সদ্য সংবাদ

একজন কবিতা প্রেমী ‌পৃথ্বীশ চক্রবর্তী ।। পিন্টু দেবনাথ ।।

Untitled-1 copy

দখিনা বাতাস এসে, মাতাল কি করে দিছে মন
উথাল পাতাল প্রাণ, জোয়ারের নদীর মতোন?
উড়েছে কি নীলরঙা তোমার ঐ শাড়ির আচল
দেখতে কি পাখি, প্রজাপতি না কি পরী অবিকল?
কেমন লেগেছে তোমার, গাছের পাতাঝরা সুর
কালো কোকিলের কুহু কুহু রব কতোটা মধুর?
গায়ে কি মেখেছো, লেবু-কাঞ্চন-কামিনীর ঘ্রাণ
উল্লসিত কেনো এতো, কেনো আজ উদাসিনী প্রাণ?
কিভাবে করেছো জয়, রক্তলাল পলাশের মন
কেমন দেখেছো আজ, হলুদাভ শিমুলের বন?
ফুটেছে কি কৃষ্ণচূড়া, ধরেছে কি আমের মুকুল
কার জন্যে মালা গাঁথো, কার জন্যে তুলে আনো ফুল?
কার জন্যে রঙ-রূপ, কার জন্যে এতো আয়োজন
কার জন্যে বসে থাকো, কার জন্যে বুঝোনি স্বজন?
—–
এই কবিতার গভীরে অনেক কিছু খুঁজে পাই কবির মাঝে। তিনি হলেন পৃথ্বীশ চক্রবর্তী। আজ ৮ নভেম্বর তাঁর জন্ম দিন। শুভ জন্মদিন কবি।
শূন্য দশকের তরুণ কবিদের অন্যতম পৃথ্বীশ চক্রবর্ত্তী। শৈশবেই তাঁর লেখার জগতে হাতেখড়ি। মাত্র ১৬ বছর বয়সে ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘উদয়বাণী’ প্রকাশিত হয়। গভীর জীবনবোধ, দেশপ্রেম, সমাজ, ধর্ম, রাজনীতি, আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট, মানবতা, দর্শন, দ্রোহ, ভালোবাসা, প্রেম, বিরহসহ বিভিন্ন বিষয় তাঁর কবিতাকে বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে। কবিতায় সিদ্ধহস্ত হলেও শিশুতোষ ছড়া-কবিতা, অণুকাব্য, সমকালীন ছড়ার জগতেও তিনি সমান পারদর্শী।
পৃথ্বীশ চক্রবর্ত্তী হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ পৌরসভার শিবপাশা আ/এলাকায় ০৮ নভেম্বর ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শাস্ত্রীয় পণ্ডিত শ্রীযুক্ত প্রণয়ভূষণ চক্রবর্ত্তী মিন্টু (ব্যাকরণ শাস্ত্রী, স্মৃতিভূষণ, ক্রিয়াতীর্থ) ও শ্রীযুক্তা সুপ্রীতি চক্রবর্ত্তীর তিন সন্তানের মধ্যে প্রথম। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত এবং এক কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের জনক। তিনি বি.এসসি অনার্স, এম.এসসি (প্রাণিবিদ্যা) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্পন্ন করেছেন এবং বর্তমানে নবীগঞ্জ পৌরসভা হবিগঞ্জে করশাখায় কর্মরত।
এ পর্যন্ত তাঁর পাঁচটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। গ্রন্থগুলো হল: ‘উদয়বাণী’ (কবিতা, ১৯৯৭), ‘নোনাজলের বৃষ্টি ‘(কবিতা, ২০১৩), ‘বৃষ্টি পড়ে তিথির বাড়ি'(শিশু-কিশোর ছড়া, ২০১৩), ‘দুর্গম পথের যাত্রী’ (কবিতা, ২০১৬) ও ‘পড়শি আসে ভাষার মাসে'(শিশুকিশোর ছড়া-কবিতা, ২০১৭)।
তিনি সম্পাদনায় ‘বাসন্তী সাহিত্য পুরস্কার-২০০২’, বাংলাদেশ পয়েটস ক্লাব ও বাংলাদেশ পল্লীসাহিত্য গবেষণা পরিষদ কর্তৃক কবিতায় ‘জাতীয় সাহিত্য সম্মেলন সম্মাননা-২০১৪’, আমীর প্রকাশন ও এডুকেশন কালচারাল লিটারেচার রিসার্চ ডেভেলপম্যান্ট কর্তৃক ছড়া সাহিত্যে ‘আমীর প্রকাশন সাহিত্য পুরস্কার-২০১৪’, সাপ্তাহিক বর্ণমালা কর্তৃক ছড়া সাহিত্যে ‘বাংলার বর্ণমালা পদক-২০১৪’, সংসপ্তক ও আমরা কুঁড়ি কর্তৃক ‘ভাসানী স্মৃতি পুরস্কার-২০১৪’ এবং কবিসংসদ বাংলাদেশ কর্তৃক ‘শ্রেষ্ঠ সংগঠক’ হিসেবে ‘জাতীয় কবি সম্মেলন সম্মাননা-২০১৫’ লাভ করেন। ‘নোনাজলের বৃষ্টি ‘ কাব্যের জন্য কাব্যকথা সাহিত্য পরিষদ, ঢাকা কর্তৃক ‘জাতীয় সাহিত্য পদক-২০১৫’ লাভ করায় তাঁকে জাতীয় কবিতা পরিষদ হবিগঞ্জ জেলা শাখা কর্তৃক সংবর্ধনাও প্রদান করা হয়।
তিনি দুর্বার, বাংলাভাষা, সূর্যোদয়, প্রজ্বলন, জয়ন্তীসহ বেশকটি সাহিত্য ম্যাগাজিন ও পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন। সংগঠক হিসেবেও রয়েছে তাঁর যথেষ্ট সুনাম। তিনি বর্তমানে কবিসংসদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, জাতীয় কবিতা পরিষদ হবিগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি, বঙ্গবন্ধু লেখক পরিষদ ও রূপসী বাংলা পরিষদ হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রথম আলো, যুগান্তর, ইত্তেফাক, সমকাল, সংবাদ, জনকণ্ঠ, কালেরকণ্ঠ, ভোরের কাগজ, যায় যায় দিন, বাংলাদেশ প্রতিদিন, আমাদের সময়, আজকের কাগজ, মুক্তকণ্ঠ সহ বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকা, বাংলা একাডেমির ‘ধান শালিকের দেশ’, বাংলাদেশ শিশু একাডেমীর ‘শিশু’, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের ‘নবারুণ’ ও ‘সচিত্র বাংলাদেশ’, ব্র্যাক বাংলাদেশের ‘সাতরং’, বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউণ্ডেশনের ‘সবুজপাতা’ ও ‘অগ্রপথিক’ ব্যঙ্গল ফাউণ্ডেশনের ‘জল পড়ে পাতা নড়ে’ সহ বিভিন্ন ম্যাগাজিনে প্রকাশিত কবিতা, পদ্য, ছড়া, অণুকাব্য ও প্রবন্ধের সংখ্যা ৫(পাঁচ) শতাধিক। বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) এর ‘ছন্দিত নন্দিত’ অনুষ্ঠানে তিনি অনেকবার ছড়া ও কবিতা পাঠ করেছেন।
উল্লেখ্য, প্রায় দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে তিনি নিরলস ও বিরতিহীনভাবে জাতীয় পত্রপত্রিকায় কবিতা, শিশুতোষ ছড়া, পদ্য, কিশোর কবিতা, অণুকাব্য, প্রবন্ধ ইত্যাদি লিখে যাচ্ছেন।
পৃথ্বীশ চক্রবর্তীর মামার বাড়ী হচ্ছে আমার গ্রামে। সেই থেকে তাঁর সাথে পরিচয়। এখানে আসলেই আমাদের বাড়ীতে চলে আসতেন। আজ তাঁর শুভ জন্মদিনে অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। তিনি শত ব্যস্ততার মাঝে সাহিত্যচর্চ্চা বিরামহীন ভাবে করে যাচ্ছেন। তাঁর লেখালেখিতে অনেক প্রতিচ্ছবি ভেসে উঠে। যা আমাদের অনুকরণীয় ও অনুপ্রেরণা যোগায়। ধন্যবাদ কবি। তোমার জন্মদিনে আমার পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানালাম।