সদ্য সংবাদ

বিভাগ: কমলগঞ্জ

কমলগঞ্জ মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে সন্ত্রাস ও জঙ্গী বিরোধী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট :

14224840_940456959399387_3863258093595766914_n 14224840_940456959399387_3863258093595766914_n-1

সন্ত্রাস ও জঙ্গী বিরোধী আলোচনা সভা শনিবার কমলগঞ্জ  বহুমুখী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে  প্রধান শিক্ষক রনেন্দ্র কুমার দেবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। অলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন-কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব অধ্যাপক রফিকুর রহমান, বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্হিত ছিলেন-আলীনগর ইউ,পি চেয়ারম্যান ফজলুল হক বাদশা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সুপারভাইজার মৌসুমী পাল, পৌর কাউন্সিলর মোঃ আনোয়ার হোসেন,  অভিভাবক সদস্য আব্দুল হান্নান, সৈয়দ খুরশেদ আলী,  অভিভাবক আনোয়ার হোসেন, সহ-প্রধান শিক্ষক  তাজ উদ্দিন, সহ শিক্ষক কৃষ্ণ কুমার সিংহ, অঞ্জনা পাল, শিক্ষার্থী প্রমিত সরকার প্রমুখ।

উপস্থিত ছিলেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও সুধীজন।

কমলগঞ্জে সূচনার অবহিবকরন সভা

কমলগঞ্জের মাধবপুরে শ্রেণি কক্ষের অভাবে বিদ্যালয়ের বারান্দায় চলছে পাঠদান

14159894_937021609742922_866634358_n
আসহাবুর ইসলাম শাওন :
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টিতে  শ্রেণিকক্ষের তীব্র সংকট। নেই প্রয়োজনীয় বেঞ্চ। তাই বাধ্য হয়ে বিদ্যালয়ের বারান্দায় পাঠদান দেয়া হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। বিদ্যালয়টির ধারণক্ষমতা ৭শত হলে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১২৯৯ জন। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ধারণ ক্ষমতার বেশি থাকায় পাঠদানে ব্যাঘাত ঘটছে। অনেক সময় ক্লাসে গাদাগাদির করে বসার কারনে অসুস্থ্য হয়ে পড়ে শিক্ষার্থীরা।
সরজমিন স্কুলে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ে ১২টি শ্রেনি কক্ষ রয়েছে। শ্রেনি কক্ষগুলো আয়তনে ছোট। শিক্ষার্থীর চেয়ে ডে´ ও বেঞ্চ কম থাকায় দাঁড়িয়ে ক্লাস করছেন। ষষ্টম, সপ্তম,অষ্টম ও দশম শ্রেণির কক্ষে ডেস্ক ও বেঞ্চ এর চেয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি থাকায় প্রতিদিন শ্রেনি কক্ষের বারান্দায় বেঞ্চে বসে পাঠ নিচ্ছে শিক্ষার্থীরা। একবার ক্লাসে ভিতরে আরেকবার বারান্দায় আসা-যাওয়ার মধ্য দিয়ে পাঠ দিচ্ছেন শিক্ষক ও শিক্ষিকারা।
শিক্ষক পরিমল সিংহ ও রমা রানী রায় জানান, বসার জায়গা না থাকায় বারান্দায়  ৭ম, ৮ম ও ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠ দেয়া হচ্ছে। আর শ্রেণিকক্ষেও গাদাগাদি করে বসতে হচ্ছে। দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী অভিষেক সিংহ বলেন, ক্লাসে বসার জায়গা হয় না। এছাড়া আমাদের স্কুলটির পাশেই দিয়ে সড়ক চলে যাওয়ায় সারাদিন গাড়ি চলাচলের প্রচণ্ড শব্দ। এ কারনে মধ্যে পড়াশুনায় আর  খেয়াল বসে না। মনোযোগ ধরে রাখা যায় না। একটি কক্ষে ৭০জনের মতো বসার জায়গা হলেও প্রতিটি শ্রেনিতে শিক্ষার্থী রয়েছেন ২০০/৪০০জন। এতে করে পাঠদান করাতে হিমশিম শিক্ষকরা। একটি বেঞ্চে নিয়মমতো ৩জন হলেও  এ বিদ্যালয়ের প্রতিটি শ্রেণি কক্ষে বেঞ্চে  বসতে হয় ৭জন শিক্ষার্থী। গাদাগাদিতে অনেকেই অসুস্থ্য হয়ে পড়ে।
শিক্ষক আব্দুল মোমিন বললেন, খোলা বারান্দায় এভাবে পাঠ দিলে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ দিতে সমস্যা হয়। অনেক সময় শিক্ষকদেরও একাগ্রতা নষ্ট হয়। প্রধান শিক্ষক আব্দুস সোবহান বলেন, ‘প্রতিদিন এক হাজারেরও বেশি ছাত্রছাত্রী বিদ্যালয়ে আসে। সব মিলিয়ে ১২টি কক্ষে আমরা তাদের বসার জায়গা করে দিতে পারি না।’  শ্রেনি কক্ষেও সংকটে আমরা অসহায়। নতুন ভবন করা হলেও কোন আসবাবপত্র দেয়া হয়নি। অত্র ইউনিয়নে একটি মাত্র বিদ্যালয় থাকায় সবাই এই বিদ্যালয়েই ভর্তি হয়ে থাকে। চা বাগান অধ্যুষিত এলাকা থাকায় তারা অন্যত্র ভর্তি হতে পারছে না। এতে আরো সমস্যা হচ্ছে।
জানা গেছে, ১৯৬৫ সালে  বাঁশের তৈরি একটি ঘরে বিদ্যালয়ের শিক্ষাকার্যক্রম শুরু হয়। ২টি দ্বিতল ভবন ও একটি টিনশেডের সেমিপাকা ঘর রয়েছে। এমপিওভুক্ত শিক্ষক আছেন ৯ জন, খণ্ডকালীন শিক্ষক আরও  ৪ জন।
কমলগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, স্থানীয় উপজেলা পরিষদ হতে কিছু জোড়া বেঞ্চ দেয়া হয়েছে। কিন্তু স্কুলে বেঞ্চ বসানোর স্থানও নেই।

কমলগঞ্জে পুতুল তৈরী করে নারীরা স্বাবলম্বী

মো. মোস্তাফিজুর রহমান :

nari
সূচিশিল্প বাঙ্গালী নারীর মর্যাদার প্রতীক। আদিকাল থেকেই বাঙ্গালী ললনারা সূঁই সুতো দিয়ে শিল্পকর্ম তৈরি করে আসছেন। আগে যা ছিল শুধুমাত্র শখ এখন তা হয়ে দাঁড়িয়েছে জীবন জীবিকার অবলম্বন।
কমলগঞ্জে ক্রেল এর সহযোগীতায়  ৩৫ জন নারী এখন সংসারের কাজের ফাঁকে হাতের কাজ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। সুচের ফোঁড়ায় ফোঁড়ায় নিপুন হাতে তৈরি করছেন পুতুল, অক্টোপাস, হাতি,কটবয়সহ বিভিন্ন সামগ্রী। কেউ বা সংসারের কাজের ফাঁকে আর কেউ বা লেখাপড়ার পাশাপাশি এই কাজ করে বাড়তি আয় করছেন। নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে ইউএসএইড‘র ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ইকোসিস্টেমস এন্ড লাইভলিহুর্ডস(ক্রেল) নামক সংস্থাটি। ঢাকার হাতে বুনন প্রশিক্ষকন কেন্দ্র মাধ্যমে ক্রেল এই ৩৫জন নারীকে ২ মাসের প্রশিক্ষন প্রদান করে। প্রশিক্ষনের পর  ঢাকার বুনন প্রশিক্ষন কেন্দ্র বিভিন্ন প্রকার কাপড়ের খেলনা অর্ডার দিয়ে থাকে। তারা নির্ধারিত করে কয়টি সামগ্রী বানাতে হবে। সে অনুয়ায়ী নারীরা কাপড়ের সামগ্রী তৈরী করে দেন।
কমলগঞ্জ উপজেলা সদর উপজেলার রাজটিলা, বনগাঁও গ্রামের ৩৫জন নারী এখন হাতের কাজ করে বাড়তি আয় করছেন। কাপড় জোরো করে বিভিন্ন খেলনার সামগ্রী তৈরী করে সংসারের অভাব ঘোচানোর পাশাপাশি স্বাবলম্বী হচ্ছেন এইসব নারীরা। সাংসারিক কাজ করেও ফাঁকে ফাঁকে এই কাজ করছেন তারা। শুধু তাই নয়, অভাবী সংসারে জন্ম নেয়া অনেক শিক্ষার্থী অর্থাভাবে লেখাপড়া করতে পারছেন না বা যাদের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে তারাও যুক্ত হয়েছে এই কাজের সাথে। আবার স্বামীহারা অনেক নারীর থেমে যাওয়া সংসারের চাকা ঘোরাতে তারাও নেমে পড়েছেন এই কাজে।  কথা হয় রাজটিলা গ্রামের  রুহেনা আক্তারের সাথে। তিনি জানান, ক্রেল এর সহযোগীতায় তিনি এখন স্বাবলম্বী। ২মাসের ট্রেনিং গ্রহন করে এই সুচির কাজ শিখেছেন। মাত্র ৩/৪ দিনে একটি খেলনা তৈরী করে মাস শেষে ১৭০০ টাকা আয় করেন। ধীরে ধীরে শুরু হয় পথ চলা। ঐ গ্রামের রুবিণা বেগম সে হাই স্কুলে ৮ম শ্রেণীতে পড়ে। সংসারে অভাব থাকায় লেখাপড়ার বাড়তে আয়ের এ কাজে যুক্ত হয়েছেন। বনগাঁও গ্রামের ফুলজান বেগম বলেন, তারা এক সাথে ১৫জন কাজ করেন। ঢাকার বুনন প্রশিক্ষক কেন্দ্র তাদেরকে সুতা ও কাপড় যোগান দেন। তারা শুধুমাত্র খেলনাগুলো তৈরী করেন। তাদের তৈরীকৃত স্বপীচগুলো চলে যায় ঢাকায়। মাসে ৯ টি চালান সরবরাহ করেন। কাজ শেষে মাসে ১৭শত টাকা করে জনপ্রতি পেয়ে থাকেন। এভাবে নারীরা স্বাবলম্বী হচ্ছেন।

কমলকুঁড়ি পত্রিকার পাঠক ফোরাম “সুধীজন” আহবায়ক কমিটি গঠন

14079797_625896217588795_5292958464152191154_n

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট :

কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডে সুধীজন গঠন উপলক্ষে সোমবার (২৯আগস্ট) সকাল ১১টায় ধর্মপুর উম্মাহাতুল মু’মিনীন মহিলা (বালক-বালিকা)মাদ্রাসার অফিস কক্ষে মাও:আব্দুর রহমান তফাদার এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।  সাংবাদিক আব্দুল বাছিত খানের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন কমলকুঁড়ি পত্রিকার সম্পাদক পিন্টু দেবনাথ. মাও:লুৎফুর রহমান জাকারিয়া তফাদার. মাও:মাশহুদ আহমদ প্রমুখ। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে  আমিনুল ইসলাম হিমেলকে আহবায়ক. লুৎফুর রহমান বাবরকে সদস্য সচিব করে ৭সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন ইজ্জাদুর রহমান, মাও : মিনহাজুর রহমান, হাসান আহমদ, নাহিদুল সলাম, মেহেদী হাসান রাব্বী

মিরতিংগা চা বাগানে কমলকুঁড়ি পত্রিকার পাঠক “সুধীজন” গঠন

14141670_625885730923177_6073587397191540218_n

মানিক পাল, মিরতিংগা থেকে :
কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের মিরতিংগা চা বাগানে সোমবার (২৯ আাগষ্ট) দুপুরে কমলকুঁড়ি পত্রিকার পাঠক সংগঠন “সুধীজন” গঠন উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। কমলকুঁড়ি পত্রিকার সম্পাদক পিন্টু দেবনাথ এর সভাপতিত্বে  আলোচনা অংশগ্রহণ করেন কমলগঞ্জ অনলাইন প্রেসক্লাব এর সহসভাপতি আব্দুল বাছিত খান, কমলগঞ্জ বার্তা প্রতিনিধি আমিনুল ইসলাম হিমেল। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে স্থানীয় ইউপি সদস্য ধনা বাউরীকে আহবায়ক ও মুক্তিযোদ্ধা কুল চন্দ্র তাঁতীতে সদস্য সচিব করেন ২৭ সদস্য বিশিষ্ট সুধীজন আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি অন্যান্য সদস্যরা হলেন নিরঞ্জন তন্ত্র, রীতা পাইনকা, সুনারাইন কূর্মী, সিরাজুল ইসলাম, নিতাই তাঁতী, বিকাশ তাঁতী, হান্নান মিয়া, মাবুদ আলী, সাতলাল উরাং, মাসুক মিয়া, ইমরান নাজির, নেবুলাল বাউরী, মুহিত মিয়া, মিন্টু বাড়াইক, দিলীপ ঘোষ, কান্তি বাড়াইক, পুরেন বৈধ্য, সিরাজুল ইসলাম (জব্বার), নরেন্দ্র সাওতাল, কার্ত্তিক উরাং, নরোত্তম বর্ধন, প্রেমকুমার পাল, আকাশ বাউরী, নয়ন ঘোষ, ছত্তার মিয়া।

কমলগঞ্জে নারী চোর চক্রের ৭ সদস্য আটক

আসহাবুর ইসলাম শাওন :

nari

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার জন্মাষ্টমীর পূঁজায় নারী চোর চক্র পার্টির সাত সদস্যকে আটক করা হয়েছে। কমলগঞ্জ থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের পাত্রখোলা চা বাগানে গত ২৫ আগষ্ট  শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী  উপলক্ষে নাম কীর্তন সহ বিশেষ অনুষ্টানের আয়োজন করা হয়। জন্মাষ্টমীর অনুষ্টানে বিভিন্ন  স্থান হতে হাজার হাজার দর্শনার্থীর উপস্থিতি ঘটে।এই সুযোগকে কাজে লাগাতে  ৮/৯ জনের একদল মহিলা চোর যাদের বাড়ী বিবাড়ীয়ার নাছিরনগর উপজেলার ধর্মেন্ড গ্রামের আলী নেওয়াজের স্ত্রী রহিমা বেগম (৪৫) আং মন্নানের স্ত্রী পারভীন আক্তার (৩৬) আলীরাজের স্ত্রী নাহার বেগম (২৫) আলী আহমদের স্ত্রী জাহানারা বেগম (৩০) মারুফ মিয়ার স্ত্রী মিলন বেগম (২৫) ফুরুক আলীর স্ত্রী বিলকিছ বেগম (২৭) জমসেদ আলীর স্ত্রী মাসুমা বেগম (৩৮) গত ২৭  আগষ্ট শনিবার সন্ধ্যা সাত টায় একজন দর্শনার্থীর গলার এক বড়ি ওজনের স্বর্নের চেইন টান দিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় ঐ মেয়ের সাথে থাকা বাকি ৭ জনকে স্হানীয় জনতা আটক করে টহলরত পুলিশের হাতে সোপর্দ করে।এই চক্রটি সনাতন ধর্মীদের বিভিন্ন অনুষ্টানে শাঁখা সিঁদুর পরে সাধারন দর্শনার্থীদের মাঝে মিশে এই অপকর্ম করে থাকে।এর আগেও গত রাস পূর্নিমায় নাসির নগর উপজেলার এই চক্রের ১০ জন মহিলাকে স্বর্নের চেইন চুরি করার সময় স্হানীয় জনতা আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিলো। এবারো যারা ধরা পড়েছে, তাদের মধ্যে আগের কয়জন মহিলাকে চিহ্নিত করা গেছে।
এ বিষয়ে কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ বদরুল হাসান সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এই চক্রটি কোন বড় অনুষ্টান হলেই সংঘবদ্ধ হয়ে চুরি করে থাকে।তদন্ত ক্রমে তাদের বিহিত ব্যবস্হা গ্রহন করা হবে।

চা বাগানে মাতৃ মৃত্যু ও শিশু মৃত্যু প্রতিরোধে ( CIPRB)

 

মানিক পাল :

images-1

কমলগঞ্জ উপজেলার ১ নং রহিম পুর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড মিরতিংগা চা- বাগানে কিশোর কিশোরী ও সক্ষম দম্পতির সাস্থ্য সেবার মাধ্যমে মাতৃ মৃত্যু ও শিশু মৃত্যু প্রতিরোধে কাজ করছে (CIPRB)।

Centre for Injury Prevention and Research Bangladesh ” বাগান মায়ের জন্য ” প্রকল্পে UNFPA এর আর্থিক সহযোগিতায় স্বাস্থ্য সেবা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে কাজ করছে ৭ জন বাগান সেবিকা এবং একজন প্রজনন স্বাস্থ্য সেবি এবং প্রোগ্রাম সুচারুভাবে পরিচালনার জন্য নিযুক্ত আছেন প্রোগ্রাম সমন্বয়কারী মি. সুভাষ চন্দ্র বর্মন। একজন গর্ভবতী মায়ের জন্য ফ্রি তে ৩০০ আয়রন ১২০ টি ক্যালসিয়াম ৬০ টি মাল্টিভিটামিন টেবলেট এবং নিরাপদ প্রসবের জন্য একটি ডেলিভারি কীট দেওয়া হয়। এছাড়া ডেলিভারি কালিন জটিলটা দেখা দিলে হাসপালের পরিবহন খরচ এবং প্রাথমিক ঔষধ খরচ বহন করছে। মিরতিংগা চা- বাগানে CIPRB এর “বাগান মায়ের জন্য” প্রকল্প আশার আলো জ্বালিয়েছে এবং সৃষ্টি করেছে অনেক কর্মসংস্থান।

কমলগঞ্জে বনদস্যু আটক

 কমলকুঁড়ি রিপোর্ট :

images
কমলগঞ্জের চিহ্নিত এক বনদস্যু একাধিক মামলার আসামী কাঠ পাচারকালে আটক করা হয়েছে।  বুধবার বনবিভাগ তাকে আটক করে।
জানা যায়, কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের বটতলা গ্রামের সহিদ মিয়া দীর্ঘ দিন ধরে লাউয়াছড়া বন থেকে সেগুন গাছ কেটে পাচার করতো। বুধবার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের প্রায় অর্ধলক্ষাধিক টাকা মূল্যের ৫৫ ঘনফুট চাপালিশ কাঠ পাঁচার কালে এসিএফের নেতৃত্বে কাঠ বোঝাই টাটা পিকাপ ও সিএনজি সহ সহিদ মিয়াকে আটক করে কোর্টে সোপর্দ করেছে বনবিভাগ। সহিদের বিরুদ্ধে ১০ থেকে ১২ টি ফরেস্ট মামলা রয়েছে।

উল্লেখ্য মামলা থাকাকালীন অবস্থায় নিজেকে বাঁচাতে স্থানীয় এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যানসহ আওয়ামীলীগের নেতাদের ছবিসহ বড় বিল বোড টাঙ্গিয়ে শুভেচ্ছা দিয়েছে।

মৌলভীবাজারের শিক্ষিকা অঞ্জনার আবিষ্কার সহজে পড়া মনে রাখার শতাধিক কৌশল

34775 mri nu i

বিশ্বজিৎ রায় ::

আনুপাতিক হারে লেখাপড়ায় যারা দূর্বল যাদের মুখস্তবিদ্যা কম কিংবা যাদের প্রাইভেট পড়ার সামর্থ্য নেই মৌলভীবাজারের বাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষিকা তাদের জন্য আবিস্কার করেছেন শতাধিক টেকনিক। কোনটা ছড়া দিয়ে, কোনটা খেলার ছলে, কোনটা মজার বাক্যে, আবার কোনটা সুত্র হিসেবে। বর্তমানে তিনি এই টেকনিকগুলো নিজের ক্লাসের ছাত্রদের শিখিয়ে দিচ্ছেন। তবে এই টেকনিকগুলো সকল ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হলে প্রয়োজন সরকারের সহায়তায় এগুলো পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা।

একটি ছড়ার মাধ্যমে ৭টি মহাদেশের নাম, অনেক গুলো মাছের নাম, সব গুলো মৌলিক সংখ্যা, ৭টি বাক্যে দেশের ৬৪টি জেলার নাম, ভাজ্য ভাজক, ইংরেজী প্রশ্নের উত্তর কিভাবে তৈরী করতে হয়, জ্যামিতি ও ত্রিকোনমিতিসহ বিভিন্ন বিষয়ের প্রায় শতাধিক টেকনিক আবিস্কার করেছেন অঞ্জনা ঘোষ।
অঞ্জনা ঘোষ মাছের নাম মনে রাখার জন্য লিখেছেন মাছের ছড়া- টেংরা পুটি চিংড়ি ছড়ি চিতল,কাতল,রুই ইলিশ বোয়াল ফাইসা কই, মাগুর, সিং।

মৌলিক সংখ্যা- ও যৌগিক সংখ্যা- ৯ যুক্ত ৯টি সংখ্যার মধ্যে ৪টি সংখ্যা মৌলিক নয়। যা তিনি শিখিয়েছেন ছড়ার মাধ্যমে। ৩৯,৪৯,৬৯, ও ৯৯- এ গুলোর গুননিয়ক আছে। এরা যৌগিক। ছড়ার ভাষায়- তিন নয়, চার নয়, ছয় নয়, নয় নয় এরা মৌলিক নয় এরা মৌলিক নয়, চারটি সংখ্যা মৌলিক নয় যৌগিক হয় এরা যৌগিক হয়। দুই তিন পাঁচ সাত, এগার তের, সতের, তেইশ একত্রিশ, সাতত্রিশ, একচল্লিশ ও তেতাল্লিশ । সাতচল্লিশ তিপ্পান্ন আরও আছে সাতান্ন । একষট্টি, সাতষট্টি, একাত্তর ও তেয়াত্তর আরও আছে তিরাশী আর সাতানব্বই ।

একটি বাক্যের মাধ্যমে ৮টি বিভাগের নাম- “ঢাকার খুচরা বিক্রেতা বসির মিয়া” (ঢাকার)- ঢাকা, (খুচরা) খুলনা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী (বসির) বরিশাল, সিলেট, রংপুর (মিয়া) ময়মনসিংহ।

একবাক্যে ৭টি মহাদেশের নাম- “অজগর ঐ আসছে তেরে- একে একে মিলে এক ঝাঁক পাখি দল বেঁধে উড়ে”- অষ্ট্রেলিয়া, আফরিকা, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, এশিয়া,এন্টারর্কটিকা ও দক্ষিন আমেরিকা।
ধারাবাহিক ভাবে ৭টি বড় শহরের নাম- ঢাকায় চটপটি খেয়ে সিলেট গেলো রাজা। ঢাকা, চট্টগ্রাম,খুলনা,সিলেট ও রাজশাহী।

সরল অংকের ধারাবাহিকতা- সরল অংকের জন্য এই সুত্রটি মনে রাখতে পারলে সরল অংকে ভুল হবে না। সুত্রটি হলো- সকালে বন এ ভাল্লুুক গুলো যোগাযোগ বিনিময় করে ( সমস্ত, বন্দনী, এর, ভাগ, গুণ, যোগ ও বিয়োগ)

প্রশ্নে যদি (who,what,where,when, how, howmuch, howmaû & why) হেুা, হয়াট, হয়ার, হয়েন, হাও, হাওমাচ, হাওমেনি ও হওয়াই থাকে তাহলে বুঝতে হবে এগুলো প্রশ্ন। প্রশ্নে যদি ডিড থাকে তাহেল বুঝতে হবে এটি ফাস্ট টেন্স। প্রশ্নে যদি ডাজ থাকে তাহলে মুল ভার্বের সাথে (ং বা বং) এস বা ইএস যোগ হয়। এভাবে তিনি অনেক গুলো ইংরেজী শিখার টেকনিক বের করে ছাত্রদের শিখাচ্ছেন। তিনি সহজ পদ্দতিতে শিখিয়েছেন ভাজ্য ভাগফল ভাজক, শিখিয়েছেন মুনাফা ও ঐকিক নিয়মের অংক। জ্যামিতি ও ত্রিকনোমিতির বেশ কয়েকটি সুত্র। যা ছাত্রদের জন্য বয়ে সুফল।

তিনি আবিস্কার করেছেন এক সুত্রে বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার নাম । সূত্র: মা ভোলা রাজ ফেনি-কুমিল্লা ঢাকা লাল। (১) মামামু নাকি গো ফনটা সুনে বলতে পারবে সিরাজকে :- মাদারিপুর, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, নরাইল, টাঙ্গাইল, সুমানগঞ্জ, নেত্রকোণা, বগুড়া, পাবনা, সিরাজগঞ্জ। (২) ভোলা, দিনা, চাপা, চুয়া নওয়া মৌলভী কুষ্টি করে:- ভোলা, দিনাজপুর, নাটোর, চাপাইনবাবগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা, নওগাঁ, মৌলভীবাজার, কুষ্টিয়া, কক্সবাজার। (৩) রাজ, লক্ষ্মী, চাঁদ, গাজী, জামাল শরিশের মেহের জয়:- রাজবাড়ি, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, গাজিপুর, জামালপুর, শরিয়তপুর, শেরপুর, মেহেরপুর, জয়পুর। (৪) ফেনীর যশো ঝিনাই রাঙ্গা খাগড়া নোয়া বাগে:-ফেনী, যশোর, ঝিনাইদহ, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী, বাগেরহাট। (৫) কুমিল্লার কুড়িয়া বাহাদুর ব্রাহ্মণ ঠাকুর পঞ্চ গাইয়ের সাত লিটার দুধ হবে:- কুমিল্লা, কুড়িগ্রাম, বান্দরবান, ব্রাহ্মণ বাড়িয়া, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, গাইবান্ধা, সাতক্ষীরা, হবিগঞ্জ। (৬) ঢাকার খুচরা বিক্রেতা বসির মিয়া :- ঢাকা, খুলনা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট, রংপুর, ময়মনসিংহ। (৭) লাল নীল পিয়াজ পটল বর মাগুর ঝাল নয়:- লালমনিরহাট, নীলফামারী, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, বরগুনা, মাগুরা, ঝালকাঠি, নরসিংদি।
অঞ্জনা ঘোষ জানান, বাংলা ইংরেজী, অংক, ভূগল, সমাজ বিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ে এভাবে তিনি শতাধিক

কৌশল বের করে তার ক্লাস ছাত্রদের শিখিয়ে দিয়েছেন।
এদিকে অঞ্জনা ঘোষের এই বিশেষ ফরমুলার পাঠ দানে খুশি তার ক্লাসের ছাত্রছাত্রীরাও। তারা জানায়, মেডামের এই কৌশলে ছড়ার মাধ্যমে ও খেলার মাধ্যমে সহজেই তারা অনেক কিছু শিখতে পেরেছে যা তাদের পরীক্ষায়ও কাজে লেগেছে।

আর মৌলভীবাজার সরকারী প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও বাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রেহেনা আক্তার এ প্রতিবেদককে জানান, তার বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা অঞ্জনার এ আবিস্কার নিঃসন্দেহে ধন্যবাদ পাওয়ার দাবীদার। অঞ্জনার এই আবিস্কার সারা দেশের সকল ছাত্রদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে প্রয়োজন সরকারের শিক্ষা বিভাগের হস্তক্ষেপ।
অঞ্জনা ঘোষ জানান, তার এ আবিস্কৃত কৌশল যদি সরকারের শিক্ষা বিভাগ নিতে চান তা হলে তিনি তা দিতে প্রস্তুুত।

অঞ্জনা ঘোষ শ্রীমঙ্গল শহরতলী সন্ধানী আবাসিক এলাকার পংকজ কুমার দত্তের স্ত্রী। বর্তমানে তিনি মৌলভীবাজারে স্বামী নিয়ে বসবাস করছেন। তার একমাত্র মেয়ে পিয়াংকা দত্ত মৌ স্বামী এডভোকেট প্রিতম দত্ত সজীবের সাথে মৌলভীবাজারেই বসবাস করছে এবং এলএলবি পড়ছে। তবে শিক্ষিকা অঞ্জনা ঘোষ জানান, তার প্রস্ফুটিত জীবনের জন্য তিনি তার স্কুল জীবনের শিক্ষক ফরেস্টার শিব প্রসাদ ভট্টাচার্য্যরে কাছে ঋণি।