সদ্য সংবাদ

বিভাগ: সিলেট বিভাগ

চায়ের দেশে চা শ্রমিক ভালো নেই ।। সারা দিন কাজ করে মজুরী মাত্র ৬৯ টাকা!

tea-1

নূরুল মোহাইমীন মিল্টন :

চা শ্রমিকদের বহুল আকাঙ্খিত বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচনের ৮ মাস অতিবাহিত হতে চললেও চা শিল্পে নিয়োজিত শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি না পাওয়ায় হতাশা ব্যক্ত করছেন শ্রমিকরা। দু’বছর অন্তর চা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির কথা থাকলেও ২০০৯ সনের পর আর কোন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। এককভাবেই মালিক পক্ষ কয়েক দফায় সর্বশেষ চা শ্রমিকদের সর্ব্বোচ্চ মজুরি ৬৯ টাকা নির্ধারন করে। চা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, চিকিৎসা, বাসস্থানসহ আনুষঙ্গিক সকল সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির দাবি নিয়ে দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের পর নির্বাচিত শ্রমিক ইউনিয়ন নেতারা মাসিক চাঁদা আদায়ে ব্যস্ত থাকলেও মজুরি বৃদ্ধির বিষয়ে তারা সক্রিয় নন বলে শ্রমিকরা অভিযোগ তোলেছেন। বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রতি দুই বছর অন্তর চা শ্রমিকদের মজুরী বৃদ্ধি করা হয়। সর্বশেষ ২০০৯ সালের ১লা সেপ্টেম্বর চা শ্রমিকদের মজুরী এ ক্লাস বাগানে দৈনিক ৪৮ টাকা, বি ক্লাস বাগানে ৪৬ টাকা এবং সি ক্লাস বাগানে দৈনিক ৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। বাংলাদেশ চা এসোসিয়েশন (বি,টি,এ) এবং চা শ্রমিক ইউনিয়নের মধ্যে দ্বি-পাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে নির্ধারিত উল্লেখিত মজুরীর মেয়াদ ছিল ২০১১ সালের ৩১ আগষ্ট পর্যন্ত। ২০১১ সালের ৩১ আগষ্ট চা শ্রমিকদের মজুরী সংক্রান্ত চুক্তির মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর চা শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দানা বাঁধতে শুরু করলে মালিক পক্ষ ৪৮ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৫২ টাকা ৬২ টাকা এবং সর্বশেষ সর্ব্বোচ্চ মজুরি ৬৯ টাকা নির্ধারণ করেন। মালিক পক্ষের নির্ধারিত ৬৯ টাকা হিসাবে শ্রমিকরা এখনো মজুরি পাচ্ছেন। চা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবি দাওয়া বাস্তবায়নে চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন নিয়ে শ্রমিক নেতারা আন্দোলন শুরু করলে ২০১৪ সনের ১০ আগষ্ট দেশের ৫টি জেলার ২০টি উপজেলার ৭টি ভ্যালিতে (অঞ্চলে) ২২৭টি চা বাগানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের মাখন লাল কর্ম্মকার সভাপতি ও রামভজন কৈরী সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। কমিটি নির্বাচিত হওয়ার ৮ মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত এক টাকাও মজুরি বৃদ্ধি পায়নি।

চা শ্রমিক নেতা ও ইউপি সদস্য সীতারাম বিন বলেন, নির্বাচিত কমিটি লেবার হাউস সংস্কারের নামে প্রথম দফা শ্রমিকদের কাছ থেকে মাসিক চাঁদা ৪০ টাকা ও পরে নিয়মিত ১০ টাকা হারে আদায় করে নিচ্ছেন। কিন্তু মজুরি বৃদ্ধিসহ চা শ্রমিকদের কল্যাণে বাস্তবে কোন কাজ করছেন না। চা শ্রমিক সংঘের মৌলভীবাজার জেলা কমিটির আহবায়ক রাজদেও কৈরী বলেন, বর্তমান দ্রব্য মূল্যের উর্ধ্বগতির বাজারে ৫ সদস্যের একটি চা শ্রমিক পরিবারের দৈনিক ৩০০ টাকা হিসাবে মজুরি বাস্তবায়ন দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়াও চা শ্রমিকদের চিকিৎসা সুবিধা, বাসস্থান, পানীয় জলের সুব্যবস্থা সহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি দাওয়া নিয়ে চা শ্রমিক সংঘ কর্তৃপক্ষের কাছে ধারাবাহিকভাবে দাবি তোলে ধরে আসছে। বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের কো-চেয়ারপার্সন মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জির মান্ত্রী জিডিসন প্রধান সুচিয়ান বলেন, আমাদের হাজার হাজার হেক্টর জমি চা বাগানের দখলে রয়েছে। অথচ চা বাগান সবগুলো জমিতে চা চাষাবাদ করছে না। চা শিল্পের সাথে জড়িত কয়েক লাখ শ্রমিকের গত দু’তিন বছরে এক টাকাও মজুরি বাড়েনি। এটি চা শ্রমিকদের জন্য অতীব দুঃখের বিষয়। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরী বলেন, চা শ্রমিকদের কাছ থেকে নিয়মিতহারে মাসিক ১০ টাকা হারে যে চাঁদা উত্তোলন হচ্ছে সেটি শ্রমিকদের কল্যাণে, প্রশাসনিক ও অফিস পরিচালনার জন্য ব্যয় হবে। তিনি আরও বলেন, মজুরি বৃদ্ধির বিষয়ে ইতিপূর্বে বিটিএ’র সাথে চা শ্রমিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দের ১ম দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে হরতাল-অবরোধ এসব বিভিন্ন কারনে কার্যক্রমে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে এবং মজুরি বৃদ্ধির বিষয়টি আলোচনাধীন রয়েছে বলে জানান।

হবিগঞ্জে এক মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় মহিলাসহ ৪ জন নিহত

কমলকুঁড়ি ডেস্ক রিপোর্ট

হবিগঞ্জে ট্রাক্টর ও ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ২ জন। আজ ৮ এপ্রিল বুধবার সকাল ৯টার দিকে শহরের ওমেদনগর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজিমুদ্দিন চৌধুরী দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সকালে হবিগঞ্জ শহরতলীর ওমেদনগর এলাকায় অগ্রদূত ফিলিং স্টেশনের কাছে যাত্রীবাহী অটোরিকশা ও বালুভর্তি ট্রাক্টরের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে ১ জন ও সদর হাসপাতালে নেয়ার পর আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন, বানিয়াচং উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের লাল মিয়া (৪৮), আলিগঞ্জ গ্রামের শাহেদ মিয়ার শিশু কন্যা সামিয়া (০১) ও একই গ্রামের করিম মিয়া (৪২)। নিহত নারীর নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

প্রধান বিচারপ এসকে সিনহার সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার পরিদর্শন

18.-sk-sinha

কমলকুঁড়ি ডেস্ক:

সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার পরিদর্শন করেছেন প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা। প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব নেয়ার পর তিনি এই প্রথম সিলেটের কারাগারটি পরিদর্শন করেন।

সোমবার বিকালে তিনি কারাগার পরিদর্শনে আসলে তাকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়। পরে তিনি পরিদর্শনের জন্য কারাগারের ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় তার সাথে ছিলেন, জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল ইসলাম।

জানা যায়, সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার পরিদর্শনে আসার পূর্বে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা পুলিশের আইজিপির সাথে এ কারাগার সম্পর্কে কথা বলেন। প্রধান বিচারপতি কারা অভ্যন্তরে প্রবেশের পর পরই তিনি মহিলা ওয়ার্ড, রান্নাঘর ও একটি হাজতি ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন। এছাড়া তিনি কারাগারের ভিতরে একটি কমলা গাছের চারা রোপন করেন।

সিলেট জেলার সিনিয়র জেলা সুপার মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি কারাগার পরিদর্শনের সময় বন্দিদের সাথে নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেন। কারাবন্দিরা প্রধান বিচারপতির কাছে কারাগারে সমস্যা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন। এ সময় প্রধান বিচারপতি ধৈর্য্য সহকারে তাদের কথা শুনেন এবং সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে যেসব সমস্যা রয়েছে তা নিয়ে তিনি স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও পুলিশের আইজিপির সাথে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন।’

তিনি আরো বলেন, পরিদর্শন শেষে প্রধান বিচারপতি সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি খাবারের গুণগত মান ও পরিষ্কার পরিছন্নতার প্রশংসা করেন।

ন্যাশনাল ইনোভেটিভ আইডিয়ার পুরুস্কার জিতেছেন কমলগঞ্জের শিপু

10

কমলকুঁড়ি ডেস্ক রিপোর্ট :

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আওতাধীন এ টু আই প্রকল্পের ন্যাশনাল ইনোভেশন ক্যাম্পের সেরা ইনোভেটিভ আইডিয়ার পুরুস্কার জিতেছেন নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজের ৫ম বর্ষের ছাত্র কামরুল ইসলাম শিপু।  সাধারণ মানুষের কাছে কিভাবে তথ্যের মাধ্যমে সাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়া যায় সে বিষয়ক ইনোভেটিভ আইডিয়া উপস্থাপন করে তিনি বিভাগীয় পর্যায়ে এ পুরস্কার জিতেন। তার দেয়া এই আইডিয়া জাতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়ন করা হলে সেটা দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার ব্যপক পরিবর্তন সাধিত করবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। তাছাড়া এই প্রজেক্টের মাধ্যমে চিকিৎসা খাতেও ব্যয় কমার সম্ভাবনা থাকবে।

নিজের অসামান্য অবদানে এই পুরুস্কার জেতার পর কামরুল ইসলাম শিপু জানান, ন্যাশনাল স্টুডেন্ড ইনোভেশন ক্যাম্পে আমার আইডিয়াটা সিলেট বিভাগে প্রথম হয়েছে। সিলেটের সবগুলো ভার্সিটি লেভেলের প্রায় ২৬টি ও ৩ সদস্যের টিম এতে অংশগ্রহণ করে। আমাদের নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজের টিমের নাম ছিলো মেডিকো-১৫। স্বপন ও মাসুদ ছিলো আমার সাথে। আমাকে কাজ করতে হয়েছে এমন একটা আইডিয়ার উপর যেটা হবে ইউনিক, যা সাধারণ মানুষের কাছে বোধগম্য হয়, এবং আমার এই আইডিয়ার কারণে যাতে খরচ ও যাতায়াত কমে যায়। যার ফলে মানুষ এটি দ্বারা উপকৃত হবে। আমি বেশ কয়েকমাস ধরে পাবলিক হেলথের এই আইডিয়াটা  নিয়ে কাজ করছিলাম। আইডিয়াটা ছিলো-”Developing a public health information system and integrating it with national web portal with the help of medical students all over the country”।
এই আইডিয়ার মূল বিষয়বস্তু ছিলো আমরা মেডিকেল স্টুডেন্টরা প্রিভেন্টিভ মেডিসিন সম্পর্কে যে তথ্য বই থেকে শিখি সেগুলোকে একটা ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে অতি সহজ ভাষায় দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া। যাতে করে রোগ হওয়ার আগেই বা রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে মানুষ সেটা প্রতিরোধ করতে পারে। দেশের কমন রোগের মধ্যে বেশিরভাগই প্রতিরোধযোগ্য। আমাদের যেটা করতে হবে সহজ ভাষায় মানুষকে বুঝিয়ে বলতে হবে কিভাবে তারা সেটা করবে। এর মাধ্যমে চিকিৎসা খাতে জনগণের ব্যয় কোটি কোটি টাকা কমে আসবে। রুট লেভেলে যাতে ইনফরমেশন পৌঁছাতে পারে সেজন্য আমরা সরকারের সাহায্য নিবো। তাদের আই টি টিম আমাদের সাহায্য করবে।
প্রাথমিক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এ টু আই প্রকল্পের পরিচালকবৃন্দ, সিলেট জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও প্রকল্পের বেশ কয়েকজনসহ পরিচালকের সমন্বিত জুড়ি বোর্ডের সামনে আমার এই প্রজেক্টটা প্রেজেন্টেশন করি। পরে তারা আমাকে ফোনে জানান যে প্রেজেন্টেশনটা তাদের পছন্দ হয়েছে।
এছাড়াও আমি স্টেডিয়াম জিমনেশিয়ামে ড. জাফর ইকবাল স্যার, ড. ইয়াসমিন ম্যাম, প্রকল্প মহাপরিচালক, জেলা প্রশাসক ও হাজারখানেক দর্শকের সামনে আবারও এটি প্রেজেন্ট করি। যার ফলে এই আইডিয়াটা দেখে সবাই খুব খুশি হয়েছেন।
তাছাড়া এটি “জাতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের সুযোগ আছে বলেও জানিয়েছেন মহাপরিচালক”। এই প্রজেক্টটা বাস্তবায়ন হলে সবচেয়ে উপকার হবে সাধারণ মানুষের এবং সাথে সাথে দেশের সাস্থ্যসেবার খরচও অনেক কমে যাবে।
এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় লেখক শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন  প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহা-পরিচালক (প্রশাসন) কবির বিন আনোয়ার। শাবিপ্রবির অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন হক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেট জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলাম।
কামরুল ইসলাম শিপু মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার পতন উষার ইউনিয়ন এর গোপিনগর গ্রামের বিশিষ্ট সমাজসেবক, শিক্ষানুরাগী, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আলহাজ্ব আব্দূন নূর মাস্টার ও নূরজাহান চৌধুরীর কনিষ্ঠ ছেলে। শিডুর সকলেল নিকট দোয়া ও আর্শিবাদ কামনা করছেন।

সিলেটে ইট ভাটায় কয়লা সংকট

images14

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট ।।

 

কয়লা সংকটে পড়েছে সিলেট বিভাগের ইট ভাটাগুলো। পর্যাপ্ত সরবরাহ না পাওয়ায় ইট পোড়াতে বিপাকে পড়েছেন ভাটা মালিকরা। নভেম্বরের শুরু থেকে সিলেটের ভাটাগুলোতে ইট তৈরি শুরু হয়। এবার বৃষ্টি না থাকায় আগেভাগে ইট তৈরি শুরু হয়েছে। কিন্তু কয়লার অভাবে ইট পোড়াতে পারছে না ভাটাগুলো।

মালিকরা জানান, ইট পোড়াতে প্রতিটি ইট ভাটায় মৌসুমে ৪০০ টন হিসাবে ৩২ হাজার টন কয়লা প্রয়োজন। অন্যবার মৌসুমের আগেই ভাটা মালিকরা কয়লা জোগাড় করে রাখেন। কিন্তু এবার এখনও কয়লা পাওয়া যায়নি। আমদানিকৃত কয়লার ওপর নির্ভর করতে হয়। দেশি কয়লা পাওয়া ‍যায় খুবই কম পরিমাণে।সিলেটে কয়লা আমদানিকারক আছেন দশজন। তারা কেউই কয়লা আমদানি করতে পারছেন না।

এদিকে ইটের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষ নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অনেক দাম দিয়ে ইট ক্রয় করে হিসাব মিলাতে

সুনামগঞ্জে নির্মম ভাবে পিঠিয়ে কৃষক খুন

সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা
সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় কর্মসৃজন প্রকল্পের আওতায় রাস্তায় মাঠিভরাটের কাজে সহযোগীতার অপরাধে প্রতিপক্ষের লোকজনের হাতে এক কৃষক নির্মম ভাবে খুন হয়েছেন। নিহত কৃষকের নাম আবুল কালাম। তিনি উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের জিনারপুর গ্রামের মৃত খলিলুর রহমানের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপজেলার জিনারপুর বাজারের পশ্চিমে কর্মসৃজন কর্মসুচী প্রকল্পের আওতায় রাস্তায় মাটি ভরাটের কাজে সহযোগীতা করছিলেন কৃষক আবুল কালাম। রবিবার সকালে মসজিদের জায়গা থেকে মাটি তুলে রাস্তাভরাটের পরামর্শ দিলে একই গ্রামের প্রতিপক্ষ আবু মিয়ার সাথে সামান্য বাকবিতন্ডা হয়। পরে আবু মিয়া ও তার পরিবারের লোকজন কালামের বাড়িতে গিয়ে হামলা লুপাট চালিয়ে নির্মম ভাবে পিঠিয়ে গুরুতর আহত করে কালামকে। এক পর্যায়ে মুমুর্ষ অবস্থায় কালামকে সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সকাল পৌরেণ ৯ টায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)  শহীদুর রহমান এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুস সামাদ হত্যাকান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কে গান পাউডার ছিটিয়ে দু’টি বাসে অগ্নিসংযোগ

Pic-1

কমলকুঁড়ি ডেস্ক নিউজ ।।

দক্ষিণ সুরমায় যাত্রী নামিয়ে সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কে গান পাউডার ছিটিয়ে দু’টি বাসে অগ্নিসংযোগ করেছে যাত্রীবেশী দুর্বৃত্তরা। এছাড়া ওই সড়কে আরও একটি একটি লেগুনা (হিউম্যান হলার) ও একটি সিএনজি চালিত অটোরিক্সায় আগুন দেয়া হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হিলালপুর ও শ্রীরামপুর এলাকায় এ পৃথক ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে সিলেট কদমতলী টার্মিনাল থেকে একটি বাস (সিলেট ব ১১-০০৪৩) জকিগঞ্জের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। বাসটি দক্ষিণ সুরমার মোগলাবাজার থানাধীন শ্রীরামপুর এলাকায় যাওয়ার পর যাত্রীবেশী কয়েকজন দুর্বৃত্ত চালকের মাথায় আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে গাড়ি থামাতে বলে। পরে তারা গাড়ি থেকে যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে গান পাউডার ছিটিয়ে বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। বাসে আগুন দেয়ার পর ওই স্থানে অপেক্ষমান তাদের সহযোগীদের মোটর সাইকেলে উঠে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গোলাপগঞ্জের হিলালপুরে একই কায়দায় গান পাউডার ছিটিয়ে আরও একটি বাসে (সিলেট ব ১১-০০১৩) আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। বাসটি গোলাপগঞ্জ থেকে সিলেট আসছিল। হিলালপুর আসার পর যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে গান পাউডার ছিটিয়ে বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। পরে তারা সহযোগীদের মোটর সাইকেলে ওঠে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন চেষ্টা চালিয়ে বাস দুইটির আগুন নেভান। তবে এর আগেই বাস দুইটি পুড়ে যায়।
এদিকে, সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে দক্ষিণ সুরমার শ্রীরামপুর এলাকায় আরও একটি লেগুনা ও একটি সিএনজি চালিত অটোরিক্সায় আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।
এ বিষয়ে গোলাপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিবলি আহমদ বলেন, ‘দুর্বৃত্তরা বাসের ভেতরে যাত্রীবেশে ছিল। তারা অস্ত্রের মুখে গাড়িতে আগুন দেয়। ওদের ধরতে অভিযান চলছে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার রহমত উল্লাহ (মিডিয়া) বলেন, ‘দুর্বৃত্তরা কৌশল পাল্টে গাড়িতে আগুন দিচ্ছে। মোগলাবাজার এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।’
এদিকে, গতকাল বৃৃস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে নগরীর আখালিয়ায় অবরোধের সমর্থনে মহানগর ছাত্রদলের সহ সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক স্বপন ও ৮নং ওয়ার্ড সভাপতি আফছর খানের নেতৃত্বে একটি ঝটিকা মিছিল বের হয়।
সকাল সোয়া ৯টার দিকে অবরোধ সমর্থনে দুর্বৃত্তরা নগরীর আম্বরখানা সাপ্লাই রোড এলাকায় একটি ট্রাকে অগ্নিসংযোগ করে।

সিলেটের গোলাপগঞ্জে অস্ত্র ও গুলিসহ আটক ১

সিলেট সংবাদদাতা ॥

সিলেটের গোলাপগঞ্জে অস্ত্র ও গুলিসহ এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার সন্ধ্যা সোয়া ৫টায় গোলাপগঞ্জ থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। এ সময় তার কাছ থেকে একটি দেশিয় তৈরি পাইপগান ও ৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। আটককৃত ইউসুফ আলী (৩২) বিশ্বনাথের আতাপুর গ্রামের তৈমুছ আলীর ছেলে।
জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোলাপগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) জালাল উদ্দিন ও এসআই মো. নুনু মিয়া হেতিমগঞ্জে অবস্থান নেন। এ সময় সোর্সের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ইউসুফ আলীকে আটক করা হয়। তাকে তল্লাশি করে একটি পাইপগান ও ৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
এ ব্যাপারে গোলাপগঞ্জ থানার এসআই মো. নুনু মিয়া জানান, ধারণা করা হচ্ছে ডাকাতিতে সংঘবদ্ধ হওয়ার জন্য অস্ত্র ও গুলি নিয়ে গোলাপগঞ্জ যাচ্ছিলো ইউসুফ। এ ব্যাপারে অস্ত্র আইনে মামলা হবে।

বিদায় ২০১৪, স্বাগত ২০১৫

Modern Style 2015 New Year is coming background with blend shadoনিউজ ডেস্ক: স্বাগত ২০১৫। নতুন বছর নতুন আশা। কালের গর্ভে হারাল আরেকটি বছর। স্মৃতির খেরোখাতা থেকে প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসাব মুছে শুরু হলো নতুন বছর। অনেক ঘটন-অঘটন, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি, চড়াই-উৎরাই, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ও আনন্দ-বেদনার সাক্ষী হল বিদায়ী বছর। রাজনৈতিক সহিংসতা, নানা দুর্যোগ-দুর্ঘটনা আর ঘটনা প্রবাহের মধ্য দিয়ে শেষ হলো ইংরেজি ২০১৪ সাল।

সময় এক প্রবহমান মহাসমুদ্র। কেবলই সামনে এগিয়ে যাওয়া, পেছনে ফেরার সুযোগ নেই। তাই তো জীবন এত গতিময়। সেই গতির ধারাবাহিকতায় মহাকালের প্রেক্ষাপটে একটি বছর মিলিয়ে গেল। যে প্রত্যাশার বিশালতা নিয়ে ২০১৪-এর প্রথম দিনটিকে বরণ করা হয়েছিল, সেই প্রত্যাশার সব কি পূরণ হয়েছে? এ হিসাব না হয় নাইবা করলাম।

বিদায়ী বছরটি প্রাপ্তি আর অপ্রাপ্তির দোলাচলে নিয়েছে অনেক কিছু। তারপরও নতুন বছরের নতুন সূর্যালোকিত দিনের প্রতি অসীম প্রতীক্ষা ও প্রত্যাশা মানুষের মনে। নতুন বছর মানেই নতুন স্বপ্ন। চোখের সামনে এসে দাঁড়ায় ধূসর হয়ে আসা গল্পগাঁথার সারি সারি চিত্রপট। কখনো বুকের ভেতর উঁকি দেয় একান্তই দুঃখ-যাতনা। কখনো পাওয়ার আনন্দে নেচে উঠে হৃদয়। এ বছরটি নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেবে আমাদের জীবনে, এমনটিই প্রত্যাশা আমাদের। শুভ হোক নতুন বছর। সামনের দিনগুলোতে অনিশ্চয়তা কেটে গিয়ে ছড়িয়ে যাক শুভময়তা। নতুন বছরটি ভরে উঠুক আনন্দে, শান্তিতে। হ্যাপি নিউ ইয়ার।

‘আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু, বিরহদহন লাগে। তবুও শান্তি, তবু আনন্দ, তবু অনন্ত জাগে’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানের এ কথার মতই দুঃখ, কষ্ট সবকিছু কাটিয়ে নতুন জীবনের দিকে যাত্রার প্রেরণা পেতে চাই। নতুন বছরটি যেন সমাজ জীবন থেকে, প্রতিটি মানুষের মন থেকে সকল গ্লানি, অনিশ্চয়তা, হিংসা, লোভ ও পাপ দূর করে। রাজনৈতিক হানাহানি থেমে গিয়ে আমাদের প্রিয় স্বদেশ যেন সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যেতে পারে।

২০১৫ সালকে দেখতে চাই ভিন্ন আঙ্গিকে। হিংসা-প্রতিহিংসার ঊর্ধ্বে উঠে রাজনীতিকরা পরমতসহিষ্ণু হয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধার আবহ তৈরি করে জনকল্যাণে সবাই একসঙ্গে মনোযোগী হবেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে। আইন হয়ে উঠবে সব কিছুর নিয়ামক। নিশ্চিত হবে শাসকদের জবাবদিহিতা।

বাংলাদেশে ইংরেজি নববর্ষ পালনের ধরন বাংলা নববর্ষ পালনের মত ব্যাপক না হলেও এ উৎসবের আন্তর্জাতিকতার ছোঁয়া থেকে বাংলাদেশের মানুষও বিচ্ছিন্ন নয়।

দীর্ঘ ছুটি দিয়েই শুরু ইংরেজি নববর্ষ ২০১৫। নতুন বছর নতুন আনন্দ আর কর্মব্যস্ততা নিয়ে শুরু হয়। কিন্তু ২০১৫ সালটি শুরু হচ্ছে দীর্ঘ ছুটি দিয়ে। ১ জানুয়ারী সরকারী ছুটি না থাকলেও সর্বত্র থাকছে উৎসবের আমেজ। থার্টিফার্স্ট উদযাপনের পর নতুন বছরের শুরুর দিনটি ছুটির আমেজেই কেটে যায়। নববর্ষের বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনে থাকবে উৎসবের আমেজ। এ বছরের ২ জানুয়ারি শুক্রবার, ৩ জানুয়ারি শনিবার। তাই সরকারী-বেসরকারী সকল প্রতিষ্ঠানে থাকবে ছুটি। রোববার ৪ জানুয়ারী ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে সরকারী ছুটি।

১ জানুয়ারী নববর্ষ থেকে ৪ জানুয়ারী পর্যন্ত টানা ছুটি ভোগ করবে দেশ। ৫ তারিখ ঢাকায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির ঘোষণা রয়েছে আগে থেকেই। দু’পক্ষের কর্মসূচি নিয়ে জনমনে রয়েছে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। ঢাকায় সেদিন কি ঘটতে পারে তা নিয়ে দেশবাসীর সাথে রাজধানীবাসীও আতঙ্কিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ৫ তারিখ ঢাকায় বিরোধী দল সমাবেশ করতে না পারলে টানা হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারে। সে ক্ষেত্রে এ ছুটি আরও দীর্ঘ হতে পারে এমন আশংকা অনেকের।

নতুন বছরে রাজনৈতিক উত্তাপের আভাস এখন বাতাসজুড়ে। বছরের শুরুতেই এই উত্তাপ সৃষ্টি হচ্ছে দশম সংসদ নির্বাচনের প্রথম বর্ষপূর্তির দিন ৫ জানুয়ারিকে ঘিরে। আওয়ামী লীগসহ ১৪ দল দিনটিকে ‘গণতন্ত্র রক্ষা দিবস’ হিসেবে পালনের ঘোষণা দিয়েছে। পক্ষান্তরে বিএনপি ও তাদের নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট দিনটিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে পালনের কথা বলছে। বুঝাই যাচ্ছে, অনেকটা মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে আওয়ামী লীগ-বিএনপি। ফলে এই নিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বড়দিনে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে বলেন, ‘ নতুন বছর গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের’। বর্তমান সরকার জনগণের ‘ভোটের অধিকার’ কেড়ে নিয়ে দেশকে ধ্বংসের শেষ প্রান্তে নিয়ে গেছে অভিযোগ করে তাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ারও আহ্বান জানান তিনি। অনেকেই মনে করেন এটি নতুন বছর উত্তপ্ত যাওয়ারই ইঙ্গিত।

নতুন বছরে আমাদের প্রত্যাশা অনেক। প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে গণতন্ত্রের চর্চা নেই। পরস্পরের প্রতি শুধু বিবাদ বিদ্যমান। সংসদ, বিচার, পুলিশসহ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করা হচ্ছে। ফলে আইনের শাসন ও মানবাধিকার বিপন্ন হচ্ছে। সম্পদের সুষম বণ্টন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সরকারকে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় মনোনিবেশ করতে হবে। সর্বত্র আইনের শাসন, সবার জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, দলের ভেতর গণতন্ত্রের চর্চায় মনোযোগী হওয়া জরুরি।

সৃষ্টির জন্মলগ্ন থেকে নতুন বছর আমাদের মাঝে ঘুরে ঘুরে আসে অনেক আশা উদ্দীপনা নিয়ে। অন্যদিকে, পুরাতন বছর চলে যাওয়ার সাথে সাথে মানুষের সব হতাশা, গ্লানী, ব্যর্থতা দূর হয়ে যাক এই কামনায় প্রহর গুনে মানব জাতি। নতুন বছরে প্রথমে আমাদের যা ভাবতে হবে তা হল সম্পর্কের বন্ধন সুদৃঢ় করা।

প্রথমে পরিবার -সমাজ -রাষ্ট্র -বর্হিবিশ্ব – ধাপে ধাপে বন্ধন সুদৃঢ় করতে হবে। কাউকে শুভেচ্ছা জানানোর ব্যাপারে আমরা যেন কার্পন্য বোধ না করি। একজনের প্রতি আর একজনের একটু শুভেচ্ছা -একটা মানুষের জীবনে অনেক সফলতা এনে দিতে পারে। অন্যকে দিয়ে যেটা আশা করি সেটা কেন নিজের মধ্যে চর্চা করব না। আমরা একটু ভাবি নতুন বছরে, আমাদের সারা বছরের পরিকল্পনাটি কেমন হবে ? মনের কষ্ট-হতাশা ভুলে গিয়ে পরিবারের সবাইকে নিয়ে একটু আনন্দ করতে যেন ভুলে না যাই। অন্তত পরিবারের শান্তি সুদৃঢ় করার স্বার্থে।

নতুন বছরে বই উৎসব হবে, শিক্ষার্থীদের হাতে হাতে নতুন বই পৌঁছবে, নিঃসন্দেহে জাতির জন্য খুবই আনন্দের। প্রতিবারের মতো এবারো বছরের প্রথমদিনেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এরই মধ্যে দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে বই পৌঁছে গেছে বলে জানিয়েছে এনসিটিবি।

৩০ ডিসেম্বর পিএসসি ও জেএসসির অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এবারই প্রথমবারের মতো মাল্টিমিডিয়া গ্রন্থের বিতরণ ও উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি শেখ হাসিনা সকল শিক্ষার্থীদের জন্য পূর্ণাঙ্গ অডিও ডিজিটাল মাল্টিমিডিয়া গ্রন্থের একটি পূর্ণাঙ্গ টেক্সট উদ্বোধন করেন।

নতুন বই বিতরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বিনা মূল্যের বই বিতরণে বাংলাদেশ এখন রোল মডেল। সারা বিশ্ব যা কখনো ভাবতেও পারেনি, বাংলাদেশ তা করে দেখিয়েছে। ছয় বছর ধরে একই দৃষ্টান্ত দেখিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। এ বছর প্রাক প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত সাড়ে চার কোটি শিক্ষার্থী বিনা মূল্যে পাবে প্রায় ৩৩ কোটি বই। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশুরাও পাবে ব্রেইল পদ্ধতির বই। বছরের প্রথম কর্মদিবসেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের সব শিশু হাতে পাবে এসব নতুন বই। ফলে নতুন উদ্যম আর আগ্রহে শিশুরা শুরু করবে নতুন বছরের পড়ালেখা।

শিশুদের এই আনন্দের মধ্যদিয়ে নতুন বছর সকলের জন্য শুভ হয়ে উঠুক।