সদ্য সংবাদ

পুরাতন সংবাদ: April 18th, 2019

বাংলাদেশ গঞ্জু সমাজ এর ৩৯ তম মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত

 

 

লিটন গঞ্জু :

বাংলাদেশের অবহেলিত,বঞ্চিত,নিপীড়িত গঞ্জু সমাজ।স্বাধীনতার পরবর্তী সময় থেকে এই গঞ্জু সমাজ বরাবর অবহেলার স্বীকার হয়ে আসচ্ছে।তাদের উন্নয়নে রঙ্গিন স্বপ্ন দেখানো হলেও বরাবর স্বপ্ন থেকে যায়। অবহেলিত,বঞ্চিত,নিপীড়িত গঞ্জু সমাজের ভাগ্য পরিবর্তন হয়না।সিলেট হিলুয়া ছড়া চা বাগানে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী গঞ্জু সমাজের ৩৯ তম মহাসম্মেলন বক্তরা উপরোক্ত কথা গুলো বলেন। গত ৩০ মার্চ থেকে দুই দিন ব্যাপি এই মহাসম্মেনে  সভাপতি করেন বাবু শ্রী করুনা গঞ্জু’ । বিমল গঞ্জুর পরিচালনায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক ও কমলগঞ্জ উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান বাবু শ্রী রামভজন কৈরি, ইস্কন জি বি সি, অধ্যক্ষ, সিলেট ইসকন মন্দির ও দীক্ষাগুরু শ্রীল জয়পতাকা শ্রীমৎ ভক্তি অদ্বৈত নবদ্বীপ মহারাজ, ৬নং টুকের বাজার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শহীদ আহমেদ (শহীদ),চা শ্রমিক ইউনিয়ন সিলেট ভ্যালি সভাপতি বাবু শ্রী রাজু ,বাংলাদেশ পুজা উদযাপন পরিষদ সদস্য বাবু শ্রী নিলেন্দু ভূষন দে (অনু) ,সহ – সভাপতি বাংলাদেশ গঞ্জু সমাজ, বাবু শ্রী পূর্ণচরণ গঞ্জু ,শ্রী দিলিপ রঞ্জন কুর্মী, সিলেট চা জনগোষ্ঠী ছাত্র যুব কল্যাণ পরিষদ, শ্রী লিটন গঞ্জু রাজু, সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশ গঞ্জু যুব সমাজ সেবক ফোরাম কেন্দ্রিয় কমিটি, অনুষ্ঠানে প্রতিবেদন ও স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক লিটন গঞ্জু রাজু। বক্তারা বলেন বাংলাদেশের ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী হিসাবে গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, এই সমাজকে স্বকৃতি দিতে ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী হিসাবে গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করার দাবী জানান। এই সময় বক্তারা আরো বলেন সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ সুবিধা না থাকার কারনে আমাদের সাংস্কৃতিক পিছিয়ে যাচ্ছে, কৃষ্টি কালচার ভাষা সাংস্কৃতি হারিয়ে যাচ্ছে। উপযুক্ত শিক্ষার পরিবেশ দেওয়া হচ্ছে না।চিকিৎসা ব্যবস্থায়ও অবহেলার শিকার হতে হচ্ছে। সরকারি চাকরি সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। ন্যয্য মজুরী দেওয়া হচ্ছে না।বর্তমান সরকারের উন্নয়নে আমরাও অংশীদার।বর্তমান সরকারের নিকট বাংলাদেশের নাগরিক হিসাবে এই সমস্যা অচিরেই সমাধানে করার আহ্বান জানান। এই সময় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, দিলিপ গঞ্জু, হারুন গঞ্জু, মদন গঞ্জু হিলুয়া ছড়া বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি, সজল গঞ্জু,চয়ন গঞ্জু, মজেন গঞ্জু, দিবাকর গঞ্জ প্রমুখ।

ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় কয়েকটি রাজ্যের সিলেটের সাথে ব্যবসা বাণিজ্যের সু- সম্পর্ক রয়েছে । – কমলগঞ্জে ভারতীয় কমিশনার শ্রীমতী রীভা গাঙ্গুলী দাশ

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট


বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার শ্রীমতী রীভা গাঙ্গুলী দাশ বলেছেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এখন একটা সোনালী অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। বাংলাদেশের মাঝে সিলেট বিভাগ একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এই সিলেটের সাথে ভারতের আসাম, মেঘালয় ও ত্রিপুরার সীমান্ত রয়েছে। এই তিন রাজ্যের সাথে সিলেটের ভাষা, সংস্কৃতি ও সামাজিকতায় সুনিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। ফলে প্রয়োজনীতা উপলব্দি করেই সিলেটে একটি ভারতীয় ভিসা কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। দুই দেশ আরও কাছাকাছি এসে দুই দেশের সামাজিকতা, সংস্কৃতি ও ব্যবসা বাণিজ্যের আরও উন্নয়ন সম্ভব। সিলেট বিভাগে বহু ভাষাভাষী মানুষজনের বসবাস। তাদের রয়েছে নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি। এ সংস্কৃতির সুষ্ঠু বিকাশে ভারত সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে আসছে। তার ফলশ্রুতিতে ভারতীয় হাই কমিশন কমলগঞ্জে কয়েকটি কমপ্লেক্স নির্মাণ করে দিয়েছে। তিনি শুক্রবার (৫ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টায় ভারতীয় অর্থায়নে ২ কোটি ৫৩ লক্ষ ৩৪ হাজার ৪০০ টাকা ব্যয়ে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার তিলকপুর সার্বজনীন পূজা মন্দির ও মন্ডপ এর সবনির্মিত দ্বিতল ভবনের শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।


তিনি আরও বলেন, ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় কয়েকটি রাজ্যের সিলেটের সাথে ব্যবসা বাণিজ্যের সু- সম্পর্ক রয়েছে। এ ব্যবসা বানিজ্য আরও তরান্বিত করতে দুই দেশ একযোগে কাজ করছে। প্রয়োজনীয় স্থানে সীমান্ত হাট হচ্ছে। সিলেট বিভাগ ছাড়াও বাংলাদেশের যে কোন স্থানে সার্বিক উন্নয়ন ভারত সহায়তা দিচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরও দিয়ে যাবে। এভাবেই দুই দেশ আরও কাছাকাছি আসতে পারবে।
তিলকপুর সার্বজনীন পূজা মন্দির কমিটির সভাপতি ছালিয়া সিংহের সভাপতিত্বে ও মানবিকা সিনহার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সিলেটে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার এল কৃষ্ণমূর্তি, আলীনগর ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুল হক বাদশা, কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আরিফুর রহমান, মণিপুরী সমাজকল্যাণ সমিতির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আনন্দ মোহন সিন্হা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন তিলকপুর চাকুরীজীবি সার্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রধান শিক্ষক স্বপন কুমার সিংহ। অনুষ্ঠান শেষে ভারতীয় হাই কমিশনার শ্রীমতী রীভা গাঙ্গুলী দাশ এর সম্মানে মণিপুরী শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে ভারতীয় হাই কমিশনার শ্রীমতী রীভা গাঙ্গুলী দাশ ও তাঁর সফরসঙ্গীদের মণিপুরীদের ঐতিহ্যবাহী শাড়ী, গামছাসহ উপহারসমাগ্রী প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে ভারতীয় হাই কমিশনার অফিসের কর্মকর্তাবৃন্দ, বিপুল সংখ্যক স্থানীয় মণিপুরী নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় ভারতীয় হাই কমিশনার রীভা গাঙ্গুলী দাশ তিলকপুর সার্বজনীন পূজা মন্দির ও মন্ডপে পৌঁছলে পুষ্প বৃষ্টি দিয়ে ও ফুলের তোড়া দিয়ে তাঁকে বরণ করেন মণিপুরী নারী ও মেয়েরা। এরপর ভারতীয় হাই কমিশনার ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে তিলকপুর পূজা মন্দির ও মন্ডপ ভবনের উদ্বোধন করেন।
এর আগে শুক্রবার সকাল ১১টায় বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার শ্রীমতী রীভা গাঙ্গুলী দাশ কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের ঘোড়ামারা গ্রামে ভারতীয় হাইকমিশনের ৩৫ লাখ টাকার সহায়তায় নির্মাণাধীন আধুনিক মণিপুরী থিয়েটার স্টুডিও নটমন্ডপ এর কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন। সবশেষে মণিপুরী ঐতিহ্যবাহী মৃদঙ্গ বাজন, হলি কীর্তন লীলা, রাধা কৃষ্ণের লীলা রাখাল নৃত্য পরিবেশ করা হয়। ভারতীয় হাই কমিশনার শ্রীমতি রিভা গাঙ্গুলী দাস বলেনে তিনি ও তার সফর সঙ্গীরা এই পরিবেশনা দেখে মুগ্ধ।