সদ্য সংবাদ

পুরাতন সংবাদ: March 20th, 2019

সারাদেশে ১৮১২টি মন্দির সংস্কার হবে : -প্রধানমন্ত্রী

সারাদেশে ১৮১২টি  মন্দির সংস্কার হবে

সারাদেশে ১৮১২টি মন্দিরের সংস্কার করতে ২২৮ কোটি ৬৯ লাখ টাকা ব্যয়ের একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। ‘সমগ্র দেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মন্দির ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও সংস্কার’ শীর্ষক প্রকল্পটি চলতি মাসে শুরু করে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাস্তবায়ন করবে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট। গতকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপার্সন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় মোট ৮টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ হাজার ২৭৬ কোটি ২৪ লাখ টাকা। এরমধ্যে বৈদেশিক সহায়তা আকারে ২ হাজার ৯৬২ কোটি ৩২ লাখ টাকা ও সরকারের নিজস্ব তহবিল (জিওবি) হতে ৩ হাজার ৩১৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয়ের লক্ষ্য রয়েছে।

সভাশেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান প্রকল্পগুলোর বিষয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করেন। তিনি জানান, ২০১১ সালের আদমশুমারির তথ্যানুযায়ী দেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বীর সংখ্যা ১ কোটি ২৩ লাখ। যা দেশের জনসংখ্যার অনুপাতে দ্বিতীয় বৃহত্তম জনগোষ্ঠী। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী সমগ্র দেশে বিভিন্ন স্থানে অনেকগুলো মন্দির ধ্বংস করে দেয়। অন্যান্য সমস্যার পাশাপাশি হিন্দু জনগোষ্ঠীর একটি বড় সমস্যা হচ্ছে হিন্দু সংস্কৃতি ও মন্দিরগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ। তাই আলোচ্য প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে হিন্দু জনগোষ্ঠী উপকৃত হবে।

একনেক সভায় ২ হাজার ৫৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থা (জাইকা) ঋণ দেবে ২ হাজার ১২৭ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, প্রকল্পটির মাধ্যমে জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের জন্য ভূমি ও অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে ২০২৩ সালের জুন মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)।

সভায় অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হলো, ১৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে তাঁতিদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে চলতি মূলধন সরবরাহ ও তাঁতের আধুনিকায়ন প্রকল্প, ১৫৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্প, ১২৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে জয়পুরহাট জেলায় তুলশী গঙ্গা, ছোট যমুনা, চিড়ি ও হারাবতী নদী পুনঃখনন প্রকল্প, ১৯৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ে উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রাম সড়কে অনূর্ধ্ব ১০০ মিটার সেতু নির্মাণ প্রকল্প, ৮৮০ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ঢাকা সিটি নেইবারহুড আপগ্রেডেশন প্রজেক্ট এবং ১৬৪ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের প্রোফাইল প্রণয়ন প্রকল্প।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে এবং গ্রামীণ যোগাযোগ উন্নত করতে ৬১টি জেলার ২৭৫ উপজেলায় নির্মিত হবে ৩৪০টি সেতু। প্রতিটি সেতুর দৈর্ঘ্য হবে ১০০ মিটার। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন হলো নতুন করে মহাসড়ক নির্মাণ করার প্রয়োজন নেই, রেলওয়ের দিকে নজর দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সড়ক-নৌ-রেল-বিমানের সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থার দিকে নজর দিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাছাড়া দেশের সব নদী, পুকুর ও জলাশয় রক্ষায় মনোযোগী হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় বলেও জানান মন্ত্রী।

সূত্র : ইত্তেফাক

কমলগঞ্জে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ শেষে বাড়ি ফিরে আকস্মিক মৃত্যু প্রধান শিক্ষকের

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

Pic- F
১৮ মার্চ মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে একজন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে বুধবার কমলগঞ্জ সরকারি গণ মহাবিদ্যালয়ে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ গ্রহন করে বিকেলে বাড়ি ফিরে আকস্মিকভাবে মৃত্যুবরণ করলেন কমলগঞ্জের রুপষপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরিদ আহমদ চৌধুরী (৫৭)। বুধবার (৬ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টায় পশ্চিম রুপষপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে এ ঘটনাটি ঘটে।
জানা যায়, রপুষপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরিদ আহমদ চৌধুরী সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে বুধবার প্রথম দিনে প্রশিক্ষণ গ্রহন করে বিকেলে গ্রামের বাড়ি ফিরে যান। বাড়ি ফিরে তিনি আসরের নামাজ শেষে মোবাইল ফোন চার্জ দেয়ার সময় হঠাৎ করে ঢলে পড়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে প্রধান শিক্ষক ফরিদ আহমদ চৌধুরী ২ ছেলে ও স্ত্রী রেখে গেছেন। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় স্থানীয় উপাধ্যক্ষ মো: আব্দুস শহীদ উচ্চ বিদ্যালয়ে তাঁর নামাজে জানাজা শেষে গ্রাম্য কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, প্রশিক্ষণকালে তিনি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোশারফ হোসেনের পাশে বসে প্রশিক্ষকদেন বিভিন্ন প্রশ্ন করে উত্তর জেনে নিয়েছেন। এসময় তাকে খুবই হাসি খুশী দেখাচ্ছিল।
সহকর্মী শমশেরনগর সরকারি প্রাথমকি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম জানান, প্রধান শিক্ষক ফরিদ উদ্দীন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে গত বছর সিলেট উইম্যান্স মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা গ্রহন করে সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন। বর্তমানে তিনি অনেকটা সুস্থ্য ছিলেন
কমলগঞ্জ উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জয় কুমার হাজরা বলেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ একজন ভাল ও দক্ষ প্রধান শিক্ষককে হারালো। এ ক্ষতি সহজে পূরণ করার মত নয়।
উল্লেখ্য, প্রধান শিক্ষক ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী পেনসন পাওয়ার আগ মুর্হুতে আকস্মিক মৃত্যু হওয়াতে এলাকা তথা শিক্ষক সমাজের মধ্যে শোক বিরাজ করছে।