সদ্য সংবাদ

বিভাগ: সিলেট বিভাগ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন মৌলভীবাজার-২ : বড় দুই দলের নেতাকর্মীদের দ্বিমুখী অবস্থান

21

নূরুল ইসলাম, মৌলভীবাজার

মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে দুই দলের নেতাকর্মীরা দিনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও রাতে মহাজোটের হয়ে প্রচার চালাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ দিনে মহাজোট রাতে ঐক্যফ্রন্ট। এমন আলোচনা-সমালোচনায় কুলাউড়ার নির্বাচনী মাঠ সরগরম। এ নিয়ে দুই দলের দুই নবাগত প্রার্থীর মধ্যে চলছে বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলাচল। এ আসনের ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী গণফোরামের সুলতান মোহাম্মদ মনসুর এবং মহাজোট প্রার্থী বিকল্পধারার এমএম শাহীন ডিগবাজি দিয়ে পরস্পরবিরোধী অবস্থান থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ নির্বাচনী এলাকায় সুর উঠেছে- আওয়ামী লীগের বড় একটি অংশ ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীর পক্ষে ও বিএনপির একটি অংশ মহাজোট প্রার্থীর পক্ষে গোপনে নির্বাচনী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি, মনোনয়নবঞ্চিত উপজেলা আওয়ামী লীগের এক জনপ্রতিনিধি নেতা, শ্রমিক লীগের পদস্থ নেতা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদকীয় ও সদস্য পদমর্যাদার একাধিক নেতা ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান মোহাম্মদ মনসুরের পক্ষে রাতে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। এসব নেতা ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে শুরু করে আওয়ামী রাজনীতিতেও বিকশিত হয়েছেন সুলতান মো. মনসুরের উৎসাহ-অনুপ্রেরণায়। ফলে এসব নেতা দিনে মহাজোট প্রার্থী এমএম শাহীনের পক্ষে সরব থাকেন নির্বাচনী প্রচারে। রাতে থাকেন ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীর পক্ষে। একইভাবে উপজেলা পর্যায়ের বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের অনেক নেতা মহাজোট প্রার্থী এমএম শাহীনের পক্ষে রাতে নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে দিনে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী তৎপরতায় ব্যস্ত সময় কাটান। দুই দলে নেতৃবৃন্দের দ্বিমুখী অবস্থানের কারণে সাধারণ ভোটাররা বিপাকে পড়েছেন। তারা দিনের কথা, নাকি রাতের প্রচারে বিশ্বাস করবেন? কুলাউড়া উপজেলা সদর থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীর মধ্যে চলছে লুকোচুরি খেলা। ফলে মহাজোট ও ঐক্যফ্রন্ট দুই শিবিরের নেতৃবৃন্দ বিশ্বাস ও অবিশ্বাসের দোলাচলে ভরসা হারাচ্ছেন বলে জানা গেছে। কুলাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান আ স ম কামরুল ইসলাম জানান, আওয়ামী লীগ সভাপতির সিদ্ধান্তের প্রতি অবিচল আস্থা রেখে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী একজোট হয়ে নৌকা প্রতীকের পক্ষে কাজ করায় মহাজোট প্রার্থীর অবস্থা দিন দিন উন্নতি হচ্ছে। সব মিলিয়ে মহাজোট ও ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।

নির্ভরশীল একটি সূত্র জানায়, কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদকীয় পদে থাকা এক জনপ্রতিনিধি মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে মহাজোট প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী কার্যক্রমে তেমন সরব না থেকে রাতে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীকে ভোট দিতে ভোটারদের প্রভাবিত করছেন। এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে বিকল্পধারার প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় মনোনয়নপ্রত্যাশী আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ও তাদের অনুসারীদের অনেকে এক সময়ে কুলাউড়ায় আওয়ামী লীগের সুলতান মো. মনসুরের অনুকূলে গোপনে কাজ করছেন বলে জানান হাজীপুর ইউনিয়নের কটারকোনা এলাকার সাধারণ ভোটার ব্রিকফিল্ড শ্রমিক গিয়াস উদ্দিন (৬৫)।

ঐক্যফ্রন্টের কারণে বিএনপির এমএম শাহীনের মনোনয়নবঞ্চিত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিলে তিনি বিকল্পধারায় যোগ দিয়ে মহাজোটের মনোনয়ন নিশ্চিত করে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করছেন। ফলে সারাজীবনের রাজনৈতিক শ্রমসাধনায় গড়া বিএনপির ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের একটি অংশ গোপনে তার পক্ষে নির্বাচনী কার্যক্রম চালাচ্ছে। এতে দুই শিবিরেই অশান্তির দাবানল জ্বলছে। জেলা বিএনপির সহসভাপতি, কুলাউড়ার ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা বলেন, হাজীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল বাছিত বাচ্চু, বিএনপির স্থানীয় উপজেলা শাখার নেতা তফজ্জুল হোসেন তফইসহ কেউ কেউ গোপনে দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংগ্রহ : সমকাল

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৮ : মৌলভীবাজার-৪ আসনে আওয়ামীলীগ-বিএনপি’র মধ্যে দলীয় কোন্দল মিটিয়ে প্রচারণা

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

14
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-৪ (কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল) আসনে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি’র মধ্যে দলীয় ক্ষোভ ও কোন্দল ছিল। যদিও আওয়ামীলীগ আলাদা আলাদাভাবে দলীয় কমিটি নেই,  এক কমিটির মধ্যই ছিল। কিন্তু দলের ভিতরে নেতাকর্মীদের মধ্যে কোন্দল বিরাজমান ছিল।  আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে কোন্দল ও ক্ষোভ মিটিয়ে দলের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন। অন্যদিকে বিএনপির মধ্যে দীর্ঘদিন থেকে দলীয় কোন্দল বিরাজমান ছিল। আলাদা আলাদা কমিটি ছিল। এখন তা নিরসন হয়ে দলের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করছেন। তবে কমিটি আলাদা রয়ে গেছে।  কিন্তু নির্বাচন সামনে রেখে এখন দলীয় প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে সবাই একসঙ্গে কাজ করছেন।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, একাদশ সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-৪ আসনে আওয়ামী লীগের ছয়জন দলীয় মনোনয়নের জন্য আবেদন করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে বর্তমান সাংসদ সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ মো: আব্দুস শহীদ ও কমলগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুর রহমান বেশি আলোচনায় ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এম এ শহীদই দলীয় মনোনয়ন পান। এরপর বিশেষ করে কমলগঞ্জে আওয়ামী লীগের মধ্যে কোন্দল দেখা যায়।  অবশেষে এ বিরোধ মিটিয়ে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

11
৩ ডিসেম্বর কমলগঞ্জের ভানুগাছ বাজারে উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা ডাকা হয়। সভায় দলীয় প্রার্থী এম এ শহীদ তাঁর বক্তব্যে সবকিছু ভুলে গিয়ে দলের ও দলীয় প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত করতে সবার কাছে আহ্বান জানিয়েছিলেন। তখন সবাই মনোনয়ন নিয়ে ক্ষোভের বিষয়টি ভুলে দলীয় প্রতীক নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে ঐকমত্য পোষণ করেন। ওই সভার পর কমলগঞ্জ উপজেলায় নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়। এতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দলীয় প্রার্থীর ছোট ভাই এম. মোসাদ্দেক আহমদ মানিককে আহ্বায়ক করা হয়েছে। যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে মনোনয়নবঞ্চিত অধ্যাপক মো: রফিকুর রহমানকে এবং সদস্য সচিব হিসাবে আছেন প্রার্থীর আরেক ছোট ভাই ইমতিয়াজ আহমেদ বুলবুল।
অধ্যাপক মো: রফিকুর রহমান বলেন, দলীয় প্রতীকের বিরুদ্ধে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত সবাইকে মেনে চলতে হবে। তাই সবাইকে সঙ্গে নিয়েই নৌকার পক্ষে তাঁরা জোর প্রচারণা শুরু করেছেন।
এদিকে কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গলে বিএনপির গৃহবিবাদ দীর্ঘদিনের। কয়েক বছর ধরে এখানে নেতা-কর্মীরা দুই ভাগে বিভক্ত। এমনকি কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল উপজেলায় বিএনপির আলাদা আলাদা কমিটি ছিল। কিন্তু সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কোন্দল মিটিয়ে ফেলা হয়েছে।

12
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গোলাম কিবরিয়াকে সভাপতি ও আলম পারভেজকে সম্পাদক করে কমলগঞ্জ উপজেলা বিএনপির একটি কমিটি রয়েছে। এ ছাড়া আবু ইব্রাহিম জমশেদকে সভাপতি ও শফিকুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে কমলগঞ্জ পৌর বিএনপির কমিটি আছে। অন্যদিকে এখানে বিএনপির প্রার্থী মুজিবুর রহমান চৌধুরীর সমর্থিত দুটি কমিটিও আছে। উপজেলা কমিটিতে দুরুদ আলী সভাপতি ও আবুল হোসেন সাধারণ সম্পাদক। পৌর কমিটিতে সোয়েব আহমদ সভাপতি ও তোফাজ্জল হোসেন সাধারণ সম্পাদক। আর শ্রীমঙ্গলে মুজিব বিরোধী কমিটিতে আতাউর রহমান সভাপতি ও ইয়াকুব আলী সাধারণ সম্পাদক। পৌর কমিটিতে মোছাব্বির আলী সভাপতি ও শামীম আহমদ সাধারণ সম্পাদক। অন্যদিকে মুজিবুর সমর্থিত উপজেলা কমিটিতে আতাউর রহমান সভাপতি ও ইয়াকুব আলী সাধারণ সম্পাদক। এই পক্ষের পৌর কমিটিতে নুরুল আলম সিদ্দিকী সভাপতি ও তাজ উদ্দীন সাধারণ সম্পাদক।
দলীয় সূত্র বলছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর হিসেবে এসেছে বিএনপির জন্য। মৌলভীবাজার-৪ আসনে মুজিবুর রহমানকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন বিএনপির একাংশের নেতা-কর্মীরা। তবে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তাঁরা ওই বিরোধিতা থেকে সরে এসেছেন। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে মুজিবুর বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ায় এখন দুই উপজেলার সব নেতা-কর্মীই ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।
১০ ডিসেম্বর আতাউর রহমান ও ইয়াকুব আলীর নেতৃত্বাধীন বিএনপির অংশটি সংবাদ সম্মেলন করে বিরোধ মিটিয়ে দলীয় প্রতীককে বিজয়ী করতে কাজ করার ঘোষণা দেয়। এরপর ১৬ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ওয়ালী সিদ্দিকী ও সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে কমলগঞ্জে বিএনপির উভয় পক্ষের সমঝোতা বৈঠক হয়।

আওয়ামীলীগ এর মধ্যে বিরোধ ও বিএনপির মধ্যে বিরোধ মিটিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রচার প্রচারণা করে যাচ্ছেন। উভয় দলের প্রার্থী ও নেতাকর্মীরা বিজয় নিশ্চিত বলে আশাবাদী।

কমলগঞ্জে অগ্নিকান্ডে পুড়ে ছাই হলো ৫ লাখ টাকার তুলা

Pic-2
কমলকুঁড়ি রিপোর্ট
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ পৌরসভার ভানুগাছ বাজারের চৌমুহনী এলাকায় মাত্র ৫০ মিনিটের অগ্নিকান্ডের ঘটনায় পুড়ে ছাই হয়ে গেছে একটি তুলা, ফোম এর গোডাউন। এতে প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকার মালামাল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন এর স্বত্বাধিকারী। অগ্নিকান্ডের ঘটনাটি ঘটেছে, সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে কমলগঞ্জ ভানুগাছ বাজার চৌমুহনী সংলগ্ন মাধবপুর বীর শ্রেষ্ট হামিদুর রহমান সড়কের পাশে শাহাজালাল আমব্রেলা কটন শপের গোডাউনে।
ফায়ার সার্ভিস, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী শাহাজানের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কমলগঞ্জ পৌরসভাসর রামপাশা এলাকার ইব্রাহিম মিয়ার কাছ থেকে প্রায় ৭/৮ বছর আগে তুলা ও ফোমের জন্য ঘরটি ভাড়া নিয়ে গোডাউন করা হয়েছিলো। ভানুগাছ বাজারে শাহাজান মিয়ার শাহাজালাল আমব্রেলা কটন শপ নামের একটি দোকানসহ কারখানা রয়েছে। সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে গোডাউনে আগুন লাগার কথা শুনলেও তখন আর কিছু করার ছিলোনা। মুহুর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। অগ্নিকান্ডে পুড়ে ছাই হয়ে গেলো প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকার তুলা ও ফোম।
শাহাজালাল আমব্রেলা কটন শপের মালিক শাহাজাল জানান, আমি কিছুদিন পূর্বে প্রায় ৩ লাখ টাকার তুলা আর  ফোম গোডাউনে ঢুকিয়েছি। আগে থেকেই গোডাউনে আরো প্রায় ২ লাখ টাকার মালামাল ছিলো। আমার গোডাউনে কোন বিদ্যুৎ নেই, রান্না-বান্নার কাজও কেউ করেনা, তাহলে আগুনটা লাগলো কিভাবে আমি বলতে পারছিনা। এই অগ্নিকান্ডে আমার প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকার তুলা আর ফোম পুঁড়ে ছাই হয়ে গেল, আমি পথে বসে গেছি।
কমলগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ রাধকান্ত সিংহ বলেন, খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছি। অনেক তুলা পানিতে ভিজে গেছে। প্রায় ১ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে আমাদের ধারণা।

জেলার শ্রেষ্ঠ জয়িতা হলেন কমলগঞ্জের রুমানা আক্তার রুবি

 কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

rubi-2-640x330

কমলগঞ্জ উপজেলার গোপালনগর পৌর এলাকার বাসিন্দা পুলিশ বাহিনীর সদস্য এস আই মোহাম্মদ আবদুল মান্নান এর কন্যা রুমানা আক্তার রুবি  সমাজ উন্নয়নে  বিশেষ ভূমিকা রাখায় এবছর শুধু কমলগঞ্জেই নয় জেলা পর্যায়েও জয়িতা নির্বাচিত হয়েছেন।মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ মাস্টার্স (রাষ্ট্রবিজ্ঞান) শেষ পর্বের ছাত্রী । ২ভাই ১বোন মধ্যে রুমানা সবার বড়।ছোট বেলা থেকেই রোমানা ঝোক ছিল বিভিন্ন সমাজ উন্নয়নমূলক কাছে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখার।তারই ধারাবাহিকতা লেখাপড়ার পাশাপাশি আজও তিনি নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন সমাজের দুঃস্থ, আসহায় ও বঞ্চিত মানুষের কল্যানে ।বিশেষ করে বিগত দিনগুলোতে মৌলভীবাজার রেড ক্রিসেন্টের একজন যুবসদস্য হিসাবে  বন্যাকবলিত এলাকায় ছুটে গেছেন দুর্গত মানুষের সাহায্যের জন্য । রেড ক্রিসেন্ট ছাড়াও তিনি আরও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাখে সম্পৃক্ত থেকে সমাজ সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিচ্ছেন। তিনি অনলাইনে বিভিন্ন এলাকার দুস্থ মানুষের জন্য রক্ত সংগ্রহ করেছেন। এছাড়াও মৌলভীবাজার সরকারী কলেজের একজন রোভার ম্যাট, সামাজিক সংগঠন স্বপ্নের ঢেউ এর কেন্দ্রীয় মহিলা সম্পাদিকা এবং সাতরং ট্রেনিং সেন্টারেরও একজন ট্রেইনার।তিনি তার এই সমাজকল্যনমূলক বিভিন্ন কর্মের স্বীকৃতিও পেয়েছেন। এবছর জয়িতা অন্নেষণে উঠে এসেছে তার নাম। গত ৯ ডিসেম্বর বেগম রোকেয়া দিবস ২০১৮ উপলক্ষে কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর আয়োজিত এক বর্নাঢ্য অনুষ্টানে তার হাতে আনুষ্টানিকভাবে তুলে দেওয়া হয় জয়িতা‘র সন্মাননা স্বারক। একই তারিখে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনও আনুষ্টানিক ভাবে তার হাতে তুলে দেয় জেলা পর্যায়ে জয়িতা হওয়ার সন্মাননা সনদ।এব্যাপারে সাংবাদিকদের সাথে তার অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে রোমানা বলেন, আমার জীবনের শ্রেষ্ট উপহার আমি পেয়েছি । আমার মত একজন নগন্য মানুষের পক্ষে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ট জয়িতা হওয়ার সুযোগ কখনোই হতোনা যদি আমার প্রতিটি সংগঠন  পাশে না থাকতো ।যাদের উৎসাহ ও প্রেরণা আজ আমাকে এই পর্যায়ে টেনে এনেছে তাদের কাছে আমি চির কৃতজ্ঞ ।এই প্রাপ্তি শুধু আমার একার নয় গোটা কমলগঞ্জ বাসীর।জয়িতা হয়ে  এখন আমি আমার কাজে আরও উৎসাহিত হয়েছি।

তিনি বলেন, সরকারের একার পক্ষে একটি দেশের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সমাজের দুঃস্থ পীড়িত, অসহায়, দূর্দশাগ্রস্থ মানুষের কল্যানে আমরা যে যে আবস্থানে আছি সেখান থেকে সাধ্যমত সহযোগীতায় এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

কমলগঞ্জের রহিমপুরে রামচন্দ্রপুরে নৌকা মার্কার সমর্থনে উঠান বৈঠক

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

210

মৌলভীবাজার-৪ (কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল) আসনে ৬ষ্ঠবারের মতো নৌকা মার্কা প্রতীকের প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব উপাধ্যক্ষ ড. মো: আব্দুস শহীদ এমপির  সমর্থনে কমলগঞ্জের রহিমপুরের রামচন্দ্রপুরে  ১৪ ডিসেম্বর শুক্রবার উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।  বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও রহিমপুর ইউপি (স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান মো: ইফতেখার আহমেদ বদরুল। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রহিমপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সহসভাপতি মোস্তাক আহমেদ খোকন,  সাধারন সম্পাদক দিপক কান্তি রায়, স্থানীয় ইউপি সদস্য ওয়াতির আহমদ বুলবুল, উপজেলা ছাত্রলীগ সহসভাপতি বেলাল তরফদারসহ  এলাকাবাসী।

শীতার্থ মানুষের পাশে দাঁড়ালেন সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার আশরাফুজ্জামান

কমলগঞ্জ রিপোর্ট

10
শ্রীমঙ্গল রেল স্টেশনের অসহায় দরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষেরা যখন তীব্র শীতে উষ্ণ কাপড়ের অভাবে কঠিন সময় পার করছে, ঠিক এ সময় এসব অসহায় মানুষের পাশে দাড়িয়েছেন শ্রীমঙ্গল সার্কেলের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার  আশরাফুজ্জামান।  বৃহস্পতিবার ১৩ই ডিসেম্বর মধ্য রাতে শ্রীমঙ্গল রেল স্টেশনে নিজ উদ্যোগে ছিন্নমুল, অসহায় ও শীতার্থ মানুষের মাঝে নিজ হাতেই তিনি শীত বস্ত্র বিতরণ করেন।

শ্রীমঙ্গল সার্কেলের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার আশরাফুজ্জামান দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি যখনই সুযোগ পাচ্ছেন তখনই ছুটে যাচ্ছেন এসব হতদরিদ্র শীতার্ত মানুষের কাছে।  কোন রকম তালিকা ছাড়াই সরজমিনে গিয়ে শীতার্থদের অবস্থা অবলোকন করেই সহকারি সিনিয়র সার্কেল আশরাফুজ্জামান নিজ হাতেই রেল স্টেশনের শীতার্তদের হাতে তুলে দিচ্ছেন শীতবস্ত্র । বাংলাদেশের সবচেয়ে শীতলতম স্থান শ্রীমঙ্গল। আর এই শ্রীমঙ্গলের কনকনে শীতে আর হিমেল হাওয়ায় খেটে খাওয়া ছিন্নমূল মানুষের কঠিন অবস্থা। তাই এই সব অসহায় মানুষদের পাশে শ্রীমঙ্গলের বিত্তবানরা হাত বাড়িয়ে সহযোগিতা করুন।

জনগণের মুখোমুখি মৌলভীবাজার-৪ আসনের প্রার্থীগণ।

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

IMG_20181213_151852-1

অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষে মৌলভীবাজার-৪ (কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল) আসনের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলনসহ তিন প্রার্থী জনগণের মুখোমুখি হন।

বৃহস্পতিবার (১৩ ডিসেম্বর) সকাল ১১ টায় কমলগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর আয়োজনে জনগণের মুখোমুখি হন এই তিন প্রার্থী।

সুজনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও অনুষ্ঠানের প্রধান সঞ্চালক ড. বদিউল আলম মজুমদারের সঞ্চালনায় এবং সুজন কমলগঞ্জ উপজেলা কমিটির সভাপতি নিহারেন্দ্রু ভট্টাচার্য্যের সভাপতিত্বে প্রার্থীদের মধ্যে অংশগ্রহণ করেন, মৌলভীবাজার-৪ (কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল) আসনে আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনীত প্রার্থী উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ এমপি, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মুজিবুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর দলীয় প্রার্থী মোহাম্মদ ছালাউদ্দিন। এই আসনের গণফোরামের প্রার্থী শান্তিপদ ঘোষ অংশ নেননি।

পরিশেষে সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার উপস্থিত সবাইকে দুর্নীতিবাজ, কালোটাকার মালিক, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, যুদ্ধাপরাধী, সাম্প্রদায়িক ব্যক্তিকে ভোট না দিতে শপথবাক্য পাঠ করান।

কমলগঞ্জে ২২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অংশগ্রহণে শিক্ষা মেলা অনুষ্ঠিত

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

Pic-A
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের আদমপুরের তেতইগাঁও রসিদ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে ২২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অংশ গ্রহনে শিক্ষা মেলা ২০১৮ অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় বেসরকারী সংস্থা হীড বাংলাদেশের “অভিযাত্রা” প্রকল্পের আওতায় গণ স্বাক্ষরতা অভিযান ও পিকেএসএফ এর সহায়তায় হীড বাংলাদেশের আয়োজনে গত মঙ্গলবার (১১ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১১ টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশন করে প্রাথমিক শিক্ষা সিলেট বিভাগীয় বিদায়ী উপ পরিচালক তাহমিনা খাতুন ও নবাগত উপ পরিচালক  এ কে এম সাফায়েত আলম জাতীয় প্রতাকা উত্তোলন করে শিক্ষা মেলা-২০১৮-এর উদ্বোধন করেন। পরে অতিথিরা ফিতা কেটে শিক্ষা মেলার ৫টি স্টল ঘুরে দেখেন।
পরে আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদাল হোসেনের সভাপতিত্বে হকতিয়ারখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সাজ্জাদুল হকের সঞ্চালনায় আলোচনা পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদায়ী উপ পরিচালক তাহমিনা খাতুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নবাগত উপ-পরিচালক এ এক এম সাফায়েত আলম, মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ প্যানেল চেয়ারম্যান রিজওয়ানা চৌধুরী সুমী, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বায়েজীদ খান, জেলা সহকারী প্রাথমকি শিক্ষা কর্মকর্তা কিশলয় চক্রবর্তী, কমলগঞ্জ শিক্ষা কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন, গণ স্বাক্ষরতা অভিযানের সহকারী ব্যবস্থাপক জামিল মোস্তাক, তেতইগাঁও রসিদ উদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন, মণিপুরী আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সমরজীৎ সিংহ ও হীড বাংলাদেশের সমৃদ্ধি প্রকল্পের ব্যবস্থাপক আমিনুল হক।
অনুষ্ঠানে ২২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থী যৌথভাবে ৫টি স্টল সাজায়। শিক্ষা মেলায় অংশগ্রহনকারী ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে বিভিন্ন খেলা ধূলার আয়োজন করা হয়। ছিল যেমন খুশী সাজো ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শীতের এই সকালে অংশগ্রহনকারী বিদ্যালয় দেয়ালিকা, চিত্রাংকনসহ তাদের নানা কাজ উপস্থাপন করে স্টলগুলিতে। বিদ্যালয়ের শিশু চিকিৎসকদলও চিকিৎসকের পোশাক পরিধান করে স্টলে বসে। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পুরষ্কার বিতরণ করা হয়। পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কমলগঞ্জ প্রেসক্লাব সহসভাপতি প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ, শাব্বির এলাহী, কমলগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি পিন্টু দেবনাথ, এশিয়ান এইজ প্রতিনিধি মো: মোনায়েম খান, ভোরের ডাক প্রতিনিধি জয়নাল আবেদীন প্রমুখ।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন : সাংবাদিকদের সাথে মৌলভীবাজার-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাজী মুজিবের মতবিনিময়

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

Kamalgonj Pic---Haji Mujib BNP,
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব) মাঠ পর্যায়ে নির্বাচনী প্রচারনার সময় নানা প্রতিকুলতার সম্মুখীন হচ্ছেন বলে অভিযোগ করছেন। শঙ্কা প্রকাশ করে শনিবার (৮ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টায় কমলগঞ্জ উপজেলার খুশালপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাজী মুজিব দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে এসব প্রতিকুলতা সঠিকভাবে গণ মাধ্যমে তুল ধরার আহ্বান জানাতে কমলগঞ্জে কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে এক মত বিনিময় সভা করেন।
কমলগঞ্জ পৌরসভার কাউন্সিলর ও পৌর যুবদল আহ্বায়ক সৈয়দ জামাল হোসেনের সঞ্চালনায় শুরুতেই বক্তব্য রাখেন কমলগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. দুরুদ আহমদ। এর পর বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব) বলেন, তিনি প্রথম ২০০১ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মৌলভীবাজার-৪ আসনে প্রতিদ্বন্ধিতা করেছিলেন। সেই থেকে দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে তিনি ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতা ও প্রশাসন দ্বারা নানাভাবে নির্যাতিত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকা, কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল থানায় তার উপর ৭৬টি মামলা দায়ের করা হয়। এর মাঝে কিছু মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আর বাকীগুলিতে তিনি জামিনে আছেন। তিনি টানা ১৮ বছর ধরে কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল উপজেলার মানুষের সেবায় কাজ করেছেন। গত ২০১৪ সালের নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্ধীতায় নির্বাচিত হওয়ায় গত ১০ বছর ধরে এ এলাকার ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতেও পারেনি। এবার একাদশ সংসদ নির্বাচনে তার নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই বেশী বলে মাঠ পর্যায়ের তথ্য নিয়ে তিনি জেনেছেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যতনই প্রতিবন্ধকতা, প্রতিকুলতা ও নির্যাতন হোক তার পরও তিনি নির্বাচনের মাঠে থাকবেন। ইতিমধ্যেই নানাভাবে মাঠে তার নেতা কর্মীদের হুমকি প্রদর্শণ করা হচ্ছে। তিনি কোন বর্ধিত সভাও করতে পারছেন না। পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে নানাভাবে বাঁধা প্রদান করা হচ্ছে। এজন্য তিনি দলীয় হাই কমান্ডের মাধ্যমে শ্রীমঙ্গল থানার ওসি মো. নজরুল ইসালাম, কমলগঞ্জ থানার এ এসআই আব্দুল হামিদসহ দুইজন এ্এসআই এর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন বলেও জানান।
তিনি আরও বলেন, ১০ ডিসেম্বরের পর থেকে তার নির্বাচনী প্রচারনায় প্রশাসনসহ আওয়ামী প্রতিবন্ধকতা, প্রতিকুলতা ও জুলম শুরু হতে পারে। এই আশঙ্কা প্রকাশ করে সাংবাদিকদের আহ্বান জানান, তারা যেন নির্বাচনী মাঠের এসব সমস্যা গণ মাধ্যমে তুলে ধরেন। সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে কমলগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো: দুরুদ আহমদ, সাধারন সম্পাদক মো: আবুল হোসেন, কমলগঞ্জ পৌর যুবদলের আহ্বায়ক পৌর কাউন্সিলর সৈয়দ জামাল হোসেন ও শ্রীমঙ্গল উপজেলা যুবদলের সভাপতি মহিউদ্দীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

দেশের চা বাগানগুলোতে কাজ করা শ্রমিকদের জন্য বিশুদ্ধ খাবার পানি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

22

দেশের চা বাগানগুলোতে কাজ করা শ্রমিকদের জন্য বিশুদ্ধ খাবার পানি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে তাদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা সম্প্রসারণেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানিয়েছে, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সিলেট, চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়— এই সাত জেলার প্রায় ১৬২টি চা বাগানে ৩৯ লাখ ৮ হাজার ২৩৮ জন শ্রমিক কাজ করেন। এদের মধ্যে ৭৫ শতাংশই নারী। দেশের এসব চা বাগানে পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা নাজুক ও অপ্রতুল। তাই এর মানবিক দিক বিবেচনায় পরিবেশ রক্ষার মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতে উন্নতির জন্য বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশনের ওপর গুরুত্বারোপ করছে। এ জন্য চা বাগানে পানি সরবরাহ এবং স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘চা বাগানকর্মীদের জন্য নিরাপদ সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন’ শীর্ষক একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬১ কোটি ১৪ লাখ টাকা। সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে এ অর্থ যোগান দেওয়া হবে। স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর এটি বাস্তবায়ন করবে। ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। গত ৭ নভেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের র্নিাহী কমিটির (একনেক) সভায় এটিকে অনুমোদন করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে চা বাগানের কর্মীদের স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার মানের উন্নতি হবে। ফলে তা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
প্রকল্প প্রস্তাবনায় জানা গেছে, বিশুদ্ধ পানি সংরক্ষণে বাগানগুলোয় রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং সিস্টেম, রিং ওয়েল অগভীর ও গভীর নলকূপ, অগভীর ও গভীর তারা নলকূপ স্থাপন করা হবে ৩ হাজার ৪টি। বায়োফিল টয়লেট নির্মাণ করা হবে ১০০টি। কমিউনিটি ল্যাট্রিন স্থাপিত হবে ১০৭টি। স্যানিটারি ল্যাট্রিন নির্মাণ করা হবে ৯ হাজার ৩৯৮টি। এ ছাড়াও প্রকল্পের আওতায় বাগানের কর্মী ও তত্ত্বাবধায়নকারীদের জন্য কারিগরি, স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি ও হাইজিন প্রমোশন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
জানতে চাইলে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে দেশের চা বাগানগুলোয় নিয়োজিত শ্রমিকদের জন্য বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা ছিল না। এতে শ্রমিকরা মানবেতর জীবনযাপন করতো। বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশনের অভাবে তারা নানা রোগে আক্রান্ত হতো। বিষয়টি মানবিক বিধায় সরকার এ প্রকল্পটি গ্রহণ করেছে। এটি বাস্তবায়িত হলে চা বাগানের শ্রমিকদের জীবনমান উন্নত হবে।’