সদ্য সংবাদ

পুরাতন সংবাদ: April 2019

কমলগঞ্জে পতনঊষারে বজ্রপাতে দুই শিশু নিহত

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নে
বজ্রপাতে দুই শিশু নিহত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে আজ রবিবার (৩১মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টায় পতনউষার মহিলা মাদ্রাসার সামনে।

বজ্রপাতে ঘটনাস্থলে এক শিশু নিহত হয় ও আহত অপরজনকে মৌলভীবাজার হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে অপর শিশু মুত্যু হয়।

নিহত দুই শিশু জুনেদ আহমেদ এর দুই কন্যা সাদিয়া (৬) ও মুন্নী (৪)। পতনঊষার ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নারায়ন মল্লিক সাগর ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।

কমলগঞ্জে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা প্রদান

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট


মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে বেস্ট ওয়ে কোচিং সেন্টারের আয়োজনে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। এ উপলক্ষে শুক্রবার সকাল ১০ টায় শমশেরনগরস্থ কোচিং সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বেস্ট ওয়ে কোচিং সেন্টারের চেয়ারম্যান নুরুর রহমান। বেস্ট ওয়ে কোচিং সেন্টার শমশেরনগরের পরিচালক মঈন উদ্দিন এর সভাপতিত্বে ও শিক্ষার্থী তৌহিদ আহমেদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি কমলগঞ্জ উপজেলা সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক শাহীন আহমেদ, সাংবাদিক নুরুল মোহাইমীন মিল্টন, সংগীত শিল্পী ও কথা সাহিত্যিক ইউসুফ আলী, কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য পরিদর্শক আঞ্জুমান আরা রুবী, কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর ইপিআই টেকনোলজিস্ট আশরাফুল আলম। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শিক্ষার্থী জায়েদ আহমেদ, রাসেল আহমেদ, রাবেয়া আক্তার, শারমিন আক্তার, হাসান আহমেদ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরীক্ষা উপকরন বিতরন করা হয়। পরে শিক্ষার্থীদের সফলতা কামনা করে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

কমলগঞ্জে গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট


মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের মৃতিঙ্গা চা গানের জোঁক টিলা পিচের মুখ এলাকা থেকে ১৫০ গ্রাম গাঁজাসহ ২ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কমলগঞ্জ থানার এএসআই আফসার হামিদ ও আয়াছ উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযানেকালে এ দুই গাঁজা ব্যবসায়িকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলো-মৌলভীবাজার সদর উপজেলার রং দাস গ্রামের আব্দুল মন্নান মনাই (৪৫) ও একই একই গ্রামের তারক আহমেদ সুয়েব (৪০)। উদ্ধারকৃত মাদকসহ গ্রেফতারকৃতদেরকে শুক্রবার মৌলভীবাজার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
কমলগঞ্জ থানার ওসি আরিফুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেফতারকৃত ২ মাদক ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে অর্থের বিনিময়ে কমলগঞ্জের বিভিন্ন জায়গায় মাদক সরবরাহ করে আসছিলো।

ভানুগাছ দেবনাথ সমিতির উদ্যোগে আলোচনা সভা ও গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত


কমলকুঁড়ি রিপোর্ট
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের যোগিবিল গ্রামের মোহন দেবনাথের আঙ্গিনায় ভানুগাছ দেবনাথ সমিতির উদ্যোগে আলোচনা সভা ও গুণীজন সংবর্ধনা শুক্রবার দুপুরে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উস্থিত ছিলেন রাজনগর মৌলনা মোফাজ্জাল হোসেন মহিলা কলেজের সহকারি অধ্যাপক মহেশ চন্দ্র দেবনাথ। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কমলগঞ্জ সরকারি গণ মহাবিদ্যালয়ের প্রাক্তন সহযোগী অধ্যাপক সুনীল কান্তি দেবনাথ।
ভানুগাছ দেবনাথ সমিতির সভাপতি প্রমোদ চন্দ্র দেবনাথের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক কালীপদ দেবনাথ ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শৈলেন্দ্র দেবনাথের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন দুবাই প্রবাসী নারায়ণ দেবনাথ, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অনন্ত দেবনাথ। অন্যানের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন ভানুগাছ দেবনাথ সমিতির সহ সভাপতি অনিল কান্তি দেবনাথ, অধ্যাপক সুশীল দেবনাথ, সাংবাদিক প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ, শৈব যোগী সংঘের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ডা. শ্রীনিবাস দেবনাথ, প্রধান শিক্ষক শংকর চন্দ্র দেবনাথ, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক চিত্ত রঞ্জন দেবনাথ, শিক্ষক সুখময় দেবনাথ, আনন্দ দেবনাথ, সঞ্জয় দেবনাথ, রসেন্দ্র দেবনাথ, দিপন দেবনাথ, রুমা রানী নাথ, মলয় দেবনাথ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে নাথ সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি সরুপ ১৭ জন গুণী ব্যক্তিকে সম্মাননা ক্রেষ্ট প্রদান করা হয়। সবশেষে উপস্থিত সকলকে আপ্যায়িত করা হয়। অনুষ্ঠানে সমাজ উন্নয়নে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

  বাংলাদেশ পুজা উদযাপন পরিষদ রহিমপুর ইউনিয়ন শাখার দ্বি বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত :সভাপতি অসমঞ্জু সভাপতি, পংকজ সম্পাদক নির্বাচিত


কমলকুঁড়ি রিপোর্ট
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ১নং রহিমপুর ইউনিয়নের দেবীপুর সার্বজনীন দেবালয়ে (২৯ মার্চ) শুক্রবার দুপুরে বাংলাদেশ পুজা উদযাপন পরিষদ ১নং রহিমপুর ইউনিয়ন শাখার দ্বি বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। শাখার সভাপতি অসমঞ্জু প্রসাদ রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক পংকজ ভট্টাচার্য্যরে সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পুজা উদযাপন পরিষদ কমলগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি শংকর লাল সাহা। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদ মৌলভীবাজার জেলা শাখার সদস্য অশোক বিজয় দেব কাননজ্ঞ কাজল, বাংলাদেশ পুজা উদযাপন পরিষদ কমলগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শ্যামল চন্দ্র দাশ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদ কমলগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নিরঞ্জন দেব, যুগ্ম সম্পাদক সমরেন্দু সেন গুপ্ত। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গেšরাঙ্গ দাশ, বিকাশ পাল, অঞ্জন প্রসাদ রায় চেšধুরী, প্রদীপ পাল, শিপ্রাংশু পাল প্রমুখ। সম্মেলন শেষে ২য় অধিবেশনে অসমঞ্জু প্রসাদ রায় চেšধুরী সভাপতি ও পংকজ ভট্টাচার্য্যকে পুনরায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। অন্যান্য সদস্যরা হলেন সহসভাপতি বিকাশ পাল, শিপ্রাংশ পাল, যুগ্ম সম্পাদক গঙ্গেশ দেবনাথ, সাংগঠনিক সম্পাদক অঞ্জন প্রসাদ রায় চেšধুরী, কোষাধ্যক্ষ রাধাকান্ত পাল, মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা সন্ধ্যা রানী পাল। অন্যান্য পদ আগামী ১৫ দিনের মধ্যে গঠন করে অনুমোদন প্রদান করা হবে।

ঢাকার বনানীর এফ আর টাওয়ারে আগুন

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

ঢাকার বনানীর এফ আর টাওয়ারে আগুন।

কমলগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় পা ভাঙলো এক শিক্ষার্থীর

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট


মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে পাওয়ার টিলার ও সিএনজি অটোরিকশার মুখোমুখি সংর্ঘষে পা ভাঙ্গলো ৬ষ্ট শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীর। ঘটনাটি ঘটেছে, বুধবার সকালে কমলগঞ্জ উপজেলা চৌমুহনী এলাকায়। আহত শিক্ষার্থী কমলগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ট শ্রেণির ছাত্রী এবং কমলগঞ্জ পৌরসভার নগর এলাকার বাবুল মিয়ার মেয়ে মুন্নি আক্তার (১২)।
সিএনজি গ্রুপের উপজেলা সভাপতি আলমাছ মিয়া জানান, সিএনজি করে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে বিপরীত থেকে আসা পাওয়ার টিলার ও সিএনজি অটোরিকশার সংর্ঘষে ঘটনাস্থলেই মুন্নি আক্তারের একটি পা ভেঙ্গে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
কমলগঞ্জ থানার ওসি মো: আরিফুর রহমান জানান, ঘটনাটি তাকে কেউ জানায়নি, তবে খবর নিয়ে বিষয়টি দেখছেন।

কমলগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা


কমলকুঁড়ি রিপোর্ট
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে গত মঙ্গলবার (২৬ মার্চ) দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে কমলগঞ্জ সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। কমলগঞ্জ ইউএনও আশেকুল হকের সভাপতিত্বে এবং এডভোকেট মো: সানোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মো: হেলাল উদ্দিন, মুন্সীবাজার ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মোতালিব তরফদার, সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল মোমিন তরফদার, অধ্যক্ষ মো: নুরুল ইসলাম। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা নির্মল কান্তি দাস, রিয়াজ উদ্দিন, জয়নাল আবেদীন, কমলগঞ্জ সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আব্দুল হান্নান চিনু, কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবের সহ- সভাপতি প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের আহবায়ক আজিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মন্জুর আহমদ আজাদ মান্না প্রমুখ। সভায় বক্তারা চাকুরীক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা কোটার যথাযথ বাস্তবায়ন ও সকল ইউনিয়ন পরিষদের সামনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা টানানোর দাবী জানান।

৪৮ বছরেও বীরাঙ্গনার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাননি কমলগঞ্জের জয়গুন নেছা শেষ বয়সে এসে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট


মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের জয়গুন নেছা খানম স্বাধীনতার ৪৮ বছরেও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাননি। সহায়হীন এ বীরাঙ্গনা শেষ বয়সে এসে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় ছয়মাস পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বন্দি শিবিরের দুর্বিষহ যন্ত্রণা ও পাকিস্তানি সেনাদের ঔরস সন্তান নিয়ে সামাজিক নানা বিড়ম্বনা যেন এখনও তাকে খামচে ধরে।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমসের নগর বাজার সংলগ্ন ভাদাইর-দেউল গ্রামের সুঞ্জর খানের মেয়ে জয়গুণ স্থানীয় রামচিজ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তখন সবে পঞ্চম শ্রেণিতে পরীক্ষা দিয়েছেন। আনন্দে উল্লাসে ছিল তার শৈশব আবার দেখতেও তিনি সুন্দরী ছিলেন।
রাজাকার বাড়ির [বিটি বারী নামে পরিচিত] নেতৃত্বে তখন থমথমে শমশের নগর। একদিন ভোর বেলা তাকে তুলে নেওয়া হয় শমশের নগর বন্দি শিবিরে। সেখানে পাকিস্তানি সেনা সুবেদার লালখান, মেজর আজিজ, ক্যাপ্টেন রফিক ও ক্যাপ্টেন দাউদ টানা ছয়মাস পাশবিক নির্যাতনের শিকার হন জয়গুণ।
যুদ্ধ শেষের দিকে একদিন ক্যাম্প থেকে তিনি প্রাণ নিয়ে পালিয়ে আসেন। কিন্তু ততদিনে জয়গুন তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা। পরবর্তীতে নিমসানা আক্তার নামে এক মেয়ের জন্ম দেন তিনি। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে নিমসানার বাবার পরিচয় না থাকায় বিপাকে পড়েন তিনি। এরপর কুলাউড়ার শরিফপুর ইউপির লালারচক গ্রামের ভূমিহীন ও সহজ-সরল মারুফ আহমদকে ‘ঘরজামাই’ করে বিয়ে দেওয়া হয় জয়গুণের সঙ্গে। যুদ্ধশিশু নিমসানাকে মারুফের পিতৃ পরিচয়ে বিয়ে দেন তিনি।
যুদ্ধশিশুর বাবার পরিচয়ের জন্য যার কাছে বিয়ে দেওয়া হয় সেই সংসারে তার এক ছেলে ও এক মেয়ের জন্ম দেন জয়গুণ নেছা। স্বামীও অকালে মারা যান। বছরখানেক আগে একমাত্র ছেলেও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পরপারে চলে যান। এখন তিনি এক মেয়েকে নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।
জয়গুণ নেছা খানম বলেন, ‘ছোট একটি ঘরে আমাকে রাখা হয়েছিল। পাকিস্তানি সেনারা সেই ঘরে আমার ওপর নির্যাতন চালাতো। একটা সময় শুধু রক্ত দেখেছি। মাটিতে পড়ে গেলে ওরা চারজন আমাকে চেপে ধরতো। আমি বাঁচার জন্য চিৎকার করলে একজন বাইরে থেকে কালো আটা জাতীয় রাবার এনে আমার ঠোঁটে-মুখে লাগিয়ে দিতো। এভাবে ছয়মাস সহ্য করেছি।’
তিনি বলেন, ‘দেশ স্বাধীন হওয়ার কিছুদিন আগে সেখান থেকে পালিয়ে আসতে সক্ষম হই। সেসময় হানাদার বাহিনীর ধারাবাহিক নির্যাতনের কারণে আমি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে যাই। আমরা বাড়ি ফিরে দেখি সবকিছু ধ্বংস। আত্মহত্যার জন্য হাতে ইঁদুর মারার ওষুধ নেই। তখন মা-বাবা বলেন— ‘তুমি একলা নায়। আরও অনেক মেয়ে আছে।’
‘এদিকে মানুষ বলতে থাকে ‘পেঠ হইছে’। লজ্জায় ঘরে বসে থাকি। মা বললেন— ‘যদি তুমি মর তবে বেহেশত পাইতায় নায়।’ অবশেষে ফাল্গুন মাসে আমার মেয়ের জন্ম হয়। নাম রাখা হয় নিমসানা আক্তার। এ মেয়ে বড় হতে থাকলে- লোকে বলতে থাকে ‘লালখানের পুড়ি’। তখন কতো মানুষ যে আমাকে ঘৃণা ও অবজ্ঞা করেছে তা বলে শেষ করা যাবে না।’
জয়গুন নেছা আরও বলেন, ‘আমার এখন থাকার মতো একটি ভিটে নেই। অন্যের জায়গায় আশ্রয় নিয়ে আছি। এ অবস্থায় হয়তো চলে যাব পরপারে। কিন্তু মরার আগে আমি চাই রাষ্ট্র যেন আমাকে স্বীকৃতি দেয়। সমাজের মানুষ আমাকে যেভাবে ঘৃণা করেছে তাদের মুখে কালি দিয়ে যেন আত্মতুষ্টি নিয়ে মরতে পারি।’
বীরাঙ্গনাদের নিয়ে গবেষণা করে আসছেন মৌলভীবাজার টিচার্স ট্রেনিং ইনসটিটিউটের ইন্সট্রাক্টর দীপঙ্কর মোহান্ত। তিনি বলেন, ‘জয়গুন নেছার জীবনী সবার আড়ালেই ছিল। নানা বঞ্চনা নিয়ে তিনি লড়াই করে যাচ্ছেন। আমি বহু কষ্টে তার কাছে পৌঁছাই। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে পিটিআইতে আমাদের একটি অনুষ্ঠানে তাকে পরিচয় করিয়ে দেই। আমি আশা করি রাষ্ট্র তাকে স্বীকৃতি দিয়ে পরবর্তী জীবনে গর্ব করে বাঁচার অধিকার দিবে।

কমলগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত


মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদা ও বিভিন্ন কর্মসূচীর মাধ্যমে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করা হয়। মঙ্গলবার (২৬ মার্চ) প্রত্যুষে ৩১ বার তোপধ্বনির পর কমলগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দিবসটির কর্মসূচী শুরু হয়। ভোর সাড়ে ৬টায় শমশেরনগর, কামুদপুর ও দেওড়াছড়া বধ্যভূমিতে পুষ্প স্তবক অর্পণ করা হয়। সকাল সাড়ে ৭টায় বীর শ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমানের স্মৃতিসৌধে পুষ্প স্তবক অর্পণ করা হয়। সকাল ৮টায় কমলগঞ্জ সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক মো: রফিকুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক ও কমলগঞ্জ থানার ওসি মো: আরিফুর রহমান। পরে সারাদেশের সাথে একযোগে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন, কুচকাওয়াজ, স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের অংশ গ্রহনে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।


দুপুর ১২টায় কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হকের সভাপতিত্বে এবং এডভোকেট মো: সানোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের তাৎপর্য্য এবং উন্নয়ন অগ্রগতি বিষয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মো: হেলাল উদ্দিন, মুন্সীবাজার ইউপি চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মোতালিব তরফদার, সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল মোমিন তরফদার, অধ্যক্ষ মো: নুরুল ইসলাম। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা নির্মল কান্তি দাস, রিয়াজ উদ্দিন, জয়নাল আবেদীন, কমলগঞ্জ সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আব্দুল হান্নান চিনু, কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবের সহ- সভাপতি প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের আহবায়ক আজিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মন্জুর আহমদ আজাদ মান্না প্রমুখ। সভায় বক্তারা চাকুরীক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা কোটার যথাযথ বাস্তবায়ন ও সকল ইউনিয়ন পরিষদের সামনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা টানানোর দাবী জানান।
এদিকে দিবসটি উপলক্ষে মঙ্গলবার দুপুরে কমলগঞ্জ থানার আয়োজনে কমলগঞ্জ সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক কাবাডি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। পরে কমলগঞ্জ থানার ওসি মো: আরিফুর রহমানের সভাপতিত্বে ও প্রধান শিক্ষক মোশাহীদ আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (শ্রীমঙ্গল সার্কেল) মো: আশরাফুজ্জামান। মঙ্গলবার বিকালে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশত হয়।