সদ্য সংবাদ

বিভাগ: সিলেট বিভাগ

সেরা করদাতা মৌলভীবাজারের পৌর মেয়র ফজলুর রহমান

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

23172799_678063545697164_8-1

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয় এর অধীনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ২০১৬-১৭ কর বছরে মৌলভীবাজার জেলার সর্বোচ্চ করদাতার সম্মাননা পেলেন মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মোঃ ফজলুর রহমান। মঙ্গলবার ৭ নভেম্বর সিলেটের আবুল মাল আব্দুল মুহিত জেলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে সর্বোচ্চ ও দীর্ঘমেয়াদী করদাতাদের পুরস্কার ও সম্মাননা বিতরণ অনুষ্ঠানে সিলেট বিভাগীয় কমিশনার ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানম এ সম্মাননা তোলে দেন।
মৌলভীবাজারের পৌর মেয়র মোঃ ফজলুর রহমান কর অঞ্চল সিলেট এর আওতাধীন সার্কেল ১৩

(মৌলভীবাজার) এর করদাতা। ২০১৬-১৭ কর বছরে মৌলভীবাজার জেলার সর্বোচ্চ আয়কর প্রদান করায় এ সম্মাননা অর্জন করেন।

সাহিত্যরত্ন আশরাফ হোসেনের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী পালিত:লোকসাহিত্যের ইতিহাসে মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন এক উজ্জ্বল নাম – প্রফেসর নন্দলাল শর্মা

 DSC_0801-copy-311x186

বিশিষ্ট গবেষক, মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি, সিলেট-এর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর নন্দলাল শর্মা বলেছেন, বাংলাদেশের লোকসাহিত্যের ইতিহাসে মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন সাহিত্যরতœ এক উজ্জ্বল নাম। যিনি শত প্রতিকূলতার মধ্যে থেকেও লোকসাহিত্যের গবেষণা, সংরক্ষণ এবং প্রসারে উজ্জ্বল ভূমিকা রেখেছেন। সাহিত্য চর্চার পাশাপাশি সমাজের উন্নয়নে তার বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। বিশেষ করে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিয়ে মানুষের মধ্যে আলোকবর্তিকা হয়ে আছেন।
লোকসাহিত্য গবেষক সংগ্রাহক মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন সাহিত্যরতœ, কাব্যবিনোদ, পুরাতত্ত্ববিদ-এর ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কৈতর সিলেট আয়োজিত আলোচনা সভা ও নিবেদিত কবিতা পাঠের আসরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

২৯ অক্টোবর রোববার দরগাহ গেইটস্থ সিলেট কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সাহিত্য আসর কক্ষে মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন সাহিত্যরতœ-এর ১২৫ জন্মবার্ষিকী উদ্যাপন পর্ষদের আহবায়ক কবি লাভলী চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

পর্ষদের সদস্য সচিব সাংবাদিক সংগঠক সেলিম আউয়ালের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে মূখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেট সেন্ট্রাল উইমেন্স কলেজের অধ্যক্ষ কবি কালাম আজাদ, আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রবীণ সাংবাদিক মুহম্মদ বশিরুদ্দিন, কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মাহমুদ রাজা চৌধুরী, কবি-গবেষক মুসা আল হাফিজ এবং মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন কবি নাঈমা চৌধুরী।
সিলেট এক্সপ্রেসের স্টাফ রিপোর্টার তাসলিমা খানম বীথির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন কলামিস্ট বেলাল আহমদ চৌধুরী, শিক্ষাবিদ এডভোকেট আব্দুল মালিক, শিল্পকলা একাডেমি সিলেট-এর সাবেক সেক্রেটারি, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মাহবুব আহসান চৌধুরী, ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি আব্দুল বাতিন ফয়সল।

সভায় মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন সাহিত্যরতœকে নিবেদিত কবিতা পাঠ করেন আমিনা শহীদ চৌধুরী মান্না, কামাল আহমদ, মো. আব্দুল বাছিত, সৈয়দ মুক্তদা হামিদ, আমির হোসাইনী এবং মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন-এর জীবনী পাঠ করেন নাজিয়া আহমদ। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাওলানা শামসীর হারুনুর রশীদ।

মূখ্য আলোচকের বক্তব্যে অধ্যক্ষ কবি কালাম আজাদ বলেন, মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন সাহিত্যরতœ বাংলা লোকসাহিত্যের ইতিহাসকে অনেকদূর নিয়ে গেছেন। সত্যিই তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক রতœ। লোক সাহিত্যের গবেষণায় তাঁর অবদান অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
সভাপতির বক্তব্যে কবি লাভলী চৌধুরী বলেন, মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন সাহিত্যরতœ অন্যায়কে প্রশ্রয় দিতেন না। নিজের এলাকার মানুষকে শিক্ষার আলোকে গড়ে তোলার পাশাপাশি তাদের স্বাস্থ্যকে সুন্দর রাখার জন্য পরামর্শ এবং উপযুক্ত নির্দেশনা দিয়েছেন। তাঁর সার্বিক কর্মকান্ড ছিল অত্যন্ত গোছানো, তাই তিনি নিজেকে সাহিত্য ক্ষেত্রে রতœ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন। – বিজ্ঞপ্তি

মদন মোহন কলেজ ছাত্রলীগের হরতাল বিরোধী মিছিল সমাবেশ

WhatsApp-Image-2017-10-12-at-1.51.05-PM.jpegমদন মোহন কলেজ ছাত্রলীগের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার জামায়াতের ডাকা হরতালের প্রতিবাদে দুপুর সাড়ে ১২টায় কলেজ ক্যাম্পাস থেকে একটি হরতাল বিরোধী মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি রিকাবীবাজার ও লামাবাজার সড়ক প্রদক্ষিণ করে কলেজ শহিদ মিনারে এক সমাবেশে মিলিত হয়।
মিছিল পরবর্তী সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাহিত্য সম্পাদক মোঃ আমির হোসেন, সাবেক ছাত্রবৃত্তি সম্পাদক সৈয়দ শফিকুল ইসলাম, ফেরদৌস আলম বেগ, সাবেক বিভাগীয় উপ সম্পাদক শহীদ আকিব অপু, সাবেক সদস্য আফসর রহিম, ১৩নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বিজন দাস,

সিলেট মহানগর ছাত্রলীগ ও মদন মোহন কলেজ ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কামরুল ইসলাম সুমন, নজরুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান, রাজেশ সরকার, সত্যজিৎ দাস, জেলা ছাত্রলীগ এর সাবেক সহ সম্পাদক শাহীনুল ইলিয়াছ শাহীন, ২নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি সুমন দাস, ১৩নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রকি দেব, তারেক রহমান, বিধান কৃষ্ণ রায়, অভিজিৎ তালুকদার, সঞ্জয় তালুকদার, জালালাবাদ থানা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি আব্দুর করিম সুমন, মাছুম হোসেন, রুমানুল হক, মিফতাহুল হোসেন লিমন, শাহ মুস্তাফিজুর রহমান কামরুল, মামুন শাহরিয়ার, সলমান আহমদ ফাহাদ, ২১নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি কামরান আনসারী, ওমর ফারহান, আবু হামজা আফজল, মো. তানভীর আহমদ, রাসেল মিয়া, মনির আজাদ মুন্না, শেখ মকসুদুর রহমান নাঈম, শুভ তরাৎ, জগৎ জ্যোতি রায়, জাবেদ আহমদ, সৈয়দ তাহের, আরিফ আরমান জিসান, অন্তু রায়, বদরুল আহমদ, জাবের আহমদ শান্ত, লাবিব চৌধুরী, রাহাত বক্স, শামীম আহমদ, সোহান রানা, হাবিবুল্লাহ মিসবা, আকাশ দেবনাথ, মাহবুবুর রহমান রাসেল, বিশাল দে উৎস, তানভীর আহমদ, মোস্তফা আলম, রাহাত আব্দুস শহীদ, আব্দুস ছালাম, জুনেদ আহমদ, ফয়সল শিকদার, আল আমীন আহমদ, মাহমুদ হাসান মুন্না, পারভেজ আহমদ, মনিরুজ্জামান মুন্না, নবজিৎ পাল, শাওন চক্রবর্তী, শাকিল আহমদ, রফিকুল হাসান, নাইছ আহমদ, জাহিদ হোসেন, ইব্রাহিম আহমদ, রাসেল আহমদ, মাহমুদ হোসেন, নাঈম আহমদ চৌধুরী, সায়রা বেগম, তৃষ্ণা আক্তার, পাপিয়া বেগম প্রমুখ।
– বিজ্ঞপ্তি

হবিগঞ্জে স্কুল ফাঁকি দিয়ে প্রেম, ২২ প্রেমিক-প্রেমিকা আটক

1.-daily-sylhet-0-9n-4

হবিগঞ্জ সংবাদদাতা::

হবিগঞ্জে স্কুল ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন ফাস্টফুডের দোকানে আড্ডা দেয়ার সময় ২২ প্রেমিক-প্রেমিকাকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে তাদের প্রত্যেকের অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়। পুলিশ জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে শহরে বেশ কিছু ফাস্টফুডের দোকান গড়ে উঠে। এর প্রায় সবগুলোই গড়ে উঠেছে জেলার সনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর আশপাশে। এসব দোকানে বিকেজিসি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বৃন্দাবন সরকারি কলেজ, সরকারি মহিলা কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ক্লাস ফাঁকি দিয়ে আড্ডা দেয়। সেই সঙ্গে অনেক দোকানে নানা আপত্তিকর ঘটনাও ঘটে। এতে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফল খারাপ হয়। অনেকেই আবার বিপথগামী হচ্ছে। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় সুধীসমাজ এবং জেলা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির সভায় আলোচনা হয়। এর প্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে পুলিশ। এ ব্যাপারে সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াছিনুল হক জানান, আটকদের প্রায় সবাই স্কুলের শিক্ষার্থী। তারা ক্লাস ফাঁকি দিয়ে আড্ডা দিচ্ছিল।

এতে একদিকে তাদের পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হচ্ছে, অন্যদিকে অনেকেই বিপথগামী হচ্ছে। সুশীল সমাজের দাবির প্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ বিষয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের সঙ্গেও কথা হয়েছে। তিনি বলেন, তাদের বলেছি তারা যেন শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের নিয়ে কাউন্সিলিং করেন।

দুই কর্মীর ওপর শিবিরের হামলায় মহানগর ছাত্রলীগের বিক্ষোভ

 

92520

সিলেট :: সিলেটের সোবহানীঘাট জালালাবাদ কলেজের সম্মুখে ছাত্রলীগের দুই কর্মী শাহিন আহমদ ও আবুল কালাম আসিফের ওপর শিবির ক্যাডারদের হামলার ঘটনায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে নগরীর আম্বরখানা থেকে শুরু হয়ে চৌহাট্টায় গিয়ে এক প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়।  সমাবেশে সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল বাছিত রুম্মানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম তুষারের পরিচালনায় উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সদস্য এমদাদুল হক জাহেদ, সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সজল দাস অনিক সহ সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে উক্ত ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচারের জোর দাবি জানান।

শিক্ষিকা-অটোরিকশা চালকের প্রেমে, সামাজিক অপমানে প্রেমিকার আত্মহত্যা

  Poto-1-4

ওয়াহিদুর রহমান ওয়াহিদ,জগন্নাথপুর:: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে লোক লজ্জার অপমানে রোমেনা বেগম (১৮) নামের এক কলেজ ছাত্রী আত্মহত্যা করেছেন। তিনি জগন্নাথপুর উপজেলার পাটলি ইউনিয়নের কবিরপুর গ্রামের আখলুছ মিয়ার মেয়ে। এ নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

সরজমিনে স্থানীয়রা জানান, পাটলি ইউনিয়নের কবিরপুর গ্রামের আখলুছ মিয়ার মেয়ে জগন্নাথপুর ডিগ্রি কলেজের ছাত্রী রোমেনা বেগম ও তার খালাতো ভাই একই ইউনিয়নের চক আছিমপুর গ্রামের আবু মিয়ার ছেলে অটোরিকশা চালক ইউনুছ মিয়ার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এছাড়া কলেজ ছাত্রী রোমেনা বেগম স্থানীয় একটি ব্র্যাক স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন। স্কুলটি ইউনুছ মিয়ার বাড়িতে হওয়ায় তাদের মধ্যে প্রতিনিয়ত কথা হতো। ঘটনাটি জানাজানি হলে ছেলে পরিবার বিষয়টি মেনে না নেয়া নিয়ে তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এর মধ্যে গত ২৭ জুলাই বাড়ি থেকে কলেজে যাওয়ার পথে রোমেনা বেগমকে অপহরণ করে নিয়ে যায় ইউনুছ মিয়া। অপহরণের ২ দিন পর সামাজিক চাপে অপহৃতা কলেজ ছাত্রীকে ফিরিয়ে দেয়া হয়। এ নিয়ে গ্রামে শালিস বৈঠক হয়। বৈঠকে ঘটনাটি নিস্পত্তি হয়নি।
অবশেষে ঘটনার ৪ দিন পর ৩১ জুলাই সোমবার সকালে সামাজিক লোক লজ্জার অপমানে বিষপান করে মৃত্যু যন্ত্রনায় ছটফট করতে থাকেন কলেজ ছাত্রী রোমেনা বেগম। এ সময় জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। বেলা দেড়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওসমানীতে হতভাগ্য কলেজ ছাত্রীর মৃত্যু হয়।

এ ব্যাপারে কলেজ ছাত্রীর পিতা আখলুছ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, চক আছিমপুর গ্রামের শালিসি ব্যক্তি আরিফ উল্লাহ গংরা বিষয়টি নিস্পত্তি করতে বিলম্ব করায় সামাজিক অপমানে ক্ষোভে-দুঃখে আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। জানতে চাইলে শালিসি ব্যক্তি আরিফ উল্লাহ বলেন, ছেলে পরিবার মেয়েকে বিয়ে নিতে রাজি না হওয়ায় নিস্পত্তি করা সম্ভব হয়নি। এখানে আমার কোন দোষ নেই। জগন্নাথপুর থানার ওসি হারুনুর রশীদ চৌধুরী বলেন, ঘটনাটি আমি এখনো জানিনি। খোঁজ-খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি সহায়তা বৃদ্ধির দাবি সিলেটে বন্যায় বোরো ফসল, আউশ ক্ষেত ও আমন চাষ নিয়ে উদ্বিগ্ন কৃষক

10

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট
বন্যায় বৃহত্তর সিলেটে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয় বোরো ফসলের। উঠতি ফসল বিনষ্ট হওয়ায় মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েন কৃষক। এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সিলেট অঞ্চলে কৃষকরা আউশ ও আমনের উপর জোর দেন। পরবর্তীতে উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় আউশ ক্ষেত। এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা বন্যায় সিলেটের কৃষকদের দুশ্চিন্তা আরো বেড়ে যায়। আমন ক্ষেত ও বিজতলা তৈরি নিয়ে কৃষকরা উগি¦গ্ন। বন্যার পানি কমলেও বহু এলাকা এখনো রয়েছে জলমগ্ন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বোরো মৌসুমে ধান পাকার আগেই সুনামগঞ্জ জেলার ১১টি উপজেলাসহ সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও হাওরাঞ্চলে পানি বেড়ে ধান বিনষ্ট হয়। বোরোর ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সিলেট বিভাগে এক লাখ ৭৬ হাজার হেক্টর জমিতে আউশ ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে সিলেট কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ। কিন্তু বন্যায় লক্ষ্যমাত্রার পুরো ফসল পাওয়ার সম্ভাবনা ক্রমশই হ্রাস পেয়েছে। কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্তের অভিযোগ জানালেও কৃষি বিভাগ কৃষকদের অভিযোগ পরিপূর্ণভাবে মানছে না।
কৃষি বিভাগের সূত্রমতে, বৈশাখের শুরুতে ঢলের পানিতে সিলেট বিভাগে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬৯৫ হেক্টর জমির বোরো ফসল তলিয়ে যায়। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ২৬ হাজার ৭১৫ হেক্টর, মৌলভীবাজারে ১০ হাজার ২৭৬ হেক্টর, হবিগঞ্জে ৪৭ হাজার ১৮০ হেক্টর ও সুনামগঞ্জে সর্বোচ্চ ৮১ হাজার ৫২৪ হেক্টর জমির বোরো ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সিলেটে মোট ৬৪ হাজার ৮২৫ হেক্টর জমিতে আউশের চাষাবাদ হয়। এর মধ্যে পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে চার হাজার ৩৩০ হেক্টর। অন্যদিকে মৌলভীবাজারে দু’দফায় ১৭০৭ হেক্টর ও সুনামগঞ্জে ১৪০ হেক্টর আউশ জমি তলিয়ে গেছে। এছাড়া সিলেটে ৩৫ হেক্টর ও মৌলভীবাজারে ১০ হেক্টর রোপা আমনের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি বিভাগীয় কর্মকর্তারা বলেন, ধলাই, মনু, কুশিয়ারা ও সুরমা নদীর পানি কমায় ফসলি জমি থেকে পানি নামছে। কিছু কিছু জাতের ধান হয়ত ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করছেন কৃষি কর্মকর্তারা। সিলেট বিভাগের অন্তত ১২ উপজেলার বিপুল সংখ্যক কৃষক আউশের কাঙ্কিত ফলন পাবেন না বলে আশঙ্কা করছেন। বীজতলা নিমজ্জিত হওয়ায় আমনের চাষও বিঘিœত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। গত এপ্রিলে অকাল বন্যায় সুনামগঞ্জে অধিকাংশ বোরো ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উজান থেকে নেমে ঢলের পাশাপাশি আর বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে আসলেও সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি এখনও ওঠা-নামা করছে।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার কৃষক শেরওয়ান আলী, সিদ্দিকুর রহমান, তোয়াবুর রহমান বলেন, বন্যায় বোরো ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর আউশ ক্ষেতও নিয়ে যায়। অনেক স্থানে আমনের চারা বিনষ্ট হয়। সব মিলিয়ে এতদ এলাকার কৃষক সাধারণকে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখিন হতে হচ্ছে। বার বার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সরকারিভাবে সাহায্য সহযোগিতা সবার ভাগ্যে জুটেনি।
১০ এপ্রিল ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত সুনামগঞ্জ জেলার ফসলহারা কৃষকদের জন্য ৪২টি পয়েন্টে ১৫ টাকা কেজিতে চাল বিক্রয় কার্যক্রম শুরু করে পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলে। পরবর্তী মাসে প্রতিটি হাওর এলাকার বাজারে আরো ৬৮টি ওএমএস কেন্দ্র চালু করা হয়।
সিলেটের হাওর জেলা সুনামগঞ্জে বোরো ফসলহারা কৃষকদের জন্য নেওয়া সরকারি সহায়তা ধীরে ধীরে ফুরিয়ে আসছে। বন্ধ হয়ে গেছে খোলা বাজারে চাল বিক্রয় কার্যক্রম। চলতি মাসের শেষ দিকে বন্ধ হয়ে যাবে প্রান্তিক, দরিদ্র ও ক্ষুদ্র চাষিদের জন্য নেওয়া বিশেষ ভিজিএফ কার্যক্রম। সরকারি প্রণোদনার পাশাপাশি বেসরকারি ত্রাণ সহায়তাও কমে আসছে। কৃষকরা জানিয়েছেন দু’এক মাসের মধ্যেই সিলেট অঞ্চলের হাওরে অভাব আরো প্রকট হয়ে উঠতে পারে। এ প্রেক্ষাপটে কৃষকদের জন্য সরকারি সহায়তা কার্যক্রম বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন নানা শ্রেণি পেশার মানুষ। প্রায় একই অবস্থা সিলেট ও মৌলভীবাজারের ১৪টি উপজেলার।
সূত্র মতে, সুনামগঞ্জ জেলায় ফসলহারা সোয়া তিন লাখ কৃষকের মধ্যে এখন দেড়লাখ কৃষককে প্রতিমাসে বিশেষ ভিজিএফ কর্মসূচির মাধ্যমে ৩০ কেজি চাল, নগদ ৫০০ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। এটিও বন্ধ হয়ে গেলে সমগ্র জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা গভীর সংকটে পড়বে বলে জানান স্থানীয়রা।
মৌলভীবাজারের কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক মো. শাহজাহান বলেন, বোরো ফসল ও আউশ ক্ষেতে কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে শতভাগ আমন চাষাবাদে পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। তবে আমন চাষে কৃষকদের কোন ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, তাৎক্ষনিকভাবে আমনের বিজ পাওয়া যায় না। তবে কৃষকদের সব ধরনের পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে।

জন্মনিয়ন্ত্রণে পিছিয়ে রয়েছে সিলেট

 pic-mbbb

কমলকুঁড়ি ডেস্ক  ::
পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি বাস্তবায়নে সাফল্য দেখাতে পারছে না সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগ। সারা দেশে মোট প্রজনন হার বা নারীপ্রতি সন্তান জন্ম (টিএফআর) যেখানে ২ দশমিক ৩ জন, সেখানে সিলেটে তা ২ দশমিক ৯ জন। আর চট্টগ্রামে তা ২ দশমিক ৫। এ ক্ষেত্রে সাফল্য আছে রংপুর ও খুলনা বিভাগের। রংপুর ও খুলনায় তা ১ দশমিক ৯ জন। জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারেও এই দুটি বিভাগে দম্পতিরা পিছিয়ে। বর্তমানে দেশে গড়ে ৬২ দশমিক ৪ ভাগ দম্পতি পদ্ধতি ব্যবহার করেন। কিন্তু সিলেটে তা ৪৮ এবং চট্টগ্রামে ৫৫।
জন্মনিয়ন্ত্রণের বার্তা পৌঁছেনি বা সচেতনতার কর্মসূচির বাইরে আছেন, এমন দম্পতির হার ১২ শতাংশ। চট্টগ্রামে তা ১৭ এবং সিলেটে ১৮।
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রকাশিত ‘পরিবার পরিকল্পনা ও মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য কর্মসূচি’ পুস্তিকায় এ তথ্য মিলেছে। এতে ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত তথ্য হালনাগাদ করা হয়েছে। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এখানে প্রকাশিত তথ্যই সর্বশেষ তথ্য।
আগামীকাল ১১ জুলাই বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস। এবারে দিবসের স্লোগান-‘পরিবার পরিকল্পনা, জনগণের ক্ষমতায়ন, জাতির উন্নয়ন।’
জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সিলেটে ও চট্টগ্রাম বিভাগের পিছিয়ে থাকার কারণ সম্পর্কে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী মোস্তফা সারোয়ার বলেন, সরকারের যে-কোনো কর্মসূচি সিলেট ও চট্টগ্রামে বাস্তবায়নে বেগ পেতে হয়। এখানকার ভৌগোলিক অবস্থান, প্রবাসী আয়সহ অর্থনৈতিক অবস্থা এ ক্ষেত্রে প্রভাব রাখে। তবে আমরা ওই এলাকায় যে সমস্যাগুলো আছে, সেগুলো কাটানোর চেষ্টা করছি এবং নতুন নানা পদক্ষেপ নিচ্ছি।’ পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর নতুন যে জরিপ শুরু করেছে, তাতে এই বিভাগে ভালো ফল আসবে বলে আশাবাদী কাজী মোস্তফা সারোয়ার।
সিলেট ও চট্টগ্রামে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমের বিষয়টিকে ভিন্নভাবে বিবেচনায় নেওয়া উচিত বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আমিনুল হক। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম ও সিলেটের মানুষের স্থানীয় বৈশিষ্ট্য ও চিন্তাচেতনা বুঝতে হবে আগে। দেশের অন্য এলাকার নীতি এই দুটি বিভাগে কাজে লাগবে না। সিলেট ও চট্টগ্রামের মানুষের বোধকে বুঝে নীতি ঠিক করতে হবে।
অধ্যাপক আমিনুল হক বলেন, ‘আমাদের পরিবার পরিকল্পনার যে কর্মসূচি এখন চলছে, তা অন্তত চার দশক আগের। এখন মানুষের আয়, শিক্ষা বেড়েছে। এখন এই কর্মসূচির ধরন-ধারণ পরিবর্তন করতে হবে।’ উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, এমএ পাস সেবাগ্রহীতাকে এসএসসি পাস মাঠকর্মী কীভাবে সচেতন করবেন? তাঁর মতে, এখন সময় এসেছে টার্গেট গ্রুপ ঠিক করা ও কাজে নামা।
তা ছাড়া গণমাধ্যম ব্যবহারেও নীতি পাল্টাতে হবে বলে মনে করেন অধ্যাপক আমিনুল হক। টেলিভিশন, রেডিও, সংবাদপত্রের পাশাপাশি সামাজিক গণমাধ্যমকেও কাজে লাগাতে হবে। দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বর্তমানে ১ দশমিক ৩৭ ভাগ। মোট প্রজনন হার অর্থাৎ, নারীপ্রতি সন্তান জন্ম হচ্ছে ২ দশমিক ৩ জন। এ দুটি হার সাত বছর ধরেই এক জায়গায় স্থির হয়ে রয়েছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও প্রজনন হার কমানো না গেলেও বৃদ্ধি ঠেকানোকে একধরনের সফলতা বলে আখ্যায়িত করছেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। কিন্তু অধিদপ্তর থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখনো দেশের ৩৭ ভাগের বেশি দম্পতি পরিবার পরিকল্পনার কোনো পদ্ধতিই ব্যবহার করছে না। এ বিষয়ে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পদক্ষেপ জানতে চাইলে কাজী মোস্তফা সারোয়ার বলেন, ‘আমাদের জনবল-সংকট আছে। তবে আমরা লক্ষ্য নির্ধারণ করে সচেতনতা তৈরির কাজ করে যাচ্ছি।’
বিভাগওয়ারি চিত্রÑসিলেট : পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচির দুঃখ সিলেট বিভাগ। ভৌগোলিক অবস্থান, ধর্মীয় রক্ষণশীলতা এখানে সরকারের কর্মসূচিকে সফল হতে দিচ্ছে না। এখানে নারীপ্রতি সন্তান জন্ম প্রায় তিনজন বা ২ দশমিক ৯ জন। এ বিভাগে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করেন না বেশির ভাগ দম্পতি। অর্থাৎ, ৪৮ ভাগ দম্পতি পদ্ধতি ব্যবহার করেন। ১৮ ভাগ দম্পতির কাছে পরিবার পরিকল্পনার বার্তা পৌঁছানো হয়নি। রংপুর : পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণে রংপুর বিভাগের সাফল্য বেশি। এখানে মোট প্রজনন হার বা নারীপ্রতি সন্তান জন্ম (টিএফআর) ১ দশমিক ৯ জন। এ বিভাগে প্রতি ১০০ দম্পতির মধ্যে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ করেন ৭০ জন দম্পতি। তবে জন্মনিয়ন্ত্রণের বার্তা পৌঁছেনি বা সচেতনতার কর্মসূচির বাইরে আছেন এমন দম্পতি ৭ শতাংশ।
খুলনা : জন্মনিয়ন্ত্রণে সাফল্য আছে খুলনা বিভাগের। এ বিভাগের দম্পতিদের মধ্যে ৬৭ ভাগই জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ করেন। খুলনায় নারীপ্রতি গড় জন্ম রংপুরের মতোই অর্থাৎ, ১ দশমিক ৯ জন। সচেতনতার কর্মসূচির বাইরে আছেন এমন দম্পতি ৯ শতাংশ।
রাজশাহী : রংপুর, খুলনার মতো না হলেও কাছাকাছি অবস্থানে আছে রাজশাহী বিভাগ। এখানে নারীপ্রতি গড় সন্তান জন্ম ২ দশমিক ১ জন। এ বিভাগে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করেন এমন দম্পতির সঙ্গে প্রতি ১০০ জনে ৬৯ জন। এ বিভাগে ৮ ভাগ দম্পতির কাছে জন্মনিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির বার্তা পৌঁছেনি।
ঢাকা : পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচিতে ঢাকা বিভাগের বিশেষ সাফল্য নেই। এখানে ১২ শতাংশ দম্পতির কাছেই জন্মনিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির বার্তা পৌঁছেনি। এদিক থেকে রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল বিভাগ থেকে পিছিয়ে ঢাকা। এখানে নারীপ্রতি গড়ে জন্ম ২ দশমিক ৩ জন। জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ করেন ৬৩ ভাগ দম্পতি।
বরিশাল : বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু এলাকা দুর্গম চরাঞ্চল। পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মীরা কখনো কখনো এসব এলাকায় পৌঁছাতে পারেন না। এ বিভাগে ১১ ভাগ দম্পতির সচেতনতা কর্মসূচির বাইরে আছেন। বরিশাল বিভাগে নারীপ্রতি গড় জন্ম ২ দশমিক ২ জন। এখানে দম্পতিদের ৬৩ ভাগ জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ করেন।
চট্টগ্রাম : জন্মনিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা দুই বিভাগের একটি চট্টগ্রাম। এখানে নারীরা গড়ে ২ দশমিক ৫টি সন্তান জন্ম দেন। পরিবার পরিকল্পনার পদ্ধতি গ্রহণ করেন ৫৫ শতাংশ দম্পতি। এখানে ১৭ শতাংশ দম্পতির কাছে জন্মনিয়ন্ত্রণের বার্তাই পৌঁছেনি।
সিলেটের একাধিক অঞ্চলে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে মাঠপর্যায়ে কাজ করেছেন, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এমন এক কর্মকর্তা বলেন, সিলেটে ধর্মীয় গোঁড়ামি এখনো কিছু মানুষের মধ্যে প্রভাব ফেলছে, যদিও তা কমে এসেছে। এ ছাড়া কানাইঘাট, গোয়াইনঘাটের মতো প্রত্যন্ত এলাকা আছে, আছে হাওর এলাকা, যেখানে পরিবার পরিকল্পনার বার্তা পৌঁছানো কঠিন। তা ছাড়া এই এলাকার একটি অংশ প্রবাসী, যাঁরা দেশে এসে দুই তিন মাস থেকে আবার চলে যান। তাঁরা পরিবার পরিকল্পনার বিষয়টি আমলে নেন না। এ ছাড়া সিটি করপোরেশনে কাজে সমন্বয় না থাকাও একটা সমস্যা।
এই কর্মকর্তা বলেন, সমস্যার প্রত্যেকটি বিষয় ধরে ধরে কাজ করলে সিলেট বিভাগেও সাফল্য আসবে।

সাঁতছড়ি জাতীয় উদ্যানে চণ্ডি ছড়া ব্রীজ ভেঙ্গে পর্যটকদের ভোগান্তি

2017-07-01--09_19_01

মানিক পাল :

এ দেশের মানুষের অবসর সময় কাটানো। প্রিয়জন এবং পরিজনদের সঙ্গে করে চা- বাগানের সবুজ গালিচার পাশ ঘেষে চুনারুঘাট উপজেলার সাঁতছড়ি জাতীয় উদ্যানে ছুটে যান অসংখ্য পর্যটক। কাছ থেকে ছোট বড় এ পাহাড়গুলোকে দেখে আর হারিয়ে যায় সবুজের এ গহিনে।

2017-07-01--09_18_53

যদি হয় ঈদের ছুটির আনন্দ তবে  কথায় নেই। এবার ঈদকে কেন্দ্র করে প্রচুর পর্যটক আসে সাঁতছড়ি উদ্যানে। কিন্তু এবার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে পাহাড়ি ঢল। ভেঙ্গে ফেলেছে চুনারুঘাট – মাধবপুর সড়কের চণ্ডি মাজার সংলগ্ন চণ্ডিছড়া ব্রীজটি। কয়েকদিন আগে ভারি বর্ষনের ফলে পাহাড়ি ঢলের কারনে চুনারুঘাট থেকে সাঁতছড়ি উদ্যানে প্রবেশের এই ব্রীজটিকে ভেঙ্গে পড়েছে। তারপরও প্রকৃতি প্রেমী প্রর্যটকরা রিক্স এবং পায়ে হেটে এই জাতীয় উদ্যানে যাচ্ছেন। পর্যটক এবং এলাকাবাসীর দাবী যথাযথ কর্তৃপক্ষ দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করবেন।

কমলগঞ্জে খাসিয়া পুঞ্জি পরিদর্শনে ব্রিটিশ হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেক

Pic-British-High-Comissoner-02-e1497956037215
কমলকুঁড়ি রিপোর্ট
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জি পরিদর্শন করেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেক। মঙ্গলবার ২০ জুন দুপুর পৌনে ১২টায় ব্রিটিশ হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেক মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জিতে এক সংক্ষিপ্ত সফরে আসলে তাকে স্বাগত জানান খাসিয়া নেতৃবৃন্দ। এ সময় মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জির মন্ত্রী  হেডম্যান) মি. জিডিশন প্রধান সুচিয়াং এর বাংলোতে স্থানীয় খাসিয়া সম্প্রদায়ের জীবনমান ও পাহাড় ধ্বস নিয়ে এক মতবিনিময় করেন।
এ সময় মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ মো. আব্দুস শহীদ এমপি, শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোবাশ্বেরুল ইসলাম, কমলগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) রফিকুল আলম, সহকারী পুলিশ সুপার (শ্রীমঙ্গল সার্কেল) আশফাক আহমদ, কমলগঞ্জ থানার ওসি বদরুল হাসান, বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী ফোরামের চেয়ারপার্সন মি. পিডিশন প্রধান, খাসিয়া নেতা সাজু মার্শিয়াম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।#