সদ্য সংবাদ

বাংলাদেশ মণিপুরী আদিবাসী ফোরাম-এর সাধারণ সম্পাদক সমরজিত সিংহের স্বাগত বক্তব্য

বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী ফোরাম ও বাংলাদেশ মণিপুরী আদিবাসী ফোরাম-এর যৌথ উদ্যোগে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের মণিপুরী, খাসি, ত্রিপুরী, গারো, রাজবংশী, সাঁওতাল, ওঁরাও এবং চা-শ্রমিকদের মধ্যে বিদ্যমান ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর ভাষা-সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশ, মাতৃভাষায় প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা চালু এবং শিশুশিক্ষার মান-উন্নয়নের ক্ষেত্রে করণীয় বিষয়ে সকল ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর সমন্বয়ে প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই মহতী সম্মিলনীর সম্মানিত সভাপতি পিডিশন প্রধান, সভাপতি, বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী ফোরাম, সম্মানিত প্রধান অতিথি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি-বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী, জনপ্রিয় নাট্যব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর এমপি মহোদয়; বিশেষ অতিথি ড.আব্দুল আউয়াল বিশ্বাস, অধ্যাপক নৃ-বিজ্ঞান বিভাগ এবং পরিচালক আইকিউএসি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়; বিশেষ অতিথি ড. সৌরভ সিকদার, অধ্যাপক, ভাষাবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; বিশেষ অতিথি মো: তোফায়েল ইসলাম, জেলা প্রশাসক, মৌলভীবাজার; বিশেষ অতিথি মোহাম্মদ শাহজালাল বিপিএম, পুলিশ সুপার, মৌলভীবাজার; বিশেষ অতিথি বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক মো: রফিকুর রহমান, কেন্দ্রীয় কার্যকরী সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এবং চেয়ারম্যান, কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ; বিশেষ অতিথি ড. কানিজ ফাতেমা, উপ-পরিচালক, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইন্সটিটিউট, শিক্ষা মন্ত্রণালয়; বিশেষ অতিথি তাহমিনা খাতুন, বিভাগীয় উপ-পরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা, সিলেট বিভাগ; বিশেষ অতিথি মোহাম্মদ মাহমুদুল হক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, কমলগঞ্জ, বিশেষ অতিথি তফাদার রেজুয়ানা ইয়াসমিন সুমি, প্যানেল চেয়ারম্যান-১, মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ এবং উপস্থিত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিকবৃন্দ এবং আদিবাসী নেতৃবৃন্দসহ উপস্থিত সুধীজন সবাইকে বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী ফোরাম ও বাংলাদেশ মণিপুরী আদিবাসী ফোরামের পক্ষ থেকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ ও সশ্রদ্ধ অভিনন্দন জ্ঞাপন করছি।

বাংলাদেশ জাতিবৈচিত্র্যের দেশ। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর লোকেরা এই দেশে বসবাস করছে। তাদের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি আমাদের দেশের জাতীয় সংস্কৃতিকে করেছে সমৃদ্ধ। তারা নিজস্ব কৃষ্টি-সংস্কৃতি ধারণ করেও জাতীয়তাবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের সকল উন্নয়নমূলক কর্মকা-ে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার ও দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর লোকেরা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর লোকদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে  বীরবিক্রমে অংশগ্রহণ করেছে। দেশমাতৃকার জন্য শহিদ হয়েছে অনেক আদিবাসী। কিন্তু সংবিধানের ২৩ (ক)  ধারায় দেশের ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীসমূহের সকল ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি রক্ষার কথা বলা হলেও বাস্তবে তেমন প্রতিফলিত হচ্ছে না। এমনকি কিছু ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভূমির অধিকারহীনতা, জীবনের নিরাপত্তাহীনতা, উন্নয়নের নামে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ ইত্যাদি বহুমাত্রিক সমস্যায় বিপর্যস্ত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর লোকেরা।

একটি জাতির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার প্রধান হাতিয়ার হচ্ছে ভাষা। আর ভাষা সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজন একে শিক্ষার মাধ্যম করা। এ দেশের আদিবাসীরা তাদের মাতৃভাষায় প্রাক-প্রাথমিক স্তরে শিক্ষা চালু করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে এসেছে। ২০১৩ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রাক-প্রাথমিক স্তরে আদিবাসী ভাষায় শিক্ষাদান কার্যক্রম চালু করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। অবশেষে ২০১৮ সালে প্রথম দফায় মাত্র ৫টি আদিবাসী ভাষায় শিক্ষাদান কার্যক্রম শুরু হয়। আমরা আশাবাদী, যত দ্রুত সম্ভব পর্যায়ক্রমে সকল আদিবাসী ভাষায় আদিবাসী শিশুরা অধ্যায়নরত দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহ পাঠদান শুরু হবে।
বাংলাদেশের ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর ভাষাসমূহের লিখিত সাহিত্য এতটা সমৃদ্ধ নয়। এখনো অনেকাংশে মৌখিক সাহিত্যের উপর নির্ভরশীল। লোকগীতি, লোকজ ছড়া, লোকগল্প, ধাঁধাঁ, প্রবাদ-প্রবচন, নীতিকথা ইত্যাদির মাধ্যমে এই ভাষাসমূহের বিকাশ ঘটেছে। রচিত হয়েছে সেই সব ভাষাভাষী মানুষের কালের ইতিহাস। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে আদিবাসী গোষ্ঠীগুলোর ভাষার উন্নয়ন ও বিকাশ সাধন সম্ভব হয়ে ওঠেনি। পার্শ্ববর্তী সমৃদ্ধ ভাষা ও সংস্কৃতির সংস্পর্শে এসে অনেক ভাষা হারিয়ে ফেলতে শুরু করেছে নিজস্ব রূপ ও জৌলুস। অনুপ্রবেশ ঘটতে শুরু করেছে অন্য ভাষার অনুষঙ্গ। স্বাভাবিক বিকাশের ধারায় গ্রহণ-বর্জন প্রক্রিয়া ও মিথস্ক্রিয়া না হওয়ায় অনেক জাতিগোষ্ঠীর ভাষা ধীরে ধীরে মহাকালের অতল গহ্বরে হারিয়ে যেতে বসেছে। আদিবাসী ভাষা-সাহিত্য-সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও বিকাশের ধারাটি খুবই ক্ষীণ। ভাষা-সাহিত্য সংরক্ষণের প্রয়াস হিসেবে ব্যক্তি উদ্যোগে বা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে কিছু প্রকাশনা বের হচ্ছে যা প্রয়োজনের তুলনায় নিতান্তই অপ্রতুল। রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া আদিবাসীদের ভাষা-সাহিত্য-সংস্কৃতির সংরক্ষণ ও বিকাশ সুদূর পরাহত। এক্ষেত্রে সদাশয় সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
সিলেট অঞ্চল তথা বাংলাদেশের আদিবাসী শিশুদের শিক্ষার মানের আশানুরূপ উন্নতি হচ্ছে না। কোন কোন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে শিশুদের বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ার প্রবণতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। ভাষার প্রতিবন্ধকতা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ভাষাগত ব্যবধান, পাঠ্যপুস্তকের বিষয়বস্তুর সাথে শিক্ষার্থীর সমাজ, সংস্কৃতি ও জীবনধারার অসামঞ্জস্যতা, মাতৃভাষায় লিখিত পাঠ্যপুস্তকের অভাব ইত্যাদির কারণে শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ছে। প্রাক-প্রাথমিক স্তরে মাতৃভাষায় শিক্ষা চালু করার মাধ্যমে এই সমস্যাগুলোর নিরসন সম্ভব। যত দ্রুত সম্ভব সিলেট তথা বাংলাদেশের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর শিশুদের মাতৃভাষায় শিক্ষাদানের আওতায় নিয়ে আসার জোর আবেদন রাখছি। মণিপুরীদের সংস্কৃতি চর্চা ও বিকাশের জন্য বাংলাদেশ সরকার মণিপুরী ললিতকলা একাডেমি স্থাপন করে দিয়েছে। সিলেট অঞ্চলের অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী যেমনÑ খাসি, ত্রিপুরী, গারো, রাজবংশী, সাঁওতাল, ওঁরাও এবং চা-শ্রমিকদের মধ্যে বিদ্যমান ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রায় ৯৫টি জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি চর্চা ও বিকাশের জন্য কোন ব্যবস্থা নেই বিধায় তাদের জন্য সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন ২০১০ এর আওতায় একটি কালচারাল একাডেমি স্থাপন করার জন্য মাননীয় সংস্কৃতি-বিষয়ক মন্ত্রী মহোদয়ের সুদৃষ্টি কামনা করছি। চা-শ্রমিকদের মধ্যে বিদ্যমান প্রায় ৯৫টি ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর অধিকাংশই তাদের মূল ভাষা ও সংস্কৃতি থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১০টি জনগোষ্ঠী কোনরকমে তাদের ভাষা ও সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রেখেছে। এমনকি একটি পরিবার একটি ভাষা জীবিত রেখেছে এমন প্রমাণও রয়েছে। এতে অদূর ভবিষ্যতে এই ১০টি ভাষাও বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। এছাড়াও চা-জনগোষ্ঠীসহ এই ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর শিশুরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়ে ঝরে পড়ছে। তাই তাদের শিক্ষার প্রতি সরকারের সহানুভূতি একান্ত কাম্য। এক্ষেত্রে এই সব ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর গ্রাম/পাড়া/পল্লী/খাসি পুঞ্জি এবং বাগানসমুহে পল্লি কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর চেয়ারম্যান ড. কাজী খলিকুজ্জমান মহোদয়ের প্রবর্তিত সমৃদ্ধি কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত বৈকালিক প্রাক-প্রাথমিক শিশুশিক্ষা কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে শিশুশিক্ষার মান উন্নয়নের ক্ষেত্রে মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের সহযোগিতা কামনা করছি। দেশের সমতলভূমির ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর সমস্যা নিরসন এবং সার্বিক উন্নয়নের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম-বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুরূপ পৃথক একটি আদিবাসী তথা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীবিষয়ক মন্ত্রণালয় স্থাপনের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি। এছাড়াও চা-বাগানের সকল ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি প্রদান এবং বাংলাদেশের মণিপুরিদের সংস্কৃতি বিকাশের লক্ষ্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সহযোগিতায় ভারত তথা ভারতের মণিপুর রাজ্যের মণিপুরিদের সাথে সংস্কৃতি বিনিময়ের ক্ষেত্র তৈরি করার জোর আবেদন জানাচ্ছি।

উপস্থিত সুধীজনের সদয় জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি যে, আমেরিকার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় অনুষ্ঠিত আদিবাসী-বিষয়ক অধিবেশনে আমি ২০১৫ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশ তথা বিশ্বের আদিবাসীদের ভূমিসমস্যা নিরসন, মাতৃভাষায় শিশুশিক্ষা চালু, শিশুশিক্ষার উন্নয়নে সহযোগিতা, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর বিলুপ্ত ভাষা পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য জাতিসংঘ তথা আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের কাছে জোর আবেদন জানিয়ে আসছি। এমনকি পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি সমস্যা নিরসনের জন্য গঠিত ভূমি কমিশনের মতো সমতলভূমির আদিবাসীদের ভূমি সমস্যা নিরসনে ভূমি কমিশন গঠনের জোর দাবি জানিয়েছি। বাংলাদেশের ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর মাতৃভাষায় শিশুশিক্ষা চালু এবং বাংলাদেশে সন্ত্রাস দমনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সক্রিয় ভূমিকার কথা বিশ্ব আদিবাসী সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী নেতৃবৃন্দকে  আনন্দের সাথে অবহিত করেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রচলিত সরকারি চাকুরির কোটা সিস্টেম বাতিলের ঘোষণা দিলেও ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর প্রতি অগাধ ভালবাসায় চাকুরি কোটা বহাল রাখার ঘোষণা এবং ইউনেস্কো কর্তৃক ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূমিকার কথা বিশ্ব আদিবাসী সম্প্রদায়কে আনন্দের সাথে অবহিত করেছি।
সংস্কৃতি-বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও গণসাক্ষরতা অভিযান-এর আর্থিক সহায়তায় এবং এবি ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক এবং আইএফআইসি ব্যাংক-এর বিজ্ঞাপন সহায়তার মধ্য দিয়ে স্মারকপত্র ‘বর্ণালি’ প্রকাশনাসহ সম্মিলনীটি সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছি। সংস্কৃতি-বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও গণসাক্ষরতা অভিযান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে তাঁদের এই সহায়তার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।
বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী ফোরাম ও বাংলাদেশ মণিপুরী আদিবাসী ফোরামের কর্মীরা সম্মিলনী সফল করতে যথেষ্ট শ্রম দিয়েছেন। তাদের শ্রমের বিনিময়েই আজকের এই সুন্দর আয়োজন সম্ভব হয়েছে। তাদের প্রতিও রইল আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা।
সিলেটের বিভিন্ন স্থান থেকে ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর লোকেরা বহু কষ্ট স্বীকার করে আজকের সম্মিলনীতে অংশগ্রহণ করে সম্মিলনীকে সাফল্যম-িত করেছেনÑ এজন্য সবার প্রতি আমি অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
আজকের সম্মিলনীর মাননীয় প্রধান অতিথি আসাদুজ্জামান নূর এমপি মহোদয়, সম্মানিত অতিথিবর্গ এবং উপস্থিত সকল সুধিজন শত ব্যস্ততার মধ্যেও আমাদের আমন্ত্রণ রক্ষা করে সম্মিলনীতে উপস্থিত হয়ে সম্মিলনীর শ্রীবৃদ্ধি করেছেন। এজন্য সম্মানিত অতিথিবৃন্দসহ সকলের প্রতি সশ্রদ্ধ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আজকের এই মহতী সম্মিলনীর মূল উদ্দেশ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর ভাষা-সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশ এবং মাতৃভাষায় প্রাক-প্রাথমিক স্তরে শিক্ষা চালুসহ শিশুশিক্ষার মান উন্নয়নে করণীয় বিষয়ে অতিথিবৃন্দের সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করছি।   ০১৭৩৭৩১৮২৫৫ দুলাল

আজকের এই মহতী সম্মিলনীর মাধ্যমে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর মানুষদের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও সৌভ্রাতৃত্বের যে বন্ধন রচিত হয়েছে তা চিরদিন অটুট থাকুকÑ এটাই আমাদের প্রত্যাশা। ধন্যবাদ সবাইকে।