সদ্য সংবাদ

বিভাগ: কমলগঞ্জ

কমলগঞ্জে গরিব ও দু:স্থ লোকদের মাঝে আর্থিক অনুদান বিতরণ

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

kamolgonj pic mosari

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার পতনউষার ইউনিয়নের নয়াবাজারে গত বৃহষ্পতিবার সন্ধ্যায় মৌলভীবাজার জেলা সমাজকল্যান সমিতি, কাতার এর উদ্যোগে অর্ধশত গরিব ও দুস্থ মহিলাদের মধ্যে একটি করে মশারী ও হাঁস মুরগী পালনের জন্য নগদ দুই হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান বিতরণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো: জুয়েল আহমদ,
মৌলভীবাজার জেলা সমাজকল্যান সমিতি, কাতার এর সভাপতি মো: মিছবা উদ্দিন চৌধুরী চিনুর সভাপতিত্বে ও সমাজকর্মী মিজানুর রহমান মিষ্টারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ২নং পতনঊষার ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার তওফিক আহমদ বাবু, বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম, রাজনীতিবিদ অলি আহমদ খান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা সমাজকল্যান সমিতি, কাতার এর সহ সভাপতি মো: হারুনুর রশীদ আইয়ুব, সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম মানিক, সমাজসেবক লোকমান আহমদ চৌধুরী, শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বিকুল চক্রবর্তী, সাংবাদিক সঞ্জয় কুমার দে, ইউপি সদস্য রিপন ইসলাম ময়নুল, আব্দুস সোবহান বাবু, সায়েক আহমদ, মহিলা সদস্যা রেফা বেগম প্রমুখ।
সভায় বক্তারা দরিদ্র পরিবারগুলোকে আত্মনির্ভরশীতা অর্জনে সহায়তার জন্য ভবিষতে আরো উদ্যোগ নেয়ার আহবান জানান।

“আসো বধ্যভুমিকে জানি” কমলগঞ্জে দেওড়াছড়া বধ্যভূমিতে শিশু কিশোরদের নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের তথ্য সংগ্রাহক

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

kamolgonj dewracara baddobumi

মৌলভীবাজার জেলায় রয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবহনকরা অনেকগুলো বধ্যভূমি। যার অধিকাংশই রয়েছে সংরক্ষণের বাহিরে। অন্যদিকে যে কয়টাই সংরক্ষণ হয়েছে সেগুলোও রয়েছে অযতœ আর অবহেলায়। এইসব বধ্যভূমির ব্যবহার, সংরক্ষণ এবং তার ইতিহাস নতুন প্রজন্মকে জানান দিতে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের দেওড়াছড়া বধ্যভুমিতে মুক্তিযুদ্ধের তথ্য সংগ্রাহক সাংবাদিক বিকুল চক্রবর্তী শিশু কিশোরদের নিয়ে আয়োজন করেন “আসো বধ্যভুমিকে জানি” শীর্ষক অবহিতকরণ বৈঠক।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় দেওড়াছড়া চা বাগানের ভিতরে সংরক্ষতি বধ্যভূমির স্মৃতিস্তম্ভে বধ্যভূমি এলাকার আশপাশের নতুন প্রজন্ম শিশু কিশোরদের নিয়ে  আয়োজিত এ বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধ, বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, বধ্যভুমি কি এবং এই বধ্যভূমির ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করেন মুক্তিযুদ্ধের তথ্য সংগ্রাহক সাংবাদিক বিকুল চক্রবর্তী, সাংবাদিক সঞ্জয় কুমার দে ও রাসেল আহমদ প্রমূখ।
উল্লেখ্য, সাংবাদিক বিকুল চক্রবর্তী এ কর্মসূচীর পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরতে বিভিন্ন স্থানে আয়োজন করেন মুক্তিযুদ্ধের আলোকচিত্র ও স্মারক প্রদর্শণী।
বিকুল চক্রবর্তী জানান, যত সময় যাচ্ছে হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস, গণহত্যা এসব সামনে আসুক একটা শ্রেণী এখনও তা পছন্দ করেনা। ফলে স্বাধীনতার ৪৭ বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অনেক স্মৃতিময় স্থান ও ইতিহাস এখনও সংরক্ষণ সম্ভব হয়নি। আমাদের প্রবীণ মানুুষেরা ও মুক্তিযোদ্ধারা জীবিত থাকাবস্থায়ই এই সংরক্ষণ সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। তাই যার যার অবস্থান থেকেই এখনই তা সংরক্ষণের উদ্যোগ নিতে হবে। এই উদ্যোগীদের জানান দিতেই তিনি এ কার্যক্রম শুরু করেছেন বলে জানান।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৭১ সালের ৩ এপ্রিল দেওড়াছড়া বাগানে প্রবেশ করে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর সদস্যরা। সে সময় স্থানীয় মুসলিম লীগ নেতার শাসানী আর বাগানে মিলিটারী জিপের প্রবেশে অসহায় সাধারন চা শ্রমিকরা আতঙ্কিত হয়ে উঠেছিলেন। অনেকেই পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও করেন। বাগানে ঢুকেই পাকিস্তানী সেনা সদস্যরা অসহায় গরীব চা শ্রমিকদেরকে রেশন দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সবাইকে জমা করে। পরে সাথে করে নিয়ে আসা একটি বেসামরিক বাসে শ্রমিকদের উঠতে নির্দেশ দেয়া হয়। প্রায় ৭০ জন শ্রমিককে বাসে ভর্তি করে বাস রওয়ানা দেয় মৌলভীবাজার শহরের দিকে। তবে একটু সামনে এগিয়ে যাওয়ার পরই বাস একটি খাদে পড়ে যায়। শ্রমিকদের তখন বাধ্য করা হয় বাসটি টেনে তুলতে। ঘটনাস্থলেই আরেক পাকিস্তানী মেজররের  নির্দেশে সবাইকে একটি নালার পাশে নিয়ে বিবস্ত্র করে তাদের পরিধেয় বস্ত্র দিয়ে হাত পা বেঁধে ফেলা হয়। তারপর শুরু করে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ। মোহিনী গোয়ালা, রবি গোয়ালা, মহেশ কানু, নারাইল কুর্মী সহ ১২ জন সৌভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে যান। আহত অবস্থায় ভারতে গিয়ে এই ১২ জন চিকিৎসা করান। তাদের মাধ্যমেই জানা যায় এই নির্মম হত্যকান্ডের খবর।
আর এদের মধ্যে ত্রিশ লক্ষ শহীদেও সাথে যারা খাতায় নাম লিখিয়েছেন তারা হলেন-উমেশ সবর, হেমলাল কর্মকার, লক্ষনমূড়া, বিজয় ভূমিক, আকুল রায় ঘাটুয়ার, মাহীলাল রায় ঘাটুয়ার, বিনোদ নায়েক, সুনারাম গোয়ালা, প্রহল্লাদ নায়েক, মংরু বড়াইক, বিশ্বনাথ ভুঁইয়া, শাহজাহান ভুইয়া, ভাদো ভুইয়া, আগুন ভুইয়া, জহন গোয়ালাসহ আরো অনেকেই। স্থানীয় দালালরা সক্রিয় ছিল এসব হত্যাকান্ডে। তারাই পরে শ্রমিক ঝুপড়ি (কাঁচা বসগ ঘরে) গুলোতে লুটপাট চালায়। নারী নির্যাতনের ঘটনাও ঘটে এই বাগানে।
এই স্থানটি সরকার কিংবা চা বাগান কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণের জন্য দীর্ঘদিনেও কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় স্থানটি বিরানভুমিতে পরিণত হয়ছিল। এনিয়ে জাতীয় ও স্থানীয় পত্র-পত্রিকায় অসংখ্য লেখালেখি হওয়ার পর অবশেষে ২০১৪ সালে ডিসেম্বর মাসে ১নং রহিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইফতেখার আহমদ বদরুলের হস্তক্ষেপে ও দেওড়াছড়া চা বাগান কর্তৃপক্ষের সহযোগীতায় দেওড়াছড়া চা বাগানের বধ্যভূমির স্থান চিহ্নিত করে চা শ্রমিকদের গৌরবগাথা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্যোগে নেওয়া হয়েছে।

কমলগঞ্জে কালবৈশাখি ঝড়ে পৌর এলাকার অর্ধশতাধিক ঘর আংশিক বিধ্বস্ত

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

Kamalgonj Pic Kunrakapon P School 2

কালবৈশাখি ঝড়ে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ পৌর এলাকার ৫৩ টি ঘর আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে। শুক্রবার ভোররাতে কালবৈশাখি ঝড়ে পৌর এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ চার গ্রামে বাড়িঘরের ক্ষতি সাধন হয়।
কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো: জুয়েল আহমদ জানান, আকস্মিক কালবৈশাখি ঝড়ে পৌরসভার বড়গাছ, শ্রীনাথপুর, নছরতপুর, কুমড়াকাপন গ্রামের ৫৩টি ঘরের টিনের চালা সহ আংশিকভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে। ঝড়ে কুমড়াকাপন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি কক্ষের উপরের চালা উড়ে যায়। এছাড়া পৌর এলাকার কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও আংশিক্ষ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং বেশ কিছু গাছ গাছালি উপড়ে পড়েছে। কমলগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, পৌর মেয়রের কাছ থেকে কালবৈশাখি ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির সংবাদ পেয়েছি। তবে লিখিতভাবে তালিকা প্রদান করা হলে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

কমলগঞ্জকে অখন্ড রেখে মৌলভীবাজার-৪ আসন বহাল রাখার দাবি ॥ শনিবার মানববন্ধন

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

30

আগামী সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলাকে অখন্ড রেখে মৌলভীবাজার-৪ আসন (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) বহাল রাখার দাবি জানিয়েছেন কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর, আলীনগর, আদমপুর ও ইসলামপুর ইউনিয়নের জনসাধারণ। মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনে কমলগঞ্জ উপজেলার আলীনগর, শমশেনগর, আদমপুর ও ইসলামপুর ইউনিয়নকে পূর্বের মতো বহাল রেখে চুড়ান্ত গেজেট প্রকাশের জন্য জোর দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এলাকার মানুষের দাবী- সংসদীয় আসনে কমলগঞ্জের চারটি ইউনিয়ন দুরবর্তী কুলাউড়া উপজেলার সাথে অন্তর্ভূক্তির কারণে দীর্ঘদিন ধরে তারা উন্নয়ন বঞ্চিত রয়েছেন। এ লক্ষ্যে আগামী ২১ এপ্রিল শনিবার সকাল ১১ ঘটিকার সময় কমলগঞ্জ উপজেলা চৌমুহনা চত্বরে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘেষিত প্রাথমিক তালিকা অনুযায়ী কমলগঞ্জ উপজেলার ৪ টি ইউনিয়ন (শমশেরনগর, আলীনগর, আদমপুর ও ইসলামপুর) মৌলভীবাজার-৪ সংসদীয় আসনের সাথে বহাল রাখার দাবিতে সর্বস্তরের জনসাধারণের পক্ষ থেকে এক বিরাট মানববন্ধন এর আয়োজন করা হয়েছে। এতে কমলগঞ্জ উপজেলার ৪ টি ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিরা উক্ত মানববন্ধনে সকলের স্বতঃস্ফুর্ত উপস্থিতি কামনা করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেশের ভৌগলিক অবস্থান ও জনসংখ্যার ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন ২০০৮ সালে দেশের বেশ কিছু আসনে পরিবর্তন করে যার মধ্যে মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) এর কমলগঞ্জ উপজেলাকে বিভাজন করে শমশেরনগর, আলীনগর, আদমপুর ও ইসলামপুর ইউনিয়নকে মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া-কমলগঞ্জ আংশিক) আসেেনর সাথে সম্পৃক্ত করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে নির্বাচন কমিশন পুনরায় এই চারটি ইউনিয়নকে মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের সাথে সম্পৃক্ত করে খসড়া তালিকা প্রকাশ করলে ষড়যন্ত্র করে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। অতিসম্প্রতি একটি প্রভাবশালী স্বার্থান্বেষী মহলের প্ররোচনায় কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ইসলামপুর ইউনিয়নের মকাবিল গ্রামের জনৈক হামিদুর রহমান নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন চার ইউনিয়নকে কুলাউড়ার সাথে বহাল রাখতে। নির্বাচন কমিশনে অভিযোগের আলোকে আগামী ২৩ এপ্রিল শুনানী অনুষ্ঠিত হবে এবং ৩০ এপ্রিল চুড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন খসড়া তালিকায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আলীনগর, শমশেরনগর, আদমপুর ও ইসলামপুর ইউনিয়নকে মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া-কমলগঞ্জ আংশিক) আসন থেকে বাদ দিয়ে পুরো কমলগঞ্জ উপজেলাকে একত্রিত করে মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনে সম্পৃক্ত করে গত ১৪ মার্চ বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন এর ওয়েবসাইটে জাতীয় সংসদের ৩০০টি নির্বাচনী এলাকার সীমানার প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করে। এতে কমলগঞ্জ উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের এলাকাবাসী আনন্দিত হলেও একটি সুবিধাবাদী পক্ষ গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে চার ইউনিয়নকে দুরবর্তী কুলাউড়া উপজেলার সাথে বহাল রাখতে।
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ সদস্য, কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো: রফিকুর রহমান এর নেতৃত্বে গত ১৭ এপ্রিল স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে কমিশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সাথে দেখা করে কমলগঞ্জ উপজেলাকে অখন্ডিত রাখার জোর দাবি জানান। এ সময় কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান, জেলা আওয়ামীলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মো: সিদ্দেক আলী, আলীনগর ইউপি চেয়ারম্যান, কমলগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ফজলুল হক বাদশা, শমশেরনগর ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ নেতা জুয়েল আহমেদ, আদমপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
এলাকাবাসী জানান, আমরা চার ইউনিয়নের সাধারন মানুষ আমরা কুলাউড়া উপজেলার সাথে যেতে চাইনা। প্রশাসনিক জটিলতা আর ভৌগলিক দুরত্বের কথা বিবেচনা করে আমাদেরকে মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের সাথে সম্পৃক্ত রেখে চুড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রুউফ স্মৃতি সংসদ কর্তৃক ছাত্রছাত্রীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

2018-04-20--00_23_11

বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রুউফ স্মৃতি সংসদ কর্তৃক ছাত্রছাত্রীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। বৃহস্পতিবার ১২ঘটিকার সময় কমলগঞ্জ উপজেলা পতনঊষার ইউমিয়নের রামেশ্বরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্টিত হয়। অনুষ্টানে প্রধান অতিথি হিসাব উপস্থিত ছিলেন পতনঊষার ইউপি চেয়ারম্যান ইন্জিনিয়ার তওফিক আহমদ বাবু। অনুষ্ঠােনে সভাপতিত্ব করেন স্মৃতি সংসদের সভাপতি খালেদজ্জামান। পরিচালনা করেন সাধারন সম্পাদক হুমায়ুন আহমদ মিলন। বক্তব্য সমাজসেবক জাহেদুল হক, প্রধান শিক্ষিকা আফিয়া বেগম প্রমুখ। অনষ্ঠান ৪০ জনকে ব্যাগসহ শিক্ষা উপকরন বিতরন করা হয়।

কমলগঞ্জে অন্তসঃত্তা গৃহবধুর গলায় ফাঁস লাগানো মরদেহ উদ্ধার

আসাবুব ইসলাম শাওন

2018-04-19--14_31_32
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের এক অন্তসঃত্ত্বা গৃহবধুর গলায় ফাঁস লাগানো অবস্হায় মরদেহ উদ্ধার করেছে কমলগঞ্জ থানা পুলিশ।
জানা যায়, কমলগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের চৈতন্যগঞ্জের চঠিয়া এলাকার আবুল মিয়ার স্ত্রী পাঁচ মাসের অন্তসঃত্ত্বা সাইফুল বেগম (৩৫) গত বুধবার দিবাগত রাত অনুমানিকক আড়াইটার দিকে বাড়ীর পেছনের বারিন্দার চালার মধ্যে গলায় গামছা পেঁছানো অবস্থায় লাশ পাওয়া যায়।

বৃহস্পতিবার (১৯ এপ্রিল) সকাল এগারোটায় সংবাদ পেয়ে কমলগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক ওসি (তদন্ত) মোঃ নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে এসআই আব্দুস শহীদ ও এএসআই তফাজ্জল হোসেন সহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্হলে গিয়ে গৃহবধুর মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল তৈরী করে ময়না তদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
এদিকে মায়ের ফাঁস লাগানোর জায়গায় দাড়িয়ে বড় ছেলে শিপু আহমেদ (১২) মা, মা, বলে বিলাপ করছিল।ছেলেটির কান্না দেখে এলাকার পাড়া পড়শীরা শান্তনা দেওয়ার ভাষা যেন হারিয়ে ফেলেছেন।
স্হানীয়রা জানায়,পারিবারিক কলেহের জের ধরেই এটি হত্যা বা আত্নহত্যার এ ঘটনা ঘটতে পারে।
এ ব্যপারে কমলগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক ওসি (তদন্ত) মোঃ নজরুল ইসলামের সাথে আলাপকালে তিনি জানান,সংবাদ পেয়ে গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল তৈরী করে ময়না তদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে আসলে বুঝা যাবে, এটি হত্যা নাকি আত্নহত্যা?

শমশেরনগ ইসলামিক মিশনের উদ্যোগে সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ প্রতিরোধ বিষয়ক আলোচনা সভা ও সেলাই মেশিন বিতরণ

 কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

Pic- 20.

 

কমলগঞ্জে ইসলামিক মিশন, শমশেরনগর এর উদ্যোগে সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ প্রতিরোধ বিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে জাতীয় যাকাত বোর্ডের মাধ্যমে সেলাই প্রশিক্ষণ সমাপ্তকারী দুঃস্থ মহিলাদের মধ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে।

১৮ এপ্রিল বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় শমশেরনগর ইসলামিক মিশন কার্যালয়ে আলোচনা সভা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়।

শমশেরনগর ইসলামিক মিশন এর সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডা: মো: মোহেব্বুল হক এর সভাপতিত্বে ও হিসাব সহকারী মো. খাইরুল আমীনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোঃ সিরাজুল ইসলাম। আলোনায় অংশ নেন আইডিয়াল কিন্ডার গার্টেন স্কুলের অধ্যক্ষ মুজিবুর রহমান রঞ্জু, বিএএফ শাহীন কলেজের ধর্মীয় শিক্ষক মাও: মিজানুর রহমান, লেখক-গবেষক আহমদ সিরাজ, সাংবাদিক নূরুল মোহাইমীন মিল্টন, ইসলামিক মিশন এর হোমিও চিকিৎসক মাও: সরফুদ্দীন হোসেন চৌধুরী প্রমুখ। আলোচকরা সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ প্রতিরোধে যুবসমাজকে সচেতন করে তোলা এবং এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। আলোচনা সভা শেষে শমশেরনগর ইসলামিক মিশন এর উদ্যোগে জাতীয় যাকাত বোর্ডের মাধ্যমে সেলাই প্রশিক্ষণ সমাপ্তকারী দুঃস্থ ৯ জন মহিলাকে একটি করে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়।

কমলগঞ্জের কৃষকের স্বপ্ন ভেঙ্গে যাচ্ছে

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

Pic- B

বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় কমলগঞ্জের বিভিন্ন অঞ্চলে আগে-ভাগেই ইরি-বোরো চাষাবাদে নেমে পড়েন কৃষকরা। প্রথম দিকে আবহওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলনের স্বপ্ন দেখেন ইরি-বোরো চাষীরা। হঠাৎ কৃষককের সেই স্বপ্নে এক ধরনের পোকার আক্রমণ ও ব্লাস্টসহ নানা রোগ দেখা দিয়েছে। ফলে আবহওয়ার বৈরী আচারণে জেলায় ইরি-বেরো ক্ষেতে পোকাসহ নানা রোগের আক্রমণে চাষের লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। কমলগঞ্জের পতনঊষার ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামের বোরো চাষাবাদকারী কৃষক জুনাব আলী, রফিক মিয়া, পরিমল দেবনাথ, সুজিত মালাকারসহ একাধিক কৃষক জানান, বোরো ধান তোলার সময় সম্মুখীন কিন্তু ব্রি-ধান-২৮ ধানের ছড়ায় চুচা (ব্লাস্ট) এবং একধরনের লালটি দেখা দিয়েছে। ফলে কৃষকরা হতাশায় ভোগছেন। তাদের স্বপ্নও পোকা ধরেছে। এ ব্যাপারে কমলগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা প্রদ্যুত কুমার পাল জানান, ব্রি-ধান ২৮ এর উপর সারাদেশে (ব্লাস্ট) বীজ বাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। বৈরী আবহওয়ার কারণেই ব্লাস্ট রোগ দেখা দিতে পারে। কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামছুদ্দিন আহমদ জানান, এটি মূলত ২৮ ধানের উপর। ক্লোন ইনজুরি রোগ। এটির কোন ঔষধ নেই। প্রাকৃতিক কারণে এটি হয়েছে।

জীবন-সংগ্রাম: কমলগঞ্জের দু’ পা নেই, তবুও থেমে নেই !

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

Pic- Promud

কোন রকম কষ্টের মধ্য দিয়ে জীবন নিয়ে বেঁচে আছেন। যেন দেখার কেউ নেই। কতই না প্রতিশ্র“তি পেয়ে থাকেন।  আশ্বাসে নি:শ্বাস নিয়ে আছেন। কিন্তু বাস্তবটা বড়ই ভিন্ন! দু; পা নেই তবুও যেন মনের জোর ও বিশ্বাস নিয়ে জীবন সংগ্রাম করে চলাফেরা করছেন। কুটির শিল্প এখন তাঁর নিত্য সঙ্গী। কাঁদতে কাঁদতে এসব কথা বললেন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের সোনারগাঁও গ্রামের বাসিন্দা মৃত প্রহল্লাদ  দেবনাথ এর ছেলে প্রমোদ দেবনাথ। গত বৃহস্পতিবার (১২ এপ্রিল) বিকালে সরজমিন সোনারগাঁও গ্রামের বাড়ীতে গিয়ে দেখা যায়, দু’পা নেই তবুও যেন থেমে নেই। কুটির শিল্পের কাজ করছেন। বাঁশের তৈরি টুকরী বুনন করতে দেখা যায়। নানা বিষয়ে নিয়ে কথা হয়।  আজ থেকে প্রায় বিশ বছর পূর্বে একটি জটিল রোগে তিনি আক্রান্ত হলে অনেক চিকিৎসার ফলেও তিনি সুস্থ হতে পারেননি। একটি পা কর্তন করা হয়। একটি পা কর্তনের পর দুর্বিস যন্ত্রণা নিয়ে বগলি নিয়ে জীবন চলাফেরা করতে থাকেন। অনেক যন্ত্রণা নিয়ে ১০ বছর কেটে গেল। কিন্তু পুনরায় আবার সেই জটিল রোগ দেখা দিল। সেই রোগে অন্য পা টিও কর্তন করতে হল। এমন যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থেকেও তিনি মরে আছেন। পুঙ্গত্ব জীবন নিয়ে জীবন-সংগ্রামে নেমে পড়েন। কুটির শিল্প বুনন করে প্রতিদিন ৭৫/৮০ টাকা রোজগার করছেন। কুটির শিল্পের মধ্যে গ্রামের ভাষায় টুকরী বা উড়ি, ঝাকা, ধুছইন বানিয়ে বিক্রি করছেন। তিনি জানান, একটি বড় বাঁশে ৪ থেকে ৬টি টুকরী হয়। তার মধ্যে তিনি অর্ধেক নেন, বাকিগুলো যে বাঁশ দেবে তিনি নেন। প্রতিদিন ১টি টুকরীর বেশি তৈরী করা সম্ভব হয় না। একটি টুকরী ৭৫/৮০ টাকা বিক্রি করা যায়। জীবন যুদ্ধে কষ্ট করে দিনাপাত করছেন তিনি। সরকারী কোন সুযোগ সুবিধা পান কি না এমন উত্তরে জানান, অনেকেই আসেন, অনেকেই আশ^াস দিয়ে যান সেই আশ^াসের মধ্যে নি:শ^াস নিয়ে আছি। তবে কয়েকবছর পূর্বে সাংবাদিক প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ এর মাধ্যমে পতনঊষার ইউপি চেয়ারম্যান হাজী এখলাছুর রহমান থাকাকালীন সময়ে একটি ভাতার ব্যবস্থা করে দেয়া হয়েছিল। সেই ভাতা পাচ্ছেন। গত দুই বছর পূর্বে শারদীয় দূর্গোৎসব উপলক্ষে সাংবাদিক পিন্টু দেবনাথ এর মাধ্যমে জুবেদা খাতুন ফাউন্ডেশন ট্রাষ্ট কর্তৃক ২ হাজার টাকা পান। এছাড়া সেলিম আহমদ চৌধুরী চেয়ারম্যান থাকাকালীন তাঁর ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে একটি হুইল চেয়ার প্রদান করেন। হুইল চেয়ারটি ভেঙ্গে গেছে। তিনি আরেকটি হুইল চেয়ার ক্রয় করেছেন সেই চেয়ার দিয়ে চলাফেলা করছেন। সেটা পুরানো হয়ে ভেঙ্গে যাওয়ার উপক্রম।
বসে বসে কাজ করতে আপনার কোন কষ্ট হয় না এমন প্রশ্নের উত্তরে বলেন, বসা ছাড়াতো আমার আর কোন উপায় নেই, সব কাজ কর্ম বসেই করতে হয়।
দু’পা নেই তবুও থেমে নেই। জীবন-সংগ্রামে এই ব্যক্তিটি অতি যন্ত্রণা নিয়ে কোনভাবে বেঁচে আছেন। একুট সহযোগিতা পেলে হয়তো শেষ বয়সে সুখে শান্তিতে থেকে শেষ নি:শ^াস নিতে পারবেন।

কমলগঞ্জে বন আইনে সাজাপ্রাপ্ত আসামী কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

Pic- Abdur Rohim

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে বন আইনে ৩ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামী আব্দুর রহিম (৪০) কুমিল্লার বুড়িচং বাজার থেকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ এপ্রিল) দিবাগত রাতে কমলগঞ্জ থানার এসআই কৃষ্ণ মোহন দেবনাথ এর নেতৃত্বে এএসআই  আনিসুর রহমানসহ সঙ্গীয় ফোর্স এ অভিযান পরিচালনা করেন। আজ বুধবার (১৮ এপ্রিল) আদালতে সোপর্দ করা হবে।
কমলগঞ্জ থানার এসআই কৃষ্ণ মোহন দেবনাথ কমলকুঁড়িকে জানান, ২০০৪ সালে বন আইনে ৩ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামী কমলগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাঘমারা গ্রামের আব্দুল আলীম এর পুত্র আব্দুর রহিম (৪০) দীর্ঘদিন পলাতক ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (১৭ এপ্রিল) দিবাগত রাতে কুমিল্লা জেলা বুড়িচং থানার পুলিশের সহায়তায় বুড়িচং বাজারে ফার্নিচার দোকান থেকে আব্দুর রহিমকে আটক করা হয়। আজ বুধবার আদালতে সোর্পদ করা হবে। কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল মোকতাদির পিপিএম গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।