সদ্য সংবাদ

বিভাগ: মাধবপুর

অবৈধভাবে ভারতীয় হেলিক্টারের অতিক্রম, চোরাচালান রোধ নিয়ে চাতলাপুর সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফ সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ের পতাকা বৈঠক

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

Kamalgonj-Pic-BGB-BSF
মৌলভীবাজার ভারতীয় হেলিকপ্টার অবৈধভাবে শূণ্য রেখা অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ, অবৈধভাবে সীমান্ত রেখা পারাপার, হবিগঞ্জ জেলায়  আটককৃত ৫ ভারতীয় নাগরিককে  ভারতে হস্তান্তর, সীমান্তে চোরাচালান ও মাদক প্রতিরোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে চাতলাপুর সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের সেক্টরকমান্ডার পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বুধবার ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা দেড়টা পর্যন্ত কুলাউড়া উপজেলার চাতলাপুর চা বাগান বাংলোতে এ পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ শ্রীমঙ্গল সেক্টরের ব্যবস্থাপনায় সেক্টর কমান্ডার শ্রীমঙ্গল এবং ভারতের বিএসএফ তেলিয়ামুড়া  ও পানিসাগর সেক্টরের মধ্যে এ আনুষ্ঠানিক পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ পতাকা বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন  বিজিবি শ্রীমঙ্গল সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোঃ জাহিদ হাসান ও নবাগত সেক্টর কমান্ডার মোঃ জোবায়ের হাসনাৎ। বিএসএফের পক্ষে নেতৃত্ব দেন তেলিয়ামুড়া ও পানি সাগর সেক্টরের  ডিআইজি যথাক্রমে  শ্রী ববি জোসেফ ও শ্রী সিন্দু কুমার। বৈঠক শেষে বিজিবি ও বিএসএফের সেক্টর কমান্ডাররা আলোচনার সিদ্ধান্তপ্রত্রে স্বাক্ষর করেন।
পতাকা বৈঠক শেষে বিকাল ৪টায় যৌথ প্রেস ব্রিফিংকালে বলা হয় পতাকা বৈঠকে দু’দেশের সীমান্তের বিবিন্ন সমস্যাধি নিয়ে আলোচনা হয়। উভয়পক্ষ সীমান্ত রেখায় অবৈধভাবে অতিক্রম করার বিরুদ্ধে  যৌথভাবে নজরদারি আরও বাড়ানোর বিষয়ে একমত হন।  উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার লক্ষ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করার ব্যাপারে একমত হন।
বেঠকে বিজিবির পক্ষে অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপার, ভারতীয় হেলিকপ্টার অবৈধভাবে শুণ্যরেখা অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ, হবিগঞ্জ জেলায়  আটককৃত ৫ ভারতীয় নাগরিককে ভারতের কাছে হস্তান্তর, ভারত হতে চোরাচালানীর মাধ্যমে গরু, মদ,গাজা ও বিভিন্ন নেশাজাতীয় ট্যাবলেট বাংলাদেশে প্রবেশ বন্ধ করার ব্যাপারে বিএসএফ কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য অনুরোধ জানানো হয়।
এছাড়া ভারত-বাংলাদেশের সীমান্তের অমীমাংসিত বিষয় সমূহ দ্রুত সমাধান করা  এবং উভয় দেশের  সীমান্তে বসবাসকারী জনগনের জীবনের নিরাপত্তা প্রদান নিশ্চিতকরণের বিষয়ে আলোচনা হয়। বন্য প্রতিরোধে মনু ধলাই নদের সীমান্ত এলাকার প্রতিরক্ষা বাঁধের উন্নয়নে উভয়পক্ষ আলোচনাক্রমে করার মতামত ব্যক্ত করেন। বিজিবি-বিএসএফর মধ্যে সুসম্পর্ক রক্ষায় অচীরেই উভয় অংশে খেলাধুলার আয়োজন করা হবে বলেও বিএসএফ কর্তপক্ষ জানান। উক্ত পতাকা বৈঠকে বিজিবি ও বিএসএফের সংশ্লিষ্ট  ব্যাটেলিয়ন সমূহের অধিনায়কগন এবং সংশ্লিষ্ট সেক্টর ও ব্যাটেলিয়নের ষ্টাফ অধিনায়কগণ উপস্থিত ছিলেন।

মৌলভীবাজারে যানজট নিরসনে পৌর মেয়র সহ বিশিষ্ট জনের শহরে পশ্চিম এলাকা পরিদর্শন

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি :

DSC05604
মৌলভীবাজার পৌর শহরকে যানজট মুক্ত করতে পৌরসভার উদ্যোগে নেওয়া হচ্ছে একের পর এক প্রদক্ষেপ। শহরের চৌমুহনা, শমসেরনগর রোড, এম সাইফুর রহমান রোড, বেরীর পাড় ও কুসুমবাগ এলাকায় প্রায় সময় লেগে থাকে যানজট। যানজটের কারণে দূর্ভোগ পোহাতে হয় নাগরিকদের।
বৃহস্পতিবার ২০ সেপ্টেম্বর দুপুরে যানজট নিরসনে পৌরসভার উদ্যোগে কুসুমবাগ এলাকা পরিদর্শন করা হয়। পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়র মোঃ ফজলুর রহমান, প্রেসক্লাব সভাপতি আবদুল হামিদ মাহবুব, সহ-সভাপতি সৈয়দ হুমায়েদ আলী শাহিন, পৌর কাউন্সিলর ফয়সল আহমদ, আলহাজ¦ আয়াছ আহমদ, জালাল আহমদ, মাসুদ আহমদ ও আনিসুজ্জামান বায়েছ।
এ ছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক এস এম উমেদ আলী,  সালেহ এলাহি কুটি, হাসনাত কামাল, মু. ইমাদ উদ দিন।
এর আগে ১০ সেপ্টেম্বর মৌলভীবাজার পৌরসভা অভিযান চালিয়ে শহরকে যানজট মুক্ত করতে কুসুমবাগ পয়েন্ট এলাকা থেকে সিএনজিচালিত ষ্ট্যান্ডগুলো আলোচনার ভিত্তিতে সরিয়ে দেওয়া হয়। ষ্ট্যান্ডগুলো সরানোর ফলে কুসুমবাগ এলাকার যানজট অনেকাংশে কমে এসেছে। ষ্ট্যান্ডগুলো সরিয়ে নেওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সাধারণ নাগরিকগণ।
মুর্শেদ আহমদ নামের একজন পথচারী বলেন, আগে কুসুমবাগ পয়েন্টে অবৈধ ও এলোমেলে ভাবে গাড়ি[ পার্কিং এর কারণে যানজট লেগেই থাকত। ষ্ট্যান্ডগুলো পৌরসভা অভিযান চালিয়ে সরিয়ে দেওয়ায় কুসুমবাগ পয়েন্ট যানজট মুক্ত হয়েছে। তাজুল ইসলাম নামের আরেকজন জানান, কুসুমবাগ এলাকাসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে যদি রাস্তার উপর থেকে গাড়ির অবৈধ পার্কিং বন্ধ করা যায় তাহলে পৌর শহরে যানজট কমে আসবে।
পৌর শহরের কুসুমবাগ এলাকাকে যানজট মুক্ত রাখার জন্য ৪জন কমিশনার নিয়ে একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে পৌরসভার উদ্যোগে। এ কমিটিতে রয়েছেন ফয়সল আহমদ, আয়াছ আহমদ, মাসুদ আহমদ, জালাল উদ্দিন।
মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়র মোঃ ফজলুর রহমান বলেন, শহরকে যানজট মুক্ত রাখতে হলে সবার সহযোগীতা প্রয়োজন। পৌরসভার সকল নাগরিককে শহরকে যানজট মুক্ত ও পরিচ্ছন্ন রাখতে আহবান জানান। এজন্য সকল রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ, পেশাজীবি, শিক্ষক, ছাত্র, সাধারণ নাগরিক সহ সাংবাদিকদের সহযোগীতা কামনা করেন।

কমলগঞ্জে খানা-শুমারি লক্ষ্যে মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

Pic- Sumary
কমলকুঁড়ি রিপোর্ট
“খানা শুমারিতে তথ্য দিন, উন্নয়নে অংশ নিন” ন্যাশনাল হাউজহোল্ড ডাটাবেইজ প্রকল্পের আওতায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা পরিসংখ্যান অফিস ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা শুমারি কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ (বুধবার ১৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মোঃ মাহমুদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রফিকুর রহমান।
কমলগঞ্জ উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসের জোনাল অফিসার আনোয়ারুল হক এর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামসুদ্দিন আহমদ, পতনঊষার ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জিঃ তওফিক আহমেদ বাবু, কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামছুন্নাহার পারভীন, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন প্রমুখ।
সভায় সঠিকভাবে কি করে খানা শুমারী সম্পাদন করা যায় সে বিষয়ে সভায় উঠে আসে। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জানানো হয়, আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহকারীরা প্রতি খানা হতে ৪২টি তথ্য সংগ্রহ করা হবে। সেজন্য উপজলায় ২৩০ গননাকারী ও  ৮০জন সুপার ভাইজার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

কমলগঞ্জে এনটিসির চার বাগানে চা শ্রমিকের ৩ ঘন্টার কর্মবিরতি

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

Kamalgonj Tea Garden Strike Pic
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় ন্যাশনাল টি কোম্পানী (এনটিসি) এর মালিকানাধীন ৪টি চা বাগানে শ্রমিকরা ৩ ঘন্টার কর্মবিরতি পালন করেছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর বারটা পর্যন্ত তিন সহ¯্রাধিক চা শ্রমিক পাত্রখোলা, কুরমা ও চাম্পারায় চা বাগান ও দুটি ফাঁড়ি চা বাগানে  কর্মবিরতি পালন করা হয়।
চা শ্রমিকরা জানান, নির্ধারিত দৈনিক ২৩ কেজি চা পাতা উত্তোলনের পর অতিরিক্ত চা পাতা উত্তোলনে কেজি প্রতি শ্রমিকদের অতিরিক্ত ৩ টাকা হারে মজুরি প্রদান করা হয়। অতিরিক্ত চা পাতা উত্তোলনে কেজি প্রতি ৪ টাকা হারে মজুরি দেওয়ার দাবি জানান। এই দাবিতে পাত্রখোলা, কুরমা ও চাম্পারায় চা বাগানের ফাঁড়ি বাঘাছড়া ও কুরঞ্জি চা বাগানে চা শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করে।
নারী শ্রমিকরা বাগানের অফিসের প্রধান ফটক এলাকায় অবস্থান নিয়ে কর্মবিরতি পালন করে। পাত্রখোলা চা বাগানের পঞ্চায়েত সভাপতি দেবাশিষ চক্রবর্তী, কুরমা চা বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি নারদ পাশী জানান, এ অঞ্চলে একজন নারী চা শ্রমিককে প্রতিদিন কমপক্ষে ২৩ কেজি কাঁচা চা পাতা উত্তোলন করতে হয়। এজন্য দৈনিক মজুরি হচ্ছে ১০২ টাকা। আর ২৩ কেজির অতিরিক্ত প্রতি কেজি চা পাতার জন্য তিন টাকা করে মজুরি দেওয়া হতো। অতিরিক্ত প্রতি কেজি চা পাতার জন্য আইনে দ্বিগুন মজুরি দেওয়ার কথা। সেই মজুরি না পাওয়ায় ৪ টাকা করে প্রদানের দাবি জানানো হয়েছে। পরে ডিজিএমসহ চা বাগানের ব্যবস্থাপকরা বাড়তি প্রতি কেজি চা পাতা উত্তোলনে ৩টাকা ৯০ পয়সা প্রদানের আশ্বাস প্রদান করলে দুপুর ১২টা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে শ্রমিকরা।
এনটিসি’র ডিজিএম মাহমুদ হাসানের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে জানান। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ব্যবস্থাপক বলেন, শ্রমিকদের এক টাকা দাবির প্রেক্ষিতে নব্বই পয়সা করে বৃদ্ধি করা হয়েছে। পরে শ্রমিকরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে কাজে যোগ দিয়েছেন।

লোক গবেষক প্রয়াত মাহফুজুর রহমানকে স্মরণ করলো মৌলভীবাজারবাসী

DSC00807

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি 
লোক গবেষক, লেখক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক মাহফুজুর রহমানের মৃত্যুতে মৌলভীবাজারে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শনিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মৌলভীবাজার পৌরসভা মিলনায়তনে মাহফুজুর রহমান নাগরিক শোকসভা কমিটি এ স্মরণসভার আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন নাগরিক শোকসভা কমিটির আহবায়ক প্রাবন্ধিক মো. আব্দুল খালিক। নাগরিক শোকসভা কমিটির সদস্য নিলিমেষ ঘোষ ও মীর ইউছুফের যৌথ সঞ্চালনায় অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিজুল ইসলাম, মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি মুজিবুর রহমান মুজিব, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) কেন্দ্রীয় সভাপতিমন্ডলীর সদস্য সৈয়দ আবু জাফর আহমদ ও সাবেক যুগ্ম সচিব সৈয়দ জগলুল পাশা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন নাগরিক শোকসভা কমিটির সদস্যসচিব ডাডলী ডেরিক প্রেন্টিস ও প্রচার প্রকাশনা উপ কমিটির আহবায়ক আহমদ আফরোজ। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাবেক সাংসদ হোছনে আরা ওয়াহিদ, জেলা জাসদের সভাপতি আব্দুল হক, নাট্যকার আব্দুল মতিন, মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি আবদুল হামিদ মাহবুব, প্রগতি লেখক সংঘের সভাপতি সৈয়দ মোসাহিদ আহমদ চুন্নু, বিএনপি নেতা ওয়ালী সিদ্দিকী, মরমি শিল্পী ইউছুফ আলী, সাংস্কৃতিক সংগঠক এম শাহাবউদ্দিন আহমদ, সাংবাদিক বকসী ইকবাল আহমদ, মাহফুজুর রহমানের ছেলে মোফলেহ রহমান, চিকিৎসক সায়মা মুজাহিদ লিজা, কবি জাহাঙ্গীর জয়েস, আইনজীবী পার্থ সারথী পাল, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সমন্বয়ক মাসুদ রানা, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম, ছাত্র ইউনিয়ন জেলা কমিটির সভাপতি সুবিনয় রায় প্রমুখ। শোকপ্রস্তাব পাঠ করেন কবি মহিদুর রহমান।
এসময় প্রয়াত মাহফুজুর রহমান স্মরণে প্রকাশিত স্মারকগ্রন্থ লোকপুরানের মোড়ক উন্মোচন করেন অতিথিরা এবং মাহফুজুর রহমানের জীবন ও কর্মের উপর নির্মিত তথ্যচিত্র লোকপুরান দেখানো হয়।

কমলগঞ্জে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

Pic-Rpur
“ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার” এই শ্লোগানে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদ কমলগঞ্জ উপজেলা শাখার ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন-২০১৮ শুক্রবার দুপুরে ভানুগাছ সার্বজনীন দুর্গাবাড়ীতে অনুষ্ঠিত হয়। পরিষদের সভাপতি নিহারেন্দু ভট্টাচা র্য্যরে সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও  হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান ঐক্য পরি ষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভা পতিমন্ডলীর সদস্য রনধীর কুমার দেব। সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক প্রণয় দত্ত ও যুগ্ম সম্পাদক কালীপদ দেবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ঐক্য পরিষদ মৌলভীবাজার জেলা শাখার সভাপতি এড, মাখন লাল দাস, মুখ্য আলোচক ছিলেন জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এড. রাধাপদ দেব সজল, বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক আশু রঞ্জন দাস, জেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সহসভাপতি অধ্যাপক মোহন চন্দ্র দেব, কমলগঞ্জ পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শংকর লাল সাহা, সাধারণ সম্পাদক শ্যামল চন্দ্র দাশ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো: আরিফুর রহমান, অধ্যাপিকা মঞ্জুশ্রী রায়, ভানু গাছ বণিক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো: সানো য়ার হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঐক্য পরিষদ কমল গঞ্জ উপজেলা শাখার প্রেডি য়াম সদস্য জিডিশন প্রধান সূচিয়াং। সম্পাদকীয় প্রতি বেদন পাঠ করেন ঐক্য পরিষদ কমলগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অশোক বিজয় দেব কাননজ্ঞ কাজল। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইউনিয়ন ও পৌর কমিটির সভাপতি ও সম্পাদকবৃন্দ। অনুষ্ঠানে ২য় অধিবেশনে কমিটি গঠন করা হয়। প্রণয় দত্তকে সভাপতি, সভাপতিমন্ডলীর সদস্য জিডিশন প্রধান সূচিয়াং, সত্যেন্দ্র কুমার পাল (নান্টু), কৃষ্ণ কুমার সিংহ, রামভজন কৈরী। সাধারণ সম্পাদক নিরঞ্জন দেব, যুগ্ম সম্পাদক সমরেন্দ্র সেনগুপ্ত বুলবুল, সীতারাম বীন, অনিমেষ পাল লিটন ও প্রমোদ চন্দ্র দেবনাথকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়। পরবর্তীতে আলোচনাক্রমে পূর্ণাঙ্গ ৭১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হবে।

সংস্কৃতি চর্চাকে বিকশিত করতে তৃণমূল পর্যায়ে শেখ হাসিনার সরকার কাজ করে যাচ্ছে – কমলগঞ্জে সংস্কৃতি-বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুর

Pic- Kamalgonj-1

 কমলকুঁড়ি রিপোর্ট   :
সংস্কৃতি-বিষয়কমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুর এমপি বলেছেন, সংস্কৃতি চর্চাকে বিকশিত করতে তৃণমূল পর্যায়ের নিয়ে শেখ হাসিনার সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এই সংস্কৃতি জাতি সংঘ স্বীকৃতি দিয়ে গেছে। কমলগঞ্জ উপজেলা একটি বিচিত্রময় এলাকা। এখানে নানা ভাষাভাষি, জাতি গোষ্ঠীর বসবাস। প্রত্যেক মানুষের তাদের নিজ নিজ ভাষা সংস্কৃতি বিকাশে অধিকার রয়েছে। এরই মধ্যে তিনটি ভাষা গুরুত্বপূর্ণ বাংলা, ইংরেজি ও সংস্কৃতি। বাংলাদেশে অসংখ্য ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সম্প্রদায়ের বসবাস। এসব নৃ-গোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি বাংলাদেশকে ফুলের বাগানের মত বিকশিত করে রেখেছে। গতকাল মঙ্গলবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে আদমপুর ইউনিয়নের তেতইগাঁও গ্রামে মণিপুরী কালচারাল কমপ্লেক্স্র প্রাঙ্গণে  বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতির বিকাশ ও মাতৃভাষায় প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা চালুসহ শিশুশিক্ষার মান উন্নয়নের ক্ষেত্রে করণীয় বিষয়ক সচেতনতামূলক সম্মেলনী-২০১৮-তে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথাগুলি বলেন গণ-প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান নুর।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মূল আয়োজক বাংলাদেশ মণিপুরী আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট সমাজসেবক সমরজিত সিংহ। বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী ফোরামের সভাপতি পিডিসন প্রধানের সভাপতিত্বে শিক্ষক সাজ্জাদুল হক স্বপন ও শিক্ষিকা বিলকিছ বেগমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযৃক্তি বিশ্ব বিদ্যালয়ের নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ড: আব্দুল আউয়াল বিশ্বাস,ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের ভাষা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাক ড: সৌরভ সিকদার, মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মো: তোফায়েল ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহাজালাল, কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক রফিকুর রহমান,অ ান্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের উপ-পরিচালক ড: কানিজ ফাতেমা,  প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের সিলেট বিভাগীয় উপ-পরিচারক তাহমিনা খাতুন, কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক, মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান তফাদার রিজুয়ানা ইয়াসমীন (সুমী) ও বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী ফোরামের সহ-সভাপতি জিডিসন প্রধান সুছিয়াং।
সম্মিলনীর শুরুতেই বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের মণিপুরী, খাসিয়া, চা জনগোষ্ঠী, সাওতাল সসম্প্রদায়ের শিল্পীদেও ৪০ মিনিট স্থায়ী একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। এর পর উত্তরীয় পরিয়ে ও ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয় প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিদের।
প্রধান অতিথি সংস্কৃতি মন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান নুর আরও বলেন, আপনারা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সম্মিলিত সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রস্তাবনা তুলে ধরলে তিনি মন্ত্রী হিসাবে বাস্তবায়ন করা সহজ হবে। আর এ জন্য সরকারের বিভিন্ন বিভাগের বিষেজ্ঞরা কর্মরত রয়েছেন। ক্ষুদ্র জাতির গোষ্ঠীর মাঝে চা জনগোষ্ঠী অনেকটা পিছিয়ে আছে। তাদের সংস্কৃতির বিকাশে আগামীতে চা শিল্পাঞ্চলে একটি সংস্কৃতি কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। সংস্কৃতি মন্ত্রী বলেন, মানুষের মাথা পিছু আয় বেড়েছে। মানুষ এখন আর না খেয়ে থাকে না। আগে আগে যে কোন অনুষ্ঠানে এলে হাততালি জন্য বলা লাগে না। এমনিতেই হাততালি দেয়া হয়। এখন সকলের হাতে মোবাইল ফোন হাততালি তেমন দেয়া হয়। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, দেশের মানুষও এগিয়ে যাচ্ছে। তা একমাত্র এই শেখ হাসিনার সরকারের আমলে হয়েছে। তিনি সরাসরি ভোট চাইছেন না। শুধু অনুরোধ করে বলেন, যদি গণতন্ত্র বিশ^াস করি নির্বাচনের মাধ্যমে এগিয়ে যাব। বিগত ১০ বছর আগের শেখ হাসিনার নেতৃত্বে চলমান ১০ বছরের বাংলাদেশের কথা ভেবে সবাই সিদ্ধান্ত নিলেই অবশ্যই আবারও আওয়ামীলীগকে নির্বাচিত করবেন এটাই বাস্তবতা।  এক কথায় শেখ হাসিনার কোন বিকল্প নেই। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি দেখে যে কোন পন্থের মানুষ বলবে শেখ হাসিনার কোন বিকল্প নেই ।
অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক, সাংবাদিক ও প্রশাসনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

কমলগঞ্জে মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসীর সংবাদ সম্মেলন : মামলাবাজ ও ভূমিখেকো চক্রের থেকে কবল থেকে জানমাল রক্ষার দাবী

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

Pic--Press Confarence
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের ছনগাঁও গ্রামের বাসিন্দা মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী হাজী মোঃ মতলিব মিয়া এলাকার একটি চিহ্নিত মামলাবাজ ও ভূমি খেকো চক্রের থেকে নিজের ও পরিবার সদস্যদের জানমাল রক্ষার দাবী জানিয়েছেন। সোমবার দুপুরে কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবী জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তবে ছনগাঁও গ্রামের বাসিন্দা মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী হাজী মোঃ মতলিব মিয়া বলেন, এলাকায় ভূমি দখল, দাঙ্গা-হাঙ্গামা, লুটপাট, মিথ্যামামলা দায়ের করে নিরীহ লোকজনদের হয়রানী সহ বিভিন্ন অপরাধ তৎপরতার সাথে জড়িত এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী মন্নান গং চক্রটি। এই সংঘবদ্ধ চক্রটি এলাকায় একের পর এক ঘটনা ঘটিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করলেও প্রাণভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে সাসহ পায়না। তাদের এহেন অপঃতৎপরতায় গোটা এলাকাবাসী এখন আতংকগ্রস্থ। তিনি বলেন, প্রায় ১০ বছর পূর্বে একই এলাকার প্রমোদ শর্ম্মা ও প্রণয় শর্ম্মার নিকট থেকে দূঘর মৌজাস্থিত ৫২৪৬ নং এস,এ দাগের ৩২ শতক ভূমি খরিদ করিয়া যথারীতি ভোগ দখলদার বিদ্যমান থাকিয়া বর্গাদারের মাধ্যমে হালসন পর্যন্ত চাষাবাদ করিয়া আসছেন। প্রবাসে থাকায় যথাসময়ে দলিল রেজিষ্ট্রি করিতে পারেন নাই। দেশে এসো চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তার খরিকৃত ভূমির রেজিষ্ট্রিকার্য সম্পাদন করি (দলিলনং ১৮৮)। এবং যথারীতি নিজ নামে ২৩৩৮ নং নামজারী খতিয়ান সৃজন করাইয়া ১৪২৫ বাংলা সন পর্যন্ত খাজনাদি পরিশোধ করেন।
মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী হাজী মোঃ মতলিব মিয়া বলেন, এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী মন্নান আমার বসতবাড়ীতে এসে ১ লক্ষ টাকা আমার নিকট হাওলাত চায়। এতে অপারগতা প্রকাশ করলে সে আমার খরিদকৃত ৩২ শতক জমি দখল করার হুমকি প্রদান করে। এ বিষয়টি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবগর্গের কাছে বিচার চাওয়ায়  ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে সন্ত্রাসী মন্নান ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা । আমাকে নানা প্রকার ভয়ভীতি ও হুমকী প্রদর্শন করতে থাকে এবং এলাকায় প্রচার করিতে থাকে যে, আমার খরিদকৃত সম্পত্তি তাহারা খরিদ করিয়াছে। মধ্যপ্রচ্য প্রবাসী নিরুপায়  হয়ে খরিদকৃত সম্পত্তিতে ন্যায্য অধিকার রক্ষার্থে  মন্নান গং এর বিরুদ্ধে গত গত ১০ মার্চ মৌলভীবাজার সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে ৬০/২০১৮ নং স্বত্ব মামমলা দায়ের করেন।  মামলা চলমান থাকা অবস্থায় গত ১২ আগস্ট রাতে দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত বিশাল বাহিনী নিয়ে প্রবাসীর খরিদকৃত জমি জোরপূর্বক দখলের উদ্দেশ্যে জমিতে অনধিকার প্রবেশ করিয়া ট্রাক্টর দ্বারা হালচাষ শুরু করে। এতে বাঁধা প্রদান করলে মন্নান ও তার দলবলসহ আমার ভাই ও তার স্ত্রীর উপর হামলা চালিয়ে আহত করে। মামলাবাজ ও ভূমি খেকো সন্ত্রাসী মন্নান ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে কমলগঞ্জ থানায় আমিসহ ৩৩ জনকে আসামী করে একটি হয়রানীমূলক মামলা দায়ের। পরদিন আমরা থানায় এসে মন্নানগংদের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। কিন্তু আমাদের দায়েরকৃত অভিযোগের কোন ব্যবস্থা না নিয়ে পুলিশ উল্টো প্রতিপক্ষের দায়েরকৃত মিথ্যা মামলায় আমাদেরকে গ্রেফতারের প্রচেষ্টা চালায়। গত ৩০ শে আগষ্ট আদালতের মাধ্যমে জামিন প্রাপ্ত হয়ে আমরা বসত বাড়ীতে ফিরে আসার পর থেকে সন্ত্রাসীরা আমাদেরকে নানা প্রকার হুমকী ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে যাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী হাজী মোঃ মতলিব মিয়া আরো বলেন. অপরাধীচক্রটি আমি ও পরিবার বর্গকে নানা প্রকার হুমকী ও ভয়ভীতি প্রদর্শন অব্যাহত রাখায় আমরা চরম আতংকের মধ্যে দিনাতিপাত করছি । যে কোন মুহুর্তে সন্ত্রাসীরা আবারও আমাদের জানমালের ক্ষতি সাধন করতে পারে। মামলাবাজ ও অপরাধীচক্রকে অবিলম্বে গ্রেফতার ও প্রবাসীর পরিবারে সদস্যদের জানমালের নিরাপত্তা বিধানসহ এলাকায় শান্তিতে বসবাসের নিশ্চয়তা বিধানের জন্য প্রশাসনের নিকট জোর দাবী জানান।
এ ব্যাপারে বক্তব্য জানার জন্য আং মন্নানের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। কমলগঞ্জ থানার নবাগত ওসি মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, আমি কমলগঞ্জ থানায় সদ্য যোগদান করেছি। বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শমশেরনগর চা বাগানে অগ্নিকান্ডে চা শ্রমিকের বসতঘর পুড়ে ছাই ॥ ৬ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতিসাধন

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট
002
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর চা বাগানের ভজনটিলায় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে সৃষ্ট অগ্নিকান্ডে এক চা শ্রমিকের বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। নগদ টাকাসহ ৬ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতিসাধিত হয়েছে। গত রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টায় শমশেরনগর চা বাগানের ভজনটিলার শ্রমিক বস্তিতে জগদীশ রবিদাসের বসতঘরে এই অগ্নিকান্ড ঘটে। অগ্নিকান্ডের সময় একই পরিবারের ৯ জন মানুষ তখন গভীর ঘুমে ছিলেন। অগ্নিকান্ড থেকে পরিবার সদস্য ও গবাদিপশু রক্ষা করতে পারলেও সবকিছু হারিয়ে জগদীশ পরিবারের সদস্যরা এখন খোলা আকাশের নিচে আছেন। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তাৎক্ষনিকভাবে নগদ ৫ হাজার টাকা অর্থ সহায়তা করেছেন।
জগদীশ রবিদাস ও প্রতিবেশীদের দেওয়া তথ্যসূত্রে জানা যায়, গত রোববার গভীররাতে পরিবারের ৯ জন সদস্য গভীর ঘুমে মগ্ন ছিলেন। রাত সাড়ে ৩টার দিকে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকান্ডের সৃষ্টি হলে জগদীশ রবিবার পরিবার সদস্যদের নিয়ে দ্রুত ঘর থেকে বের হয়ে হাল্লা চিৎকার শুরু করে। এ সময় স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। কিন্তু মুহুর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিকায় জগদীশ রবিদাসের ঘরে রক্ষিত নগদ প্রায় তিনলক্ষ টাকাসহ ৬ লক্ষাধিক টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।  আগুন দাউ দাউ করে জলার সময়েও কেউ নিভানোর সুযোগ পাননি। পল্লী বিদ্যুৎ সমিদির লোকজন খবর পেয়ে মেইন সংযোগ বন্ধ করলে প্রতিবেশীদের সহযোগীতায় আগুন নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হয়। কমলগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে ফায়ার সার্ভিস ও শমশেরনগর ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসা পর্যন্ত অবস্থান করে।
ক্ষতিগ্রস্ত চা শ্রমিক জগদীশ রবিদাস জানান, তার ছেলে শমশেরনগর বাজারে মুঠোফোনের ব্যবসা করে। তার অর্জিত আয়ে বেশ কিছু আসবাব পত্র দিয়ে ঘরটি সাজানো হয়েছিল। অগ্নিকান্ডে নগদ প্রায় তিনলক্ষ টাকা, মুঠোফোন, মূল্যবান জিনিসপত্র, আসবাবপত্র মিলিয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে সোমবার সকালে শমশেরগর চা বাগান ব্যবস্থাপক, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো: জুয়েল আহমদ, ইউপি সদস্য ইয়াকুব আলী, সীতারাম বীন, মহিলা ইউপি সদস্য নমিতা সিং, চা বাগান পঞ্চায়েত নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। শমশেরনগর ইউপি চেয়ারম্যান মো: জুয়েল আহমদ অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত জগদীশ রবিদাসকে তাৎক্ষনিকভাবে নগদ ৫ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন এবং পরবর্তি পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে সহযোগীতার আশ্বাস প্রদান করেন।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মাহমুদুল হক অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত শমশেরনগর চা বাগানের ভজনটিলার জগদীশ রবিদাসের পরিবারকে পূণর্বাসনে সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তার আশ্বাস দেন।

কমলগঞ্জ থানায় পুলিশ কর্মকতাদ্বয়ের বিদায় ও বরণ অনুষ্ঠান

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

Pic- Tana
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মোকাতাদির হোসেন পিপিএম ও পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত ) মোঃ নজরুল ইসলামের বিদায় ও নবাগত অফিসার ইনচাজ মোহাম্মদ আরিফুর রহমান ও পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত ) সুধীন চন্দ্র দাশ এর বরণ অনুষ্ঠান সোমবার (১০ সেপ্টেম্বর) থানার হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়। নবাগত অফিসার ইনচাজ মোহাম্মদ আরিফুর রহমানের সভাপতিত্বে ও এসআই চমক দামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মোহাম্মদ মাহমুদুল হক। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো: জুয়েল আহমেদ, রহিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইফতেখার আহমেদ বদরুল, কমলগঞ্জ সদর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান, কমলগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি বিশ^জিৎ রায়। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ অরূপ কুমার চৌধুরী, সাবেক মেয়র আবু ইব্রাহীম জমসেদ, সাংবাদিক মুজিবুর রহমান রঞ্জু, আব্দুল হান্নান চিনু, মোস্তাফিজুর রহমান, শাহীন আহমেদ, এসআই মোঃ ফরিদ মিয়া,এএসআই আনিসুর রহমান প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বিদায়ী এবং যোগদানকারী কর্মকতাদ্বয়কে কমলগঞ্জ থানার পক্ষ থেকে সম্মাননা ও বিভিন্ন উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে কমলগঞ্জের বিভিন্ন পত্রিকায় কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। #