সদ্য সংবাদ

বিভাগ: কমলগঞ্জ

কমলগঞ্জের ছয়চিরি দিঘীর পারে দুই দিনব্যাপী চড়ক পূজা ও মেলা সমাপ্ত

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

Chorok Puja Pic

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী ছয়চিরী দিঘীর পারে দুইদিনব্যাপী চড়ক পূজা ও মেলা সমাপ্ত হয়েছে। বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে গত শনিবার (১৪ এপ্রিল) শনিবার শুরু হয় এ চড়ক পূজা ও মেলা। দুইশত বছরের অধিক সময় ধরে চলে আসা প্রাচীন ঐতিহ্য লালিত চড়ক পূজা ও মেলাকে কেন্দ্র করে কমলগঞ্জের ছয়চিরিসহ আশেপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল। রোববার (১৫ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৩টায় ফের চড়ক পূজা অনুষ্ঠিত হয়। রহিমপুর ইউনিয়নের ছয়চিরি দিঘীর পাড়ে বাংলা পুঞ্জিকা মতে প্রতিবছরের চৈত্র সংক্রান্তিতে ২দিন ব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে চড়ক পূজা উৎসব। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি।
জানা যায়, চড়ক পূজা উৎসবের ১০/১২ দিন পূর্ব থেকে বিভিন্ন এলাকার পূজারীর মধ্যে ৪০/৫০ জন সন্ন্যাস ধর্মে দীতি হয়ে গ্রামের সনাতনী হিন্দু বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিব-গৌরীসহ নৃত্যগীত সহকারে ভিাবৃত্তিতে অংশ নেন। এ ক’দিন তারা পবিত্রতার সহিত সন্যাস ব্রত পালন করে নিরামিষ ভোজি এবং সারাদিন উপবাস পালন করেন। চড়ক পূজার ২ দিন পূর্বে পূজারীরা শ্মশানে গিয়ে পূজা অর্চনা করেন ও শেষে গৌরীর বিয়ে, গৌরী নাচ ও বিভিন্ন গান গেয়ে ঢাকের বাজনায় সরগরম করে গোটা এলাকা। ছয়চিরি দিঘীর পাড়ে ভক্তরা নৃত্য করার জন্য কলাগাছ ও বাঁশের খুটি বেষ্টিত মন্ডলী তৈরী করে। পূজার প্রথম দিন নিশি রাতে তান্ত্রিক মন্ত্র ধারা কাচ পড়া দিয়ে জলন্ত(লাকড়ির কয়লা) ছাইয়ের উপর মানুষরুপি কালী সেজে নৃত্য করে। অন্য ভক্তগণ নৃত্যের তালে তালে, ছন্দে ছন্দে ঢোলক, কাশি, করতাল বাজিয়ে থাকেন।  এসময় দর্শনার্থীরা জয়ধ্বনি  এবং নারীদের কন্ঠে হুলু ধ্বনি দিতে থাকেন।
জ্বলন্ত আগুনের মধ্যে এই ‘কালীনাচ’ অত্যন্ত আকর্ষনীয় এবং তান্ত্রিক মন্ত্র দিয়ে ৭টি বলিছেদ (লম্বা দা) এর উপর শিব শয্যা করেন। শিবের উপর উঠে কালী ভয়ানক এক অদ্ভুত রুপ ধারন করেন। এসময় উপস্থিত দর্শনার্থী সবাই আতঙ্কিত হয়ে উঠেন। কালীনাচ শেষ হওয়ার পর শনিবার সকালে পূজারীরা পূজা করে পান বাটা দিয়ে চড়ক গাছকে নিমন্ত্রণ জানানো হলে পার্শ্ববর্তী ঐতিহাসিক ছয়চিরি দিঘী থেকে ভেসে উঠে ১০০ ফুট লম্বা চড়ক গাছ। এ গাছের চুড়া থেকে মাচা পর্যন্ত চারটি পাখার মতো করে বাধা হয় চারটি মোটা বাঁশ এবং তাতে যুক্ত করা হয় মোটা লম্বা রশি। আগের বছর উৎসব শেষে এই দিঘীতে ডুবিয়ে রাখা হয়ে ছিল চড়ক গাছ। দিঘীর পাড়ে গর্ত খুড়ে সোজা এবং খাড়া করে পোঁতা হয় এ গাছ।
শনিবার (১৪ এপ্রিল) দপুর থেকে বিপুল সংখ্যক নারী পুরুষ দর্শনার্থীর বিশাল সমাগম ঘটে উৎসবস্থলে। বিকেল বেলা ভক্তদের মন্ডলীতে বিশাল দা (বলিছেদ) দিয়ে নৃত্য, শিবের নৃত্য ও কালীর নৃত্য দেখানো হয়। নৃত্য শেষে ছয়চিরি দিঘীতে স্নান করে ভক্তদেরকে লোহার শিকল শরীরের বিভিন্ন অংশে পিষ্ট (গাঁথা) করা হয়। বিশেষ করে জিহ্নবা ও গলায় গেঁথে দেয়া হয়। নৃত্যের তালে তালে চড়ক গাছ ঘুরানো হয়। দেবতার পূজা-অর্চনা শেষে অপরাহ্নে মূল সন্ন্যাসী ৪ জন ভক্তের (জীবিত মানুষের) পিঠে লোহার দু’টি করে বিরাট আকৃতির বড়শি গেঁথে রশিতে বেঁধে ঝুলিয়ে চড়ক গাছ ঘুরানো হয়। এ সময়ে দর্শনার্থীদের অনেকে বাতাসা আর কলা উপরের দিকে উড়িয়ে দেন আর দর্শনার্থীরা তা কুড়িয়ে নেন।
রোববার (১৫ এপ্রিল) ফেরা চড়ক পূজায় দেবতার পূজা অর্চনা করা হয়। ছয়চিরি দিঘীর চার পাড়ের মধ্যে দিঘীর পূর্বপাড়ে ১টি, উত্তর পাড়ে ১টি এবং দনি পাড়ে ২টি চড়ক গাছ স্থাপন করে পূজা অনুষ্ঠিত হয়। তান্ত্রিক মন্ত্রের ধারা বিভিন্ন অলৌকিক ধর্মীয় কর্মসূচী উপভোগ করার জন্য প্রতি বছরের মত এবারও দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার নারী-পুরুষ, জাতি, ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে দর্শনার্থীর উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। চড়ক পূজা উপলে দুই দিনব্যাপী এক বিশাল মেলা বসে। চড়ক পূজা ও মেলা পরিচালনা কমিটি প্রতি বছরের মত এবারও মেলা সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার ল্েয কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল।
চড়কপূজা উদযাপন কমিটির নেতা কমলগঞ্জ উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অসমঞ্জু প্রসাদ রায় চৌধুরী জানান, ইউনিয়ন পরিষদ ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল।

কমলগঞ্জে মঙ্গল শোভাযাত্রা আর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাংলা বর্ষবরণ ॥ চা বাগান ও আর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে রোববার বর্ষ বরণ

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

Kamalgonj Pic Borshaboron 1

ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় মঙ্গল শোভাযাত্রা আর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে বাংলা নববর্ষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দকে বরণ করা হয়। শনিবার (১৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টায় কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন চত্বরে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো: রফিকুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক, কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো: জুয়েল আহমেদ ও থানার ওসি মো: মোকতাদির হোসেন পিপিএম এর নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়। পরে উপজেলা কমলগঞ্জ পরিষদ চত্বরে দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বিকালে র‌্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়। বর্ষবরণ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন চত্বরের ভিতর দিনব্যাপী মেলাও বসে।
শনিবার সকাল ৯টা থেকে শমশেরনগর আইডিয়াল কিন্ডার গার্টেন স্কুলে বর্ষ বরণের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। স্কুলের শিশু শিল্পীরা এ অনুষ্ঠানে নৃত্য ও গান পরিবেশন করে ছাত্র, শিক্ষক ও অভিভাবকরা এক সাথে মধ্যাহ্ন ভোজ সম্পন্ন করেন।
শমশেরনগর বিএএফ শাহীন কলেজেও মঙ্গল শোভাযাত্রা শেষে কলেজের শিল্পীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। শাহীন কলেজ প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী মেলাও বসে। তাছাড়া পতনউষার ইউনিয়নের শহীদনগর বাজারে শাপলা সবুজ সংঘের উদ্যোগে ২ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে বাংলা পুঞ্জিকাকে অনুসরণ করে কমলগঞ্জের চা বাগানগুলিতে রোববার (১৫ এপ্রিল) বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রাসহ নানা আয়োজনে বাংলা নব বর্ষকে বরণ করে। তার সাথে হিন্দু ধর্মীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে রোববার শুভ হালখাতার মাধ্যমে বর্ষ বরণ করা হয়।

কমলগঞ্জে দু:স্থদের মাঝে ভিজিএফের চাল ও সোলার প্যানেল বিতরণ

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

10

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ পৌরসভায় ১৫০ দু:স্থ পরিবারের মাঝে ৩০ কেজি করে ভিজিএফ এর চাল ও নগদ ৫০০ টাকা এবং ২৯০ টি পরিবারের মাঝে সোলার প্যানেল বিতরণ করা হয়েছে। রোববার দুপুর ২টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে গরিব দুস্থদের মধ্যে ভিজিএফ চাল ও সোলার প্যানেল বিতরণ কর্মসুচির উদ্বোধন করেন সাবেক চিফ হুইপ, সরকারী প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা উপাধ্য ড. মো: আব্দুস শহীদ এমপি।

M A Shahid M.P

কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো: জুয়েল আহমেদ এর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি এম, মোসাদ্দেক আহমেদ মানিক, কমলগঞ্জ থানার ওসি মো: মোকতাদির হোসেন পিপিএম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান প্রমুখ। পরে কমলগঞ্জ সদর, মুন্সীবাজার, পতনঊষার ও রহিমপুর ইউনিয়নে গরিব দুস্থদের মধ্যে ভিজিএফ চাল ও সোলার প্যানেল বিতরণ কর্মসুচির উদ্বোধন করা হয়। এসব কর্মসুচীতে রহিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইফতেখার আহমেদ বদরুল, মুন্সীবাজার ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালিব তরফদার, কমলগঞ্জ সদর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান, পতনঊষার ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার তওফিক আহমেদ বাবুসহ স্থানীয় আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পতনঊষারে ১ কোটি ৪৮ লক্ষ ২৮ হাজার টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন : উন্নয়ন হতে হলে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে হবে – উপাধ্যক্ষ ড. আব্দুস শহীদ এমপি

20180412_165824

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট
সরকারী প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি, জাতীয় সংসদের সাবেক চিফ হুইপ, বীর মুক্তিযোদ্ধা উপাধ্যক্ষ ড. মো: আব্দুস শহীদ এমপি বলেছেন, দেশের উন্নয়ন করতে হলে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। আওয়ামীলীগ এমপি ও চেয়ারম্যানদের হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। যখন যে দাবী নিয়ে আসে তা বাস্তবায়িত করা হচ্ছে। উন্নত বিশ্বের সাথে পাল্লা দিয়ে আমাদের দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। সর্বক্ষেত্রে এই সরকার সফলতার স্বাক্ষর রাখছে। উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে আগামী নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে আওয়ামীলীগকে ক্ষমতায় আবারো বসাতে হবে।  সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন।   তাই সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নৌকার পক্ষে একযোগে কাজ করতে হবে।
উপাধ্যক্ষ মো: আব্দুস শহীদ এমপি বৃহস্পতিবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নে ১ কোটি ৪৮ লক্ষ ২৮ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা গুলো বলেন।  স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনায় বলরামপুর-রসুলপুর- গোপীনগর পাকা রাস্তার আধা কি:মি: মরহুম আব্দুল মালিক মনা মেম্বার রোড ২৫ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা, গোবিন্দপুর- দুর্গাপুর -ভায়া রসুলপুর- বৈরাগীরচক পাকা করণ রাস্তা আধা কি. মি. ২০ লক্ষ ৩ হাজার টাকা ও মুন্সীবাজার-বৃন্দাবনপুর ৭২০মি. সড়ক উন্নয়ন কাজে ৩৮ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ফলক উন্মোচন  করা হয়।

20180412_165432

বিকালে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে ৬৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে আহমদনগর দাখিল মাদ্রাসার “ বীর মুক্তিযোদ্ধা উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ এমপি” একাডেমীক ভবনের শুভ উদ্বোধন করা হয়।  পরে এক সুধী সমাবেশ মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে মাদ্রাসার সভাপতি বদরুজ্জামান চৌধুরী জহিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।  অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপাধ্যক্ষ ড. মো: আব্দুস শহীদ এমপি। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক, প্রফেসর ডা: মৃগেন কুমার দাস চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি এম. মোসাদ্দেক আহমেদ মানিক, রহিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইফতেখার আহমেদ বদরুল, মুন্সীবাজার ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালিব তরফদার, পতনঊষার ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার তওফিক আহমেদ বাবু, বিআরডিবি চেয়ারম্যান ইমতিয়াজ আহমেদ বুলবুল, উপজেলা প্রকৌশলী কিরণ চন্দ্র দেবনাথ, কমলগঞ্জ থানার ওসি মোকতাদির হোসেন পিপিএম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সামছুননাহার পারভীন।  সহ: শিক্ষক মোহাম্মদ তরাজুল ইসলামের পরিচালনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদ সদস্য সেলিম আহমদ, আব্দুন নুর মাষ্টার, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক ইলিয়াছুর রহমান মরহম, মাদ্রাসার সুপার মাও: আলম চৌধুরী প্রমুখ।

মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল রাখার দাবীতে কমলগঞ্জে বিক্ষোভ সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান

  কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

01

মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ ভাগ বহাল রাখা এবং মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের বিরুদ্ধে চলমান ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কমান্ডের আয়োজনে মঙ্গলবার সকাল ১১.৩০ মিনিটের কমলগঞ্জ উপজেলা চৌমুহনা চত্বরে এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে একটি স্মারকলিপি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে প্রদান করা হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, কোটা বিরোধী আন্দোলন মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে স্বাধীনতা বিরোধীদের এক গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান, বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক মো: রফিকুর রহমান। সভা শেষে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল রাখার জন্য কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বারাবর স্বারকলিপি প্রদান করা হয়।
মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড কাউন্সিল কমলগঞ্জ উপজেলা শাখার আহবায়ক আজিজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম আহবায়ক মনজুর আহমেদ আজাদ মান্নার পরিচালনায় সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মুনিম তরফদার, জয়নাল আবেদীন, নজরুল ইসলাম, কুল চন্দ্র তাতী, কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান পারভীন আক্তার লিলি, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড কাউন্সিল সদস্য আসিফ নিয়াজ রনি। সমাবেশে বক্তারা মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ ভাগ বহাল রাখার জোর দাবী জানান।

কমলগঞ্জে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর কর্তৃক চার প্রতিষ্ঠানে ৭৩ হাজার টাকা জরিমানা আদায়

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

0001

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরণ অধিদপ্তর, মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ আল-আমিন এর নেতৃত্বে অভিযানে চারটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৭৩ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। মঙ্গলবার কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পৃথক পৃথক অভিযান চালিয়ে ইট তৈরির ফর্মাতে কারচুপি করা, নির্ধারিত পরিমাপের ইট বিক্রি না করা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য তৈরি করা, রাস্তার পাশে খোলা অবস্থায় খাবার বিক্রি করা, মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ বিক্রি করা, কম ওজনের বাটখারা ব্যবহার করে কৃষকদের কাছে সার বিক্রি করা, যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ব্যবসায়ীক লাইসেন্স না নেওয়াসহ বিভিন্ন অপরাধে জালালিয়াস্থ মেসার্স মহসীন ব্রিকস ফিল্ডকে ৪০ হাজার টাকা, পতনঊষার ইউনিয়নের বৃন্দাবনপুর পালিতকোনাস্থ মেসার্স এস. কে. ব্রিকস ফিল্ডকে ৩০ হাজার টাকা, পতনউষার শহীদনগর বাজারের শিমলা হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টকে ১ হাজার টাকা ও মেসার্স শরীফ ট্রেডার্সকে ২ হাজার টাকাসহ চারটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৭৩ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও তা আদায় করা হয়। অভিযানের সময় কমলগঞ্জ থানা পুলিশ সহযোগিতা করে।

কমলগঞ্জের লাউয়াছড়ায় ফের বৃদ্ধি পেয়েছে গাছ পাচার

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

Sagun Gach pic-1

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান থেকে ফের বৃদ্ধি পেয়েছে গাছ পাচার। এক টুকরো লাউয়াছড়া বন থেকে গাছ পাচারের ফলে কমেছে বনের ঘনত্ব। বনবিভাগের ব্যাপক তৎপরতার কারনে গাছ পাচার মোটামোটি বন্ধ হয়ে পড়লেও গত এক মাসে তিনটি বৃহদাকার সেগুন গাছ পাচারের ঘটনা ঘটেছে। অব্যাহত গাছ পাচারের ফলে হুমকিতে পড়েছে উদ্যানের বন্যপ্রাণি ও জীববৈচিত্র্য।
জানা যায়, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের গাড়িভাঙ্গা এলাকা থেকে গত গত এক মাসে তিনটি বৃহদাকার সেগুন সেগুন গাছ কেটে পাচার করেছে দুবৃত্তরা। ওই স্থানে কালের স্বাক্ষী হয়ে আছে গাছের গুড়ি। রাতের আঁধারে সিন্ডিকেট গাছ চোর চক্র বিভিন্ন সময়ে উদ্যান ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে গাছ কেটে পাচার করলেও বন বিভাগরে কর্মকর্তাদের ব্যাপক তৎপরতার কারনে গত কয়েক মাসে গাছ চুরি হ্রাস পায়। বন্যপ্রাণি ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় সহকারী বন কর্মকর্তা মো. তবিবুর রহমান প্রায় দেড় মাস পূর্বে বদলী হওয়ার পর থেকে সম্প্রতি সময়ে গাছ চুরি বৃদ্ধি পেয়েছে। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে গাছ পাচারের ফলে লাউয়াছড়া উদ্যান অনেকটাই ফাঁকা হয়ে গেছে। ফলে বিরল প্রজাতির বন্যপ্রাণি সহ উদ্যানে অবস্থানরত প্রাণির বাসস্থান সংকট প্রকট হচ্ছে। খাবার ও আবাসস্থল সংকটে হুমকির মুখে পড়েছে প্রাণি।
খাসিয়া সম্প্রদায়সহ স্থানীয়দের মতে, ১৯৯৬ সালে জাতীয় উদ্যান ঘোষণার পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বনের প্রায় ত্রিশ শতাংশ গাছ পাচার হয়েছে। ফলে কমেছে বনের ঘনত্ব। এখন গাছ পাচারকারীদের জন্য উদ্যানটি রীতিমতো হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে।
গাছ পাচার বিষয়ে বন্যপ্রাণি ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সিলেট বিভাগীয় সহকারী বনকর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান বলেন, পাচার হওয়া গাছের খন্ডাংশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ ব্যাপারে মামলা দায়ের করা হচ্ছে।
বন্যপ্রাণি ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সিলেট বিভাগীয় বনকর্মকর্তা মো. মোহিত চৌধুরী বলেন, আজ মঙ্গলবার আমি মাত্র যোগদান করেছি। তবে গাছ চুরির বিষয়টি শুনতে পেয়েছি। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

কমলগঞ্জে নির্যাতিত কলেজ ছাত্রীকে দীপাকে সাহস যোগালেন ইউএনও, ওসি, ও জনপ্রতিনিধিরা

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

666

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে বখাটেদের হাতে নির্যাতিত আহত মৌলভীবাজার সরকারী মহিলা কলেজের অনার্সে অধ্যয়নত ছাত্রী, পিতা, ভাই-বোনহীন দিপা চন্দকে সাহস যোগাতে গ্রামের বাড়িতে ছুটে যান কমলগঞ্জের ইউএনও, থানার ওসি, পৌর মেয়র, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান। গত সোমবার সন্ধ্যায় কমলগঞ্জের রহিমপুর ইউনিয়নের দেবীপুর গ্রামে আহত দীপাকে সাহস যোগাতে ছুটে যান কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মাহমুদুল হক, কমলগঞ্জ থানার ওসি মোঃ মোকতাদির হোসেন পিপিএম, কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো: জুয়েল আহমেদ, রহিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইফতেখার আহমেদ বদরুল। এ সময় কলেজ ছাত্রী দীপার শারিরিক অবস্থায় খোজ খবর নেন তারা।
কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে চলন্ত সিএনজি অটোরিক্সায় বখাটেদের শ্লীলতাহানির চেষ্টার প্রতিবাদে নিজের মান সম্মান বাচাঁতে সিএনজি হতে লাফ দিয়ে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে ফিরে আসে গ্রামের বাড়িতে। দুই বখাটের কারণে আজ সে হতাশ ও ভয়ে কম্পিত। জীবনটা বিভীষিকা মনে হচ্ছে তার কাছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মাহমুদুল হক মেয়েটিকে বলেন, তোমার কোন ভয় নেই, তোমার পাশে আমরা সবাই আছি। দোষীরা ইতিমধ্যে গ্রেফতার হয়েছে। কোন আপাষ নেই অন্যায়ের সাথে। সে দিনের ঘটনা মনে করবে জীবনে বিচ্ছিন্ন একটা ঘটনা। এ সময় ছাত্রী দীপার চোখ দিয়ে জল পড়ছিল। অভিভাবকরাও খুশি প্রশাসনের ভূমিকায়। মেয়েটির চিকিৎসার জন্য কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ও কমলগঞ্জ প্রেসকাব আহবায়ক মো: জুয়েল আহমেদ নগদ ৫ হাজার টাকা আথির্ক অনুদান প্রদান করেন।

কমলগঞ্জের গৃহবধূ মেধাবী কলেজ ছাত্রী তান্নি হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

02

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার গোপাল নগর রেল ক্রসিং এলাকায় মৌলভীবাজার সরকারী মহিলা কলেজের অনার্স ৪র্থ বর্ষের মেধাবী ছাত্রী ও পতনঊষার গ্রামের ৫ মাসের অন্ত:স্বত্তা গৃহবধু তাসকিরা হক তান্নি (২২)-কে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে রেললাইনে ফেলে দেওয়ার অভিযোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় কুলাউড়ার কানিহাটি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর আয়োজনে স্থানীয় পাইকপাড়া বাজারে এবং সকাল সাড়ে ১১টায় নয়াবাজার কেসি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর আয়োজনে, দুপুর পৌনে ১২টায় পাবই রেলগেইট এলাকায়, ও দুপুর ১২টায় কমলগঞ্জের সরিষতলা বাজাওে এলাকাবাসীর আয়োজনে পৃথক পৃথক মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা হয়েছে। মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা শেষে অবিলম্বে তান্নি হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবী জানানো হয়। অন্যথায় কঠোর আন্দোলন কর্মসুচীর হুমকি প্রদান করা হয়।
কানিহাটি উচ্চ বিদ্যালয়ে মানববন্ধন কর্মসুচীতে অংশ গ্রহন করে আব্দুল আহাদের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদ আলী, কানিহাটি উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ফজল উদ্দিন আহমদ, হাজীপুর ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি এম এ মুহিত, হারুনুর রসিদ, নিহত কলেজ ছাত্রীর ভাই আজিজুল হক তামিম প্রমুখ।
নয়াবাজার কেসি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে মানববন্ধন কর্মসুচীতে অংশ করে বক্তব্য রাখেন, হাজীপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাংবাদিক আব্দুল বাছিত বাচ্ছু, সাবেক চেয়ারম্যান মাহমুদ আলী, সমাজসেবক রেজাউর রহমান চৌধুরী, কলেজ গভর্ণিং বডির সভাপতি সমুজ আলী, অধ্যক্ষ প্রভাত চন্দ্র শর্ম্মা প্রমুখ।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন কে সামনে রেখে চা শিল্পাঞ্চলে শুরু হয়ে গেছে গণ সংযোগ আর প্রচারনা

500x350_a36524d449fcaa3fd21ab71b5927d754_30

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট
সম্ভাব্য চলতি বছরের ১৩ মে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছে শ্রম অধিদপ্তর। ১৮ এপ্রিল তফসিল ঘোষণা করা হবে। ইতিমধ্যেই প্যানেলওয়ারী নির্বাচনী গণ সংযোগ আর প্রচারনায় চা বাগানগুলিতে ব্যস্ত আছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ত্রি-বার্ষিক নির্বাচনের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে গত বছর ১০ আগষ্ট।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দেশ স্বাধীনের দীর্ঘ ৩৬ বছর রাজেন্দ্র প্রসাদ বুনার্জিও নেতৃত্বে এ সংঘটন পরিচালিত হওয়ার পর সংগ্রাম পরিষদ নামে সাধারন চা শ্রমকিরা আন্দোলন পরিচালনার ফলে প্রথমবার গণতান্ত্রীক উপায়ে এ সংগঠনের পঞ্চাযেত ও ভ্যালি (আঞ্চলিক) কমিটি নির্বাচন করেছিল। দুই ভাগে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে প্রথমে ২৬ অক্টোবর প্রধান ও ফাঁড়ি চা বাগান মিলিয়ে ২৩০টি চা বাগানে পঞ্চাযেত কমিটির নির্বাচন হয়। পরে ২ নভেম্বর পঞ্চায়েত কমিটির নির্বাচিত প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কিমিটি নির্বাচন করেন। শ্রম অধিদপ্তরের পরিচালনায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় এ নির্বাাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। নির্বাচনে সভাপতি মাখন লাল কর্মকার ও সাধারন সম্পাদক রাম ভজন কৈরীর নেতৃত্বে চা শ্রমিক সংগ্রাম কমিটির প্যানেল নির্বাচিত হয়।
নির্বাচিত কমিটি ও সাধারন চা শ্রমিকদের সিদ্ধান্তে ও দাবির প্রেক্ষিতে ১০ আগষ্ট ২০১৪ সালে দ্বিতীয়বার ২৩০ টি চা বাগানের ৯৫ হাজারের অধিক নিবন্ধিত চা শ্রমিকরা গণতান্ত্রীক উপায়ে ভোট প্রদান করে আবারও মাখন লাল কর্মকার ও রামভজন কৈরীর প্যানেলকে নির্বাচিত করে।
২০১৭ সালের ১০ আগষ্ট আবার নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও বাংলাদেশ শ্রম অধিদপ্তর এ নির্বাচনের কোন উদ্যোগ গ্রহন না করায় প্রায় ৭ মাস অতিবাহিত হয়ে যায়। এ অবস্থায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচিত সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের  নেতৃত্বে শ্রম মন্ত্রীসহ শ্রম অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট বিভাগে নিয়মিত তাগাদা দিয়ে আসছিলেন। অবশেষে গত ২০ মার্চ শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অতিরিক্ত সচিব শিবনাথ রায়ের স্বাক্ষরিক একটি প্রজ্ঞাপনে আগামী ১৩ মে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ত্রি-বার্ষিক নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারন করা হয়। এ প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ১৮ এপ্রিল নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হবে। নির্বাচনী প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকে বিজয় প্রসাদ বুনার্জির নেতৃত্বে ও মাখন লাল কর্মকারের নেতৃত্বে দুটি প্যানেলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন চা বাগান ঘুরে গণ সংযোগ করেও প্রচানরাও শুরু করেছেন।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক রাম ভজন কৈরী এ প্রতিনিধিকে বলেন, নিয়ম অনুযায়ী গত বছর ১০ আগষ্ট নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা ছিল। নির্বাচনটি পরিচালিত হয় শ্রম অধিদপ্তরের মাধ্যমে। শ্রম অধিদদপ্তর কি কারণে সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও নির্বাচন অনুষ্ঠান করেননি সেটি উনারাই বলতে পারবেন। এ বিষয়ে গত কয়েক মাস ধরে দফায় দফায় শ্রমমন্ত্রী থেকে শুরু করে শ্রম অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট বিভাগে যোগাযোগ করে তাগাদা দিয়েছেন বলেও জানান।
খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কার্যকরি পরিষদের নির্বাচন বিষয়ে গত বছর ৫ নভেম্বর শ্রীমঙ্গলস্থ  শ্রম অধিদপ্তরের কার্যালয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় সভাপতিত্ব করেছিলেন চট্রগ্রাম ও সিলেট বিভাগের যুগ্ম শ্রম পরিচালক গিয়াস উদ্দীন নিজেই। এ সভার কার্যবিবরণীতে দেখা যায় প্যানেল পদ্ধতিতে নির্বাচন না করে প্রতি পদে একক প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করার প্রস্তাব করেছিলেন। চা শ্রমিক নারী নেত্রী গীতা রানী কানু  শুধুমাত্র পতি চা বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির নির্বাচিত সভাপতিরাই ভোট প্রদান করে কেন্দ্রীয় কমিটি নির্বাচন করবে। আর চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক রাম ভজন কৈরী প্রস্বাত করে বলেন, গণতান্ত্রীক উপায়ে ২০০৮ সালে প্রথমবার গণতান্ত্রীক উপায়ে দুই ভাগে পঞ্চায়েত কমিটি, ভ্যালি কমিটি ও কেন্দ্রীয় কমিটি নির্বাহিত হয়েছে। আর ২০১৪ সালে সাধারন চা শ্রমিকরা সাতটি ভ্যালিতে একযোগে নিজেরা ভোট প্রদান করে কেন্দ্রীয় কমিটি নির্বাচিত করেছে। এখন যদি সাধারন চা শ্রমিকরা ভেঅট প্রদান না করে তা হলে তাদের মৌলিক অধিকার ক্ষুন্ন হবে। তাই তিনি মনে করেন ২০১৪ সালের নিয়মেই চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভোট হওয়া উচিত।