সদ্য সংবাদ

পুরাতন সংবাদ: May 2019

মৌলভীবাজারে বড়হাটে জঙ্গি অভিযান শুরু ।। ‘অপারেশন ম্যাক্সিমাস’

 index

মৌলভীবাজার :

মৌলভীবাজার  বড়হাট এলাকার জঙ্গি আস্তানায় ‘অপারেশন ম্যাক্সিমাস’ শুরু করেছেন সোয়াট সদস্যরা। এসময় ভেতর থেকে গুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার কথা জানায় সংশ্লিষ্ট সূত্র। শুক্রবার (৩১ মার্চ) সকালে ৯টা ৫২ মিনিটের দিকে অভিযান শুরু করেন সোয়াট সদস্যরা।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৩০ মার্চ) রাতভর এলাকাটি রেকি করে রাখা হয়। এদিকে বড়হাট জঙ্গি আস্তানায় সোয়াটের অভিযানকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ঢাকা-সিলেট পুরাতন মহাসড়কের দু’পাশে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। সড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে যান চলাচল সিমিত করা হয়েছে। সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে উৎসুক জনতাকে। ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে।

 

মৌলভীবাজারের নাসিরপুরে জঙ্গি আস্তানায় শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণের মাধ্যমে ৭ থেকে ৮ জঙ্গির আত্মহত্যা : ছিন্নভিন্ন মরদেহ : বড়হাট এলাকায় জঙ্গি আস্তানার সুয়াত অবস্থান করছে

DSC05190

এস এম উমেদ আলী॥ মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ফতেপুর এলাকার নাসিরপুরের জঙ্গি আস্তানার অপারেশন “হিট ব্যাক” এর প্রাথমিক কাজ শেষ হয়েছে। জঙ্গি আস্তানার বাড়িতে ৭-৮ জন জঙ্গি মারা গেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রেস বিফিংয়ে জানিয়েছেন কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম। জঙ্গি আস্তানার বাড়িতে ৭-৮ জন জঙ্গির ছিন্নভিন্ন মরদেহ পড়ে আছে। মৃত দেহ গুলো কষতবিক্ষত থাকায় নারী,পুরুষ ও শিশু কয়জন তা নিশ্চিত করে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। তবে ডেড বডি গুলো চিহ্নিতকরাসহ অনান্য আনুষাঙ্গিককাজ করছে ক্রাইমসিন ইউনিট। বুধবার সন্ধ্যায় সোয়াতের অভিযানের শুরুতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তারা স্বপরিবারে মৃত্যু বরণ করে এমনটিধারণা করছেন তারা। ৩০ মার্চ বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় ঘটনাস্থলের কাছেই মৌলভীবাজার সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়ন কমপ্লেক্সে প্রেস বিফিংয়ে কালে উপস্থিত ছিলেন পুলিশের সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি কামরুল আহসান, এডিশনাল ডিআইজি নজরুল ইসলাম, মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহজালাল ও অন্যান্য সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা।

অভিযানের শুরু থেকেই এই প্রথম তারা গণ্যমাধ্যমের কাছে আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘটনার বর্ণনা দেন। মনিরুল ইসলাম জানান, মৌলভীবাজারের নাসিরপুরের জঙ্গি আস্তানায় ড্রোন ব্যবহার করে আইইডি ও অন্যান্য বিস্ফোরক শনাক্ত করেন সোয়াট টিমের সদস্যরা। পরে প্রবেশ পথসহ বিভিন্ন স্থানে রাখা অবিস্ফোরিত গ্রেনেড ও বোমা নিস্ক্রিয় করে ভেতরে প্রবেশ করে সোয়াত টিম। নাসিরপুরে নিহত জঙ্গিরা নব্য জেএমবির বলেও ধারণা করছেন তারা।
মনিরুল ইসলাম আরও বলেন, আতিয়ামহলে অভিযানের সময় সংঘটিত জোড়া বিস্ফোরণের সূত্র ধরেই কাউন্টার টেরোরিজম এর গোয়েন্দারা এই আস্তানার সন্ধান পায়। প্রথমে বড়হাটের বাড়িটি চিহ্নিত হলে ওখান থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নাসিরপুরের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এছাড়া নাসিরপুরের এই আস্তানাটিকে জঙ্গিরা নিজেদের ‘হাইডআউট’ হিসেবে ব্যবহার করে আসছিলো বলেও জানান তিনি। গ্রামীণ জঙ্গি আস্তানার মধ্যে সিলেট বিভাগেই এটিই প্রথম। তবে ঘটনার সাথে সিলেটের আতীয়ার মহল, চট্রগ্রামের সিতাকুন্ড ও বিমানবন্দরে আত্মঘাতী বোমা বহনকারী যুবকের বোমার সাথে ওখানের বোমার মিল রয়েছে। এদিকে নাসিরপুরের অভিযান শেষ হওয়ার পর এখন সোয়াট টিমের সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে মৌলভীবাজার পৌর এলাকার বড়হাটের জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বৃহস্পতিবার অভিযান না হলে আজ শুক্রবার সকাল থেকে অভিযান হবে বলে তিনি জানান।

টাইগারদের টি-টোয়েন্টির দল ঘোষনা

 30-march-2017_pic-005

খেলাধুলা ডেস্ক ::
চলমান শ্রীলঙ্কা সফরে টেস্ট-ওয়ানডের পর দুই ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ দল। সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৪এপ্রিল কলম্বোর রানাসিংহে প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে। এরপর ৬ এপ্রিল একই মাঠে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় ম্যাচটি। টি টোয়েন্টি সিরিজকে সামনে রেখে আজ দল ঘোষনা করবেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রধান নির্বাচক এবং সাবেক টাইগার অধিনায়ক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু। টি-টোয়েন্টি সিরিজকে সামনে রেখে ভিন্ন পরিকল্পনার ছক কষছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। টি-টোয়েন্টি সিরিজে একজন অলরাউন্ডার পাঠানোর কথা ভাবছেন বলে জানিয়েছেন নান্নু। উল্লেখ্য, লঙ্কানদের বিপক্ষে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজ দিয়ে সফর শুরু করেছিলো বাংলাদেশ দল। প্রথম ম্যাচে লঙ্কানরা বড় ব্যবধানে জয় পেলেও দ্বিতীয় এবং শততম টেস্টে দুর্দান্ত জয় দিয়ে সিরিজটি ড্র করে টাইগাররা। এরপর ওয়ানডে সিরিজেও দুর্দান্ত সূচনা পায় মাশরাফি বিন মর্তুজার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ।

ডাম্বুলায় প্রথম ম্যাচে ৯০ রানের বিশাল জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও একই প্রত্যয় নিয়ে মঙ্গলবার (২৮শে মার্চ) মাঠে নেমেছিল তারা। তবে শেষ পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির কারণে দ্বিতীয় ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়েছে। ফলে বর্তমানে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজটিতে ১-০ তে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। আগামী ১লা এপ্রিল কলম্বোতে সিরিজ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে শেষ ম্যাচ খেলতে নামবে বাংলাদেশ।

কমলগঞ্জে মণিপুরী নববর্ষ উৎসব ‘চৈরাউবা’ উৎযাপন

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি॥

Pic-Kamalgonj-Monipuri-1বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে মৌলভীবাজারের সীমান্তবর্তী কমলগঞ্জ উপজেলার ৭নং আদমপুর ইউনিয়নের নয়াপত্তন গ্রামে কাংশং প্রাঙ্গণে মণিপুরীদের নববর্ষ উৎসব ‘চৈরাউবা কুম্মৈ’ এর বর্ণাঢ্য উদ্বোধন করা হয়েছে।
২৯ মার্চ বুধবার সকাল ১১টায় মণিপুরী নববর্ষ উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কবি সনাতন হামোম এর পরিচালনায় মোমবাতি প্রজ্জ্বলন, জাতীয় এবং দলীয় পতকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিনব্যাপী কর্মসুচীর শুভ উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এইচ তনুবাবু ও আদমপুর ইউপি সদস্য কে. মনিন্দ্র সিংহ। এর পর ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও উপকরণ নিয়ে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি আদমপুর বাজার প্রদক্ষিণ শেষে নয়াপত্তন গ্রামে কাংশং প্রাঙ্গনে এসে শেষ হয়। পরে মণিপুরী যুবক-যুবতীদের অংশগ্রহণে ঐতিহ্যবাহী ‘কাং খেলা’, কড়ি খেলা, বনদেবতার পূজো, ঐতিহ্যবাহী লোকনৃত্যের পরিবেশনা ‘থাবল চোংবী’ ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
এদিকে ২৯ মার্চ বুধবার সন্ধ্যায় মণিপুরী নববর্ষ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব জীবন বীমা কর্পোরেশন এর জেনারেল ম্যানেজার মো. আব্দুল আজিজ।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে বসবাসরত বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির অন্যতম মণিপুরীদের বর্ণময় সংস্কৃতির নানা বর্ণবৈচিত্র্যের অন্যতম হলো মণিপুরীদের নববর্ষ উৎসব ‘চৈরাউবা কুম্মৈ’। মণিপুরীদের নিজস্ব একটি বর্ষগণনারীতিও আছে। ‘মলিয়াকুম’ নামের এই চান্দ্র বর্ষের হিসেবে বুধবার (২৯ মার্চ) থেকে শুরু হয় ৩৪১৫ তম বর্ষ। মণিপুরী সনের নববর্ষের এই দিনে নানা ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান এবং ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া ও সংস্কৃতির বর্ণময় পরিবেশনার মাধ্যমে উদযাপিত হয় মণিপুরীদের নববর্ষ উৎসব ‘চৈরাউবা কুম্মৈ’। বহু জাতি, বহু সংস্কৃতির এই দেশে মণিপুরী জাতি তার সংস্কৃতির বর্ণবৈচিত্র্য নিয়ে আছে। ‘চৈরাউবা’ বা মণিপুরী নববর্ষ উৎসব তারই এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

মৌলভীবাজারে দুটি জঙ্গি আস্তানার সন্ধান লাভ, একটিতে ‘অপারেশন হিটব্যাক’

MB Pic-1

মৌলভীবাজার  সংবাদদাতা :
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার দুটি বাড়িতে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে অভিযান শুরু করেছে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও সোয়াট। এ অভিযানের নাম দেয়া হয়েছে অপারেশন হিট ব্যাক। রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ির গেইটের সামনে নিয়ে রাখা হয়েছে ফায়ার সার্ভিসের একটি গাড়ী ও একটি এ্যাম্বুলেন্স।
মঙ্গলবার রাত ২ টার দিকে জঙ্গি আস্তানা পুলিশ ঘেরাও করে রাখে। ভোররাত থেকে এ অভিযান শুরু হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে মৌলভীবাজার শহরের বড়হাট এলাকায় ও সদর উপজেলার ফতেপুর এলাকায় ঘেরাও করে রাখা দুটি বাড়ীর মালিক লন্ডনপ্রবাসী সাইফুর রহমান।
ফতেহপুর এলাকার জঙ্গি আস্তানার পাশে ভোর রাতে পুলিশ অবস্থান নেয়। সকাল ৭টার দিকে জেলা পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে এক দল পুলিশ ঐ বাড়িতে ঢুকার চেষ্টা করলে পুলিশকে লক্ষ করে বোমা ছুড়ে মারা হয়। পুলিশ পিছনে এসে গুলি ছুড়ে। এর পর থেকে ভেতর থেকে কয়েক দফা গুলি ও বোমা ছোড়া হয়েছে। এ পর্যন্ত দুই দিক থেকে থেমে থেমে গুলি হচ্ছে।
এদিকে বড়হাট সন্দেহ জনক জঙ্গি আস্তনা নির্মানাধিন তিন তলা ভবন পুলিশ ঘেরাও করে রেখেছে। এই এলাকা দিয়ে কাউকে যাতায়ত করতে দেয়া হচ্ছেনা। সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে একটি গুলির শব্দ শুনা যায়। তবে পুলিশ না জঙ্গিরা গুলি হরেছে সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গ্যাস ও বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। বড়হাটের জঙ্গি আস্থানা থেকে ফতেপুরের বাড়িটি প্রায় ২০ কিলোমিটার দুরত্ব।
উপস্থিত লোকজন জানান, মৌলভীবাজার-সিলেট সড়ক থেকে বাসাটির অবস্থান দেড়শ গজ ভেতরে। সরু গলি হওয়ায় সেখানে পুলিশ, র‌্যাব ও বিশেষ বাহিনীর লোকজন ছাড়া আর কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছেনা। বাইরে থেকে মানুষ গুলির ভেতরে গুলির শব্দ শুনতে পেয়েছেন। সারা জেলার পুলিশ ছাড়াও র‌্যাব পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, ডিজিএফআই পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছে। এদিকে মৌলভীবাজার শহরের প্রতিটি প্রবেশ মুখে পুলিশের চৌকি বসানো হয়েছে। শহরে প্রবেশমুখী যানবাহনে তল্লাশী করা হচ্ছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কোন বক্তব্য দেয়া হয়নি। পুরো শহর জুড়ে শুরু হয় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি নজরদারী। শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও প্রবেশ দ্বার গুলোতে মোতায়ন করা হয় পুলিশ ও র‌্যাব। সন্দেহ হলে চালানো হচ্ছে তল্লাশি। শহরের ঢাকা সিলেট সড়কের দু’পাশের দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুলো বন্ধ রয়েছে। মাইকে ঘোষণা হচ্ছে বাসার লোকজন যেন নিরাপদে বাসার ভিতরে অবস্থান করেন এবং বাসার ছাদে যাতে না উঠেন।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৌর এলাকার ৬নং ওয়ার্ড ও কুসুমবাগ এলাকা থেকে উপজেলা পরিষদের সম্মুখ পর্যন্ত ঢাকা-সিলেট পুরাতন মহাসড়কের উভয় পাশে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। এ ছাড়া ফতেপুরের জঙ্গি আস্থানার বাড়ির ২ কিলোমিটার জুড়েও ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
সকাল থেকে থেমে থেমে বোমা ও গুলির শব্দ শহরের বড়হাট ও সদর উপজলার খলিলপুর ইউনিয়নের ফতেপুরে জঙ্গি আস্থানায় শুনা গেলেও দূপুর ২টার পর এধরনের শব্দ শুনা যায়নি। এদিকে ফতেপুরের জঙ্গি আস্তানার বাড়ি ঢাকা থেকে আসা পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও সোয়টের একটি টিম সন্ধ্যার পর অভিযান শুরু করে রা ৮টা পর্যন্ত চলে। পরে রাত সাড়ে ৯ ঘটিকায় ঐ বাড়িতে কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শুনা যায়। বাড়ির গেইটের সামনে রাখা হয়েছে ফায়ার সার্ভিসের একটি গাড়ী ও একটি এ্যাম্বুলেন্স রাখা হয়েছে।
অপারেশন সমাপ্ত বলা যাচ্ছে না : মৌলভীবাজারের ফতেপুর ইউনিয়নের নাসিরপুরের বাগানবাড়ি জঙ্গি আস্তানা থেকে আর কোনো গুলির আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে না। ঘণ্টাখানেকের কিছু বেশি সময় সোয়াট টিমের অভিযানে রাত সাড়ে ৭টার কিছু পর থেকে গুলির শব্দ নেই।
বুধবার (২৯ মার্চ) সন্ধ্যায় সিলেট জোনের ডিআইজি কামরুল আহসান বলেন, অভিযান সমাপ্ত- একথা এখনই বলতে পারছি না। এর আগে বিকেলে ঢাকা থেকে সোয়াট টিম পৌঁছানোর পর ৬টার দিক থেকে অভিযান শুরু হয়।
মৌলভীবাজারে জঙ্গি আস্তানার সন্ধান আতিয়া মহল সূত্রে : সীতাকুণ্ড ও আতিয়া মহলে পাওয়া তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই জানা যায় মৌলভীবাজারের দুই জঙ্গি আস্তানার খবর। আগেই গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যের সত্যতা পায় পুলিশ।
পরে মঙ্গলবার (২৮ মার্চ) সকাল ১০টার মধ্যে সিলেট থেকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের ঊর্ধ্বতনরা সিলেট থেকে মৌলভীবাজারে এসে পৌঁছান। তার আগে সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নাসিরপুর ও বড়হাটের বাড়ি দু’টি ঘিরে রাখেন। রাত ২টায় পুলিশ সরাসরি অভিযানে নামে এবং জঙ্গি আস্তানা ঘিরে ফেলে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে যোগ দেয় র‌্যাবও। মঙ্গলবার সারাদিন অভিযানের পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই, ঘটনাস্থলের ভৌগলিক অবস্থান, প্রতিবেশীদের অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে অভিযানের পরিকল্পনা সাজানো হয়। এ পরিকল্পনা অনুযায়ী রাত দেড়টার মধ্যে আশপাশের সব অধিবাসীকে সরিয়ে নেওয়া হয়। পুলিশের এ বিশেষ তৎপরতা বুঝতে পারেনি জঙ্গিরা। অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানান।
মৌলভীবাজারের জঙ্গি আত্মসমর্পণের আহবান : জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানালে তারা গুলি ছুঁড়ে জবাব দেয়। সেখানে পুলিশ, র‌্যাব ছাড়াও সেনাবাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তা রয়েছেন। মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়র ফজলুর রহমান বড়হাট আবুশাহ দাখিল মাদ্রাসা গলিতে থাকা জঙ্গি আস্তানা এলাকা ঘুরে এসে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
মৌলভীবাজারের দুটি জঙ্গি আস্তানার ১৫ জন জঙ্গি রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ : মৌলভীবাজারের দুটি জঙ্গি আস্তানার একটিতে ৮ থেকে ১০ জন এবং আরেকটিতে ৪ থেকে ৫ জন জঙ্গি রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) ডিসি মহিবুল ইসলাম খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, তারা পুলিশের সহায়তায় রাত থেকে বাড়ি দুটি ঘেরাও করে রেখেছে। জঙ্গিরা তাদের ওপর গ্রেনেড ছুড়েছে, তারাও জবাবে পাল্টা গুলি চালিয়েছি। সোয়াত (কাউন্টার টেরোরিজমের বিশেষ ইউনিট) আসলে অভিযান চালানো হবে। ঢাকা থেকে সোয়াত টিম রওনা হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ধারণা করা হচ্ছে ওই দুটি আস্তানার জঙ্গিদের কাছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য রয়েছে। জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে ২৮ মার্চ মঙ্গলবার রাত থেকে দুটি বাড়ি ঘিরে রেখেছে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)। ২৯ মার্চ বুধবার সকাল থেকে নাসিরপুর গ্রামের জঙ্গি আস্তানা থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে তিনটি গ্রেনেড ছোড়া হয়েছে। এ ছাড়া দুটি আস্তানাতে গোলাগুলিও চলছে।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (রাত ১২টা) জানা গেছে মৌলভীবাজারের নাসিরপুরের ঐ ভবনে সোয়াট এর অভিযান রাত ১০টার স্থগিত করা হয়। মূলত আলোক স্বল্পতার কারণে রাতের বেলা ঐ ভবনে অভিযান পরিচালনা করা অনেকটাই ঝুঁকিপূর্ণ এ কারণে পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করে অভিযান স্থগিত করা হয়। আজ সকালে আবারও অভিযান শুরু হবে বলে জানা গেছে। তবে সোয়াট এর কয়েক ঘণ্টা অভিযানে ঐ বাড়িতে কেউ জীবিত রয়েছে কিনা তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কারণ ভেতরে সোয়াট বা অন্য কোন আইন শৃঙ্খলা বাহিনী প্রবেশের সুযোগ হয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে বাড়ির ভেতরে জঙ্গিদের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক থাকতে পারে।
অপরদিকে জঙ্গি সন্দেহে বড়হাটের ঐ বাড়িটিও ঘিরে রেখেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। যে ভাবে তারা বাড়িটি ঘিরে রেখেছে তাতে করে সেখান থেকে কোন জঙ্গির পালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।

শ্রীমঙ্গলে অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার

2017-03-29--15_47_31
ঝলক দত্ত
শ্রীমঙ্গল ভাড়াউড়া চা বাগান ও ভুরভুরিয়া চা বাগান এর মধ্যবর্তী ছড়া হতে শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশ পরিদর্শক জসিম উদ্দিন, এস আই মোঃ রফিকুল ইসলাম আজ বুধবার (২৯ মার্চ) সকালে অজ্ঞাতনামা এক যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার করেছেন। মৃতদেহের কানের কিছু অংশ শিয়ালে খেয়ে ফেলেছে, মুখে আঘাতের চিহ্ন ছিল। পুলিশের ধারনা অতিরিক্ত মদ্যপানে যুবকের মৃত্যু হয়েছে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য মৌলভীবাজার মর্গে প্রেরন করা হয়েছে। এখনো তার নাম পরিচয় জানা যায়নি।

মৌলভীবাজারে দুই বাড়ি ঘিরে অভিযান : গুলাগুলি, বোমা বিস্ফোরন

2017-03-29--09_38_24
এস এম উমেদ আলী
মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে দুটি বাড়ি ঘিরে অভিযান শুরু করেছেন পুলিশ সদস্যরা।
আজ বুধবার ভোররাত থেকে এ অভিযান শুরু হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে মৌলভীবাজার শহরের বরহাট এলাকায় লন্ডনপ্রবাসীর একটি বাড়ি ঘিরে রেখেছেন পুলিশ সদস্যরা। এ এলাকায় গ্যাস ও বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে সদর উপজেলার ফতেহপুর এলাকার একটি বাড়ি জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে ঘিরে রাখা হয়েছে। সেই বাড়ি থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়েছে। পুলিশও জঙ্গিদের দিকে গুলি ছুড়েছে। এখনো গোলাগুলি চলছে। বোমা বিস্ফোরন হয়েছে।
মৌলভীবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অকিল উদ্দিন জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে দুই বাড়িতে অভিযানের বিষয়টি জানিয়েছেন। তিনি জানান, এক বাড়ি থেকে আরেক বাড়ির দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার।
সিলেটের দক্ষিণ সুরমা এলাকার জঙ্গি আস্তানা আতিয়া মহলে অভিযান সমাপ্ত ঘোষণার পরপরই একই বিভাগের জেলা মৌলভীবাজারে অভিযান শুরু হয়েছে। সিলেটের ঘটনায় চার জঙ্গি নিহত হয়। তাদের মধ্যে তিন পুরুষ ও এক নারী রয়েছে। এ ঘটনায় দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন। স্প্লিন্টারের আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) দুই কর্মকর্তা।

(ফেসবুক থেকে নেয়া)

শ্রীমঙ্গলে ৪ প্রতিষ্ঠানকে ভোক্তা অাইনে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা

ঝলক দত্ত

2017-03-29--07_37_45
শ্রীমঙ্গলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অাইনে ৩ টি বেকারিসহ ৪ টি প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন অভিযোগে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।  মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মৌলভীবাজারের সহকারি পরিচালক মোহাম্মদ সেলিম অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করেন। এদের মধ্যে কর্নফুলী বেকারীকে ২০ হাজার টাকা, সুরুচি বেকারীকে ২০ হাজার টাকা,মদিনা বেকারীকে ২৫ হাজার টাকা ও অালি গ্রুপকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মৌলভীবাজারের সহকারি পরিচালক মোহাম্মদ সেলিম জানান, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যদ্রব্য তৈরি, প্যাকেটজাতকরনের নিয়ম-কানুন না মানা ও অধিক মূল্য নির্ধারণসহ বিভিন্ন অভিযোগে এ জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহত্তর সিলেটে প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু কমলগঞ্জে

unnamed-135-300x237

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট 
১৯৭১ সালের হানাদার পাকিস্তানী সেনাবাহিনির একটি দল ২৭ মার্চ বিকালে অতর্কিতে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগরে এসে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে মিছিলকারী বাঙ্গালীদের হামলা চালায়। এসময় মানুষজন দৌড়ে পালিয়ে গেলেও ৮০ বছর বয়সী বৃদ্ধ যাদুকর সিরাজুল ইসলাম কলার ছিলায় পা ফসকে গিয়ে মাটিতে পড়ে গেলে তখনই পাক সেনারা তাাঁর উপর ঝাপিয়ে পড়ে ব্যয়নট নিয়ে খুচিয়ে ও পরে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করে। জবাবে পরদিন ২৮ মার্চ স্থানীয় মুক্তি পাগল প্রতিরোধকারী বাঙ্গালীলা পরিকিল্পত হামলা চালিয়ে একজন ক্যাপ্টেনসহ নয়জন পাক সেনাকে হত্যা করেছিল। ২৮ মার্চ থেকেই বৃহত্তর সিলেটের প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু হয় কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর থেকে।

১৯৭১ সালেল ২৭ মার্চ পাকবাহিনীর অতর্কিত হামলার সময় একজন বয়ষ্ক লোককে নির্মম এ হত্যার ঘটনায় রাত থেকে মুক্তিযোদ্ধারা ও মুক্তি পাগল মানুষজন পরিকল্পিত প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তুলেন। স্থানীয় আওয়ামলীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল গফুর, মোজাহিদ ক্যাপ্টেন মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন সাজ্জাদুর রহমান, মোজাহিদ ক্যাপ্টেন মুক্তিযোদ্ধা মোজাফ্ফর আহমদ, স্থানীয় ছাত্রনেতাসহ যুবকদের নিয়ে শমশেরনগর বাজারের তিনটি দালানে অ্যাম্বুশ স্থাপন করে পরিকল্পিত হামলার চিন্তা করেন। সেই হিসাবে প্রতিরোধকারী বাঙ্গালীরা মরহুম আমজাদ আলী ও মরহুম হাজী সজ্জাদুর রহমানের পিক আপ নিয়ে চাতলাপুর সীমান্ত ফাঁড়ি থেকে ইপিআরের (বর্তমান বিজিবি) অস্ত্রসহ বাঙ্গালী সদস্যদের নিয়ে ও স্থানীয় লাইসেন্সধারী বন্দুক নিয়ে স্থানীয় গঙগারাম তেলীর দোতলা, স্টেশন রোডের আমান উল্যার দোতলা ও বর্তমান পুলিশ ফাড়ির দোতলায় তিনটি শক্ত এ্যাম্বুশ করা হয়। শমশেরনগর রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় সড়কের উপর খালি মালগাড়ির একটি বগি রেখেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছিল।

২৮ মার্চ  বিকাল তিনটার দিকে ক্যাপ্টেন গোলাম রসুলসহ একটি পিক আপে পাক সেনা বাহিনীর একটি দল শমশেরনগর হয়ে ভানুগাছ গিয়ে সন্ধ্যায় ফেরার পথে শমশেরনগরে প্রবেশ করলে তিনটি এ্যম্বুশ থেকে আচমকা এক সাথে গুলি ছোড়লে ক্যাপ্টেন গোলাম রসুলসহ ঘটনাস্থলেই ৯জন পাক সেনা মারা যায়। দুইজন পালিয়ে একটি বাসায় আত্ম গোপন করলে সেখান থেকে ধরে এনে মুক্তি পাগল বিক্ষোব্দ বাঙ্গালীরা তাদের হত্যা করে। এ ঘটনার পর পাক সেনারা শমশেরনগর সরকারী ডাক বাংলোয় একটি শক্ত ঘাটি স্থাপন করে। আর প্রতিরোধ আন্দোলনকারীরা সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের ত্রিপুরায় প্রবেশ করেন।

unnamed
পরবর্তীতে স্থানীয় রাজাকার আল বদর, আল শামস ও মুসলিম লীগ নেতাদের প্রধান আরিফ মুন্সী ও তার হুকুম পালনকারী কামিল মিয়া চৌকিদারের সহায়তায় পাক সেনারা গ্রামে গ্রামে গিয়ে বাড়ি থেকে নিরস্ত্র নিরিহ বাঙ্গালীদের ধরে এনে ডাক বাংলোর সামনের বট গাছের ডালে ঝুলিয়ে ও একটি নির্যাতন কক্ষে শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে পরে শমশেরনগর বিমান বন্দরের রানওয়ের উত্তর পশ্চিম কোণের বধ্যভূমিকে গুলি করে হত্যা করে।

পাক সেনারা সোনাপুর গ্রামের প্রতাপ পাল পিযুষ পাল, ঘোষপুর গ্রামের ছেলে ছাত্রলীগ নেতা মোবাশ্বির আলী, কৃষ্ণপুর গ্রামের আওয়ামলীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আব্দুল গফুরের বাবা আব্দুল গনি, দুই ভাই আব্দুস শুকুর, আব্দুন নুর, শ্রীসূর্য্য গ্রামের রমেশ চন্দ্র দাস, যোগেশ চন্দ্র দাস, কৃপেশ রঞ্জন দত্ত, পতনউষারের আপ্তাব খান, আখতার খান, কেছুলুটি গ্রামের রুস্তুম আলী, রামপুরের খোকা মল্লিক ও পাখি মল্লিকসহ চৈত্রঘাট, মুন্সীবাজার, কুলাউড়া, কমলগঞ্জ বিভিন্ন এলাকা থেকে নিরিহ অসংখ্য বাঙ্গালীকে শমশেরনগর বধ্যভূমিতে হত্যা করেছিল।

২৮ মার্চ শমশেরনগর প্রতিরোধ আন্দোলনে অংশ নেওয়া মুক্তিযোদ্ধা খালেকুর রহমান বলেন, সে  সময়ের আন্দোলন পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল তাদের কাঁঠের দোতলা ঘর ইরফান কুটির। তাছাড়া বাবা হাজী সজ্জাদুর রহমান পিক আপ দিয়ে চাতলাপুর সীমান্ত ফাঁড়ি থেকে অস্ত্রসহ বাঙ্গালী ইপিআর সদস্যদের এনেছিলেন। রাজাকার প্রধান ও শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান আরিফ মুন্সী তাদের পরিবারের সবার নাম পাক সেনাদের হাতে তুলে দিলে বাধ্য হয়ে স্বপরিবারে ভারতে চলে যাওয়ায় পাক সেনাদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন।

শমশেরনগর ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল হাই বলেন, ১৯৭১ সালের ২৮ মার্চ বাংলাদেশে সর্ব প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তুলে শমশেরনগরে একজন ক্যাপ্টেনসহ ৯জন পাক সেনাকে মুক্তিযোদ্ধা হত্যা করেছিল। যাহা ছিল বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক সেনাদের উপর প্রথম প্রতিরোধ আন্দোলন। তার জবাবেই পরবর্তীতে স্থানীয় রাজাকার, আল বদর ও আল শামসের সহায়তায় পাক সেনারা বিভিন্ন গ্রামে হানা দিয়ে নিরিহ মানুষজনকে ধরে এনে ডাকবাংলোর বট গাছে ও নির্যাতন কক্ষে নির্যাতন করে পরে বিমান বন্দরের বধ্যভূমিতে হত্যা করেছে। আসলে সঠিক হিসাব আজও করা যায়নি। তবে অসংখ্য বাঙ্গালীকে পাক সেনারা শমশেরনগর বিমান বন্দরের বধ্য ভূমিতে হত্যা করেছে। সেই স্বীকৃতি হিসাবে বাংলাদেশ সরকার শমশেরনগরে একটি বধ্যভূমি স্মৃতি সৌধ ও সারা দেশে সম্মুখ সমরের স্মৃতি স্বরুপ একটি স্মৃতিসৌধ শমশেরনগর বিমান বন্দর এলাকায় স্থাপন করেছেন।

পতনউষার ইউনিয়নের শ্রীসূর্য্য গ্রামের শহীদ যোগেশ চন্দ্র দাসের ছেলে নারায়ন দাস বলেন, তাদের গ্রামের রাজাকার খলিলুর রহমানের ঈশারায় পাক সেনারা এপ্রিল মাসের এক রাতে বাবা, কাকাসহ অনেককেই ধরে নিয়ে ডাক বাংলোয় আটিকয়ে কয়েক দিন নির্যাতন করেছে। পরে বিমান বন্দরের রানওয়ের বধ্যভূমিতে গুলি করে হত্যা করেছে।

সে সময়ের প্রত্যক্ষদর্শী সতিঝির গাঁও গ্রামের সিদ্দিকুর রহমান বলেন, দূর থেকে দেখেছেন প্রতিদিনই কোন না কোন গ্রাম থেকে নিরিহ বাঙ্গালীদের ধরে এনে শমশেরনগর ডাক বাংলোর নির্যাতন কক্ষে ও বটগাছে ঝুলিয়ে নির্যাতন করেছে পাক সেনারা। পরে নির্যাতিতদের হাত পা ও চোখ বেঁধে জিপে তুলে বিমান বন্দরের রানওয়েতে নিয়ে গেছে। দূর থেকে শুধুই গুলির শব্দ শুনতেন। ভয়ে কেউ গিয়ে আর লাশে কোন খবর করতে পারেনি।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় শমশেরনগর ডাক বাংলোয় পাক সেনাদের একটি শক্ত ঘাটি স্থাপন করে বটগাছে ঝুলিয়ে ও একটি নির্যাতন কক্ষে ধরে আনা নিরিহ বাঙ্গালীদের শারীরিক নির্যাতন করতো। নির্যাতনের পর শমশেরনগর বিমান বন্দরের বধ্যভূমিতে গুলি করে হত্যা করেছে। এ ঘটনার দুঃসহ স্মৃতি নিয়ে ৪৫ বছর ধরে নিরব স্বাক্ষী হিসাবে দাঁড়িয়ে আছে শমশেরনগর ডাক বাংলো আর দেড় শতাধিক বছর বয়সী মহিরুহ বট গাছটি।

সিলেটের শিববাড়ীর আতিয়া মহলে বিস্ফোরক দ্রব্য শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয়ে ড্রোন

171315_1

সিলেট : সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকায় আতিয়া মহলে বিস্ফোরক দ্রব্য শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করতে ড্রোনসহ উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করছে সেনাবাহিনী। মঙ্গলবার সেনাবাহিনীর দায়িত্বশীল একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

সূত্রটি জানিয়েছে, ড্রোন ও দূরনিয়ন্ত্রিত প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভবনে এলোপাতাড়ি পড়ে থাকা গ্রেনেড ও বিস্ফোরক দ্রব্য শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করার কাজ চলছে। আতিয়া মহলের যেখানে-সেখানে অবিস্ফোরিত অবস্থায় হাতে তৈরি গ্রেনেড ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। এ ধরনের গ্রেনেড খুব বিপজ্জনক। বিশেষ করে যদি পিন খোলা অবস্থায় কোনো গ্রেনেড পড়ে থাকে, তাহলে যেকোনো সময় বিস্ফোরিত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সেগুলো শনাক্ত ও উদ্ধার করা জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। তাই ড্রোন ও এ ধরনের দূরনিয়ন্ত্রিত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। সকাল থেকে আতিয়া মহলে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো দলের অভিযান চলছে। অভিযান চলাকালে বেলা একটার দিকে চারটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। সকালে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার জেদান আল মুসা জানান, আতিয়া মহলের ভেতরে ঢুকেছে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো দল। সেখানে বিস্ফোরক দ্রব্য শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করার কাজ চলছে।