সদ্য সংবাদ

পুরাতন সংবাদ: May 20th, 2019

কমলগঞ্জে মহান মে দিবস পালন

 কমলকুঁড়ি রিপোর্ট


“শ্রমিক মালিক গড়বো দেশ,এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ” এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে নিয়ে নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের রহিমপুর ইউনিয়নের মৃর্তিগা চা বাগান নাচ ঘরে সহ¯্রাধিক চা শ্রমেিকর উপস্থিতিতে মে দিবসের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। চা শ্রমিক সমাবেশে শ্রমিকদের নানা দাবির মুখে মৌলভীবাজার-৪ আসনের সাংসদ উপাধ্যক্ষ ড. এম এ শহীদ বলেন চা শ্রমিক সন্তানদের কাজের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল উপজেলা দুটি কারিগরি বিদ্যালয় স্থাপন করা হবে। রোববার (১ মে) মহান মে দিবস পালন উপলক্ষে বেলা ১টায় বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের মনু-দলই ভ্যালির (অঞ্চল) আয়োজনে এ শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
মনু-দলই ভ্যালির কার্যকরি কমিটির সভাপতি ও ইউপি সদস্য ধনা বাউরীর সভাপতিত্বে দিলীপ বৈদ্য ও প্রদীপ পালের সঞ্চালনায় শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-৪ আসনের সাংসদ উপাধ্যক্ষ ড. এম এ শহীদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুর হক, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বিলকিছ বেগম, কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান, উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি মোসাদ্দেক আহমেদ মানিক, রহিমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইফতেখার আহমদ বদরুল ও বিআরডিবি চেয়ারম্যান ইমতিয়াজ আহমদ।
সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মনু-দলই ভ্যালির সাধারণ সম্পাদক নির্মল দাশ পাইনকা, চা শ্রমকি নেতা রাম যতন কৈরী, কুলচন্দ্র তাঁতী, পঙ্কজ কুন্ড ও মেরি রাল্ফ। চা শ্রমিক নেতৃবৃন্দরা প্রধান অতিথি সাংসদকে উদ্দেশ্য করে কিছু দাবি উপস্থাপন করেন। দাবিগুলো হচ্ছে কমলগঞ্জের প্রতিটি চা বাগানের প্রাথমকি বিদ্যালয়গুলি সরকারীকরণ করতে হবে। এনটিসির চা বাগানের জন্য একটি গ্রুপ হাসপাতাল স্থাপন করতে হবে। চা শ্রমিক সন্তানদের জন্য আলাদা কারিগরি মহাবিদ্যালয় স্থাপন করতে হবে। চা বাগানের বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি চর্চার জন্য চা শিল্পাঞ্চলে আলাদা একটি সাংস্কৃতিক একাডেমী স্থাপন করতে হবে।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, শ্রীমঙ্গলের রাজঘাট চা বাগানের রামছড়া চা বাগানে সরকারিভাবে একটি উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপন করা হবে। ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে শ্রীমঙ্গলস্থ চা শ্রমিক ইউনয়িনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় লেবার হাউজের ১০ তলা ভবন নির্মাণ করা হবে। দুই উপজেলা দুটি কারিগরি বিদ্যালয় স্থাপন করা হবে। দেওড়াছড়া চা বাগান শশ্মান ঘাটের উন্নয়ন কাজে ৩ লাখ টাকার অনুদান ও শমশেরনগর চা বাগান দুর্গা মন্দির নির্মাণে ১০ লাখ টাকার অনুদান দেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, জঙ্গীদের ব্যপারে সতর্ক থাকতে হবে, জঙ্গীদের কোন দেশ নাই,এরা কোন ধর্মের নয়, এদের একটি নাম এরা জঙ্গী।সবশেষে মৃর্তিগা চা বাগান নাচঘরে সুনিল বিশ্বাসের রচনায় চা শ্রমিকদের অংশ গ্রহনে নাটক “ নিজ ভূমে পরবাস” মঞ্চায়ন হয়।


অন্যদিকে ট্রাক, ট্যাংক, লরী, পিকাপ, কভারভ্যান ( রেজি নং ২৪০৩) শ্রমিক ইউনিয়ন কমলগঞ্জ উপজেলা শাখার আয়োজনে বর্ণাঢ্য র‌্যালী বের করা হয়। শাখার সভাপতি মো. জহিরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মো. মছব্বির খান র‌্যালিতে নেতৃত্ব প্রদান করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন কার্যকরি সভাপতি ইলিয়াছ মিয়া, সহসভাপতি পল্লব দত্ত, যুগ্ম সম্পাদক জুয়েল মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক হোসেন মিয়া, কোষাধ্যক্ষ জসমেদ মিয়া, প্রচার সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, দপ্তর সম্পাদক রুমেল আহমদ, সমাজকল্যাণ সম্পাদক মালেক মিয়া, ক্রীড়া সম্পাদক হান্নান মিয়া, সদস্য আকবর হোসেন, মুকিত মিয়া ও পাত্রখোলা, মাধবপুর, আদমপুর, মুন্সিবাজার, গুলেরাহাওর ও কমলগঞ্জ শাখার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া সকাল ১১টায় জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের রেজি:নং (২৩৫৯) কমলগঞ্জ উপজেলা শাখা আয়োজনে কমলগঞ্জ উপজেলা সদরে মহান মে দিবসের এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। উপজেলা ময়না চত্ত্বর মোড় থেকে শোভাযাত্রাটি বের হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ভানুগাছ চৌমুহনী চত্ত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে উপজেলা সিএনজি শ্রমিক শাখার সভাপতি আলমাছ মিয়ার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য¡ অধ্যাপক মো. রফিকুর রহমান। বক্তব্য রাখেন ভানুগাছ চৌমুহনী গ্রুপ কমিটির সম্পাদক মো. সেলিম মিয়ার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা সিএনজি গ্রুপের সহ-সভাপতি কালাম মিয়া, খলিল মিয়া, সম্পাদক মো. দিলবর মিয়া, ভানুগাছ চৌমুহনী গ্রুপ কমিটির সভাপতি মো. নূর মিয়া প্রমুখ।

কমলগঞ্জে মণিপুরী “লাই-হারাওবা” উৎসব সমাপ্ত হচ্ছে আজ রাতে

 কমলকুঁড়ি রিপোর্ট


মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়ন এর কোনাগাঁও গ্রামে “উজাও- লাইরেম্বী লাইশং” মন্দির প্রাঙ্গণে গত ২৭ এপ্রিল শুরু হাওয়া পাঁচ দিনব্যাপী মণিপুরী নৃ-গোষ্ঠীর অতি প্রাচীনতম ধর্মীয় অনুষ্ঠান ‘লাই-হারাওবা বা “ঈশ্বরের উপাসনা” উৎসব শেষ হবে আজ (বুধবার) রাতে।
এ উৎসবে মণিপুরিদের ধর্মীয় প্রথা অনুযায়ী প্রতিদিন মাইবা (দেবদাস), মাইবীরা (দেবদাসী) এবং তাদের সহযোগীরা ঐশ্বরীক বাণীসহ লোকগান, লোকনৃত্য ও ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পরিবেশনের মাধ্যমে, আতিয়া সিদবা বা দেবতাদের ইচ্ছা অনুসারে এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি এবং উদ্ভিদ ও প্রাণিগুলির বিবর্তনের গল্প উপস্থাপন করা হয়।
গত শনিবার স্থানীয় উদয়ন সংঘের আয়োজনে এ উৎসবে ভারত ও বাংলাদেশের জ্ঞানী গুণী ব্যক্তিবর্গসহ সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে কয়েক হাজার ভক্তের উপস্থিতিতে শুরু হয়েছিলো অনুষ্ঠানটি।
মণিপুরিদের বিশ্বাস, প্রতি বছর গ্রীষ্মকালীন পর্বের আগমনের সময় ঈশ্বর কর্তৃক মানুষের শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য পৃথিবী পরিদর্শন করেন। আর পৃথিবীর মানুষ আনন্দে এই অনুষ্ঠান উদযাপন করে। এই উৎসবটি মণিপুরী সংস্কৃতির সঙ্গে ওতোপ্রোত ভাবে জড়িয়ে রয়েছে। এটি মূলত, সনামহী ধর্মের ঐতিহ্যগত দেবতাদেরকে উৎসাহিত করার জন্য উদযাপন করা হয়।
উল্লেখ্য, মণিপুরে দেবতাদের সেবায় যে পুরুষরা সারাজীবন নিজেদেরকে উৎসর্গ করেন, তাদের বলা হয় মাইবা (দেবদাস)। একইভাবে যে নারীরা দেবতাদের সেবায় সারাজীবন নিজেদেরকে উৎসর্গ করেন, তাদের বলা হয় মাইবী (দেবদাসী)।