সদ্য সংবাদ

পুরাতন সংবাদ: April 18th, 2019

কমলগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বর্ষবরণ পালিত

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে পহেলা বৈশাখ ১৪২৬ বাংলা বর্ষবরণ উপলক্ষে রোববার সকালে এক মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো: রফিকুর রহমান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হকের নেতৃত্বে র‌্যালীতে অংশগ্রহণ করেন উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান রামভজন কৈরী, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বিলকিস বেগম, মুন্সীবাজার ইউুিপ চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালিব তরফদার, জেলা পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মো: হেলাল উদ্দিনসহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, কর্মচারী, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। বর্ষবরণ উপলক্ষে উপজেলা পরিষদের সামনে এক মেলা বসে। র‌্যালী শেষে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও র‌্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে কমলগঞ্জের পতনঊষারের শহীদনগর বাজারে শাপলা সবুজ সংঘের আয়োজনে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে শুরু হয়েছে দুইদিনব্যাপী বৈশাখী মেলার। শোভাযাত্রা শেষে পতনঊষার ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ইউপি সদস্য নারায়ন মল্লিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। এছাড়াও উপজেলার সবগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় নানা কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলা নববর্ষকে বরণ করা হয়।
এদিকে ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় জাতীয় সংগীত ও বৈশাখ বরণের কোরাসের মাধ্যমে শমশেরনগর আইডিয়াল কিন্ডার গার্টেন স্কুলে উপজেলার সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। পরে টানা চার ঘন্টাব্যাপী অনুষ্ঠানে এ স্কুলের শিশু শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের অংশ গ্রহনে জমজমাট নাচ গানের আসর বসে। সবশেষে স্কুলের ছাত্র-শিক্ষক, অভিভাবক ও আমন্ত্রিত অতিথি মিলিয়ে ছয় শতাধিকের মধ্যাণ্যভোজ হয় স্কুল প্রাঙ্গণে। এছাড়াও উপজেলার একটি পৌরসভাসহ নয়টি ইউনিয়নে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা আয়াজনের মাধ্যমে বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নেয়।

কমলগঞ্জে যুবকের প্রাণ বাঁচালো পুলিশ

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট


পহেলা বৈশাখীর দিনে ট্রেনের নীচে ঝাঁপ দিয়ে আতœহত্যার চেষ্টা করতে যাওয়া ইমন নামের এক যুবকের প্রাণ বাঁচালো কমলগঞ্জ থানার পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ভানুগাছ রেলস্টেশন এর সংলগ্ন কুমড়াকাপন এলাকায় সিলেট-আখাউড়া রেল লাইনে।
কমলগঞ্জ থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার পহেলা বৈশাখের দিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয়রা খবর দেয় ১টি ছেলে ট্রেন লাইনে উপর শুয়ে আছে। লোকজন বার বার বলছিলো, কিছুক্ষনের মধ্যে ঢাকা থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর পারাবত ট্রেন এই জায়গাটি অতিক্রম করবে। স্থানীয়রা ট্রেন লাইন থেকে সরে যাওয়ার কথা বললেও কারো কথা শুনছেনা ছেলেটি। এমন সংবাদের ভিত্তিতে কমলগঞ্জ থানার এসআই সুরুজ আলীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দলসহ স্থানীয়রা বাবুল মিয়ার ছেলে ইমন আহমেদ (২২) কে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এ ব্যপারে কমলগঞ্জ থানার ওসি মো. আরিফুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ছেলেটিকে আতœহত্যার কারণ জিজ্ঞাসা করলে সে জানায়, ছেলেটি ১টি গাড়ীর হেলপার ছিলো। কিছুদিন আগে হাইওয়ে সড়ক দূর্ঘটনায় তার দুই হাতের বেশ কয়েকটি স্থাানে ভেঙ্গে যায়। দুই হাত প্লাস্টারিং করলেও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে সুচিকিৎসা করাতে না পারায়, আর দিন দিন হাতের যন্ত্রণা বেড়ে যাওয়ার কারণে তা সহ্য করতে না পেরেই আতœহত্যার এমন সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানায়। তিনি আরো বলেন, সুচিকিৎসা করার জন্য মানবিক আবেদনের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। দুপুর ১ টায় ইমনকে কে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়

কমলগঞ্জে জাতীয় হিন্দু মহাজোটের সম্মেলন অনুষ্ঠিত

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট


মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে জাতীয় হিন্দু মহাজোট উপজেলা শাখার সম্মেলন রহিমপুর ইউনিয়নের ছয়চিরী দিঘীর পারে রোববার দুপুরে অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের শুরতেই সভাপতি কর্তৃক মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জলন এবং গীতা পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সুচনা করা হয়। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী বিজয়কৃষ্ণ ভট্টাচার্য্য।
জাতীয় হিন্দু মহাজোট মৌলভীবাজার জেলা শাখার সভাপতি এড. বিষ্ণুপদ সভাপতিত্বে ও এড. অনুকুল মালাকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক বলরাম বসাক, সিলেট জেলা শাখার উপদেষ্টা নির্মল ভট্টাচার্য্য, নির্বাহী সভাপতি সমীরণ আচার্য্য, সিলেট মহানগরের সাধারণ সম্পাদক এড. গঙ্গেশ দাস, জাতীয় হিন্দু যুব মহাজোটের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ কুমার মাহাতো, মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সভাপতি ইন্দ্রজিৎ পাল, পূর্ণেন্দু দাস পবিত্র, কমলগঞ্জ প্রেসক্লাব এর সহ সভাপতি প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ, রহিমপুর ইউনিয়ন পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অসমঞ্জু প্রসাদ রায় চৌধুরী। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক অঞ্জন প্রসাদ রায় চৌধুরী, ইউপি সদস্য সুনীল চন্দ্র মালাকার, অর্জুন শর্ম্মা (নিধু), নিখিল মালাকার প্রমুখ।
বক্তারা বলেন স্বাধীনতার পর থেকে এই দেশে হিন্দুরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এতো বছর পার হলেও এদেশের হিন্দুদের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হয় নাই। তারা আরো বলেন, প্রতিটি নির্বাচনের আগেও পরে হিন্দুদের জীবনে নেমে আসে কালো মেঘ। এদেশে হিন্দুরা আস্তে আস্তে বিলুপ্ত প্রায়। সকল মত ও পথের সকলকে একই স্রোতধারায় নিয়ে মহাজাগরন ঘটাতে প্রয়াসী। এরই লক্ষে হিন্দুরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে গঠন করেছে “বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট”। এই সংগঠন হিন্দুত্ব রক্ষায় ধর্মীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অধিকার আদায়ের সংগঠন।
বক্তারা আরো বলেন বাংলাদেশে হিন্দুরা দ্বিতীয় সংখ্যা গরিষ্ঠ জাতি, কিন্তু হিন্দুরা এদেশে অনেক কিছু থেকেই বঞ্চিত। তারা বলেন এই সংগঠনের সবাই একসাথে একে অপরের দুর্দিনে এগিয়ে আসতে হবে।
সম্মেলন শেষে ২য় অধিবেশনে অঞ্জন প্রসাদ রায় চৌধুরীকে সভাপতি, অর্জুন শর্ম্মা (নিধু)কে সাধারণ সম্পাদক, সজীব দেবরায়কে সাংগঠনিক সম্পাদক করে উপজেলা জাতীয় হিন্দু মহাজোট, সাংবাদিক পিন্টু দেবনাথকে সভাপতি, নিখিল মালাকারকে সাধারণ সম্পাদক, উজ্জ্বল দেবকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে জাতীয় হিন্দু যুব মহাজোট এবং রাজিব মল্লিককে সভাপতি, অনুকুল মালাকারকে সাধারণ সম্পাদক, অজয় চন্দ্র শীলকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে জাতীয় হিন্দু ছাত্র মহাজোট কমলগঞ্জ উপজেলা শাখার কমিটি ঘোষনা করা হয়।