সদ্য সংবাদ

পূজা রহস্য ও দুর্গা-পূজা

111

ডাঃ শ্রীনিবাস দেবনাথ (এম.বি.বি.এস)।
———————————————————-
শরত এসেছে পূজোর বার্তা নিয়ে। মায়ের পূজো। শারদীয় দুর্গা পূজা। এক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ রহস্য।
তাহলে পূজা কি?

হ্যা, পূজা হল দিব্য ভাবে নিমগ্ন হৃদয়ে পরমসত্ত্বার প্রেমে বিভোর হয়ে তাঁর অর্চনা করা। তাঁর কৃপা তথা প্রেম-ভক্তি প্রাপ্তির এক উপায়। পূজা দুই রকমে হয়- “সাকারে” মনোময়ী কিংবা তত্ত্বময়ী বিগ্রহে এবং “নিরাকারে” হৃদয়ের গভীরে মানস ভাবনায়।

তবে এক পরমেশ্বরের পূজা না করে বহু দেবদেবীর পূজা কেন?
না, বহু দেবদেবী পরমেশ্বরকে খন্ডিত করে না। কেননা বহু নয়, একেরই সবিশেষ বহু-রূপ মাত্র। তিনি সর্বশক্তিমান। তাই ভক্তের প্রয়োজনে বহুরূপ তথা বহু অভিব্যক্তি তাঁর।
বেদান্ত বলে পরমেশ্বর এক এবং অদ্বিতীয়। পরমেশ্বরের কোন অংশ তথা খন্ড নাই। তিনি নিত্য পরিপূর্ণ। সংস্কৃত দিব ধাতু থেকেই দেবতা শব্দের উৎপত্তি। দিব মানে উজ্জ্বল জ্যোতি। অর্থাৎ এক একটি বিশেষ গুণের প্রকাশ একেকজন দেব-দেবী। পরমেশ্বরের অনেক নাম রয়েছে। যেমন পরম শিবের সহস্র নামের স্তব আছে। তার এই নামগুলোর প্রত্যেকটিই গুণবাচক। যেমন অগ্নি, তেজতত্ত্ব। বেদে অগ্নির মহিমা প্রায় সর্বোচ্চ। বিশেষ গুণের কারনে বিশেষ নাম। তিনি পরমেশ্বরের এক নাম-গুণময় রূপ। দেবতাগন তাই অখন্ড পরমেশ্বরের বিশেষ বিশেষ রূপ হওয়ায় দিব্য ভাবে অধ্যাত্ম বিদ্যায় ব্রহ্মই।

দেবী দুর্গা সেই ব্রহ্মেরই মাতৃরূপ। তিনি পরমাত্মা পরমেশ্বর সদাশিবের শক্তি। তিনি পরমেশ্বরী। তিনিই জগতের রহস্য। শ্রী শ্রী চন্ডিতে তাই পরম দেবী দুর্গা বলেছেন-
“একৈবাহং জগত্তত্র দ্বিতীয়া কা মামপরা।”
অর্থাৎ বিশ্ব-জগতে একমাত্রই আমিই আছি। আমি ছাড়া দ্বিতীয় আর কেউ নাই।

মাতা দুর্গা পরম দেবী। কেননা তিনিই সমস্ত শক্তির উৎস। দুর্গা পূজায় দেবী দুর্গার সাথেই আছেন দেবী লক্ষ্মী, সরস্বতী, গনেশ এবং কার্তিকেয়। দেবীর চরণতলে সিংহ এবং মহিষাসুর। আর উর্ধ্বে আছেন পরম শিব। তাৎপর্য হল, দেবীর অর্চনায় সমস্ত ঐশ্বর্য, জ্ঞান, সিদ্ধি, বীরত্বের প্রাপ্তি হয় এবং সমস্ত আসুরিক ও পাশবিক শক্তির পদদলনে পরম শিবজ্ঞান প্রাপ্তি ঘটে। শিবজ্ঞান তথা শিবত্ব লাভই দুর্গাপূজার উদ্দেশ্য। কালে হোক, অকালে হোক, দেবী যেন সর্বদা জাগরিত থাকেন হৃদয়ের গভীরে। তাতেই সর্বমঙ্গল সর্বক্ষণে।
এই শরতের মধুক্ষণে দেবীর পূজায় হৃদয়ের সমস্ত আসুরিক ও পাশবিক প্রবৃত্তি দূরীভূত হোক। দিব্য জ্ঞানে প্রেম-ভক্তিতে মগ্ন হোক হৃদয়। সর্বত্র শান্তি বিরাজ করুক।
“যা দেবী সর্বভূতেষু শান্তি রূপেণ সংস্থিতা।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ।।”