সদ্য সংবাদ

বিভাগ: পতনউষার

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন-২০১৯ যাচাই বাছাইকালে কমলগঞ্জে ২ চেয়ারম্যান ও ২ ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

d7fcfd222801ecf80d258c195f0b515f-5c4728aa0ae3e
আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে দ্বিতীয় ধাপ ১৮ মার্চে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মনোনয়ন পত্র যাচাই বাছাই অনুষ্ঠিত হয় বুধবার মৌলভীবাজার জেলা রিটানির্ং অফিসার জেলা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয়ে। যাছাই বাচাইকালে কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগ মনোনিত প্রার্থী ১জন, ওয়ার্কাস পার্টির মনোনিত ১জন, এবং ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। মৌলভীবাজার জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এই চার প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিলের ঘোষণা দেন।
বুধবার সকাল ১১টায় মৌলভীবাজার জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দি প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাছাই বাচাই করা হয়। যাচাই বাছাই শেষে জেলা রিটার্নিং অফিসার ও নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ মঞ্জুরুল আলম চেয়ারম্যান পদে ব্যাংক ঋণ খেলাপী দেখিয়ে আওয়ামীলীগ মনোনিত প্রার্থী অধ্যাপক মো. রফিকুর রহমান এবং ওয়ার্কাস পার্টির মনোনিত প্রার্থী আব্দুল আহাদ মিনারকে আয়কর রিটার্ন জমা না দেওয়ায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন। একই সাথে ব্যাংক ঋণ খেলাপীর কারণে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক মো. সিদ্দেক আলী ও ভোটারের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরসহ স্বাক্ষরিত পত্রটিতে জালিয়াতির কারণে মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীনের মনোনয়ন পত্র বাতিল ঘোষণা করেন।
মৌলভীবাজার জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ মঞ্জুরুল আলম চেয়ারম্যান পদে ২ প্রাথী ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিলের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এখন প্রার্থীরা আপিলের সুযোগ পাবেন।
কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদে মনোনয়ন বাতিল হওয়া আওয়ামীলীগ মনোনিত প্রার্থী অধ্যাপক মো. রফিকুর রহমান বলেন, তিনি ঋণ খেলাপী নন। তিনি ঋণ পরিশোধ করেছেন আগেই। তবে ব্যাংক থেকে সঠিক কাগজ জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে পৌছেনি। ব্যাংকের কাগজপত্র তিনি নিজেও জমা করেছেন। এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে একটি প্রতিবেদন আসার কথা। তিনি এ ব্যাপারে আপিল করবেন বলে জানান। একই কথা জানান মনোনয়ন বাতিল হওয়া ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সিদ্দেক আলী।
উল্লেখ্য, গত সোমবার ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে কমলগঞ্জে আওয়ামীলীগ মনোনিত প্রার্থী অধ্যাপক মো. রফিকুর রহমান ও আওয়ামীলীগ ঘরোনার স্বন্ত্র প্রার্থী মৌলভীবাজার-৪ আসনের সাংসদ উপাধ্যক্ষ ড. মো: আব্দুস শহীদের ছোট ভাই ইতমিয়াজ আহমদ বুলবুল স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র জমা করেছিলেন। একই দিনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগ বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল গফুর ও ওয়ার্কার্স পার্টির মনোনিত প্রার্থী আব্দুল আহাদ মিনার জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে মনোনয়পত্র জমা করেছিলেন।
একই দিনে কমলগঞ্জে ভাইস চেয়ারম্যান পদে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামীলীগ যুগ্ম সম্পাদক মো. সিদ্দেক আলী, সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মী শাব্বির এলাহী, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রাম ভজন কৈরী, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিএনপির আব্দুল মুঈন ফারুক, মৃুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন মনোনয়নপত্র জমা করেছিলেন। অন্যদিকে এদিন কমলগঞ্জে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান পারভীন আক্তার (লিলি) ও মহিলা আওয়ামীলীগ নেত্রী শিক্ষিকা বিলকিছ বেগম মনোনয়নপত্র জমা করেছিলেন।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন-২০১৯ কমলগঞ্জে চেয়ারম্যান পদে ৩, ভাইস চেয়ারম্যান ৬ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২টি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

10
আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন-২০১৯ উপলক্ষে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে চেয়ারম্যান পদে ৩ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২ জন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৫টা পর্যন্ত চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোট ১১ জন প্রার্থী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। আগামী ১৮ মার্চ দ্বিতীয় ধাপে কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত চেয়ারম্যান পদে বর্তমান চেয়ারম্যান বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ সদস্য অধ্যাপক মো: রফিকুর রহমান, উপজেলা বিআরডিবি চেয়ারম্যান ইমতিয়াজ আহমেদ বুলবুল, উপজেলা আওয়ামীলীগ সদস্য শমশেরনগর ইউনিয়নের প্রাক্তন চেয়ারম্যান মো: আব্দুল গফুর, ভাইস চেয়ারম্যান পদে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো: ছিদ্দেক আলী, ব্যবসায়ী নারায়ণ পাল, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরী, আওয়ামীলীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন, সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মী শাব্বির এলাহী ও উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আং মুয়ীন (ফারুক), মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পারভীন আক্তার (লিলি) ও মহিলা আওয়ামীলীগ নেত্রী শিক্ষিকা বিলকিছ বেগম মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত চেয়ারম্যান পদে ৩ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২ জনসহ মোট ১১ জন প্রার্থী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের শেষ দিন।

১৫ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার কমলগঞ্জের নয়াবাজার শ্রীরামপুর ব্যবসায়ী সমিতির নির্বার্চন

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

EC-Bhaban-bg20190107030021
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ২নং পতনউষার ইউনিয়নের নয়াবাজার শ্রীরামপুর ব্যবসায়ী নির্বাচন-২০১৯ আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে। গত ২ ফেব্রুয়ারি চুড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়, ৩ ফেব্রুয়ারি ছিল মনোনয়ন পত্র বিতরণ, ৫ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র জমাদান,  ৬ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র বাছাই ও বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ, ৭ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার ও চুড়ান্ত তালিকা প্রকাশ, ৮ ফেব্রুয়ারি ছিল প্রতীক বরাদ্ধ, ৯ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার শ্রীরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: আমিনুল ইসলাম চৌধুরী জানান, অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে  সকল কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৩ টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ ও ফলাফল প্রকাশ করা হবে। ৩ বছর মেয়াদী ৩য় বারের মতো নয়াবাজার শ্রীরামপুর ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠানে মোট ভোটার সংখ্যা ১৫৩ জন।
নির্বাচন পরিচালনা কমিটির দায়িত্বে রয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ২নং পতনঊষার ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার তওফিক আহমেদ বাবু, উপদেষ্টা ২নং পতনঊষার ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান সেলিম আহমদ চৌধুরী, উপদেষ্টা ৫নং ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল সোবহান, উপদেষ্টা লুৎফুর রহমান চৌধুরী, জুনেদ আহমদ, সৈয়দ মুজিবুর রহমান মমরুজ, পল্লী চিকিৎসক আশিক উদ্দিন, আব্দুল আজিজ ও শফিকুল ইসলাম রতন। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্বে রয়েছেন কমিশনার শ্রীরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: আমিনুল ইসলাম চৌধুরী, কমিশনার ২নং পতনঊষার ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান-১ নারায়ন মল্লিক সাগর ও মো: আব্দুল করিম।
নির্বাচনে ৭টি পদে ১৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। সভাপতি পদে আব্দুল মন্নান মনোয়ার (আনারস), মো: শামছুর রহমান (চেয়ার), সহসভাপতি পদে মো: তমিজ মিয়া (চশমা), মো: বাচ্চু খাঁন (তালাচাবি), সাধারণ সম্পাদক পদে মো: হেলাল আহমদ চৌধুরী  (দোয়াত কলম), মো: আছকর আলী (বাইসাইকেল), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে মো: নোমান আহমদ (মাছ), মো: মতিউর রহমান শাহনুর (আম), তথ্য ও প্রচার সম্পাদক মো: খালেদ মিয়া (মোবাইল ফোন), বদরুল মিয়া (মই), কোষাধ্যক্ষ পদে মো: আব্দুল খালিক (কলস), মো: খলিলুর রহমান (সিলিংফ্যান), সাধারণ সদস্য পদে  মো: আরজান আলী (ফুটবল), রায়হান আহমদ সুলেমান (একতারা), মো: ছনোয়ার মিয়া  (মোরগ), মো: মামুন মিয়া (গোলাপফুল), মো: ফিরোজ মিয়া (ক্রিকেট ব্যাট) ও মো: মাসুক আহমদ (কাঁচি মার্কা)। সদস্য পদে ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। এর মধ্যে ৫ জন প্রার্থীকে নির্বাচিত হবেন।

প্রতীক বরাদ্ধের পরই প্রার্থীরা  মার্কাযুক্ত পোষ্টার, বিলবোর্ড লাগিয়ে পুরোদমে প্রচারণা শুরু করেছেন। রাত দিন এ প্রচারণায় বিশেষ করে চা ষ্টল সরগরম হয়ে উঠেছে।  প্রার্থীরা বসে নেই নিজের মার্কায় ভোট দেয়ার জন্য ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন, দোয়া ও আশির্বাদ প্রার্থনা করছেন।  সব মিলে এক উৎসবমুখর পরিবেশ চলছে নয়াবাজার শ্রীরামপুর ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচন।

কমলগঞ্জে নবীন সেবা সংঘ মির্জাপুর সমাজ কল্যাণ সংস্থার শীতবস্ত্র বিতরণ

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

Pic-1
কমলগঞ্জের পতনঊষারে নবীন সেবা সংঘ মির্জাপুর সমাজ কল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে অসহায়, দরিদ্র পরিবারের মধ্যে শীত বস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় স্থানীয় মির্জাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে সংস্থার সভাপতি মো: জসিম মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ১নং রহিমপুর ইউপি (স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান ও ইফতেখার আহমেদ বদরুল।

সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান ও যুগ্ম সম্পাদক জুনেদ আহমেদর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কমলগঞ্জ সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আব্দুল হান্নান চিনু, আবুল ফজল চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি প্রভাষক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ, পতনঊষার ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান-১ নারায়ন মল্লিক সাগর, ইউপি সদস্য হাজী আব্দুল খালিক কবির।

50601728_2086700001367519_5457955542523707392_n

অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রধান শিক্ষক হারুন মিয়া, শহীদনগর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল বশর জিল্লুল, সংস্থার সহসভাপতি সুমন আহমদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান চৌধুরী রাসেল, সংস্থার সদস্য সৈয়দ রাজিব আলী, ইকবাল হোসেন তালুকদার প্রমুখ। এসময় উপস্থিত ছিলেন শাজাদ চৌধুরী, সুফি মিয়া, আব্দুল মোহিত হাসানী, নবীন সেবা সংঘ মির্জাপুর সমাজ কল্যাণ সংস্থার নেতৃবৃন্দ ও এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবগ।
অনুষ্ঠানে অর্ধশতাধিক অসহায় দরিদ্রদের মধ্যে শীতবস্ত্র (কম্বল) বিতরণ করা হয়।

মৌলভীবাজার ৪ টি আসনের মধ্যে ৩টি আওয়ামীলীগ ও ১টি ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীর বিজয়

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

MP

মৌলভীবাজার জেলার ৪টি আসনের মধ্যে ৩টি আওয়ামীলীগ ও ১টি ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী বিজয় লাভ করে।

মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী) আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. শাহাব উদ্দিন ৭৭ হাজার ৮শ ৬৩ ভোটের ব্যবধানে হ্যাটট্রিক জয় লাভ করেছেন। গতকাল রবিবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে সারা দেশে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়।
স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী আওয়ামী লীগ প্রাথী মো. শাহাব উদ্দিন নৌকা প্রতীকে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৬৭৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রাথী নাসির উদ্দিন মিঠু ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৬৫ হাজার ৮১৪ ভোট। এর আগে তিনি ২০০৮ ও ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের সাংসদ নির্বাচিত হন।
মৌলভীবাজার-২: সিলেট বিভাগ তথা সারাদেশজুড়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর জয়জয়কারের মধ্যেও জয়লাভ করেছেন মৌলভীবাজার-২ আসনের ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী সুলতান মুহাম্মদ মনসুর আহমদ। ২ হাজার ৫৭২ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন তিনি।
এই আসনের মোট ৯৩ কেন্দ্রের মধ্যে সুলতান মনসুর ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৭৪২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকা প্রতীকে বিকল্পধারার প্রার্থী এমএম শাহীন পেয়েছেন ৭৭ হাজার ১৭০ ভোট।

মৌলভীবাজার-৩ : মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনে ৭৯ হাজার ৯শ ৮৭ ভোটের ব্যবধানে প্রথমবারের মতো জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী নেসার আহমদ।
রবিবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে সারা দেশে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়। স্থানীয় সূত্রে ১৬৮টি কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত ফলাফলে জানা যায়, আওয়ামী লীগের প্রার্থী নেসার আহমদ পেয়েছেন ১ লক্ষ ৮৪ হাজার ৫শ ৭৯ ভোট। অপরদিকে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী নাসের রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৪ হাজার ৫শ ৯২ ভোট।

মৌলভীবাজার-৪: টানা ৬ষ্ঠ বারের মতো আবারো নির্বাচিত হয়েছেন মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল কমলগঞ্জ) সংসদীয় আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী ড. আব্দুস শহীদ। তার মোট প্রাপ্ত ভোট ২ লক্ষ ১১হাজার ৬১৩টি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মুজিবুর রহমান ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৯৩ হাজার ২৯৫টি। আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুস শহীদ মোট ১ লক্ষ ১৮ হাজার ৩১৮ ভোটের ব্যবধানে বেসরকারী ভাবে বিজয়ী হয়েছেন।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা সহকারি রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় হতে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৮০টি কেন্দ্রে নৌকা প্রতীকে ড. আব্দুস শহীদ মোট ভোট পেয়েছেন ১ লক্ষ ১৪ হাজার ৩৫০ টি, ধানের শীষ প্রতীকে মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী ৪৯ হাজার ৫০৯ ভোট, হাতপাখা প্রতীকে মো. সালাউদ্দিন ৭শ’ ১৭ ভোট এবং উদীয়মান সূর্য প্রতীকে শান্তিপদ ঘোষ ৮৬ ভোট।
কমলগঞ্জ উপজেলা সহকারি রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় হতে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী কমলগঞ্জ উপজেলার ৭২টি কেন্দ্রে নৌকা প্রতীকে মো. আব্দুস শহীদ মোট ভোট পেয়েছেন ৯৭ হাজার ২৬৩ টি, ধানের শীষ প্রতীকে মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী ৪৩ হাজার ৭৮৬ ভোট, হাতপাখা প্রতীকে মো. সালাউদ্দিন ৬শ’০৮ ভোট এবং উদীয়মান সূর্য প্রতীকে শান্তিপদ ঘোষ ৬১ ভোট।

শ্রীমঙ্গলে চা শ্রমিক সন্তানদের জন্য নির্মিত হচ্ছে ১০ তলা ছাত্রাবাস

শ্রীমঙ্গল সংবাদদাতা::

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল শহরের মৌলভীবাজার সড়কে অবস্থিত বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নিজস্ব জমিতে সরকারের অর্থায়নে চা শ্রমিক সন্তানদের জন্য নির্মিত হচ্ছে ১০ তলা বিশিষ্ট বহুবিধ সুবিধাসম্পন্ন ছাত্রাবাস। এ ছাত্রাবাসে শুধুমাত্র চা বাগান শ্রমিকদের পরিবারের গরীব ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা বিনামূল্যে বা স্বল্পব্যায়ে আবাসন সুবিধা পাবে। ৩০০ আসন বিশিষ্ট নির্মিতব্য এ ছাত্রাবাসে ১৫০টি আসন ছাত্রদের জন্য বাকি ১৫০টি আসন ছাত্রীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। এ ব্যাপারে সরকার ও বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দের দ্বিপাক্ষিক চুক্তি বৃহস্পতিবার (২৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় শ্রীমঙ্গলস্থ চা শিল্প শ্রম কল্যাণ বিভাগের হলরুমে সম্পন্ন হয়েছে।

সরকারের পক্ষে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষে শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অতিরিক্ত সচিব শিবনাথ রায় ও বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষে সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরী চুক্তিনামায় স্বাক্ষর করেন। চুক্তি অনুযায়ী নির্মিতব্য ভবনটির রক্ষণাবেক্ষণ, ছাত্রাবাসসহ সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনায় জেলা প্রশাসক বা তাঁর উপযুক্ত প্রতিনিধির সভাপতিত্বে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন শ্রীমঙ্গলস্থ বিভাগীয় শ্রম অধিদপ্তরের ১ জন প্রতিনিধি, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর শ্রীমঙ্গলের ১ জন প্রতিনিধি উপজেলা প্রশাসনের ২ জন প্রতিনিধি, চা শ্রমিক ইউনিয়নের ৬ জন প্রতিনিধি (১ জন সদস্য সচিবসহ) সহ মোট ১১ জনের সমন্বয়ে গঠিত বোর্ড/কমিটি ৩ বছর দায়িত্ব পালন করবেন এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ কর্তৃত গঠিত পরিচালনা কমিটি ভবনের সার্বিক দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শ্রম অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক গিয়াস উদ্দিন আহমদ, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষে সভাপতি মাখন লাল কর্মকার, বাংলাদেশ টি এস্টেট স্টাফ এসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুব রেজা, রাজঘাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক আহ্বায়ক বিজয় বুরার্জী, শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইসমাইল মাহমুদ, চা শ্রমিক ইউনিয়নের অর্থ সম্পাদক পরেশ কালিন্দী, বালিশিরা ভ্যালী কমিটির সভাপতি বিজয় হাজরা, সিলেট ভ্যালী সভাপতি রাজু গোয়ালা, মনু-ধলাই ভ্যালী সম্পাদক নির্মল দাস পাইনকাসহ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির ৩৪ জন সদস্য।

চুক্তি স্বাক্ষরের ব্যাপারে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষে সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরী বলেন, ‘চা শ্রমিক ছাত্রছাত্রীদের জন্য এটি বর্তমান চা শ্রমিকবান্ধব সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ এর জন্য কাজ করছিলেন। শেষ পর্যন্ত অনগ্রসর চা জনগোষ্টির প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সদইচ্ছার ফসল।

তিনি আশা করছেন, খুব তাড়াতাড়ি প্রয়োজনীয় কাজ কর্ম শেষে এর নির্মান কাজ শুরু হবে। এটি নির্মিত হবার পর শ্রমিক সন্তানদের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন হবে। তিনি যুগান্তকারী এ পদক্ষেপের জন্য বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সকল নেতৃবৃন্দ ও চা শিল্পে নিয়োজিত সকল শ্রমিকদের পক্ষ থেকে জননেত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।’

কমলগঞ্জে বিএনপি ও যুবদলের দুজনকে গ্রেফতার

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

1-177
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে উপজেলা যুবদলের ও শমশেরনগর ইউনিয়ন বিএনপির দুজনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। গত বৃহস্পতিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে কমলগঞ্জের পতনউষার থেকে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হেলাল উদ্দীনকে গ্রেফতার করা হয়।  শুক্রবার (২৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শমশেরনগর ইউনিয়নের শিংরাউলী গ্রাম থেকে ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য জাহিদ মিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অরুপ কুমার চৌধুরী বৃহস্পতিবার রাতে ও শুক্রবার রাতে য়ুবদল ও বিএনপির দুইজনকে গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

চারদিন যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা

road
 কমলকুঁড়ি ডেস্ক

আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের নাশকতা এড়িয়ে চলার জন্য নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সড়ক ও পরিবহন মন্ত্রণালয় রোববার (২৩ ডিসেম্বর) একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব ফরহাদ আহাম্মদ খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ২৯ ডিসেম্বর (শনিবার) দিনগত মধ্যরাত ১২টা থেকে ৩০ ডিসেম্বর (রোববার) মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত সড়কপথে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়। এর আওতায় রয়েছে- বেবি ট্যাক্সি/অটো রিকশা/ইজিবাইক, ট্যাক্সি ক্যাব, মাইক্রোবাস, জিপ, পিকআপ, কার, বাস, ট্রাক, টেম্পু, স্থানীয় পর্যায়ে যন্ত্রচালিত বিভিন্ন যানবাহন।
আর ২৮ ডিসেম্বর (শুক্রবার) দিনগত রাত ১২টা থেকে ১ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) মধ্যরাত পর্যন্ত মোটরসাইকেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।তবে, রিটার্নিং অফিসার অনুমিত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী/তাদের এজেন্ট, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা শিথিলযোগ্য। এক্ষেত্রে পর্যবেক্ষকদের পরিচয়পত্র থাকতে হবে।
এছাড়া নির্বাচনে সংবাদ সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত দেশি-বিদেশি সাংবাদিক (পরিচয়পত্র থাকতে হবে), নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, নির্বাচনে বৈধ পরিদর্শক এবং জরুরি কাজে বিশেষ করে অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ডাক ও টেলিযোগাযোগ ইত্যাদি কাজে ব্যবহৃত যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।

নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে জাতীয় মহাসড়ক, বন্দর ও জরুরি পণ্য সরবরাহসহ জরুরি প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সংস্থাপন শাখার জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২৮ ডিসেম্বর দিনগত মধ্যরাত ১২টা থেকে ১ জানুয়ারি দিনগত মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তবে, অন্যান্য যানবাহন ২৯ ডিসেম্বর মধ্যরাত থেকে ৩০ ডিসেম্বর মধ্যরাত পর্যন্ত চলাচল করতে পারবে না।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন মৌলভীবাজার-২ : বড় দুই দলের নেতাকর্মীদের দ্বিমুখী অবস্থান

21

নূরুল ইসলাম, মৌলভীবাজার

মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে দুই দলের নেতাকর্মীরা দিনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও রাতে মহাজোটের হয়ে প্রচার চালাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ দিনে মহাজোট রাতে ঐক্যফ্রন্ট। এমন আলোচনা-সমালোচনায় কুলাউড়ার নির্বাচনী মাঠ সরগরম। এ নিয়ে দুই দলের দুই নবাগত প্রার্থীর মধ্যে চলছে বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলাচল। এ আসনের ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী গণফোরামের সুলতান মোহাম্মদ মনসুর এবং মহাজোট প্রার্থী বিকল্পধারার এমএম শাহীন ডিগবাজি দিয়ে পরস্পরবিরোধী অবস্থান থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ নির্বাচনী এলাকায় সুর উঠেছে- আওয়ামী লীগের বড় একটি অংশ ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীর পক্ষে ও বিএনপির একটি অংশ মহাজোট প্রার্থীর পক্ষে গোপনে নির্বাচনী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি, মনোনয়নবঞ্চিত উপজেলা আওয়ামী লীগের এক জনপ্রতিনিধি নেতা, শ্রমিক লীগের পদস্থ নেতা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদকীয় ও সদস্য পদমর্যাদার একাধিক নেতা ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান মোহাম্মদ মনসুরের পক্ষে রাতে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। এসব নেতা ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে শুরু করে আওয়ামী রাজনীতিতেও বিকশিত হয়েছেন সুলতান মো. মনসুরের উৎসাহ-অনুপ্রেরণায়। ফলে এসব নেতা দিনে মহাজোট প্রার্থী এমএম শাহীনের পক্ষে সরব থাকেন নির্বাচনী প্রচারে। রাতে থাকেন ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীর পক্ষে। একইভাবে উপজেলা পর্যায়ের বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের অনেক নেতা মহাজোট প্রার্থী এমএম শাহীনের পক্ষে রাতে নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে দিনে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী তৎপরতায় ব্যস্ত সময় কাটান। দুই দলে নেতৃবৃন্দের দ্বিমুখী অবস্থানের কারণে সাধারণ ভোটাররা বিপাকে পড়েছেন। তারা দিনের কথা, নাকি রাতের প্রচারে বিশ্বাস করবেন? কুলাউড়া উপজেলা সদর থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীর মধ্যে চলছে লুকোচুরি খেলা। ফলে মহাজোট ও ঐক্যফ্রন্ট দুই শিবিরের নেতৃবৃন্দ বিশ্বাস ও অবিশ্বাসের দোলাচলে ভরসা হারাচ্ছেন বলে জানা গেছে। কুলাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান আ স ম কামরুল ইসলাম জানান, আওয়ামী লীগ সভাপতির সিদ্ধান্তের প্রতি অবিচল আস্থা রেখে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী একজোট হয়ে নৌকা প্রতীকের পক্ষে কাজ করায় মহাজোট প্রার্থীর অবস্থা দিন দিন উন্নতি হচ্ছে। সব মিলিয়ে মহাজোট ও ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।

নির্ভরশীল একটি সূত্র জানায়, কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদকীয় পদে থাকা এক জনপ্রতিনিধি মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে মহাজোট প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী কার্যক্রমে তেমন সরব না থেকে রাতে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীকে ভোট দিতে ভোটারদের প্রভাবিত করছেন। এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে বিকল্পধারার প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় মনোনয়নপ্রত্যাশী আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ও তাদের অনুসারীদের অনেকে এক সময়ে কুলাউড়ায় আওয়ামী লীগের সুলতান মো. মনসুরের অনুকূলে গোপনে কাজ করছেন বলে জানান হাজীপুর ইউনিয়নের কটারকোনা এলাকার সাধারণ ভোটার ব্রিকফিল্ড শ্রমিক গিয়াস উদ্দিন (৬৫)।

ঐক্যফ্রন্টের কারণে বিএনপির এমএম শাহীনের মনোনয়নবঞ্চিত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিলে তিনি বিকল্পধারায় যোগ দিয়ে মহাজোটের মনোনয়ন নিশ্চিত করে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করছেন। ফলে সারাজীবনের রাজনৈতিক শ্রমসাধনায় গড়া বিএনপির ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের একটি অংশ গোপনে তার পক্ষে নির্বাচনী কার্যক্রম চালাচ্ছে। এতে দুই শিবিরেই অশান্তির দাবানল জ্বলছে। জেলা বিএনপির সহসভাপতি, কুলাউড়ার ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা বলেন, হাজীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল বাছিত বাচ্চু, বিএনপির স্থানীয় উপজেলা শাখার নেতা তফজ্জুল হোসেন তফইসহ কেউ কেউ গোপনে দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংগ্রহ : সমকাল

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৮ : মৌলভীবাজার-৪ আসনে আওয়ামীলীগ-বিএনপি’র মধ্যে দলীয় কোন্দল মিটিয়ে প্রচারণা

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

14
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-৪ (কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল) আসনে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি’র মধ্যে দলীয় ক্ষোভ ও কোন্দল ছিল। যদিও আওয়ামীলীগ আলাদা আলাদাভাবে দলীয় কমিটি নেই,  এক কমিটির মধ্যই ছিল। কিন্তু দলের ভিতরে নেতাকর্মীদের মধ্যে কোন্দল বিরাজমান ছিল।  আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে কোন্দল ও ক্ষোভ মিটিয়ে দলের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন। অন্যদিকে বিএনপির মধ্যে দীর্ঘদিন থেকে দলীয় কোন্দল বিরাজমান ছিল। আলাদা আলাদা কমিটি ছিল। এখন তা নিরসন হয়ে দলের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করছেন। তবে কমিটি আলাদা রয়ে গেছে।  কিন্তু নির্বাচন সামনে রেখে এখন দলীয় প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে সবাই একসঙ্গে কাজ করছেন।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, একাদশ সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-৪ আসনে আওয়ামী লীগের ছয়জন দলীয় মনোনয়নের জন্য আবেদন করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে বর্তমান সাংসদ সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ মো: আব্দুস শহীদ ও কমলগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুর রহমান বেশি আলোচনায় ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এম এ শহীদই দলীয় মনোনয়ন পান। এরপর বিশেষ করে কমলগঞ্জে আওয়ামী লীগের মধ্যে কোন্দল দেখা যায়।  অবশেষে এ বিরোধ মিটিয়ে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

11
৩ ডিসেম্বর কমলগঞ্জের ভানুগাছ বাজারে উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা ডাকা হয়। সভায় দলীয় প্রার্থী এম এ শহীদ তাঁর বক্তব্যে সবকিছু ভুলে গিয়ে দলের ও দলীয় প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত করতে সবার কাছে আহ্বান জানিয়েছিলেন। তখন সবাই মনোনয়ন নিয়ে ক্ষোভের বিষয়টি ভুলে দলীয় প্রতীক নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে ঐকমত্য পোষণ করেন। ওই সভার পর কমলগঞ্জ উপজেলায় নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়। এতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দলীয় প্রার্থীর ছোট ভাই এম. মোসাদ্দেক আহমদ মানিককে আহ্বায়ক করা হয়েছে। যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে মনোনয়নবঞ্চিত অধ্যাপক মো: রফিকুর রহমানকে এবং সদস্য সচিব হিসাবে আছেন প্রার্থীর আরেক ছোট ভাই ইমতিয়াজ আহমেদ বুলবুল।
অধ্যাপক মো: রফিকুর রহমান বলেন, দলীয় প্রতীকের বিরুদ্ধে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত সবাইকে মেনে চলতে হবে। তাই সবাইকে সঙ্গে নিয়েই নৌকার পক্ষে তাঁরা জোর প্রচারণা শুরু করেছেন।
এদিকে কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গলে বিএনপির গৃহবিবাদ দীর্ঘদিনের। কয়েক বছর ধরে এখানে নেতা-কর্মীরা দুই ভাগে বিভক্ত। এমনকি কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল উপজেলায় বিএনপির আলাদা আলাদা কমিটি ছিল। কিন্তু সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কোন্দল মিটিয়ে ফেলা হয়েছে।

12
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গোলাম কিবরিয়াকে সভাপতি ও আলম পারভেজকে সম্পাদক করে কমলগঞ্জ উপজেলা বিএনপির একটি কমিটি রয়েছে। এ ছাড়া আবু ইব্রাহিম জমশেদকে সভাপতি ও শফিকুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে কমলগঞ্জ পৌর বিএনপির কমিটি আছে। অন্যদিকে এখানে বিএনপির প্রার্থী মুজিবুর রহমান চৌধুরীর সমর্থিত দুটি কমিটিও আছে। উপজেলা কমিটিতে দুরুদ আলী সভাপতি ও আবুল হোসেন সাধারণ সম্পাদক। পৌর কমিটিতে সোয়েব আহমদ সভাপতি ও তোফাজ্জল হোসেন সাধারণ সম্পাদক। আর শ্রীমঙ্গলে মুজিব বিরোধী কমিটিতে আতাউর রহমান সভাপতি ও ইয়াকুব আলী সাধারণ সম্পাদক। পৌর কমিটিতে মোছাব্বির আলী সভাপতি ও শামীম আহমদ সাধারণ সম্পাদক। অন্যদিকে মুজিবুর সমর্থিত উপজেলা কমিটিতে আতাউর রহমান সভাপতি ও ইয়াকুব আলী সাধারণ সম্পাদক। এই পক্ষের পৌর কমিটিতে নুরুল আলম সিদ্দিকী সভাপতি ও তাজ উদ্দীন সাধারণ সম্পাদক।
দলীয় সূত্র বলছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর হিসেবে এসেছে বিএনপির জন্য। মৌলভীবাজার-৪ আসনে মুজিবুর রহমানকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন বিএনপির একাংশের নেতা-কর্মীরা। তবে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তাঁরা ওই বিরোধিতা থেকে সরে এসেছেন। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে মুজিবুর বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ায় এখন দুই উপজেলার সব নেতা-কর্মীই ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।
১০ ডিসেম্বর আতাউর রহমান ও ইয়াকুব আলীর নেতৃত্বাধীন বিএনপির অংশটি সংবাদ সম্মেলন করে বিরোধ মিটিয়ে দলীয় প্রতীককে বিজয়ী করতে কাজ করার ঘোষণা দেয়। এরপর ১৬ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ওয়ালী সিদ্দিকী ও সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে কমলগঞ্জে বিএনপির উভয় পক্ষের সমঝোতা বৈঠক হয়।

আওয়ামীলীগ এর মধ্যে বিরোধ ও বিএনপির মধ্যে বিরোধ মিটিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রচার প্রচারণা করে যাচ্ছেন। উভয় দলের প্রার্থী ও নেতাকর্মীরা বিজয় নিশ্চিত বলে আশাবাদী।