সদ্য সংবাদ

বিভাগ: রহিমপুর

শমশেরনগর চা বাগানে অগ্নিকান্ডে চা শ্রমিকের বসতঘর পুড়ে ছাই ॥ ৬ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতিসাধন

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট
002
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর চা বাগানের ভজনটিলায় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে সৃষ্ট অগ্নিকান্ডে এক চা শ্রমিকের বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। নগদ টাকাসহ ৬ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতিসাধিত হয়েছে। গত রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টায় শমশেরনগর চা বাগানের ভজনটিলার শ্রমিক বস্তিতে জগদীশ রবিদাসের বসতঘরে এই অগ্নিকান্ড ঘটে। অগ্নিকান্ডের সময় একই পরিবারের ৯ জন মানুষ তখন গভীর ঘুমে ছিলেন। অগ্নিকান্ড থেকে পরিবার সদস্য ও গবাদিপশু রক্ষা করতে পারলেও সবকিছু হারিয়ে জগদীশ পরিবারের সদস্যরা এখন খোলা আকাশের নিচে আছেন। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তাৎক্ষনিকভাবে নগদ ৫ হাজার টাকা অর্থ সহায়তা করেছেন।
জগদীশ রবিদাস ও প্রতিবেশীদের দেওয়া তথ্যসূত্রে জানা যায়, গত রোববার গভীররাতে পরিবারের ৯ জন সদস্য গভীর ঘুমে মগ্ন ছিলেন। রাত সাড়ে ৩টার দিকে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকান্ডের সৃষ্টি হলে জগদীশ রবিবার পরিবার সদস্যদের নিয়ে দ্রুত ঘর থেকে বের হয়ে হাল্লা চিৎকার শুরু করে। এ সময় স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। কিন্তু মুহুর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিকায় জগদীশ রবিদাসের ঘরে রক্ষিত নগদ প্রায় তিনলক্ষ টাকাসহ ৬ লক্ষাধিক টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।  আগুন দাউ দাউ করে জলার সময়েও কেউ নিভানোর সুযোগ পাননি। পল্লী বিদ্যুৎ সমিদির লোকজন খবর পেয়ে মেইন সংযোগ বন্ধ করলে প্রতিবেশীদের সহযোগীতায় আগুন নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হয়। কমলগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে ফায়ার সার্ভিস ও শমশেরনগর ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসা পর্যন্ত অবস্থান করে।
ক্ষতিগ্রস্ত চা শ্রমিক জগদীশ রবিদাস জানান, তার ছেলে শমশেরনগর বাজারে মুঠোফোনের ব্যবসা করে। তার অর্জিত আয়ে বেশ কিছু আসবাব পত্র দিয়ে ঘরটি সাজানো হয়েছিল। অগ্নিকান্ডে নগদ প্রায় তিনলক্ষ টাকা, মুঠোফোন, মূল্যবান জিনিসপত্র, আসবাবপত্র মিলিয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে সোমবার সকালে শমশেরগর চা বাগান ব্যবস্থাপক, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো: জুয়েল আহমদ, ইউপি সদস্য ইয়াকুব আলী, সীতারাম বীন, মহিলা ইউপি সদস্য নমিতা সিং, চা বাগান পঞ্চায়েত নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। শমশেরনগর ইউপি চেয়ারম্যান মো: জুয়েল আহমদ অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত জগদীশ রবিদাসকে তাৎক্ষনিকভাবে নগদ ৫ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন এবং পরবর্তি পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে সহযোগীতার আশ্বাস প্রদান করেন।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মাহমুদুল হক অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত শমশেরনগর চা বাগানের ভজনটিলার জগদীশ রবিদাসের পরিবারকে পূণর্বাসনে সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তার আশ্বাস দেন।

কমলগঞ্জ থানায় পুলিশ কর্মকতাদ্বয়ের বিদায় ও বরণ অনুষ্ঠান

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

Pic- Tana
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মোকাতাদির হোসেন পিপিএম ও পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত ) মোঃ নজরুল ইসলামের বিদায় ও নবাগত অফিসার ইনচাজ মোহাম্মদ আরিফুর রহমান ও পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত ) সুধীন চন্দ্র দাশ এর বরণ অনুষ্ঠান সোমবার (১০ সেপ্টেম্বর) থানার হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়। নবাগত অফিসার ইনচাজ মোহাম্মদ আরিফুর রহমানের সভাপতিত্বে ও এসআই চমক দামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মোহাম্মদ মাহমুদুল হক। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো: জুয়েল আহমেদ, রহিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইফতেখার আহমেদ বদরুল, কমলগঞ্জ সদর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান, কমলগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি বিশ^জিৎ রায়। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ অরূপ কুমার চৌধুরী, সাবেক মেয়র আবু ইব্রাহীম জমসেদ, সাংবাদিক মুজিবুর রহমান রঞ্জু, আব্দুল হান্নান চিনু, মোস্তাফিজুর রহমান, শাহীন আহমেদ, এসআই মোঃ ফরিদ মিয়া,এএসআই আনিসুর রহমান প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বিদায়ী এবং যোগদানকারী কর্মকতাদ্বয়কে কমলগঞ্জ থানার পক্ষ থেকে সম্মাননা ও বিভিন্ন উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে কমলগঞ্জের বিভিন্ন পত্রিকায় কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। #

কমলগঞ্জে হতদরিদ্রদের মধ্যে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর শুভ উদ্বোধন

 কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

Pic- Rpur
“শেখ হাসিনার বাংলাদেশ- ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ” এই শ্লোগান নিয়ে ইউনিয়ন পর্যায়ে হতদরিদ্রদের মধ্যে সুলভ মূল্যে কার্ডের মাধ্যমে খাদ্যশস্য বিতরণের জন্য খাদ্য বান্ধব কর্মসূচী এর শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও ১নং রহিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের সহযোগিতায় সোমবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার দেওরছাড়া চা বাগানে এ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন ১নং রহিমপুর ইউপি (স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান ইফতেখার আহমেদ বদরুল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক পিন্টু দেবনাথ, আওয়ামীলীগ নেতা দিপক কান্তি রায়, সীতাংশু কর্মকার, আং রহিম, খলিল আহমদ, সেলিনা বেগম, চালের ডিলার নেপুর কান্তি রায়, সুবোধ কূর্মী প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে কালেঙ্গা গ্রামের ১০৬ জন, দেওরাছড়া ১৩২, বড়চেগ ৭১ ও মিরতিংগা চা বাগানে ৯৫ জনসহ মোট ৪০৪ জনকে ৩০ কেজি করে প্রতি কেজি ১০ টাকা দরে চাল বিতরণ করা হয়। #

কমলগঞ্জে উপজেলা ইলেক্ট্রিশিয়ান সমিতির ত্রি-বার্ষিক সন্মেলন অনুষ্টিত

 

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট ::

received_474253603092920

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা ইলেক্ট্রিশিয়ান সমিতির ত্রিবার্ষিক সন্মেলন-২০১৮ আজ ৯ সেপ্টেম্বর রবিরার সন্ধ্যা ৮ ঘটিকায় কামারগাঁওস্থ পৌর মেয়যের বাসভবন প্রাঙ্গনে সংগঠনের আহবায়ক বাবু ঝন্টু দত্তের সভাপতিত্বে অনুষ্টিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কমলগঞ্জ পৌর মেয়র মোঃ জুয়েল আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কমলগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি বিশ্বজিৎ রায়, প্রেসক্লাব সম্পাদক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সাবেক পরিচালক মোঃ নূর উদ্দিন, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাহাত ইমতিয়াজ রিপুল, প্যানেল মেয়র মোঃ রমুজ মিয়া প্রমুখ।
সন্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে বাবু ঝন্টু দত্তকে সভাপতি, মোঃ জাফর ইকবাল চৌধুরী রিপনকে সাধারন সম্পাদক, নবীন হোসেন রাসেলকে সাংগঠনিক সম্পাদক ও মোঃ চেরাগ আলীকে কোষাধ্যক্ষ করে আগামী তিন বছরের জন্য ২৩ সদস্য বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়।

১১ সেপ্টেম্বর কমলগঞ্জে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর সচেতনতামূলক সম্মেলন

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

Untitled-1 copy
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের তেতইগাঁও গ্রামে মণিপুরী কালচারাল কমপ্লেক্স্র প্রাঙ্গণে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতির বিকাশ  ও মাতৃভাষায় প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা চালুসহ শিশুশিক্ষার মান উন্নয়নের ক্ষেত্রে করণীয় বিষয়ক সচেতনতামূলক সম্মেলনী-২০১৮ আগামী ১১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং গণস্বাক্ষরতা অভিযান এর সহযোগিতায় বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী ফোরাম ও বাংলাদেশ মণিপুরী আদিবাসী ফোরাম-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। সম্মেলনকে সফল করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ মণিপুরী আদিবাসী ফোরাম-এর সাধারন সম্পাদক সমরজিত সিংহ জানান, বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের মণিপুরী, খাসি, ত্রিপুরী, গারো, রাজবংশী, সাঁওতাল, ওঁরাও এবং চা-শ্রমিকদের মধ্যে বিদ্যমান ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জনজনগোষ্ঠীর ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতির বিকাশ ও মাতৃভাষায় প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা চালুসহ শিশু শিক্ষার মান উন্নয়নের ক্ষেত্রে করণীয় বিষয়ক এই সম্মিলনীর আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠান সফল করার লক্ষ্যে সম্প্রতি এক প্রস্তুতিমূলক সভা আদমপুর ইউনিয়নের ঘোড়ামারাস্থ বাংলাদেশ মণিপুরী সমাজকল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

কমলগঞ্জে ভূঁয়া মালিক সাজিয়ে জমি রেজেষ্টারী করার অভিযোগে মামলা ॥ জাল দলিল জব্দ ॥ এলাকায় চাঞ্চল্য

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

Untitled-1 copy
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে জমির ভূঁয়া মালিক সাজিয়ে জাল দলিল সৃষ্টি করে ২৪ শতাংশ জমি রেজেস্টারী করার অভিযোগে আদালতে নালিশা অভিযোগের প্রেক্ষিতে কমলগঞ্জ থানায় একটি মামলা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনায় জাল দলিল জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সীবাজার ইউনিয়নের পরানধর গ্রামে।
মৌলভীবাজারের সিনিয়র বিচারিক হাকিম আদালতে করা জমির প্রকৃত মালিক বিভাস রঞ্জন দাসের নালিশা অভিযোগ ও পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশনায় কমলগঞ্জ থানায় করা মামলা সূত্রে জানা যায়, জেল নং ২৯, মৌজা পরানধর-এর এস,এ ১৬ নং ১৭৬ দাগের খতিয়ানের ১১ শতাংশ, একই জে,এল  ও মৌজার দাগ নং ১২৫ এর ২ শতাংশ ভূমি এবং একই জেল, মৌজার, দাগের  ও ১৩ সং খতিয়ানের আরও ১১ শতাংশ ভূমির মালিক তিনি (বিভাস রঞ্জন দাস)। তবে একই গ্রামের সোহেল রানা ওরপে সুমন (২৭), ও তার বাবা জালাল মিয়া (৫০) প্রতারনা করে এ ২৪ শতাংশ ভূমির ভূঁয়া মালিক ও ভায়া সাজিয়ে গত বছর ১৩ এপ্রিল একটি জাল দলিল সৃষ্টি করেন। এমনকি মুন্সীবাজার ইউনিয়ন পরিষদের জাল সনদ, জাল জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরী করা হয়। পরবর্তীতে জালিয়াতির মাধ্যমে জমি রেজেস্টারী করে নিলে উপজেলা ভূমি অফিস থেকে অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার বাবা জালাল মিয়া নিজের নামে সমূহ ভূমি নামজারি করতে আবেদন করেন। নামজারির আবেদন করলে উপজেলা ভূমি অফিস থেকে প্রকৃত ভূমির মালিক হিসাবে বিভাস রঞ্জন দাস এর নামে শুনানির নোটিশ আসে তখন তিনি জানতে পারেন জালিয়াতির কথা। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
জালিয়াতি করে ২৪ শতাংশ ভূমি রেজেষ্টারী করার বিষয়টি টের পেয়ে বিভাস রঞ্জন দাস গত ১৪ আগস্ট কমলগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। একই সাথে তিনি ১৯ আগস্ট মৌলভীবাজারের ৩নং আমল গ্রহনকারী আদালতে একটি নালিশা আবদেন করেন। এ আবেদনের শুনানি শেষে বিজ্ঞ হাকিম নির্জন কুমার মিত্র সমূহ জাল দলিল জব্দ করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য কমলগঞ্জ থানা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা প্রদান করেন। কমলগঞ্জ থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মোকতাদির হোসেন পিপিএম আদালতের নির্দেশনা পেয়ে ২৪ আগস্ট ধারা ৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/৩৪ দন্ডবিধিতে অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার বাবা জালাল মিয়াসহ ৫জনকে আসামী করে একটি মামলা রজু করেন। সাথে সাথে সৃজনকৃত জাল দলিলও জব্দ করেন।
মুন্সীবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালিব তরফদার অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযুক্তরা তার ইউনিয়ন পরিষদের নামে ও স্বাক্ষরিত সনদ ব্যবহার করেছে তার সবই জাল ছিল। তাই তিনি ১৪ আগস্ট কমলগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেছেন।
কমলগঞ্জ থানা থেকে সদ্য বদলী হওয়া ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তাদির হোসেন পিপিএম শনিবার (৮ সেপ্টেম্বর) আদালতের নির্দেশনায় জাল দলিল জব্দ করে কমলগঞ্জ সাব রেজেস্টারী অফিসের জিম্মায় রাখার ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা রজু করার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
এ মামলার আসামী দলিল লিখক আব্দুস সালাম বলেন, সোহেল রানা ও তার বাবা জালাল মিয়া ভূমির মালিক ও ভায়া উপস্থিত করেছেন। এখানে তিনি সঠিকভাবে তাদের চেনার কথা নয়। তিনি আরও বলেন, ভূমির ক্রেতারা প্রতারনা করতে পারেন।
তবে এ জালিয়াতি মামলার ১নং অভিযুক্ত সোহেল রানা নিজেকে সঠিক দাবী করে বলেন, ভূমির প্রকৃত মালিক বিভাস রঞ্জন দাসের কাছ থেকেই তিনি ভূমি কিনেছেন। তিনি বা তার বাবা কোন জালিয়াতি করেননি। স্থানীয় একটি চক্র তাদেরকে হেয় করতেই এই অভিযোগ দাড় করিয়েছেন।

কমলগঞ্জে জনবল সংকটে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা ব্যাহত

photo-1505576495
কমলকুঁড়ি রিপোর্ট
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে জনবল সংকটের কারণে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা ব্যাহ হচ্ছে। এ উপজেলায় ১৫২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিপরীতে পাঁচজন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা থাকার কথা থাকলেও আছেন মাত্র একজন। ফলে বিদ্যালয় মনিটরিং, সময়মতো শিক্ষকদের উপস্থিতি, পাঠদান ও শিক্ষার মান উন্নয়নসহ সার্বিক বিষয়ে খবরা-খবর নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদ শূণ্য রয়েছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, কমলগঞ্জ উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা মিলিয়ে ১৫২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয় দেখভালের দায়িত্বে উপজেলা শিক্ষা অফিসে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার পাঁচটি পদ থাকলেও বর্তমানে আছেন মাত্র একজন। একজন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা দিয়ে নিয়মিত পরিদর্শন, খোঁজ-খবর নেওয়া কোনোমতেই সম্ভব হচ্ছে না। বিদ্যালয়সমূহে শিক্ষকদের সময়মতো উপস্থিতি, শিক্ষার্থীদের পাঠদান, মনিটরিং ও দেখভালের দায়িত্ব উপজেলা শিক্ষা অফিসের থাকলেও চারটি পদ শূন্য থাকায় সার্বিক কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়ছে। অফিসিয়াল নানা কার্যক্রম ও সরকারি বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের পর বিদ্যালয় পরিদর্শনের সময় থাকছে না।
সরেজমিনে কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিদ্যালয়সমূহে চাহিদামতো শিক্ষক না থাকা একটি বড় সমস্যা। সাত জনের স্থলে আছেন চার থেকে পাঁচজন শিক্ষক। তা ছাড়া কয়েকটি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য হওয়ায় ভারপ্রাপ্তদের দিয়ে দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে। যদিও সম্প্রতি চলতি দায়িত্ব দিয়ে ২০টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদায়ন করা হয়েছে। অনেক বিদ্যালয়ে যথাসময়ে শিক্ষকদের উপস্থিতি নেই। শিক্ষক সংগঠনসমূহের মধ্যে রয়েছে নানা গ্রুপিং। সব মিলিয়ে উপজেলার সার্বিক প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোশারফ হোসেন বলেন, উপজেলার ১৫২টি বিদ্যালয়ের জন্য যেখানে পাঁচজন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা প্রয়োজন সেখানে একজন মাত্র সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা দিয়েই দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে। তারপরও দাপ্তরিক নানা কার্যক্রমের পাশাপাশি বিদ্যালয়সমূহ দেখভাল করা হচ্ছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক বলেন, আসলে একজন শিক্ষা কর্মকর্তা ও একজন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার পক্ষে সকল দায়দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়া খুবই দুরূহ ব্যাপার। তারপরও পাঠদানসহ শিক্ষার উন্নয়নে যথাসাধ্য কাজ করছেন। তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি কমলগঞ্জে কয়েকটি বিদ্যালয়ে বন্ধু শিক্ষক দিয়ে পাঠদানে ভালো ফলাফল পাওয়া গেছে। তাই নিজেও কয়েকটি বিদ্যালয় পরিদর্শন করে শিক্ষার মানোন্নয়নে বন্ধু শিক্ষকের প্রচলন শুরু করতে শিক্ষকদের পরামর্শ প্রদান করেছি।

কমলগঞ্জে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ৫দিনব্যাপী ইংরেজী বিষয়ক প্রশিক্ষণ শুরু

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

02
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিষয়ক ভিত্তিক শিক্ষকদের নিয়ে ৫দিনব্যাপী ইংরেজী বিষয়ক প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের বাস্তবায়নে ও উপজেলা পরিষদের সহায়তায় শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় ইংরেজী বিষয়ক ৫দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো: রফিকুর রহমান। এ প্রশিক্ষণের সহায়তায় রয়েছে উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্প এবং স্থানীয় সরকার বিভাগ ও জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপরেশন এজেন্সী (জাইকা)।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মাহমুদুল হক এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান মো: সিদ্দেক আলী, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার মৌসুমী পাল চৌধুরী, উপজেলা উন্নয়ন কর্মকর্তা সাজেদুর রহমান ও প্রশিক্ষক অমিতাব ব্যানার্জী। প্রশিক্ষণে কমলগঞ্জ উপজেলার নিম্ম মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের ৩০টি বিদ্যালয়ের একজন করে ইংরেজী বিষয়ক শিক্ষক অংশ গ্রহন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন ব্র্যাক শিক্ষা বিভাগের প্রশিক্ষক অমিতাব ব্যানার্জি। এ প্রশিক্ষণের সহয়তায় রয়েছে ব্র্যাক শিক্ষা বিভাগ।
প্রশিক্ষণের মূল উদ্যোক্তা কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক বলেন, কমলগঞ্জের শিক্ষার মান উন্নয়নে ইংরেজী ও গণিত বিষয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। আর এজন্য সার্বিক সহায়তা প্রদান করছে উপজেলা পরিষদ।

কমলগঞ্জে আন্তর্জাতিক স্বাক্ষরতা দিবস পালিত

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

2
“স্বাক্ষরতা অর্জন করি, দক্ষ হয়ে জীবন গড়ি” এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে আন্তর্জাতিক স্বাক্ষরতা দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে শনিবার সাড়ে ১০টায় কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি র‌্যালী বের করা হয়। র‌্যালীতে বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা অংশ নেন। র‌্যালী শেষে উপজেলা পরিষদ হল রুমে এক আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়। প্রধান শিক্ষক গাজী সালাহ উদ্দীনের পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মাহমুদুল হক, উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো: মোশারফ হোসেন, সিলেট বিভাগের সাবেক শ্রেষ্ঠ এসএমসি সভাপতি মো: সানোয়ার হোসেন, কমলগঞ্জ প্রেসক্লাব সম্পাদক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।

কমলগঞ্জে রিপোর্টার্স ইউনিটির পরিচিতি, ঈদ পূণর্মিলনী ও সম্মাননা প্রদান

Pic-3
কমলকুঁড়ি রিপোর্ট
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির নব নির্বাচিত কমিটির পরিচিতি, ঈদ পূণর্মিলনী ও দুইজন সাংবাদিককে সম্মাননা প্রদান করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে কমিটির সদস্যদের পরিচিতি ও রিপোর্টার্স ইউনিটি থেকে বিদায় নিয়ে প্রেসক্লাবের সম্পাদক মন্ডলীতে যোগ দেওয়ায় দুইজন সদস্যকে সম্মাননা ক্রেষ্ট প্রদান করা হয়।
কমলগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি পিন্টু দেবনাথের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ও সাপ্তাহিক কমলগঞ্জের কাগজ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক মো: জুয়েল আহমদ। গেষ্ট অব অনার হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের সদস্য ও আব্দুল গফুর চৌধুরী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো: হেলাল উদ্দিন।  বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কমলগঞ্জ প্রেস ক্লাব সভাপতি বিশ্বজিৎ রায়, বিশিষ্ট সাংবাদিক মুজিবুর রহমান রঞ্জ, সাংবাদিক সুব্রত দেবরায় সঞ্জয়।

Pic-1

কমলগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির যুগ্ম সম্পাদক নির্মল এস পলাশের সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা স্কাউটস কমিশনার মো: মোশাহিদ আলী, প্রধান শিক্ষক সালাউদ্দিন আহমদ, প্রধান শিক্ষক সুজিতা সিনহা, কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবের সহসভাপতি শাব্বির এলাহী, মাসিক চা মজদুর পত্রিকার সম্পাদক সীতা রাম বীন, কমলগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সহ-সভাপতি অঞ্জন প্রসাদ রায় চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক মোনায়েম খান, সাংগঠনিক সম্পাদক হিফজুর রহমান তুহিন, কোষাধ্যক্ষ আব্দুল বাছিত খান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হোসেন জুবায়ের, দপ্তর সম্পাদক সুমন আহমদ,  সদস্য আহমেদুজ্জামান আলম, দৈনিক আলোকিত সকাল প্রতিনিধি নাঈম আলী প্রমুখ।

Pic-2
অনুষ্ঠানে কমলগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো: মোস্তাফিজুর রহমান কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক যুগ্ম সম্পাদক রাজকুমার সোমেন্দ্র সিংহ কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হওয়ায়  সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে আনন্দ টিভির পাবনা জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক সুবর্ণা নদী সম্প্রতি সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত হওয়ায় তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নিরবতা পালন করা হয়। এছাড়া ঢাকায় চিকিৎসাধীন কমলগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক আসহাবুব ইসলাম শাওন এর মাতার আশু রোগমুক্তি কামনা করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে গঠিত কমলগঞ্জ উপজেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির মেয়াদ শেষে সম্প্রতি ২০১৮-২০২০ সালের জন্য নতুন কমিটি গঠন করা হয়। নতুন কমিটির সকল সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করানো হয়।