সদ্য সংবাদ

বিভাগ: কমলগঞ্জ

কমলগঞ্জে জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা সপ্তাহ সমাপ্ত

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:


স্বাস্থ্য সেবা অধিকার, শেখ হাসিনার অঙ্গীকার’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা সপ্তাহ-২০১৯ সমাপ্ত হয়েছে। কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর আয়োজনে শনিবার বিকাল সাড়ে ৪ টায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হল রুমে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ এম.পি।
কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ইয়াহহিয়া এর সভাপতিত্বে ও সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক আনজুমান আরা রুবীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি এম, মোসাদ্দেক আহমেদ মানিক, কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. জুয়েল আহমেদ, কমলগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) সুধীন চন্দ্র দাস, কমলগঞ্জ বিআরডিবি সাবেক চেয়ারম্যান ইমতিয়াজ আহমেদ বুলবুল, পৌর কাউন্সিলর মো. আনোয়ার হোসেন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ডা. মানস কান্তি সিংহ, উপ সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার ডা. মো. শামসুদ্দীন, কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ বলেন, ‘স্বাস্থ্য সেবা কারোর দয়া নয়, সাধারণ জনগণের অধিকার এবং এটা শেখ হাসিনার অঙ্গীকার’। তাই যে কোন মূল্যে জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

কমলগঞ্জে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচীর উদ্বোধন : ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ২৫০০ জনকে সহায়তা প্রদান

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

মৌলভীবাজারে কমলগঞ্জে খরিপ-১/২০১৯-২০ মৌসুমে উফসী আউশ ধান উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রণোদনা কর্মসূচী আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষীদের মধ্যে বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়েছে। শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) সকাল ১১টায় কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচীর শুভ উদ্বোধন করেন অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি ও সাবেক চিফ হুইপ আলহাজ্ব ড. মো: আব্দুস শহীদ এমপি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হকের সভাপতিত্বে ও প্রধান শিক্ষক মো: মোশাহীদ আলীর সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি এম. মোসাদ্দেক আহমেদ মানিক, কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো: জুয়েল আহমেদ, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান বিলকিছ বেগম, রহিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইফতেখার আহমেদ বদরুল, কমলগঞ্জ সদর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান, কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) সুধীন চন্দ্র দাস। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কৃষকদের পক্ষ থেকে মুক্তিযোদ্ধা মো: জয়নাল আবেদীন। উপস্থিত ছিলেন প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, দলীয় নেতৃবৃন্দ ও উপকারভোগী কৃষকবৃন্দ। কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান জানান, কমলগঞ্জ উপজেলায় মোট ২৫০০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে জনপ্রতি ৫ কেজি বীজ, ১৫ কেজি জিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার সরকারিভাবে বিনামুল্যে প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নে ৩০০ জন, পতনঊষারে ২০০, মুন্সীবাজারে ২০০, শমশেরনগরে ২৫০, সদরে ২৫০, আদমপুরে ৩০০, মাধবপুরে ২০০, ইসলামপুরে ৩০০ ও পৌরসভায় ২০০ জন সহায়তা পাচ্ছে।

কমলগঞ্জে কীটনাশক যুক্ত দীর্ঘস্থায়ী মশারী বিতরন কার্যক্রম উদ্বোধন


কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে কীটনাশকযুক্ত দীর্ঘস্থায়ী মশারী বিতরন কার্যক্রম উদ্বোধন হয়েছে। কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ এর আয়োজনে ও ব্র্যাক ম্যালেরিয়া নির্মুল কর্মসূচীর সহযোগীতায় বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় আলীনগর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামস্থ ছমেদ মিয়ার বাড়ীতে এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রম উদ্বোধন হয়।
কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার মানস কান্তি সিংহের সভাপতিত্বে ও ব্র্যাক ম্যালেরিয়া নির্মুল কর্মসূচী কমলগঞ্জ উপজেলা শাখার ব্যবস্থাপক শাহানা আক্তার এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্র্যাক ম্যালেরিয়া নির্মুল কর্মসূচী মৌলভীবাজার জেলা ব্যবস্থাপক মোশাররফ হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্র্যাক ম্যালেরিয়া নির্মুল কর্মসূচী মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি আরিফুর রহমান, ব্র্যাক প্রগতি কর্মসূচীর এলাকা ব্যবস্থাপক আফজাল হোসেন, কমলগঞ্জ সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক শাহীন আহমদ, ব্র্যাক ওয়াশ কর্মসূচীর মৌলভীবাজার জেলা ব্যবস্থাপক সুলতানা আক্তার, ব্র্যাক ওয়াশ কর্মসূচীর প্রোগাম অর্গানাইজার আলমগীর হোসেন।
ব্র্যাক ম্যালেরিয়া নির্মুল কর্মসূচী কমলগঞ্জ উপজেলা শাখার ব্যবস্থাপক শাহানা আক্তার জানান, উদ্বোধনের দিন গোবিন্দপুর, উত্তর কানাইদেশী ও বাগিছড়ায় মশারী বিতরন করা হয়। পর্যায়ক্রমে চলতি মাসে চৌদ্দ হাজার আটশত মশারী বিতরন করা হবে।

কিশোর হেলপারের চালনায় কমলগঞ্জে গাছের সাথে বাসের ধাক্কা

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:


মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের শমশেরনগরে সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে রতন খান-৬ নামে একটি বাসে গ্যাস ভর্তি করে কিশোর হেলপার চালিয়ে আসছিল। কমলগঞ্জ-শমশেরনগর সড়কের শমশেরনগর হাজী মোহাম্মদ উস্তওয়ার বালিকা বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় এসার পার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি সড়কধারের একটি আকাশ মনি গাছে ধাক্কা লাগে। ফলে বাসটির সামনের দিক দুমড়ে মুছড়ে গিয়ে সড়কের উপর এলো পাতাড়িভাবে পড়ে থাকে। ফলে সকাল ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত এ সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) সকাল ৭টায় এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক আনজির আহমদ বলেন, ঘটনার পর থেকে এ সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। কিশোর হেলপার পালিয়েছে। খবর পেয়ে তিনি নিজে এসে মানুষজনের সহায়তায় বাসটি ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করেন। তিনি আরও বলেন, ১৫ থেকে ১৬ বছর বয়সের এক কিশোর হেলপার বাসটি চালাচ্ছিল। কিশোর হেলপার বাসটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি বলে সড়কধারের গাছে ধাক্কা লেগে বাসের সম্মুখভাগ দুমড়ে মুছড়ে যায়। ভাগ্য ভালো এ সময় বাসে কোন যাত্রী ছিল না বলে হতাহতের কোন ঘটনা ঘটেনি।
বাসের চালক জমির মিয়া বলেন, ভোর বেলা সাধারণত বাসের হেলপার বাস নিয়ে গ্যাস ভরে আনে। বাসের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এ ঘটনাটি ঘটেছে বলে চালক জমির মিয়া মনে করেন।

কমলগঞ্জে মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্পের সুপারভাইজার ও শিক্ষকদের মাসিক সম্মানী ভাতা প্রদান


কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্পের সুপারভাইজার ও শিক্ষকদের সম্মানী ভাতা প্রদান করা হয়েছে। গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার দু’দিনে কমলগঞ্জ উপজেলার ১৫ জন সুপারভইজার ও ৬০০ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের এ সম্মানী ভাতা কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদান করা হয়। সম্মানী ভাতা প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধন করেন কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশেকুল হক, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো, মৌলভীবাজার এর সহকারী পরিচালক আমিরুল কবীর, বাস্তবায়নকারী সংস্থা ওয়াফ এর নির্বাহী পরিচালক মো. আব্দুল মালিক, উপজেলা প্রোগ্রাম অফিসার সাইফুল ইসলাম, উপজেলা কো-অর্ডিনেটর মো. আলমগীর হোসেন, সহকারি কো-অর্ডিনেটর জগদীশ চন্দ্র দত্ত, সুপারভাইজার আমির হোসেন, রুমান আহমদ, আতিকুর রহমান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্প (৬৪ জেলা) এর সুপারভাইজার ও শিক্ষকদের প্রথম দু’মাসের সম্মানী ভাতা প্রদান করা হয়েছে।

কমলগঞ্জে জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা সপ্তাহ উদ্বোধন

 

আহমেদুজ্জামান আলম, কমলগঞ্জ থেকেঃ

‘স্বাস্থ্য সেবা অধিকার, শেখ হাসিনার অঙ্গীকার’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দেশের মানুষের কাছে গুণগত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সারা দেশের মতো মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে থেকে শুরু হয়েছে জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সপ্তাহ-২০১৯। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার দুপুরে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হলরুমে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ইয়াহহিয়ার সভাপতিত্বে ও স্বাস্থ্য সহকারী রুবি আক্তারের সঞ্চালনায় আলেচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ সদস্য, মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক মো. রফিকুর রহমান, কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক, কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র জুয়েল আহমেদ, জেলা পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ হেলাল উদ্দিন, উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বিলকিস বেগম, পৌর কাউন্সিলার মো. আনোয়ার হোসেন প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মেডিকেল অফিসার ডা: মুন্না সিনহা। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কমলগঞ্জ সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক শাহীন আহমেদ, উপজেলা স্যানিটারী ইন্সপেক্টর দুলাল মিয়া, নার্স সুপারভাইজার শামীমা ফেরদৌস, স্বাস্থ্য সহকারী তোফায়েল আহমেদ প্রমুখ। পরে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ এম.পি স্বাস্থ্য সেবা সপ্তাহ-২০১৯ এর শুভ উদ্বোধন ঘোষনা করেন। অনুষ্ঠানে সাংবাদিক, বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, কমলগঞ্জ উপজেলা পর্যায়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান, স্বাস্থ্য বিষয়ক সেমিনার, স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি, চিকিৎসা সেবায় নৈতিকতা বিষয়ক আলোচনা, স্বাস্থ্য সচেতনতা ও পুষ্টি বিষয়ক আলোচনাসহ নানামুখী কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ২০ এপ্রিল এই সেবা সপ্তাহ শেষ হবে।

 

কমলগঞ্জের ছয়চিরি দিঘীর পারে দুই দিনব্যাপী চড়ক পূজা ও মেলা সমাপ্ত


কমলকুঁড়ি রিপোর্ট
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী ছয়চিরী দিঘীর পারে দুইদিনব্যাপী চড়ক পূজা ও মেলা সমাপ্ত হয়েছে। বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে গত রোববার (১৪ এপ্রিল) শনিবার শুরু হয় এ চড়ক পূজা ও মেলা। দুইশত বছরের অধিক সময় ধরে চলে আসা প্রাচীন ঐতিহ্য লালিত চড়ক পূজা ও মেলাকে কেন্দ্র করে কমলগঞ্জের ছয়চিরিসহ আশেপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল। সোমবার (১৫ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৩টায় ফের চড়ক পূজা অনুষ্ঠিত হয়। রহিমপুর ইউনিয়নের ছয়চিরি দিঘীর পাড়ে বাংলা পুঞ্জিকা মতে প্রতিবছরের চৈত্র সংক্রান্তিতে ২দিন ব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে চড়ক পূজা উৎসব। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি।
জানা যায়, চড়ক পূজা উৎসবের ১০/১২ দিন পূর্ব থেকে বিভিন্ন এলাকার পূজারীর মধ্যে ৪০/৫০ জন সন্ন্যাস ধর্মে দীক্ষিত হয়ে গ্রামের সনাতনী হিন্দু বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিব-গৌরীসহ নৃত্যগীত সহকারে ভিক্ষাবৃত্তিতে অংশ নেন। এ ক’দিন তারা পবিত্রতার সহিত সন্যাস ব্রত পালন করে নিরামিষ ভোজি এবং সারাদিন উপবাস পালন করেন। চড়ক পূজার ২ দিন পূর্বে পূজারীরা শ্মশানে গিয়ে পূজা অর্চনা করেন ও শেষে গৌরীর বিয়ে, গৌরী নাচ ও বিভিন্ন গান গেয়ে ঢাকের বাজনায় সরগরম করে গোটা এলাকা। ছয়চিরি দিঘীর পাড়ে ভক্তরা নৃত্য করার জন্য কলাগাছ ও বাঁশের খুটি বেষ্টিত মন্ডলী তৈরী করে। পূজার প্রথম দিন নিশি রাতে তান্ত্রিক মন্ত্র ধারা কাচ পড়া দিয়ে জলন্ত (লাকড়ির কয়লা) ছাইয়ের উপর মানুষরুপি কালী সেজে নৃত্য করে। অন্য ভক্তগণ নৃত্যের তালে তালে, ছন্দে ছন্দে ঢোলক, কাশি, করতাল বাজিয়ে থাকেন। এসময় দর্শনার্থীরা জয়ধ্বনি এবং নারীদের কন্ঠে হুলু ধ্বনি দিতে থাকেন।
জ্বলন্ত আগুনের মধ্যে এই ‘কালীনাচ’ অত্যন্ত আকর্ষনীয় এবং তান্ত্রিক মন্ত্র দিয়ে ৭টি বলিছেদ (লম্বা দা) এর উপর শিব শয্যা করেন। শিবের উপর উঠে কালী ভয়ানক এক অদ্ভুত রুপ ধারন করেন। এসময় উপস্থিত দর্শনার্থী সবাই আতঙ্কিত হয়ে উঠেন। কালীনাচ শেষ হওয়ার পর শনিবার সকালে পূজারীরা পূজা করে পান বাটা দিয়ে চড়ক গাছকে নিমন্ত্রণ জানানো হলে পার্শ্ববর্তী ঐতিহাসিক ছয়চিরি দিঘী থেকে ভেসে উঠে ১০০ ফুট লম্বা চড়ক গাছ। এ গাছের চুড়া থেকে মাচা পর্যন্ত চারটি পাখার মতো করে বাধা হয় চারটি মোটা বাঁশ এবং তাতে যুক্ত করা হয় মোটা লম্বা রশি। আগের বছর উৎসব শেষে এই দিঘীতে ডুবিয়ে রাখা হয়ে ছিল চড়ক গাছ। দিঘীর পাড়ে গর্ত খুড়ে সোজা এবং খাড়া করে পোঁতা হয় এ গাছ।
শনিবার (১৪ এপ্রিল) দপুর থেকে বিপুল সংখ্যক নারী পুরুষ দর্শনার্থীর বিশাল সমাগম ঘটে উৎসবস্থলে। বিকেল বেলা ভক্তদের মন্ডলীতে বিশাল দা (বলিছেদ) দিয়ে নৃত্য, শিবের নৃত্য ও কালীর নৃত্য দেখানো হয়। নৃত্য শেষে ছয়চিরি দিঘীতে স্নান করে ভক্তদেরকে লোহার শিকল শরীরের বিভিন্ন অংশে পিষ্ট (গাঁথা) করা হয়। বিশেষ করে জিহ্নবা ও গলায় গেঁথে দেয়া হয়। নৃত্যের তালে তালে চড়ক গাছ ঘুরানো হয়। দেবতার পূজা-অর্চনা শেষে অপরাহ্নে মূল সন্ন্যাসী ৪ জন ভক্তের (জীবিত মানুষের) পিঠে লোহার দু’টি করে বিরাট আকৃতির বড়শি গেঁথে রশিতে বেঁধে ঝুলিয়ে চড়ক গাছ ঘুরানো হয়। এ সময়ে দর্শনার্থীদের অনেকে বাতাসা আর কলা উপরের দিকে উড়িয়ে দেন আর দর্শনার্থীরা তা কুড়িয়ে নেন।
সোমবার (১৫ এপ্রিল) ফেরা চড়ক পূজায় দেবতার পূজা অর্চনা করা হয়। ছয়চিরি দিঘীর চার পাড়ের মধ্যে দিঘীর পূর্বপাড়ে ১টি, উত্তর পাড়ে ১টি এবং দক্ষিন পাড়ে ২টি চড়ক গাছ স্থাপন করে পূজা অনুষ্ঠিত হয়। তান্ত্রিক মন্ত্রের ধারা বিভিন্ন অলৌকিক ধর্মীয় কর্মসূচী উপভোগ করার জন্য প্রতি বছরের মত এবারও দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার নারী-পুরুষ, জাতি, ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে দর্শনার্থীর উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। চড়ক পূজা উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী এক বিশাল মেলা বসেছিল।
চড়কপূজা উদযাপন কমিটির নেতা প্রধান শিক্ষক অসমঞ্জু প্রসাদ রায় চৌধুরী জানান, ইউনিয়ন পরিষদ ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল।

কমলগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বর্ষবরণ পালিত

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে পহেলা বৈশাখ ১৪২৬ বাংলা বর্ষবরণ উপলক্ষে রোববার সকালে এক মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো: রফিকুর রহমান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হকের নেতৃত্বে র‌্যালীতে অংশগ্রহণ করেন উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান রামভজন কৈরী, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বিলকিস বেগম, মুন্সীবাজার ইউুিপ চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালিব তরফদার, জেলা পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মো: হেলাল উদ্দিনসহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, কর্মচারী, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। বর্ষবরণ উপলক্ষে উপজেলা পরিষদের সামনে এক মেলা বসে। র‌্যালী শেষে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও র‌্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে কমলগঞ্জের পতনঊষারের শহীদনগর বাজারে শাপলা সবুজ সংঘের আয়োজনে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে শুরু হয়েছে দুইদিনব্যাপী বৈশাখী মেলার। শোভাযাত্রা শেষে পতনঊষার ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ইউপি সদস্য নারায়ন মল্লিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। এছাড়াও উপজেলার সবগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় নানা কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলা নববর্ষকে বরণ করা হয়।
এদিকে ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় জাতীয় সংগীত ও বৈশাখ বরণের কোরাসের মাধ্যমে শমশেরনগর আইডিয়াল কিন্ডার গার্টেন স্কুলে উপজেলার সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। পরে টানা চার ঘন্টাব্যাপী অনুষ্ঠানে এ স্কুলের শিশু শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের অংশ গ্রহনে জমজমাট নাচ গানের আসর বসে। সবশেষে স্কুলের ছাত্র-শিক্ষক, অভিভাবক ও আমন্ত্রিত অতিথি মিলিয়ে ছয় শতাধিকের মধ্যাণ্যভোজ হয় স্কুল প্রাঙ্গণে। এছাড়াও উপজেলার একটি পৌরসভাসহ নয়টি ইউনিয়নে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা আয়াজনের মাধ্যমে বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নেয়।

কমলগঞ্জে জাতীয় হিন্দু মহাজোটের সম্মেলন অনুষ্ঠিত

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট


মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে জাতীয় হিন্দু মহাজোট উপজেলা শাখার সম্মেলন রহিমপুর ইউনিয়নের ছয়চিরী দিঘীর পারে রোববার দুপুরে অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের শুরতেই সভাপতি কর্তৃক মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জলন এবং গীতা পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সুচনা করা হয়। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী বিজয়কৃষ্ণ ভট্টাচার্য্য।
জাতীয় হিন্দু মহাজোট মৌলভীবাজার জেলা শাখার সভাপতি এড. বিষ্ণুপদ সভাপতিত্বে ও এড. অনুকুল মালাকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক বলরাম বসাক, সিলেট জেলা শাখার উপদেষ্টা নির্মল ভট্টাচার্য্য, নির্বাহী সভাপতি সমীরণ আচার্য্য, সিলেট মহানগরের সাধারণ সম্পাদক এড. গঙ্গেশ দাস, জাতীয় হিন্দু যুব মহাজোটের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ কুমার মাহাতো, মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সভাপতি ইন্দ্রজিৎ পাল, পূর্ণেন্দু দাস পবিত্র, কমলগঞ্জ প্রেসক্লাব এর সহ সভাপতি প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ, রহিমপুর ইউনিয়ন পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অসমঞ্জু প্রসাদ রায় চৌধুরী। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক অঞ্জন প্রসাদ রায় চৌধুরী, ইউপি সদস্য সুনীল চন্দ্র মালাকার, অর্জুন শর্ম্মা (নিধু), নিখিল মালাকার প্রমুখ।
বক্তারা বলেন স্বাধীনতার পর থেকে এই দেশে হিন্দুরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এতো বছর পার হলেও এদেশের হিন্দুদের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হয় নাই। তারা আরো বলেন, প্রতিটি নির্বাচনের আগেও পরে হিন্দুদের জীবনে নেমে আসে কালো মেঘ। এদেশে হিন্দুরা আস্তে আস্তে বিলুপ্ত প্রায়। সকল মত ও পথের সকলকে একই স্রোতধারায় নিয়ে মহাজাগরন ঘটাতে প্রয়াসী। এরই লক্ষে হিন্দুরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে গঠন করেছে “বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট”। এই সংগঠন হিন্দুত্ব রক্ষায় ধর্মীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অধিকার আদায়ের সংগঠন।
বক্তারা আরো বলেন বাংলাদেশে হিন্দুরা দ্বিতীয় সংখ্যা গরিষ্ঠ জাতি, কিন্তু হিন্দুরা এদেশে অনেক কিছু থেকেই বঞ্চিত। তারা বলেন এই সংগঠনের সবাই একসাথে একে অপরের দুর্দিনে এগিয়ে আসতে হবে।
সম্মেলন শেষে ২য় অধিবেশনে অঞ্জন প্রসাদ রায় চৌধুরীকে সভাপতি, অর্জুন শর্ম্মা (নিধু)কে সাধারণ সম্পাদক, সজীব দেবরায়কে সাংগঠনিক সম্পাদক করে উপজেলা জাতীয় হিন্দু মহাজোট, সাংবাদিক পিন্টু দেবনাথকে সভাপতি, নিখিল মালাকারকে সাধারণ সম্পাদক, উজ্জ্বল দেবকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে জাতীয় হিন্দু যুব মহাজোট এবং রাজিব মল্লিককে সভাপতি, অনুকুল মালাকারকে সাধারণ সম্পাদক, অজয় চন্দ্র শীলকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে জাতীয় হিন্দু ছাত্র মহাজোট কমলগঞ্জ উপজেলা শাখার কমিটি ঘোষনা করা হয়।

আগাম বৃষ্টিপাতে কমলগঞ্জে চায়ের ফলন দ্বিগুন হওয়ার সম্ভবনা

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট


মৌলভীবাজারের বিভিন্ন উপজেলাসহ কমলগঞ্জে আগাম বৃষ্টিপাতে চা বাগানগুলো চায়ের ফলন দ্বিগুন হওয়ার সম্ভবনা বেশি। চা-বাগানে এবারের প্রথম বৃষ্টিতে চা গাছে গজাচ্ছে নতুন কুঁড়ি পাতা। এ কারণে উপজেলার ২৩ টি চা বাগানে চায়ের ফলন দ্বিগুন মাত্রায় বাড়ার সম্ভাবনা দেখছেন বাগান কর্তৃপক্ষ। বিভিন্ন চা বাগান ঘুরে দেখা যায়, নারী চা শ্রমিকরা কচি চায়ের কুঁড়ি চা পাতা উত্তোলনের জন্য সকাল থেকেই দল বেঁধে চা বাগানের বিভিন্ন টিলায় ঝাঁপিয়ে পড়ছেন।
বাগান সংশ্লিষ্টরা জানান, আগামী দিনগুলো আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি চা উৎপাদন করা সম্ভব হবে। দেশের অন্যতম অর্থকরী ফসল চায়ের চাহিদা এবং দাম সারা দেশে ও বিদেশে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ কারণে বাগান কর্তৃপক্ষ নতুন বাগান সৃজনের পাশাপাশি কারখানার পরিধিও বৃদ্ধি করছেন। পাত্রখোলা চা বাগানের ম্যানেজার শফিকুর রহমান মুন্না জানান, এ সময় পূর্বের বছর চায়ের গাছে পানি সরবরাহের জন্য গভীর নলকূপের মাধ্যমে পানির উৎস তৈরি করে পানির পাম্পের পাইপ দিয়ে চায়ের গাছে গুড়ায় পানি দিতে বাগান কর্তৃপক্ষ নানা হিমশিম পোহাতে হতো। এতে ব্যয় হতো প্রচুর টাকা। কিন্তু এবার আগাম বৃষ্টির কারনে পানি সরবরাহের বেগ পেতে হয়নি বলে তিনি জানান। তাই বৃষ্টির ফলে চা বাগানে নতুন কুঁড়ির অভাবনীয় সাফল্য দেখা দিয়েছে। ফলে এ বাগানের পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন চা বাগানে চায়ের চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণে চায়ের গুণগত মানসহ চা চাষের পরিধি বৃদ্ধিও জন্য পতিত এলাকায় নতুন চারা গাছ রোপণের কাজ চলছে। এই বৃষ্টি বাগানের জন্য অনেক উপকারী ও দ্বিগুন ফলনের সম্ভবনা রয়েছে।
বাগান সূত্রে জানা যায়, গত বছর বৃষ্টিপাত দেরিতে হওয়ায় আবহাওয়া জনিত কারণে সিলেটে চায়ের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪ দশমিক ১০ ভাগ কম হয়েছে। এবার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন বেশি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন চা শ্রমিকরা। চৈত্র মাসের মেঘের আগমন ঘটায় এবার ভাগ্য প্রসন্ন বলেই মনে করছেন কর্তৃপক্ষরা। চা শ্রমিক নেতা ইউপি সদস্য সীতারাম বীন বলেন, চায়ের দ্বিগুন ফলন হলেও চা শ্রমিকরা বঞ্চিত থাকে সব সময়। তবে মৌসুমের প্রথম বৃষ্টি চায়ের উৎপাদন বৃদ্ধিও জন্য শুভ লক্ষণ দেখছেন চা-বাগান মালিকরা। এ বিষয়ে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সিনিয়র পর্যবেক্ষক মো. হারুনুর রশিদ বলেন, বৃষ্টির পরশে চা-গাছ আগে-ভাগে কুঁড়ি ছাড়তে শুরু করছে। গত কদিন থেকে থেমে থেমে মৌসুমের প্রথম বৃষ্টি হয়েছে। এই বৃষ্টি চা বাগানের জন্য খুবই উপকারী হবে বলে তিনি মনে করছেন। বাংলাদেশ চা গবেষণা ইন্সটিটিউট (বিটিআরআই) এর পরিচালক ড. মাঈন উদ্দিন আহমেদ বলেন, এই বৃষ্টি চায়ের জন্য উপকারী। এর ফলে চা গাছের গ্রোধ বৃদ্ধি পাবে পাশাপাশি চা গাছে দ্রুত ফ্লাশ দেখা দেবে। এমন বৃষ্টিতে সেচ কম লাগবে এবং চায়ের উৎপাদন কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে সহজ হবে।