সদ্য সংবাদ

পুরাতন সংবাদ: May 2019

শ্রীমঙ্গলে মহান মে দিবস উদযাপিত

11151062_838669522835080_7397176988215052738_n

প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন উপাধ্যক্ষ মো: আব্দুস শহীদ এমপি

 

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি
মহান মে দিবস উপলক্ষে শ্রীমঙ্গলে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে। শ্রীমঙ্গল উপজেলার প্রতিটি শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে এ দিবসটি পালন করা হয়। ১ মে সকালে এক র‌্যালী শেষে আলোচনা সভা শ্রীমঙ্গল মৌলভীবাজার রোডের সিএনজি স্ট্যান্ডে চন্দ্রনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে অনুষ্টিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক  চিফ হুইপ  আলহাজ্ব উপাধ্যক্ষ মো: আব্দুস শহীদ এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহীদ মোহাম্মদ ছাইদুল হক, শ্রীমঙ্গল পৌরসভার মেয়র মো: মহসিন মিয়া। এসময় উপস্তিত ছিলেন বাস-মিনিবাস, ট্রাক, ট্রাংক লরী,হোটেল শ্রমিক, নির্মান শ্রমিক, রেল শ্রমিক, দোকান কর্মচারি শ্রমিক ও সিএজি শ্রমিক সহ বিভিন্ন সংঘঠনের নেত্রীবৃন্দ।

নবীগঞ্জে বিবিয়ানা সাহিত্য পরিষদের ৫ম বর্ষ পূর্তি উৎসব উদযাপিত।। গবেষক ইয়াওর উদ্দিনকে সম্মাননা প্রদান

Bibiyana-Sahitya-parishad

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে বিবিয়ানা সাহিত্য পরিষদ নবীগঞ্জ-এর ৫ম বর্ষ পূর্তি
উপলক্ষে আয়োজিত বৈশাখী কবিতা উৎসবে বক্তারা বলেন, কালের গর্ভে হারিয়ে
যাওয়া বিবিয়ানা শুধু গ্যাসই দেয়নি, বরং অনেক জ্ঞানী-গুণী, কবি-সাহিত্যিক,
শিল্পীর জন্ম দিয়েছে অবিস্মরণীয় হয়ে আছে।
“সাহিত্য হোক সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার” শ্লোগানকে সামনে রেখে ৩০ এপ্রিল
বৃহস্পতিবার বিকেলে হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জস্থ মক্কা
ক্লিনিক সম্মেলন কক্ষে বিবিয়ানা সাহিত্য পরিষদ নবীগঞ্জ বৈশাখী কবিতা উৎসব
উদযাপন এবং প্রবাসী কবি ও গবেষক মোহাম্মদ ইয়াওর উদ্দিনকে সম্মাননা প্রদান
করেছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গ্রন্থ প্রকাশক ও কবি তৈয়ব খান বলেন,
ভুল-ত্রুটির উর্দ্ধে শুদ্ধ ও সুস্থ সাহিত্য চর্চা করতে হবে।
প্রধান আলোচক হিসেবে জাতীয় পার্টির সভাপতি ডাঃ শাহ আবুল খায়ের বলেন, আকাশ
সংস্কৃতি থেকে পরিত্রাণ পেতে সুস্থ সাহিত্য চর্চা করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে বিবিয়ানা সাহিত্য পরিষদ নবীগঞ্জ-এর সভাপতি এম,
শহিদুজ্জামান চৌধুরী বলেন, মফস্বল পর্যায়ে সাহিত্য চর্চায় বাঁধা-বিপত্তি
আর প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। আমাদের সকল কিছুর উর্দ্ধে সাহিত্য চর্চা অব্যাহত
রাখতে হবে।
বিবিয়ানা সাহিত্য পরিষদ নবীগঞ্জ-এর সভাপতি এম, শহিদুজ্জামান চৌধুরীর
সভাপতিত্বে এবং মিডিয়া সম্পাদক বদরুল আলম চৌধুরীর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে
বিশেষ অতিথি ছিলেন হবিগঞ্জ সাহিত্য পরিষদ-এর যুগ্ম সম্পাদক এ্যাডঃ এস, এম
ইলিয়াস মিয়া, বিডিএসসি-শেভরন শিক্ষা কর্মসূচীর প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা
সাংবাদিক এসএমএ হাসনাত, দৈনিক বিবিয়ানা-এর নির্বাহী সম্পাদক মুরাদ
আহম্মেদ, দৈনিক সমকাল-এর প্রতিনিধি এম, এ আহম্মেদ আজাদ, মাসিক নবীগঞ্জ
দর্পণ-এর প্রধান সম্পাদক  এম, গৌছুজ্জামান চৌধুরী, পোয়েটস ক্লাব হবিগঞ্জ
শাখার সভাপতি নিলুপা ইসলাম নিলু, মক্কা ক্লিনিক-এর সত্ত্বাধিকারী আলহাজ্ব
মোঃ মনির উদ্দিন।
আরো বক্তব্য রাখেন মোস্তফাপুর আনোয়ারুল আলীম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুন
নুর, নবীগঞ্জ ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার-এর পরিচালক আব্দুর রাকিব হাক্কানী,
বর্ণমালা সাহিত্য পরিষদের সভাপতি এসএম সাজ্জাদ, সাংবাদিক রুহুল আমিন
পাপ্পু, মুফতী সিদ্দিকুর রহমান চৌধুরী, রেজাউল করিম ইয়াওর, এ্যাডঃ আব্দুল
বাছিত, ফজলুর রহমান চৌধুরী, প্রবীণ শিক্ষক নুর মোহাম্মদ, আব্দুল আজিজ
মাস্টার, আবু সাঈদ মোঃ ওয়াজেদ (লেবু মাস্টার), জসিম মারুফ, মাওলানা
নিযামুদ্দীন জালালী, শুয়াইব আহম্মেদ শিবলু প্রমুখ।
বৈশাখী কবিতা উৎসবে কবিতা আবৃত্তি করেন কবি তৈয়ব খান, এম শহিদুজ্জামান
চৌধুরী, এ্যাডঃ আব্দুল বাছিত, বদরুল আলম চৌধুরী, সঙ্গীত পরিবেশন করেন
আলহাজ্ব মোঃ মনির উদ্দিন, ফজলুর রহমান চৌধুরী, রুহুল আমিন পাপ্পু,
মুদাব্বির হোসেন লিমন, শিশুশিল্পী তৃণা প্রমুখ। -বিজ্ঞপ্তি

শপথ নিলেন জুড়ী উপজেলার নতুন চেয়ারম্যান গুলশান আরা

Moulvibazar Pic-1  30,04,2015জুড়ী সংবাদদাতা:
মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান গুলশান আরা মিলি শপথ নিয়েছেন।বুধবার (২৮ এপ্রিল) সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে তাকে শপথবাক্য পাঠ করান বিভাগীয় কমিশনার জামাল উদ্দিন আহমদ।

এ সময় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়রে উপ-পরিচালক উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও জুড়ী উপজেলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কিশোর রায় চৌধুরী মনি, গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শফিক উদ্দিন আহমদ, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা আজাদ চৌধুরী হাসি, উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি জুয়েল রানা, তরুণ লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুর আলম ফজল, সাইফুর রহমান, ইউপি সদস্য মিলাদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

জুড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ মুমিত আশুকের মৃত্যুতে এ পদটি শূন্য হয়।

উপনির্বাচনে তার স্ত্রী উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গুলশান আরা মিলি জয়ী হন। গুলশান আরা সিলেট বিভাগের একমাত্র নারী উপজেলা চেয়ারম্যান।

ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মধ্যে বীজ, সার ও নগদ অর্থ বিতরণ। – সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী এম. পি ।। কৃষকের উন্নয়ন ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়

11193432_1608200902730933_8956038854417135933_n

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী এম. পি বলেন ,কৃষকের উন্নয়ন ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই সরকার কৃষিতে আমুল পরিবর্তন করার লক্ষে কৃষিকাজের বিভিন্ন উপকরণ সহজলভ্যে কৃষকদের দৌড়গোড়ায় পৌছাতে বাস্তবমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।তিনি সরকারের প্রদত্ত বিনামূল্যের সার ও বীজ ক্রয়-বিক্রয় না করে সঠিক ভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে অধিক ফসল উৎপাদনের আহবান জানান।

গত ৩০এপ্রিল মৌলভীবাজার সদর উপজেলা মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে আউশ প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় মৌলভীবাজার জেলার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মধ্যে বীজ, সার ও নগদ অর্থ বিতরণ অনুষ্টানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো: কামরুল হাসান, পুলিশ সুপার মো: তোফায়েল আহম্মাদ, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজান, জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সা্ফিুর রহমান বাবুল, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবন্দ।

জেলার ৭ টি উপজেলার মোট ৮ হাজার ৪৫০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মধ্যে বিনামূল্যে আউশ প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় প্রতি কৃষক উফলী আউশ ধান চাষের জন্য ২০ কেজি বীজ, ২০ কেজি ইউরিয়া, ১০ কেজি ডিএফপি, ১০ কেজি এমওপি সার ও নগদ ৪০০/-শত টাকা অনুদান বিতরণ করা হয়।

সাংবাদিক সাইফুলকে কারাগার থেকে হাসপাতালে

এম. মছব্বির আলী:: পুলিশী নির্যাতনে গুরুতর আহত সাংবাদিক সাইফুল ইসলামকে ৩০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকালে জেলা কারাগার থেকে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যার হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার জন্য নিয়ে আসা হয়েছিল। তখন তাকে দেখার জন্য জেলা সদরে কর্মরত সাংবাদিকারা হাসপাতালে ভিড় জমান। সাইফুল ইসলাম, দৈনিক জনতা, সাপ্তাহিক পাতাকুঁড়ির দেশ ও বাংলা ট্রিবিউন এর শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রতিনিধি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। হাসপাতালে সাইফুল ইসলাম তাকে দেখতে আসা সাংবাদিকদের জানান, ২৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে দশটায় ল্যাপটপ, ব্যবহৃত কাপড়, মোবাইল ফোন ও নগদ ৩০ হাজার টাকাসহ নিজ বাসা শ্রীমঙ্গল শহরের পূর্বাশা এলাকায় যাওয়ার সময় শ্রীমঙ্গল শহরের ক্যাথলিক মিশন রোড এলাকা থেকে সাদা পোশাকধারী কয়েকজন তাকে ঝাপটে ধরে।

ঐরাতে তিনি জরুরী কাজে ঢাকা যাওয়ার কথা ছিল। পরে তিনি চিনতে পারেন, শ্রীমঙ্গল থানার ওসি আব্দুল জলিল, পুলিশ উপ-পরিদর্শক (এসআই) গিয়াস উদ্দিন ও পুলিশ উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাকিরসহ আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে। এরপর তাকে শ্রীমঙ্গল থানা হাজতে আটকে রেখে চোখ বেঁধে সারা রাত অমানুষিক নির্যাতন করে ওসি আব্দুল জলিল এসআই গিয়াস উদ্দিন, এসআই জাকির, মৌলভীবাজার জেলা সদরে কর্মরত ট্রফিক সার্জেন্ট মাহফুজসহ আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্য। নির্যাতনের এক পর্যায়ে সাইফুল সজ্ঞাহীন হয়ে পরেন। এ অবস্থায় শ্রীমঙ্গল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে তাকে ইন্জেকশন পুশ করে নিয়ে আসেন। পুলিশী নির্যাতনে পরনের শার্ট ও প্যান্ট ছিড়ে যায়। পরে ওসি জলিল সাইফুলের সাথে থাকা ফুল সার্ট ও প্যান্ট পরিয়ে সকালে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে এনে দেখান সাইফুল অক্ষত।

পরদিন শুক্রবার তাকে মৌলভীবাজার জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। তিনি আরো জানান, শ্রীমঙ্গল থানার ওসি আব্দুল জলিলের বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্নীতির সংবাদ প্রকাশের জের ধরে শ্রীমঙ্গলের ভৈরববাজার এলাকায় ট্রাকে পেট্টোল বোমা মারার পরিকল্পনাকারী সাজিয়ে ২৩ জানুয়ারি পুলিশ বাদী হয়ে একটি হয়রানীমূলক মিথ্যা মামলা দায়ের করে ওই মামলায় সাংবাদিক সাইফুলকে আসামী করা হয়। বেলা ১২টায় মৌলভীবাজার সদর সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার (এএসপি) মোঃ আশরাফুল ইসলাম হাসপাতালে তার মেয়ের চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেলে সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের দেখে এগিয়ে যান। তখন সাংবাদিকরা সাইফুল ইসলামকে দেখতে বললে তিনি তার কাছে গিয়ে তার শরীরে পুলিশী আঘাতের চিহ্নগুলো দেখেন। সহকারি পুলিশ সুপার সাইফুলের অবস্থা দেখে বলেন, এটা খুবই অমানবিক ব্যাপার ঘটেছে, এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের আশ্বস্থ করেন। এ সময় শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বিকুল চক্রবর্ত্তীও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি সাংবাদিক সাইফুল ইসলামের উপর পুলিশী নির্যতনের চিহ্ন স্বচক্ষে দেখে ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেন।

আজ মহান মে দিবস ।। চা শ্রমিকদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি !

tea-2

কমলকুঁড়ি প্রতিবেদক

আজ ১মে মহান মে দিবস। শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রামের ইতিহাসের দিন। ১৮৮৬ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো নগরীতে শ্রমিকরা দৈনিক আট ঘণ্টা কর্মসময় নির্ধারণ ও ন্যায্য মজুররি দাবিতে সর্বাত্মক ধর্মঘট শুরু করেন।  তখন আমেরিকা ও ইউরোপে শ্রমিকদের দৈনিক ১৪  থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে হতো। ওভার টাইম-এর নীতিমালা ছিল না। তাই শ্রমিকরা মালিকপক্ষের এ ধরনের নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে ওঠেন। আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ নেয় ৩ ও ৪ মে।  এই দুদিনে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান ১০ শ্রমিক। বহু শ্রমিককে পুলিশ গ্রেফতার করে। তাদের মধ্যে ছয়জনকে পরে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়। শ্রমিক আন্দোলনের এ  গৌরবময় অধ্যায়কে স্মরণীয় করে রাখার জন্য ১৮৯০ সাল  থেকে পালিত হয়ে আসছে মহান মে দিবস।

 

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর রাষ্ট্রীয়ভাবে মে দিবস পালন করা হয়ে থাকে। দিনটি ১৯৭২ সাল  থেকেই সরকারি ছুটির দিন। কিন্তু যাদের রক্তে রাঙানো সংগ্রামের স্বীকৃতি এ দিবস,  সেই শ্রমিক ও  মেহনতী মানুষ রাষ্ট্রীয়, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক  কোনো ক্ষেত্রেই আজও এদেশে তাদের ন্যূনতম মর্যাদা ও অধিকার লাভ করেনি।

স্বাধীনতার ৪৪ বছর অতিবাহিত হলেও বঞ্চিত চা শ্রমিকদের অধিকার পুর্ণতা লাভ করেনি । দু’বছর অন্তর চা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির কথা থাকলেও ২০০৯ সনের পর আর কোন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। এককভাবেই মালিক পক্ষ কয়েক দফায় সর্বশেষ চা শ্রমিকদের সর্ব্বোচ্চ মজুরি ৬৯ টাকা নির্ধারন করে। চা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, চিকিৎসা, বাসস্থানসহ আনুষঙ্গিক সকল সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির দাবি নিয়ে দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের পর নির্বাচিত শ্রমিক ইউনিয়ন নেতারা মাসিক চাঁদা আদায়ে ব্যস্ত থাকলেও মজুরি বৃদ্ধির বিষয়ে তারা সক্রিয় নন বলে শ্রমিকরা অভিযোগ তোলেছেন। বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রতি দুই বছর অন্তর চা শ্রমিকদের মজুরী বৃদ্ধি করা হয়। সর্বশেষ ২০০৯ সালের ১লা সেপ্টেম্বর চা শ্রমিকদের মজুরী এ ক্লাস বাগানে দৈনিক ৪৮ টাকা, বি ক্লাস বাগানে ৪৬ টাকা এবং সি ক্লাস বাগানে দৈনিক ৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। বাংলাদেশ চা এসোসিয়েশন (বি,টি,এ) এবং চা শ্রমিক ইউনিয়নের মধ্যে দ্বি-পাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে নির্ধারিত উল্লেখিত মজুরীর মেয়াদ ছিল ২০১১ সালের ৩১ আগষ্ট পর্যন্ত। ২০১১ সালের ৩১ আগষ্ট চা শ্রমিকদের মজুরী সংক্রান্ত চুক্তির মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর চা শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দানা বাঁধতে শুরু করলে মালিক পক্ষ ৪৮ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৫২ টাকা ৬২ টাকা এবং সর্বশেষ সর্ব্বোচ্চ মজুরি ৬৯ টাকা নির্ধারণ করেন। মালিক পক্ষের নির্ধারিত ৬৯ টাকা হিসাবে শ্রমিকরা এখনো মজুরি পাচ্ছেন।

চা শ্রমিকরা জানিয়েছেন অসুখ বিসুখ হলে বাগান কর্তৃপক্ষ সব রোগের জন্য প্যারাসিটামল ট্যাবলেট দেয় এতে তারা সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত । মে দিবস আর নারী দিবস চা শ্রমিকদের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন করেনি ।
চা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবি দাওয়া বাস্তবায়নে চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন নিয়ে শ্রমিক নেতারা আন্দোলন শুরু করলে ২০১৪ সনের ১০ আগষ্ট দেশের ৫টি জেলার ২০টি উপজেলার ৭টি ভ্যালিতে (অঞ্চলে) ২২৭টি চা বাগানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচনে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের মাখন লাল কর্ম্মকার সভাপতি ও রামভজন কৈরী সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। কমিটি নির্বাচিত হওয়ার ৮ মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত এক টাকাও মজুরি বৃদ্ধি পায়নি।