের উপসহকারী প্রকৌশলী মনির হোসেন ট্রেন আটকা পড়ার বিষয়টি স্বীকার করেন।
কমলগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মোবারক হোসেন জানান, ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। প্রায় শতাধিক স্থানে তার ছিঁড়ে গেছে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে ১ দিন লেগে যাবে।
কমলগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমর্কতা মো. আছাদুজ্জামান বলেন, তিনি সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করছেন। ঘরের তালিকা দেয়ার জন্য চেয়ারম্যানদের বলা হয়েছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) সুমি আক্তার বলেন, বিষয়টি তিনি জানেন। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা আসলে পরে ব্যবস্থা করা হবে।

কমলগঞ্জে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরিদের ‍‌”নটমন্ডপ” উদ্বোধন


কমলকুঁড়ি রিপোর্ট
মণিপুরী থিয়েটারের নবনির্মিত আধুনিক স্টুডিও ‘নটমণ্ডপ’ উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের ঘোড়ামারায় অবস্থিত এ “নটমণ্ডপ” এর শুভ উদ্বোধন করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার শ্রীমতী রীভা গাঙ্গলী। ভারতীয় হাইকমিশনের ৩৫ লাখ টাকা সহায়তায় আধুনিক এ নটমন্ডপ নির্মিত হয়। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সাংস্কৃতিক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুর এমপি।বিশেষ অতিথি উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার এল কৃষ্ণমূর্তি, মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মো: তোফায়েল ইসলাম, মৌলভীবাজার সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো: কামাল হোসেন, কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রফিকুর রহমান, কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সুমি আক্তার, ঢাকা বিশ্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্য বিভাগের অধ্যাপক তামান্না রহমান, কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো: আরিফুর রহমান প্রমূখ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মণিপুরি থিয়েটারের সভাপতি কবি সুভাশিষ সিনহা।
পরে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরিদের নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে ঐতিহ্যবাহী বিষু উৎসব উদযাপন করা হয়। প্রতি বছরের মতো এবারও মণিপুরী থিয়েটার বিষু উৎসবকে ঘিরে আয়োজন করা হয় নানান অনুষ্ঠান। এতে নাটকসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও মণিপুরিদের ঐতিহ্যবাহী নিকন (পাশা) খেলা। #

বাংলাদেশ গঞ্জু সমাজ এর ৩৯ তম মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত

 

 

লিটন গঞ্জু :

বাংলাদেশের অবহেলিত,বঞ্চিত,নিপীড়িত গঞ্জু সমাজ।স্বাধীনতার পরবর্তী সময় থেকে এই গঞ্জু সমাজ বরাবর অবহেলার স্বীকার হয়ে আসচ্ছে।তাদের উন্নয়নে রঙ্গিন স্বপ্ন দেখানো হলেও বরাবর স্বপ্ন থেকে যায়। অবহেলিত,বঞ্চিত,নিপীড়িত গঞ্জু সমাজের ভাগ্য পরিবর্তন হয়না।সিলেট হিলুয়া ছড়া চা বাগানে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী গঞ্জু সমাজের ৩৯ তম মহাসম্মেলন বক্তরা উপরোক্ত কথা গুলো বলেন। গত ৩০ মার্চ থেকে দুই দিন ব্যাপি এই মহাসম্মেনে  সভাপতি করেন বাবু শ্রী করুনা গঞ্জু’ । বিমল গঞ্জুর পরিচালনায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক ও কমলগঞ্জ উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান বাবু শ্রী রামভজন কৈরি, ইস্কন জি বি সি, অধ্যক্ষ, সিলেট ইসকন মন্দির ও দীক্ষাগুরু শ্রীল জয়পতাকা শ্রীমৎ ভক্তি অদ্বৈত নবদ্বীপ মহারাজ, ৬নং টুকের বাজার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শহীদ আহমেদ (শহীদ),চা শ্রমিক ইউনিয়ন সিলেট ভ্যালি সভাপতি বাবু শ্রী রাজু ,বাংলাদেশ পুজা উদযাপন পরিষদ সদস্য বাবু শ্রী নিলেন্দু ভূষন দে (অনু) ,সহ – সভাপতি বাংলাদেশ গঞ্জু সমাজ, বাবু শ্রী পূর্ণচরণ গঞ্জু ,শ্রী দিলিপ রঞ্জন কুর্মী, সিলেট চা জনগোষ্ঠী ছাত্র যুব কল্যাণ পরিষদ, শ্রী লিটন গঞ্জু রাজু, সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশ গঞ্জু যুব সমাজ সেবক ফোরাম কেন্দ্রিয় কমিটি, অনুষ্ঠানে প্রতিবেদন ও স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক লিটন গঞ্জু রাজু। বক্তারা বলেন বাংলাদেশের ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী হিসাবে গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, এই সমাজকে স্বকৃতি দিতে ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী হিসাবে গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করার দাবী জানান। এই সময় বক্তারা আরো বলেন সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ সুবিধা না থাকার কারনে আমাদের সাংস্কৃতিক পিছিয়ে যাচ্ছে, কৃষ্টি কালচার ভাষা সাংস্কৃতি হারিয়ে যাচ্ছে। উপযুক্ত শিক্ষার পরিবেশ দেওয়া হচ্ছে না।চিকিৎসা ব্যবস্থায়ও অবহেলার শিকার হতে হচ্ছে। সরকারি চাকরি সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। ন্যয্য মজুরী দেওয়া হচ্ছে না।বর্তমান সরকারের উন্নয়নে আমরাও অংশীদার।বর্তমান সরকারের নিকট বাংলাদেশের নাগরিক হিসাবে এই সমস্যা অচিরেই সমাধানে করার আহ্বান জানান। এই সময় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, দিলিপ গঞ্জু, হারুন গঞ্জু, মদন গঞ্জু হিলুয়া ছড়া বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি, সজল গঞ্জু,চয়ন গঞ্জু, মজেন গঞ্জু, দিবাকর গঞ্জ প্রমুখ।

বন্যপ্রাণীর বিচরণে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতরদিয়ে প্রবাহিত সড়কপথ অন্যত্র সরিয়ে নেয়া উচিত। – জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান

 

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট


মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার হীড বাংলাদেশ কনফারেন্স রুমে ‘ইকোলজি এন্ড কনজারভেশন অব হুল্লুক গিবন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে কর্মশালার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম এর সভাপতিত্বে ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. হাবিবুন নাহার এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. সেলিম ভূঁইয়া, বন্যপ্রাণি ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু মুছা শামসুল মোহিত চৌধুরী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে হুল্লুক গবেষণা ও প্রকল্প বিষয়ে সচিত্র উপস্থাপনা করেন সংযুক্ত আরব আমিরাত বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও প্রকল্প উপ-পরিচালক ড. সাবির বিন মুজাফ্ফর। কর্মশালা উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে অধ্যাপক ড. হাবিবুন নাহার এর নেতৃত্বে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪ সদস্যের একটি দল লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এলাকায় হুল্লুকের উপর গবেষণা পরিচালনা করবে।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, বিলুপ্তপ্রায় উল্লুকসহ বন্যপ্রাণীর বিচরণে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত সড়কপথ অন্যত্র সরিয়ে নেয়া উচিত। তাছাড়া প্রাচীন আমল থেকে সিলেট-আখাউড়া সড়কে প্রবাহিত রেলপথের লাউয়াছড়া উদ্যানের ভেতরের রেলপথকে আন্ডারপাস ও ঘন বনাঞ্চল এলাকার রেলপথকে স্থানান্তর করা যেতে পারে।
ড. সাবির বিন মুজাফ্ফর গবেষণা বিষয়ে উপস্থাপনায় বলেন, বন ফাঁকা হলে বন্যপ্রাণি খাবার ও আবাসস্থল সংকটে ছড়িয়ে পড়ে। ২০০১ সনে হুল্লুক নিয়ে গবেষণা বিষয়ে কাজ শুরু করার পর ২৮২টির সন্ধান পাওয়া যায়। অথচ ১৯৮০ সনে ধরা হতো ১ লাখ ৭০ হাজার ও ২০১০ সালে নেমে আসে ৩ থেকে ৫ হাজারে।

ঢাকার বনানীর এফ আর টাওয়ারে আগুন

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

ঢাকার বনানীর এফ আর টাওয়ারে আগুন।

কমলগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত


মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদা ও বিভিন্ন কর্মসূচীর মাধ্যমে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করা হয়। মঙ্গলবার (২৬ মার্চ) প্রত্যুষে ৩১ বার তোপধ্বনির পর কমলগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দিবসটির কর্মসূচী শুরু হয়। ভোর সাড়ে ৬টায় শমশেরনগর, কামুদপুর ও দেওড়াছড়া বধ্যভূমিতে পুষ্প স্তবক অর্পণ করা হয়। সকাল সাড়ে ৭টায় বীর শ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমানের স্মৃতিসৌধে পুষ্প স্তবক অর্পণ করা হয়। সকাল ৮টায় কমলগঞ্জ সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক মো: রফিকুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক ও কমলগঞ্জ থানার ওসি মো: আরিফুর রহমান। পরে সারাদেশের সাথে একযোগে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন, কুচকাওয়াজ, স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের অংশ গ্রহনে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।


দুপুর ১২টায় কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হকের সভাপতিত্বে এবং এডভোকেট মো: সানোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের তাৎপর্য্য এবং উন্নয়ন অগ্রগতি বিষয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মো: হেলাল উদ্দিন, মুন্সীবাজার ইউপি চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মোতালিব তরফদার, সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল মোমিন তরফদার, অধ্যক্ষ মো: নুরুল ইসলাম। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা নির্মল কান্তি দাস, রিয়াজ উদ্দিন, জয়নাল আবেদীন, কমলগঞ্জ সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আব্দুল হান্নান চিনু, কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবের সহ- সভাপতি প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের আহবায়ক আজিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মন্জুর আহমদ আজাদ মান্না প্রমুখ। সভায় বক্তারা চাকুরীক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা কোটার যথাযথ বাস্তবায়ন ও সকল ইউনিয়ন পরিষদের সামনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা টানানোর দাবী জানান।
এদিকে দিবসটি উপলক্ষে মঙ্গলবার দুপুরে কমলগঞ্জ থানার আয়োজনে কমলগঞ্জ সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক কাবাডি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। পরে কমলগঞ্জ থানার ওসি মো: আরিফুর রহমানের সভাপতিত্বে ও প্রধান শিক্ষক মোশাহীদ আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (শ্রীমঙ্গল সার্কেল) মো: আশরাফুজ্জামান। মঙ্গলবার বিকালে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশত হয়।

কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন : অধ্যাপক মো: রফিকুর রহমান চেয়ারম্যান (আওয়ামীলীগ), রামভজন কৈরী ভাইস চেয়ারম্যান, বিলকিস বেগম মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

Pic-K
পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার নির্বাচন ভোট সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী নৌকা প্রতীকের অধ্যাপক মো. রফিকুর রহমান ৪৯,১৮৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি  স্বতন্ত্র প্রার্থী আনারস প্রতীকের মো: ইমতিয়াজ আহমেদ বুলবুল ১৯,৪৫০ ভোট ও ওয়ার্কার্স মনোনীত প্রার্থী হাতুড়ী প্রতীকের আব্দুল আহাদ মিনার ভোট ৩৬৫ পান।
ভাইস চেয়ারম্যান পদে টিউবওয়েল প্রতীকের রামভজন কৈরী ৩১,০১২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি তালা প্রতীকের মো: সিদ্দেক আলী ১৮,৭৭৯ ভোট, চশমা প্রতীকের শাব্বির এলাহী ৯,৭৬৮ ভোট ও মাইক প্রতীকের আব্দুল মুয়ীন ফারুক ৮,১৮২ ভোট পান।

Kamalgonj Pic-4
মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে পদ্মফুল প্রতীকের বিলকিস বেগম ৩৮,৭৭৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি ও বল প্রতীকের পারভীন আক্তার লিলি ২৮,৩৫৪ ভোট পান।
কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চাবাগানের কয়েকটি ভোট কেন্দ্র ব্যতীত অন্যান্য ভোট কেন্দ্র সমুহে ভোটারের উপস্থিতি ছিল খুবই নগন্য। সকাল ৮টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হলেও কেন্দ্র সমুহে দায়িত্বরত সংশ্লিষ্টরা বসে অলস সময় পার করেছেন। দু’একটি কেন্দ্রে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণ ভোট অনুষ্ঠিত হয।

Kamalgonj Pic-2
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, একটি পৌরসভা ও নয়টি ইউনিয়ন নিয়ে সীমান্তবর্তী এ উপজেলায় মোট ভোটারের সংখ্যা ১,৭৯,৪শ’ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৮৯ হাজার ৫৬৪ ও মহিলা ৮৯ হাজার ৮৩৬ জন। ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৭২টি ও ভোট কক্ষের সংখ্যা ৪৫৬টি। তবে সকাল থেকেই ভোট কেন্দ্র সমুহে ভোটারের উপস্থিতি চোখে পড়েনি। চা বাগানের কিছু কেন্দ্র সমুহে ভোটার উপস্থিতি ছিল সন্তোষজনক। উপজেলা সদর, পতনঊষার, শমশেরনগর, রহিমপুর ও মুন্সীবাজার ইউনিয়নের ভোট কেন্দ্র ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া যায়। বিকেলে কর্মী সমর্থকেরা বাড়ি বাড়ি থেকে কিছু ভোটার এনে ভোট প্রদান করেন। বেলা ১১টায় পতনঊষার মাইজগাঁও প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আনারস ও নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এছাড়া রহিমপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৌণে ১২টায় জাল ভোটের অভিযোগে প্রিসাইডিং অফিসারের সাথে নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী রফিকুর রহমানের সাথে বাকবিতন্ডার ঘটনা ঘটে। ইসলামপুরের বাঘাছড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬২টি ব্যালেট পেপার ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া পুরো উপজেলায় শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

শেখ মুজিবুর রহমান এর জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস

কমলকুঁড়ি ডেস্ক

image_1589_197194-1

আজ সেই ১৭ মার্চ। শেখ মুজিবুর রহমান এর জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস।

১৯২০ সালের ১৭ মার্চ বাঙালির জন্য আশীর্বাদের একটি দিন। আনন্দের দিনও বটে। এদিন হাজার বছরের শৃঙ্খলিত বাঙালির মুক্তির দিশা নিয়ে জন্ম নিয়েছিল মুজিব নামের এক দেদীপ্যমান আলোক শিখা। মহাকালের আবর্তে অনেক কিছুই হারিয়ে যায়। হারিয়ে যাওয়া এ নিয়মের মধ্যেও অনিয়ম হয় কিছু স্মৃতি, গুটিকয়েক নাম। বাংলা ও বাঙালির কাছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নামটি যেমন। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ এ বাঙালির অবদানের পাশাপাশি তাঁর জন্মের তিথিও চিরজাগরূক থাকবে বাঙালির প্রাণের স্পন্দনে।
এ আলোক শিখা ক্রমে ক্রমে ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র, নিকষ কালো অন্ধকারের মধ্যে পরাধীনতার আগল থেকে মুক্ত করতে পথ দেখাতে থাকে পরাধীন জাতিকে। অবশেষে বাংলার পূব আকাশে পরিপূর্ণ এক সূর্য হিসেবে আবির্ভূত হয়, বাঙালি অর্জন করে মুক্তি। স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু আজ নেই, কিন্তু সে সূর্যের প্রখরতা আগের চেয়েও বেড়েছে অনেকগুণ। তাঁর অবস্থান এখনও মধ্যগগনে। সেই সূর্যের প্রখরতা নিয়েই বাঙালি জাতি আজ এগিয়ে চলেছে সামনের দিকে। তাই বাংলা, বাঙালি ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একবৃন্তে তিনটি চেতনার ফুল। বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের মাঝে বঙ্গবন্ধু চির অম্লান, চিরঞ্জীব। বাংলার শোষিত-বঞ্চিত-নির্যাতিত-মেহনতি জনতার হৃদয়ে বঙ্গবন্ধুর চিরভাস্বর, অমর।
সেই ঐতিহাসিক দিন আজ। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯তম জন্মবার্ষিকী, জাতীয় শিশু দিবস। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ১৭ মার্চ ২০২০ থেকে ২০২১ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত সময়কে ‘মুজিব বর্ষ’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
১৯২০ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জের অজ-পাড়াগাঁ মধুমতি আর বাঘিয়ার নদীর তীরে এবং হাওর-বাঁওরের মিলনে গড়ে ওঠা বাংলার অবারিত গ্রাম টুঙ্গিপাড়ায় শেখ পরিবারে জন্ম নেয়া খোকা নামের শিশুটিকালের আবর্তে হয়ে উঠেছিলেন নির্যাতিত-নিপীড়িত বাঙালির ত্রাণকর্তা ও মুক্তির দিশারী। গভীর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ এবং জনগণের প্রতি মমত্ববোধের কারণে পরিণত বয়সে তিনি হয়ে ওঠেন বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা। বর্ণাঢ্য সংগ্রামবহুল জীবনের অধিকারী এই নেতা বিশ্ব ইতিহাসে ঠাঁই করে নিয়েছেন স্বাধীন বাংলাদেশের রূপকার হিসেবে।

জন্মদিন উপলক্ষে জাতীয় ও স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন কর্সূমচি নেয়া হয়েছে

আবেদ খান পিআইবির চেয়ারম্যান 

নিউজ ডেস্ক::

প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআইবি) পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক আবেদ খান। সোমবার (১১ মার্চ) পিআইবি পরিচালনা বোর্ড গঠন করে তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে।

পিআইবির চেয়ারম্যান ও দৈনিক সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার গত বছরের ১৩ আগস্ট সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

আবেদ খান প্রকাশিতব্য দৈনিক জাগরণের সম্পাদক। তিনি এর আগে দৈনিক ভোরের কাগজ, দৈনিক যুগান্তর ও সমকালের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

পিআইবির নতুন পরিচালনা বোর্ডের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন তথ্য মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, অর্থবিভাগ এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ মনোনীত যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার একজন করে প্রতিনিধি। এ ছাড়া তথ্য অধিদফতরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান, ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, বাংলাদেশ পোস্টের প্রধান সম্পাদক শরীফ শাহাবুদ্দিন, একাত্তর টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) কোষাধ্যক্ষ দীপ আজাদ, বিএফইউজের সদস্য শেখ মামুনুর রশীদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার বিশেষ সংবাদদাতা অনুপ খাস্তগীরকে পরিচালনা বোর্ডের সদস্য করা হয়েছে।

পিআইবির মহাপরিচালক এই বোর্ডের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে উপজেলা নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়েছে ॥ প্রথম দফায় ভোট পড়েছে ৪৩.৩২ শতাংশ

কমলকুঁড়ি ডেস্ক :

14

উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নিলেও ক্ষমতসীন দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে নির্বাচন কিছুটা হলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়েছে। এছাড়া এই নির্বাচনে বিএনপির অনেক প্রার্থী দলের নির্দেশ অমান্য করেই এই নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়লাভও করেছে। ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পাশাপাশি, দলের অনেক বিদ্রোহী এবং বিএনপির প্রার্থীরা জয়লাভ করেছে। এ ছাড়া দলের বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় কেন্দ্র দখল এবং ভোট কারচুপির ঘটনা অনেক কম হয়েছে। ভোট কম পড়লেও নির্বাচন হয়েছে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে। ইসির হিসাব অনুযায়ী প্রথম দফায় ভোট পড়েছে ৪৩.৩২ শতাংশ।
গত রবিবার প্রথম দফায় ৭৮ উপজেলায় ভোট হয়। যদিও নির্বাচনের আগেই ১৫ উপজেলায় চেয়ারম্যান এবং ৬ উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান এবং ৭ উপজেলায় মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করেছে। কিন্তু বাকি উপজেলায় আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কার পাশাপাশি দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীরাই মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। এর বাইরে অনেক উপজেলায় বিএনপির প্রার্থীরা স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন এ কারণেই ব্যাপকভাবে ভোট কারচুপি এবং জাল ভোটের ঘটনা ঘটেছে কম। নৌকা মার্কা প্রার্থীর পাশাপাশি এ কারণে বিদ্রোহী প্রার্থীরা জয়লাভ করতে সমর্থ হয়েছে।
৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগে উপজেলায় নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয় বিএনপি। বিএনপির এই বর্জনের কারণে অধিকাংশ রাজনৈতিক দল উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেয়নি। অন্য দল নির্বাচনে না আসায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রতি নমনীয়ভাব প্রদর্শন করে। প্রায় সব উপজেলায় আওয়ামী লীগের একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী থাকলেও নির্বাচনের আগে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে কারও বহিষ্কার পর্যন্ত করা হয়নি। জানা গেছে প্রথম থেকেই নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক করতে এ বিষয়ে নমনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
আইন অনুযায়ী এবারই প্রথমবারের মতো দলীয় ভিত্তিতে উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আইন অনুযায়ী দলীয় ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রার্থীরা নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রতীকে নির্বাচন করবেন। এবং প্রার্থী মনোনয়নও দল থেকেই দেয়া হবে। কিন্তু অন্যদলগুলো এবারে উপজেলায় না আসায় আওয়ামী লীগ নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করতে ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে এবারে দলীয় ভিত্তির নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে কাউকেই দল থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি। প্রায় প্রতি উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর বাইরে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দেয়া হলেও বিদ্রোহীদেরও পরোক্ষভাবে উৎসাহ দেয়া হয়েছে। নির্বাচনে বিএনপি না আসায় তৃণমূলে নেতাদের জনপ্রিয়তার বিষয়টির ওপর জোর দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে কাউকে দল থেকে মনোনয়ন দেয়া হলে তিনি যদি জিততে না পারেন, তাহলে বিদ্রোহী যে প্রার্থী জিততে পারবে তাকেই মূল্যায়ন করার বিষয়টিও মাথায় রাখা হয়েছে।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে প্রায় প্রতি উপজেলায় আওয়ামী লীগের একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও বড় ধরনের কোন সহিংসতা ঘটেনি। তবে বিচ্ছিন্নভাবে কোন কোন এলাকায় কেন্দ্র দখল, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। এ কারণে ইসির পক্ষ থেকে দেশের ২৮ কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করে দেয়া হয়েছে। অথচ ইসির হিসাব অনুযায়ী ৭৮ উপজেলায় ভোট কেন্দ্রে ছিল ৫ হাজার ৮৪৭টি। সে তুলনায় খুব কমসংখ্যক কেন্দ্রে নির্বাচনের অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিএনপি আসলে নির্বাচন অনেকটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতো, নির্বাচন আরও বেশি গ্রহণযোগ্য হতো। ভোটার উপস্থিতি অনেক বেশি হতো। ভোট নিয়ে ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ থাকত বেশি। কিন্তু দলটি না আসায় নির্বাচনী পরিবেশ যেমন ছিল নিরুত্তাপ। ভোটার উপস্থিতিও আশানুরূপ ছিল না।
ভোট শেষে রবিবার ইসি সচিব হেলালুদ্দিন আহমদ প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, প্রথম ধাপের ৭৮ উপজেলার নির্বাচন মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিযোগিতাপূর্ণ হলে নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি বাড়ে। এ নির্বাচনে অনেক দল অংশ না নেয়ায় তিনি ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলক কম বলে উল্লেখ করেন।
প্রথম দফায় ভোট পড়েছে ৪৩.৩২ শতাংশ : এদিকে ভোট শেষে সোমবার ইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে প্রথম দফায় উপজেলায় ভোট পড়েছে ৪২.৩২ শতাংশ। আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে দুপুরে সাংবাদিকদের ইসি সচিব হেলালুদ্দিন আহমদ বলেন, যেসব কেন্দ্রের ভোট বন্ধ করা হয়েছে, কেন বন্ধ হয়েছে, তা তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা পরিষদের প্রথম ধাপের নির্বাচনে ২৮টি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করা হয়। এ বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, পরবর্তীতে এগুলোর তারিখ নির্ধারণ করে পুননির্বাচনের ব্যবস্থা নেয়া হবে। ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের অনিয়মের বিষয়ে বলেন, এটা নৈতিকতার বিষয়। অনেক সময় অনেকে নৈতিকতা হারিয়ে কোন প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে। তবে সেগুলো নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে কমিশন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে।