সদ্য সংবাদ

বিভাগ: পতনউষার

কমলগঞ্জের গোপীনগরে ইকরা এডুকেশন সেন্টার পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক

Dc-1

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট ॥
মৌলবীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নের গোপীনগর গ্রামে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৪টায় আব্দুন নূর-নূরজাহান চৌধুরী কল্যান ট্রাস্টের শিক্ষা প্রকল্প ইকরা এডূকেশন সেন্টার পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক জনাব কামরুল হাসান।
কমলগঞ্জ উপজেলার গোপীনগর গ্রামে ইকরা এডূকেশন সেন্টার পরিদর্শন পরবর্তী এলাকাবাসী ও ছাত্রছাত্রীদের সাথে সাধারন সভায় ট্রাস্টের উপদেষ্টা বিশিষ্ট সমাজসেবক, শিক্ষানুরাগী মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক আব্দুন নূর মাষ্টার এর সভাপতিত্বে ও ট্রাস্ট সমন্বয়ক মিজানুর রহমানের পরিচালনায়  সভায় প্রধান অথিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রসাশক কামরুল হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম মিঞা, জেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আরাফাত রহমান। এসময় উপস্থিত ছিলেন ২নং পতনউষার ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান রিপন ইসলাম ময়নুল, ট্রাস্ট উপদেস্টা মাহমুদুর রহমান মাস্টার, হাজী হারিছ মিয়া, সমাজসেবক সাইফুর রহমান, মসজিদের ইমাম লুৎফুর রহমান প্রমুখ।
সভায় সাধারন ছাত্রছাত্রীরা বিভিন্ন ধর্মীয় পরিবেশনা আমন্ত্রিত অথিতিদের পরিবেশন করে দেখান।
এসময় জেলা প্রশাসক এরকম একটি মহতী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। এই প্রকল্পটি এলাকার শিক্ষার মানোন্নয়নে ব্যপক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য আব্দুন নূর-নূরজাহান চৌধুরী কল্যান ট্রাস্টের অন্যতম ট্রাস্টি লন্ডন প্রবাসী জনাব নজরুল ইসলামের উদ্যোগে গ্রামের বঞ্চিত শিশু কিশোরদের ধর্মীয় ও সামজিক শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে ইকরা এডুকেশন সেন্টার শুরু হয়। ইতোমধ্যে প্রকল্পটি এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক শিক্ষা বিস্তারে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছে।

পতনঊষারে দু’পক্ষের সংঘর্ষে ৩ মহিলা সহ ১২ জন আহত

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট ।।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার পতনউষার ইউনিয়নের গোপীনগর গ্রামে ঘরের বিরোধকে কেন্দ্র করে  দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে ৩ মহিলাসহ ১২ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত তিনজনকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বৃহস্পতিবার বেলা দুইটায় এ ঘটনাটি ঘটে।
পতনউষার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম আহমদ চৌধুরী ও ইউপি সদস্য মঈনূল ইসলাম জানান, মাস খানেক আগে গোপীনগর গ্রামের কাসেম আলী (৫০)র ছেলে রুবেল মিয়া (৩০) একই গ্রামের শেলি বেগম (৩০)-এর বাড়িতে এসে পরিবার সদস্যদের মারপিট করেছিল। এ ঘটনায় শেলি বেগম কমলগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ আসামী রুবেল মিয়াকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করে। কারাগার থেকে বেরিয়ে সম্প্রতি রুবেল জামিনে মুক্ত হয়ে বৃহষ্পতিবার সকালে মামলা প্রত্যাহারে বাদিনীকে হুমকি দিয়ে বসতঘরে হামলা ও মারপিট করার হুমকি দিয়ে শেলি বেগমের বাড়িতে এসে বসতঘর ভাঙ্গচুর করে। খবর পেয়ে পতনউষার ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য ও উপসহকারী পরিদশকসহ দুই পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে যান। এ সময় রুবেলের বাবা কাসেম আলী ও রুবেলের নেতৃত্বে দা, লোহার রড ও লাঠি সোটা নিয়ে হামলা চালায়। প্রতিপক্ষ আত্মরক্ষার চেষ্টা করে। এ সময়ে শেলী বেগম (৩০), নাসিমা বেগম (১৮), ছায়ারুন বেগম (৪০), সুমি বেগম (৫৫), বাছিত মিয়া (৫০), নেছার মিয়া (৪০), তোয়াব আলী (৩০), খালিক মিয়া (৩০), জাবদে মিয়া (২২), আবু সুফিয়ান (১৮), আব্দুল আলী (৪৪) ও এলাইছ মিয়া (৩৮) আহত হয়েছেন। আহতদের কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। আশঙ্কাজনক বাছিত মিয়া, তোয়াব আলী ও আব্দুল আলীকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন শেলী বেগম বলেন, যেখানে জনপ্রতিনিধি ও পুলিশের উপস্থিতে প্রকাশ্যে দা নিয়ে হামলা চালায় তাতে নিরাপত্তা নিয়ে তারা খুবই চিন্তিত। তবে রুবেল মিয়া ও তার বাবা কাসেম আলীকে পাওয়া যায়নি বলে তাদের বক্তব্য গ্রহন করা যায়নি।
শমশেরনগর পুলিশ পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা এসআই মতিউর রহমান ঘটনার বলেন, তিনি সরেজমিন তদন্ত করে এখন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করছেন।

পতনঊষারের কমলকুঁড়ি কাপ এন্ড কাপ ক্রিকেট টুর্ণামেন্টের সমাপনী ও বস্ত্র বিতরণ

Pic-kuri
কমলকুঁড়ি রিপোর্ট ॥
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে কমলকুঁড়ি কাপ এন্ড কাপ ক্রিকেট টুর্ণামেন্টের সমাপনী খেলা ও দরিদ্রদেও মধ্যে বস্ত্র বিতরণ করা হয়। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারী) দুপুরে উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নের লক্ষীপুর তরুন সংঘের আয়োজনে স্থানীয় ভৈরবথলী সংলগ্ন মাঠে লক্ষীপুর তরুন সংঘের সভাপতি ও কমলকুঁড়ি পত্রিকার সম্পাদক পিন্টু দেবনাথ এর সভাপতিত্বে পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়। অঞ্জন দেবনাথ এর উপস্থাপনায় অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজ সেবক সিলেট থেকে আগত সুজিত দেবনাথ, তরুন সমাজসেবক পরিমল দেবনাথ, সুধাংশু দেবনাথ, শশাংক দেবনাথ, মিলন চক্রবর্তী, রাজিব চক্রবর্তী, বিশিষ্ট মুরব্বী তরনী দেবনাথ প্রমুখ।
সমাপনী খেলায় প্রান্ত স্পোটিং ক্লাববে ৩ উইকেটে পরাজিত করে সবুজ বাংলা স্পোটিং লক্ষীপুর চ্যাম্পিয়ান হয়।  ম্যান অব দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হন হোসেন জাবেদ ও ম্যান অব দ্যা সিরিজ নির্বাচিত হন জুবের আহমদ। খেলায় মোট ১৬টি দল অংশগ্রহণ করেছিল।

কমলগঞ্জে লোক গবেষক ও লেখক চৌধুরী হারুন আকবর স্মরণে শোক সভা ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত

Pic--Suksova,_Kamalgonj--2[1]

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট ॥
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে বিশিষ্ট লোক গবেষক, লেখক ও সাবেক জেলা রেজিষ্টার চৌধুরী হারুন আকবর স্মরণে এক শোক সভা ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। রোববার (৪ জানুয়ারি) বিকাল ৪টায় পতনঊষার ইউনিয়নের আহমদ নগর দাখিল মাদ্রাসার উদ্যোগে মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত শোকসভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ মো. আব্দুস শহীদ এমপি।
আহমদ নগর দাখিল মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি বদরুজ্জামান চৌধুরী (জহির) এর সভাপতিত্বে ও শিক্ষক মাওলানা তরাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক রফিকুর রহমান, উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি এম, মোসাদ্দেক আহমেদ মানিক, ডা. মৃগেন কুমার দাস চৌধুরী, অবসরপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. শফিক উদ্দিন আহমদ, অধ্যক্ষ মামুনুর রশীদ, বিশিষ্ট লোক গবেষক মাহফুজুর রহমান, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ মৌলভী আব্দুল ওয়ালী সিদ্দিকী, পতনঊষার ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম আহমদ চৌধুরী, লেখক-গবেষক আহমদ সিরাজ, কবি সাইয়্যিদ ফখরুল, পূবালী ব্যাংকের আইন কর্মকর্তা এড: আবু তাহের, কমলগঞ্জ পৌরসভার প্যানেল মেয়র-১ মো. আনোয়ার হোসেন, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক আং নুর মাষ্টার, সাংবাদিক আব্দুল হান্নান চিনু, প্রধান শিক্ষক মিছবাউর রহমান চৌধুরী, স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা ইলিয়াছুর রহমান মহরম, কবি আব্দুল হাই ইদ্রিছী, প্রভাষক মাওলানা মনির উদ্দিন, আহমদ নগর দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাও: আলম চৌধুরী, শিক্ষক হাজী আব্দুর রহমান, প্রয়াত লোক গবেষক ও লেখক চৌধুরী হারুন আকবর এর ছোট ভাই সিলেট টিটি কলেজের উপাধ্যক্ষ চৌধুরী মামুন আকবর প্রমুখ।
শোক সভায় বক্তারা বলেন, প্রাচীন ঐতিহ্যের ধারক চৌধুরী হারুন আকবর একটি শিক্ষিত মার্জিত সংস্কৃতি পরিবারের সফল প্রতিনিধি ছিলেন। সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চায় রত থেকে দেশে-বিদেশে যথেষ্ট সুনাম কুড়িয়েছেন। কর্ম ও লেখনীর মাধ্যমে শেখড় সন্ধানী লোকসাহিত্য গবেষক চৌধুরী হারুন আকবর বেঁচে থাকবেন অনন্তকাল। সরকারী চাকুরীর পাশাপাশি তিনি এলাকার সার্বিক উন্নয়নে অসামান্য ভূমিকা পালন করেছেন। তার মৃত্যুতে সাহিত্য, সাংস্কৃতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে শূণ্যতার সৃষ্টি হয়েছে তা সহজে পূরণ হবার নয়।
শোকসভায় কবি আব্দুল হাই ইদ্রিছী সম্পাদিত “চৌধুরী হারুন আকবর এর জীবন ও সাহিত্য ভাবনা” নামক বইটি উপস্থিত সকলের মধ্যে বিতরণ করা হয়। সবশেষে মিলাদ মাহফিল ও শিরনী বিতরণ করা হয়।

বিদায় ২০১৪, স্বাগত ২০১৫

Modern Style 2015 New Year is coming background with blend shadoনিউজ ডেস্ক: স্বাগত ২০১৫। নতুন বছর নতুন আশা। কালের গর্ভে হারাল আরেকটি বছর। স্মৃতির খেরোখাতা থেকে প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসাব মুছে শুরু হলো নতুন বছর। অনেক ঘটন-অঘটন, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি, চড়াই-উৎরাই, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ও আনন্দ-বেদনার সাক্ষী হল বিদায়ী বছর। রাজনৈতিক সহিংসতা, নানা দুর্যোগ-দুর্ঘটনা আর ঘটনা প্রবাহের মধ্য দিয়ে শেষ হলো ইংরেজি ২০১৪ সাল।

সময় এক প্রবহমান মহাসমুদ্র। কেবলই সামনে এগিয়ে যাওয়া, পেছনে ফেরার সুযোগ নেই। তাই তো জীবন এত গতিময়। সেই গতির ধারাবাহিকতায় মহাকালের প্রেক্ষাপটে একটি বছর মিলিয়ে গেল। যে প্রত্যাশার বিশালতা নিয়ে ২০১৪-এর প্রথম দিনটিকে বরণ করা হয়েছিল, সেই প্রত্যাশার সব কি পূরণ হয়েছে? এ হিসাব না হয় নাইবা করলাম।

বিদায়ী বছরটি প্রাপ্তি আর অপ্রাপ্তির দোলাচলে নিয়েছে অনেক কিছু। তারপরও নতুন বছরের নতুন সূর্যালোকিত দিনের প্রতি অসীম প্রতীক্ষা ও প্রত্যাশা মানুষের মনে। নতুন বছর মানেই নতুন স্বপ্ন। চোখের সামনে এসে দাঁড়ায় ধূসর হয়ে আসা গল্পগাঁথার সারি সারি চিত্রপট। কখনো বুকের ভেতর উঁকি দেয় একান্তই দুঃখ-যাতনা। কখনো পাওয়ার আনন্দে নেচে উঠে হৃদয়। এ বছরটি নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেবে আমাদের জীবনে, এমনটিই প্রত্যাশা আমাদের। শুভ হোক নতুন বছর। সামনের দিনগুলোতে অনিশ্চয়তা কেটে গিয়ে ছড়িয়ে যাক শুভময়তা। নতুন বছরটি ভরে উঠুক আনন্দে, শান্তিতে। হ্যাপি নিউ ইয়ার।

‘আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু, বিরহদহন লাগে। তবুও শান্তি, তবু আনন্দ, তবু অনন্ত জাগে’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানের এ কথার মতই দুঃখ, কষ্ট সবকিছু কাটিয়ে নতুন জীবনের দিকে যাত্রার প্রেরণা পেতে চাই। নতুন বছরটি যেন সমাজ জীবন থেকে, প্রতিটি মানুষের মন থেকে সকল গ্লানি, অনিশ্চয়তা, হিংসা, লোভ ও পাপ দূর করে। রাজনৈতিক হানাহানি থেমে গিয়ে আমাদের প্রিয় স্বদেশ যেন সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যেতে পারে।

২০১৫ সালকে দেখতে চাই ভিন্ন আঙ্গিকে। হিংসা-প্রতিহিংসার ঊর্ধ্বে উঠে রাজনীতিকরা পরমতসহিষ্ণু হয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধার আবহ তৈরি করে জনকল্যাণে সবাই একসঙ্গে মনোযোগী হবেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে। আইন হয়ে উঠবে সব কিছুর নিয়ামক। নিশ্চিত হবে শাসকদের জবাবদিহিতা।

বাংলাদেশে ইংরেজি নববর্ষ পালনের ধরন বাংলা নববর্ষ পালনের মত ব্যাপক না হলেও এ উৎসবের আন্তর্জাতিকতার ছোঁয়া থেকে বাংলাদেশের মানুষও বিচ্ছিন্ন নয়।

দীর্ঘ ছুটি দিয়েই শুরু ইংরেজি নববর্ষ ২০১৫। নতুন বছর নতুন আনন্দ আর কর্মব্যস্ততা নিয়ে শুরু হয়। কিন্তু ২০১৫ সালটি শুরু হচ্ছে দীর্ঘ ছুটি দিয়ে। ১ জানুয়ারী সরকারী ছুটি না থাকলেও সর্বত্র থাকছে উৎসবের আমেজ। থার্টিফার্স্ট উদযাপনের পর নতুন বছরের শুরুর দিনটি ছুটির আমেজেই কেটে যায়। নববর্ষের বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনে থাকবে উৎসবের আমেজ। এ বছরের ২ জানুয়ারি শুক্রবার, ৩ জানুয়ারি শনিবার। তাই সরকারী-বেসরকারী সকল প্রতিষ্ঠানে থাকবে ছুটি। রোববার ৪ জানুয়ারী ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে সরকারী ছুটি।

১ জানুয়ারী নববর্ষ থেকে ৪ জানুয়ারী পর্যন্ত টানা ছুটি ভোগ করবে দেশ। ৫ তারিখ ঢাকায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির ঘোষণা রয়েছে আগে থেকেই। দু’পক্ষের কর্মসূচি নিয়ে জনমনে রয়েছে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। ঢাকায় সেদিন কি ঘটতে পারে তা নিয়ে দেশবাসীর সাথে রাজধানীবাসীও আতঙ্কিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ৫ তারিখ ঢাকায় বিরোধী দল সমাবেশ করতে না পারলে টানা হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারে। সে ক্ষেত্রে এ ছুটি আরও দীর্ঘ হতে পারে এমন আশংকা অনেকের।

নতুন বছরে রাজনৈতিক উত্তাপের আভাস এখন বাতাসজুড়ে। বছরের শুরুতেই এই উত্তাপ সৃষ্টি হচ্ছে দশম সংসদ নির্বাচনের প্রথম বর্ষপূর্তির দিন ৫ জানুয়ারিকে ঘিরে। আওয়ামী লীগসহ ১৪ দল দিনটিকে ‘গণতন্ত্র রক্ষা দিবস’ হিসেবে পালনের ঘোষণা দিয়েছে। পক্ষান্তরে বিএনপি ও তাদের নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট দিনটিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে পালনের কথা বলছে। বুঝাই যাচ্ছে, অনেকটা মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে আওয়ামী লীগ-বিএনপি। ফলে এই নিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বড়দিনে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে বলেন, ‘ নতুন বছর গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের’। বর্তমান সরকার জনগণের ‘ভোটের অধিকার’ কেড়ে নিয়ে দেশকে ধ্বংসের শেষ প্রান্তে নিয়ে গেছে অভিযোগ করে তাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ারও আহ্বান জানান তিনি। অনেকেই মনে করেন এটি নতুন বছর উত্তপ্ত যাওয়ারই ইঙ্গিত।

নতুন বছরে আমাদের প্রত্যাশা অনেক। প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে গণতন্ত্রের চর্চা নেই। পরস্পরের প্রতি শুধু বিবাদ বিদ্যমান। সংসদ, বিচার, পুলিশসহ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করা হচ্ছে। ফলে আইনের শাসন ও মানবাধিকার বিপন্ন হচ্ছে। সম্পদের সুষম বণ্টন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সরকারকে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় মনোনিবেশ করতে হবে। সর্বত্র আইনের শাসন, সবার জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, দলের ভেতর গণতন্ত্রের চর্চায় মনোযোগী হওয়া জরুরি।

সৃষ্টির জন্মলগ্ন থেকে নতুন বছর আমাদের মাঝে ঘুরে ঘুরে আসে অনেক আশা উদ্দীপনা নিয়ে। অন্যদিকে, পুরাতন বছর চলে যাওয়ার সাথে সাথে মানুষের সব হতাশা, গ্লানী, ব্যর্থতা দূর হয়ে যাক এই কামনায় প্রহর গুনে মানব জাতি। নতুন বছরে প্রথমে আমাদের যা ভাবতে হবে তা হল সম্পর্কের বন্ধন সুদৃঢ় করা।

প্রথমে পরিবার -সমাজ -রাষ্ট্র -বর্হিবিশ্ব – ধাপে ধাপে বন্ধন সুদৃঢ় করতে হবে। কাউকে শুভেচ্ছা জানানোর ব্যাপারে আমরা যেন কার্পন্য বোধ না করি। একজনের প্রতি আর একজনের একটু শুভেচ্ছা -একটা মানুষের জীবনে অনেক সফলতা এনে দিতে পারে। অন্যকে দিয়ে যেটা আশা করি সেটা কেন নিজের মধ্যে চর্চা করব না। আমরা একটু ভাবি নতুন বছরে, আমাদের সারা বছরের পরিকল্পনাটি কেমন হবে ? মনের কষ্ট-হতাশা ভুলে গিয়ে পরিবারের সবাইকে নিয়ে একটু আনন্দ করতে যেন ভুলে না যাই। অন্তত পরিবারের শান্তি সুদৃঢ় করার স্বার্থে।

নতুন বছরে বই উৎসব হবে, শিক্ষার্থীদের হাতে হাতে নতুন বই পৌঁছবে, নিঃসন্দেহে জাতির জন্য খুবই আনন্দের। প্রতিবারের মতো এবারো বছরের প্রথমদিনেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এরই মধ্যে দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে বই পৌঁছে গেছে বলে জানিয়েছে এনসিটিবি।

৩০ ডিসেম্বর পিএসসি ও জেএসসির অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এবারই প্রথমবারের মতো মাল্টিমিডিয়া গ্রন্থের বিতরণ ও উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি শেখ হাসিনা সকল শিক্ষার্থীদের জন্য পূর্ণাঙ্গ অডিও ডিজিটাল মাল্টিমিডিয়া গ্রন্থের একটি পূর্ণাঙ্গ টেক্সট উদ্বোধন করেন।

নতুন বই বিতরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বিনা মূল্যের বই বিতরণে বাংলাদেশ এখন রোল মডেল। সারা বিশ্ব যা কখনো ভাবতেও পারেনি, বাংলাদেশ তা করে দেখিয়েছে। ছয় বছর ধরে একই দৃষ্টান্ত দেখিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। এ বছর প্রাক প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত সাড়ে চার কোটি শিক্ষার্থী বিনা মূল্যে পাবে প্রায় ৩৩ কোটি বই। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশুরাও পাবে ব্রেইল পদ্ধতির বই। বছরের প্রথম কর্মদিবসেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের সব শিশু হাতে পাবে এসব নতুন বই। ফলে নতুন উদ্যম আর আগ্রহে শিশুরা শুরু করবে নতুন বছরের পড়ালেখা।

শিশুদের এই আনন্দের মধ্যদিয়ে নতুন বছর সকলের জন্য শুভ হয়ে উঠুক।