সদ্য সংবাদ

পুরাতন সংবাদ: May 2019

বাংলাদেশ জিতে নিল ১০৮ রান: এ যেন এক ঐতিহাসিক জয়

নিজস্ব প্রতিবেদক :

2be5f7d2c0b5b6cd969a0b3f190fa009x479x278x24-1
ঢাকা টেস্টের তিন দিনেই ইংল্যান্ডকে হারালো বাংলাদেশ। সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট বাংলাদেশ জিতে নিলো ১০৮ রানে। এতে দুই ম্যাচের সিরিজ ১-১ এ সমতায় শেষ হলো। শেষ ইনিংসে জয়ের জন্য ২৭৩ রানের টার্গেট সামনে নিয়ে ইংল্যান্ড ১৬৪ রানে অলআউট হয় মেহেদি হাসান মিরাজ ও সাকিবের স্পিন ঘুর্ণিতে। মেহেদি ৬ ও সাকিব ৪ উইকেট নেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয় এটি। এর আগে ৯ টেস্টের সবগুলো হারে বাংলাদেশ।
২৭৩ রান সামনে নিয়ে দৃঢ় সূচনা করে ইংল্যান্ড। ২৩ ওভারে বিনা উইকেটে তারা ১০০ রান তুলে চা পানের বিরতিতে যায় তারা। ম্যাচের নাটাই তখন ছিল ইংল্যান্ডের হাতে। কিন্তু বিরতির পর সে নাটাই নিজেদের কাছে করে নিয়েছে বাংলাদশে। বাংলাদেশকে দুর্দান্তভাবে ম্যাচে ফিরিয়েছেন মেহেদি হাসান মিরাজ। বিরতির পর মিরাজের প্রথম বলে ব্যক্তিগত ৫৬ রানে ফেরেন বেন ডাকেট। পরের ওভারের সাকিবের প্রথম বলে ফেরেন জো রুট (১)। এক পর্যায়ে ২ উইকেটে ১২৪ রান করে ফেলে। কিন্তু এরপর মিরাজ এক ওভারে জোড়া আঘাত হানেন। ওভারের দ্বিতীয় বলে গ্যারি ব্যালান্সকে ৫ রানে ফেরানোর পর মঈন আলীর রানের খাতা খোলার আগেই ফেরান। এরপর মিরাজ ফেরান অধিনায়ক অ্যালিস্টার কুক (৫৯) ও জনি বেয়ারস্টোকে (৩)। মিরাজ নেন পাঁচ উইকেট। এরপর সাকিব এক ওভারে ফেরান বেন স্টোকস, আদিল রশিদ ও আনসারিকে ।
এর আগে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ২৯৬ ও প্রথম ইনিংসে ২২০ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। জবাবে প্রথম ইনিংসে ২৪৪ রানে অলআউট হয় সফরকারী ইংল্যান্ড। ২৪ রানে পিছিয়ে থেকে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ১৫২ রানে দ্বিতীয় দিন শেষ করে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ তখনো এগিয়ে ছিল ১২৮ রানে। ইমরুল কায়েস অপরাজিত ছিলেন ৫৯ রানে। আজ তৃতীয় দিন বাংলাদেশ আরো ১১৭ রান যোগ করেছে। ইমরুল কায়েস আজ ১৯ রান যোগ করে ৭৮ রানে ফেরেন। সাকিব আল হাসানের সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে গড়েন ৪৮ রানে জুটি। সাকিব উইকেটে দৃঢ়তা দেখাচ্ছিলেন। কিন্তু মাহমুদুল্লাহ’র মতো তিনিও ফিফটি মিস করে ফেরেন। গতকাল দিনের শেষ বলে চার মেরে ফিফটি পূরণ করতে গিয়ে ৪৭ রানে ফেরেন মাহমুদুল্লাহ। আর আজ সাকিব ফিরলেন ৪১ রানে। সাকিব ফেরার ৬ বল পর ব্যক্তিগত ৯ রানে ফেরেন মুশফিক। এরপর সাব্বির ফেরেন ১৫ রানে। এরপর মিরাজ অল্প রানে ফেরার পর শুভাগত হোম ২৫ রানে অপরাজিত থাকেন।

কমলগঞ্জে আব্দুন নুর-নুরজাহান চৌধুরী মেধাবৃত্তি ৩৯ জনকে ২৫ হাজার টাকা, সনদ ও ক্রেষ্ট প্রদান

11111111111111
কমলকুঁড়ি রিপোর্ট ॥
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ৩৯ জন শিক্ষার্থীকে আব্দুন নুর-নুরজাহান চৌধুরী মেধাবৃত্তি-২০১৫ এর সনদ ও ক্রেষ্ট প্রদান করা হয়েছে। শনিবার বিকাল ৪টায় কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আব্দুন নুর-নুরজাহান চৌধুরী কল্যাণ ট্রাষ্টের আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃত্তি প্রদান করেন। ট্রাষ্টের উপদেষ্টা চেয়ারম্যান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক আলহাজ্ব আব্দুন নুর মাষ্টারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো: জুয়েল আহমদ, রহিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইফতেখার আহমেদ বদরুল। ট্রাষ্টের সমন্বয়কারী মিজানুর রহমান মিষ্টারের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন একুশে টেলিভিশনের মৌলভীবাজার প্রতিনিধি বিকুল চক্রবর্তী, কমলগঞ্জ প্রেসক্লাব সহসভাপতি প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ, সাধারণ সম্পাদক শাহীন আহমদ. কমলকুঁড়ি পত্রিকার সম্পাদক পিন্টু দেবনাথ, শিক্ষক ও কবি নিখিল কান্তি গোস্বামী, বৃত্তিপ্রাপ্ত ৮ম শ্রেণির ছাত্রী নাদিয়া আক্তার প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে অতিথিরা আব্দুন নুর-নুরজাহান চৌধুরী মেধাবৃত্তি পরীক্ষায় ৪র্থ, ৫ম ও ৮ম শ্রেণীর ৩৯ শিক্ষার্থীকে সর্বমোট ২৫ হাজার টাকা, সনদ ও ক্রেষ্ট প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক সমাজ কল্যাণ তথা কমলগঞ্জের শিক্ষার উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করায় আব্দুন নুর-নুরজাহান চৌধুরী কল্যাণ ট্রাষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।

আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা

 কমলকুঁড়ি ডেস্ক:

আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে আওয়ামী লীগের নতুন কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়। এর আগে শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত দলের সভাপতিমণ্ডলীর সভায় দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করা হয়।

পূর্ণাঙ্গ তালিকা দেখতে ক্লিক করুন

শনিবার আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ইমেইলে নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটি গণমাধ‌্যমে পাঠানো হয়। সেই সঙ্গে ৩৮ সদস‌্যের উপদেষ্টা পরিষদ, ১১ সদস‌্যের সংসদীয় বোর্ড, ১৯ সদস‌্যের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মনোনয়ন বোর্ডও ঘোষণা হয়।

নতুন সম্পাদকমণ্ডলীর ২২ জনের সঙ্গে বন ও পরিবেশ সম্পাদক পদে দেলোয়ার হোসেন এবং উপ-প্রচার সম্পাদক পদে আমিনুল ইসলামের নাম বুধবার ঘোষণা করা হয়। সম্পাদকমণ্ডলীর আরও চারটি পদের কারও নাম এখনও ঘোষণা হয়নি। কার্যনির্বাহী সদস‌্য ২৮ জন। এর মধ‌্যে শীর্ষে রয়েছেন আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহর নাম। তারপরেই রয়েছেন মমতাজ উদ্দিন, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ও কামরুল ইসলাম।

কমলগঞ্জের অধ্যাপক রফিকুর রহমান আ’লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট :

নতুন কমিটিতে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য হলেন মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোঃ রফিকুর রহমান।

শনিবার বাংলাদেশ আ’লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে গণমাধ্যমে প্রেরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করে।

অধ্যাপক রফিকুর রহমান এক প্রতিক্রিয়ায় দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের কে অভিনন্দন,শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন,যত দিন বেঁচে থাকবেন সৎ ও নিষ্ঠার সাথে জাতিক জনক বঙ্গবন্ধু ও জননেত্রী শেখ হাসিনার আদর্শের আ’লীগের রাজনীতি করে যাবেন।

প্রবীন এ নেতা কেন্দ্রীয় কমিঠিতে স্থান পাওয়ায় জেলা সদর,কুলাউড়া, কমলগঞ্জ,বড়লেখা, জুড়ী, শ্রীমঙ্গলের আ’লীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতা কর্মীরা অভিনন্দন ও মুজিবীয় শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।পুরো জেলা দলীয় অফিসে মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ উল্লাস করছেন।

উল্লেখ্য,ক্লিন ইমেজের অধিকারী জৈষ্ঠ্য আ’লীগ নেতা ও উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক রফিকুর রহমান বাংলাদেশ আ’লীগের কমলগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারন সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন।

মৌলভীবাজারে চার্টার্ড লাইফ ইন্সুরেন্স কোঃ লিঃ এর ২০ তম শাখা উদ্বোধন

 চার্টার্ড লাইফ ইন্সুরেন্স কোঃ লিঃ এর ২০ তম শাখা মৌলভীবাজারে উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে মৌলভীবাজারের বড়হাট জাইমা কমপ্লেক্সে প্রধান অতিথি হিসাবে আনুষ্ঠানিকভাবে শুভ উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের সাবেক চিফ হুইপ ও চার্টার্ড লাইফ ইন্সুরেন্স কোঃ লিঃ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব উপাধ্যক্ষ মো: আব্দুশ শহীদ এমপি। কোম্পানীর নির্বাহী কর্মকর্তা মো: শহীদুল ইসলামের সভপতিত্বে ও কোম্পানীর সচিব হোসাইন সুমনের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন আব্দুল মতিন এমপি, জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি নেছার আহমদ, কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক রফিকুর রহমান, মৌলভীবাজার পৌর মেয়র মো: ফজলুর রহমান, সাবেক এমপি হোসনে আরা ওয়াহিদ, কমলগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি এম, মোসাদ্দেক আহমেদ মানিক, কোম্পানীর স্পন্সর ডাইরেক্টর মো: ইমতিয়াজ আহমেদ বুলবুল, জিল্লুর রহমান জিল্লু, মোনায়েম খান, কুলাউড়া আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক  রফিকুল ইসলাম রেনু, শ্রীমঙ্গল পৌর আওয়ামীলীগ সাধারণ সসম্পাদক অর্ধেন্দু কুমার দেব, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আজমল হোসেন, আব্দুল হান্নান, শামসুদ্দিন সানু প্রমুখ।

কমলগঞ্জে সাহিত্যরত্ন আশরাফ হোসেন এর ১২৪ তম জন্মবার্ষিকী পালিত

14875076_1129553403777920_318494954_n-1

14875076_1129553403777920_318494954_n

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট :
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের মুন্সীবাজারে সাহিত্যরত্ন আশরাফ হোসেন এর ১২৪ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
শুক্রবার ২৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় সাহিত্যরত্ন আশরাফ হোসেন স্মৃতি পরিষদের আয়োজনে ও মিডিয়া পার্টনার কমলকুঁড়ি পত্রিকার সহযোগীতায় পরিষদের সভাপতি আব্দুল হাদী তুহিন এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক হোসেন জুবায়ের এর সঞ্চালনায় অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কবি শহীদ সাগ্নিক, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও সাংবাদিক আব্দুল হান্নান চিনু, কমলকুঁড়ি পত্রিকার সম্পাদক পিন্টু দেবনাথ, কবি শহীদুর রহমান সায়েদ, সংগীত শিল্পী অমলেশ শর্মা, কবি আব্দুল হাই ইদ্রিছী, মাও: জাকারিয়া রহমান, মাও: নজরুল ইসলাম, মাও: তারেক আহমদ প্রমুখ।
বক্তরা আশরাফ হোসেন এর কর্মজীবন সম্পর্কে আলোকপাত করেন এবং তাঁর শুদ্ধ চেতনা ধরে রাখার আহবান জানান।

কমলগঞ্জের আদমপুরে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা

শাব্বির এলাহী:

download-1

২৮ অক্টোবর শুক্রবার মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে সাড়ে বারো হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বিকালে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মাহমুদুল হক আদমপুর বাজারে বিভিন্ন মাছ বিক্রেতাকে ওজনে কম দেওয়ার অপরাধে মোট সাড়ে সাত হাজার টাকা এবং একটি রেস্টুরেন্টে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশের জন্য পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেন। ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনাকালে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন, নির্বাচন কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী পনিরুজ্জামান ও কমলগঞ্জ থানার পুলিশ উপ পরিদর্শক সনক কুমার সাহা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,ব্যবসায়ীদেরকে ডিজিটাল বাটখারা ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছেন অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কমলগঞ্জে বীর শ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

hamidur-rahman-pic-1

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট :
২৮ অক্টোবর শুক্রবার বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমানের ৪৫ তম শাহাদত বার্ষিকীতে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ধলই বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমান স্মৃতিকমপ্লেক্সে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শ্রদ্ধাঞ্জলী নিবেদন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।সকাল ১১টায় শ্রদ্ধাঞ্জলী নিবেদন শেষে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহমুদুল হকের সভাপতিত্বে ও সাংবাদিক শাহিন আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব অধ্যাপক রফিকুর রহমান,বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল মুনিম তরপদার,পৌর মেয়র জুয়েল আহমেদ,উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী পনিরুজ্জামান, বীরশ্রেষ্ট শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমান সীমান্ত ফাঁড়ির বিজিবি সুবেদার আব্দুল করিপ্সাপ্তাহিক কমলগঞ্জ সংবাদ সম্পাদক সানোয়ার হোসেন ও কমলগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি এম,এ,ওয়াহিদ রুলু । অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা কুতুব খাঁ,আব্দুল হামিদ,সাংবাদিক শাব্বির এলাহী,মোস্তাফিজুর রহমান ও আসহাবুর ইসলাম শাওন।
অন্যদিকে কমলগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি এম, মোসাদ্দেক আহমেদ মানিক এর নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ বীরশ্রেষ্ট সিপাহী হামিদুর রহমান এর স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

20161028_160221-1

১৯৭১ সালের এই দিনের ভোর বেলা মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের ধলই সীমান্ত চৌকিতে পাক হানাদার বাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হন বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমান । তার রক্তে সিক্ত হয়েছিল কমলগঞ্জ। স্বাধীন বাংলার জন্য তাঁর সর্বোচ্চ ত্যাগ নিজের জীবন বিলিয়ে দেওয়ায় বাঙ্গালী তাঁকে বীরশ্রেষ্ঠ উপাধিতে ভূষিত করে। ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার খোরদা খালিশপুর গ্রামের আক্কাছ আলী মন্ডল ও কায়ছুন্নেছার সাহসী সন্তান ছিলেন হামিদুর রহমান।
জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধের ১১ টি সেক্টরের মধ্যে ৪ নং সেক্টর ছিল মেজর জেনারেল সি আর দত্তের অধীনে। সেটির একটি সাব সেক্টর হলো ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কমলপুর। সেই সেক্টর থেকে ২৪ অক্টোবর শেষ রাত্র হতে ২৮ অক্টোবর ভোর পর্যন্ত কমলগঞ্জ উপজেলার ধলই সীমান্তে ইপিআর, পরবর্তীতে বিডিআর ও বর্তমান বিজিবির ফাঁড়ির সামনে থাকা পাক সেনাদের সাথে তুমুল যুদ্ধ চলে মুক্তিবাহিনীর। ধলই সীমান্তে আক্রমন কারী মুক্তিবাহিনীর পাটুনের এ্যাসল্ট অফিসার ছিলেন মেজর (অবঃ) কাইয়ুম চৌধুরী। আর সিপাহী হামিদুর রহমান ছিলেন কাইয়ুম চৌধুরীর রানার। চারদিকে চা বাগান, মাঝখানে ধলই সীমান্ত চৌকি। চৌকি থেকে দক্ষিণপূর্ব দিকে ত্রিপুরার কমলপুর সাবসেক্টর ক্যাম্প থেকে সকল প্রস্তুতি নিয়ে ২৮ অক্টোবর ভোরে কাইয়ুমের নেতৃত্বে একটি দল পাক সেনাদের উপর চতুর্দিক থেকে সাঁড়াশি আক্রমন চালায়। ব্যাপক গোলাবর্ষনে পাক সেনাদের ক্যাম্পে ধরে যায় আগুন। প্রচন্ড গুলিবর্ষন ও পাকবাহিনীর পুতে রাখা মাইন বিষ্ফোরণে বেশ কিছু মুক্তিযোদ্ধা হতাহত হন। ১ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদস্য হামিদুর রহমান সীমান্ত চৌকি দখলের উদ্দেশ্যে মৃত্যুকে তুচ্ছ করে হালকা একটি মেশিনগান নিয়ে বিক্ষিপ্ত গোলাগুলির মধ্যে হামাগুড়ি দিয়ে শক্রপক্ষের ৫০ গজের মধ্যে ঢুকে পড়েন। গর্জে উঠে তার হাতের মেশিনগান। শক্র দলের অধিনায়কসহ বেশ কয়েকজন সৈন্য এতে প্রাণ হারায়। এমন সময় শক্র পক্ষের একটি বুলেট তার কপালে বিদ্ধ হয়। মুহুর্তেই সামীন্তবর্তী ছড়ার পারে মৃত্যুর কুলে ঢলে পড়লেন হামিদুর রহমান। ১৯৯২ সালে তৎকালীন বিডিআর বর্তমান বিজিবির উদ্যোগে সর্ব প্রথম ধলই সীমান্ত চৌকির পাশে নির্মাণ করা হয় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মরনী। ২০০৬ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ১০ শতাংশ জায়গার উপর সাড়ে ১৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে গণপূর্ত বিভাগ নির্মান করে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমান স্মৃতিস্তম্ভ। এছাড়া কমলগঞ্জের ভানুগাছ-মাধবপুর সড়কটির নামকরন করা হয় বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান সড়ক হিসেবে। ২০০৭ সালে ধলই বিওপির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বীরশ্রেষ্ট শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমান সীমান্ত ফাঁড়ি।

২০১০ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে শ্রীমঙ্গস্থ ১৪ বিজিবির সাবেক অধিনায়ক ল্যাফটেন্যান্ট কর্নেল নুরুল হুদার উদ্যোগে ধলই সীমান্ত চৌকি এলাকায় গড়ে তোলা হয় আকর্ষনীয় পর্যটন স্পট। নির্মান করা হয় একটি বড় পুকুর, প্রস্তাবিত মনুমেন্টে রাখা হয় গাড়ী পার্কিং এরিয়া, টয়লেট, ওয়েটিং রুম, রিসোর্ট, কেফিটরিয়া, গলঘর। নির্মান করা হয় সীমান্ত স্মৃতি কুঞ্জ দুতলা ঘর, সীমান্ত অবকাশ যাপন কেন্দ্র। যা পর্যটকদের জন্য এখন আকর্ষনীয় স্থান হিসেবে পরিচিত হয়েছে।

আজ ৪৫ তম শাহাদৎ বার্ষিকী বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমানের রক্তে ভেজা কমলগঞ্জের ধলই সীমান্ত

hamidur-rahman
কমলকুঁড়ি রিপোর্ট :
আজ শুক্রবার (২৮ অক্টোবর) বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমানের ৪৫ তম শাহাদৎ বার্ষিকী। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই সীমান্তে  ১৯৭১ সালের ২৮ অক্টোবর পাক সেনাদের একটি ব্যাঙ্কারে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে ফেরার পথে পাক সেনাদের ছোড়া গুলিতে শহীদ হন বীর শ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান। বীর শ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমানের রক্তে ভেজা রয়েছে ধলই সীমান্ত। প্রতি বছর ২৮ অক্টোবর উপজেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল, বিজিবি ব্যাটেলিয়ন কমান্ড ও প্রেসক্লাব ধলই সীমান্তে বীর শ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমানের স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্পণ করেন।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর ধলই সীমান্ত ফাঁড়ির বিজিবির (তৎকালীন বিডিআর) পক্ষে স্থানীয়ভাবে একটি নাম ফলক স্বরুপ স্মৃতি স্তম্ভ¢ স্থাপন করা হয় বিজিবির সীমান্ত ফাঁড়ির সামনে। ২০০৫ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী মরহুম এম সাইফুর রহমান ধলাই সীমান্ত এলাকায় বীর শ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমানের স্মৃতি সৌধের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করে ধলই সীমান্তে ধলই চা বাগানের জমি অধিগ্রহন করে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করে দিয়েছিলেন। সে সময় স্থানীয় সাংবাদিকদের লিখিত আবেদনে ও এলাকাবাসীর দাবিতে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী মরহুম এম সাইফুর রহমানের উদ্যোগে তৎকালীন সরকবার ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আমবাসা গ্রাম থেকে বীর শ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমানের মরদেহ বাংলাদেশে এনে মিরপুর বুদ্ধিজীবি কবরস্থানে সমাহিত করেন। এর পর থেকে প্রতি বছর ২৮ অক্টোবর এলে হামিদুর রহমানের শাহাদৎ বার্ষিকী উপলক্ষে কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, বিজিবি ব্যাটেলিয়ন কমান্ড ও প্রেস ক্লাব তাঁর স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্পন করে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। তবে এ দিবসে কমলগঞ্জে আলোচনা সভার কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়না। আজ শুক্রবারও কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, বিজিবি ব্যাটেলিয়ন কমান্ড ও প্রেস ক্লাব বীর শ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমানের স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্পন করে শ্রদ্ধা নিবেদনসহ আলোচনা সভা করবে।

কমলগঞ্জে জেলা প্রশাসকের সাথে মতবিনিময়

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ২৭ অক্টোবর দুপুরে  মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মো: তোফায়েল আহমদ এর সাথে উপজেলা পর্যায়ে সকল নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্টিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হকের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো: তোফায়েল ইসলাম। অালোচনায় অংশগ্রহণ করেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক রফিকুর রহমান, আওয়ামীলীগ সভাপতি এম মোসাদ্দেক আহমেদ মানিক, ওসি মো: বদরুল হাসান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পারভীন আক্তার, পৌর মেয়র মো: জুয়েল আহমেদ, রহিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইফতেখার আহমেদ বদরুল, পতনঊষার ইউপি চেয়ারম্যান তওফিক আহমেদ বাবু, আব্দুল মোতালিব তরফদার, সদর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান, আদমপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল মুনিম তরফদার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গকুল চন্দ্র দেবনাথ, অধ্যক্ষ কামরুজ্জামান মিঞা, সাংবাদিক আব্দুল হান্নান চিনু, প্রেসক্লাব সভাপতি এম, এ, ওয়াহিদ রুলু, উপজেলা যুবলীগ সভাপতি আনোয়ার হোসেন, ছাত্রলীগ সভাপতি সানোয়ার হোসেন প্রমুখ।
প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক বলেন, মৌলভীবাজার জেলা একটি শান্তিপ্রিয় জেলা। সকলের সমন্বয়ে জেলায় উন্নয়ন করতে হবে। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কারণে কাঙ্খিত অগ্রগতি হচ্ছেনা।  এ ব্যাপারে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে।