সদ্য সংবাদ

পুরাতন সংবাদ: May 2019

কমলগঞ্জ নতুন আদর্শ রিক্সা চালক সমিতির মতবিনিময়

মৌলভীবাজার কমলগঞ্জ উপজেলার নতুন আদর্শ রিক্সা চালক সমিতির মতবিনিময় সভা গত শুক্রবার রাত ৮ টায় ভানুগাছ রেলওয়ে স্টেশন গাড়ি পার্কিং স্ট্যান্ডে অনুষ্ঠিত হয়। কমলগঞ্জ সদর ইউপি সদস্য মো. সোলেমান হোসেন ভূট্টোর সভাপতিত্বে ও আলমাছ মিয়ার সঞ্চালনায় সভায় অতিথি হিসাবে ছিলেন কমলগঞ্জ পৌরসভার প্যানেল মেয়র-১ মো. আনোয়ার হোসেন, পৌর কাউন্সিলর আশরফুল হক বদরুল, সমাজসেবক শফিকুল ইসলাম সুফি, জাকারিয়া হাবিব বিপ্লব, সাংবাদিক মো. আসহাবুর ইসলাম শাওন, শহিদুল ইসলাম, মো. শওকত আলী, মো. সুমন আহমদ, বাবুল আহমেদ, লোকমান হোসেন প্রমুখ। মতবিনিময় সভায় রিক্সা চালকদের স্থায়ী স্ট্যান্ডের ব্যবস্থা, ভাড়া নির্ধারণ ও রেল স্টেশন এলাকায় প্রবেশে সিএনজি স্ট্যান্ডের বাঁধা না দেওয়া সহ বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করে।- খবর সংবাদদাতার

কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের ৮ পদ শুন্য ।। ভারপ্রাপ্ত দিয়ে চলছে কাজ ॥ স্থবির হয়ে পড়েছে কার্যক্রম

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট ।।
মৌলভীবাজার কমলগঞ্জে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ভারে নূহ্য হয়ে পড়েছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা পরিষদে ন্যস্ত ১৭টি দপ্তরের মধ্যে ৮টি দপ্তরই রয়েছে কর্মকর্তা শূন্য। দায়িত্ব প্রাপ্ত, চলতি আর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ভারে এইসব দপ্তরের কার্যক্রম রীতিমতো স্থবির হয়ে পড়েছে। এ কারনে ইচ্ছামাফিক পরিচালিত হচ্ছে কাজকর্ম। অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের কেউ কেউ মাসে মাত্র একদিন বা দুদিন অফিস করেন। পদ শূন্য থাকায় উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রমে অনেকটা শিথিলতা বিরাজ করে। বিভিন্ন দফতরে সেবা নিতে এসে কমলগঞ্জবাসীকে চরম হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।
কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ঘুরে জানা যায়, ২০১১ সালের ৩ মার্চ উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তা গাউছুল আজম বদলীর পর হতে শুণ্য রয়েছে উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তার পদ। যে কারনে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করছেন সহকারী কর্মকর্তা মো.জাহাঙ্গীর আলম। ২০১৪ সালের  ১২ আগষ্ট হতে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নিখিল রঞ্জন দেব বদলী হলে সেই পদে আর কেউ আসেননি। গুরুত্বপুর্ণ এই দপ্তরটি ভারপ্রাপ্ত দিয়েই চলছে। বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মনোরমা দেবী। ২০১৪ সালের ১০ জুলাই থেকে শূন্য রয়েছে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার পদ।  বর্তমানে হবিগঞ্জ জেলায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুন নূর অতিরিক্ত হিসেবে দায়িত্বে থাকলেও তিনি মাসে মাত্র একবার অফিস করেন। তার অবর্তমানে অফিস চালান এমএলএসএস। ২০১৩ সালের ২৬ নভেম্বর থেকে শূন্য রয়েছে পরিসংখ্যান কর্মকর্তার পদ। মৌলভীবাজারের কর্মরত নন্দিনী দেব অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন। তিনিও মাস দুইমাস পর কয়েক ঘণ্টার জন্য অফিস করেন। ২০১৫ সালের ৩ আগস্ট  থেকে শূন্য রয়েছে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার পদ। শ্রীমঙ্গল উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আশিকুজ্জামান অতিরিক্ত ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনিও সপ্তাহে একবার অফিস করেন। ২০১৫ সালের ১১ অক্টোবর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুল আহাদ বদলী হলে তার পরিবর্ততে শ্রীমঙ্গল উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা অসীম কুমার কর অতিরিক্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি সপ্তাহে একদিন অফিস করেন। ২০১৫ সালের জুলাই মাসে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফরহাদ হোসেন মৌলভীবাজার সদরে বদলী হন। তাকে আবার কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা হিসাবে অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করা হয়। উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা পদ শুন্য রয়েছে ১ বছর ধরে। বর্তমানে মৌলভীবাজার সদর এর আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা অতিরিক্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে তিনি নিয়মিত অফিসে আসেন না। প্রায়ই অফিস বন্ধ থাকে। কমলগঞ্জ উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. পনিরুজ্জামান  প্রায় ১ বছর ধরে রাজনগর, মৌলভীবাজার সদর এর অতিরিক্ত উপসহকারী প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করছেন। তিনিও অন্য উপজেলায় সময় দিতে হয়। এতে করে এসব গুরুত্বপুর্ণ দপ্তরে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতায় দাপ্তরিক কার্যক্রম কার্যত: ঝিমিয়ে পড়েছে। খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে দাপ্তরিক কার্যক্রম। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের রীতিতমত অফিস না করা, বেশির ভাগই হাজিরা সর্বস্ব অফিস করায় সাধারন মানুষ তাদের কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছে না। দীর্ঘদিন যাবৎ উপজেলা পরিষদের এসব গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকায় একদিকে যেমন উপজেলার দাপ্তরিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষকে এসব অফিসে সেবা নিতে এসে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।
এ ব্যাপারে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সফিকুল ইসলাম বলেন, জেলার মাসিক সমন্বয় সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। দায়িত্বরত কর্মকর্তারা নির্দিষ্ট দিন নির্ধারন করে অফিস করতে বলা হয়েছে। এর পরেও দায়িত্বে অবহেলা করলে সেসব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কমলগঞ্জ পৌরসভায় প্রার্থীদের কৌশলী প্রচারণা

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট ।।
সময় যতই ঘনিয়ে আসছে সরব হয়ে উঠছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ পৌর নির্বাচনের আগাম হাওয়া। আর নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীরা দৌড়ঝাঁপ করছেন। এরই মধ্যে অনেকে ব্যানার ও বিলবোর্ড টাঙ্গিয়ে পৌরবাসীকে ঈদ ও শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়ে দোয়া কামনা করেছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীরা পৌর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই নানামুখী কৌশলে প্রচারণা শুরু করেছেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্রমতে, বিগত পৌর নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়ার পরও বিদ্রোহী হয়ে আরেক আওয়ামীলীগ নেতা প্রার্থী হওয়ায় দলকে চরম মূল্য দিতে হয়। ক্ষমতায় থেকেও তাদের নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয় বরণ করতে হয়।
সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা পৌর নাগরিকদের মন জয়ের চেষ্টায় তৎপর। আওয়ামী লীগ, বিএনপির একাধিক নেতার পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও বসে নেই। নিমন্ত্রণ-দাওয়াত বাদ দিচ্ছেন না কেউ। প্রতিটি সামাজিক অনুষ্ঠানে ভিড় করেন প্রার্থীরা। পাশাপাশি সমর্থকদের দিয়ে ডিজিটাল পোস্টার, ব্যানার টানানো হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কৌশলী প্রচারণায় নেমেছেন প্রায় সবাই। শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে অনেকে তাদের প্রার্থিতা হওয়ার বিষয়টি সাধারণ ভোটারের সামনে তুলে ধরতে চাইছেন। পবিত্র ঈদুল আজহা ও শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে অনেক প্রার্থীরা শো-ডাউন দিয়েছেন সমর্থকদের নিয়ে। অনেকেই ব্যানার ও বিলবোর্ড টাঙ্গিয়ে পৌরবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে দোয়া কামনা করছেন। এদিকে দেশে প্রথমবারের মতো স্থানীয় নির্বাচন দলীয় মনোনয়ন ও প্রতীকে আয়োজনের খবরে সম্ভাব্য প্রার্থীদেরও নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। অনেক প্রার্থী এ নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দে পড়েছেন। আবার অনেক প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার আশায় নিজ নিজ দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে লবিং শুরু করেছেন। শীর্ষ নেতাদের কাছে ধরনা দিচ্ছেন বলেও নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে। এবার দলীয় প্রতীকে প্রার্থী মনোনয়ন হওয়াই বিদ্রোহী হওয়ার সুযোগ না থাকায় সব দলের শীর্ষ নেতারা রয়েছেন ফুরফুরে মেজাজে। নেতাদের মতে, এবার তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারের মন জয় করতে মাঠে নেমে পড়েছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারণী নেতৃবৃন্দের মতে, এবারের নির্বাচনে বিদ্রোহী হওয়ার সুযোগ নেই। তারা বিগত নির্বাচন থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার পৌরসভাসহ বিভিন্ন ইউপি নির্বাচনে তৃণমূলে অধিক জনপ্রিয় প্রার্থীকেই দলীয় মনোনয়ন দেয়ার ব্যাপারে অটল থাকবেন। তাই এবার তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারের মন জয় করতে মাঠে নেমে পড়েছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। তারা তৃণমূলের কার্যক্রম ঠিক রেখে হাই লেভেলে জোর তদবির ও লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন।
এবার কমলগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দিতা করতে নির্বাচনী মাঠে ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগ থেকে ৪ জন এবং বিএনপি থেকে ৩ জন সম্ভাব্য প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন। এদিকে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করার সরকারি সিদ্ধান্তে মাঠপর্যায়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ সমর্থকরা বিষয়টিকে স্বাগত জানালেও বিএনপি নেতাকর্মীরা কেন্দ্রের সঙ্গে সুর মিলিয়ে এর বিরোধিতা করছেন। অনেকেই মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত শুরুতে দলীয় প্রার্থী নির্বাচনে বিশৃংখলা দেখা দেবে। বৃদ্ধি পাবে মনোনয়ন বাণিজ্য। তারপরও বসে নেই উভয় দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। সম্ভাব্য প্রার্থীরা দলীয় মনোনয়ন পেতে নিজ নিজ দলের শীর্ষ পর্যায়ে লবিং শুরু করেছেন। এ নিয়ে পৌরবাসীর মধ্যে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। দল থেকে কাকে সমর্থন দেয়া হবে তা নিয়ে তৈরি হয়েছে এক ধরনের অনিশ্চয়তা। নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বর্তমান মেয়র ও পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আবু ইব্রাহীম জমসেদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আছলম ইকবাল মিলন, সাবেক মেয়র ও সাবেক উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাছিন আফরোজ চৌধুরী, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও পৌরসভার প্যানেল মেয়র-১ মো. আনোয়ার হোসেন, উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি জাকারিয়া হাবিব বিপ্লব, পৌর যুবলীগ সভাপতি ও সাপ্তাহিক কমলগঞ্জের কাগজ-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও প্রকাশক মো. জুয়েল আহমদ, কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব) এর সহধর্মিনী রওশন আরা, প্রভাষক নজরুল ইসলাম, মাসুক আহমদ নির্বাচনী মাঠে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে নির্বাচনকে ঘিরে পৌরসভার জনসাধারণের মধ্যে নির্বাচনী আমেজ তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরাও পৌর এলাকার পাড়া-মহল্লায় সভা ও উঠান বৈঠক করে বেড়াচ্ছেন। বাজারের চায়ের দোকান ও গ্রামের দোকানগুলোতে এখনই গভীর রাত পর্যন্ত কে প্রার্থী হচ্ছেন, কে প্রার্র্থী হলে ভালো হবে তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা করছেন।
ভানুগাছ পৌর বাজারের ব্যবসায়ীরা বলেন, এবারের পৌর নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী মনোনয়ন করা কঠিন হবে। তবে আমরা রাজনৈতিক দল সমুহের কাছে দাবী করছি, মেয়র পদে তরুণ, কর্মঠ ও স্বচ্ছ প্রার্থী চাই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানান, নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থী নির্ধারনে হিমশিম খাচ্ছে সব রাজনৈতিক দল। সম্ভাব্য একাধিক প্রার্থীর প্রচারণায় দলের নীতি নির্ধারকরাও পড়েছে বিপাকে। আওয়ামীলীগের হয়ে জোরেশোরেই মাঠে নেমেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তবে প্রার্থী নির্ধারণে উপজেলা নেতা ও তৃণমূলের সমর্থনের অপেক্ষা মাত্র। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামীলীগের একজন মনোনয়ন প্রত্যাশী বলেন, আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতা, তৃণমূল কর্মী, সুশীল সমাজ ও সাধারণ জনগণ আমার পাশে আছে। তাদের মতের প্রতি সম্মান রেখেই নির্বাচন করার ইচ্ছা রয়েছে। প্রত্যাশা করি আমার যোগ্যতা ও অবস্থা বিবেচনা করে দলীয় সমর্থন পাব। তবে দলের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত হবে।

শমশেরনগরে টিলা কেটে সাবাড় হচ্ছে ॥ হুমকির মুখে পরিবেশ

T-2.
শমশেনরগর সংবাদদাতা :
পাহাড় টিলা পরিবেষ্টিত কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে উচুঁ টিলা কেটে সাবাড় করা হচ্ছে লাল মাটি। মৌলভীবাজার জেলার সীমান্তবর্তী এই উপজেলার বনাঞ্চল সংলগ্ন চা বাগান ও রাস্তার ধারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মন্ডিত পাহাড়ি উচুঁ টিলা, খেলার মাঠ কেটে মাটি অন্যত্র স্থানান্তর করা হচ্ছে। সম্প্রতি কমলগঞ্জ-কুলাউড়া সড়কে শমশেরনগর বিমান বাহিনী ইউনিটের অধীনস্থ টিলা কেটে ফেলা হচ্ছে। এভাবে অব্যাহতহারে টিলা কেটে পরিবেশকে হুমকির সম্মুখীন করা হলেও পরিবেশ অধিদপ্তর রয়েছে নিষ্ক্রিয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, কমলগঞ্জ-কুলাউড়া সড়কে শমশেরনগর বিমান বাহিনী ইউনিটের অধিনস্থ উঁচু খেলার মাঠ কেটে সাবাড় করা হচ্ছে। বাইরে বাউন্ডারী দেয়াল নির্মাণ করে ভেতরে বৃহদ একটি টিলার প্রায় ৪ ফুট পরিমাণ লাল মাটি কেটে অন্যত্র স্থানান্তর করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন যাবত অল্প অল্প করে সমুহ এই টিলার লাল মাটি কেটে ফেলা হচ্ছে। এতে স্থানীয়ভাবে কিছু প্রতিক্রিয়াও দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, এই টিলায় এলাকার ছেলেরা বিকালে ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা করতো। ছেলেদের খেলাধুলার একমাত্র মাঠ থাকলেও  এখন এটি শমশেরনগর বিমান বাহিনী ইউনিটের তত্বাবধানে কৌশলে কেটে সাবাড় করা হচ্ছে। তারা আরও বলেন, বাইরে থেকে সহজে যে কেউ বুঝতে না পারার জন্য পাকা বাউন্ডারী দেয়াল নির্মাণ করে ভেতর থেকে অল্প অল্প করে মাটি কেটে ট্রাকযোগে অন্যত্র স্থানান্তর করা হচ্ছে। স্থানীয় পথচারীরা জানান, এখানে টিলা কাটার ফলে বৃষ্টির সময়ে চরম জনদুর্ভোগ দেখা দেয়। টিলার লাল মাটি বৃষ্টির পানিতে গড়িয়ে শমশেরনগর-কুলাউড়া সড়কে এসে জমাবদ্ধ হয়। এসময়ে যানবাহনের কারনে রাস্তায় কাঁদা তৈরী করে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে উঠে। এ বিষয়ে মৌখিকভাবে সংশ্লিষ্টদের অবগত করানো হলে কিছুদিন টিলা থেকে মাটি কাটার কাজ বন্ধ থাকে। কয়েকদিন পর আবার ট্রাক লাগিয়ে মাটি কাটা শুরু হয়। এভাবে অব্যাহতহারে অপরিকল্পিতভাবে টিলা কেটে সাবাড় করা হলেও পরিবেশ অধিদপ্তর নিশ্চুপ রয়েছে।
তবে খেলার উচুঁ মাঠ টিলা কাটার বিষয়ে জানতে চেয়ে ফোনে যোগাযোগ করা হলে বিমান বাহিনী শমশেরনগর ইউনিটের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা টিলা কাটার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এমওডিসিদের খেলাধূলার জন্য টিলার অল্প পরিমাণ অংশ কেটে খেলার উপযোগী মাঠ করা হচ্ছে। এর বেশী টিলা কাটা হবে না।
এ ব্যাপারে মঙ্গলবার বিকালে মোবাইল ফোনে পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেট এর পরিচালক সালাহউদ্দীন সাহেবের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা কিছু জানি না। সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসা করেন।’

শমশেরনগরে চুরি ॥ গ্রেফতার ৩

12201052_1665081867068916_2016225689_n
মিজানুর রহমান, শমশেরনগর থেকে :
কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর বাজারে চুরি অভিযোগে ৩ জনকে আটক করা হয়েছে।
জানা যায়, শুক্রবার দিবাগত রাতে শমশেরনগর বাজারের রেলওয়ে স্টেশন রোডের পাল ফার্ম্মেসী ও নিকটস্থ মায়াক্লথ স্টোরে এক দুর্ধষ চুরি সংঘটিত হয়। শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মতিউর রহমানের নেতৃত্বে চুরি করার অভিযোগে তিন জনকে গ্রেফতার কওে কমলগঞ্জ থানায় প্রেরণ করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা- শমশেরনগর বণিককল্যাণ সমিতির অধীনে স্টেশন রোডের রাত্রিকালীন পাহারাদার হান্নান (৪৫), মোঃ ডুকল (৪০) ও সুইপার রুবেল (২০)। এ ব্যাপারে শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মতিউর রহমান সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পাহারাদার মোঃ হান্নান পাঁচশত টাকা দেয়ার লোভ দেখিয়ে সুইপার রুবেলকে দোকানের টিনের চালা কেে টভিতওে প্রবেশ করায়। রুবেল ভিতওে ঢুকে দরজা খোলে দিে লহান্নান ও ডুকল ভিতরে প্রবেশ করে নগদ টাকাসহ লুঙ্গি-কাপড় মিলিয়ে দুইববস্তা মাল চুরি করে।

মৌলভীবাজার বি.এন.এস.বি চক্ষু হাসপাতালের চোখের পরিচর্যা বিষয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

Imageমৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজার বি এন এস বি চক্ষু হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে অন্ধত্ব নিবারণ ও প্রতিরোধ কর্মসূচীর আওতায় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকও শিক্ষিকাগণের অংশগ্রহণে ‘‘প্রাথমিক চক্ষু পরিচর্যা“ বিষয়ক এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। ২৭ অক্টোবর  মঙ্গলবার সকালে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণ কর্মশালায় মৌলভীবাজার সদর, রাজনগর এবং কুলাউড়া উপজেলার বিভিন্ন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট ১০০ (একশত) জন শিক্ষকএবং শিক্ষিকা অংশগ্রহণ করেন। মৌলভীবাজার বি এন এস বি চক্ষু হাসপাতালের অবৈতনিক সাধারণ সম্পাদক এ এম ইয়াহিয়া মুজাহিদ, এডভোকেট-এর সভাপতিত্বে এবং বি এন এস বি-এর ম্যানেজার এডমিনিষ্ট্রেশন জনাব এহসানুল মান্নান-এর পরিচালনায় কর্মশালার উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার জেলার সিভিল সার্জন ডাঃ সত্যকাম চক্রবর্তী এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী   আহসান। কর্মশালাটি বিকেল পর্যন্ত চলে। কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করেন বি এনএস ব-এর সহকারী সার্জন ডাঃ আব্দুল মান্নান মুনিম এবং রিফ্রেকশনিষ্ট আব্দুল মান্নান। কর্মশালা  শেষে সকল অংশগ্রহণকারীগণের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।

‘জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত না গাইলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জ্বালিয়ে দেয়া হবে’ – মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক

181924-mojammelBre

নিউজ ডেস্ক ::

‘যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় সংগীত গাওয়া হবে না ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে না, সেসব প্রতিষ্ঠান জ্বালিয়ে ও ধ্বংস করে দেয়া হবে’ বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।মঙ্গলবার নবনির্মিত টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন উদ্বোধন শেষে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় অনেক মুক্তিযোদ্ধার লাশ খালে-বিলে ভাসতো। তাদের জানাজা করতে দেয়া হয়নি, তাদের কপালে জানাজা জোটেনি। তাই যুদ্ধাপরাধীদের বাংলার মাটিতে প্রকাশ্যে জানাজা করতে দেয়া হবে না।’

তিনি বলেন, ‘আগামী ঈদ-উল ফিতর ও ঈদ-উল আযহাসহ সকল উৎসবে মুক্তিযোদ্ধাদের ১০ হাজার টাকা করে উৎসব বোনাস দেয়া হবে। প্রতি উপজেলায় যে সব খাস জমি রয়েছে সে সমস্ত জমিতে মুক্তিযোদ্ধা পল্লী নির্মাণ করা হবে। ইতিমধ্যেই ৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ২০ হাজার ফ্লাট নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’

সূত্র: thebdtimes24.com

ইন্দোনেশীয় দম্পতিকে হত্যার দায়ে সৌদি আরবে এক পাকিস্তানির শিরচ্ছেদ

 

 ডেস্ক রিপোর্ট :
সৌদি আরবে এক ইন্দোনেশীয় দম্পতিকে হত্যার দায়ে বুধবার এক পাকিস্তানি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইন্দোনেশীয় নাগরিক বামবাঙ সুকিয়াতো ও তার স্ত্রী সুরাইয়াতি বিদ্যাস্ততিকে হত্যার দায়ে পাকিস্তানি নাগরিক আমাল জান হাজি দোষি সাব্যস্ত হন।

মন্ত্রণালয় বিবৃতিতে জানায়, আমাল জান হাজি ওই দম্পতির বাড়িতে ঢুকে ধাতব বস্তু দিয়ে তাদের প্রহার করে তাদের হত্যা করে। এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে ইন্দোনেশীয় দূতাবাসের কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। কর্তৃপক্ষ রিয়াদে এ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে। এএফপি’র এক হিসেবে এ বছর সৌদি আরবে হাজিসহ মোট ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।

২০১৪ সালের ৮৭ জনের তুলনায় এ সংখ্যা অনেক বেশি। অধিকাংশ সৌদি মৃত্যুদণ্ডান্দেশ ধারালো তরবারির আঘাতে শিরশ্ছেদ করার মাধ্যমে কার্যকর করা হয়।

মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা সৌদি আরবে বিচারের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন। লন্ডনভিত্তিক অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, গত বছর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা বিবেচনায় সৌদি আরবের অবস্থান বিশ্বে তৃতীয়। সৌদি আরবের কঠোর ইসলামী শরিয়া আইন অনুযায়ী, হত্যা, মাদক চোরাচালান, সশস্ত্র ডাকাতি, ধর্ষণ ও ধর্ম অবমাননার সাজা মৃত্যুদণ্ড।

আগামী ৮ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার-৩ (মৌলভীবাজার-রাজনগর) আসনের উপ নির্বাচন

ec_logo_new_sm_473374205মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

আগামী ৮ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার- ৩ আসনের উপ- নির্বাচন  অনুষ্ঠিত হবে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে এক বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কার্যালয়ের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে  প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিব‌ উদ্দিন আহমদ এ তথ্য জানান তিনি।

তিনি বলেন, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ১১ নভেম্বর। প্রার্থিতা যাচাই-বাচাই ১৪ নভেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২২ নভেম্বর এবং ৮ ডিসেম্বর নির্বাচন ।

মৌলভীবাজারে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধের দাবিতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে গণস্বাক্ষর সম্বলিত স্বারকলিপি প্রদান

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি ।।3
মৌলভীবাজারের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষেরা গণস্বাক্ষর নিয়ে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও মেয়রের কাছে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ব্যাটারিচালিত অটো রিকশা নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় স্বজন হারানো পিতা অধ্যাপক করুণাময় রায়, ছেলে প্রকৃতিময় রায় অঙ্কুর এবং স্ত্রী অপরাজিতা রায়। নাগরিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি ডা. এম এ আহাদ, প্রেসক্লাব সভাপতি এম এ সালাম, সহ-সভাপতি আব্দুল হামিদ মাহবুব, চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক হাসিব হোসেন খান বাবু, বিএমএ সভাপতি ডা. শাব্বির খান, লেখক গবেষক মাহফুজুর রহমান, বিজেনস ফোরামের সদস্য সচিব শাহাদাত হোসেন সহ  সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারেরা। 2

এছাড়া মৌলভীবাজারের পৌর মেয়র, জেলা পরিষদ প্রশাসক এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে  স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

উল্লেখ্য গত ২৪ অক্টোবর মৌলভীবাজার শহরের শাহ মোস্তফা সড়কে ভারসাম্যহীন ব্যাটারিচালিত রিকশার বেপরোয়া গতির কারণে মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনায় সংস্কৃতি কর্মী গৌতম রায় এবং এক শিশু সহ তিনজন প্রাণ হারান। একইভাবে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক নাগরিকেরা রিকশার হালকা কাঠামোর মধ্যে অশ্বশক্তি যুক্ত করায় রিকশার ওজন এবং গতির মধ্যে ভারসাম্যহীনতার কারণে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন।