সদ্য সংবাদ

পুরাতন সংবাদ: March 20th, 2019

চা বাগানের নারী শ্রমিকরা অধিক কাজ করেও নায্য মজুরী পান না

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

দেশের চা বাগানগুলোর প্রধান শ্রমিক মূলত নারীরাই। চা বাগানের প্রধান যে কাজ- পাতা চয়ন, তা সাধারণত নারীরাই করে থাকেন। পুরুষ শ্রমিকরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কাজ করেন কারখানায়। নারীরা অধিক শ্রম দিলেও মুজরী পান পুরুষেরই সমান। বাগানভেদে ৯৭ থেকে ১০২ টাকা।

এই মজুরীর টাকাও নিজেরা তুলতে পারেন না বেশিরভাগ নারী শ্রমিক। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দিন শেষে বাগান কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নারী শ্রমিদের পক্ষে তাদের স্বামী বা পরিবারের পুরুষ প্রতিনিধিই মজুরীর টাকা উত্তোলন করেন। নিজের পরিশ্রমের টাকা ব্যয়ের ক্ষেত্রেও নারীদের মতামত নেওয়া হয় সামান্যই। চা বাগানের একাধিক নারী শ্রমিক জানান, নারী শ্রমিকরা প্রতিদিন ৮ ঘন্টা কাজ করেন। আর পুরুষ শ্রমিকরা কাজ করেন ৩/৪ ঘন্টা। অথচ উভয়ে সমান মজুরী পান।  চা বাগানের শ্রম আইন অনুযায়ী, প্রতিদিন ৩০ কেজির অধিক চা পাতা উত্তোলন করলে প্রতি কেজির বিপরীতে একজন শ্রামিককে ৫টাকা করে বাড়িতে দেওয়ার কথা। তবে এক্ষেত্রে নারীদের কম দেওয়া হয় বলে অভিযোগ শ্রমিকদের। পুরুষ শ্রমিকরা পদোন্নোতি পেয়ে ‘সর্দার’, ‘বাবু’ হলেও নারী শ্রমিকদের সাধারণ পদোন্নোতি দেওয়া হয় না বলেও জানান তাঁরা। এছাড়া মাতৃত্বকালীন সময়েও বঞ্চনার শিকার হন চা বাগানের নারী শ্রমিকরা।  বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন সূত্রে জানা যায়, সারাদেশে কর্মরত মোট চা শ্রমিক প্রায় দেড় লাখ। এর মধ্যে ৫২ শতাংশ নারী চা শ্রমিক।

কমলগঞ্জের খুরমা চা বাগানের শ্রমিক গীতা রানী কানু বলেন, বাগানে নারীরা বেশি পরিশ্রম করেন অথচ মজুরি পান পুরুষের সমান। আবার অতিরিক্ত পাতা উত্তোলন করেও নির্ধারিত বোনাস পান না।  চা শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা মিন্টু দেশোয়ারা বলেন, দেশের সব চা বাগানেই প্রধান শ্রমিক মূলত নারীরা। অপরিদেক, পুরুষরা অনেকসময় কাজে ফাঁকি দিলেও নারীরা তা করেন না। সে হিসেবে পুরুষদের চেয়ে নারীদের মজুরী বেশি হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু দু’জনের মজুরিই সমান। তারউপর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নারীদের মুজরীর টাকা তাদের স্বামীরা সংগ্রহ করেন। তারাই ইচ্ছেমত ব্যয় করেন এ টাকা। নিজেদের টাকা সাধারণত নারীরা ব্যয় করতে পারেন না। অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে চা শ্রমিক পরিবারে নারীদের মত উপেক্ষিত থাকে।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি রামভজন কৈরি নারীদের বঞ্চনার উদাহরণ দিয়ে বলেন, মাতৃত্বকালীনক্ষেত্রে চা বাগানের নারী শ্রমিকদের পূর্ববর্তী তিনমাসের কাজের উপর ভিত্তি করে মাতৃত্বকালীন ভাতা পান। ফলে কিছু বেশি ভাতা পাওয়ারা জন্য গর্ভাবস্থায় বাগানের নারীরা আরও বাড়তি পরিশ্রম করেন। এতে মা ও সন্তান দু’জনেই স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ে। অন্য চাকরীর ক্ষেত্রে নারীরা ছয় মাসের ছুটি পেলেও চা শ্রমিক নারীরা পান তিনমাসের। এছাড়া পরিবারেও নারীরা বঞ্চনার শিকার হন। দীর্ঘদিন কাজ করলেও নারীরা সাধারণ পদোন্নোতি পান না।

কমলগঞ্জে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত

Kamalganj Nari Dibos
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে  ‘সবাই মিলে ভাবো, নতুন কিছু করো, নারী-পুরুষ সমতার, নতুন বিশ্ব গড়ো’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে র‌্যালি, মানবন্ধন ও আলোচনাসভা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয়েছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর-এর আয়োজনে শুক্রবার (৮ মার্চ) সকাল  সাড়ে ১০ টায় উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে র‌্যালী বের হয়। র‌্যালী শেষে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়। মানববন্ধনে অংশ গ্রহণ করেন প্রশাসনের কর্মকর্তা, উপজেলা নারী উন্নয়ন সংস্থা, সকল জয়িতাবৃন্দ, কমলগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সাংবাদিকবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আশেকুল হক। বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠনের সহযোগিতায় দিবসটি আয়োজন করে কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদফতর ।

কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্রার্থী অধ্যাপক মো: রফিকুর রহমানের সংবাদ সম্মেলন

Kamalgonj Pic
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
আগামী ১৮ মার্চ আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কমলগঞ্জ উপজেলায় নৌকা প্রতিকে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থীর প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থী হিসাবে সংসদ সদস্যের নিজে সহোদর আনারস প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করছেন। তিনজন প্রার্থী থাকলেও মূলত দুই প্রার্থীর মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্ধিতা হবে। তবে উপাধ্যক্ষ ড. মো: আব্দুস শহীদ এম’পির বিরুদ্ধে সরকারি প্রটোকল ব্যবহার করে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে উন্নয়ন কাজের প্রতিশ্রুতিসহ নানাভাবে ছোট ভাইয়ের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা ও আচরণ বিধি লঙ্ঘন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সকাল ১১টায় উপজেলাস্থ নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তোলে ধরেণ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সদস্য, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও কমলগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী অধ্যাপক মো. রফিকুর রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অধ্যাপক রফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সভানেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ৪র্থ বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দক্ষতা ও যোগ্যতার সাথে দেশ পরিচালনা করছেন। জঙ্গীবাদ নির্মূল থেকে শুরু করে তিনি দেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ ঘটিয়েছেন। এছাড়া শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, ডিজিটাল তথ্য প্রযুক্তি, কৃষি, খাদ্য, মানব সম্পদ উন্নয়ন, অবকাঠামোসহ সার্বিকভাবে ব্যাপক উন্নয়ন তরাম্বিত করে আন্তজার্তিক মহলে প্রশংসিত হচ্ছেন। স্থানীয় সরকার কাঠামোর অন্যতম অংশ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতিকে প্রতিদ্বন্ধিতা করছি।
আগামী ১৮ মার্চ নির্বাচনে নৌকা মার্কায় বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হওয়ার আশা ব্যক্ত করে রফিকুর রহমান আরও বলেন, সংসদ সদস্যের আচরণবিধি লঙ্ঘনের এসব অভিযোগ বিষয়ে গত ৫ মার্চ রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন অফিসার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। সংসদ সদস্যের এসব কর্মকান্ডের তিনি তীব্র নিন্দা জানান।

মৌলভীবাজার ৪ সংসদ সদস্যের সংর্বধনা

Screenshot_20190308-1002522

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

মৌলভীবাজার জেলার ৩টি আসন থেকে নির্বাচিত সরকার দলীয় তিন সংসদ সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যকে আগামী ৯ মার্চ শনিবার মৌলভীবাজার পৌরসভার উদ্যোগে গণসংবর্ধনা দেওয়া হবে। সংবর্ধনাকে কেন্দ্র করে শহর জুড়ে তোরণ, ফেস্টুন লাগানো হচ্ছে। পৌর শহরের সরকারি স্কুল মাঠে এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হবে।

 

সংবর্ধিত অতিথিরা হলেন মৌলভীবাজার-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বন, পরিবেশ ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোঃ শাহাব উদ্দিন। তিনি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন। মৌলভীবাজার-৩ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি নেছার আহমদ, মৌলভীবাজার-৪ আসন থেকে নির্বাচিত উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ ও সংরক্ষিত মহিলা আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সৈয়দা জহুরা আলাউদ্দিন।

 

সংবর্ধনাকে সফল করতে সরকারি স্কুল মাঠে নৌকা দিয়ে স্টেজ তৈরী করা ও প্যান্ডাল দিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য বসার স্থান তৈরী করা হচ্ছে। সংসদ সদস্যদের সংবর্ধনার জন্য প্রস্তুত পৌরসভা। অনুষ্ঠানটিকে সফল ও সার্থক করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে পৌর কর্তৃপক্ষ।

 

সংবর্ধনাকে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে উদ্দীপনা বিরাজ করছে।