সদ্য সংবাদ

বিভাগ: মৌলভীবাজার

মৌলভীবাজারে টায়ারে জ্বালিয়ে অবরোধ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি :

মৌলভীবাজারে শহরের শমসেরনগর রোডে বৃহস্পতিবার সকালে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে হরতালকারীরা রাস্তা অবরোধ করে।

এ সময় পুলিশের সঙ্গে হরতালকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইট পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। থেমে থেমে কয়েক দফা এই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। সকাল ৭টা থেকে শহরের শমসেরনগর রোডে জেলা ছাত্রদল আহবায়ক জাকির হোসেন উজ্জল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক স্বাগত কিশোর দাস চৌধুরীর নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং শুরু করে। এ সময় এই সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচলে বাধা দেওয়া হয়। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইট পাটকেল ছোঁড়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশের ধাওয়া খেয়ে নেতাকর্মীরা দৌড়ে পালিয়ে যায়। এদিকে হরতাল চলাকালে দূরপাল্লার কোনো যানবাহন মৌলভীবাজার থেকে ছেড়ে যেতে দেখা যায়নি। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইজিবাইক, রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল শুরু হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মামলা প্রত্যাহার ও দেশব্যাপী নেতাকর্মীদের উপর নির্যাতন, গ্রেফতার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে বিএনপির ডাকে বৃহস্পতিবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলছে।

কুলাউড়ায় সুশীল সমাজের উদ্যোগে মানববন্ধন

2000
কুলাউড়া প্রতিনিধি ॥
দেশব্যাপী লাগাতার অবরোধ, চলমান হরতাল, সংঘাত চলছে জ্বালাও-পোড়াওসহ নাশকতা। দেশের চলমান সহিংসতা বন্ধে সাধারণ মানুষের জানমালের রক্ষায় কুলাউড়া উপজেলার লংলা আধুনিক ডিগ্রি কলেজের সম্মূখে শিক্ষক,ছাত্র-ছাত্রিসহ সুশীল সমাজের উদ্যোগে এক মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। গত ২৬ জানুয়ারি সোমবার দুপুরে উক্ত মানব বন্ধনে বক্তব্য রাখেন লংলা আধুনিক ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মাজাহারুল ইসলাম, খালেদ আহমদ, সৈয়দা শাপলা, সাংবাদিক সৈয়দ আশফাক তানভীর, শিক্ষার্থী রাজু আহমেদ, জুবেদ আহমদ, তাহমিনা শিমু, লক্ষীরানী প্রমুখ। বক্তরা বলেন, দেশব্যাপী অবরোধের নামে চলছে জ্বালাও-পোড়াওসহ নাশকতা। এতে শিশু থেকে শুরু করে পরীক্ষার্থী কেউ রেহাই পাচ্ছে না। সুস্থ ধারার কোনো মানুষই এ ধরনের অপতৎপরতাকে সমর্থন করে না। রাজনীতির নামে সহিংস এই ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। এর নাম রাজনীতি হতে পারে না। এটি একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। রাজনীতি চলবে মানুষের কল্যাণে। মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করে কীভাবে কার জন্য এই রাজনীতি করা হচ্ছে? এতে জনগণের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে। বিএনপি-জামায়াত মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও মনে তা বিশ্বাস করে না। বক্তরা আরও বলেন জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের। এর বিরুদ্ধে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে। সহিংসতা নিরসনে দ্রুত আলোচনায় বসতে হবে। নির্বাচনসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে হবে। আমরা একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশে বসবাস করি, তাই গণতান্ত্রিক আবহাওয়াকে অবজ্ঞা করার সুযোগ নেই। কারণ এ দেশ আমাদের, সমাজ আমাদের। মানব বন্ধনে শিক্ষক, অভিভাবক, সামাজ সেবক, শিক্ষানুরাগী ও কলেজের শতাধিক শির্ক্ষীরা অংশগ্রহন করেন।

স্বেচ্ছাশ্রমে নতুন যৌবন ফিরে পেলো কুলাউড়ার গুঙ্গিজুড়ী খা

kulaura-pic-2_51168-300x190

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট ।।

কোন সরকারি অনুদানে নয়, এলাকাবাসীর প্রচেষ্টায় এবং তাদের নিজস্ব অর্থায়ন আর স্বেচ্ছাশ্রমে কুলাউড়া উপজেলার ভুকশিমইল ইউনিয়নের মানুষ দীর্ঘ ৭ কিলোমিটার গুঙ্গিজুড়ী খালের খনন কাজ সম্পন্ন করেছেন। এতে প্রায় ১৪ লক্ষাধিক টাকা ব্যায় হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে পানি প্রবাহ শুরু হওয়ায় মৃত গুঙ্গিজুড়ী খাল ফিরে পেয়েছে নতুন জীবন। ফলে হাকালুকি হাওরের দক্ষিণ তীরের কয়েক হাজার হেক্টর জমি আসবে বোরো চাষের আওতায়।

সরেজমিন হাকালুকি হাওরে দক্ষিণ তীরে গেলে চোখে পড়ে মানুষের বাধভাঙা উচ্ছ্বাস। কারণ মৃত গুঙ্গিজুড়ী খাল দিয়ে বুক সমান পানি আসছে দ্রুত গতিতে। হাওর তীরের কুলাউড়া উপজেলার ভুকশিমইল ইউনিয়নের ভুকশিমইল, মহেষগৌরী, মদনগৌরী, গৌড়করণ, কুরবানপুর গ্রামগুলোর মানুষের বোরো ক্ষেতে আর পানির কোন সঙ্কট থাকছে না। এছাড়া চলতি বোরো মৌসুমে সেচ সুবিধা পাবে শশারকান্দি, কুরবানপুর, নবাবগঞ্জ, মীরশংকর, দৌলতপুর ও শাহাপুর আংশিক মৌজার কয়েক হাজার কৃষক। শুধু তাই নয়, হাকালুকি হাওরের গৌড়কুড়ি বিলসহ আশপাশের কয়েক হাজার হেক্টর জমি আগামী বোরো মৌসুমে চাষের আওতায় আসবে।

এলাকাবাসী জানান, এই এলাকার মানুষের একমাত্র কৃষি ক্ষেত বোরো। হাওর তীরের মানুষ হলেও পানি সংকটের কারণে প্রতিবছর বোরো চাষ ব্যাহত হয়। স্থানীয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন দফতরে যোগাযোগ করে হতাশ হন এলাকার মানুষ। সেই হতাশা থেকে কিছু একটা করার জেদ চাপে মানুষের মনে। সেই থেকে পারস্পরিক যোগাযোগ করে ৫ গ্রামের মানুষ সিদ্ধান্ত নেন খাল খননের।

জুড়ী উপজেলার কন্টিনালা থেকে হাওরের বুক চিরে দীর্ঘ ৭ কিলোমিটারের বেশি খাল খনন কাজ স্বেচ্ছাশ্রমে করাটা দুরূহ কাজ। স্থানীয় লোকজন যারা প্রবাসে অবস্থান করছেন তাদের সাথে যোগাযোগ করে এবং স্থানীয় লোকজন নামেন অর্থসংগ্রহে। ভাল উদ্যোগকে সফল করতে দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ নিজেদের সামর্থ্য অনুসারে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করেন। শুরু হয় মাটি কাটার মেশিন (এস্কেবেটর) দিয়ে খনন কাজ। সেই সাথে কাজের সার্বক্ষণিক তদারকি জন্য প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ লোক স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করেন। দীর্ঘ ১৯দিন পর মানুষের স্বপ্ন বাস্তব রূপ লাভ করে। খাল দিয়ে যখন বুক সমান পানি আসছিলো, তখন কৃষকের বুকটাই যেন ভরে গিয়েছিলো আনন্দে।

সবার একটাই কথা এখন আর চোখের সামনে বোরো ক্ষেতে খরায় পুড়ে যাওয়া দেখতে হবে না। বরং মানুষ পতিত জমিকে বোরো আবাদের স্বপ্ন দেখছে। মানুষের মহতি উদ্যোগ পাল্টে দিতে পারে একটি এলাকার দৃশ্যপট। আর তাই প্রমাণ করলো কুলাউড়া উপজেলার ভুকশিমইল ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষ।

কুলাউড়ায় ৩ গাড়ি ভাঙচুর

কুলাউড়া প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও ইস্পাহানি চা কোম্পানির গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দুপুর ২টার দিকে শহরের উওর বাজার এলাকায় এই ৩ গাড়ি ভাঙচুর করে অবরোধকারী। স্থানীয় সূত্র জানায়, দুপুরে শহরের উওর বাজার এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা এ ৩ গাড়িতে অবরোধ সমর্থকরা ইট-পাটকেল ছুড়ে ভাঙচুর করে পালিয়ে যায়।

শ্রীমঙ্গলের ভৈরব বাজার এলাকায় ট্রাকে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ : হেলপার আহত

 

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট ।।

মৌলভীবাজার ঢাকা আঞ্চলিক মহা সড়কের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভৈরব বাজার এলাকায় বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে একটি ট্রাকে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে দুবৃত্তরা। এ সময় ট্রাকের হেলপার মোঃ সাইজুদ্দিন মুখের একটি অংশ ঝলসে যায়। পুলিশ জানায় ট্রাকটি প্রশ্ন পত্র আনতে ঢাকা বিজি প্রেসে যাচ্ছিল। ট্রাকে কয়েকজন পুলিশ সদস্য ছিলেন। খবর পেয়ে মৌলভীবাজার মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে ট্রাক হেলপারকে উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শ্রীমঙ্গলে বিজিবি জোয়ানের ১১৮ পিচ গর্জন কাঠ উদ্ধার

bgb

 শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি॥
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বিজিবি জোয়ানের ১১৮ পিচ গর্জন কাঠ উদ্ধার করেছে। ২২ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার কালিঘাট ইউনিয়নের অবস্থিত বিওপি ৪৬ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ানের সদস্য সাইটোলা এলাকা থেকে এ কাঠগুলো উদ্ধার করা হয়। এসময় কাঠ পাচারকারীদেও ইটক করতে পারেনি বিজিবি। বিজিবি জানায় ওই এলাকার চোরাকারবারীরা সরকারী ভুমি থেকে অবৈধ্য ভাবে কাঠ চুরি করে পাচারের উদেশ্য মজুদ করছিল। এসময় বিওপির হাবিলদার হাসিবুর রহমানের নুতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ওই কাঠ আটক করা হয়। বিজিবি জানান আটককৃত কাঠের মুলো আনুমানিক আড়াই লক্ষা টাকা।

রাজনৈতিক সহিংসতায় মৌলভীবাজারের চা শিল্পে চরম সংকট দেখা দিয়েছে

article

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট ॥
মৌলভীবাজারের চা শিল্পে চরম সংকট দেখা দিয়েছে। চা বাগানের উৎপাদিত চা পরিবহন সংকটের কারনে একদিকে চট্রগ্রাম ওয়ার হাউজে প্রেরন করা যাচ্ছেনা, অন্যদিকে জ্বালানী সংকট বিশেষ করে ডিজেল সংকটের কারনে বাগানগুলিতে পানির পাম্প না চলার কারনে বিভিন্ন বাগানে ইয়াং টি মরে যাচ্ছে। শ্রমিকদের রেশন ও মজুরী দিতেও হিমশিম খাচ্ছে চাবাগান কর্তৃপ।
বিভিন্ন চা বাগানের দায়িত্বশীলদের সাথে কথা বলে জানা গেছে , দেশের সবচেয়ে বেশী চা বাগান মৌলভীবাজার জেলায়। দেশের ১শ ৫২ টি চা বাগানের মধ্যে শুধু মৌলভীবাজার জেলায় চা বাগানের সংখ্যা ৯২ টি। চায়ের রাজধানী হিসাবে খ্যাত মৌলভীবাজারের সুনাম দেশের সর্বত্র। মৌলভীবাজারের উৎপাদিত চা দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফ্তানী হয়েছে। বিশেষ করে জেলার গ্রীন টির কদর বিশ্বব্যাপী।
কিন্ত রাজনৈতিক অস্থিরতার কারনে জেলার বাগানগুলিতে জ্বালানি সংকটের কারনে সেচ বন্ধ থাকায় নতুন সম্প্রসারিত চা গাছ গুলি(ইয়াং টি) মরে যাচ্ছে। পরিবহনের অভাবে উৎপাদিত চা চট্রগ্রামের ওয়ার হাউজে নিলামের জন্য পাঠানো যাচেছনা। পরিবহনের অভাবে রেশন আনতে না পারায় শ্রমিকদের রেশন দেওয়া যাচ্ছেনা এবং চা নিলাম না হওয়ায় টাকার অভাবে শ্রমিকদেরকে বেতন ভাতাদি পরিশোধ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চা বাগান কর্তৃপকে। এ ব্যাপারে রোজ টি কোম্পানীর মালিকানাধীন রাঙ্গিছড়া চা বাগানের ব্যবস্থাপক ওয়াহিদউজ্জামান জানান, অবরোধের শুরু থেকে ট্রান্সপোটের অভাবে চট্রগ্রামে বাগানের উৎপাদিত চা নিলামের জন্য পাঠানো যাচ্ছেনা। ফলে বাগানে আর্থিক সংকট দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, এ অবস্থা সিলেটের সবকটি চা বাগানে।
এ সমস্যা দ্রুত নিরসন না হলে চা শিল্পে আরও তীব্র সংকট দেখা দিবে। এ ব্যাপারে ইস্পাহানী গ্র“পের মালিকানধীণ গাজিপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপক কাজল মাহমুদ জানান, তাদের নিজস্ব পরিবহন থাকায় পূর্বে উৎপাদিত চা চট্রগ্রাম ওয়ার হাউজে নিলামের জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমানে জ্বালানি সংকটের কারনে বাগানের সেচ পাম্পগুলি বন্ধ রয়েছে। ফলে ইয়াং টি গুলি মরে যাচ্ছে। তাছাড়াও পরিবহন সমস্যার কারনে শ্রমিকদের রেশন আনা যাচ্ছেনা। এ অবস্থা আরও কিছুদিন চলতে থাকলে চা শিল্পে ভয়াবহ সংকট দিবে তিনি আশংকা করেন।
লংলা ভ্যালীর চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান জানান, অবরোধের কারনে পরিবহন সমস্যায় বিভিন্ন বাগানের উৎপাদিত চা চট্রগ্রাম নিলামে পাঠাতে না পেয়ে কিছুটা সমস্যায় রয়েছে। তবে কি পরিমান বাগান তি সম্মুখিন হচ্ছে তা আগামী সভায় নিরূপন করে এর প্রতিকারে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপরে কাছে রিপোর্ট দেওয়া হবে।

মৌলভীবাজারে হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতার

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি ॥
 মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর বাজার এলাকা থেকে ফারুক মিয়া (৪৮) নামে হত্যা মামলার এক পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।বুধবার ভোরে শেরপুর বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

ফারুক আহমদ খলিলপুর ইউনিয়নের হলিমপুর গ্রামের মৃত আয়ুব মিয়ার ছেলে এবং মশিউর রহমান হত্যা মামলার প্রধান আসামি।

মৌলভীবাজার মডেল থানার এএসআই মহসিন আহমদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শেরপুর বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মশিউর রহমান হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফারুক মিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

১৫ ডিসেম্বর দুপুর ২টায় মশিউর রহমান মিছলু বাসা থেকে বের হয়ে রাতে আর ফিরে আসেনি। বের হয়ে যাওয়ার পর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়।

পরে ১৮ ডিসেম্বর বিকেলে তার স্ত্রী মায়া বেগম মৌলভীবাজার মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

এরপর শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে খলিলপুর ইউনিয়নের ঘোড়ারাই গ্রামের শফিক মিয়ার বাড়ির ভেতর থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

কুলাউড়ায় বিএনপির মিছিলে পুলিশের টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ ॥ সাবেক এমপি এম এম শাহীনসহ আহত-১৩-আটক ৩

Kulaura-5 January (1)
কুলাউড়া সংবাদদাতা ॥

কুলাউড়ায় বিএনপির কালো পতাকা মিছিলে পুলিশ লাঠিচার্জ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে। এতে সাবেক এমপি এম এম শাহীন ও তিন পুলিশ এবং এক সাংবাদিকসহ ১৩ জন আহত হয়েছেন। এ সময় পুলিশ উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ মইজ উদ্দিনসহ তিনজনকে আটক করেছে। জানা যায়, কেন্দ্র ঘোষিত বিএনপির কর্মসূচি উপলক্ষে আজ ৫ জানুয়ারী সোমবার সকাল ১১টায় জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও সাবেক এমপি এম এম শাহীনের নেতৃত্বে উত্তরবাজারস্থ দলীয় কার্যালয় থেকে বিএনপি মিছিল বের করতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। তখন বিএনপির নেতারা সেখান থেকে চলে যান। এক ঘণ্টা পর ৫ শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে পুনরায় কালো পতাকা মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহর প্রদক্ষিণ শেষে কার্যালয়ে ফেরার পথে পুলিশ পেছন থেকে ধাওয়া করলে মিছিল থেকে পাল্টা ইট পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এ সময় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে। পুলিশ টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করে দেয়।  এরপর থেকে শহরে চরম উত্তেজনা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। প্রায় ১ ঘণ্টা কুলাউড়া বড়লেখা সড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। পুলিশের সাথে ছাত্রলীগও মহড়া দিয়েছে। পুলিশ পথচারীসহ সাধারণ মানুষের উপর হামলা চালিয়েছে। এ ব্যাপারে কুলাউড়া থানার ওসি (তদন্ত) আতিকুর রহমান জানান, তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে, আমাদের উপর হামলা হয়েছে তাই আমরাও পাল্টা হামলা করেছি। কুলাউড়া  থানার অফিসার ইনচার্জ অমল কুমার ধর এ ঘটনায় ৩ জনকে আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, শহরের পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে আছে।

বিদায় ২০১৪, স্বাগত ২০১৫

Modern Style 2015 New Year is coming background with blend shadoনিউজ ডেস্ক: স্বাগত ২০১৫। নতুন বছর নতুন আশা। কালের গর্ভে হারাল আরেকটি বছর। স্মৃতির খেরোখাতা থেকে প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসাব মুছে শুরু হলো নতুন বছর। অনেক ঘটন-অঘটন, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি, চড়াই-উৎরাই, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ও আনন্দ-বেদনার সাক্ষী হল বিদায়ী বছর। রাজনৈতিক সহিংসতা, নানা দুর্যোগ-দুর্ঘটনা আর ঘটনা প্রবাহের মধ্য দিয়ে শেষ হলো ইংরেজি ২০১৪ সাল।

সময় এক প্রবহমান মহাসমুদ্র। কেবলই সামনে এগিয়ে যাওয়া, পেছনে ফেরার সুযোগ নেই। তাই তো জীবন এত গতিময়। সেই গতির ধারাবাহিকতায় মহাকালের প্রেক্ষাপটে একটি বছর মিলিয়ে গেল। যে প্রত্যাশার বিশালতা নিয়ে ২০১৪-এর প্রথম দিনটিকে বরণ করা হয়েছিল, সেই প্রত্যাশার সব কি পূরণ হয়েছে? এ হিসাব না হয় নাইবা করলাম।

বিদায়ী বছরটি প্রাপ্তি আর অপ্রাপ্তির দোলাচলে নিয়েছে অনেক কিছু। তারপরও নতুন বছরের নতুন সূর্যালোকিত দিনের প্রতি অসীম প্রতীক্ষা ও প্রত্যাশা মানুষের মনে। নতুন বছর মানেই নতুন স্বপ্ন। চোখের সামনে এসে দাঁড়ায় ধূসর হয়ে আসা গল্পগাঁথার সারি সারি চিত্রপট। কখনো বুকের ভেতর উঁকি দেয় একান্তই দুঃখ-যাতনা। কখনো পাওয়ার আনন্দে নেচে উঠে হৃদয়। এ বছরটি নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেবে আমাদের জীবনে, এমনটিই প্রত্যাশা আমাদের। শুভ হোক নতুন বছর। সামনের দিনগুলোতে অনিশ্চয়তা কেটে গিয়ে ছড়িয়ে যাক শুভময়তা। নতুন বছরটি ভরে উঠুক আনন্দে, শান্তিতে। হ্যাপি নিউ ইয়ার।

‘আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু, বিরহদহন লাগে। তবুও শান্তি, তবু আনন্দ, তবু অনন্ত জাগে’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানের এ কথার মতই দুঃখ, কষ্ট সবকিছু কাটিয়ে নতুন জীবনের দিকে যাত্রার প্রেরণা পেতে চাই। নতুন বছরটি যেন সমাজ জীবন থেকে, প্রতিটি মানুষের মন থেকে সকল গ্লানি, অনিশ্চয়তা, হিংসা, লোভ ও পাপ দূর করে। রাজনৈতিক হানাহানি থেমে গিয়ে আমাদের প্রিয় স্বদেশ যেন সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যেতে পারে।

২০১৫ সালকে দেখতে চাই ভিন্ন আঙ্গিকে। হিংসা-প্রতিহিংসার ঊর্ধ্বে উঠে রাজনীতিকরা পরমতসহিষ্ণু হয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধার আবহ তৈরি করে জনকল্যাণে সবাই একসঙ্গে মনোযোগী হবেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে। আইন হয়ে উঠবে সব কিছুর নিয়ামক। নিশ্চিত হবে শাসকদের জবাবদিহিতা।

বাংলাদেশে ইংরেজি নববর্ষ পালনের ধরন বাংলা নববর্ষ পালনের মত ব্যাপক না হলেও এ উৎসবের আন্তর্জাতিকতার ছোঁয়া থেকে বাংলাদেশের মানুষও বিচ্ছিন্ন নয়।

দীর্ঘ ছুটি দিয়েই শুরু ইংরেজি নববর্ষ ২০১৫। নতুন বছর নতুন আনন্দ আর কর্মব্যস্ততা নিয়ে শুরু হয়। কিন্তু ২০১৫ সালটি শুরু হচ্ছে দীর্ঘ ছুটি দিয়ে। ১ জানুয়ারী সরকারী ছুটি না থাকলেও সর্বত্র থাকছে উৎসবের আমেজ। থার্টিফার্স্ট উদযাপনের পর নতুন বছরের শুরুর দিনটি ছুটির আমেজেই কেটে যায়। নববর্ষের বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনে থাকবে উৎসবের আমেজ। এ বছরের ২ জানুয়ারি শুক্রবার, ৩ জানুয়ারি শনিবার। তাই সরকারী-বেসরকারী সকল প্রতিষ্ঠানে থাকবে ছুটি। রোববার ৪ জানুয়ারী ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে সরকারী ছুটি।

১ জানুয়ারী নববর্ষ থেকে ৪ জানুয়ারী পর্যন্ত টানা ছুটি ভোগ করবে দেশ। ৫ তারিখ ঢাকায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির ঘোষণা রয়েছে আগে থেকেই। দু’পক্ষের কর্মসূচি নিয়ে জনমনে রয়েছে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। ঢাকায় সেদিন কি ঘটতে পারে তা নিয়ে দেশবাসীর সাথে রাজধানীবাসীও আতঙ্কিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ৫ তারিখ ঢাকায় বিরোধী দল সমাবেশ করতে না পারলে টানা হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারে। সে ক্ষেত্রে এ ছুটি আরও দীর্ঘ হতে পারে এমন আশংকা অনেকের।

নতুন বছরে রাজনৈতিক উত্তাপের আভাস এখন বাতাসজুড়ে। বছরের শুরুতেই এই উত্তাপ সৃষ্টি হচ্ছে দশম সংসদ নির্বাচনের প্রথম বর্ষপূর্তির দিন ৫ জানুয়ারিকে ঘিরে। আওয়ামী লীগসহ ১৪ দল দিনটিকে ‘গণতন্ত্র রক্ষা দিবস’ হিসেবে পালনের ঘোষণা দিয়েছে। পক্ষান্তরে বিএনপি ও তাদের নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট দিনটিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে পালনের কথা বলছে। বুঝাই যাচ্ছে, অনেকটা মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে আওয়ামী লীগ-বিএনপি। ফলে এই নিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বড়দিনে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে বলেন, ‘ নতুন বছর গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের’। বর্তমান সরকার জনগণের ‘ভোটের অধিকার’ কেড়ে নিয়ে দেশকে ধ্বংসের শেষ প্রান্তে নিয়ে গেছে অভিযোগ করে তাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ারও আহ্বান জানান তিনি। অনেকেই মনে করেন এটি নতুন বছর উত্তপ্ত যাওয়ারই ইঙ্গিত।

নতুন বছরে আমাদের প্রত্যাশা অনেক। প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে গণতন্ত্রের চর্চা নেই। পরস্পরের প্রতি শুধু বিবাদ বিদ্যমান। সংসদ, বিচার, পুলিশসহ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করা হচ্ছে। ফলে আইনের শাসন ও মানবাধিকার বিপন্ন হচ্ছে। সম্পদের সুষম বণ্টন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সরকারকে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় মনোনিবেশ করতে হবে। সর্বত্র আইনের শাসন, সবার জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, দলের ভেতর গণতন্ত্রের চর্চায় মনোযোগী হওয়া জরুরি।

সৃষ্টির জন্মলগ্ন থেকে নতুন বছর আমাদের মাঝে ঘুরে ঘুরে আসে অনেক আশা উদ্দীপনা নিয়ে। অন্যদিকে, পুরাতন বছর চলে যাওয়ার সাথে সাথে মানুষের সব হতাশা, গ্লানী, ব্যর্থতা দূর হয়ে যাক এই কামনায় প্রহর গুনে মানব জাতি। নতুন বছরে প্রথমে আমাদের যা ভাবতে হবে তা হল সম্পর্কের বন্ধন সুদৃঢ় করা।

প্রথমে পরিবার -সমাজ -রাষ্ট্র -বর্হিবিশ্ব – ধাপে ধাপে বন্ধন সুদৃঢ় করতে হবে। কাউকে শুভেচ্ছা জানানোর ব্যাপারে আমরা যেন কার্পন্য বোধ না করি। একজনের প্রতি আর একজনের একটু শুভেচ্ছা -একটা মানুষের জীবনে অনেক সফলতা এনে দিতে পারে। অন্যকে দিয়ে যেটা আশা করি সেটা কেন নিজের মধ্যে চর্চা করব না। আমরা একটু ভাবি নতুন বছরে, আমাদের সারা বছরের পরিকল্পনাটি কেমন হবে ? মনের কষ্ট-হতাশা ভুলে গিয়ে পরিবারের সবাইকে নিয়ে একটু আনন্দ করতে যেন ভুলে না যাই। অন্তত পরিবারের শান্তি সুদৃঢ় করার স্বার্থে।

নতুন বছরে বই উৎসব হবে, শিক্ষার্থীদের হাতে হাতে নতুন বই পৌঁছবে, নিঃসন্দেহে জাতির জন্য খুবই আনন্দের। প্রতিবারের মতো এবারো বছরের প্রথমদিনেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এরই মধ্যে দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে বই পৌঁছে গেছে বলে জানিয়েছে এনসিটিবি।

৩০ ডিসেম্বর পিএসসি ও জেএসসির অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এবারই প্রথমবারের মতো মাল্টিমিডিয়া গ্রন্থের বিতরণ ও উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি শেখ হাসিনা সকল শিক্ষার্থীদের জন্য পূর্ণাঙ্গ অডিও ডিজিটাল মাল্টিমিডিয়া গ্রন্থের একটি পূর্ণাঙ্গ টেক্সট উদ্বোধন করেন।

নতুন বই বিতরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বিনা মূল্যের বই বিতরণে বাংলাদেশ এখন রোল মডেল। সারা বিশ্ব যা কখনো ভাবতেও পারেনি, বাংলাদেশ তা করে দেখিয়েছে। ছয় বছর ধরে একই দৃষ্টান্ত দেখিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। এ বছর প্রাক প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত সাড়ে চার কোটি শিক্ষার্থী বিনা মূল্যে পাবে প্রায় ৩৩ কোটি বই। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশুরাও পাবে ব্রেইল পদ্ধতির বই। বছরের প্রথম কর্মদিবসেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের সব শিশু হাতে পাবে এসব নতুন বই। ফলে নতুন উদ্যম আর আগ্রহে শিশুরা শুরু করবে নতুন বছরের পড়ালেখা।

শিশুদের এই আনন্দের মধ্যদিয়ে নতুন বছর সকলের জন্য শুভ হয়ে উঠুক।