সদ্য সংবাদ

ইজতেমা ও তাবলিগ জামাতের কিছু কথা

মাওলানা মাহিদুল ইসলাম

received_1543967905669799

বিশ্বব্যাপী ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে সর্বপ্রথম যে কর্মসূচি দেওয়া হয়েছিল তার নাম দাওয়াত। তিনি ও তার একনিষ্ঠ সাহাবারা পবিত্র কালেমার দাওয়াত নিয়ে ঘুরেছেন পথে-প্রান্তরে ও মানুষের দুয়ারে-দুয়ারে। মানুষ তাদেরকে পাগল বলেছে, থু-থু দিয়েছে, ঢিল মেরেছে, রক্তাক্ত করেছে। তবুও তারা অবিরাম দাওয়াতের কাজ করেছেন।

তারি ধারাবাহিকতায় উপমহাদেশের মুসলমানদের ধর্মীয় জীবনে চরম অবক্ষয়ও এক দুঃসময়ে বিংশ শতাব্দির তৃতীয় দশকে মাওলানা ইলিয়াস (র.) তাবলীগ আন্দোলন এবং তাবলীগ জামাতের কার্যক্রম শুরু করেন। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে অদ্যাবধি এ আন্দোলন সারা বিশ্বে মুসলমানদের মাঝে দাওয়াতে দ্বীনের তৎপরতা অবিরাম গতিতে চালিয়ে যাচ্ছে। তাবলীগ জামাত হলো একটি আন্তর্জাতিক দাওয়াতি সংস্থা। ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস এবং ইবাদত সমূহের অনুশীলনও শিক্ষাদানই হচ্ছে তাবলীগ জামাতের মৌল কর্মসূচী।

হযরত ইলিয়াস (রহ) ১৩৫১ হিজরি সালে হজ থেকে ফিরে আসার পর সাধারণ মুসলমানদের দুনিয়া ও সংসারের ঝামেলা থেকে মুক্ত করে ছোট ছোট দলবদ্ধ করে, মসজিদের ধর্মীয় পরিবেশে অল্প সময়ের জন্য দীনি শিক্ষা দিতে থাকেন। এরই মাঝে একদা তিনি হুজুরে আকরাম (স) কে স্বপ্নে দেখেন এবং মহানবী (স) তাকে দাওয়াত ও তাবলিগের কাজের জন্য নির্দেশ দেন। মহানবী (স) এর নির্দেশ মোতাবেক তিনি দাওয়াত ও তাবলিগের কাজের সূচনা করেন। তারপর এ কাজকে আরও বেগবান ও গতিশীল করার জন্য এ উপমহাদেশের সর্বস্তরের আলেম-ওলামা, পীর মাশায়েখ ও বুজুর্গানদের কাছে দোয়া প্রার্থনা করা হয় এবং দিল্লির নিকটস্থ মেওয়াতে সর্বস্তরের মুসলসমানের জন্য ইজতেমা বা সম্মেলনের ব্যবস্থা করা হয়। এরপর ক্রমেই তাবলিগের কার্যক্রম বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানের গন্ডি ছাড়িয়ে পৌঁছে যায় বিশ্বের আনাচে-কানাচে। হযরত মাওলানা আবদুল আজীজ (রহ) এর মাধ্যমে ১৯৪৪ সালে বাংলাদেশে তাবলিগের মেহনত শুরু হয়। তারপর ১৯৪৬ সালে বিশ্ব ইজতেমা সর্বপ্রথম অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশের তাবলিগের প্রধান কেন্দ্র কাকরাইল মসজিদে। পরে ১৯৪৮ সালে চট্টগ্রাম হাজী ক্যাম্পে ইজতেমা শুরু হয়। এর পরে ১৯৫৮ সালে নারায়নগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে, তারপর ১৯৬৫ সালে টঙ্গীর পাগারে এবং সর্বশেষে ১৯৬৬ সালে টঙ্গীর ভবেরপাড়া তুরাগ তীরে অনুষ্ঠিত হয় বিশ্ব ইজতেমা এবং সেই থেকে এ পর্যন্ত সেখানেই ১৬০ একর জায়গাতে তাবলিগের সর্ববৃহত্ ইজতেমা বা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এবছর প্রথম বারের মতো ২৫,২৬,ও ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হচ্ছে তিনদিন ব্যাপী মৌলভীবাজার জেলা ইজতেমা ।

মুসলিম বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতিতে ইজতেমার গুরুত্ব ও তাত্পর্য অপরিসীম। মুসলিম বিশ্ব ইতিহাসের এক নাজুক ও দুর্দিন অতিক্রম করেছে। মায়ানমারের আরাকানে রোহিঙ্গা মুসলমান সহ আফগানিস্তান, ইরাক ও ফিলিস্তিনে নির্বিচারে মুসলমানদের হত্যা করা হচ্ছে। মুসলমানদের প্রথম কিবলা বায়তুল মোকাদ্দাসে স্বাধীনভাবে নামাজ আদায় করা যাচ্ছে না। ইসরাইলী ইহুদীরা বারবার ফিলিস্তিনের ভূখন্ডে অনুপ্রবেশ করে হত্যাকান্ড চালাচ্ছে। মুসলিম উম্মাহের সদস্যদের সেখান থেকে চিরতরে উত্খাত করার হীন প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। ইরাকের শত শত মসজিদ ও জনপদ ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে। মুসলিম বিশ্বের দুরবস্থার অন্যতম কারণ হচ্ছে ঐক্যহীনতা ও পারস্পরিক দ্বন্দ্ব-কলহ। এ পরিস্থিতিতে মুসলিম বিশ্বের ধর্মীয় সম্মেলনের (ইজতেমা) অনেক গুরুত্ব রয়েছে। বিশ্ব ইজতেমা সহ দেশের সকল ইজতেমায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলমানরা এসে সমবেত হন। এতে পারস্পরিক জানাজানি হয় এবং ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্ট হয়।

তাবলিগ শব্দের অর্থ প্রচার। মানুষের কাছে গিয়ে ইসলাম ধর্মের বিধিবিধান জ্ঞাত করা ও ইসলামের প্রতি মানুষকে আকৃষ্ট করাই হচ্ছে তাবলিগ।
৬টি উসূলের ওপর ভিত্তি করে এ আন্দোলন। উসূলগুলো হচ্ছে- কলেমা, নামজ, এলেম ও জিকির, একরামুল মুসলিমীন, সহি নিয়ত ।
ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে গোটা মুসলিম বিশ্ব এক মন ও এক দেহের মত একই কালেমার ছায়াতলে দাঁড়িয়ে যেতে পারে এটাই প্রত্যয়ন করি মৌলভীবাজার তিনদান ব্যাপী জেলা ইজতেমা থেকে এবং সফলতা কামনা করছি ।