সদ্য সংবাদ

পুরাতন সংবাদ: May 2019

রোহিঙ্গাদের ওপর হামলার প্রতিবাদে কমলগঞ্জে মানববন্ধন

 Pic--Manobbondon

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট
মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নির্যাতন ও হত্যার প্রতিবাদে বুধবার বিকাল ৫টায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার পতনউষারের শহীদ নগর বাজারে সর্বস্তরের মানুষের এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর গণহত্যা চলছে। অতিদ্রুত এ চরম নির্যাতন ও গণহত্যা বন্ধ করতে হবে। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে আমরা এর তীব্র পতিবাদ জানাচ্ছি। রোহিঙ্গাদেরকে স্থায়ীভাবে বার্মাতে বসবাস করার জন্য জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং শান্তিতে নোবেল জয়ী মিয়ানমারের অং সান সুচিকে সন্ত্রাসের জননী আখ্যায়িত করে তার নোবেল পদক কেড়ে নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
মাহিদুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ২নং পতনউষার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার তওফিক আহমদ বাবু, সাংবাদিক আব্দুুল হান্নান চিনু, সমাজসেবক অলি আহমদ খান, মাহমুদুর রহমান বাদশা, মাওলানা জমির আলী, আবুল বশর জিল্লুল,  মাওলানা শরীফ খালেদ সায়ফুল্লাহ,  মাওলানা লোৎফুর রহমান জাকারিয়া, আব্দুল মুকিত হাসানি প্রমুখ ।

সুজিতা সিন্হা মৌলভীবাজার জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষিকা নির্বাচিত

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট
Sujita Sinhaমৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার গোবর্ধ্বনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজিতা সিন্হা মৌলভীবাজার জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষিকা নির্বাচিত হয়েছেন। শিক্ষাক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবেই তাকে জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষিকা নির্বাচন করা হয়।
সুজিতা সিন্হা ২০১৪ সালে জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ-২০১৪ সালে সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদানের জন্য নারী ক্যাটাগরিতে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জয়িতা সম্মানে ভূষিত হন। এছাড়া তিনি কমলগঞ্জ উপজেলা মহিলা পরিষদের কোষাধ্যক্ষ, বাংলাদেশ মণিপুরী সমাজ কল্যাণ সমিতির মহিলা সম্পাদিকা, মণিপুরী ললিতকলা একাডেমির নির্বাহী পরিষদের সদস্যসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত রয়েছেন। মেধাবী প্রধান শিক্ষিক সুজিতা সিন্হা দীর্ঘদিন ধরে কমলগঞ্জ উপজেলার গোবর্ধ্বনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দক্ষতা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি শিক্ষামূলক ও সামাজিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত রয়েছেন। সুজিতা সিন্হা কৃষি উন্নয়নে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিসরুপ রাষ্ট্রপতি পুরষ্কারপ্রাপ্ত কমলগঞ্জ উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের তিলকপুর গ্রামের প্রয়াত যাদব সিংহ ও গৃহিনী প্রয়াত তারালৈমা দেবীর কন্যা সুজিতা সিন্হা ১৯৬৭ সালের ১লা জুলাই জন্মগ্রহণ করেন। তার স্বামী অবসরপ্রাপ্ত সহকারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার সিংহ। সুজিতা সিনহার দুই সন্তানের জনক। এর মধ্যে মেয়ে সুবর্ণা সিনহা স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে এম, এ (ফার্মেসী) ও ছেলে সৌমিত্র সিংহ সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স (গণিত) বিষয়ে অধ্যয়নরত।
প্রাথমিক শিক্ষায় কমলগঞ্জের সুজিতা সিন্হা মৌলভীবাজার জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষিকা নির্বাচিত হয়েছেন। জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০১৭ এর উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষিকা ক্যাটাগরিতে প্রথমে তিনি নির্বাচিত হন। পরে জেলা পর্যায়ে মৌলভীবাজার জেলার সহস্রাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে সুজিতা সিন্হা মৌলভীবাজার জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষিকা নির্বাচিত হয়েছেন। প্রধান শিক্ষিকা সুজিতা সিন্হা এখন সিলেট বিভাগীয় পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দিতা করবেন।
সম্প্রতি মৌলভীবাজার জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সাক্ষাৎকার বোর্ডে তিনি শ্রেষ্ঠ শিক্ষিকা নির্বাচিত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন কমলগঞ্জ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার জয় কুমার হাজরা। সুজিতা সিন্হা বিষয় ভিত্তিক বিভিন্ন প্রশিক্ষণে ভাল রেজাল্ট, আধুনিক পদ্ধতিতে ক্লাশ গ্রহণ, বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন ও বহুমুখী প্রতিভার পরিচয় দেন। জেলার ৭টি উপজেলার বাছাই কমিটি কর্তৃক নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ শিক্ষকগণ এতে অংশগ্রহণ করেন।

পুষ্টিহীনতার অভাবে সিলেটের চা বাগানে বাড়ছে রোগব্যাধী চা শিল্প শ্রমিকদের মধ্যে কুষ্ঠ ও যক্ষ্মা রোগের মারাত্মক ঝুঁকি!

Leprosy Pic-2
নূরুল মোহাইমীন মিল্টন
যক্ষ্মা ও কুষ্ঠ রোগের মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে চা শিল্প শ্রমিকরা। যক্ষ্মা ও কুষ্ঠ চিকিৎসা নিয়ে কর্মরত সংস্থা ও চিকিৎসকদের মতে বস্তির তুলনায় সরকারী চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্ছিত চা শ্রমিকদের নির্দিষ্ট গন্ডির মধ্যে বন্দি থেকে ঘনবসতি ও নোংরা পরিবেশ বসবাস, পুষ্টিহীনতা এবং অসচেতনতার কারণে তুলনামূলক অধিক পরিমাণে যক্ষ্মা, কুষ্ঠসহ নানাবিধ রোগে অধিক পরিমাণে আক্রান্ত হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, চা বাগানে বসবাসরত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অনেকে অসচেতন যারা উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। চা বাগানের নির্দিষ্ট গন্ডির ভেতর থেকে এখনও অনেকেই বাইরে বের হতে পারছে না। ঘনবসতি, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে বসবাস, মাদকাসক্ত, পরিমিত খাবারের সমস্যা, কোন কোন ক্ষেত্রে গবাধি পশুর সাথে একই ঘরে বসবাস সবমিলিয়ে বস্তির তুলনায় চা শিল্পে কর্মরত নারী ও পুরুষ শ্রমিকদের মধ্যে যক্ষ্মা ও কুষ্ঠ রোগের প্রবণতা অনেক বেশি। তবে বস্তি এলাকায় এসব কিছু রোগী পাওয়া গেলেও চা বাগান এলাকায় ঘনবসতি ও স্যাৎ সেতে ঘরে বসবাস করার জন্য যক্ষ্মা ও কুষ্ঠ রোগের সংক্রামক বেশি পাওয়া যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
হীড বাংলাদেশ কমলগঞ্জের কুষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ জানায়, সিলেট বিভাগের চা বাগান ও বস্তি এলাকায় ২০১৬ সনে কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত নতুন ৩০৫ জন, চিকিৎসাধীন ৩৭০ জন রোগীর মধ্যে সুস্থ হয় ১০৯ জন। ২০১৭ সনের জানুয়ারী থেকে জুন পর্যন্ত দুই ধাপে কুষ্ঠ জরিপে ২৫০ জন রোগীর মধ্যে সাধারণ রোগী ৫১ জন, মারাত্মক ধরণের ১৯৯ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ১২৫, মহিলা ১১৩ ও শিশু ১২ জন রয়েছে।
চ্যালেঞ্জ টিবি বাংলাদেশ (সিটিবি) প্রজেক্ট সূত্র জানায়, বিশ্বের যে ২২টি দেশের মধ্যে যক্ষ্মা রোগীর সংখ্যা সর্বাধিক তার মধ্যে বাংলাদেশ ৬ষ্ঠ। প্রতি বছর দেশে প্রায় ৩ লাখ ২১ হাজার মানুষ যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হন এবং এর মধ্যে প্রায় ৬৪ হাজার মানুষ মৃত্যু বরন করেন। জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচীর মতে সারাদেশে প্রতি লাখে যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত ২২৫ জন রোগী পাওয়া গেলেও শুধুমাত্র সিলেটে এই হার তিনশ’ও এর বেশি। চ্যালেঞ্জ টিবি বাংলাদেশ (সিটিবি) প্রজেক্টের মৌলভীবাজার জেলা প্রকল্প কর্মকর্তা (ডিপিও) তাপস বাড়ৈ জানান, এপ্রিল, মে ও জুন এই তিন মাসে সিলেট, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের ১৬টি উপজেলায় ৫৯৪ জন যক্ষ্মা রোগী পাওয়া যায়। এই সময়ে ৪১টি চা বাগান, ৭টি পুঞ্জি এবং ১৩টি রাবার বাগানের ৩৫ হাজার ১৩৭টি পরিবারের ১ লাখ ৬৬ হাজার ৫৩ জন রোগী চ্যালেঞ্জ টিবি কার্যক্রমের মাধ্যমে উপকার পেয়েছেন। বাংলাদেশ সরকার যক্ষ্মা রোগ নির্ণয় ও কার্যক্রমে কফ পরীক্ষা ও চিকিৎসা বিনামূল্যে দিয়ে থাকে। তিনি আরও বলেন, যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে চা বাগানের কম্পাউন্ডার, ড্রেসার, মা, ম্যানেজমেন্ট, গ্রাম্য চিকিৎসকদের নিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

Leprosy Pic-4
চা বাগানের সচেতন মহলের দাবি, চা বাগানে মদের পাট্রায় গিয়ে মদ পান, স্থান সংকুলানের অভাবে গাদাগাদি আর নোংরা পরিবেশ বসবাস ও সচেতনার যথেষ্ট অভাব রয়েছে। ফলে এসব রোগে বেশী আক্রান্ত হচ্ছে চা শ্রমিকরা। কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইয়াহিয়া এবং কমলগঞ্জে হীড বাংলাদেশের যক্ষ্মা, কুষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের কুষ্ঠ প্রকল্প ইনচার্জ পরেশ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, বাড়ি ঘরের অবস্থা ও অসচেতনতা, স্বাস্থ্য সম্মত খাবারের অভাব, নোংরা পরিবেশ ও কলোনী সমূহে ঘনবসতি বেশী থাকায় চা বাগানগুলোতে যক্ষ্মা ও কুষ্ঠ রোগের প্রাদুর্ভাব তোলনামূলক বেশী। তারা আরও বলেন, চা বাগানের নির্দিষ্ট একটি গন্ডি ও প্রশাসনের বাইরে গিয়ে শ্রমিকরা চিকিৎসা সুবিধা নিতে গড়িমসি করছে। ফলে চা শ্রমিকদের মধ্যে রোগব্যাধী অধিকতর বেশী।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকতা ডা. মো. ইয়াহিয়া বলেন, দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল থাকায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চা বাগান সমুহে এসব রোগ সনাক্তকরণ ও চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা রয়েছে এবং সরকারি হাসপাতালে এসে রোগীরা চিকিৎসা গ্রহণ করছে বলে তিনি দাবি করেন ।
চা বাগানসহ স্থানীয় চিকিৎসক ও সচেতন মহলের মতে অবহেলিত চা শ্রমিকদের এসব রোগব্যাধী নিয়ন্ত্রণে শুধু এনজিও’ দিয়েই সম্ভব নয়। সরকারী উদ্যোগেও দেশের নাগরিক হিসাবে চা শ্রমিকদের স্বাস্থ্যগত সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত এবং শিক্ষা ধীক্ষায় সচেতন হয়ে উঠলে রোগব্যাধী থেকে আরও মুক্ত হওয়া সম্ভব।

কমলগঞ্জের আম্বিয়া কে জি স্কুলে ডেস্ক-বেঞ্চ ও চেয়ার প্রদান

0223 copy
কমলকুঁড়ি রিপোর্ট
কমলগঞ্জের আম্বিয়া কিন্ডার গার্টেন স্কুলে ডেস্ক-বেঞ্চ, মায়েদের বসার চেয়ার ও ফ্যান প্রদান করেছেন কমলগঞ্জ পৌর মেয়র। বুধবার ৩০ আগষ্ট দুপুর ১২টায় স্কুলের হল রুমে আনুষ্ঠানিক ভাবে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এসব সামগ্রী প্রদান করা হয়।
অধ্যক্ষ মমতা রানী সিনহার সভাপতিত্বে ও শিক্ষক মো. মোস্তাফিজুর রহমানের পরিচালনায় অনুষ্টানে প্রধান অতিথি ছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মাহমুদুল হক। গেষ্ট অব অনার ছিলেন কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. জুয়েল আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্কুলের প্রতিষ্টাতা ও ব্যাংকার মোঃ সালাহ উদ্দিন। অনুষ্টানে বক্তব্য রাখেন কমলগঞ্জ প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক শাহীন আহমেদ, অভিবাবক প্রভাষিকা শাহরিয়ার জেবিন। অনুষ্ঠানে ৫ জোড়া ডেক্স বেঞ্চ, ২০ টি চেয়ার ও ১টি ফ্যান প্রদান করা হয়। এছাড়া বিদ্যালয়ের অভিবাবক ঝুলন চক্রবতী নিজস্ব পক্ষ থেকে একটি ফ্যান প্রদান করেন।

কমলকুঁড়ি পত্রিকা ৩১ আগষ্ট ২০১৭

1

Page 2 copy

Page 3 copy

Page 4 copy

ঈদুল আযহার ছুটিতে পর্যটকদের বরণ করতে প্রস্তুত কমলগঞ্জ

kamalgonj hore narayan pic

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট
পবিত্র ঈদুল আযহার টানা ছুটিতে পর্যটকদের বরণ জানাতে প্রস্তুত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে অপরুপ লীলাভূমি মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ। এ উপজেলায় টিলাঘেরা সবুজ চা বাগান, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী ধলই চা বাগানে অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের স্মৃতিসৌধ, ছায়া নিবিড় পরিবেশে অবস্থিত নয়নাভিরাম মাধবপুর লেক, ঝর্নাধারা হামহাম জলপ্রপাত, মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জি, ডবলছড়া খাসিয়া পুঞ্জি, শিল্পকলা সমৃদ্ধ মণিপুরীসহ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিসত্তার জীবন ধারা ও সংস্কৃতিসহ প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর এই জনপদ যে কোন পর্যটকের মন ও দৃষ্টি কড়ে নেবে। তাইতো পবিত্র ঈদুল ফিতরে এসব আকর্ষনীয় পর্যটন স্পটগুলো পর্যটকদের বরণ করতে প্রস্তুত।
কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর চা বাগানে নয়নাভিরাম মনোরম দৃশ্য মাধবপুর লেক ভ্রমন পিপাসু মানুষের জন্য একটি আকর্ষণীয় স্থান। এখানকার পাহাড়ি উঁচু নিচু টিলার মাঝে দৈর্ঘে প্রায় ৩ কিঃমিঃ পানির হ্রদ ও তার শাখা প্রশাখা, চারপাশে পাহাড়ি টিলার উপর সবুজ চা বাগানের সমারোহ, জাতীয় ফুল দুর্লভ বেগুনী শাপলার আধিপত্য, ঝলমল স্বচ্ছ পানি, ছায়া নিবিড় পরিবেশ, শাপলা শালুকের উপস্থিতি আনন্দের বাড়তি মাত্রা যুক্ত করেছে। এক দিনেই মাধবপুর লেকের দৃশ্য উপভোগ করে বেরিয়ে এসে একই রাস্তায় প্রায় ১০ কিঃমিঃ যাওয়ার পরই বীরশ্রেষ্ট শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ ঘুরে আসা যাবে। এখানে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্র্রান্ত থেকে পর্যটক, দর্শনার্থী ও শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশার লোকজন এ স্মৃতিসৌধ দেখতে আসছেন। সকালে বের হলে লাউয়াছড়া ভ্রমণ শেষে মাধবপুর লেক ও বীরশ্রেষ্ট হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ ঘুরে আসা যাবে।

Pic--Tea Garden
এছাড়া দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধ শুরুর সময়ে বিট্রিশ আমলে গড়ে উঠেছে কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগরে বিশালাকার বিমান বন্দর। বর্তমানে এখানে আরটিএস (রিক্রুট ট্রেনিং) স্কুল স্থাপন করায় ভেতরে প্রবেশ করে ভ্রমন করা সবার পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠে না। শমশেরনগর বিমান বাহিনী ইউনিট এলাকায় পতিত ভূমিকে কাজে লাগিয়ে কাঁঠাল, আনারস, লিচু, কুল, ধান, আলুসহ নানা জাতের ফল, কৃষি ও মৎস্য খামার গড়ে তোলা হচ্ছে। শমশেরনগর বিমান বাহিনীর সংরক্ষিত এলাকা সংলগ্ন স্থানে মুক্তিযুদ্ধকালীন বধ্যভূমির উপর একটি স্মৃতি সৌধও নির্মিত হয়েছে। ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী দূর্গম পাহাড়ি এলাকা ডবলছড়া। ত্রিপুরা থেকে উৎপত্তি হওয়া একটি পাহাড়ি ছড়ার নামে স্থানটির নাম হয়েছে বলে জানা যায়। ডবলছড়া খাসিয়া পল্লী যেতে পাহাড়ি উঁচু নিচু কাঁচা ১২ কিঃমিঃ রাস্তা পাড়ি দিতে হয়। পথিমধ্যে শমশেরনগর চা বাগানের দু’টো প্রাকৃতিক হ্রদ, একটি গলফ মাঠ ও ক্যামেলিয়া ডানকান হাসপাতাল যে কোন পর্যটকের নজর কাড়বে। অপরূপ সৌন্দর্য্যে আধার ডবলছড়া খাসিয়া পল্লীটি পাহাড়ি টিলার উপর ঘর করে বসবাস করছে খাসিয়া জনগোষ্ঠীর লোকজন। রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় সোয়া ২শ’ কিঃমিঃ উত্তর পূর্বে ও সিলেট বিভাগীয় শহর থেকে প্রায় ৬০ কিঃমিঃ দক্ষিণ পূর্বে ডবলছড়ার অবস্থান। একজন হেডম্যান বা মন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণে ডবলছড়া খাসিয়া পল্লীতে আড়াই শ’ ফুট উপরের হেডম্যান বা মন্ত্রীর বাংলোটি দেখতে খুবই সুন্দর।

Pic-----Madobpur Lake
কমলগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৩০ কিঃমিঃ পূর্ব-দক্ষিণে রাজকান্দি বন রেঞ্জের কুরমা বনবিট এলাকার প্রায় ১০ কিঃমিঃ অভ্যন্তরে দৃষ্টিনন্দন হামহাম জলপ্রপাত। স্থানীয় পাহাড়ি অধিবাসীরা এ জলপ্রপাত ধ্বনিকে হামহাম বলে। তাই এটি হামহাম নামে পরিচিত। সেখানে সরাসরি যানবাহন নিয়ে পৌঁছার ব্যবস্থা নেই। কুরমা চেকপোস্ট পযর্ন্ত প্রায় ২৫ কিঃমিঃ পাকা রাস্তায় স্থানীয় বাস, সিএনজি, জিপ ও মাইক্রোবাসে যেতে হয়। বাকি ১০ কিঃমিঃ পায়ে হেঁটে যেতে হয়। সেখান থেকে প্রায় ৫ কিঃমিঃ দূরে সীমান্ত এলাকায় ত্রিপুরা আদিবাসী পল্লী। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা তৈলংবাড়ী কলাবন বস্তি থেকে পায়ে হেঁটে রওয়ানা হতে হবে। প্রায় ৬ কিঃমিঃ পাহাড় টিলা ও ২ কিঃমিঃ ছড়ার পানি অতিক্রম করে ৩ ঘন্টা পায়ে হাঁটার পর ১৬০ ফুট উচ্চতার হামহাম জলপ্রপাতের দেখা পাওয়া যাবে। হামহাম জলপ্রপাত ভ্রমণ করতে পুরো একদিনের প্রয়োজন।
এছাড়াও ভ্রমণের জন্য রয়েছে-কমলগঞ্জে পাক বাহিনীর নির্মম নির্যাতনের নিরব স্বাক্ষী বিভিন্ন বধ্যভূমি, ব্রিটিশদের শোষনের প্রতীক তিলকপুর নীলকুটি, ঘটনাবহুল মাগুরছড়া গ্যাসফিল্ড, বর্ণময় শিল্পসমৃদ্ধ মনিপুরী সম্প্রদায়সহ টিপরা, খাসিয়া, গারো সমাজের ক্ষদ্র ক্ষুদ্র জাতিসত্তা এলাকা সমূহ।
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি এম, মোসাদ্দেক আহমেদ মানিক বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তায় টুরিষ্ট পুলিশ ও গাইড পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।
মাধবপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপক বিদ্যুৎ কুমার রায় বলেন, মাধবপুর লেইকে পর্যটদের জন্য নানা সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এখানে টুরিষ্ট পুলিশ ছাড়াও চা বাগানের কর্মচারীরা বাড়তি নজরদারি করবেন।
কমলগঞ্জ থানার ওসি বদরুল হাসান বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তায় পর্যটক পুলিশের পাশাপাশি থানা পুলিশের পক্ষ থেকেও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

কমলগঞ্জ পৌরসভায় বন্যা আক্রান্তদের মাঝে চাল ও ঈমাম মুয়াজ্জিনদের মধ্যে আর্থিক অনুদান প্রদান : শোক দিবস উপলক্ষে কমলগঞ্জ পৌরসভার উদ্যোগে মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত

0323 copy

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ পৌর এলাকার বন্যায় আক্রান্তদের মাঝে ভিজিএফ এর চাল, নগদ অর্থ এবং পৌর এলাকার সকল মসজিদের ঈমাম ও মুয়াজ্জিনদের মাঝে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১২ টায় পৌর হল রুমে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চাল ও নগদ অর্থ প্রদান করেন সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ মো. আব্দুস শহীদ এম.পি। কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. জুয়েল আহমেদ এর সভাপতিত্বে ও ছাত্রলীগ নেতা হামিম মাহমুদ এর পরিচালনায় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুমি বেগম। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কমলগঞ্জ প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক শাহীন আহমেদ, মাওলানা এনাম উদ্দিন, পৌর কাউন্সিলর আফজাল হোসেন। অনুষ্ঠানে ৭২ জন ঈমাম ও মুয়াজ্জিনকে ১০০০ ও ৫০০ শত করে এবং ৫০ জন বন্যাআক্রান্ত মানুষের মাঝে ৩০ কেজি করে চাল ও নগদ ৫০০শত টাকা করে প্রদান করা হয়।

 এদিকে জাতীয় শোক দিবস ২০১৭ উপলক্ষে কমলগঞ্জ পৌরসভার আয়োজনে শোকের মাসের শেষ দিন ৩১ আগস্ট বৃহস্পতিবার বেলা ১ টায় পৌর মিলনায়তনে এক মিলাদ ও দোয়া মাহফিল  অনুষ্ঠিত হয়। কমলগঞ্জ পৌরসভার সকল মসজিদের ঈমাম ও মোয়াজ্জিনদের নিয়ে অনুষ্ঠিত দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সাবেক চিফ হুইপ আলহাজ্ব উপাধ্যক্ষ মো. আব্দুস শহীদ এম.পি। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কমলগঞ্জ পৌর মেয়র, উপজেলা যুবলীগ আহবায়ক মো. জুয়েল আহমেদ, কমলগঞ্জ প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক শাহীন আহমেদ, উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি রাহাত ইমতিয়াজ রিপুল।

হত্যা না আত্মাহত্যা ? কমলগঞ্জে দুই সন্তানের জনকের মৃত্যু : হাসপাতাল থেকে জোর করে লাশ নেয়া হয়

500x350_322f0c7511b4aea11767ed4052a80f93_20
কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার দুই সন্তানের জনক রহস্যজনক ভাবে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্নহত্যার খবর পাওয়া গেছে। স্হানীয় সুত্রে জানা যায়, ৩০ শে আগস্ট বুধবার পারিবারিক কলহের জের ধরে উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের জগনশালা গ্রামের জালাল উদ্দিনের পুত্র দুই সন্তানের জনক মোঃ নুরুল ইসলাম (৪০) গত রাতের কোন এক সময়ে ঘরের চালায় গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্নহত্যা করে।পরে সকালে বাড়ীর লোকজন তাকে তীরের সাথে ঝুলতে দেখে সাথে সাথে উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার নুরুল ইসলাম কে মৃত ঘোষনা করেন। কর্তব্যরত ডাক্তার এটি পুলিশি বিষয় উল্লেখ করলে,তার আত্নীয় স্বজন কাউকে না জানিয়েই এক পর্যায় জোড়া জুরি করে লাশটি গ্রামের বাড়ীতে নিয়ে এসে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালালে এতে এলাকার লোকজনের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। এদিকে খবর পেয়ে কমলগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল বিষয়টি খতিয়ে দেখতে জগন শালা নুরুল ইসলামের গ্রামের বাড়ীতে যায়।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জালাল উদ্দিনের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা যায়নি। কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ বদরুল হাসান বলেন, খবর পেয়ে তিনি সাথে সাথে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্হলে পাঠিয়েছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে। এটা আসলে হত্যা নাকি আত্নহত্যা, তা তদন্ত সাপেক্ষে বুঝা যাবে বলে জানান।

কমলগঞ্জে তৃনমুল নারী উদ্ধোক্তা সোসাইটির ( গ্রাসরুটস্) এর উদ্যোগে ৭০ জন দরিদ্র নারী পুরুষের মাঝে ঈদ বস্ত্র বিতরন

21175156_1963228790624668_875841500_n
মিজানুর রহমান মিষ্টার :
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নের শ্রীরামপুর নয়াবাজারস্থ তৃনমুল নারী উদ্ধোক্তা সোসাইটির ( গ্রাসরুটস্) এর আয়োজনে ২৯ আগষ্ট মঙ্গলবার বিকালে ৭০ জন নারী  পুরুষদের মাঝে ঈদ বস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। ঈদ বস্ত্র অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন
বাংলাদেশ ওয়ার্কাস কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড সিকান্দর আলী। তৃনমুল নারী উদ্ধোক্তা সোসাইটির ( গ্রাসরুটস্) জাতীয় সমন্বয়কারী অনিতা দাস গুপ্তার সভাপতিত্বে ও স্থানীয় তত্বাবধানে মিজানুর রহমান মিষ্টার এর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন তৃনমুল নারী উদ্ধোগতা সোসাইটি ( গ্রাসরুটস্) এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিমাংশু মিত্র। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কমরেড আফরোজ আলী, নায়বাজার শ্রীরামপু ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল মন্নান মনোয়ার, সমাজসেবক সফিকুর রহমান রতন, সৈয়দ মুহিতুর রহমান পরাগ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের নারী পুরুষ মোট ৭০ জন কে লুঙ্গী, পাঞ্জাবী, শাড়ী ও ড্যাস দেওয়া হয়।

” মিরতিংগা চা- বাগান এলাকার ধলাই নদীর বাঁধ দীর্ঘদিন থেকে ভাঙ্গা : কয়েক দফায় নষ্ট হয়েছে কৃষকের ফসল

বিশেষ প্রতিনিধি :10

কমলগঞ্জ উপজেলার ১ নং রহিমপুর ইউনিয়নের মিরতিংগা চা- বাগানের পাথরটিলা এলাকায় ধলাই নদীর বাঁধ দীর্ঘদিন ধরে ভাঙ্গা অবস্থায় আছে। বাগানের দরিদ্র কৃষকদের অতি কষ্টের ফসল একাধিক বার ভাসিয়ে নিয়ে গেছে ধলাই। বাগানের এই ছোট হাওরে প্রায় ৩ থেকে ৪ শত মানুষের জীবিকার এক মাত্র উৎস। কিন্তু গত আউস মৌসুমে হাওরের সব জমি তলিয়ে দেয় ধলাই নদীর পানি। আমন মৌসমে আবার কৃষকরা আশায় বুক বেধে চাষাবাদ শুরু করে কিন্তু আবার সব কিছু নিস্ব করে দেয় সর্বনাশা ধলাই। এতোকিছু হবার পরে কৃষকরা হার না মেনে বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋণ করে পূনরায় জমিতে ধান বপন করেছে। ধান বপন করলেউ দুশ্চচিন্তা তাদের পিছু ছারছে না কারন এখনো ধলায় নদীর বাধঁ ভাঙ্গা নদীর  পানি বারলেয় আবার তলিয়ে যাবে তাদের কষ্টের ফসল। এমন কি অনেক পূর্বে এই হাওর কে বন্যার হাত থেকে  রক্ষা করার জন্য ও প্রয়োজনীয় পানি সংরক্ষণের জন্য যে সুইজ গেট নির্মাণ করা হয়েছিল সেটাও বিলিন হয়ে গেছে। এলাকাবাসী দাবি  তাদের কষ্টের ফসল রক্ষার জন্য বাঁধ নির্মান এবং সুইচ গেইট টি নির্মানে যথাযথ কতৃপক্ষ সু দৃষ্টি দেন।