সদ্য সংবাদ

পুরাতন সংবাদ: March 20th, 2019

ইতিহাসে চির অম্লান তথা উজ্জ্বল হয়ে থাকবে ৭ মার্চের এই ভাষণ

images১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু রেসকোর্সের জনসভায় বাঙালির আকাক্সিক্ষত স্বপ্নের বাণী উচ্চারণ করেছিলেন। ঘোষণা করেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ একই সঙ্গে তিনি সাত কোটি বাঙালিকে মুক্ত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তাঁর এই ভাষণকে বিশ্বের ইতিহাসের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষণের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বলে গণ্য করা হয়। এই ভাষণই বাঙালি জাতিকে প্রস্তুত করেছিল সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে। পাকিস্তানী হানাদারদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সেই ভাষণ প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।
বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা সংগ্রামে শরিক হওয়ার ডাক দিয়েছিলেন। কিন্তু পাকিস্তানী শাসকদের সঙ্গে নিয়মতান্ত্রিক আলোচনার পথ থেকে পিছিয়ে যাননি। এটা নিঃসন্দেহে তাঁর বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতার পরিচয় বহন করে। কিন্তু পাকিস্তানী হানাদাররা বাঙালি জাতিকে নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্র করে। একদিকে আলোচনা চলেছে, অন্যদিকে তারা পশ্চিম পাকিস্তান থেকে সৈন্য ও অস্ত্র আনা অব্যাহত রেখেছে। তারা কখনই এ দেশের মানুষের ন্যায্য দাবি মেনে নিতে চায়নি। তারা চেয়েছিল বাংলার মানুষকে চিরকাল গোলাম করে রাখতে। ১৯৪৭ সালের দেশভাগ ও পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকে তারা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান বা পূর্ববঙ্গের মানুষের ন্যায্য দাবি কখনই মেনে নেয়নি। এখানকার মানুষকে তারা সমান অধিকার দেয়নি কখনই। বরং শুরু থেকেই নব্য ঔপনিবেশিক শাসন ও শোষণের যাঁতাকলে বেঁধেছে এখানকার মানুষকে। প্রথমে তারা আঘাত হেনেছে বাংলা ভাষার ওপর। উর্দুকে তারা পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা করার কথা ঘোষণা করেছিল। ১৯৪৮ সাল থেকেই পাকিস্তানী শাসকদের এ ষড়যন্ত্রমূলক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে পূর্ববঙ্গের মানুষ তীব্র প্রতিবাদ জানায়। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে প্রাণ দিতে হয় এদেশের মানুষকে। বরকত, সালাম, রফিক, জব্বার, শফিকসহ অনেককে ভাষার জন্য জীবন দিতে হয়। কিন্তু আন্দোলন থেমে থাকেনি। বরং পাকিস্তানীদের অন্যায় শোষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে এখানকার গণতান্ত্রিক আন্দোলন স্বাধিকার আন্দোলনে রূপ নেয় এবং তা ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় চূড়ান্ত লক্ষ্যের দিকে।
বস্তুত ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু যে ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন, তার একটি বিশাল ও রক্তক্ষয়ী পটভূমি রয়েছে। ১৯৪৭ সালের পর ২৩ বছরের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তা ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে। এ জন্য এ দেশের মানুষকে অনেক মূল্য দিতে হয়েছে, অনেক আত্মত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। কিন্তু ক্ষমতার গর্বে উন্মাতাল পাকিস্তানী শাসকরা কখনও উপলব্ধি করেনি, এভাবে অন্যায়-জুলুমের মধ্য দিয়ে কোন সচেতন মানবগোষ্ঠীকে দাবিয়ে রাখা যায় না।
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক রমনার রেসকোর্সের জনসভায় বঙ্গবন্ধুর চিরায়ত ভাষণের মধ্য দিয়ে এদেশের মানুষের ভবিষ্যত নির্ধারিত হয়। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মানুষ শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করেছে শান্তিপূর্ণভাবে-নিয়মতান্ত্রিক পথে সমস্যা সমাধানের। কিন্তু ২৫ মার্চ রাতে বিশ্বাসঘাতক পাকিস্তানী হানাদাররা সব নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে ঝাঁপিয়ে পড়ে নিরস্ত্র বাঙালীর ওপর। সেদিন ‘যার যা আছে তাই নিয়ে’ এ দেশের মানুষ হানাদারদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে। দীর্ঘ নয় মাসের নিরন্তর মুক্তির লড়াইয়ের পর বিজয়ী হয় বাঙালি জাতি। তাই ঐতিহাসিক ৭ মার্চের গুরুত্ব আজও অম্লান। মূলত ৭ মার্চের ভাষণই ছিল স্বাধীনতার ঘোষণা এবং একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা অর্জনের নির্দেশিত পথ। যতকাল বাংলাদেশ নামক ভূখন্ডটি বেঁচে থাকবে ভূমন্ডলে ততকাল বেঁচে থাকবেন তার মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

।। কবিতা।। বসন্তকাল পেলে —জ্যোৎস্না খান

FB_IMG_1551901392299

—————
শিশিরভেজা শীতের ঋতু
বিদায় নিয়ে গেলো
নতুন কুঁড়ি নতুন পাতায়
বসন্তকাল এলো।

শিমুল পলাশ কৃষ্ণচুড়া
রাঙাফুলে হাসে
আমের মুকুল সুবাস ছড়ায়
ফাগুন চৈত্র মাসে।

সবুজ বনে পাতার ফাঁকে
কোকিল বসে ডালে
মধুর সুরে গান করে সে
সুখ-বসন্তের কালে।

বসন্তের এই অনন্ত রূপ
প্রকৃতিতে খেলে
উষ্ণ হাওয়ায় হৃদয় দোলে
বসন্তকাল পেলে।
০৫/০৩/২০১৯

মৌলভীবাজারে যক্ষ্মা রোগ প্রতিরোধে মতবিনিময় সভা

 Pic- DC

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

যক্ষ্মা রোগ প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে বাংলাদেশ জাতীয় যক্ষ্মা নিরোদ সমিতি (নাটাব) মৌলভীবাজার জেলা শাখার আয়োজনে বুধবার (৬ মার্চ) সন্ধ্যায় জেলা সাংবাদিক ফোরামের সদস্যবৃন্দের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়। মৌলভীবাজার শহরের এসআর প্লাজার রেষ্ট ইন হোটেল এন্ড রেষ্টুরেন্টে মৌলভীবাজার নাটাবের সহ সভাপতি ও সাবেক সিভিল সার্জন ডা. শফিক উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি  হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ রোকন উদ্দিন।  বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার সিভিল সার্জন শাহাজাহান কবীর চৌধুরী। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট ব্যাংকার ও লেখক আবু তাহের। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি বকশী ইকবাল, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নুরুল ইসলাম শেফুল, হীড বাংলাদেশের শামীমা আক্তার প্রমুখ।
বক্তরা যক্ষ্মার ব্যাধি ও প্রতিরোধ সম্পর্কে আলোকপাত করেন। যক্ষ্মা একটি নিরাময় রোগ। নিয়মিত ও পূর্ণ মেয়াদের চিকিৎসায় যক্ষ্মা রোগ ভালো হয়। বক্তারা যক্ষ্মা রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনা করার লক্ষ্যে সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত অপরিসীম। সংবাদপত্র পারে যেকোন উদ্যোগে যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে।
অনুষ্ঠানে জেলা সাংবাদিক ফোরামের ২৯ জন সাংবাদিক মতবিনিম সভায় অংশগ্রহণ করে।

মঞ্চ নাটক ‘হ্যাপি ডেজ’ কমলগঞ্জের ঘোড়ামারা নটম-পে প্রদর্শনী

Pic- J

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট
ফরাসি দুতাবাসের প্রযোজনায় সম্প্রতি নির্মিত ও দেশে ব্যাপক আলোচিত মঞ্চনাটক ‘হ্যাপি ডেজ’ এবার মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে। আগামি ৮ মার্চ শুক্রবার ও ৯ মার্চ শনিবার কমলগঞ্জের আতদমপুর ইউনয়নের ঘোড়ামারা গ্রামে মণিপুরি থিয়েটারের নটম-পে নাটকটির ৪টি প্রদর্শনী হবে। ‘বসন্তে ভালোবাসার নাটক’ শিরোনামে এই একনাটকের উৎসবে প্রতিদিন বিকাল ৫টা ৩০মিনিটে ও সন্ধ্যা ৭টা ৩০মিনিটে নাটকটির প্রদর্শনী হবে। ৮ মার্চ শুক্রবার বিকাল ৫টা ৩০মিনিটে নাটকটির প্রেস শো হবে।
অ্যাবসার্ড নাটকের বিখ্যাত নাট্যকার স্যামুয়েল বেকেট রচিত নাটকটিতে অভিনয় করে দর্শক-সমালোচকের ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করেছেন জ্যোতি সিনহা। নির্দেশনা দিয়েছেন শুভাশিস সিনহা। নাটকটিতে বাংলা ও ইংরেজি দু’ভাষার ব্যবহার করা হয়েছে।
উইনি নামের এক নিঃসঙ্গ নারী নিজের প্রেমকে ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে উদ্ভট সব কল্পনায় সাজিয়ে রাখে নিজের দিনগুলো, কল্পিত যত আনন্দে, কিন্তু সবশেষে সে বুঝতে পারে সেই আনন্দের দিন মানুষের জীবনে কখনো আসে না।
এই দুদিনের আয়োজন করেছে মণিপুরি থিয়েটার। দর্শনীর বিনিময়ে প্রদর্শিত হবে নাটকটি। আসন অনুযায়ী টিকেটের দাম ৫০/১০০/২০০ টাকা। এছাড়া মেঝেতে গ্রামের মহিলাদের জন্য ২০টাকা মূল্যের বিশেষ আসনব্যবস্থা রাাখা হয়েছে।
টিকেট শো’র আগে কাউন্টারে পাওয়া যাবে। তবে আগাম আসন নিশ্চিত করার জন্য যোগাযোগের নাম্বার দেয়া হয়েছে : ০১৭৩৭৭৮৮৫১৫, ০১৭৮২৯৯১০৯২।

কমলগঞ্জে ভোক্তা অধিকারের অভিযানে তিন প্রতিষ্ঠানে জরিমানা

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

Pic- V
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর বাজারে বিভিন্ন স্থানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে ৩ প্রতিষ্ঠানকে ৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বুধবার (৬ মার্চ) সকাল ১০টায় ভোক্তা অধিকার আইনের বিভিন্ন ধারায় এ জরিমানা করা হয়।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আল-আমিন এর নেতৃত্বে অভিযানে সহযোগিতা করেন শমসেরনগর ফাঁড়ির পুলিশ। অভিযানকালে হোটেলের সামনে খোলা অবস্থায় খাদ্য পণ্য বিক্রয়, খাদ্য পণ্যে ক্ষতিকর রং মিশিয়ে বিক্রয় করা, যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লাইসেন্স সংগ্রহ না করা, বিস্কোরক আইনের শর্ত লংঘন করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে রাস্তার পাশে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রয়সহ বিভিন্ন অপরাধে এসকল জরিমানা করা হয়। অভিযানে ডালিয়া হোটেলকে ৪ হাজার টাকা, ষ্টেশন রোডের শান্ত ইলেকট্রিক এন্ড হার্ডওয়্যারকে ২ হাজার টাকা, সায়েম হার্ডওয়্যারকে ৩ হাজার টাকাসহ ৯ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়।