সদ্য সংবাদ

পুরাতন সংবাদ: May 2019

মৌলভীবাজারে উন্নয়ন হলে গোটা দেশ উপকৃত হবে – শিল্পমন্ত্রী

amu-bg20161230214520-300x158

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, মৌলভীবাজারে উন্নয়ন হলে গোটা দেশ উপকৃত হবে। কারণ পর্যটনঅধ্যুষিত এ জেলা খুবই সম্ভাবনাময় একটি জেলা। এখানে পর্যটন, চা, মাছ ও আগর শিল্পের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এ জেলার উন্নয়নের প্রতি সরকারের বিশেষ নজর রয়েছে।
শুক্রবার (৩০ ডিসেম্বর) রাত ৮টার দিকে দি মৌলভীবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির আয়োজনে তিন দিনব্যাপী বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী উৎসব ও ব্যবসায়ী সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল সোনার বাংলা গড়ার। জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার সে স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন-ভারতের ত্রিপুরার বাণিজ্য, শিক্ষা, শিল্প ও আইনমন্ত্রী শ্রী তপন চক্রবর্তী, কলকাতার পশ্চিমবঙ্গের সমবায়মন্ত্রী অরূপ রায়, সাবেক চিফ হুইপ, সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ ও মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দা সায়রা মহসীন প্রমুখ।

তিন দিনব্যাপী এ উৎসব ও ব্যবসায়ী সম্মেলনে শ্রীহট্ট ইকোনোমিক জোন, চা শিল্প ও পর্যটন শিল্প ইত্যাদির সম্ভাবনাময় বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে।

ব্যবসার ক্ষেত্রে দু-দেশের মধ্যে আইনের কোন প্রতিবন্ধকতা থাকবেনা- প্রধান বিচারপতি ।। রেল লাইন যতদ্রুত চালু হবে তত দ্রুত দু’দেশের ব্যবসা বাণিজ্য এগিয়ে যাবে -বাণিজ্য, শিক্ষা ও আইন মন্ত্রী

6000

কমলকুঁড়ি রিপোট ।।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, ভারতীয় যারা এসেছেন তাদেরকে আহ্ববান জানাচ্ছি, আপনারা এখানে বিনিয়োগ করেন। অন্য দেশের ব্যবসায়ীরা এ দেশে ব্যবসার ক্ষেত্রে কোন ধরনের আইনি জটিলতা থাকলে সেটা আমি দেখবো।
২৯ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে মৌলভীবাজারে তিন দিনব্যাপী বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী উৎসব ও ব্যবসায়ী সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অথিতির বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি আরো বলেন বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী উৎসব ও ব্যবসায়ী সম্মেলন উভয় দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরোও সূদূঢ় করবে। ব্যবসার ক্ষেত্রে দু-দেশের মধ্যে আইনের কোন প্রতিবন্ধকতা থাকবেনা। এগিয়ে যাবে দু-দেশের অর্থনীতি। বিশেষ করে মৌলভীবাজারের শেরপুরে স্থাপনকৃত শ্রীহট্ট ইকোনমিক জোনে শিল্প-কারখানা স্থাপন করে বেকারত্ব দূর করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের বাণিজ্য, শিক্ষা ও আইন মন্ত্রী শ্রী তপন চক্রবর্তী বলেন আখাউড়া- আগরতলা রেল সংযোগের কাজ আমরা ইতো মধ্যে উভয় দেশের দিক থেকে হাতে নিয়েছি। রেল লাইন স্থাপনের ক্ষেত্রে ভারত সরকার ও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত সম্পন্ন করার চেষ্ঠা চলছে। রেল লাইন যতদ্রুত চালু হবে তত দ্রুত দু’দেশের ব্যবসা বাণিজ্য এগিয়ে যাবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা এবং ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের বাণিজ্য, শিক্ষা ও আইন মন্ত্রী শ্রী তপন চক্রবর্তী প্রথমে স্থানীয় শহীদ মিনারে পুষ্প স্তবক অর্পন করে শহীদদের শ্রদ্ধা জানান। পরে দুই দেশের জাতীয় সংগীতের সাথে পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে মৈত্রী উৎসবের উদ্বোধন করেন অতিথিরা।
দি মৌলভীবাজার চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি সভাপতি মোঃ কামাল হোসেন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনার শ্রী হর্ষ বর্ধন শ্রীংলা, এনবিআর চেয়ারম্যন নজিবুর রহমান, কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগরে সাংগঠনিক সম্পাদক এডঃ মিছবা উদ্দিন সিরাজ, পুলিশের সিলেট রেঞ্জের ডি আইজি কামরুল আহসান, জেলা প্রশাসক মোঃ তোফায়েল ইসলাম, পুলিশ সুপার শাহ্ জালাল, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্য অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়র ফজলুর রহমান প্রমূখ।

মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ নির্বাচনে যারা বিজয়ী হলেন তারা হচ্ছেন

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট ।।

1471630714-3

মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মোঃ আজিজুর রহমান (চশমা) ৩৪২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থী এম এম শাহীন (আনারস) পেয়েছেন ২৮৯ ভোট। এছাড়া এম এ রহিম শহিদ (মোটরসাইকেল) পেয়েছেন ২৫৩টি, শাহাবুদ্দিন সাবুল (প্রজাপতি) ৫৭টি, বকসি ইকবাল আহমেদ ৫টি, সোহেল আহমদ (তালগাছ) ২টি ভোট পেয়েছেন।
সাধারণ সদস্য পদে ১ নং ওয়ার্ডে আবু আহমদ হামিদুর রহমান (ঘোড়ি) ০, ২ নং ওয়ার্ডে শহীদুল আলম শিমুল (ক্রিকেট ব্যাট), ৩ নং ওয়ার্ডে আজিম উদ্দিন (বৈদ্যুতিক পাখা), ৪ নং ওয়ার্ডে মো. বদরুল ইসলাম(হাতি), ৫ নং ওয়ার্ডে সেলিম আহমদ (তালা), ৬ নং ওয়ার্ডে মো. আব্দুল মানিক (বেহালা), ৭ নং ওয়ার্ডে এম এ আহাদ (টিউবয়েল) ৮ নং ওয়ার্ডে রওনক আহমদ (বৈদ্যুতিক পাখা), ৯ নং ওয়ার্ডে মো. আতাউর রহমান (উটপাখি), ১০ নং ওয়ার্ডে মো. মামুনুর রশীদ চৌধুরী (তালা), ১১ নং ওয়ার্ডে হাসান আহমদ জাবেদ (তালা), ১২ নং ওয়ার্ডে মো. মশিউর রহমান (তালা ), ১৩ নং ওয়ার্ডে মো. বদরুজ্জামান সেলিম (টিউবয়েল), ১৪ নং ওয়ার্ডে মো. হেলাল উদ্দিন (তালা), ১৫ নং ওয়ার্ডে মো. মুর্শেদুর রহমান (তালা) বিজয়ী হয়েছেন।
সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ১নং ওয়ার্ডে (১,২ ও ৩) জুবেদা ইকবাল (ফুটবল), ২নং ওয়ার্ডে (৪,৫ ও ৬) শিরিন আক্তার চৌধুরী মুন্নি (মাইক), ৩ নং ওয়ার্ডে (৭, ৮ ও ৯) রাকিবা সুলতানা (দোয়াত কলম), ৪ নং ওয়ার্ডে (১০,১১ ও ১২) সৈয়দা জেরিন আক্তার (টেবিল ঘড়ি), ৫ নং ওয়ার্ডে (১৩, ১৪ ও ১৫) নং ওয়ার্ড থেকে তফাদার রিজওয়ানা ইয়াসমিন (বই) বিজয়ী হয়েছেন।

কমলগঞ্জে মৌচাষে নীরব বিপ্লব : বছরে চাষীদের আয় অর্ধ কোটি টাকা

moduchas-pic-2
কমলকুঁড়ি রিপোর্ট ॥
প্রথমে কোন ধরনের প্রশিক্ষণ কিংবা সরকারী আর্থিক সহযোগীতা ছাড়াই নিজেদের স্বল্প পুঁজি খাটিয়ে দরিদ্র চাষীরা মধু উৎপাদন শুরু করলেও বর্তমানে বিসিক ও বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণ নিয়ে নিজেদের স্বাবলম্বী হিসাবে গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। এতে করে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার তিন শতাধিক চাষী মধু চাষ করে নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছেন।
৫/৬ বছর আগেও মধু চাষের বিষয়টি যে উপজেলার চাষীদের কেউ কল্পনাও করেনি অথচ আজ সেই চাষীরাই তাদের উৎপাদিত মধু বাজারজাত করে বছরে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা আয় করছেন। সরকারী পর্যায়ে পরিকল্পিত উদ্যোগ নিলে এ উপজেলা হয়ে উঠতে পারে মধুচাষের অন্যতম একটি এলাকা।
মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর  ইউনিয়নের কাঠালকান্দি গ্রামের আজাদ মিয়া নামে এক ব্যাক্তি প্রথম মধু চাষের  সূচনা করেন। বর্তমানে  আদমপুর ও পার্শ্ববর্তী ইসলামপুর ইউনিয়নের মধ্যভাগ কালারায়বিল, ছয়ঘরি, কাঠালকান্দি, কোনাগাও, কানাইদাশী, রাজকান্দি, আধকানি, পুরান-বাড়ি, নয়াপত্তনসহ প্রায় ৩০টি গ্রামের ৪ শতাধিক চাষী মধু চাষে জড়িয়ে পড়েছেন। এখানকার চাষীদের উৎপাদিত এসব মধু মৌলবীবাজার, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি হচ্ছে। এমন কি প্রবাসীরাও মধু কিনে বিদেশ নিয়ে যাচ্ছেন। বলতে গেলে এ উপজেলায় মধু চাষে বিপ্লব ঘটেছে।
দেশের বিভিন্ন জায়গায় রাজ মধু, দাশকুলি মধু, মাছি মধু, ঘামি মধু ও মধু মালতি এই ৫ জাতের মধুর চাষাবাদ হলেও এ উপজেলায়  হলেও কমলগঞ্জে সবচেয়ে বেশী চাষাবাদ হচ্ছে দাশকুলি মধুর বাক্স (এ্যাপিস সেরেনা) স্থাপনের মাধ্যমে। প্রতিটি বাড়িতে ২/৩টি করে মধু উৎপাদনকারী কাঠের বাক্স স্থাপন করা আছে। এসব বাক্স থেকে বছরে তিন থেকে চারবার মধু সংগ্রহ করেন চাষীরা। স্বল্প খরচে এক একটি বাক্স থেকে ২৫/৩০ কেজি আহরণ করা হয়। বছরে সংগৃহীত মধু বিক্রি করে চাষীরা জনপ্রতি ৩০/৫০ হাজার টাকা আয় করছেন। সে হিসাবে বছরে প্রায় ৩০ হাজার কেজি মধু উৎপাদন করছেন তারা। যার বাজার মূল্য প্রায় অর্ধ কোটি টাকা। আর এই মধু চাষের কারনে তাদের ঘরে ঘরে এখন আর অভাব অনটন নেই। প্রতিটি পরিবারে ফিরে এসেছে স্বচছলতা। প্রথমে কোন ধরনের প্রশিক্ষন ছাড়াই নিজেদের প্রচেষ্টা মধু চাষে প্রত্যেকেই সাফল্যের মুখ দেখায় এসব গ্রামের নারীরাও এখন নিজেদের জড়িয়ে নিয়েছেন এতে। তারাও এখন ব্যস্ত দিন কাটান। শুধু তাই নয় নিজেদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে তারা গড়ে তুলেছেন ‘কমলগঞ্জ উপজেলা মধু চাষী উন্নয়ন সমিতি’ নামে একটি সংগঠন । বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিসিক) মৌলভীবাজার এর গত ১ বছর ধরে মধুচাষীদের আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ শুরু করে। প্রতিটি ব্যাচে ১০ জন করে প্রশিক্ষণার্থী ১৫ দিনের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। এছাড়া বিসিকের উদ্যোগে কয়েকটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
আলাপকালে কমলগঞ্জ উপজেলার প্রথম মধু চাষী কাঁঠালকান্দি গ্রামের আজাদ মিয়া জানান, বছর কয়েক আগে একদিন তিনি রাজকান্দি পাহাড়ে গিয়ে নিজের জন্য মধু সংগ্রহের সময় হঠাৎ ধরা পড়ে রানী মৌমাছি। তিনি বইয়ের সেই কবিতার কথা- মৌমাছি মৌমাছি কোথাও যাও নাচি নাচি’ চরণকে মনে করেই রানী মৌমাছিকে ধরে একটি গাছের ডালে রেখে দিতেই হাজারো মৌমাছি উপস্থিত হয়। সেটাকে তিনি বাড়ি নিয়ে এসে একটি বাক্সে রেখে দেন। কয়েক দিন পর দেখেন মধু আহরণ হয়েছে। তখন থেকে মধু সংগ্রহ শুরু করেন এবং ক্রমশ তা নেশায় ও পেশায় পরিনত হয়ে উঠে। তিনি এখন সম্পূর্ণ মধু চাষের উপর নির্ভরশীল। বর্তমানে তাঁর ২০টি বাক্সে মধু চাষাবাদ চলছে। এই ২০টি বাক্স ছাড়াও পাহাড় থেকে মৌমাছি ও বিভিন্ন ব্যক্তির বাক্স থেকে মধু সংগ্রহ করে বছরে তিন থেকে চার লাখ টাকা আয় হয়। তার এই মধু চাষের বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে অন্যান্যরা মধু চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেন। তিনি বলেন, মধু চাষাবাদের চেয়ে উন্নতমানের আর কোন চাষাবাদ নেই। অল্প খরচেই লাখ লাখ টাকা উপার্জন করা সম্ভব। মধু চাষাবাদে শুরুতে শুধুমাত্র একটি বাক্সে মৌমাছি সংগ্রহে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা খরচ ব্যতিত আর কোন খরচ নেই। এক একটা বাক্সে বছরে চার বারে ২৫ থেকে ৩০ কেজি মধু সংগ্রহ করা যায়। বাজারে প্রতি কেজি মধুর দাম ৮শ’ টাকা হিসাবে বছরে প্রায় ৪০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। এমন লাভের আশায় গত তিন বছরে মধু চাষী সংখ্যা বেড়েছে। আশানুরুপ মধু উৎপাদিত হওয়ায় ক্রমশ: বাড়ছে তাদের মৌমাছি চাষের পরিধি। কম্পিউটার ব্যবসায়ী সুমন দাস ও গৃহিনী রিনা বেগম জানান, বিসিক থেকে মৌ চাষের ওপর প্রশিক্ষণ নেন। ২ বাক্সের মাধ্যমে তারা এ্যাপিস সেরেনা জাতের এ মাছি পালন শুরু করেন ।
কথা হয় চাষী বাবুল মিয়া, মাওলানা মছব্বির, জমসেদ মিয়াসহ অনেকেই বলেন, কোন ধরনের প্রশিক্ষন ছাড়াই নিজেদের চেষ্টায় তারা মধু চাষ করছেন। সরকারী উদ্যোগে চাষীদের প্রশিক্ষণ ও তাদের উৎপাদিত মধু বাজারজাত হলে যেমন আরও অধিক উৎপাদন সম্ভব হতো তেমনি বাজারমূল্য আরও বেশী পেতেন। কমলগঞ্জে মধু চাষী উন্নয়ন সমিতির সভাপতি শিক্ষক আলতাফ মাহমুদ বাবুল বলেন, এলাকায় মধু চাষের এমন নীরব বিপ্লব ঘটছে। বর্তমানে বিসিক ও কয়েকটি ব্যাংকের মাধ্যমে সরকারী সহযোগীতা পাচ্ছেন মধুচাষীরা। এই এলাকায় মধু চাষের একটি উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। পুঁজির ব্যবস্থা, প্রশিক্ষণ ও সরিষার চাষাবাদ বৃদ্ধি করা হলে মধু চাষে আরো বিপ্লব হবে বলে দাবী করেন।
কমলগঞ্জের ক্ষদ্র ও কুটির শিল্প উদ্যোক্তা উন্নয়ন পরিষদ এর সংগঠক সভাপতি, লেখক-গবেষক আহমদ সিরাজ বলেন, পরিকল্পিত উদ্যোগ নিলে এই এলাকা মধু চাষের চিহ্নিত জোন হিসাবে গড়ে তোলা যাবে। বিশেষতঃ আদমপুর, ইসলামপুর ইউনিয়নে মধু চাষে একটা ব্র্যান্ড তৈরী হতে পারে। এখানে একটি স্থায়ী মধু চাষ উন্নয়নে বিসিক বা সরকারের উদ্যোগে স্থায়ী কেন্দ্র স্থাপন করা যেতে পারে।

থার্টি ফার্স্ট নাইটে সারা দেশে পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে : আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক

কমলকুঁড়ি ডেস্ক  :
1483095273
আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ জঙ্গিবাদ পছন্দ করে না। প্রত্যেক শ্রেণী-পেশার মানুষ জঙ্গিবাদ নির্মূলে সোচ্চার হয়েছে।
জনগণের শক্তিতে বলীয়ান হয়েই আমাদের পুলিশ তাদের উৎখাতে কাজ করে যাচ্ছে। এখনও যারা ধরা পড়েনি তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে। বাংলার মাটি থেকে জঙ্গিবাদ মূলোৎপাটনে কাজ করে যাচ্ছে পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে ময়মনসিংহ পুলিশ সুপার কার্যালয়ের নতুন ভবন ও অফিসার মেসের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও সিসি ক্যামেরা নেটওয়ার্ক এবং মিডিয়া সেন্টার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। আইজিপি আরও বলেন, শিশু-কিশোর ও নারীরা যেন জঙ্গিবাদে জড়িয়ে না পড়ে সেজন্য অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। শনিবার থার্টি ফার্স্ট নাইটে সারা দেশে পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলেও জানান আইজিপি ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব সেক্রেটারি বাবুল হোসেন, ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এহতেশামুল আলম প্রমুখ।

পতনঊষারে বিদ্যুৎষ্পৃষ্ট হয়ে এক শিশুর মৃত্যু

পতনঊষার প্রতিনিধি :

index
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে বিদ্যুৎষ্পৃষ্ট হয়ে সাজু মিয়া (১২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহষ্পতিবার সকাল ১০টায় পতনঊষার ইউনিয়নের শ্রীমতপুর গ্রামে। জানা যায়, রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের দুরুদ মিয়ার ছেলে সাজু মিয়া (১২) তার নানাবাড়িতে বেড়াতে আসলে বাঁশ ঝাড়ে বসে খেলা করছিল। এসময় বাঁশ পাশ্ববর্তী বৈদ্যুতিক তারে পড়ে সে বিদ্যুৎষ্পৃষ্ট হয়ে মারা যায়। পতনঊষার ইউপি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী তওফিক আহমদ বাবু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। খবর পেয়ে মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম প্রকৌশলী মোবারক হোসেন সরকার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

কমলগঞ্জে পিএসসি ও জেএসসি’র ফল প্রকাশ

index

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট ।।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত জেএসসিতে ৪০২ জন এবং পিএসসিতে ২২৯ জন ও এবতেদায়িতে ৩ জন জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। জেএসসিতে পাশের হার শতকরা ৯২.৩৪ ভাগ, জেডিসিতে ৯৪.৭৯ ভাগ এবং পিএসসিতে শতকরা ৯৮.৫৭ ভাগ ও এবতেদায়িতে ৯০ ভাগ। জেএসসিতে ৪২০৭ জনের মধ্যে ৩৮৮৫ জন, জেডিসিতে ৩৮৪ জনের মধ্যে ৩৬৪ জন এবং পিএসসিতে ৫৮৪০ জনের মধ্যে ৫৭৫৭ জন ও এবতেদায়িতে ২৬০ জনের মধ্যে ২৩৪ জন পাশ করেছে।
জেএসসিতে শমশেরনগর বিএএফ শাহীন কলেজে ৮৬ জন জিপিএ-৫ সহ শতভাগ পাস করেছে। এছাড়া শতভাগ পাশ করা প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে-তেতইগাঁও রশিদউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়, অভয়চরন উচ্চ বিদ্যালয়, ইউনিয়ন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, ডালুয়াছড়া জুনিয়র উচ্চ বিদ্যালয়।

কমলগঞ্জে দুই সহস্রাধিক দু:স্থ, অসহায় শীতার্ত লোকের মধ্যে প্রধান বিচারপতির শীতবস্ত্র বিতরণ

chif-justice-pic-1
কমলকুঁড়ি রিপোর্ট ।।
বাংলাদেশের প্রধান বিচারপ্রতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা (এসকে সিনহা) নিজ গ্রামে দু:স্থ, অসহায় শীতার্ত লোকের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছেন। ললিত মোহন-ধনবতি মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন এর উদ্যোগে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০ টায় দয়াময় সিংহ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে দুই সহ¯্রাধিক হতদরিদ্র লোকের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব কম্বল বিতরণ করেন।
কমলগঞ্জ উপজেলা সদরের পাশে আলীনগর ইউনিয়ন তিলকপুর গ্রামে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার পিতা ও মাতার নামে গঠিত “ললিত মোহন-ধনবতি মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন” এর উদ্যোগে গরিব, অসহায়, হতদরিদ্রদের মধ্যে প্রতি বছর শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় বৃহষ্পতিবার দয়াময় সিংহ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে চা শ্রমিক, মণিপুরী ও বস্তির অসহায়, গরিব দু:খী, হতদরিদ্র শীতার্ত দুই সহ¯্রাধিক লোকের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। এ সময়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা বলেন, প্রকৃতই গরিব, অসহায়, দু:স্থ, হতদরিদ্র শীতার্তদের জন্য ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। জনপ্রতিনিধিরাই কোন ধরনের কার্পণ্য না করে প্রকৃত গরিব ও হতদরিদ্ররা যাতে এসব শীতবস্ত্র পায় সেজন্যই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সুবিধা বঞ্চিত এসব লোকের পাশে সবাইকে এগিয়ে আসা উচিত। তিনি আরও বলেন, মানুষের চিকিৎসা সেবার জন্যও ললিত মোহন-ধনবতি মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন এর উদ্যোগে আগামীতে এখানে চিকিৎসা ক্যাম্প করারও উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। যাতে দরিদ্র মানুষ চিকিৎসা সুবিধাও গ্রহণ করতে পারে।
শীতবস্ত্র বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম, পুলিশ সুপার মো. শাহজালাল, কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যাপক মো. রফিকুর রহমান, কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. সিদ্দেক আলী, কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. জুয়েল আহমদ, আলীনগর ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুল হক বাদশা, মাধবপুর ইউপি চেয়ারম্যান পুষ্প কুমার কানু, আদমপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আবদাল হোসেন সহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি, শিক্ষকবৃন্দ।

নির্বাচনে মৌলভীবাজার থেকে রাজস্ব আয় ৯ লক্ষ ১৮ হাজার ৫০০ টাকা

download-2

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট :::

আসন্ন জেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটার তালিকা সংযুক্ত সিডি বিক্রি করে ৬ জন চেয়ারম্যান, ৯২ জন সাধারণ সদস্য ও ২৩ জন সংরক্ষিত মহিলা প্রার্থীর কাছ থেকে মৌলভীবাজার জেলায় সরকারের রাজস্ব বাবত আয় হয়েছে ৯ লক্ষ ১৮ হাজার ৫০০ টাকা। নির্বাচন অফিস সূত্রে মতে, নির্বাচনে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহের সময় চেয়ারম্যানদের ৫৬ হাজার, সাধারণ সদস্য এলাকা বেধে ইউনিয়ন প্রতি ৫”শত টাকা এবং পৌরসভার ওয়ার্ড প্রতি ৫”শত টাকা হারে ও সংরক্ষিত মহিলা প্রার্থীদের ক্ষেত্রেও পুরুষ সদস্যদের ন্যায় একই হারে ভোটার তালিকা সংযুক্ত সিডি ক্রয় করতে হয়েছে। নির্বাচনে মনোনয়ন জমাদানকারী ৬ জন চেয়ারম্যান, ৯২ জন সাধারণ সদস্য ও ২৩ জন সংরক্ষিত মহিলা সদস্যের কাছ থেকে সরকারের রাজস্ব বাবত আয় হয়েছে ৯ লক্ষ ১৮ হাজার ৫”শত টাকা।

জানা যায়, ১নং ওয়ার্ডে ৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা মিলে ৫ জন প্রার্থীর কাছ থেকে জন প্রতি ৬হাজার ৫ শত টাকা হারে আয় হয়েছে ৩২ হাজার ৫”শত টাকা। ২নং ওয়ার্ডে ৪টি ইউনিয়নে ৬ জন প্রার্থীর কাছ থেকে জন প্রতি ২ হাজার হরে আয় হয়েছে ১২ হাজার টাকা। ৩নং ওয়ার্ডে ৪টি ইউনিয়নে ৫ জন প্রার্থীর কাছ থেকে জন প্রতি ২ হাজার হারে আয় হয়েছে ১০ হাজার টাকা। ১, ২, ৩ নং সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ওয়ার্ডে জন প্রতি ১০ হাজার ৫শত টাকা হারে ২ জন প্রার্থীর কাছ থেকে আয় হয়েছে ২১ হাজার টাকা। ৪নং ওয়ার্ডে ৪টি ইউনিয়নে ৬ জন প্রার্থীর কাছ থেকে জন প্রতি ২ হাজার হারে আয় হয়েছে ১২ হাজার টাকা। ৫নং ওয়ার্ডে ৫টি ইউনিয়নে ৯ জন প্রার্থীর কাছ থেকে জন প্রতি ২ হাজার ৫ শত টাকা করে আয় হয়েছে ২২ হাজার ৫ শত টাকা।

৬নং ওয়ার্ডে ৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ৬ হাজার ৫ শত টাকা করে ৬ জন প্রার্থীর কাছ থেকে আয় হয়েছে ৩৯ হাজার টাকা। ৪, ৫, ৬নং সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ওয়ার্ড ১১ হাজার করে ৭ জন প্রার্থীর কাছ থেকে আয় হয়েছে ৭৭ হাজার টাকা। ৭নং ওয়ার্ডে ৫টি ইউনিয়নে ২ হাজার ৫ শত টাকা করে ৭ জন প্রার্থীর কাছ থেকে আয় হয়েছে ১৭ হাজার ৫ শত টাকা। ৮নং ওয়ার্ডে ৫টি ইউনিয়নে ২ হাজার ৫ শত টাকা করে ৮ জন প্রার্থীর কাছ থেকে আয় হয়েছে ২০ হাজার টাকা। ৯নং ওয়ার্ডে ৫টি ইউনিয়নে ২ হাজার ৫ শত টাকা করে ৮ জন প্রার্থীর কাছ থেকে আয় হয়েছে ২০ হাজার টাকা। ৭, ৮, ৯নং সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ওয়ার্ডে ৩ জন প্রার্থীর কাছ থেকে ৭ হাজার ৫ শত টাকা হারে আয় হয়েছে ২২ হাজার ৫শত টাকা। ১০নং ওয়ার্ডে ৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ৬ হাজার ৫ শত টাকা করে ৪ জন প্রার্থীর কাছ থেকে আয় হয়েছে ২৬ হাজার টাকা। ১১নং ওয়ার্ডে ৫টি ইউনিয়নে ২ হাজার ৫ শত টাকা করে ৩ জন প্রার্থীর কাছ থেকে আয় হয়েছে ৭ হাজার ৫ শত টাকা। ১২নং ওয়ার্ডে ৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ৬ হাজার ৫ শত টাকা করে ৮ জন প্রার্থীর কাছ থেকে আয় হয়েছে ৫২ হাজার টাকা। ১০, ১১, ১২নং সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ওয়ার্ডে ১৫ হাজার ৫ শত টাকা করে ৫ জন প্রার্থীর কাছ থেকে আয় হয়েছে ৭৭ হাজার ৫ শত টাকা। ১৩নং ওয়ার্ডে ৫টি ইউনিয়নে ২ হাজার ৫ শত টাকা করে ৬ জন প্রার্থীর কাছ থেকে আয় হয়েছে ১৫ হাজার টাকা। ১৪নং ওয়ার্ডে ৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা মিলে ৬ হাজার ৫ শত টাকা করে ৩ জন প্রার্থীর কাছ থেকে আয় হয়েছে ১৯ হাজার ৫ শত টাকা। ১৫নং ওয়ার্ডে ৫টি ইউনিয়নে ২ হাজার ৫ শত টাকা করে ৪ জন প্রার্থীর কাছ থেকে আয় হয়েছে ১০ হাজার টাকা। ১৩, ১৪, ১৫নং সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ওয়ার্ডে ৬ জন প্রার্থীর কাছ থেকে ১১ হাজার ৫ শত টাকা হরে আয় হয়েছে ৬৯ হাজার টাকা।

জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের শেষ “ট্রাম্পকার্ড”

budget-1-1

বিশেষ প্রতিনিধি :

রাত পোহালেই জেলা পরিষদ নির্বাচন। এখন প্রতিনিয়তই প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচার প্রচারণার ফাঁকে চলছে এমন কানা কানি ফিঁসফাঁস। শেষ মুর্হুতে এক ভোটের মূল্য উঠছে পঞ্চাশ থেকে লক্ষ টাকা। এখবর অন্য প্রার্থীর কানে পৌঁছালে তা বেড়ে হচ্ছে দ্বীগুন। গেল ২০ ডিসেম্বর থেকে প্রার্থীরা ভোটারদের এমন তালিকা প্রস্তুত করছেন। কার কেমন চাহিদা এমনটা যাচাই বাচাই শেষে চূড়ান্ত করা হচ্ছে তাদের নামের তালিকা। যে ভোটার নিজ থেকে আগ্রহী তাকে শর্ত সাপেক্ষে ইতিমধ্যেই তার লেনদেন করা হয়েছে সম্পন্ন। আর যারা নিজ থেকে এমন ক্রয় বিক্রয় কার্যক্রমে এগিয়ে আসছেন না তাদের জন্য রয়েছে বিকল্প ব্যবস্তা। কোন ভোটারকে কার মাধ্যমে গিলানো যাবে টোপ খোঁজ নিয়ে বের করা হচ্ছে এমন লোক। যোগ্য লোক পাওয়া গেলেই তখন পর্দার অন্তরালে ওই লোকটি দিয়েই সারা হচ্ছে ভোটদানের চুক্তিনামা আর আর্থিক লেনদেন। চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রার্থীরা সমান তালে চালাচ্ছেন এমন ভোট ক্রয় কার্যক্রম।এতে ভোটারা যেমন খুশি হচ্ছেন তেমনি অনেক ভোটারও হচ্ছেন বিব্রত। তবে ভোটের জন্য এ টাকা লেন দেনের কাজ চলছে খুব সুক্ষভাবে।সবার অগোচরে প্রার্থী আর ভোটারের বিশ্বস্ত মাধ্যমে।এখন এমন অতি গোপনীয় লেনদেনের বিষয়টি চাউর হচ্ছে জেলা জুড়ে সর্বমহলে। এর কারণ কোন কোন প্রার্থী লেনদেনে এতটুকু অগ্রসর হয়েছেন এখন অনেকটা বেপরোয়া ভাবে ভোটারকে সরাসরিই অফার করছেন। জুট ঝামেলায় না গিয়ে ভোটের মূল্য জানতে চাইছেন। এতে অনেক ভোটার ক্ষোভ ও অপমানে বিষয়টি নিয়ে তার সহকর্মী বা নিকটজনকে খুব সাবধানে বললেও পরে তা একান থেকে ওকানে হয়ে যাচ্ছে সবার মুখে মুখে। নির্বাচনের দিনক্ষন এগিয়ে আসায় এখন প্রার্থী ও অধিকাংশ ভোটারদের মধ্যে এমন মনোভাবই কাজ করছে। ‘বড় লোকের বড় নির্বাচন টাকা ছাড়া জেতা যায় না ইলেকশন’। কয়েকজন ইউপি সদস্যের কাছে বিষয়টির সত্যতা যাচাই করতে জানতে চাইলে তারা প্রথমে এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।পরে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন ভাই এটা সত্য এই নির্বাচনে কয়েকজন চেয়ারম্যান প্রার্থী যেমন টাকা দিয়ে ভোট কিনছেন তেমনি সদস্য প্রার্থীরাও একই কায়দায় ভোট ক্রয়ের চেষ্ঠা অব্যাহত রেখেছেন। আমরা যেমন কয়েক শ’ বা কয়েক হাজার ভোটারকে নানা ভাবে ম্যানেজ করে (টাকা দিয়ে ভোট কিনে) এ জায়গায় এসেছি আর এই নির্বাচনে ভোটার হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছি এর পেছনে কি ছিল। তারা প্রশ্ন রেখে আবার রসিকথায় উত্তরে জানালেন টাকা। আমরা যখন টাকা দিয়ে ওখানে এসেছি তাহলে উনারাও টাকা ছাড়া কিভাবে আমাদের ভোট পাবে। তারা বলেন ভাই ওরা নির্বাচিত হলে আমাদের মত তাদের এত দ্বায়বদ্ধতা থাকবেনা। কারণ আমাদের মত তৃণমূল পর্যায়ে তাদের কাজ থাকবেনা। আর নির্বাচিত হলে উনাদের কাছে আমরাও ভিড়তে পারবনা এমনটিই রীতি। তাই আমাদের মত অনেকেই এই সুযোগ হাত ছাড়া করছেন না। তারা স্বীকার করে বলেন যদিও কাজটি ঠিক হচ্ছেনা কিন্তু এমনটিই নির্বাচনী রেওয়াজ। এটাই হলো নির্বাচনী ব্যয়ের অন্যতম খাত। যতই হলফ নামায় ব্যয়ের খাত লিখেন এটাই কিন্তু অলিখিত ব্যয়ের খাত। তারা জানালেন নির্বাচনী আগের রাত পর্যন্ত চলবে এমন ভোট কেনা বেচার লেনদেন। যে যত বেশী টাকা দিবে শেষমেস তাকেই বিবেকের তাড়নায় ভোট দেবেন তারা। এক্ষেত্রে উপজেলা, পৌরসভা ও ইউপি সদস্যদের চাইতে চেয়ারম্যানদের টাকার ডিমান্ড বেশী বলে তারা জানালেন। তবে সব প্রার্থী যে টাকা দিচ্ছেন এমনটি যেমন সঠিক নয় তেমনি সব ভোটারাও যে টাকা খাচ্ছেন সেটিও ঠিক নয়। দু’জন চেয়ারম্যান প্রার্থীর ঘনিষ্টজন ও নির্বাচনী ব্যয় দেখভালের দ্বায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সাথে আলাপে প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও পরে জানাগেল ভোটের জন্য ভোটারদেরকে চা নাস্তার টাকা দিচ্ছেন। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক চেয়ারম্যান প্রার্থীর ঘনিষ্ট ব্যক্তি জানালেন নির্বাচনে ভোট না দিয়ে যাতে ওই প্রার্থীর টাকা হাতিয়ে না নিতে পারেন এ জন্য আগে ভোটের বায়না (অগ্রিম) অর্ধেক টাকা দিচ্ছেন চুক্তি করে। আর বাকি টাকা নির্বাচনে ওই প্রার্থীকে ভোট দিয়ে সিলযুক্ত ব্যালেটের ছবি মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় ধারণ করে নিয়ে এসে দেখালেই চুক্তির বাকী টাকা সাথে সাথে লোক মারফতে করা হবে পরিশোধ। প্রতারণার হাত থেকে বাচঁতে প্রার্থীরা ভোটারদের টাকাদানে এমন অভিনব পদ্বতি অবলম্বন করছেন।প্রার্থী ও ভোটারদের এমন অভিনব পদ্বতিতে ভোট ক্রয় বিক্রয়ের মনোভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর তাদের মাধ্যমে এ জেলার উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড ও সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে সুশিল সমাজ ও সচেতন মহলে। তারা সংশ্লিষ্ট সকলকে এ বিষয়ে সর্তক হওয়ার উদাত্ত আহবান জানিয়েছেন। জেলা নির্বাচন অফিস সুত্রে জানা যায় মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৬ জন,সাধারন সদস্য পদে ৮৬ ও সংরক্ষিত (মহিলা) সদস্য পদে ২২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। নির্বাচনে ২১ পদে মোট ১১৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন। ৬৭টি ইউনিয়ন, ৫টি পৌরসভায় ও ৭টি উপজেলায় মোট (নির্বাচকমন্ডলীর সদস্য) ভোটার ৯৫৬ জন। জেলার ৭টি উপজেলার ১৫টি ওয়ার্ডে ১৫টি কেন্দ্রে ২৮ ডিসেম্বর ভোটাররা তাদের মূল্যবান ভোট প্রদান করবেন। এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরীক (সুজন)এর জেলা সভাপতি ডা: সাদিক আহমদ বলেন প্রার্থী ও ভোটারদের সেবা দেওয়া ও পাওয়ার মনোভাবে এগুলো পরিহার করা উচিত। ভোটে নাগরীকদের গনতান্ত্রিক অধিকার বাস্তবায়নে সৎ ও যোগ্যপ্রার্থী নির্বাচনে টাকা যাতে বাধা না হয়ে দাঁড়ায় এজন্য তিনি প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এ বিষয়ে জানতে জেলা প্রশাসক ও রির্টানিং কর্মকর্তা মো:তোফায়েল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন ভোটের জন্য আর্থিক লেনদেনের সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ পাইনি। তবে মুঠোফোনে বা অনান্য মাধ্যমে যেটি জানতে পেরেছি যে ভোটের দিন মুঠোফোনের ক্যামেরায় সিলযুক্ত ব্যালেটের ছবি ভোটাররা প্রার্থীদের দেখাবেন সে সুযোগ থাকবেনা।আমরা প্রয়োজন হলে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে ভোট কেন্দ্রে ভোটার প্রবেশ করাব। এই অভিযোগ ছাড়াও যদি অনান্য কোন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আমাদের কাছে আসে তা হলে প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।