সদ্য সংবাদ

পুরাতন সংবাদ: May 20th, 2019

কমলকুঁড়ি পত্রিকা ৩০ মার্চ ২০১৯

আগাম বৃষ্টিপাতে কমলগঞ্জে চায়ের ফলন দ্বিগুন হওয়ার সম্ভবনা

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট


মৌলভীবাজারের বিভিন্ন উপজেলাসহ কমলগঞ্জে আগাম বৃষ্টিপাতে চা বাগানগুলো চায়ের ফলন দ্বিগুন হওয়ার সম্ভবনা বেশি। চা-বাগানে এবারের প্রথম বৃষ্টিতে চা গাছে গজাচ্ছে নতুন কুঁড়ি পাতা। এ কারণে উপজেলার ২৩ টি চা বাগানে চায়ের ফলন দ্বিগুন মাত্রায় বাড়ার সম্ভাবনা দেখছেন বাগান কর্তৃপক্ষ। বিভিন্ন চা বাগান ঘুরে দেখা যায়, নারী চা শ্রমিকরা কচি চায়ের কুঁড়ি চা পাতা উত্তোলনের জন্য সকাল থেকেই দল বেঁধে চা বাগানের বিভিন্ন টিলায় ঝাঁপিয়ে পড়ছেন।
বাগান সংশ্লিষ্টরা জানান, আগামী দিনগুলো আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি চা উৎপাদন করা সম্ভব হবে। দেশের অন্যতম অর্থকরী ফসল চায়ের চাহিদা এবং দাম সারা দেশে ও বিদেশে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ কারণে বাগান কর্তৃপক্ষ নতুন বাগান সৃজনের পাশাপাশি কারখানার পরিধিও বৃদ্ধি করছেন। পাত্রখোলা চা বাগানের ম্যানেজার শফিকুর রহমান মুন্না জানান, এ সময় পূর্বের বছর চায়ের গাছে পানি সরবরাহের জন্য গভীর নলকূপের মাধ্যমে পানির উৎস তৈরি করে পানির পাম্পের পাইপ দিয়ে চায়ের গাছে গুড়ায় পানি দিতে বাগান কর্তৃপক্ষ নানা হিমশিম পোহাতে হতো। এতে ব্যয় হতো প্রচুর টাকা। কিন্তু এবার আগাম বৃষ্টির কারনে পানি সরবরাহের বেগ পেতে হয়নি বলে তিনি জানান। তাই বৃষ্টির ফলে চা বাগানে নতুন কুঁড়ির অভাবনীয় সাফল্য দেখা দিয়েছে। ফলে এ বাগানের পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন চা বাগানে চায়ের চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণে চায়ের গুণগত মানসহ চা চাষের পরিধি বৃদ্ধিও জন্য পতিত এলাকায় নতুন চারা গাছ রোপণের কাজ চলছে। এই বৃষ্টি বাগানের জন্য অনেক উপকারী ও দ্বিগুন ফলনের সম্ভবনা রয়েছে।
বাগান সূত্রে জানা যায়, গত বছর বৃষ্টিপাত দেরিতে হওয়ায় আবহাওয়া জনিত কারণে সিলেটে চায়ের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪ দশমিক ১০ ভাগ কম হয়েছে। এবার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন বেশি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন চা শ্রমিকরা। চৈত্র মাসের মেঘের আগমন ঘটায় এবার ভাগ্য প্রসন্ন বলেই মনে করছেন কর্তৃপক্ষরা। চা শ্রমিক নেতা ইউপি সদস্য সীতারাম বীন বলেন, চায়ের দ্বিগুন ফলন হলেও চা শ্রমিকরা বঞ্চিত থাকে সব সময়। তবে মৌসুমের প্রথম বৃষ্টি চায়ের উৎপাদন বৃদ্ধিও জন্য শুভ লক্ষণ দেখছেন চা-বাগান মালিকরা। এ বিষয়ে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সিনিয়র পর্যবেক্ষক মো. হারুনুর রশিদ বলেন, বৃষ্টির পরশে চা-গাছ আগে-ভাগে কুঁড়ি ছাড়তে শুরু করছে। গত কদিন থেকে থেমে থেমে মৌসুমের প্রথম বৃষ্টি হয়েছে। এই বৃষ্টি চা বাগানের জন্য খুবই উপকারী হবে বলে তিনি মনে করছেন। বাংলাদেশ চা গবেষণা ইন্সটিটিউট (বিটিআরআই) এর পরিচালক ড. মাঈন উদ্দিন আহমেদ বলেন, এই বৃষ্টি চায়ের জন্য উপকারী। এর ফলে চা গাছের গ্রোধ বৃদ্ধি পাবে পাশাপাশি চা গাছে দ্রুত ফ্লাশ দেখা দেবে। এমন বৃষ্টিতে সেচ কম লাগবে এবং চায়ের উৎপাদন কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে সহজ হবে।

কমলগঞ্জে ভূমি সেবা সপ্তাহ মেলায় ২দিনে ৪৪ লক্ষ ৩ হাজার টাকা কর আদায়

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট


মৌলভীবাজারে কমলগঞ্জ উপজেলা ভূমি সেবা সপ্তাহ মেলায় গত ২দিনে ৪৪ লক্ষ ৩ হাজার ৭৮৩ টাকা ভূমি কর আদায় করা হয়েছে। মুন্সীবাজার ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তা ইবুংহাল সিংহ শ্যামল জানান, ১০-১১ এপ্রিল ২দিনে ১৪ লক্ষ ৮৯ হাজার ৯০১ টাকার কর আদায় করা হয়েছে। তন্মেধ্যে মিরতিংগা চা বাগান ৭ লক্ষ ৪৩ হাজার ৬৭৩ টাকা, দেওরাছড়া চা বাগান ৬ লক্ষ ৪৩ হাজার ৫৩ টাকা, হামিদিয়া চা বাগান ৫২ হাজার ২০৬ টাকা, মাইজদি চা বাগান ১২ হাজার ২১৯ টাকা এবং সাধারণ ৩৮ হাজার ৭৫০ টাকা। কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তা জানান, ২দিনে ২৬ লক্ষ ৩১ হাজার ৭৯৩ ভূমি কর আদায় হয়। এর মধ্যে শমশেরনগর চা বাগান ১২ লক্ষ ৯৭ হাজার ৯৪১ টাকা, আলীনগর আংশিক ১৩ লক্ষ ২৫ হাজার ৮৮০ টাকা ও সাধারণ ৭ হাজার ৯৭২ টাকা। আদমপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তা সৈয়দ মো: রফিকুল ইসলাম জানান, গত ২দিনে ২ লক্ষ ৮২ হাজার ৮৯ টাকা ভূমি কর আদায় হয়েছে। এরমধ্যে আলীনগর চা বাগান আংশিক ১২ হাজার টাকা, শ্রীগোবিন্দপুর চা বাগান ২ লক্ষ ৬৪ হাজার টাকা ও সাধারণ ৬ হাজার ৮৯ টাকা। কমলগঞ্জ উপজেলার ভূমি অফিসের আয়োজনে বুধবার (১০ এপ্রিল) ভূমি সেবা সপ্তাহ মেলার উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক।

বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) দুপুর ১২ টায় কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিস, ২টায় আদমপুর ভূমি অফিস ও বিকাল ৪টায় মুন্সীবাজার ভূমি অফিসের সেবা সপ্তাহ মেলার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) সুমী আক্তার। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সামছুন্নাহার পারভীন, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মোহাম্মদ পনিরুজ্জামন, কমলকুঁড়ি পত্রিকার সম্পাদক ও কমলগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি পিন্টু দেবনাথ, কমলগঞ্জ প্রেসক্লাব সম্পাদক মো: মোস্তাফিজুর রহমান, সাংবাদিক আর কে সোমেন, মোনায়েম খান, নির্মল এস পলাশ, সজীব দেবরায়, ভূমি অফিসের কর্মকর্তাবৃন্দ প্রমুখ।

কমলগঞ্জে বিশ্ব পানি দিবস পালিত

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট


“সবার জন্য নিরাপদ পানি”- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে বিশ্ব পানি দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১ টায় কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন কার্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়। র‌্যালি শেষে উপজেলা পরিষদ হলরুমে কমলগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুমি আক্তারের সভাপতিত্বে ও সাংবাদিক পিন্টু দেবনাথ ও শাহীন আহমদের সঞ্চালনায় বক্তব্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সামছুন্নাহার পারভীন, কমলগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি বিশ্বজিৎ রায়, উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইসট্রাক্টর মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন, সাংবাদিক মোনায়েম খান প্রমুখ।


আলোচনা সভায় বক্তারা পানির অপচয় রোধ ও সুষ্ঠু ব্যবহারে জনগণকে সচেতন হওয়ার আহবান জানান।

কমলগঞ্জে কৃষি ব্যাংকের শুভ হালখাতা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট


বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক কমলগঞ্জ শাখার উদ্যোগে শুভ হালখাতা অনুষ্ঠান ১৪২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১ টায় ব্যাংকে অনুষ্ঠিত হালখাতা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কৃষি ব্যাংক মৌলভীবাজার অঞ্চলের মুখ্য আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক অনিল চন্দ্র গোপ, কমলগঞ্জ শাখা ব্যবস্থাপক গোবিন্দ লাল রায়, উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিমল বিশ্বাস প্রমুখ। দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে গ্রাহকদের মিষ্টি মুখ করিয়ে নতুন ঋন বিতরন ও পুরাতন ঋন আদায় করা হয়।

কমলগঞ্জে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এক ইলেকট্রিশিয়ানের লাইন্সেস স্থায়ীভাবে বাতিল

 

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট


দূর্নীতি, অনিয়ম, গ্রাহকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় ও হয়রানী সহ বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ইলেকট্রিশিয়ান মো: মুহিদুর রহমান মুহিত এর লাইন্সেস বাতিল করা হয়েছে।
জানা যায়, কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর (বড়বাড়ী) গ্রামের মো: মুজিবুর রহমান (সোলেমান) এর পুত্র মো: মুহিদুর রহমান মুহিত মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের অধীনে একজন ইলেকট্রিশিয়ান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব পালনকালে তিনি দূর্নীতি, অনিয়ম, গ্রাহকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় ও হয়রানীসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিগত ৩ ডিসেম্বর ২০১৭ইং সালে শমশেরনগর ইউপি কার্যালয়ে চেয়ারম্যান এর সভাপতিত্বে সমিতির বোর্ডের পরিচালক ও ডিজিএম এর উপস্থিতি এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ইলেকট্রিশিয়ান মো: মুহিদুর রহমান মুহিত এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম উঠে। যার প্রেক্ষিতে স্মারক নং ২৭.১২.৫৮৮৩.৫৪২.০২.০১১.১৭.৬৪৭৯ তারিখ ১৮.১১.২০১৭ সূত্র মোতাবেক মুহিতের লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে ৩০০ টাকার ষ্টাম্পে অঙ্গীকারনামা প্রদান করে গত ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ইং তারিখে পুনরায় পরীক্ষামূলকভাবে ইলেকট্রিশিয়ান হিসাবে কাজ করার অনুমোদন প্রদান করা হয়। পরবর্তীতেও তিনি সরকারের ভাবমূর্তি বিনিষ্ট এবং অনিয়ম ও দূর্নীতির মাধ্যমে বিত্ত বৈভবের মালিক হওয়া সংক্রান্ত অভিযোগ বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড কর্তৃক তদন্ত সত্য বলে প্রতীয়মান হওয়ায় গ্রাহক হয়রানীসহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হওয়ার কারণে ইস্যুকৃত ইলেকট্রিশিয়ান ও লাইন্সেস স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়। স্মারক নং ২৭.১২.৫৮৮৩.৫৪২.০২.০১১.১৯.১৮৪৪ তারিখ ১৬ মার্চ ২০১৯ইং মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী শিবু লাল বসু কর্তৃক স্বাক্ষরিক ইলেকট্রিশিয়ান মো: মুহিদুর রহমান মুহিত এর লাইন্সেস স্থায়ীভাবে বাতিল করেন।
মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম মোবারক হোসেন ১০ এপ্রিল বিকালে এ প্রতিনিধিকে জানান, ইলেকট্রিশিয়ান মো: মুহিদুর রহমান মুহিত এর লাইন্সেস স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়েছে। এখন থেকে এ অফিসের আওতায় কোন কার্যক্রম তিনি করতে পারবেন না।