সদ্য সংবাদ

বিভাগ: কমলগঞ্জ

প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে বর্তমান সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপ

- মো. জুয়েল আহমেদ

DSC_0258
প্রাথমিক শিক্ষার বিস্তারে বর্তমান সরকারের সকল পদক্ষেপ যুগান্তকারী হিসেবে বিবেচিত। শিক্ষা বান্ধব সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিক প্রচেষ্টায় প্রাথমিক শিক্ষা স্তরে অভাবনীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে। সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা। সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগে বিদ্যালয়গামী হচ্ছে কোমলমতি শিশুরা। এতে ঝড়ে পড়ার হার দিন দিন কমছে। শিশুরা উৎসাহ নিয়ে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেশের ভবিষ্যৎ কর্ণধার হিসেবে সুনাগরিক হয়ে গড়ে উঠছে। বর্তমান সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গ্রহন করার পর শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সকল বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখায় প্রাথমিক শিক্ষার মান দিন দিন বাড়ছে।
দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সুসজ্জ্বিত প্রাক-প্রাথমিক শ্রেনী কক্ষ চালুর পাশাপাশি শিশুদের জন্য আলাদা শিক্ষক নিয়োগ করেছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়াধীন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় মনোরম পরিবেশে আনন্দ উৎসাহের সাথে খেলনার চলে যাতে শিশুরা শিক্ষা গ্রহন করতে পারে সেজন্য প্রাক-প্রাথমিক শ্রেনী কক্ষকে বিভিন্ন সাজে সজ্জ্বিত করা হয়। এতে শিশুরা নিজের মতো করে হাতে খড়ির শিক্ষা গ্রহন করছে। দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য বর্ধিত শ্রেনী কক্ষ নির্মাণের পাশাপাশি নতুন ভবন নির্মান করা হচ্ছে। এতে নিজেদের মতো করে স্বাচ্ছন্দে প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া করার সুযোগ পাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়গামী করতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে স্থানীয়দের অংশগ্রহনে ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে বিদ্যালয়গুলোতে চালু করার হয় মিড ডে মিল কার্যক্রম। যে কারনে বিদ্যালয়গুলোতে বাড়ে উপস্থিতির হার। স্থানীয়রাও সামাজিক দ্বায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আহবানে মিড ডে মিল কার্যক্রমে ভূমিকা রাখতে শুরু করেছেন। পৌর এলাকাসহ দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালু করা হয় শতভাগ উপবৃত্তি। সরকারের সাহসী এই পদক্ষেপে ঝড়ে পড়ার হার প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে। মা বাবা তাদের সন্তানদের এখন কাজে না দিয়ে বিদ্যালয়ে পাঠান। সকল বিদ্যালয়েই অনুষ্ঠিত হয় মা সমাবেশ। এতে করে মা’রা তার সন্তানের লেখাপড়ার খোঁজ খবর নেওয়া সুযোগ পাচ্ছেন। নিরাপদে লেখাপড়ার পরিবেশ সৃষ্টির জন্য রাস্তার পাশের বিদ্যালয়গুলোতে নির্মাণ করা হচ্ছে সীমানা প্রাচীর। বছরের প্রথম দিন সকল শিক্ষার্থীর হাতে একযোগে তুলে দেয়া হচ্ছে পুরোপুরি নতুন বই। যেটা এক সময় ছিল স্বপ্ন। জানুয়ারীর ১ তারিখ শিক্ষার্থীরা মেতে উঠে বই উৎসবে। বইয়ের জন্য এখন আর বছরের কয়েক মাস হেলায় হেলায় নষ্ট হয় না। শিক্ষকদের জন্য ব্যবস্থা করা হচ্ছে বিষয় ভিত্তিক প্রশিক্ষণের। আধুনিক ও মান সম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিতের জন্য শিক্ষকরা এখন পুরোপুরি প্রস্তুত।
বর্তমান সরকারের আমলেই শিক্ষকদের বেতন স্কেল বৃদ্ধি করা হয়। প্রধান শিক্ষকদের ২য় শ্রেনীর ননগেজেটেড কর্মকর্তার মর্যাদা দেয়া হয়। কোমলমতি শিশুদের মধ্য থেকে দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব সৃষ্টির অংশ হিসেবে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে চালু করা হয় ছাত্র সংসদ। বছরে এক বার শিক্ষার্থীরা উৎসাহ উদ্দীপনায় নিজেদের মধ্যে ভোটের মাধ্যমে স্টুডেন্ট কাউন্সিল প্রতিনিধি নির্বাচিত করে। এতে তাদের মধ্যে নেতৃত্বের গুনাবলী তৈরী হচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা চালুর মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ভীতি দুর করা হচ্ছে। দেশের সকল বিদ্যালয়ে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে ওয়াশ ব্লক নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে শিশুরা বিদ্যালয়ে সকল সুবিধা ভোগের সুযোগ পাচ্ছে। বিদ্যালয়গুলোতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করে শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা হচ্ছে। শিক্ষক সংকট দুর করার জন্য প্রতি বছর স্বচ্ছতার সাথে নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। স্লিপ ফান্ডের মাধ্যমে সকল বিদ্যালয়ে চাহিদামতো সরঞ্জামাদির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বর্তমান সরকারের সফল প্রধানমন্ত্রী গণতন্ত্রের মানষকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা নিজ উদ্যোগে দেশের সকল বিদ্যালয়কে সরকারী বিদ্যালয় হিসেবে ঘোষনা করেন। যে কারনে শিক্ষকরা নিজ থেকে উৎসাহিত হয়ে শিক্ষা দানে আন্তরিক ভাবে মনোনিবেশ করেছেন। শিক্ষকরা যাতে তাদের সুবিধামতো চাকুরী করার সুযোগ পায় সেই সুযোগও সরকার করে দিয়েছে। সার্বিক দিক বিবেচনায় বর্তমান সরকারের আমলে দেশে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় আমুল পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে দেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। সু-শিক্ষায় শিক্ষিত জাতি গঠনে সরকার নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। জনগন সরকারের গৃহীত সকল পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে গ্রহন করায় শিক্ষা ক্ষেত্রে বিপ্লব সাধিত হচ্ছে।
লেখক ঃ শিক্ষাদরদী, সমাজকর্মী

কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র জুয়েল আহমদ উপজেলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যোৎসাহী সমাজকর্মী নির্বাচিত

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট
Md Jwel Ahmed

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো: জুয়েল আহমদ জাতীয় শিক্ষাপদক ২০১৮-তে কমলগঞ্জ উপজেলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যোৎসাহী সমাজকর্মী নির্বাচিত হয়েছেন। গত সোমবার বিকেলে কমলগঞ্জ উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ বিদ্যোৎসাহী সমাজকর্মীসহ ৭টি বিভাগের শ্রেষ্ঠদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো:  মোশারফ হোসেন এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
উপজেলা পর্যায়ে বাছাই প্রতিযোগিতায় অপরাপর পদে যারা শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন তারা হলেন- শ্রেষ্ঠ এসএমসি তেতইগাঁও  সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (সভাপতি- ভূবন মোহন সিংহ), শ্রেষ্ঠ শিক্ষক- মো: সালাহ  উদ্দিন আহমেদ (প্রধান শিক্ষক, মুন্সিবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়), শ্রেষ্ঠ শিক্ষিকা-সালেহা মাহমুদ (প্রধান শিক্ষিকা, কুমড়াকাপন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়), শ্রেষ্ঠ কাব শিক্ষক- বিপ্লবী রানী দে (প্রধান শিক্ষক, পতনঊষার সরকারি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়), শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয়- কুমড়াকাপন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ঝড়েপড়া রোধে শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয় ধর্মপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
উল্লেখ্য, কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো: জুয়েল আহমদ কমলগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক কমলগঞ্জের কাগজ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক এবং কমলগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে আমার ভাবনা ॥ মো: জুয়েল আহমেদ ॥

Md Jwel Ahmed
প্রাথমিক শিক্ষা হচ্ছে শিক্ষার মূল ভিত্তি। প্রাথমিক শিক্ষার মাধ্যমেই শিক্ষা জীবনের যাত্রা শুরু হয়। প্রাথমিক শিক্ষায় আবার রয়েছে বিভিন্ন পর্যায়, যেমন- শিশুদের পারিবারিক প্রারম্বিক শিক্ষা, নার্সারী পর্যায়ে (কেজি স্কুল) শিক্ষা, প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা এবং প্রাথমিক শিক্ষা। আমি এখানে শুধুমাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যে শিক্ষাদান করা হয় সেই পাঠদান পদ্ধতির উন্নয়ন বা পরিবর্তন ঘটেছে তা নিয়ে আমার ভাবনা উপস্থাপন করব। শিক্ষার মৌলিক পাঠদান সেটা প্রাথমিকেই হয়। তাকে মৌলিক অক্ষর-জ্ঞানের পাশাপাশি এই সময়ে ন্যায়নীতি, সততা, আদর্শ, সমাজনীতি, চরিত্র গঠন, দেশপ্রেম সম্পর্কে জ্ঞান দেওয়া হয়। এর প্রারম্ভিক পর্ব যদিও পরিবারে, তবে প্রারম্ভিকতার ভিত্তি স্থায়ী হয় শিক্ষার প্রাথমিক স্তরে। শিক্ষককে ভক্তি-শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে তারা বড়দের ভক্তি-শ্রদ্ধা করতে শেখে।
আমাদের শিক্ষায় এখন অনেক সাফল্য। সরকারের পাশাপাশি নানা সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষা নিয়ে কাজ করে । আজকাল গ্রামাঞ্চলে পর্যন্ত বিভিন্ন  ট্রাস্ট ও সংস্থা প্রতি বছর প্রতিযোগিতামূলক বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন করে। দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা দিয়ে নানা ভাবে তাদের পড়াশুনা ও মেধা বিকাশে সহযোগিতা করা এদের উদ্দেশ্য । আমাদের সমাজে অনেক বিত্তশালী ব্যক্তি আছেন । এরাও নিজেদের উদ্যোগে শিক্ষার উন্নয়নে বিভিন্ন ভাবে কাজ করেন ।
এ সব কারণে আমাদের সন্তানদের স্কুলগামীতা বহু গুণে বেড়েছে । কমেছে ঝরে পড়ার হার । সবার জন্য উন্মুক্ত হয়েছে শিক্ষার দ্বার । আজ আর স্কুল বয়সী ছেলে মেয়েদের স্কুলের বাইরে দেখা যায় না । বিশেষ করে আমাদের নারী শিক্ষায় যে উৎসাহ দেখা দিয়েছে, তা আমাদের শিক্ষা ক্ষেত্রে এক বড় ইতিবাচক দিক। সরকারের বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক প্রদান, উপবৃত্তি চালু করা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাধন, অধিক সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ ইত্যাদি কারণে শিক্ষায় এ সব সাফল্য । অনেক দরিদ্র পরিবারের মেধাবী সন্তানেরা এ সবের সুযোগ নিয়ে পড়াশুনায় অনেক দূর এগিয়ে যাচ্ছে ।
তাই, আমাদের শিক্ষা নিয়ে ভাববার এখন উপযুক্ত সময় এসেছে। আমাদের শিক্ষা যেন শরীর, মন ও আত্মার সুষম উন্নয়ন সাধন করতে পারে, সে বিষয়টা নিশ্চিত করতে হবে । শিক্ষা যদি মানুষের মধ্যে মনুষত্ব জাগ্রত করতে না পারে, তবে সে শিক্ষার কী প্রয়োজন ?
শিক্ষক হচ্ছেন শিক্ষার ধারক ও বাহক। এক কথায় শিক্ষার মূল চালিকা শক্তি। শিক্ষকদের সামগ্রিক মর্যাদা সর্বাগ্রে প্রতিষ্ঠা করা অপরিহার্য । শিক্ষকদের মধ্যে সরকারি বেসরকারি তফাত থাকলে চলবে না । সকল শিক্ষকের জন্য সম্মান ও মর্যাদার জীবন নিশ্চিত করতে হবে । শিক্ষকদের অবহেলিত রেখে শিক্ষার সুফল আশা করা মোটে ও ঠিক হয় না ।
সারা জীবন শুনে এসেছি,’ শাসন করা তারই সাজে, সোহাগ করে যে’। শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষকের অফুরন্ত সোহাগ কিন্তু,শিক্ষার্থীদের শাসন করার অধিকার আজ আর শিক্ষকদের নেই। তাই,শিক্ষার্থীদের অনেকে আজ শিক্ষকের মাথায় চড়ে বসতে চায়। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর শাশ্বত মধুর সম্পর্কটি আজ হারিয়ে যেতে বসেছে । অভিভাবকদের মন-মানসিকতায় ও চিড় ধরেছে। এ বিষয়ে নতুন করে ভাবা প্রয়োজন ।
বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষাদান পদ্ধতিতে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। এখন শ্রেণী পাঠদানকে শিক্ষকগণ করে তুলেন আনন্দময়। শিশুরা শিক্ষকগণকে গ্রহণ করেন বন্ধু হিসেবে। শ্রেণীকক্ষে প্রত্যেক শিশুরা যাথে সমান শিক্ষালাভ করতে পারে সেজন্য গ্রুপ তৈরি করে গ্রুপভিত্তিক পাঠদান করা হয়ে থাকে। হাতে তৈরি পাঠ সংশ্লিষ্ঠ উপকরণ ব্যবহার করে পাঠকে করা হচ্ছে শিশুদের কাছে বোধগম্য। এছাড়া পাঠের সাথে বাস্তবের মিল খুঁজতে শিশুদেরকে নিয়ে শিক্ষকগণ শেণীকক্ষের বাহিরে প্রাকৃতিক পরিবেশেও নিয়ে যান। শিক্ষাদান পদ্ধতি আরোও আধুনিকায়নের জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংযুক্ত হয়েছে ল্যাপটপ ও মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর।
শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারের অনেক উদ্যোগ রয়েছে। এখন নিজেদের সচেতনতা দরকার। কেবল মানসম্মত শিক্ষা বা উন্নততর অবকাঠামো নির্মাণই যথেষ্ট নয়। শিক্ষর্থীদের আগামী দিনের জন্য সৎ, দক্ষ, দেশপ্রেমিক ও উদার মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন অসাম্প্রদায়িক সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের দায়িত্ব নিতে হবে। নিয়মিত অ্যাসেম্বলি, শিক্ষর্থীদের শপথ পাঠ করানো, জাতীয় সংগীত গাওয়ানো, জাতীয় পতাকার প্রতি সম্মান প্রদর্শনে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত পাঠ্যক্রমের বাইরে নিতে হবে, তাদের জ্ঞানমুখী করতে হবে। নির্ধারিত পাঠের বাইরে ক্রীড়া ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন, জাতীয় দিবস উদযাপন, বইপড়া প্রতিযোগিতা, মা দিবস আয়োজনসহ নানা কর্মসূচি পালনে অভ্যস্ত করে তুলতে হবে। এতে শিশুদের মানবিক বিকাশ বাড়ে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বিদ্যালয়ে খুদে লাইব্রেরি বা বুক কর্নার স্থাপন করতে হবে। একেকজন শিক্ষককে এ দায়িত্ব দিতে হবে। প্রধান শিক্ষককে তা মনিটরিং করতে হবে। মাসশেষে শ্রেষ্ঠ পাঠককে পুরস্কার দিতে হবে; এতে তাদের মধ্যে বই পড়ার প্রতিযোগিতা বাড়বে। সর্বোপরি মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষাসহ প্রাথমিক শিক্ষার সার্বিক উন্নয়নে প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষকসহ মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তৎপর হতে হবে।
* লেখক: মো: জুয়েল আহমেদ, মেয়র, কমলগঞ্জ পৌরসভা।

কমলগঞ্জ সরকারি গণমহাবিদ্যালয়ের অনার্স ভবনের শুভ উদ্বোধন

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

41843947_685375281817981_138468010456252416_n

  মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ সরকারি গণমহাবিদ্যালয়ের বীর মুক্তিযোদ্ধা উপাধ্যক্ষ মো: আব্দুস শহীদ এমপি (অনার্স) ভবনের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়িত ২ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে চারতলা বিশিষ্ট এই ভবনের উদ্ভোধন করা হয়েছে। ১৫ সেপ্টেম্বর শনিবার দুপুর ১টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ভবনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সাবেক চিফ হুইপ, সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি, মুক্তিযোদ্ধা উপাধ্যক্ষ ড. মো: আব্দুস শহীদ এমপি।

কমলগঞ্জ সরকারি গণমহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ কামরুজ্জামান মিয়ার সভাপতিত্বে ও প্রভাষক নার্গিস আক্তার পলির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মাহমুদুল হক, সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহন চন্দ্র দেব, উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি এম, মোসাদ্দেক আহমেদ মানিক, কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো: জুয়েল আহমদ, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, মৌলভীবাজার এর সহকারী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম খান, কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো: আরিফুর রহমান, কমলগঞ্জ সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো: আব্দুল হান্নান, উপজেলা বিআরডিবি চেয়ারম্যান ইমতিয়াজ আহমদ বুলবুল। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাবেক ভারপ্রাপ্ত উপাধ্যক্ষ মঞ্জুশ্রী রায়, অধ্যক্ষ নুরুল ইসলাম, অধ্যক্ষ মো: হেলাল উদ্দিন, প্রভাষক রায়হান সেলিম, উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি রাহাত ইমতিয়াজ রিপুল, কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি আব্দুল হাকিম রাজ প্রমুখ।

লোক গবেষক প্রয়াত মাহফুজুর রহমানকে স্মরণ করলো মৌলভীবাজারবাসী

DSC00807

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি 
লোক গবেষক, লেখক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক মাহফুজুর রহমানের মৃত্যুতে মৌলভীবাজারে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শনিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মৌলভীবাজার পৌরসভা মিলনায়তনে মাহফুজুর রহমান নাগরিক শোকসভা কমিটি এ স্মরণসভার আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন নাগরিক শোকসভা কমিটির আহবায়ক প্রাবন্ধিক মো. আব্দুল খালিক। নাগরিক শোকসভা কমিটির সদস্য নিলিমেষ ঘোষ ও মীর ইউছুফের যৌথ সঞ্চালনায় অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিজুল ইসলাম, মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি মুজিবুর রহমান মুজিব, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) কেন্দ্রীয় সভাপতিমন্ডলীর সদস্য সৈয়দ আবু জাফর আহমদ ও সাবেক যুগ্ম সচিব সৈয়দ জগলুল পাশা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন নাগরিক শোকসভা কমিটির সদস্যসচিব ডাডলী ডেরিক প্রেন্টিস ও প্রচার প্রকাশনা উপ কমিটির আহবায়ক আহমদ আফরোজ। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাবেক সাংসদ হোছনে আরা ওয়াহিদ, জেলা জাসদের সভাপতি আব্দুল হক, নাট্যকার আব্দুল মতিন, মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি আবদুল হামিদ মাহবুব, প্রগতি লেখক সংঘের সভাপতি সৈয়দ মোসাহিদ আহমদ চুন্নু, বিএনপি নেতা ওয়ালী সিদ্দিকী, মরমি শিল্পী ইউছুফ আলী, সাংস্কৃতিক সংগঠক এম শাহাবউদ্দিন আহমদ, সাংবাদিক বকসী ইকবাল আহমদ, মাহফুজুর রহমানের ছেলে মোফলেহ রহমান, চিকিৎসক সায়মা মুজাহিদ লিজা, কবি জাহাঙ্গীর জয়েস, আইনজীবী পার্থ সারথী পাল, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সমন্বয়ক মাসুদ রানা, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম, ছাত্র ইউনিয়ন জেলা কমিটির সভাপতি সুবিনয় রায় প্রমুখ। শোকপ্রস্তাব পাঠ করেন কবি মহিদুর রহমান।
এসময় প্রয়াত মাহফুজুর রহমান স্মরণে প্রকাশিত স্মারকগ্রন্থ লোকপুরানের মোড়ক উন্মোচন করেন অতিথিরা এবং মাহফুজুর রহমানের জীবন ও কর্মের উপর নির্মিত তথ্যচিত্র লোকপুরান দেখানো হয়।

কমলগঞ্জে ছাত্রলীগের উদ্যোগে যাত্রী ছাউনীতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

 কমলকুঁড়ি রিপোর্ট1
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ সরকারি গণ মহাবিদ্যালয় সংলগ্ন পরিত্যক্ত প্রায় যাত্রী ছাউনী পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে ব্যবহার উপযোগী করে তুলেছেন উপজেলা ও কলেজ ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ।
জানা যায়, কমলগঞ্জ সরকারি গণমহাবিদ্যালয় সংলগ্ন যাত্রী ছাউনীটি দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর যাবত ময়লা আবর্জনা ভরে থাকার কারণে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। এখানে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ যাত্রী সাধারণের ব্যবহারের অনুপযোগি থাকায় এই ছাউনীটি ব্যবহার করত না। এই যাত্রƒ ছাউনীটি ব্যবহার উপযোগি করে তোলার জন্য রোববার সকালে কমলগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি রাহাত ইমতিয়াজ রিপুল, সাধারণ সম্পাদক সাকের আলী সজীব ও কমলগঞ্জ সরকারি গণ মহাবিদ্যালয় এবং কমলগঞ্জ সরকারি গণ মহাবিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি আব্দুল হাকিম ও সাধারণ সম্পাদক হাসান আহমদ এর নেতৃত্বে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা পরিষ্কার পরিছন্ন করে এই যাত্রী ছাউনীটি সকলের ব্যবহার উপযোগী করে তুলে।

শমশেরনগর চা বাগানে সচেতনতামূলক আলোচনা সভা ও বিনামূল্যে চিকিৎসা শিবির

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

Kamalgonj Pic Health Tea Garden 2
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার  শমশেরনগর চা বাগানে চা বাগান মেয়েদের মাসিক স্বাস্থ্য সমস্যা ও বুকের দুধ খাওয়ানো শীর্ষক দিনব্যাপী এক সচেতনতামূলক সভা ও বিনামূল্যে চিকিৎসা শিবির অনুষ্ঠিত হয়। ডু সামথিং ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ইয়থ ফর দি ন্যাশন (তরুন ডাক্তারদের স্বেচ্ছা সেবামূলক সংগঠন) ও চা শ্রমিক সন্তানদের সংগঠন জাগরণ যুব ফোরামের যৌথ আয়োজনে রোববার সকাল ৮টায় সচেতনতামূলক সভা ও পরে বিকাল ৩টা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসা শিবির অনুষ্ঠিত হয়।
ঢাকার গণ-স্বাস্থ্য সমাজ ভিত্তিক মেডিক্যাল কলেজের স্বানামধ্যন্য ১৯ জন চিকিৎসক আলোচনায় অংশ গ্রহণসহ আগত ৩০০ রোগীকে দেখে নামমাত্র ফি-তে বিনামূল্যে ঔষধও বিতরণ করেন।  ঢাকা থেকে আগত ডাক্তাররা হলেন, ডা: মামুনুর রশীদ, ডা: আসলাম সরকার, ডা: মোহাম্মদ নাঈম, ডা: নাজমুল ইসলাম, ডা: আতাউর রহমান, ডা: মো: জাকির হোসেন, ডা: মোহাম্মদ ইরফান, ডা: হাসান আল মামুন, ডা: খোয়াইব হাসান, ডা: মো: ফেরদৌস আলম, ডা: কে এম শরিফুর রহমান, ডা: এনায়েত উল্যা শরীফ, ডা: সাইফ শরীফ, ডা: এম এ রহিম, ডা: কৌশিক, ডা: সুজা আলম, ডা: রাশেদুল ইসলাম, ডা: মামুন রশীদ ও ডা: শরীফ।
স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক সভা ও বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা শিবিরের মূল সমন্বয়ক ডু সামথিং ফাউন্ডেশনের সভাপতি ডা: নাজমুল ইসলাম জানান, সংগঠনটি দেশের বিভিন্ন জেলায় সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের জন্য স্কুল পরিচালনা, ক্লিনিক পরিচালনাসহ বিভিন্ন দুর্যোগে ত্রাণ ও শীত বস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করে।  দেশের বিভিন্ন জেলায় পিছিয়ে পড়া সুবিধা বঞ্চিত মানুষদের জন্য চিকিৎসা সেবা শিবির করে রোগীদের দেখে বিনা মূল্যে ঔষধও বিতরণ করে।  এ ধারাবাহিকতায় রোববার কমলগঞ্জের শমশেরনগর চা বাগানে স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক আলোচনা সভা ও বিনামূল্যে চিকিৎসা শিবির পরিচালিত হয়। আগত নারী রোগীদের পাশাপাশি পুরুষ রোগীদের স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করা হয়।
জাগরণ যুব ফোরামের সভাপতি মোহন রবিদাস বলেন, চা- বাগানের স্বাস্থ্য সেবার অবস্থা খুবই নাজুক। চা বাগানের নারীরা অনেকটা অসচেতন বলে তাদের মাসিক সমস্যাসহ নানা সমস্যায় ভোগেন। তাদের সচেতন করে তোলাসহ এই স্বাস্থ্য সেবার জন্য এগিয়ে আসতে ইয়থ অর দি ন্যাশনকে আহ্বান জানানো হয়েছে। আগামীতে ইয়থ ফর দি ন্যাশন ও জাগরণ যুব ফোরাম যৌথভাবে সকল চা বাগানে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

কমলগঞ্জে জানালার গ্রীল কেটে এক এসআই ও এক ব্যাংকারের ঘরে দু:সাহসিক চুরি ॥ আটক-১

50
কমলকুঁড়ি রিপোর্ট
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন সংলগ্ন এলাকার দুটি ভবনের জানালার গ্রীল কেটে প্রবেশ করে থানার এক এসআই ও সোনালী ব্যাংকের এক কর্মকর্তার ঘরে প্রবেশ করে দু:সাহসিক চুরি সংঘটিত হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে ১ জনকে পুলিশ আটক করেছে। গত শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে এ ঘটনাটি ঘটে।
কমলগঞ্জ থানা ও সোনালী ব্যাংক কমলগঞ্জ শাখা সূত্রে জানা যায়, রোববার ভোর রাতে উপজেলা প্রশাসনিক এলাকা সংলগ্ন ইসলাম টাওয়ারের নিচ তলার এসআই সুরুজ মিয়ার ঘরের জানালার গ্রীল কেটে চোর চক্র ভিতরে প্রবেশ করে। চোর চক্র এসআই সুরুজের ঘর থেকে মুঠোফোন, নগদ ৫০ হাজার টাকা ও ৬ ভরি ওজনের স্বর্নালঙ্কার নিয়ে যায়। একই এলাকার পাশের জরিপ টাওয়ারের দোতলার কমলগঞ্জ শাখা সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা কবির আহমদের বাসায় প্রবেশ করে চোর চক্র চেতনা নাশক দিয়ে তাকে (কবির আহমদকে) অজ্ঞান করে তার টাকাসহ মানি বেগ ও মুঠো ফোন নিয়ে যায়।
কমলগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুধীন চন্দ্র দাস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে আলেপুর গ্রামের বাবুল মিয়ার ছেলে ইমন মিয়াকে (২৫) আটক করা হয়েছে। সে এসআই সুরুজের বাসায় নিয়মিত আসা যাওয়া করতো। সোনালী ব্যাংক কমলগঞ্জ শাখা ব্যবস্থাপক রিপন মজুমদার বলেন, তার অফিসের কর্মকর্তা কবির আহমদের বাসায় প্রবেশ করে ঘুমন্ত অবস্থায় চোর চক্র স্প্রে দিয়ে তাকে অজ্ঞান করে তার একটি মুঠোফোন ও টাকাসহ মানি বেগ নিয়ে গেছে। কবির আহমদকে অসুস্থ্য অবস্থায় কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
কমলগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুধীন চন্দ্র দাস আরও বলেন, আশা করা যাচ্ছে আটক ইমন মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদে দুটি বাসার চুরির সকল তথ্য বেরিয়ে আসবে।

শমশেরনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের নামে শ্রেণিকক্ষের নামকরন

3
কমলকুঁড়ি রিপোর্ট
নতুন প্রজন্মের নিকট জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীরমুক্তিযোদ্ধাদের বাঁচিয়ে রাখতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নব নির্মিত ৩ তলা ভবনের ৯ টি শ্রেণি কক্ষের নামকরন করা হয়েছে শমশেরনগর ইউনিয়নে জন্মগ্রহনকারী মুক্তিযোদ্ধাদের নামে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, শমশেরনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২য় ও ৪র্থ শ্রেণির ক শাখার নামকরন শমশেরনগর লামা বাজারে জন্মগ্রহনকারী বীরমুক্তিযোদ্ধা মৃনাল কান্তি ধর, ২য় ও ৪র্থ শ্রেণির খ শাখার নামকরন শমশেরনগর বাজারে জন্মগ্রহনকারী বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল হাই, প্রাক প্রাথমিক শ্রেনীর ক শাখার নামকরন শমশেরনগরের রঘুনাথ গ্রামে জন্মগ্রহনকারী বীরমুক্তিযোদ্ধা মরহুম আব্দুল মন্নান, ১ম ও ৩য় শ্রেণির খ শাখার নামকরন শমশেরনগরের ভাদাইরদেউল গ্রামে জন্মগ্রহনকারী বীরমুক্তিযোদ্ধা মরহুম ক্যাপ্টেন মোজাফফর আহমেদ, প্রাক প্রাথমিক শ্রেণির খ শাখার নামকরন শমশেরনগর বাজারে জন্মগ্রহনকারী বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহিম দুধ মিয়া, ১ম ও ৩য় শ্রেণির ক শাখার নামকরন শমশেরনগরের সিংরাউলী গ্রামে জন্মগ্রহনকারী ক্যাপ্টেন (অবঃ) সাজ্জাদুর রহমান, ৫ম শ্রেণির ক শাখার নামকরন শমশেরনগরের কৃষ্ণপুর গ্রামে জন্মগ্রহনকারী মরহুম এম এ গফুর, ৫ম শ্রেণির খ শাখার নামকরন শমশেরনগরের ভাদাইরদেউল গ্রামে জন্মগ্রহনকারী মরহুম এম এ বাছিত ও বিশেষ শ্রেণিকে শমশেরনগর বাজারে জন্মগ্রহনকারী অধ্যক্ষ আব্দুল আহাদ চৌধুরীর নামে নামকরন করা হয়েছে।
শমশেরনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম জানান, সকল বিদ্যালয়ে জাতীয় পর্যায়ের ব্যক্তিদের নামে শ্রেণি কক্ষের নাম করন করা হয়। জাতীয় পর্যায়ের ব্যক্তিদের শিক্ষার্থীরা সর্বদাই বইয়ের মাধ্যমে জেনে থাকে। কিন্তু যে সমস্ত বীরমুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে এই দেশ স্বাধীন হয়েছে। যাদের ত্যাগের বিনিময়ে আমরা স্বাধীন দেশ পেয়েছি, দেশ স্বাধীন না হলে ৩ তলা ভবন হতো না, আমরাও চাকুরী করতে পারতাম না। তাই তাদের স্মৃতিকে স্মরণ রাখতে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত অনুয়ায়ী স্থানীয়ভাবে ৯ জন বীরমুক্তিযোদ্ধার নামে এ বিদ্যালয়ের শ্রেণি কক্ষগুলোর নাম করন করা হয়।

বাাংলাদেশ আমলের শিক্ষা নীতি ও কিছু কথা – মোঃ জুয়েল আহমেদ

15193428_1100123696753558_1363435913874700067_nবাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের সংবিধানে শিক্ষাকে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সংবিধানের ১৫ (ক), ১৭ এবং ২৮ (৩) নং আর্টিকেলে বাংলাদেশের নাগরিকদের শিক্ষার প্রতি রাষ্ট্রীয় দায়িত্বসমূহ বর্ণনা করা হয়েছে। দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনায়, বাংলাদেশ সরকার সে সময়ে প্রাথমিক শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেয়। প্রাচীন শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তন এবং স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের উপযোগী সমাজগঠনমূলক একটি সার্বিক শিক্ষাব্যবস্থার রূপরেখা প্রণয়নের উদ্দেশ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক গৃহীত প্রস্তাব অনুযায়ী ১৯৭২ সালের ২৬ জুলাই প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ ড. কুদরাত-এ খুদাকে সভাপতি করে শিক্ষা কমিশন গঠনের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয় যা ১৯৭৪ সালের মে মাসে ‘বাংলাদেশ শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট নামে প্রকাশিত হয়। এটি পরবর্তীকালে ড. কুদরাত-এ-খুদার নামানুসারে ‘ড. কুদরাত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট’ নাম রাখা হয়।
১৯৭২ সালের সংবিধানের মূলনীতির আলোকে শিক্ষাকে ঢেলে সাজানোর পদক্ষেপ হিসেবে বিপুল সংখ্যক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালন, নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সরকার গ্রহণ করে। এর মাধ্যমে দেশের ৩৬,৬৬৬ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত সকল শিক্ষক এবং স্কুলের যাবতীয় সম্পদ সরকারি নিয়ন্ত্রণে চলে যায় এবং এই পর্যায়ে প্রাথমিক শিক্ষা অবৈতনিক করা হয়। পরবর্তী সময়ে একাধিক শিক্ষা কমিশন গঠিত হয় এবং প্রায় প্রত্যেকটি কমিশন রির্পোটে প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করা হলেও সে সময়ে তা বাস্তবায়িত হয়নি।
প্রথম (১৯৭৩-৭৮) এবং দ্বিতীয় (১৯৮০-৮৫) পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাকালে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় দেশের ৮টি অঞ্চলে ৪৪টি থানায় International Development Agency (IDA)-এর অধীনে সার্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা (Universal Primary Education) প্রবর্তিত হয়। এছাড়া প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার (Non-formal Education) জন্য একটি ব্যাপক পরিকল্পনা গৃহীত হয়, যেমন গণবিদ্যালয়, সাক্ষরতা বিদ্যালয়, ফিডার স্কুল (Feeder School) যা প্রাথমিক শিক্ষার অগ্রসরকল্পে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। এছাড়া, বিদ্যমান প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম অন্তর্বর্তীকালীন দ্বি-বার্ষিক পরিকল্পনায়ও (১৯৭৮-৮০) অপরিবর্তিত ছিল। দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা গ্রহণের সময়ে প্রাথমিক শিক্ষার সফল উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি স্বতন্ত্র প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরও প্রতিষ্ঠিত হয়।
পরবর্তীকালে ১৯৮১ সালে প্রাথমিক শিক্ষাক্ষেত্রে একটি আইন প্রণয়ন করা হয় যা ‘প্রাথমিক শিক্ষা আইন-১৯৮১’ নামে পরিচিত। এই আইনের অধীনে মহকুমা পর্যায়ে স্থানীয় শিক্ষা কর্তৃপক্ষ (Local Education Authority) গঠন করা হয় এবং প্রাথমিক শিক্ষায় পরিচালনা, নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসন ও তত্ত্বাবধান স্থানীয় শিক্ষা কর্তৃপক্ষের উপর ন্যস্ত করা হয়। তবে দুর্ভাগ্যবশতঃ আইনটি বাস্তবায়নের পূর্বেই বাতিল হয়ে যায়। ১৯৮২ সালে প্রশাসনিক পুনর্গঠন ও বিকেন্দ্রীকরণ অর্ডিন্যান্স জারির ফলে ১৯৮৩ সালে মহকুমা বিলোপ করে থানাকে উপজেলা পর্যায়ে উন্নীত করা হয় এবং উপজেলা প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণের ভিত্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রশাসনিক আদেশ বলে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব উপজেলা পরিষদের হাতে ন্যস্ত করে। তখন উপজেলা প্রশাসনের অধীনে প্রাথমিক শিক্ষার প্রশাসন, কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে উপজেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণে প্রেরণ করা হয়। এ ছাড়াও এ আইনে চাকরি নিয়োগ বিধি, শৃঙ্খলা বিধি, ছুটি, বদলি, পদোন্নতি, অবসর গ্রহণ ইত্যাদি সংক্রান্ত আইন-কানুন ও বিধি-বিধানও রয়েছে।
তৃতীয় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাকালে (১৯৮৫-৯০) IDA এর অধীনে Universal Primary Education প্রকল্প চালু থাকার সাথে সাথে দেশব্যাপী সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষার জাতীয় প্রকল্প চালু হয়। সরকার প্রাথমিক শিক্ষার উন্নতিকল্পে সমন্বিত স্কুল উন্নয়ন নামে একটি উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এ পরিকল্পনা অনুসারে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলির সার্বিক উন্নতি বিধানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া এই পরিকল্পনার ফলশ্রুতিতে দ্বিতীয় প্রাথমিক শিক্ষা প্রকল্প ‘Second Primary Education Project (SPEP)’ বাস্তবায়ন করা হয়। এটি ছিল সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নে একমাত্র সরকারি প্রজেক্ট যা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর পরিচালনা করে। এই প্রকল্প বাংলাদেশ সরকার ও ৪টি আন্তর্জাতিক সংস্থা IDA, UNICEF, CIDA এবং UNDP-এর যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত হয়। এর মাধ্যমে স্কুলে ছাত্রছাত্রীর ভর্তি হার বাড়ানো এবং শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক শিক্ষাচক্র সমাপ্ত করার সহায়ক কর্মসূচি হিসেবে SMC (School Managing Commitee), PTA, UEC (Upazila Education Commission) গঠন এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করা হয়। এ ছাড়াও প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে ১৯৭৬ সালে প্রণীত জাতীয় শিক্ষাক্রম ও সিলেবাসের নবায়ন ও উন্নয়ন করা হয় এবং সকল শিক্ষার্থীদেরকে বিনামূল্যে বই সরবরাহ করা হয়। এ সময় ৪টি পর্যায়ে প্রাথমিক শিক্ষার পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার কাজ পরিচালিত হতো। এগুলো হল- শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, উপজেলা পরিষদ এবং স্কুল ম্যানেজিং কমিটি।
চতুর্থ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় (১৯৯০-৯৫) প্রাথমিক শিক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়। ১৯৯০ সালে জাতীয় সংসদ কর্তৃক ‘প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক আইন’ গৃহীত হয় এবং ঐ বছর ১৩ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভের মাধ্যমে বাংলাদেশ গেজেটের এক অতিরিক্ত সংখ্যায় বিজ্ঞাপিত হয়। ১৯৯২ সালে ১ জানুয়ারি থেকে সারা দেশের ৬৮টি থানায় বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা প্রবর্তন করা হয়। এছাড়া ১৯৯০ সালে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইনটির বাস্তবায়ন ও মনিটরিং ইউনিট (Compulsary Primary Education Implementation Monitoring Unit-CPEIM) গঠিত হয়। প্রাথমিক শিক্ষার কাঠামোকে শক্তিশালী করা, সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং নিরক্ষরতা দূরীকরণের লক্ষ্যে ১৯৯২ সালের আগস্টে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগ (Primary and Mass Education Division-PMED) নামে একটি নতুন বিভাগ গঠিত হয়। এর অধীনে প্রাথমিক শিক্ষায় সার্বিকভাবে ভর্তিহার বৃদ্ধি, ছেলে ও মেয়ে শিক্ষার্থীর সম-অন্তর্ভুক্তি এবং শিক্ষার সঠিক ও গুণগত মান উন্নয়নের লক্ষ্যে তিনটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এ ছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিদ্যালয় নির্মাণের প্রকল্পও পরবর্তী সময়ে বাস্তবায়ন করা হয়। ১৯৯৫ সালে পল্ললীর প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যালয় গমনোপযোগী ৬-১০ বছরের শিশুদের জন্য ‘স্যাটেলাইট স্কুল’ তৈরি করা হয় এবং প্রাথমিকভাবে সারাদেশে ৪০০০ স্কুল তৈরি করা ও ২০০০ সালের মধ্যে এর সংখ্যা ৬ হাজারে উন্নীত করার প্রকল্প হাতে নেওয়া |
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা মূলত দেশিয় এবং পাশ্চাত্য শিক্ষাব্যবস্থা ও পদ্ধতির সম্মিলিত ফল। হাজার বছরের আর্য বা হিন্দু শিক্ষাব্যবস্থা, বৌদ্ধ শিক্ষাব্যবস্থা এবং সর্বশেষ মুসলিম শিক্ষাব্যবস্থার সংমিশ্রণ, সাথে রয়েছে পাশ্চাত্য শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামো। প্রকৃতপক্ষে ১৪৯৮ সালে ভাস্কো-দা-গামা কর্তৃক ভারতে আসার জলপথ আবিষ্কারের পর থেকেই এই উপমহাদেশে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রচার ও প্রসার প্রক্রিয়া শুরু হয়। কালক্রমে পর্তুগিজ, ওলন্দাজ, ফরাসি, দিনেমার এবং ইংরেজ মিশনারিগণ এদেশে শিক্ষা বিস্তারের বিভিন্ন কর্মকান্ড পরিচালনা করেন। বর্তমানে বাংলাদেশে ৬-১০ বছর বয়সী শিশুদের জন্য ৫ বছর মেয়াদী প্রাথমিক শিক্ষা প্রচলিত রয়েছে। ১ম থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা স্তর হিসেবে গণ্য করা হয় এবং দেশের ৬ থেকে ১০ বছরের সব শিশুর জন্য এই শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে নির্ধারিত বয়সসীমা যাই থাকুক না কেন বাস্তবে বাংলাদেশে ৪/৫ বছর থেকে শুরু করে ১৩ বছর পর্যন্ত বয়সের ছেলেমেয়েরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে থাকে।
বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক গৃহীত সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষার আওতায় বিদ্যালয়ে ভর্তিকৃত সকল শিশুর সামর্থ্য ও চাহিদার প্রতি সচেতন দৃষ্টি রেখে সার্বিকভাবে ৯টি বিষয়কে শিক্ষাক্রমের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যথা- বাংলা, গণিত, পরিবেশ পরিচিতি: সমাজ, পরিবেশ পরিচিত: বিজ্ঞান, ইংরেজি, ধর্ম, শারীরিক শিক্ষা, চারু ও কারুকলা এবং সংগীত। এক্ষেত্রে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে পরিবেশ পরিচিতি সমাজ ও বিজ্ঞান একটি সমন্বিত বিষয় হলেও তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পরিবেশ পরিচিতি: সমাজ ও পরিবেশ পরিচিত: বিজ্ঞান নামক দুটি বিষয় পৃথকভাবে পাঠ্যক্রমে রয়েছে।
বাংলাদেশে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রধানত চার ধরনের বিদ্যালয় রয়েছে। যথা- সরকারি বিদ্যালয়, পরীক্ষণ বিদ্যালয় যা  এর সাথে সংযুক্ত, নিবন্ধীকৃত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং কমিউনিটি বিদ্যালয়। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং পরীক্ষণ বিদ্যালয়গুলো সম্পূর্ণরূপে সরকারি অর্থে পরিচালিত। অন্যদিকে নিবন্ধীকৃত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাদের বেতনের শতকরা ৯০% সরকারের কাছ থেকে পেয়ে থাকেন। আর কমিউনিটি বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সরকারের কাছ থেকে নির্ধারিত হারে বেতন পেয়ে থাকেন। উল্লেলখিত চার ধরনের বিদ্যালয় ছাড়াও অনিবন্ধীকৃত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাই স্কুল সংলগ্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়, কিন্ডার গার্টেন এবং কিছু এনজিও পরিচালিত প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এ ছাড়াও রয়েছে এবতেদায়ী মাদ্রাসা এবং হাই মাদ্রাসা সংযুক্ত ইবতেদায়ী মাদ্রাসা (সাধারণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সমান্তরাল)।

এভাবে সরকার প্রাথমিক শিক্ষার গুনগত মানকে অক্ষুন্ন রাখতে নানা প্রকল্প গ্রহন করে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রাথমিক শিক্ষার যে পরিবেশ এনছে তা সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। ১৬ হাজার  স্কুলকে সরকারী করণ ও শিক্ষকদের চাকুরী সরকারী করণ। এয়াড়া যে ভাবে স্কুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধিকরণসহ নানা প্রদক্ষেপের কারনে প্রাইমারী শিক্ষা আজ উচ্চতরে অবস্তান করছে। তথ্য সূত্র (বিভিন্ন গ্রন্থ)