সদ্য সংবাদ

বিভাগ: রহিমপুর

রহিমপুরের দেবীপুরে শতভূজা শ্রীশ্রী বাসন্তী দেবীর পূজা শুরু

Puja-1
কমলকুঁড়ি রিপোর্ট
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের  ঐতিহ্যবাহী দেবীপুর সার্বজনীন দেবালয়ে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য্যরে মধ্য দিয়ে প্রতিবছরের ন্যায় এবার ৯ম বার্ষিকী শতভূজার (১০০ হাত) শ্রীশ্রী বাসন্তী দেবীর পূজা ২৫ মার্চ মহাষষ্ঠীর মাধ্যমে শুরু হচ্ছে। পূজার্চ্চনা, রামায়ণ কীর্ত্তন, পদাবলী কীর্ত্তন, সাংস্কৃতিক অনুষ্টান, আরতী প্রতিযোগীতা ও মহাপ্রসাদ বিতরণ অনুষ্ঠিত হবে। ২৬ মার্চ মহাসপ্তমী, ২৭ মার্চ মহা অষ্টমী, ২৮ মার্চ মহানবমী ও ২৯ মার্চ দশমী পূজা শেষে শ্রীশ্রী বাসন্তী দেবীকে বির্সজন দেয়া হবে।
প্রতিবছর দেবীপুর দেবালয়ে পাঁচ দিন ব্যাপী পূজায় লক্ষাধিক এর উপরে ভক্তবৃন্দের ভীড় থাকে। এবারও এ ভীড় থাকবে বলে আসা করা হচ্ছে। ৯ম বার্ষিকী এ পূজায় এলাকা জুড়ে সাজ সাজ রব লক্ষণীয়। দেবালয়ের পাশে রকমারী দোকান বসছে। ভক্তবৃন্দরা জানান, প্রায় প্রতি বছর চৈত্র মাসের শেষের দিকে পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় চড়ক পূজাও থাকে। ভক্তবৃন্দরা বাসন্তী পূজা ও চড়ক পূজা চলে যান। এবার তিথি আগে থাকায় শ্রীশ্রী বাসন্তী পূজায় দেড় লক্ষাধিক ভক্তবৃন্দের আগমন ঘটবে বলে আশা করা যাচ্ছে। ইতিমধ্যে সকল প্রস্তুত সম্পন্ন করা হয়েছে।

রহিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইফতেখার আহমেদ বদরুল টিভি এন্ড টিভি নাইট ফুটবল টুর্ণামেন্টের সমাপন ও পুরষ্কার বিতরণী

Pic- uno
কমলকুঁড়ি রিপোর্ট ॥
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইফতেখার আহমেদ বদরুল টিভি এন্ড টিভি নাইট মিনিবার ফুটবল টুর্ণামেন্টের সমাপনী ও পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়। ১০ মার্চ মঙ্গলবার রাত ৮ ঘটিকায় স্থানীয় ছয়কুট মাঠে টুর্ণামেন্ট পরিচালনা কমিটির সভাপতি আজমত উল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। বিশেষ অতিথি ছিলেন রহিমপুর ইউপির (স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান ইফতেখার আহমেদ বদরুল, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: শামছুল ইসলাম, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী পনিরুজ্জামান, কমলকুঁড়ি পত্রিকার সম্পাদক পিন্টু দেবনাথ, ইউপি সদস্য ডা. শহীদুল্লাহ, মাহমুদ আলী, প্রধান শিক্ষক সাজ্জাদুর রহমান। সুলেমান আহমদ এর পরিচালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য আজির উদ্দিন প্রমুখ।
খেলায় ইমন স্পোটিং ক্লাব মুন্সীটিলাকে ২-১ গোলে পরাজিত করে এ আর স্পোটিং ক্লাব বর্ষিজোড়া জয়লাভ করে।

রহিমপুরের ধর্মপুরে আরব আমিরাতের আহমেদ মোহাম্মদ হোসাইন এর পক্ষ থেকে দরিদ্রদের মধ্যে নগদ অর্থ বিতরণ

Pic- D.pur-1
কমলকুঁড়ি রিপোর্ট ॥
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামের দুবাই প্রবাসী আব্দুল করিম এর বন্ধু আরব আমিরাতের আহমেদ মোহাম্মদ হোসাইন এর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে অসহায় দরিদ্রদের মধ্যে নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে।

Pic- D.pur

১০ মার্চ বিকালে ধর্মপুরস্থ আব্দুল করিমের বাড়ীতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধান অতিথি হিসাবে রহিমপুর ইউপি (স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান  ইফতেখার আহমেদ বদরুল উপস্থিত থেকে এ অর্থ বিতরণ করেন। আহমেদ মোহাম্মদ হোসাইন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কমলকুঁড়ি পত্রিকার সম্পাদক পিন্টু দেবনাথ, ইউপি সদস্য মাহমুদ আলী, ইউপি সদস্য সেলিনা আক্তার, সাবেক ইউপি সদস্য জুনেদ আহমেদ খান, লন্ডন প্রবাসী ও বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক সাজিদ মিয়া, আব্দুল মজিদ, কাতার প্রবাসী আব্দুল কাদির, আব্দুল কালাম রুহিন, আব্দুল আহাদ।

111

ফটিক মিয়ার পরিচালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন দুবাই প্রবাসী আব্দুল করিম।
অনুষ্ঠানে রহিমপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ও চাশ্রমিক প্রায় ১ হাজার দরিদ্রদের মধ্যে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়।

DSC03943

রহিমপুরে আন্ত: প্রাথমিক ক্রীড়া সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতার পুরষ্কার বিতরণ

Pic- UNO
কমলকঁড়ি রিপোর্ট ॥
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৬টি বিদ্যালয়ের আন্ত: প্রাথমিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতার পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠান বুধবার (২৮ জানুয়ারী) সকাল ১১টায় স্থানীয় রহিমপুর ইউপি প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ভারপ্রাপ্ত ইফতেখায়ের ইসলাম ভুঁঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। বিশেষ অতিথি ছিলেন রহিমপুর ইউপি (স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান মো: ইফতেখার আহমেদ বদরুল, ইউআরসি মোজাম্মেল হক, কমলকুঁড়ি পত্রিকার সম্পাদক পিন্টু দেবনাথ, উপজেলা সরকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি অসমঞ্জু প্রসাদ রায় চৌধুরী, মৌলভীবাজার সদর উপজেলা সরকারী শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুদীপ ভট্টাচার্য্য।
উপজেলা সরকারী শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফয়সল আল কয়েছ চৌধুরীর উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রহিমপুর ইউপি সদস্য আব্দুল মজিদ খান, মহেন্দ্র কুমার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইসমত আরা, মুন্সীবাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুবোধ কুমার দাস প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন ইউপি সদস্য সদস্যাবৃন্দ, শিক্ষক, শিক্ষার্থীবৃন্দ। শেষে অতিথিরা বিজয়ীদের মধ্যে পুরষ্কার বিতরণ করা হয়।

রহিমপুরে মিরতিংগা চা বাগানে উরাং সম্প্রদায়ের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

DSC03031

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট ॥ মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের মিরতিংগা চা বাগানের ফাঁড়ি পুজা মন্ডপ প্রাঙ্গনে রবিবার দুপুরে (১১ জানুয়ারী) উরাং সংস্কৃতি জাতি সত্তার উন্নয়নে সংগঠিত হও ঐক্যদানে এই শ্লোগান নিয়ে পরামর্শ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উরাও সমাজকল্যাণ সংঘের আয়োজনে চুন্ঠু উরাং এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন রহিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইফতেখার আহমেদ বদরুল। বিশেষ অতিথি ছিলেন কমলগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ও কমলকুঁড়ি পত্রিকার সম্পাদক পিন্টু দেবনাথ, মুন্সীবাজার ইউপি সদস্য সফিকুর রহমান, রহিমপুর ইউপি সদস্য ধর্না বাউরী, মুক্তিযোদ্ধা কুল চন্দ্র তাঁতী, আওয়ামীলীগ নেতা নরোত্তম বর্ধন। শ্যামল উরাং এর উপস্থাপনায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কফিল উরাং, নন্দ উরাং, সুজেন উরাং, গলফা উরাং, মাংরা উরাং, সত্যবান উরাং, ধন্য উরাং, ছোট উরাং, দিপন উরাং, সতলা উরাং প্রমুখ। অনুষ্ঠানে কলেজ ছাত্রী বাসন্তী উরাং ও স্কুল ছাত্রী রিমা উরাং নৃত্য পরিবেশন করে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বাগান থেকে প্রায় শত শত উরাং সম্প্রদায়ের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

কমলগঞ্জের রহিমপুরে শীতবস্ত্র বিতরণ

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট ॥
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে গরীব শীতার্তদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে আসা কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ২ জানুয়ারী শুক্রবার বিকালে রহিমপুর ইউনিয়নের ৫০ জন শীতার্তদের মধ্যে শীতবস্ত্র (কম্বল) প্রধান অতিথি হিসাবে আনুষ্ঠানিকভাবে বিতরণ করেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক রফিকুর রহমান। রহিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইফতেখার আহমেদ বদরুল এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, কমলকুঁড়ি পত্রিকার সম্পাদক পিন্টু দেবনাথ, ইউপি সদস্য আব্দুল মজিদ খান, গৌরাঙ্গ মালাকার, সাবেক ইউপি সচিব অজয় কুমার দাস চৌধুরী। এর আগে শমশেরনগর, ইসলামপুর ও আলীনগর ইউনিয়নে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। কমলগঞ্জ উপজেলায় মোট ৬০০টি কম্বল বিতরণ করা হয়েছে বলে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সূত্রে জানা যায়।

বিদায় ২০১৪, স্বাগত ২০১৫

Modern Style 2015 New Year is coming background with blend shadoনিউজ ডেস্ক: স্বাগত ২০১৫। নতুন বছর নতুন আশা। কালের গর্ভে হারাল আরেকটি বছর। স্মৃতির খেরোখাতা থেকে প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসাব মুছে শুরু হলো নতুন বছর। অনেক ঘটন-অঘটন, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি, চড়াই-উৎরাই, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ও আনন্দ-বেদনার সাক্ষী হল বিদায়ী বছর। রাজনৈতিক সহিংসতা, নানা দুর্যোগ-দুর্ঘটনা আর ঘটনা প্রবাহের মধ্য দিয়ে শেষ হলো ইংরেজি ২০১৪ সাল।

সময় এক প্রবহমান মহাসমুদ্র। কেবলই সামনে এগিয়ে যাওয়া, পেছনে ফেরার সুযোগ নেই। তাই তো জীবন এত গতিময়। সেই গতির ধারাবাহিকতায় মহাকালের প্রেক্ষাপটে একটি বছর মিলিয়ে গেল। যে প্রত্যাশার বিশালতা নিয়ে ২০১৪-এর প্রথম দিনটিকে বরণ করা হয়েছিল, সেই প্রত্যাশার সব কি পূরণ হয়েছে? এ হিসাব না হয় নাইবা করলাম।

বিদায়ী বছরটি প্রাপ্তি আর অপ্রাপ্তির দোলাচলে নিয়েছে অনেক কিছু। তারপরও নতুন বছরের নতুন সূর্যালোকিত দিনের প্রতি অসীম প্রতীক্ষা ও প্রত্যাশা মানুষের মনে। নতুন বছর মানেই নতুন স্বপ্ন। চোখের সামনে এসে দাঁড়ায় ধূসর হয়ে আসা গল্পগাঁথার সারি সারি চিত্রপট। কখনো বুকের ভেতর উঁকি দেয় একান্তই দুঃখ-যাতনা। কখনো পাওয়ার আনন্দে নেচে উঠে হৃদয়। এ বছরটি নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেবে আমাদের জীবনে, এমনটিই প্রত্যাশা আমাদের। শুভ হোক নতুন বছর। সামনের দিনগুলোতে অনিশ্চয়তা কেটে গিয়ে ছড়িয়ে যাক শুভময়তা। নতুন বছরটি ভরে উঠুক আনন্দে, শান্তিতে। হ্যাপি নিউ ইয়ার।

‘আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু, বিরহদহন লাগে। তবুও শান্তি, তবু আনন্দ, তবু অনন্ত জাগে’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানের এ কথার মতই দুঃখ, কষ্ট সবকিছু কাটিয়ে নতুন জীবনের দিকে যাত্রার প্রেরণা পেতে চাই। নতুন বছরটি যেন সমাজ জীবন থেকে, প্রতিটি মানুষের মন থেকে সকল গ্লানি, অনিশ্চয়তা, হিংসা, লোভ ও পাপ দূর করে। রাজনৈতিক হানাহানি থেমে গিয়ে আমাদের প্রিয় স্বদেশ যেন সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যেতে পারে।

২০১৫ সালকে দেখতে চাই ভিন্ন আঙ্গিকে। হিংসা-প্রতিহিংসার ঊর্ধ্বে উঠে রাজনীতিকরা পরমতসহিষ্ণু হয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধার আবহ তৈরি করে জনকল্যাণে সবাই একসঙ্গে মনোযোগী হবেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে। আইন হয়ে উঠবে সব কিছুর নিয়ামক। নিশ্চিত হবে শাসকদের জবাবদিহিতা।

বাংলাদেশে ইংরেজি নববর্ষ পালনের ধরন বাংলা নববর্ষ পালনের মত ব্যাপক না হলেও এ উৎসবের আন্তর্জাতিকতার ছোঁয়া থেকে বাংলাদেশের মানুষও বিচ্ছিন্ন নয়।

দীর্ঘ ছুটি দিয়েই শুরু ইংরেজি নববর্ষ ২০১৫। নতুন বছর নতুন আনন্দ আর কর্মব্যস্ততা নিয়ে শুরু হয়। কিন্তু ২০১৫ সালটি শুরু হচ্ছে দীর্ঘ ছুটি দিয়ে। ১ জানুয়ারী সরকারী ছুটি না থাকলেও সর্বত্র থাকছে উৎসবের আমেজ। থার্টিফার্স্ট উদযাপনের পর নতুন বছরের শুরুর দিনটি ছুটির আমেজেই কেটে যায়। নববর্ষের বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনে থাকবে উৎসবের আমেজ। এ বছরের ২ জানুয়ারি শুক্রবার, ৩ জানুয়ারি শনিবার। তাই সরকারী-বেসরকারী সকল প্রতিষ্ঠানে থাকবে ছুটি। রোববার ৪ জানুয়ারী ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে সরকারী ছুটি।

১ জানুয়ারী নববর্ষ থেকে ৪ জানুয়ারী পর্যন্ত টানা ছুটি ভোগ করবে দেশ। ৫ তারিখ ঢাকায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির ঘোষণা রয়েছে আগে থেকেই। দু’পক্ষের কর্মসূচি নিয়ে জনমনে রয়েছে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। ঢাকায় সেদিন কি ঘটতে পারে তা নিয়ে দেশবাসীর সাথে রাজধানীবাসীও আতঙ্কিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ৫ তারিখ ঢাকায় বিরোধী দল সমাবেশ করতে না পারলে টানা হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারে। সে ক্ষেত্রে এ ছুটি আরও দীর্ঘ হতে পারে এমন আশংকা অনেকের।

নতুন বছরে রাজনৈতিক উত্তাপের আভাস এখন বাতাসজুড়ে। বছরের শুরুতেই এই উত্তাপ সৃষ্টি হচ্ছে দশম সংসদ নির্বাচনের প্রথম বর্ষপূর্তির দিন ৫ জানুয়ারিকে ঘিরে। আওয়ামী লীগসহ ১৪ দল দিনটিকে ‘গণতন্ত্র রক্ষা দিবস’ হিসেবে পালনের ঘোষণা দিয়েছে। পক্ষান্তরে বিএনপি ও তাদের নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট দিনটিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে পালনের কথা বলছে। বুঝাই যাচ্ছে, অনেকটা মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে আওয়ামী লীগ-বিএনপি। ফলে এই নিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বড়দিনে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে বলেন, ‘ নতুন বছর গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের’। বর্তমান সরকার জনগণের ‘ভোটের অধিকার’ কেড়ে নিয়ে দেশকে ধ্বংসের শেষ প্রান্তে নিয়ে গেছে অভিযোগ করে তাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ারও আহ্বান জানান তিনি। অনেকেই মনে করেন এটি নতুন বছর উত্তপ্ত যাওয়ারই ইঙ্গিত।

নতুন বছরে আমাদের প্রত্যাশা অনেক। প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে গণতন্ত্রের চর্চা নেই। পরস্পরের প্রতি শুধু বিবাদ বিদ্যমান। সংসদ, বিচার, পুলিশসহ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করা হচ্ছে। ফলে আইনের শাসন ও মানবাধিকার বিপন্ন হচ্ছে। সম্পদের সুষম বণ্টন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সরকারকে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় মনোনিবেশ করতে হবে। সর্বত্র আইনের শাসন, সবার জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, দলের ভেতর গণতন্ত্রের চর্চায় মনোযোগী হওয়া জরুরি।

সৃষ্টির জন্মলগ্ন থেকে নতুন বছর আমাদের মাঝে ঘুরে ঘুরে আসে অনেক আশা উদ্দীপনা নিয়ে। অন্যদিকে, পুরাতন বছর চলে যাওয়ার সাথে সাথে মানুষের সব হতাশা, গ্লানী, ব্যর্থতা দূর হয়ে যাক এই কামনায় প্রহর গুনে মানব জাতি। নতুন বছরে প্রথমে আমাদের যা ভাবতে হবে তা হল সম্পর্কের বন্ধন সুদৃঢ় করা।

প্রথমে পরিবার -সমাজ -রাষ্ট্র -বর্হিবিশ্ব – ধাপে ধাপে বন্ধন সুদৃঢ় করতে হবে। কাউকে শুভেচ্ছা জানানোর ব্যাপারে আমরা যেন কার্পন্য বোধ না করি। একজনের প্রতি আর একজনের একটু শুভেচ্ছা -একটা মানুষের জীবনে অনেক সফলতা এনে দিতে পারে। অন্যকে দিয়ে যেটা আশা করি সেটা কেন নিজের মধ্যে চর্চা করব না। আমরা একটু ভাবি নতুন বছরে, আমাদের সারা বছরের পরিকল্পনাটি কেমন হবে ? মনের কষ্ট-হতাশা ভুলে গিয়ে পরিবারের সবাইকে নিয়ে একটু আনন্দ করতে যেন ভুলে না যাই। অন্তত পরিবারের শান্তি সুদৃঢ় করার স্বার্থে।

নতুন বছরে বই উৎসব হবে, শিক্ষার্থীদের হাতে হাতে নতুন বই পৌঁছবে, নিঃসন্দেহে জাতির জন্য খুবই আনন্দের। প্রতিবারের মতো এবারো বছরের প্রথমদিনেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এরই মধ্যে দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে বই পৌঁছে গেছে বলে জানিয়েছে এনসিটিবি।

৩০ ডিসেম্বর পিএসসি ও জেএসসির অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এবারই প্রথমবারের মতো মাল্টিমিডিয়া গ্রন্থের বিতরণ ও উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি শেখ হাসিনা সকল শিক্ষার্থীদের জন্য পূর্ণাঙ্গ অডিও ডিজিটাল মাল্টিমিডিয়া গ্রন্থের একটি পূর্ণাঙ্গ টেক্সট উদ্বোধন করেন।

নতুন বই বিতরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বিনা মূল্যের বই বিতরণে বাংলাদেশ এখন রোল মডেল। সারা বিশ্ব যা কখনো ভাবতেও পারেনি, বাংলাদেশ তা করে দেখিয়েছে। ছয় বছর ধরে একই দৃষ্টান্ত দেখিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। এ বছর প্রাক প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত সাড়ে চার কোটি শিক্ষার্থী বিনা মূল্যে পাবে প্রায় ৩৩ কোটি বই। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশুরাও পাবে ব্রেইল পদ্ধতির বই। বছরের প্রথম কর্মদিবসেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের সব শিশু হাতে পাবে এসব নতুন বই। ফলে নতুন উদ্যম আর আগ্রহে শিশুরা শুরু করবে নতুন বছরের পড়ালেখা।

শিশুদের এই আনন্দের মধ্যদিয়ে নতুন বছর সকলের জন্য শুভ হয়ে উঠুক।