সদ্য সংবাদ

বিভাগ: মাধবপুর

মৌলভীবাজার ৪ টি আসনের মধ্যে ৩টি আওয়ামীলীগ ও ১টি ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীর বিজয়

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

MP

মৌলভীবাজার জেলার ৪টি আসনের মধ্যে ৩টি আওয়ামীলীগ ও ১টি ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী বিজয় লাভ করে।

মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী) আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. শাহাব উদ্দিন ৭৭ হাজার ৮শ ৬৩ ভোটের ব্যবধানে হ্যাটট্রিক জয় লাভ করেছেন। গতকাল রবিবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে সারা দেশে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়।
স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী আওয়ামী লীগ প্রাথী মো. শাহাব উদ্দিন নৌকা প্রতীকে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৬৭৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রাথী নাসির উদ্দিন মিঠু ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৬৫ হাজার ৮১৪ ভোট। এর আগে তিনি ২০০৮ ও ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের সাংসদ নির্বাচিত হন।
মৌলভীবাজার-২: সিলেট বিভাগ তথা সারাদেশজুড়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর জয়জয়কারের মধ্যেও জয়লাভ করেছেন মৌলভীবাজার-২ আসনের ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী সুলতান মুহাম্মদ মনসুর আহমদ। ২ হাজার ৫৭২ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন তিনি।
এই আসনের মোট ৯৩ কেন্দ্রের মধ্যে সুলতান মনসুর ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৭৪২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকা প্রতীকে বিকল্পধারার প্রার্থী এমএম শাহীন পেয়েছেন ৭৭ হাজার ১৭০ ভোট।

মৌলভীবাজার-৩ : মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনে ৭৯ হাজার ৯শ ৮৭ ভোটের ব্যবধানে প্রথমবারের মতো জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী নেসার আহমদ।
রবিবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে সারা দেশে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়। স্থানীয় সূত্রে ১৬৮টি কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত ফলাফলে জানা যায়, আওয়ামী লীগের প্রার্থী নেসার আহমদ পেয়েছেন ১ লক্ষ ৮৪ হাজার ৫শ ৭৯ ভোট। অপরদিকে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী নাসের রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৪ হাজার ৫শ ৯২ ভোট।

মৌলভীবাজার-৪: টানা ৬ষ্ঠ বারের মতো আবারো নির্বাচিত হয়েছেন মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল কমলগঞ্জ) সংসদীয় আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী ড. আব্দুস শহীদ। তার মোট প্রাপ্ত ভোট ২ লক্ষ ১১হাজার ৬১৩টি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মুজিবুর রহমান ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৯৩ হাজার ২৯৫টি। আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুস শহীদ মোট ১ লক্ষ ১৮ হাজার ৩১৮ ভোটের ব্যবধানে বেসরকারী ভাবে বিজয়ী হয়েছেন।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা সহকারি রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় হতে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৮০টি কেন্দ্রে নৌকা প্রতীকে ড. আব্দুস শহীদ মোট ভোট পেয়েছেন ১ লক্ষ ১৪ হাজার ৩৫০ টি, ধানের শীষ প্রতীকে মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী ৪৯ হাজার ৫০৯ ভোট, হাতপাখা প্রতীকে মো. সালাউদ্দিন ৭শ’ ১৭ ভোট এবং উদীয়মান সূর্য প্রতীকে শান্তিপদ ঘোষ ৮৬ ভোট।
কমলগঞ্জ উপজেলা সহকারি রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় হতে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী কমলগঞ্জ উপজেলার ৭২টি কেন্দ্রে নৌকা প্রতীকে মো. আব্দুস শহীদ মোট ভোট পেয়েছেন ৯৭ হাজার ২৬৩ টি, ধানের শীষ প্রতীকে মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী ৪৩ হাজার ৭৮৬ ভোট, হাতপাখা প্রতীকে মো. সালাউদ্দিন ৬শ’০৮ ভোট এবং উদীয়মান সূর্য প্রতীকে শান্তিপদ ঘোষ ৬১ ভোট।

শ্রীমঙ্গলে চা শ্রমিক সন্তানদের জন্য নির্মিত হচ্ছে ১০ তলা ছাত্রাবাস

শ্রীমঙ্গল সংবাদদাতা::

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল শহরের মৌলভীবাজার সড়কে অবস্থিত বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নিজস্ব জমিতে সরকারের অর্থায়নে চা শ্রমিক সন্তানদের জন্য নির্মিত হচ্ছে ১০ তলা বিশিষ্ট বহুবিধ সুবিধাসম্পন্ন ছাত্রাবাস। এ ছাত্রাবাসে শুধুমাত্র চা বাগান শ্রমিকদের পরিবারের গরীব ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা বিনামূল্যে বা স্বল্পব্যায়ে আবাসন সুবিধা পাবে। ৩০০ আসন বিশিষ্ট নির্মিতব্য এ ছাত্রাবাসে ১৫০টি আসন ছাত্রদের জন্য বাকি ১৫০টি আসন ছাত্রীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। এ ব্যাপারে সরকার ও বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দের দ্বিপাক্ষিক চুক্তি বৃহস্পতিবার (২৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় শ্রীমঙ্গলস্থ চা শিল্প শ্রম কল্যাণ বিভাগের হলরুমে সম্পন্ন হয়েছে।

সরকারের পক্ষে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষে শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অতিরিক্ত সচিব শিবনাথ রায় ও বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষে সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরী চুক্তিনামায় স্বাক্ষর করেন। চুক্তি অনুযায়ী নির্মিতব্য ভবনটির রক্ষণাবেক্ষণ, ছাত্রাবাসসহ সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনায় জেলা প্রশাসক বা তাঁর উপযুক্ত প্রতিনিধির সভাপতিত্বে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন শ্রীমঙ্গলস্থ বিভাগীয় শ্রম অধিদপ্তরের ১ জন প্রতিনিধি, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর শ্রীমঙ্গলের ১ জন প্রতিনিধি উপজেলা প্রশাসনের ২ জন প্রতিনিধি, চা শ্রমিক ইউনিয়নের ৬ জন প্রতিনিধি (১ জন সদস্য সচিবসহ) সহ মোট ১১ জনের সমন্বয়ে গঠিত বোর্ড/কমিটি ৩ বছর দায়িত্ব পালন করবেন এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ কর্তৃত গঠিত পরিচালনা কমিটি ভবনের সার্বিক দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শ্রম অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক গিয়াস উদ্দিন আহমদ, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষে সভাপতি মাখন লাল কর্মকার, বাংলাদেশ টি এস্টেট স্টাফ এসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুব রেজা, রাজঘাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক আহ্বায়ক বিজয় বুরার্জী, শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইসমাইল মাহমুদ, চা শ্রমিক ইউনিয়নের অর্থ সম্পাদক পরেশ কালিন্দী, বালিশিরা ভ্যালী কমিটির সভাপতি বিজয় হাজরা, সিলেট ভ্যালী সভাপতি রাজু গোয়ালা, মনু-ধলাই ভ্যালী সম্পাদক নির্মল দাস পাইনকাসহ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির ৩৪ জন সদস্য।

চুক্তি স্বাক্ষরের ব্যাপারে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষে সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরী বলেন, ‘চা শ্রমিক ছাত্রছাত্রীদের জন্য এটি বর্তমান চা শ্রমিকবান্ধব সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ এর জন্য কাজ করছিলেন। শেষ পর্যন্ত অনগ্রসর চা জনগোষ্টির প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সদইচ্ছার ফসল।

তিনি আশা করছেন, খুব তাড়াতাড়ি প্রয়োজনীয় কাজ কর্ম শেষে এর নির্মান কাজ শুরু হবে। এটি নির্মিত হবার পর শ্রমিক সন্তানদের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন হবে। তিনি যুগান্তকারী এ পদক্ষেপের জন্য বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সকল নেতৃবৃন্দ ও চা শিল্পে নিয়োজিত সকল শ্রমিকদের পক্ষ থেকে জননেত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।’

চারদিন যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা

road
 কমলকুঁড়ি ডেস্ক

আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের নাশকতা এড়িয়ে চলার জন্য নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সড়ক ও পরিবহন মন্ত্রণালয় রোববার (২৩ ডিসেম্বর) একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব ফরহাদ আহাম্মদ খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ২৯ ডিসেম্বর (শনিবার) দিনগত মধ্যরাত ১২টা থেকে ৩০ ডিসেম্বর (রোববার) মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত সড়কপথে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়। এর আওতায় রয়েছে- বেবি ট্যাক্সি/অটো রিকশা/ইজিবাইক, ট্যাক্সি ক্যাব, মাইক্রোবাস, জিপ, পিকআপ, কার, বাস, ট্রাক, টেম্পু, স্থানীয় পর্যায়ে যন্ত্রচালিত বিভিন্ন যানবাহন।
আর ২৮ ডিসেম্বর (শুক্রবার) দিনগত রাত ১২টা থেকে ১ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) মধ্যরাত পর্যন্ত মোটরসাইকেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।তবে, রিটার্নিং অফিসার অনুমিত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী/তাদের এজেন্ট, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা শিথিলযোগ্য। এক্ষেত্রে পর্যবেক্ষকদের পরিচয়পত্র থাকতে হবে।
এছাড়া নির্বাচনে সংবাদ সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত দেশি-বিদেশি সাংবাদিক (পরিচয়পত্র থাকতে হবে), নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, নির্বাচনে বৈধ পরিদর্শক এবং জরুরি কাজে বিশেষ করে অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ডাক ও টেলিযোগাযোগ ইত্যাদি কাজে ব্যবহৃত যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।

নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে জাতীয় মহাসড়ক, বন্দর ও জরুরি পণ্য সরবরাহসহ জরুরি প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সংস্থাপন শাখার জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২৮ ডিসেম্বর দিনগত মধ্যরাত ১২টা থেকে ১ জানুয়ারি দিনগত মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তবে, অন্যান্য যানবাহন ২৯ ডিসেম্বর মধ্যরাত থেকে ৩০ ডিসেম্বর মধ্যরাত পর্যন্ত চলাচল করতে পারবে না।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন মৌলভীবাজার-২ : বড় দুই দলের নেতাকর্মীদের দ্বিমুখী অবস্থান

21

নূরুল ইসলাম, মৌলভীবাজার

মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে দুই দলের নেতাকর্মীরা দিনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও রাতে মহাজোটের হয়ে প্রচার চালাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ দিনে মহাজোট রাতে ঐক্যফ্রন্ট। এমন আলোচনা-সমালোচনায় কুলাউড়ার নির্বাচনী মাঠ সরগরম। এ নিয়ে দুই দলের দুই নবাগত প্রার্থীর মধ্যে চলছে বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলাচল। এ আসনের ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী গণফোরামের সুলতান মোহাম্মদ মনসুর এবং মহাজোট প্রার্থী বিকল্পধারার এমএম শাহীন ডিগবাজি দিয়ে পরস্পরবিরোধী অবস্থান থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ নির্বাচনী এলাকায় সুর উঠেছে- আওয়ামী লীগের বড় একটি অংশ ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীর পক্ষে ও বিএনপির একটি অংশ মহাজোট প্রার্থীর পক্ষে গোপনে নির্বাচনী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি, মনোনয়নবঞ্চিত উপজেলা আওয়ামী লীগের এক জনপ্রতিনিধি নেতা, শ্রমিক লীগের পদস্থ নেতা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদকীয় ও সদস্য পদমর্যাদার একাধিক নেতা ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান মোহাম্মদ মনসুরের পক্ষে রাতে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। এসব নেতা ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে শুরু করে আওয়ামী রাজনীতিতেও বিকশিত হয়েছেন সুলতান মো. মনসুরের উৎসাহ-অনুপ্রেরণায়। ফলে এসব নেতা দিনে মহাজোট প্রার্থী এমএম শাহীনের পক্ষে সরব থাকেন নির্বাচনী প্রচারে। রাতে থাকেন ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীর পক্ষে। একইভাবে উপজেলা পর্যায়ের বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের অনেক নেতা মহাজোট প্রার্থী এমএম শাহীনের পক্ষে রাতে নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে দিনে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী তৎপরতায় ব্যস্ত সময় কাটান। দুই দলে নেতৃবৃন্দের দ্বিমুখী অবস্থানের কারণে সাধারণ ভোটাররা বিপাকে পড়েছেন। তারা দিনের কথা, নাকি রাতের প্রচারে বিশ্বাস করবেন? কুলাউড়া উপজেলা সদর থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীর মধ্যে চলছে লুকোচুরি খেলা। ফলে মহাজোট ও ঐক্যফ্রন্ট দুই শিবিরের নেতৃবৃন্দ বিশ্বাস ও অবিশ্বাসের দোলাচলে ভরসা হারাচ্ছেন বলে জানা গেছে। কুলাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান আ স ম কামরুল ইসলাম জানান, আওয়ামী লীগ সভাপতির সিদ্ধান্তের প্রতি অবিচল আস্থা রেখে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী একজোট হয়ে নৌকা প্রতীকের পক্ষে কাজ করায় মহাজোট প্রার্থীর অবস্থা দিন দিন উন্নতি হচ্ছে। সব মিলিয়ে মহাজোট ও ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।

নির্ভরশীল একটি সূত্র জানায়, কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদকীয় পদে থাকা এক জনপ্রতিনিধি মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে মহাজোট প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী কার্যক্রমে তেমন সরব না থেকে রাতে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীকে ভোট দিতে ভোটারদের প্রভাবিত করছেন। এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে বিকল্পধারার প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় মনোনয়নপ্রত্যাশী আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ও তাদের অনুসারীদের অনেকে এক সময়ে কুলাউড়ায় আওয়ামী লীগের সুলতান মো. মনসুরের অনুকূলে গোপনে কাজ করছেন বলে জানান হাজীপুর ইউনিয়নের কটারকোনা এলাকার সাধারণ ভোটার ব্রিকফিল্ড শ্রমিক গিয়াস উদ্দিন (৬৫)।

ঐক্যফ্রন্টের কারণে বিএনপির এমএম শাহীনের মনোনয়নবঞ্চিত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিলে তিনি বিকল্পধারায় যোগ দিয়ে মহাজোটের মনোনয়ন নিশ্চিত করে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করছেন। ফলে সারাজীবনের রাজনৈতিক শ্রমসাধনায় গড়া বিএনপির ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের একটি অংশ গোপনে তার পক্ষে নির্বাচনী কার্যক্রম চালাচ্ছে। এতে দুই শিবিরেই অশান্তির দাবানল জ্বলছে। জেলা বিএনপির সহসভাপতি, কুলাউড়ার ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা বলেন, হাজীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল বাছিত বাচ্চু, বিএনপির স্থানীয় উপজেলা শাখার নেতা তফজ্জুল হোসেন তফইসহ কেউ কেউ গোপনে দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংগ্রহ : সমকাল

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৮ : মৌলভীবাজার-৪ আসনে আওয়ামীলীগ-বিএনপি’র মধ্যে দলীয় কোন্দল মিটিয়ে প্রচারণা

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

14
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-৪ (কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল) আসনে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি’র মধ্যে দলীয় ক্ষোভ ও কোন্দল ছিল। যদিও আওয়ামীলীগ আলাদা আলাদাভাবে দলীয় কমিটি নেই,  এক কমিটির মধ্যই ছিল। কিন্তু দলের ভিতরে নেতাকর্মীদের মধ্যে কোন্দল বিরাজমান ছিল।  আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে কোন্দল ও ক্ষোভ মিটিয়ে দলের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন। অন্যদিকে বিএনপির মধ্যে দীর্ঘদিন থেকে দলীয় কোন্দল বিরাজমান ছিল। আলাদা আলাদা কমিটি ছিল। এখন তা নিরসন হয়ে দলের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করছেন। তবে কমিটি আলাদা রয়ে গেছে।  কিন্তু নির্বাচন সামনে রেখে এখন দলীয় প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে সবাই একসঙ্গে কাজ করছেন।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, একাদশ সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-৪ আসনে আওয়ামী লীগের ছয়জন দলীয় মনোনয়নের জন্য আবেদন করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে বর্তমান সাংসদ সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ মো: আব্দুস শহীদ ও কমলগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুর রহমান বেশি আলোচনায় ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এম এ শহীদই দলীয় মনোনয়ন পান। এরপর বিশেষ করে কমলগঞ্জে আওয়ামী লীগের মধ্যে কোন্দল দেখা যায়।  অবশেষে এ বিরোধ মিটিয়ে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

11
৩ ডিসেম্বর কমলগঞ্জের ভানুগাছ বাজারে উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা ডাকা হয়। সভায় দলীয় প্রার্থী এম এ শহীদ তাঁর বক্তব্যে সবকিছু ভুলে গিয়ে দলের ও দলীয় প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত করতে সবার কাছে আহ্বান জানিয়েছিলেন। তখন সবাই মনোনয়ন নিয়ে ক্ষোভের বিষয়টি ভুলে দলীয় প্রতীক নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে ঐকমত্য পোষণ করেন। ওই সভার পর কমলগঞ্জ উপজেলায় নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়। এতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দলীয় প্রার্থীর ছোট ভাই এম. মোসাদ্দেক আহমদ মানিককে আহ্বায়ক করা হয়েছে। যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে মনোনয়নবঞ্চিত অধ্যাপক মো: রফিকুর রহমানকে এবং সদস্য সচিব হিসাবে আছেন প্রার্থীর আরেক ছোট ভাই ইমতিয়াজ আহমেদ বুলবুল।
অধ্যাপক মো: রফিকুর রহমান বলেন, দলীয় প্রতীকের বিরুদ্ধে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত সবাইকে মেনে চলতে হবে। তাই সবাইকে সঙ্গে নিয়েই নৌকার পক্ষে তাঁরা জোর প্রচারণা শুরু করেছেন।
এদিকে কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গলে বিএনপির গৃহবিবাদ দীর্ঘদিনের। কয়েক বছর ধরে এখানে নেতা-কর্মীরা দুই ভাগে বিভক্ত। এমনকি কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল উপজেলায় বিএনপির আলাদা আলাদা কমিটি ছিল। কিন্তু সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কোন্দল মিটিয়ে ফেলা হয়েছে।

12
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গোলাম কিবরিয়াকে সভাপতি ও আলম পারভেজকে সম্পাদক করে কমলগঞ্জ উপজেলা বিএনপির একটি কমিটি রয়েছে। এ ছাড়া আবু ইব্রাহিম জমশেদকে সভাপতি ও শফিকুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে কমলগঞ্জ পৌর বিএনপির কমিটি আছে। অন্যদিকে এখানে বিএনপির প্রার্থী মুজিবুর রহমান চৌধুরীর সমর্থিত দুটি কমিটিও আছে। উপজেলা কমিটিতে দুরুদ আলী সভাপতি ও আবুল হোসেন সাধারণ সম্পাদক। পৌর কমিটিতে সোয়েব আহমদ সভাপতি ও তোফাজ্জল হোসেন সাধারণ সম্পাদক। আর শ্রীমঙ্গলে মুজিব বিরোধী কমিটিতে আতাউর রহমান সভাপতি ও ইয়াকুব আলী সাধারণ সম্পাদক। পৌর কমিটিতে মোছাব্বির আলী সভাপতি ও শামীম আহমদ সাধারণ সম্পাদক। অন্যদিকে মুজিবুর সমর্থিত উপজেলা কমিটিতে আতাউর রহমান সভাপতি ও ইয়াকুব আলী সাধারণ সম্পাদক। এই পক্ষের পৌর কমিটিতে নুরুল আলম সিদ্দিকী সভাপতি ও তাজ উদ্দীন সাধারণ সম্পাদক।
দলীয় সূত্র বলছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর হিসেবে এসেছে বিএনপির জন্য। মৌলভীবাজার-৪ আসনে মুজিবুর রহমানকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন বিএনপির একাংশের নেতা-কর্মীরা। তবে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তাঁরা ওই বিরোধিতা থেকে সরে এসেছেন। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে মুজিবুর বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ায় এখন দুই উপজেলার সব নেতা-কর্মীই ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।
১০ ডিসেম্বর আতাউর রহমান ও ইয়াকুব আলীর নেতৃত্বাধীন বিএনপির অংশটি সংবাদ সম্মেলন করে বিরোধ মিটিয়ে দলীয় প্রতীককে বিজয়ী করতে কাজ করার ঘোষণা দেয়। এরপর ১৬ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ওয়ালী সিদ্দিকী ও সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে কমলগঞ্জে বিএনপির উভয় পক্ষের সমঝোতা বৈঠক হয়।

আওয়ামীলীগ এর মধ্যে বিরোধ ও বিএনপির মধ্যে বিরোধ মিটিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রচার প্রচারণা করে যাচ্ছেন। উভয় দলের প্রার্থী ও নেতাকর্মীরা বিজয় নিশ্চিত বলে আশাবাদী।

শীতার্থ মানুষের পাশে দাঁড়ালেন সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার আশরাফুজ্জামান

কমলগঞ্জ রিপোর্ট

10
শ্রীমঙ্গল রেল স্টেশনের অসহায় দরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষেরা যখন তীব্র শীতে উষ্ণ কাপড়ের অভাবে কঠিন সময় পার করছে, ঠিক এ সময় এসব অসহায় মানুষের পাশে দাড়িয়েছেন শ্রীমঙ্গল সার্কেলের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার  আশরাফুজ্জামান।  বৃহস্পতিবার ১৩ই ডিসেম্বর মধ্য রাতে শ্রীমঙ্গল রেল স্টেশনে নিজ উদ্যোগে ছিন্নমুল, অসহায় ও শীতার্থ মানুষের মাঝে নিজ হাতেই তিনি শীত বস্ত্র বিতরণ করেন।

শ্রীমঙ্গল সার্কেলের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার আশরাফুজ্জামান দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি যখনই সুযোগ পাচ্ছেন তখনই ছুটে যাচ্ছেন এসব হতদরিদ্র শীতার্ত মানুষের কাছে।  কোন রকম তালিকা ছাড়াই সরজমিনে গিয়ে শীতার্থদের অবস্থা অবলোকন করেই সহকারি সিনিয়র সার্কেল আশরাফুজ্জামান নিজ হাতেই রেল স্টেশনের শীতার্তদের হাতে তুলে দিচ্ছেন শীতবস্ত্র । বাংলাদেশের সবচেয়ে শীতলতম স্থান শ্রীমঙ্গল। আর এই শ্রীমঙ্গলের কনকনে শীতে আর হিমেল হাওয়ায় খেটে খাওয়া ছিন্নমূল মানুষের কঠিন অবস্থা। তাই এই সব অসহায় মানুষদের পাশে শ্রীমঙ্গলের বিত্তবানরা হাত বাড়িয়ে সহযোগিতা করুন।

মৌলভীবাজার জেলার ৪টি আসনে মনোনয়ন পেলেন ১২ জন প্রার্থী : মৌলভীবাজার-৩ থেকে স্বামী-স্ত্রী মনোনয়ন, মৌলভীবাজার-৪ থেকে পিতা পুত্র মনোনয়ন

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

12
মৌলভীবাজার জেলার ৭টি উপজেলা নিয়ে ৪টি সংসদীয় আসন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার ৪টি আসনে বিভিন্ন দল থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন ১২ জন প্রার্থী। এর মধ্যে মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী) আসনে আওয়ামীলীগের বর্তমান সংসদ সদস্য হুইপ মো: শাহাব উদ্দিন, বিএনপির থেকে সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট এবাদুর রহমান চৌধুরী ও শিল্পপতি নাসির উদ্দিন মিঠু। মৌলভীবাজার-২ আওয়ামীলীগে নেতৃত্বাধীন (বিকল্পধারা) সাবেক বিএনপির সংসদ সদস্য এম এম শাহীন, জাতীয় এক্যফ্রন্টের সাবেক আওয়ামীলীগ সংসদ সদস্য ডাকসুর ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর, মৌলভীবাজার-৩ (মৌলভীবাজার সদর-রাজনগর) থেকে জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি নেছার আহমদ, সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এম সাইফুর রহমান পুত্র জেলা বিএনপির সভাপতি এবং সাবেক সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান ও এ আসনে এম নাসের রহমানের স্ত্রী রেজিনা নাসেরও মনোনয়ন পেয়েছেন।

13

মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আওয়ামীলীগে থেকে বর্তমান সংসদ সদস্য ও সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি সাবেক চিফ হুইপ আলহাজ¦ উপাধ্যক্ষ ড. মো: আব্দুস শহীদ।  বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব) ও তাঁরই পুত্র আশিক মুঈদ চৌধুরী। এ আসন থেকে বিএনপির নেতৃত্বাধিন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা গনফোরাম সভাপতি অ্যাডভোকেট শান্তি পদ ঘোষ।
আওয়ামীলীগের (নৌকা) প্রতীকের প্রার্থী  চূড়ান্ত হলেও মৌলভীবাজার জেলার ৪টি আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে মোট ৮ জনকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এই ৮ জন থেকে ৪ জনকে প্রার্থী রাখা হবে। তবে কোন ৪ জন ধানের শীষ নিয়ে প্রতিদন্ধিতা করবেন তা এখনও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছেনা।

মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনে ৬ষ্ঠ বারের মতো নৌকার মনোনয়ন পেলেন উপাধ্যক্ষ ড. মো: আব্দুস শহীদ এমপি

M A Shahid MP
কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনে ৬ষ্ঠ বারের মতো নৌকার মাঝি হতে দলীয় চুড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক চিফ হুইপ, সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা উপাধ্যক্ষ ড. মো: আব্দুস শহীদ এমপি। রোববার (২৫ নভেম্বর) দুপুরে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার স্বাক্ষরিত চুড়ান্ত প্রার্থী হিসাবে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে তাকে চূড়ান্ত মনোনয়নের চিঠি দেওয়া হয়েছে। এদিকে উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদের মনোনয়ন চুড়ান্ত হওয়ায় খবরে নির্বাচনী এলাকা কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গলে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা আনন্দ উল্লাস প্রকাশ করতে থাকেন। কোথাও কোথাও সমর্থকরা একে অপরকে মিষ্টি মূখ করান।
উল্লেখ্য, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদীয় আসন ২৩৮ মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ)  নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন বর্তমান সাংসদ উপাধ্যক্ষ ড. মো: আব্দুস শহীদ, কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যাপক মো: রফিকুর রহমান, শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রনধীর কুমার দেব,  মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আব্দুল আহাদ চৌধুরী, মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সৈয়দ মনসুরুল হক ও মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামীলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. এ এস এম আজাদুর রহমান। ঢাকায় গত ১৪ নভেম্বর গণ ভবনে সবাই দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে স্বাক্ষাৎ করেছেন।
বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট ও মাঠ জরিপের মাধ্যমে সবদিক বিবেচনা করে এই আসনে ৬ষ্ঠ বারের মতো আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সাবেক চিফ হুইপ, সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা উপাধ্যক্ষ ড. মো: আব্দুস শহীদ এমপি-কে দলীয় মনোনয়ন প্রদান করেন।
ষষ্ঠবারের মতো দলীয় মনোনয়ন লাভের প্রতিক্রিয়ায় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার এলাকার প্রিয় নেতাকর্মী ও জনগণের দোয়া-আশীর্বাদ এবং ভালোবাসা ও শুভকামনার ফসল আওয়ামী লীগের এই মনোনয়ন। সে জন্য জননেত্রী শেখ হাসিনা ও দলের মনোনয়ন বোর্ডের সবার কাছে আমি চির কৃতজ্ঞ।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমার রাজনৈতিক ভিশন হচ্ছে নির্বাচনী এলাকার গণমানুষের ন্যায়সঙ্গত দাবি আদায় ও তাদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখা। নির্বাচনী এলাকার জনসাধারণের শিক্ষা, চিকিৎসা, নিরাপত্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে অসমাপ্ত কাজগুলো বাস্তবায়ন করা।’
উল্লেখ্য, উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ এমপি মৌলভীবাজার- ৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনে পরপর পাঁচবার নৌকা প্রতীকে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। গত দশ বছর তাঁর নির্বাচনী এলাকায় মানুষ শান্তিতে ও নির্বিঘেœ ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করতে পেরেছেন। এলাকায় চাঁদাবাজদের কোনো দৌড়াত্ম ছিল না। শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জে আওয়ামী লীগের অধিকাংশ কর্মীদের মতে, রাজনৈতিক দূরদর্শীতা, মেধা ও প্রজ্ঞা দিয়ে দলমত নির্বিশেষে তিনি এই অঞ্চলের গণমানুষের নেতা হয়ে উঠেছেন। অর্জন করেছেন আস্থা, বিশ্বাস আর ভালোবাসা।
উপাধ্যক্ষ মো. আব্দুস শহীদ মৌলভীবাজার-৪ আসন থেকে ১৯৯১ সালে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একই আসন থেকে এরপর ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮ ও ২০১৪ সালে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। আব্দুস শহীদের সঙ্গে এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সাবেক অর্থমন্ত্রী এম. সাইফুর রহমানের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছিল। ২০০৯- ২০১৪ পর্যন্ত তিনি জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ, ২০০১- ২০০৬ পর্যন্ত সংসদে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ, এবং ১৯৯৬- ২০০১ পর্যন্ত জাতীয় সংসদে হুইপের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি। এ ছাড়াও তিনি দশম সংসদে সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি, সংসদ কমিটি, পিটিশন কমিটি ও কার্যপ্রণালী বিধি সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য। মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলেরও তিনি সদস্য।
উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ ২০০৬ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ছিলেন। ১৯৬৬ সালের ছয় দফা ও ১৯৬৯ সালের ১১ দফা আন্দোলনে ও পূর্বাপর সকল আন্দোলনে সিলেট জেলা সংগ্রাম পরিষদের সদস্য হিসাবে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ করেন। ১৯৬৫ সালে ছাত্রলীগ মনোনীত সিলেট মদনমোহন কলেজ ছাত্র সংসদে নাট্য ও প্রমোদ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৬৬- ১৯৬৮ পর্যন্ত তিনি সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সমাজকল্যাণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭৩ সালে আব্দুস শহীদ আওয়ামী লীগে যোগ দেন। ১৯৯১- ২০০০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম মেম্বার, ১৯৬৯ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক ছিলেন। একই সময়ে তিনি ছাত্রলীগ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহসভাপতি ছিলেন।
উপাধ্যক্ষ মো. আব্দুস শহীদ ১৯৭১ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে এম.কম ডিগ্রি লাভ করেন। সম্প্রতি (২০১৮) তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল উপজেলার নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের উপর গবেষণা করে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সিনেট সদস্য আব্দুস শহীদ শিক্ষার প্রসারে এলাকায় তাঁর ভূমিকা সর্বজনবিদিত। শ্রীমঙ্গলে উপাধ্যক্ষ মো. আব্দুস শহীদ কলেজ ও দ্বারিকা পাল মহিলা ডিগ্রি কলেজ এবং কমলগঞ্জের আব্দুল বারী মুলফত উদ্দিন হাফিজিয়া ইবতেদায়ি মাদরাসা ও সাজেদা বারী শিশু সদনের তিনি প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। পিছিয়ে পড়া চা-জনগোষ্ঠীর শিশুদের শিক্ষা প্রসারে চা বাগান এলাকায় তাঁর উদ্যোগে ৩৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ নির্বাচনী এলাকায় রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, স্কুল-কলেজ-মাদরাসার অবকাঠামোগত প্রভূত উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। শ্রীমঙ্গল উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিতকরণে তিনি ভূমিকা রেখেছেন। কৃষির উন্নয়নেও তার অবদান প্রশংসিত। দুই উপজেলায় ফসল উৎপাদন ও রক্ষায় সেচব্যবস্থার উন্নয়নে স্লুইসগেইট ও রাবারড্যাম এবং বাঁধ তৈরি করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ নভেম্বর) কমলগঞ্জে বিষ্ণুপ্রিয়া ও মৈ-তৈ মণিপুরীদের মহারাসলীলা

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

Ras-1

দুটি পাতা একটি কুঁড়ি প্রকৃতির অপার লীলাভূমি সমৃদ্ধময় মনিপুরীদের ঐতিহ্যবাহী শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণের মহারাসলীলা ২৩ নভেম্বর শুক্রবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এলাকা জুড়ে বিরাজ করছে উৎসব আমেজ। আনন্দের বাহারে মানুষের তনু মন উল্লাসিত।
মহারাস বলতে প্রেমরসকে বুঝানো হয়েছে। বস্তুত রস শব্দ থেকেই রাস শব্দটির উৎপত্তি। রস আস্বাদনের জন্য রাধাকৃষ্ণের লীলানুকরণে নৃত্য গীতের মাধ্যমে যে উৎসব উদযাপন করা হয় তাই রাসোৎসব। নৃত্য, সংগীতে  মনিপুরীদের প্রাচীন জাতীয় লোক নৃত্য ‘লাই হারাওবা থেকেই রাস নৃত্যের সৃষ্টি।
প্রতি বছর কার্তিক পূর্ণিমা তিথিতে স্বাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণময় শিল্পকলা সমৃদ্ধ মনিপুরী সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী মহারাসলীলা উৎসব। মনিপুরী অধ্যূষিত মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ও আদমপুরের আশ্বিন মাসের শুরু থেকেই উৎসবের সাড়া পড়ে যায়। উপজেলার মনিপুরী সম্প্রদায়ের লোকের সঙ্গে অন্য সম্প্রদায়ের লোকেরাও মেতে উঠে এ আনন্দ উৎসবের। দেশের বিভিন্ন স্থান সহ  ভারত থেকেও মনিপুরী সম্প্রদায়ের লোকজন সহ জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে অনেকেই ছুটে আসেন মহারাসলীলা অনুষ্ঠান উপভোগের জন্যে। মনিপুরী সম্প্রদায় অধ্যুষিত কমলগঞ্জের মাধবপুর ও আদমপুরের রাসোৎসবের জন্যে তৈরী মণ্ডপগুলো সাদা কাগজের নকশায় সজ্জিত মণ্ডপগুলোতে দূর-দূরান্ত থেকে আগত শিশু নৃত্য শিল্পীদের সুনিপুণ অভিনয় যেন মন্ত্র মুগ্ধ করে রাখে দর্শনার্থীদের।

Kamalgonj Pic--Rass

রাসলীলা উপলক্ষে মাধবপুর শিববাজারস্থ জোড়াম-পে আজ শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে গোধীলীলগ্ন পর্যন্ত রাখালনৃত্য, সন্ধ্যা ৭ ঘটিকায় আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, রাত ৯ ঘটিকায় নট সংকীর্ত্তন, রাত্র ১১ ঘটিকা থেকে ঊষালগ্ন শ্রীশ্রীকৃষ্ণের মহারাসলীলানুসরণ অনুষ্ঠানে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় সংসদের সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ ড. মো: আব্দুস শহীদ এমপি। অন্যদিকে আদমপুরস্থ তেতইগাঁও মণিপুরী কালচারাল কমপ্লেক্সে ৩৩তম মহারাসলীলা উৎসব দিবারাত্রী সাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে অন্যান্য অনুষ্ঠানের মধ্যে গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকেবেন সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ ড. মো: আব্দুস শহীদ এমপি।
জানা যায় ১৭৭৯ খৃস্টাব্দে মণিপুরের মহারাজ স্বপ্নাবিষ্ট হয়ে যে নৃত্য গীতের প্রবর্তন করেছিলেন তা-ই রাস নৃত্য। মহারাজার মৃত্যুর একশত বছর পরে মহারাজ চন্দ্র কীর্তির শাসনামলে গোটা রাস নৃত্য আচৌকা ভঙ্গী, বৃন্দাবন ভঙ্গী, খুডুম্বা ভঙ্গী, গোষ্ট ভঙ্গী, গোষ্ট বৃন্দাবন ভঙ্গী, আচৌবা, বৃন্দাবন ভঙ্গী তাণ্ডব পর্যায়ে পড়ে। উলে¬খ্য, মহারাজ ভাগ্য চন্দ্রের পরবর্তী রাজাগনের বেশিরভাগই ছিলেন নৃত্য গীতে পারদর্শী এবং তারা নিজেরাও রাস নৃত্যে অংশগ্রহণ করতেন। এর ফলে মনিপুরীরা এ কৃষ্টির ধারাবাহিকতার সূত্র ধরেই ১৯৪২ খৃস্টাব্দ থেকে আজও কোনও রূপ-বিকৃতি ছাড়াই কমলগঞ্জে উদযাপিত হয়ে আসছে এ রাস উৎসব। মনিপুরী এ নৃত্যকলা শুধু কমলগঞ্জের নয় গোটা ভারতীয় উপমহাদেশের তথা সমগ্র বিশ্বের নৃত্য কলার মধ্যে একটি বিশেষ স্থান দখল করে নিয়েছে।
১৯২৬ সালের সিলেটের  মাছিমপুরে মনিপুরী মেয়েদের পরিবেষ্টিত রাস নৃত্য উপভোগ করে মুগ্ধ হয়েছিলেন বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। পরে কবিগুরু কমলগঞ্জের নৃত্য শিক্ষক নীলেশ্বর মুখার্জীকে শান্তি নিকেতনে নিয়ে প্রবর্তন করেছিলেন মনিপুরী নৃত্য শিক্ষা।
Pic- Ras Lila

  রাসোৎসবের কয়েকদিন পূর্ব থেকে চলেছে এর প্রস্তুতি। মনিপুরী সম্প্রদায়ের বাড়ি বাড়ি কুমারী ও কিশোরদের রাস লীলায় অংশগ্রহণ করার জন্যে নৃত্য ও সংগীতের তালিম নেয়ার ধুম পড়ে । কিশোরীরা  রাসলীলায় অংশগ্রহণ করে এবং রাখাল নৃত্যের শিশু-কিশোর অংশগ্রহণ করে। রাখাল নৃত্য সাধারণ দিনের বেলায় অর্থাৎ সূর্যাস্তের আগেই অনুষ্ঠিত হয়। কার্তিক মাসের পূর্ণিমা তিথি ২৩ নভেম্বর শুক্রবার দুপুরে শিশু শিল্পীরা রাখাল সাজে সজ্জিত হয়ে একটি মাঠে সমবেত হবে। এদের পরনে থাকবে ধূতি, মাথায় ময়ূর, পালকের মুকুট, কপালে চন্দ্রের তিলক, গলায় সোনার মালা, হাতে বাঁশি ও পায়ে নূপুর। এরপর বাঁশি হাতে বাদ্যের তালে তালে নৃত্য করতে করতে শ্রীকৃষ্ণের বিভিন্ন অনূকরণে একজন শিশু শিল্পী মাঠে প্রবেশ করবে। অনেকক্ষণ ধরে চলবে এই নৃত্য গীতি। রাতে শুরু হবে মহারাস লীলা। শুরুতেই পরিবেশিত হয়  রাসধারীদের অপূর্ব মৃদঙ্গ নৃত্য। মৃদঙ্গ নৃত্য শেষে প্রদীপ হাতে নৃত্যের তালে তালে সাজানো মঞ্চে প্রবেশ করেন শ্রীরাধা সাজে সজ্জিত একজন নৃত্যশিল্পী তার নৃত্যের সঙ্গে সঙ্গে বাদ্যের তালে তালে পরিবেশিত হবে মনিপুরী বন্দনা সঙ্গীত। শ্রীকৃষ্ণ রূপধারী বাঁশী হাতে মাথায় কারুকার্য খচিত ময়ুর পুচ্ছধারী এক কিশোর নৃত্য শিল্পী তার বাঁশির সুর শুনে  ব্রজ গোপী পরিবেষ্টিত হয়ে কুমারী শ্রী রাধা মঞ্চে আসবে। শুরু হবে সুবর্ণ কংকন পরিহিতা মনিপুরী কিশোরীদের  নৃত্য প্রদর্শন।
এ রাসোৎসব ঘিরে কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর জোড়া মন্ডপ এলাকায়  প্রতি বছরই বসে মেলা। কৃষি সরঞ্জাম, মাটির তৈরী সামগ্রী, ঘর কন্যার সামগ্রীসহ নানা দ্রব্যের পসরা সাজিয়ে বসেন বিক্রেতারা। এছাড়া মণিপুরীদের নিপুন হস্তে তৈরী তাঁতের বিভিন্ন রকমের কাপড়। সারারাত ধরে চলে মেলা। মেলায় মনিপুরীদের তৈরী সামগ্রীর দোকান গুলোতে থাকে  ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়।
মহারাত্রির আনন্দের পরশ পেতে আসা হাজার হাজার নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর,কবি-সাহিত্যিক, সাংবাদিক, দেশী-বিদেশী পর্যটক, বরেণ্য জ্ঞাণী-গুণী লোকজনসহ প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠবে গোটা উৎসব অঙ্গন। মণিপুরী সম্প্রদায়ের পূণ্যস্থাণ হিসাবে বিবেচিত মাধবপুর ও আদমপুরে রাসোৎসবের জন্য তৈরী সাদাকাগজের নকশায় সজ্জিত মন্ডপগুলো এই একটি রাত্রির জন্য হয়ে উঠবে লাখো মানুষের মিলনতীর্থ। মনিপুরী শিশু নৃত্যশিল্পীদের সুনিপুন নৃত্যাভিনয় রাতভর মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখবে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের।

রাস উৎসবে আসার রাস্তা ঃ
সড়ক কিংবা রেলপথে দেশের যেকোন স্থান থেকে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে আসা যায়। কমলগঞ্জ উপজেলা সদরের ভানুগাছ বাজার চৌমুহনী থেকে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান সড়ক হয়ে প্রায় ৪ কিঃ মিঃ দূরে মাধবপুর জোড়া মন্ডপস্থ বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী সম্প্রদায়ের রাসলীলা অনুষ্ঠান স্থলে যাওয়া যায়। অন্যদিকে কমলগঞ্জ উপজেলা সদরের ভানুগাছ বাজার চৌমুহনী অথবা উপজেলা চৌমুহনী থেকে যেকোন যানবাহনে আদমপুর সড়ক দিয়ে প্রায় ৮ কিঃ মিঃ এগিয়ে গেলেই আদমপুর বাজার। আদমপুর বাজারের পার্শ্বেই মণিপুরী মৈ-তৈ সম্প্রদায়ের মহারাসলীলার অনুষ্ঠানে যাওয়া যায়। #

আওয়ামীলীগের চূড়ান্ত প্রার্থীরা মঙ্গলবার চিঠি পাবেন

কমলকুঁড়ি ডেস্ক রিপোর্ট

1

চূড়ান্ত ভাবে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন কে পাচ্ছেন মঙ্গলবার থেকে চিঠি দেবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। চূড়ান্ত প্রার্থীদের উদ্দেশে চিঠি ইস্যুর করতে রোববার (১৮ নভেম্বর) থেকে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে কাজ শুরু করেছেন দলটির দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ। আজ (সোমবার) সন্ধ্যা ৭টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে সংসদীয় বোর্ডের শেষ সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় বাকি প্রার্থীদের মনোনয়ন তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত সংসদীয় বোর্ডের সভায় চূড়ান্ত প্রার্থীদের তালিকা দফতর সম্পাদকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অতি গোপনীয়তার সঙ্গে দলের দফতর সম্পাদক সার্বিক কাজ শেষ করে সোমবার সংসদীয় বোর্ডের সভাপিত শেখ হাসিনার স্বাক্ষর নেবেন। এরপর মনোনীত প্রার্থীদের কাছে চিঠি পাঠানো হবে।

এদিকে গত কয়েকদিন সংসদীয় সভায় রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, রংপুর, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগে দলীয় প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করে আওয়ামী লীগ। আজ সোমবার চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের নৌকার প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। মনোনীত প্রার্থীদের চিঠি ইস্যুর বিষয়টি সম্পন্ন হওয়ার পর শরিক ও মহাজোটের আসনগুলো বাদে দলীয় প্রার্থীদের নামের তালিকা একযোগে ঘোষণা করা হবে।

গত শুক্রবার ও শনিবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদীয় দলের সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সংসদীয় বোর্ডেও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট নেতা এবার দলের মনোনয়নের তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন বলে জানা গেছে। এছাড়াও বর্তমান এমপিদের মধ্যেও বাদ পড়েছেন অনেকে। আবার কয়েকজন নতুন মুখও রয়েছেন তালিকায়। আগামী ২৫ থেকে ২৬ নভেম্বরের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনশ’ আসনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করার প্রস্তুতি রয়েছে আওয়ামী লীগের।