সদ্য সংবাদ

পুরাতন সংবাদ: April 2019

কমলগঞ্জে টর্নেডোয় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ॥ অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত ॥ বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত ॥ আহত-৫

Pic-1
কমলকুঁড়ি রিপোর্ট ॥
প্রবল বর্ষণের সাথে মাত্র ১০ মিনিট স্থায়ী টর্নেডোয় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর ইউনিয়নে বসত ঘর বিধ্বস্ত, গাছপালা ভেঙ্গে ও বৈদ্যুতিক লাইনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঘরের উপর গাছ পড়ে ও টর্নেডোয় অর্ধশতাধিক বাড়িঘর  বিধ্বস্ত হয়ে মোট ৫ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (২৯ এপ্রিল) বেলা ১২টায় এই টর্নেডো হয়।
সরেজমিন ঘুরে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, বুধবার দুপুরে ধমকা বাতাসের সাথে ভারী বৃষ্টি পাত হচ্ছিল। বেলা ১২টার দিকে আকস্মিকতভাবে টর্নেডো শুরু হয়। মাত্র ১০ মিনিট স্থায়ী এ টর্নেডোয় শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ি, হাজী মো: উস্তওয়ার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের চালা উড়ে যাওয়াসহ প্রায় ৫০টি বসতঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। শমশেরনগর চা বাগানসহ গ্রামাঞ্চলে দুই শতাধিক গাছ ভেঙ্গে পড়েছে। এছাড়া গাছ ভেঙ্গে পড়ে তার ছিড়ে ৩৩ হাজার কেভি প্রধান বিদ্যুৎ লাইনের খুঁটি ও ১১ শ কেভি  আঞ্চলিক বিদ্যুৎ লাইনের ১০টি খুঁটি ভেঙ্গে পড়েছে। এছাড়া মুন্সীবাজার ইউনিয়নের রূপসপুরস্থ উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ হাই স্কুলের টিনের চালা উপড়ে যায়।

Police Fari copy
ঘটনার খবর পেয়ে বেলা ১টায় কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক রফিকুর রহমান, কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, প্যানেল চেয়ারম্যান পারভীন আক্তার লিলি, ভাইস চেয়ারম্যান সিদ্দেক আলী,  শমশেরনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুয়েল আহমদ ও উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান সরেজমিন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষনিক ঘর মেরামতের জন্য পুলিশ ফাঁড়িতে নগদ ৫ হাজার, মনোয়ারা বেগমকে ৫ হাজার, শমশেরনগর রেলওয়ে স্টেশন বস্তিতে ৩ হাজার, হাজী মো: উস্তওয়ার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়কে ৩ হাজার, ও শিংরাউলী গ্রামে মাফিয়া বেগমকে ২ হাজার টাকার অনুদান প্রদান করা হয়।
শমশেরনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুয়েল আহমদ বলেন, শমশেরনগর রেলস্টেশন সংলগ্ন লাল গোদাম এলাকায় বটগাছের বড় ডাল ভেঙ্গে ঘরের উপর পড়ে মহিলা ও শিশুসহ তিনজন আহত হয়েছেন। আবার রেল স্টেশন বস্তি এলাকায় বিধ্বস্ত ঘরের ভিতর থেকে বের হতে গিয়ে আরো দুইজন আহত হয়েছেন।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা  ১০ মিেিনটর টর্নেডোয় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আসলে ক্ষতির পরিমাণ আরো বেশী হবে। জনপ্রতিনিধিরা মাঠ পর্যায়ে অনুসন্ধান করে সঠিক তথ্য দিলে উপজেলা ও মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত সবাইকে সহায়তার নগদ অনুদান প্রদান করা হবে।

যুক্তরাজ্যে কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শামীম আহমেদ চৌধুরী মৃত্যুতের শোকসভা অনুষ্ঠিত

fd
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বিশিষ্ট শিল্পপতি ও রাজনীতিবিদ শামীম আহমেদ চৌধুরীর অকাল মৃত্যুতে যুক্তরাজ্য বসবাসরত কমলগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতৃবৃন্দ এর আয়োজনে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) শোকসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। যুক্তরাজ্যস্থ স্থানীয়  আমার গাওঁ রেষ্টুরেন্ট ব্রিকলেনে সাবেক ছাত্রনেতা তরিকুর রশীদ চৌধুরী  শওকত (এম বি এ- লন্ডন) এর সভাপতিত্বে ও এস, এম আতিকুর রহমান আতিকের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় কমলগঞ্জ সাবেক ছাত্রদল নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইমদাদুর রহমান রাহাত।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক  মাহিদুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসাবে ছিলেন যুক্তরাজ্য  বিএনপির সভাপতি শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুস, সাধারন সম্পাদক কয়ছর আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক  জসিম উদ্দিন সেলিম, সেচ্ছাসেবক দল যুক্তরাজ্য শাখার আহবায়ক নাসিম আহমদ শাহিন, যুগ্ম আহবায়ক আবুল হোসেন,  সেচ্ছাসেবক দল যুক্তরাজ্য শাখার সাবেক আহবায়ক এমদাদ হোসেন টিপু,  সিলেট ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি জাবেদ ইকবাল, জাসাস যুক্তরাজ্য শাখার সাধারন সম্পাদক ইকবাল হোসেন, বিএনপি সহ ধর্মবিষয়ক শামিম আহমেদ, যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতা আতাউর রহমান মিফতা, আহমেদ চৌধুরী মনি, মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারন সম্পাদক সৈয়দ সাকেরুজ্জামান সাকের, জাসাস  নেতা হাবিবুর রহমান বাবলু,  তরুনদল নেতা আমিরুল ইসলাম চৌধুরী, আবু নাসের শেখ, রাজিব আহমদ খান, শরফরাজ আহমেদ শরফু, কমলগঞ্জ উপজেলা সাবেক শিবির নেতা ইয়াকুব আলী, কমলগঞ্জ উপজেলা সাবেক ছাত্রদল নেতা নুর বক্স,  শওকত খান,  ইমাদ চৌধুরী, ইশতিয়াক চৌধুরী প্রমুখ।

11070661_10205701244743313_1395593434769957250_n
সভায় বক্তরা শামীম আহমেদ চৌধুরী কর্মময় জীবন তুলে ধরেন এবং অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন। পরে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।  -বিজ্ঞপ্তি

চায়ের দেশে চা শ্রমিক ভালো নেই ।। সারা দিন কাজ করে মজুরী মাত্র ৬৯ টাকা!

tea-1

নূরুল মোহাইমীন মিল্টন :

চা শ্রমিকদের বহুল আকাঙ্খিত বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচনের ৮ মাস অতিবাহিত হতে চললেও চা শিল্পে নিয়োজিত শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি না পাওয়ায় হতাশা ব্যক্ত করছেন শ্রমিকরা। দু’বছর অন্তর চা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির কথা থাকলেও ২০০৯ সনের পর আর কোন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। এককভাবেই মালিক পক্ষ কয়েক দফায় সর্বশেষ চা শ্রমিকদের সর্ব্বোচ্চ মজুরি ৬৯ টাকা নির্ধারন করে। চা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, চিকিৎসা, বাসস্থানসহ আনুষঙ্গিক সকল সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির দাবি নিয়ে দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের পর নির্বাচিত শ্রমিক ইউনিয়ন নেতারা মাসিক চাঁদা আদায়ে ব্যস্ত থাকলেও মজুরি বৃদ্ধির বিষয়ে তারা সক্রিয় নন বলে শ্রমিকরা অভিযোগ তোলেছেন। বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রতি দুই বছর অন্তর চা শ্রমিকদের মজুরী বৃদ্ধি করা হয়। সর্বশেষ ২০০৯ সালের ১লা সেপ্টেম্বর চা শ্রমিকদের মজুরী এ ক্লাস বাগানে দৈনিক ৪৮ টাকা, বি ক্লাস বাগানে ৪৬ টাকা এবং সি ক্লাস বাগানে দৈনিক ৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। বাংলাদেশ চা এসোসিয়েশন (বি,টি,এ) এবং চা শ্রমিক ইউনিয়নের মধ্যে দ্বি-পাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে নির্ধারিত উল্লেখিত মজুরীর মেয়াদ ছিল ২০১১ সালের ৩১ আগষ্ট পর্যন্ত। ২০১১ সালের ৩১ আগষ্ট চা শ্রমিকদের মজুরী সংক্রান্ত চুক্তির মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর চা শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দানা বাঁধতে শুরু করলে মালিক পক্ষ ৪৮ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৫২ টাকা ৬২ টাকা এবং সর্বশেষ সর্ব্বোচ্চ মজুরি ৬৯ টাকা নির্ধারণ করেন। মালিক পক্ষের নির্ধারিত ৬৯ টাকা হিসাবে শ্রমিকরা এখনো মজুরি পাচ্ছেন। চা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবি দাওয়া বাস্তবায়নে চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন নিয়ে শ্রমিক নেতারা আন্দোলন শুরু করলে ২০১৪ সনের ১০ আগষ্ট দেশের ৫টি জেলার ২০টি উপজেলার ৭টি ভ্যালিতে (অঞ্চলে) ২২৭টি চা বাগানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের মাখন লাল কর্ম্মকার সভাপতি ও রামভজন কৈরী সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। কমিটি নির্বাচিত হওয়ার ৮ মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত এক টাকাও মজুরি বৃদ্ধি পায়নি।

চা শ্রমিক নেতা ও ইউপি সদস্য সীতারাম বিন বলেন, নির্বাচিত কমিটি লেবার হাউস সংস্কারের নামে প্রথম দফা শ্রমিকদের কাছ থেকে মাসিক চাঁদা ৪০ টাকা ও পরে নিয়মিত ১০ টাকা হারে আদায় করে নিচ্ছেন। কিন্তু মজুরি বৃদ্ধিসহ চা শ্রমিকদের কল্যাণে বাস্তবে কোন কাজ করছেন না। চা শ্রমিক সংঘের মৌলভীবাজার জেলা কমিটির আহবায়ক রাজদেও কৈরী বলেন, বর্তমান দ্রব্য মূল্যের উর্ধ্বগতির বাজারে ৫ সদস্যের একটি চা শ্রমিক পরিবারের দৈনিক ৩০০ টাকা হিসাবে মজুরি বাস্তবায়ন দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়াও চা শ্রমিকদের চিকিৎসা সুবিধা, বাসস্থান, পানীয় জলের সুব্যবস্থা সহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি দাওয়া নিয়ে চা শ্রমিক সংঘ কর্তৃপক্ষের কাছে ধারাবাহিকভাবে দাবি তোলে ধরে আসছে। বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের কো-চেয়ারপার্সন মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জির মান্ত্রী জিডিসন প্রধান সুচিয়ান বলেন, আমাদের হাজার হাজার হেক্টর জমি চা বাগানের দখলে রয়েছে। অথচ চা বাগান সবগুলো জমিতে চা চাষাবাদ করছে না। চা শিল্পের সাথে জড়িত কয়েক লাখ শ্রমিকের গত দু’তিন বছরে এক টাকাও মজুরি বাড়েনি। এটি চা শ্রমিকদের জন্য অতীব দুঃখের বিষয়। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরী বলেন, চা শ্রমিকদের কাছ থেকে নিয়মিতহারে মাসিক ১০ টাকা হারে যে চাঁদা উত্তোলন হচ্ছে সেটি শ্রমিকদের কল্যাণে, প্রশাসনিক ও অফিস পরিচালনার জন্য ব্যয় হবে। তিনি আরও বলেন, মজুরি বৃদ্ধির বিষয়ে ইতিপূর্বে বিটিএ’র সাথে চা শ্রমিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দের ১ম দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে হরতাল-অবরোধ এসব বিভিন্ন কারনে কার্যক্রমে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে এবং মজুরি বৃদ্ধির বিষয়টি আলোচনাধীন রয়েছে বলে জানান।

মৌলভীবাজারে জাতীয় আইনগত সহয়াতা দিবস

কমলকুঁড়ি প্রতিবেদক ।।

সরকারি আইন সহায়তা পাওয়ার উন্মুক্ত হলো দ্বার, বিকল্প বিরোধ নিস্পত্তি সংযুক্ত হল এবার- এই স্লোগান নিয়ে মৌলভীবাজারে উদযাপিত হয়েছে জাতীয় আইনগত সহয়াতা দিবস।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে জেলা জজ আদালত প্রাঙ্গণ থেকে একটি র‌্যালি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক পদক্ষিণ করে আবার একই স্থানে এসে শেষ হয়।

র‌্যালিতে জেলা ও দায়রা জজ মো. শফিকুল ইসলাম, মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ তোফায়েল আহম্মদ, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক তাবাস্সুম বেগম, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মমতাজ বেগম, জেলা আইনজীবী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান, ব্যাংক অ্যাসসিয়েশনের সভাপতি মো. আবু তাহেরসহ জেলা জজ আদালতের কর্মকর্তা ও কামচারীরা অংশ নেন।

মৌলভীবাজারের প্রেমনগরে চা শ্রমিকের হাতে ১৩ ফুট লম্বা অজগর ধরা পড়লো

কমলকুঁড়ি প্রতিবেদক ।।

মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় গিয়াসনগর ইউনিয়নের প্রেমনগর চা বাগান থেকে ১৩ ফুট লম্বা একটি অজগর উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে প্রেমনগর চা বাগানের পারল ঢিলা থেকে অজগরটি উদ্ধার করেন বাগানের শ্রমিকরা। ওই বাগানের শ্রমিক উত্তম বিকমণ জানান, বিকেলে বাগানের পারল ঢিলায় জঙ্গল পরিস্কার করতে যান তিনি। এ সময় হঠাৎ দেখতে পান বিশাল আকারের ওই অজগরটি একটি ছাগল ধরে খাচ্ছে। তিনি ভয়ে চিৎকার করলে এলাকাবাসী এসে অজগরটি আটক করে। বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ও (বণ্যপ্রাণী) মো. তৌফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে অজগরটি উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছেন তারা।  তিনি আরো জানান, অজগরটি প্রায় ১৩ ফুট লম্বা। খাদ্যের সন্ধানে এটি লোকালয়ে চলে এসেছে। পর্যবেক্ষণ শেষে যেকোনো দিবসে গণ্যমান্য বক্তিদের নিয়ে আজরগরটি লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত করা হবে।

নেপালে ভূমিকম্প ।। ৮০ লাখের উপরে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত ।। মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৪ হাজার

30

কমলকুঁড়ি ডেস্ক রিপোর্ট ।।

শনিবারে স্মরণকালে ভয়াভহ ভূমিকম্পে নেপালে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। এ পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৪ হাজারের উপরে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৮০ লাখের উপরে।  আহত প্রায় সাড়ে সাত হাজারের বেশি। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যাচ্ছে মধ্যরাতের পর থেকে দেশটিতে এখন পর্যন্ত চারটি আফটারশক আঘাত হেনেছে। সর্বশেষ আফটারশকটি হয়েছে আজ ভোরে। লাখ লাখ মানুষ আরও একটি রাত খোলা আকাশের নিচে রাত কাটিয়েছে। দেশটিতে ব্যাপকভিত্তিক আন্তর্জাতিক উদ্ধার অভিযান চলছে। সরকার বলছে, সেখানে চিকিৎসক, কম্বল, বিদ্যুৎ, গাড়িচালক সবকিছুর অভাব দেখা দিয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ার। বর্ষা মৌসুম চলে আসার আগেই ক্ষতিগ্রস্তদের আশ্রয় দেবার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছেন একটি দাতব্য সংস্থার মুখপাত্র। নেপালের সেনা ও পুলিশ বাহিনীর প্রায় পুরোটাই উদ্ধার তৎপরতায় নিয়োগ করা হয়েছে। উদ্ধার কাজে যোগ দিয়েছেন, নেপালের সেনা ও পুলিশের প্রায় সব সদস্য। এছাড়া, এভারেস্টে আটকে পড়া দুশ’ অভিযাত্রীকেও জীবিত ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশ, চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বেশ কিছু দেশ ত্রাণ পাঠিয়েছে। তবে, আন্তর্জাতিক মহলকে আরো সহায়তা পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছে নেপাল।

ভূমিকম্পের তাণ্ডবে ধ্বংসস্তুপ নেপাল। এর মাঝেও দুদিন পর ধ্বংসস্তুপ থেকে উদ্ধার করা হয় জীবিত একজনকে। যেন মৃত্যুকে ফাঁকি দিয়ে জীবনের আলো পেলেন কাঠমান্ডুর এই বাসিন্দা।
এখন পর্যন্ত রাজধানী কাঠমান্ডুতে ইট-পাথরের ধ্বসংস্তুপ সরাতেই ব্যস্ত, উদ্ধারকারী দল।

সোমবার সন্ধ্যায় ভারত নেপাল সীমান্তে ৫ মাত্রার ভূমিকম্পের পর বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা বাড়ছেই। কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষকের হিসেবে, ভারতের সঞ্চারনশীল ও পরিবর্তনযোগ্য ভূ-ত্বকের বিশাল খণ্ড বা টেকটোনিক প্লেটের অ্যালাইমেন্টে পরিবর্তনের জন্যই এই ভূমিকম্প। মধ্য এশীয় টেকটোনিক প্লেটও এই প্লেটের সাথে মিশেছে সিকিম থেকে নাগাল্যান্ড পয়েন্টে। এই সংযোগস্থলে ভারতীয় প্লেটটি মধ্য এশীয় প্লেটের নিচ দিয়ে চলে গেছে। ফলে এ অংশটি আরো ঝুঁকিপূর্ণ। গবেষকেরা বলছেন, এরপর যেখান থেকে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হবে তার মধ্যে রয়েছে সিকিম, ভূটান, আসাম, লাগাল্যান্ড ও সিলেট। এই লাইনের যে কোন স্থান ভূমিকম্পের কেন্দ্র হলে নেপালের মতো ভয়াব্হ ধ্বংসযজ্ঞ ও প্রাণহানি ঘটবে এসব জায়গায়ও।

রাজনগরে ওয়ালিমার পর প্রেমিকের হাত ধরে নববধূর পলায়ন : অতপর আটক

এম. মছব্বির আলী::
মৌলভীবাজারের রাজনগরে প্রেমিকের হাত ধরে ওয়ালিমার পর নববধূর পালিয়ে যাওয়ার ৪ মাস পর ওই নববধূসহ প্রেমিককে মৌলভীবাজার শহরের একটি বাসা থেকে আটক করেছে। এ ঘটনায় নববধূ ও প্রেমিকসহ ৫ জনের নাম উল্লেখ করে রাজনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন নববধূর আইনানুগ স্বামী। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকালে নববধূ ও তার প্রেমিককে মৌলভীবাজার আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত বছর ২৮ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মল্লিকসরাই গ্রামের আনকার আলীর মেয়ে আনিছা আক্তার স্বপ্নার (২২) সঙ্গে বিয়ে হয় রাজনগর উপজেলার দক্ষিণ বালিগাঁও গ্রামের সাজিদ মিয়া চৌধুরীর ছেলে লতিফুর রহমান চৌধুরী মসুদ (৩২) এর সঙ্গে। বিয়ের ২ দিন পর ৩০ ডিসেম্বর ২০১৪ ওয়ালিয়া অনুষ্ঠিত হয়। ওয়ালিমা অনুষ্ঠান শেষে পরদিন ভোররাতে নববধূ আনিছা আক্তার স্বপ্না পালিয়ে যান রাজনগর উপজেলার মহলাল গ্রামের মখলিছুর রহমানের ছেলে মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের অনার্স ২য় বর্ষের ছাত্র জসিম উদ্দিন (২৪) এর সঙ্গে। এরপর থেকে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে উভয়ে কমলগঞ্জ, মৌলভীবাজার, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে বিভিন্ন পরিচিতজনদের আশ্রয়ে বসবাস করছিলেন।

নববধূ আনিছা আক্তার স্বপ্না জানান, বিয়ের পর ওয়ালিমার দিন আমি আমার মায়ের সঙ্গে যেতে চাই। এ জন্য কান্নাকাটি করি। কান্নার কারণে আমার স্বামী ও ভাসুর মিলে আমাকে বেদম মারধর করেন। আমার কাছে যৌতুক চান। তাদের নির্যাতনের কারণে আমি রাতে বেরিয়ে যাই। মৌলভীবাজারে ম্যান্টোর্স-এ পড়ার সময় জসিমের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। স্বামীর বাড়ি থেকে বেরিয়ে আমি একটি পত্রিকার গাড়িতে করে ফজরের সময় মৌলভীবাজার শহরের শাহ মোস্তফা মাজারের পাশে নামি। মোবাইল ফোনে জসিমের সঙ্গে যোগাযোগ করি।

নববধূর স্বামী লতিফুর রহমান চৌধুরী জানান, পারিবারিক পছন্দে বিয়ে হয় স্বপ্নার সঙ্গে। বিয়েতে আমার প্রায় ১৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। বিয়েতে আমি সোনা-দানা, ডায়মন্ডের আংটি সব দিয়েছি। কিন্তু সে আমার পারিবারিক মর্যাদা ও আর্থিক বিশাল ক্ষতি করেছে। তিনি জানান, সে পালিয়ে যাওয়ার পরই জানতে পারি জসিমের সঙ্গে স্বপ্নার দীর্ঘ দিনের গভীর সম্পর্ক ছিল। স্বপ্না অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন-সব বানানো কথা। এদিকে নববধূ পালিয়ে যাওয়ার পর তার মা হেনা বেগম রাজনগর থানায় গুম ও ইটভাটায় পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ এনে লিখিত অভিযোগ দেন স্বপ্নার স্বামীর ওপর। রোববার বিকালে ওই নববধূ ও তার প্রেমিকাকে আটকের পর স্বামী লতিফুর রহমান চৌধুরী বাদী হয়ে প্রেমিক জসিম উদ্দীন, নববধূ আনিছা আক্তার, তার বোন লুবনা আক্তার, স্বামী ফয়ছল আজাদ খান ও নববধূর মা হেনা আক্তারকে আসামি করে মামলা করেন। পুলিশ জসিম উদ্দিন ও আনিছা আক্তারকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার বিকালে আদালতে পাঠিয়েছে। এ ব্যাপারে রাজনগর থানার ওসি মোঃ শামছুদ্দোহা পিপিএম বলেন, প্রেমিক যুগলকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মুন্সীবাজার-শমশেরনগর সড়কে দূর্ঘটনায় ১ জন নিহত ॥ আহত-৩

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট
মৌলভীবাজারে কমলগঞ্জে সড়ক দূর্ঘটনায় আঞ্জব আলী নামক এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। অপর ৩জন যাত্রী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে ২৬ এপ্রিল রবিবার সন্ধ্যা ৭টায মুন্সীবাজার- শমশেরনগর সড়কের কারিতাস এলাকায়।
জানা যায়, শমশেরনগর থেকে অটোরিক্সা (সিএনজি) যোগে আসা যাত্রী মুন্সীবাজার ইউনিয়নের বনবিষ্ণুপুর গ্রামে আঞ্জব আলী (৫০) কারিতাস এলাকায় নেমে রাস্তা পারাপারে সময় হঠাৎ করে বিপরীত মুন্সীবাজার থেকে আসা যাত্রীবাহী সিএনজি  (মৌলভীবাজার- থ- ১১-৮৮৯০) আঞ্জব আলীকে ধাক্কা দিলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে আহত হন। অপর ৩ জন যাত্রী আহত হয়ে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গুরুতর আহত আঞ্জব আলীকে কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত বলে ঘোষণা করেন। তাৎক্ষনিকভাবে ৩জন আহতদের নাম পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে কমলগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সিএনজিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। মুন্সীবাজার ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালিব তরফদার ও মুন্সীবাজার সিএনজি ষ্ট্যান্ডের ম্যানেজার আব্দুল কবির চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

শমশেরনগরে অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে যুবক-যুবতী আটক

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর এয়ারপোর্ট রোড এলাকা থেকে অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে যুবক-যুবতীকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃত কমলগঞ্জ থানায় সোপর্দ্দ করা হয়েছে।
শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ি সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে একটি প্রাইভেট কারের মধ্যে অপরিচিত যুবক-যুবতীর অসামাজিক কার্যকলাপের বিষয়টি দেখে শমশেরনগর সিএনজি ষ্ট্যান্ডের চালকরা স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দেয়। খবর পেয়ে ফাঁড়ির এএসআই জিয়াউল ইসলাম একদল পুলিশ নিয়ে যুবক-যুবতীকে আটক করেন। আটককৃতরা হলেন মৌলভীবাজার সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের আং মালিকের ছেলে আবুল কাশেম (১৮) ও শমশেরনগর জুঁই বিউটি পার্লারের কর্মী পপি চৌধুরী (১৫)। আটককৃতদের রোববার বিকেলে কমলগঞ্জ থানায় সোপর্দ্দ করা হয়েছে বলে শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মতিউর রহমান নিশ্চিত করেছেন।
কমলগঞ্জ থানার ওসি মো. এনামুল হক রোববার সন্ধ্যায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, স্থানীয় লোকজন প্রেমিক যুগলকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ্দ করেছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানোর জন্য পুলিশ তাদের থানায় এনেছে। আটককৃতদের অভিভাবকদের খবর দেয়া হয়েছে। অভিভাবক আসলে তাদের কাছে তুলে দেয়া হবে।

কমলগঞ্জে অরফান ইন এ্যাকশন এর উদ্যোগে এতিম, দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃত্তি বিতরণ

Pic--Kamalgonj
কমলকুঁড়ি রিপোর্ট
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে অরফান ইন এ্যাকশন এর উদ্যোগে এতিম, দরিদ্র ও মেধাবী ১৯ জন শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃত্তি বিতরণ করা হয়েছে। রোববার দুপুর ২টায় কমলগঞ্জ আব্দুল গফুর চৌধুরী মহিলা কলেজ মিলানায়তনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির অর্থ তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
অরফান ইন এ্যাকশন এর সভাপতি লেখক-গবেষক আহমদ সিরাজের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুল হাসান চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আব্দুল গফুর চৌধুরী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. হেলাল উদ্দিন, সাংবাদিক প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ, মধ্যভাগ হাফিজিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম মাও: আব্দুল মোছাব্বির, শিক্ষক হাফিজ মাহতাব উদ্দিন। উপকারভোগী শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কলেজ শিক্ষার্থী মোছা: রাশনা বেগম প্রমুখ। অনুষ্ঠানে মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ, শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজ, কমলগঞ্জ গণ মহাবিদ্যালয়, আব্দুল গফুর চৌধুরী মহিলা কলেজ, কমলগঞ্জ মডেল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, কমলগঞ্জ বহুমুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, আহমদ ইকবাল মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়, ইসলামপুর পদ্মা মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়, মধ্যভাগ হাফিজিয়া মাদ্রাসার ১৯ জন শিক্ষার্থীকে মাসিক ১ হাজার টাকা করে মোট ১৯ হাজার টাকা শিক্ষা বৃত্তি প্রদান করা হয়।
উল্লেখ্য, কমলগঞ্জে ২০১৩ সাল হতে অরফান ইন এ্যাকশন সংস্থাটি লন্ডন প্রবাসী শাহানাজ চৌধূরী  ও তার স্বামী গোলাম কুদ্দুস এর অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে।