সদ্য সংবাদ

বিভাগ: মাধবপুর

ভর্তি বাণিজ্যের প্রতিবাদে কমলগঞ্জে মাধবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে অভিভাবকদের বিক্ষোভ

Pic--Kamalgonj
কমলকুঁড়ি রিপোর্ট ॥
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে উপজেলার কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সিন্ডিকেটে জমজমাট ভর্তি বাণিজ্য শুরু হয়েছে। ভর্তি বাণিজ্যের প্রতিবাদে মাধবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন। ইচ্ছে মতো ভর্তি ফি আদায়ে সহকারী প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে সহনশীল আচরন না পাওয়ায় রোববার দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। খবর পেয়ে কমলগঞ্জ ইউএনও, ওসি (তদন্ত) ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
অভিভাবক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাধবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি ফি’র সাথে উন্নয়নসহ আনুষঙ্গিক বিষয়াদি যুক্ত করে ৯৯০ টাকা হারে ফি আদায় করা হচ্ছে। অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়ে অভিভাবকরা প্রধান শিক্ষকের কাছে জানতে চাইলে সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুল মুমিন বিল্ডিং এর জন্য বাড়তি টাকা নেয়া হচ্ছে বলে জানান। বলরাম কৈরী, মোহন লাল নুনিয়া, সুনিল শীল সহ অভিভাবকরা বলেন, আশপাশ বিভিন্ন স্কুলে ভর্তিতে সাকুল্য সাড়ে ৬শ’ থেকে ৮শ’ টাকা হারে আদায় করা হচ্ছে। কিন্তু মাধবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৯৯০ টাকা আদায় করার বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী প্রধান শিক্ষক বাড়তি টাকা বিল্ডিং তৈরীর জন্য নেয়া হচ্ছে বলে জানান। এ সময়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান পুষ্প কুমার কানু স্কুলে আসলে সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুল মুমিন চেয়ারম্যানের সাথে অসদাচরন করেন। এরপর অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন এবং তারা প্রতিবাদ করেন।
মাধবপুর ইউপি চেয়ারম্যান পুষ্প কুমার কানু বলেন, সহকারী প্রধান শিক্ষক অসদাচরন করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুল মুমিনকে পাওয়া যায়নি। তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস ছোবহান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুল মুমিনের সাথে তাদের পূর্ব বিরোধ ছিল এবং এই সুযোগে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। তবে ইউএনও ও ওসি সাহেব এসে তা সমাধান করে গেছেন। তিনি বলেন, সরকার নির্ধারিত সেশন ফি ৫০০ টাকার সাথে বেতন, উন্নয়ন ফি ও অন্যান্য আনুসাঙ্গিক মিলে আমরা ৮৭০ টাকা নিচ্ছি। ৯৯০ টাকা আদায়ের ঘটনা সঠিক নয় বলে তিনি জানান।
এ ব্যাপারে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। আগামী দুই দিনের মধ্যে অতিরিক্ত ফি আদায়ের বিষয়ে তদন্ত্রক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশ দেন। এছাড়া অন্যান্য স্কুলেও অতিরিক্ত ফি আদায়ের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর সহ কয়েকটি বিদ্যালয়ে সর্Ÿোচ্চ ১৫শ’ টাকা হারে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি ফি আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিদায় ২০১৪, স্বাগত ২০১৫

Modern Style 2015 New Year is coming background with blend shadoনিউজ ডেস্ক: স্বাগত ২০১৫। নতুন বছর নতুন আশা। কালের গর্ভে হারাল আরেকটি বছর। স্মৃতির খেরোখাতা থেকে প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসাব মুছে শুরু হলো নতুন বছর। অনেক ঘটন-অঘটন, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি, চড়াই-উৎরাই, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ও আনন্দ-বেদনার সাক্ষী হল বিদায়ী বছর। রাজনৈতিক সহিংসতা, নানা দুর্যোগ-দুর্ঘটনা আর ঘটনা প্রবাহের মধ্য দিয়ে শেষ হলো ইংরেজি ২০১৪ সাল।

সময় এক প্রবহমান মহাসমুদ্র। কেবলই সামনে এগিয়ে যাওয়া, পেছনে ফেরার সুযোগ নেই। তাই তো জীবন এত গতিময়। সেই গতির ধারাবাহিকতায় মহাকালের প্রেক্ষাপটে একটি বছর মিলিয়ে গেল। যে প্রত্যাশার বিশালতা নিয়ে ২০১৪-এর প্রথম দিনটিকে বরণ করা হয়েছিল, সেই প্রত্যাশার সব কি পূরণ হয়েছে? এ হিসাব না হয় নাইবা করলাম।

বিদায়ী বছরটি প্রাপ্তি আর অপ্রাপ্তির দোলাচলে নিয়েছে অনেক কিছু। তারপরও নতুন বছরের নতুন সূর্যালোকিত দিনের প্রতি অসীম প্রতীক্ষা ও প্রত্যাশা মানুষের মনে। নতুন বছর মানেই নতুন স্বপ্ন। চোখের সামনে এসে দাঁড়ায় ধূসর হয়ে আসা গল্পগাঁথার সারি সারি চিত্রপট। কখনো বুকের ভেতর উঁকি দেয় একান্তই দুঃখ-যাতনা। কখনো পাওয়ার আনন্দে নেচে উঠে হৃদয়। এ বছরটি নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেবে আমাদের জীবনে, এমনটিই প্রত্যাশা আমাদের। শুভ হোক নতুন বছর। সামনের দিনগুলোতে অনিশ্চয়তা কেটে গিয়ে ছড়িয়ে যাক শুভময়তা। নতুন বছরটি ভরে উঠুক আনন্দে, শান্তিতে। হ্যাপি নিউ ইয়ার।

‘আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু, বিরহদহন লাগে। তবুও শান্তি, তবু আনন্দ, তবু অনন্ত জাগে’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানের এ কথার মতই দুঃখ, কষ্ট সবকিছু কাটিয়ে নতুন জীবনের দিকে যাত্রার প্রেরণা পেতে চাই। নতুন বছরটি যেন সমাজ জীবন থেকে, প্রতিটি মানুষের মন থেকে সকল গ্লানি, অনিশ্চয়তা, হিংসা, লোভ ও পাপ দূর করে। রাজনৈতিক হানাহানি থেমে গিয়ে আমাদের প্রিয় স্বদেশ যেন সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যেতে পারে।

২০১৫ সালকে দেখতে চাই ভিন্ন আঙ্গিকে। হিংসা-প্রতিহিংসার ঊর্ধ্বে উঠে রাজনীতিকরা পরমতসহিষ্ণু হয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধার আবহ তৈরি করে জনকল্যাণে সবাই একসঙ্গে মনোযোগী হবেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে। আইন হয়ে উঠবে সব কিছুর নিয়ামক। নিশ্চিত হবে শাসকদের জবাবদিহিতা।

বাংলাদেশে ইংরেজি নববর্ষ পালনের ধরন বাংলা নববর্ষ পালনের মত ব্যাপক না হলেও এ উৎসবের আন্তর্জাতিকতার ছোঁয়া থেকে বাংলাদেশের মানুষও বিচ্ছিন্ন নয়।

দীর্ঘ ছুটি দিয়েই শুরু ইংরেজি নববর্ষ ২০১৫। নতুন বছর নতুন আনন্দ আর কর্মব্যস্ততা নিয়ে শুরু হয়। কিন্তু ২০১৫ সালটি শুরু হচ্ছে দীর্ঘ ছুটি দিয়ে। ১ জানুয়ারী সরকারী ছুটি না থাকলেও সর্বত্র থাকছে উৎসবের আমেজ। থার্টিফার্স্ট উদযাপনের পর নতুন বছরের শুরুর দিনটি ছুটির আমেজেই কেটে যায়। নববর্ষের বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনে থাকবে উৎসবের আমেজ। এ বছরের ২ জানুয়ারি শুক্রবার, ৩ জানুয়ারি শনিবার। তাই সরকারী-বেসরকারী সকল প্রতিষ্ঠানে থাকবে ছুটি। রোববার ৪ জানুয়ারী ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে সরকারী ছুটি।

১ জানুয়ারী নববর্ষ থেকে ৪ জানুয়ারী পর্যন্ত টানা ছুটি ভোগ করবে দেশ। ৫ তারিখ ঢাকায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির ঘোষণা রয়েছে আগে থেকেই। দু’পক্ষের কর্মসূচি নিয়ে জনমনে রয়েছে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। ঢাকায় সেদিন কি ঘটতে পারে তা নিয়ে দেশবাসীর সাথে রাজধানীবাসীও আতঙ্কিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ৫ তারিখ ঢাকায় বিরোধী দল সমাবেশ করতে না পারলে টানা হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারে। সে ক্ষেত্রে এ ছুটি আরও দীর্ঘ হতে পারে এমন আশংকা অনেকের।

নতুন বছরে রাজনৈতিক উত্তাপের আভাস এখন বাতাসজুড়ে। বছরের শুরুতেই এই উত্তাপ সৃষ্টি হচ্ছে দশম সংসদ নির্বাচনের প্রথম বর্ষপূর্তির দিন ৫ জানুয়ারিকে ঘিরে। আওয়ামী লীগসহ ১৪ দল দিনটিকে ‘গণতন্ত্র রক্ষা দিবস’ হিসেবে পালনের ঘোষণা দিয়েছে। পক্ষান্তরে বিএনপি ও তাদের নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট দিনটিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে পালনের কথা বলছে। বুঝাই যাচ্ছে, অনেকটা মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে আওয়ামী লীগ-বিএনপি। ফলে এই নিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বড়দিনে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে বলেন, ‘ নতুন বছর গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের’। বর্তমান সরকার জনগণের ‘ভোটের অধিকার’ কেড়ে নিয়ে দেশকে ধ্বংসের শেষ প্রান্তে নিয়ে গেছে অভিযোগ করে তাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ারও আহ্বান জানান তিনি। অনেকেই মনে করেন এটি নতুন বছর উত্তপ্ত যাওয়ারই ইঙ্গিত।

নতুন বছরে আমাদের প্রত্যাশা অনেক। প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে গণতন্ত্রের চর্চা নেই। পরস্পরের প্রতি শুধু বিবাদ বিদ্যমান। সংসদ, বিচার, পুলিশসহ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করা হচ্ছে। ফলে আইনের শাসন ও মানবাধিকার বিপন্ন হচ্ছে। সম্পদের সুষম বণ্টন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সরকারকে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় মনোনিবেশ করতে হবে। সর্বত্র আইনের শাসন, সবার জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, দলের ভেতর গণতন্ত্রের চর্চায় মনোযোগী হওয়া জরুরি।

সৃষ্টির জন্মলগ্ন থেকে নতুন বছর আমাদের মাঝে ঘুরে ঘুরে আসে অনেক আশা উদ্দীপনা নিয়ে। অন্যদিকে, পুরাতন বছর চলে যাওয়ার সাথে সাথে মানুষের সব হতাশা, গ্লানী, ব্যর্থতা দূর হয়ে যাক এই কামনায় প্রহর গুনে মানব জাতি। নতুন বছরে প্রথমে আমাদের যা ভাবতে হবে তা হল সম্পর্কের বন্ধন সুদৃঢ় করা।

প্রথমে পরিবার -সমাজ -রাষ্ট্র -বর্হিবিশ্ব – ধাপে ধাপে বন্ধন সুদৃঢ় করতে হবে। কাউকে শুভেচ্ছা জানানোর ব্যাপারে আমরা যেন কার্পন্য বোধ না করি। একজনের প্রতি আর একজনের একটু শুভেচ্ছা -একটা মানুষের জীবনে অনেক সফলতা এনে দিতে পারে। অন্যকে দিয়ে যেটা আশা করি সেটা কেন নিজের মধ্যে চর্চা করব না। আমরা একটু ভাবি নতুন বছরে, আমাদের সারা বছরের পরিকল্পনাটি কেমন হবে ? মনের কষ্ট-হতাশা ভুলে গিয়ে পরিবারের সবাইকে নিয়ে একটু আনন্দ করতে যেন ভুলে না যাই। অন্তত পরিবারের শান্তি সুদৃঢ় করার স্বার্থে।

নতুন বছরে বই উৎসব হবে, শিক্ষার্থীদের হাতে হাতে নতুন বই পৌঁছবে, নিঃসন্দেহে জাতির জন্য খুবই আনন্দের। প্রতিবারের মতো এবারো বছরের প্রথমদিনেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এরই মধ্যে দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে বই পৌঁছে গেছে বলে জানিয়েছে এনসিটিবি।

৩০ ডিসেম্বর পিএসসি ও জেএসসির অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এবারই প্রথমবারের মতো মাল্টিমিডিয়া গ্রন্থের বিতরণ ও উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি শেখ হাসিনা সকল শিক্ষার্থীদের জন্য পূর্ণাঙ্গ অডিও ডিজিটাল মাল্টিমিডিয়া গ্রন্থের একটি পূর্ণাঙ্গ টেক্সট উদ্বোধন করেন।

নতুন বই বিতরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বিনা মূল্যের বই বিতরণে বাংলাদেশ এখন রোল মডেল। সারা বিশ্ব যা কখনো ভাবতেও পারেনি, বাংলাদেশ তা করে দেখিয়েছে। ছয় বছর ধরে একই দৃষ্টান্ত দেখিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। এ বছর প্রাক প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত সাড়ে চার কোটি শিক্ষার্থী বিনা মূল্যে পাবে প্রায় ৩৩ কোটি বই। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশুরাও পাবে ব্রেইল পদ্ধতির বই। বছরের প্রথম কর্মদিবসেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের সব শিশু হাতে পাবে এসব নতুন বই। ফলে নতুন উদ্যম আর আগ্রহে শিশুরা শুরু করবে নতুন বছরের পড়ালেখা।

শিশুদের এই আনন্দের মধ্যদিয়ে নতুন বছর সকলের জন্য শুভ হয়ে উঠুক।