সদ্য সংবাদ

বিভাগ: বিনোদন

‘রাখি বন্ধন’ এর রাখি !

141

    বিনোদন ডেস্ক :

কোন ক্লাসে পড়ে ছোট্ট রাখি- স্টার জলসার জনপ্রিয় সিরিয়াল ‘রাখি বন্ধন’ এভাবে জাদুজাল বিস্তার করে চলেছে এ দেশের অগণিত খুদে দর্শকের মনে। যেসব শিশু সিরিয়ালটির নিয়মিত দর্শক, তাদের মায়েরা বলেন, এই সিরিয়াল শুরু হলে খুদে দর্শকদের টিভির সামনে থেকে নড়ানোই যায় না। তখন তাঁরাও বসে যান নিজের ছেলে বা মেয়ের পাশে। এভাবে তাঁরাও এখন নিয়মিত দর্শক।
একজন খুদে মডেল ও অভিনেত্রী হিসাবে খুবই জনপ্রিয় ‘রাখি বন্ধন’ সিরিয়ালের রাখি অর্থাৎ কৃতীকা চক্রবর্তী। স্টার জলসা চ্যানেলের ধারাবাহিকের সবচেয়ে ক্ষুদে চরিত্র হল এই রাখি। মাত্র চার বছর বয়সে টেলি পর্দায় আসে এবং সকলের মন জয় করে কৃতীকা। অভিনয়ের পাশাপাশি শিশু শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে ছোট্ট রাখি।

‘রাখি বন্ধন’ সিরিয়ালেরও রয়েছে বিশেষ আকর্ষণ। এই আকর্ষণ এখন কচি মনকেও স্পর্শ করেছে। শহর-বন্দর-গ্রামে যেখানে স্টার জলসার জাদুজাল রয়েছে, সেখানে অনেক খুদে দর্শক এখন উন্মুখ হয়ে থাকে—কখন রাত সাড়ে ১০টা বাজবে। বাংলাদেশের এই সময়টাতেই শুরু হয় ‘রাখি বন্ধন’।
কেবল শিশুরাই নয়, সব বয়সী দর্শকই এখন আঠার মতো চোখ লাগিয়ে বসে এই সিরিয়াল দেখতে। এমনকি তিন বছরের শিশু, যার কাহিনি বোঝার মতো বোধ নেই, সেও এই সিরিয়ালে একেবারে চোখ বিঁধিয়ে বসে। ছোট্ট রাখি কী করে, একঠায় দেখে আর কুটকুট হাসে।
সংগত কারণেই প্রশ্ন এসে যায়, কী আছে ‘রাখি বন্ধনে’? সিরিয়ালের কাহিনি মূলত রাখি ও বন্ধন নামের দুটি শিশুকে নিয়ে। বন্ধন ভাই। রাখি তার বোন। ওদের বাবা-মা নেই। জেঠু আর জেঠির কাছে থাকে। দাদামশাইয়ের বাড়ি। তবে সংসারটা এখন জেঠু-জেঠির। জেঠুর মুখ থেকে জানা যায়, রাখি-বন্ধনের মা-বাবা সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। শিশু হিসেবে রাখি একেবারেই ফুলের কুঁড়ি। বয়স পাঁচ কি ছয়। ভাই বন্ধন একটু ডাগর। ১২-১৩ বয়স। জেঠু-জেঠির ঘরে আবার দুই ছেলেমেয়ে।
জেঠি চান নিজের মনের একলার সংসার, যেখানে রাখি-বন্ধনের মতো আপদ থাকবে না। জেঠু আবার ভাইয়ের ছেলেমেয়ের প্রতি একটা টান অনুভব করেন। হাজার হলেও তাঁর বংশধর। কিন্তু বউয়ের ভয়ে ভাইপো আর ভাইঝিকে দরাজ দিলে আদর করতে পারেন না। চুপিচুপি করেন। এদিকে পড়াশোনা করার সুযোগ না পাওয়া বন্ধনের লক্ষ্য একটাই—ছোট বোনকে খুব ভালো স্কুলে পড়াবে। মানুষের মতো মানুষ করবে। এখানে সেই স্কুল বলতে ব্যয়বহুল এক অভিজাত স্কুল দেখানো হয়েছে, যেখানে শ্রেণিবৈষম্য প্রকট।

জেঠির নির্মমতা গল্পকাহিনির কুটিল সৎমা তো বটেই, ঠান্ডা মাথার খুনিকেও হার মানায়। গলগ্রহ বলে প্রতিভাত রাখি-বন্ধনকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করতে রাত-দিন নানা ফন্দিফিকির ঘুরপাক খায় তার মাথায়। ছোট ভাই মদনা তার যাবতীয় দুষ্কর্মের সহযোগী। এই দুজন মিলে রাখি আর বন্ধনের রোজকার জীবন নানাভাবে বিষিয়ে তোলে।
এমনকি জেঠি চম্পা চামেলী দাস নামের এক নারী শিশু পাচারকারীর কাছে চড়া দামে রাখিকে বিক্রিও করে দেয়। একই সঙ্গে রাখি-বন্ধনের জন্য মা-বাবার রেখে যাওয়া ৪০ লাখ টাকাও হাতিয়ে নিতেও তার চেষ্টার ত্রুটি নেই। এদিকে চম্পা চামেলী আবার চড়া দামে ছোট্ট রাখির কিডনি বিক্রির ধান্দা করে সিরিয়ালে সাসপেন্সের খোরাক দিচ্ছে। মোটামুটি এভাবেই সিরিয়ালটির কাহিনি এগিয়ে চলেছে।
এটি যদি ছোটদের উপযোগী বিনোদনের বিষয় হতো, তাহলে কোনো কথা ছিল না। এ থেকে ছোটদের শেখার মতো যদি কিছু থাকত, তাহলেও কোনো প্রশ্ন উঠত না। কিন্তু কাহিনি ও বিষয়বস্তু মিলিয়ে এটি মোটেও ছোটদের সিরিয়াল নয়। বড়দের সিরিয়াল। এর কাহিনিবিন্যাসে পদে পদে রয়েছে অবোধ শিশুর প্রতি মাতৃস্থানীয় দুই নারীর নির্মমতা, প্রবঞ্চনা, ছলচাতুরী, সুবিধা বাগানোর কারসাজি। আছে প্রতিকূলতা জয় করার নামে দুই শিশুর অবাস্তব লড়াই। আর আছে কিছু সস্তা ভাঁড়ামো।

সিরিয়ালের মূল আকর্ষণ রাখি নামের ছোট্ট শিশুটি। সে তোতাপাখির মতো টরটর করে কথা বলে। বড়দের অনেক বিষয়ে মন্তব্য করে জ্ঞান দেয়। এটা ঠিক যে রাখির কিছু আবেগপ্রবণ কথা প্রায়ই অনেক দর্শকের মন আর্দ্র করে তোলে। কিন্তু একজন পুরোহিত তাঁর মন্ত্রের অর্থ জানে কি না, এ প্রশ্ন তার কচি মুখে মানায় না। আরও মানায় না জেঠুর ‘আই লাভ ইউ’ সংলাপ আওড়ানো। পড়শি নারীর প্রেমে মজে রঙ্গরাজ জেঠু এটা বলেছেন।

এটুকু বয়সে এখনও পর্যন্ত প্রায় ১৪ লক্ষ টাকা আয় করে ফেলেছে এই খুদে তারকা। ৮ থেকে প্রায় ১০ ঘণ্টা স্টুডিওর গণ্ডির মধ্যেই থাকতে হয় তাকে। ২০১৭ সালে সেরা খুদে তারকার সম্মানও অর্জন করে কৃতীকা। পাশাপাশি ছবি তুলতেও খুব ভালবাসে ছোট্ট রাখি। এমনকি ছবি তুলে সেটাকে সুন্দর ভাবে এডিট ও করতে পারে সে। সুতরাং অভিনয় শুধু নয় তার পাশাপাশি অন্যান্য দিকেও বেশ পারদর্শী ছোট্ট রাখি।

সাংবাদিকের ভূমিকার কোয়েল !

3Shares

141

 ডেস্ক রিপোর্ট:

নিজের অভিনয় গুণে দর্শকের মাঝে তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছেন কোয়েল মল্লিক। সিনেমার সঙ্গে তার সখ্যতা সেই ছোটবেলা থেকেই। বাবা রঞ্জিত মল্লিকের হাত ধরে সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির মাঝে বেড়ে উঠেছেন।
এই অভিনেত্রী এখন ‘যক্ষের ধন’র সিক্যুয়ালের কাজ করছেন। এর সঙ্গে নতুন একটি সিনেমায়ও কাজ করতে যাচ্ছেন কোয়েল মল্লিক। এবার তাকে দেখা যাবে অভিমন্যু মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় নতুন একটি থ্রিলার ছবিতে।
এই সিনেমার প্রধান চরিত্রে থাকছেন তিনি। ছবিটিতে তাকে দেখা যাবে সাংবাদিক চরিত্রে। এছাড়া অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করবেন শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়, গৌরব চক্রবর্তী’সহ অনেকে।
কোয়েল মল্লিক ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘আমার চরিত্রের নাম বিদিশা। মেয়েটি স্বাধীনচেতা, ঠোঁটকাটা। পেশায় সাংবাদিক। স্কুটি চালিয়ে বিভিন্ন জায়গায় যায়। থ্রিলারকেন্দ্রিক হলেও ছবিটা ভীষণ রিয়েলিস্টিক।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই মেয়েটা মারকুটে নয়। কিন্তু চিন্তাভাবনা স্বচ্ছ। যেটা করবে বলে মনে করে, সেটা করবেই। সত্যের জন্য লড়তে তার কোনও দ্বিধা নেই। এর জন্য কারও অনুমতি নেয়ারও প্রয়োজন বোধ করে না।’
এই সিনেমায় কোয়েলকে স্কুটি চালাতে দেখা যাবে। এই নায়িকা বলেন, ‘অনেক বছর আগে সিনেমার জন্যই স্কুটি চালানো শিখেছিলাম। এবার তেমন সমস্যা হবে না।’
এ মাসের শেষে শুটিং শুরু হতে চলেছে ছবিটির। শুরুর দিকে শুটিং হবে কলকাতার বিভিন্ন ব্যস্ত রাস্তায়।  সিনেমাটি নিয়ে এরই মধ্যে নিজের প্রস্তুতি শেষ করেছেন বলে জানিয়েছেন কোয়েল মল্লিক।
উল্লেখ্য এর আগেও একাধিক সিনেমায় সাংবাদিক চরিত্রে অভিনয় করেছেন কোয়েল মল্লিক।

কমলগঞ্জের সঙ্গীতের ভূবনে একটি নাম চা শ্রমিক সন্তান কান্তি বাড়াইক

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

1000
চা শ্রমিক সন্তান কান্তি বাড়াইক। সঙ্গীতের ভূবনে এক নীরব নাম। যদিও অন্যান্য শিল্পীর মতো নাম, যশ, খ্যাতি কোনটাই নেই। তবুও গান লেখা ও গাওয়া তাঁর নেশা। সুযোগ সুবিধা না থাকায় সুপ্ত প্রতিভা বিকাশ ঘটাতে পারছেন না। যদি কোন মিডিয়া সুযোগ করে দেয় তাহলে তাঁর জীবনটা স্বার্থক হবে এমনই বিশ্বাস করছেন।
কমলগঞ্জ উপজেলার ১নং রহিমপুর ইউনিয়নের মিরতিংগা চা বাগানের মৃত: আনন্দ বাড়াইক ও বিলাশ বাড়াইক এর পুত্র কান্তি বাড়াইক। ১৯৬৭ সালে  ৩১ ডিসেম্বর জন্ম গ্রহণ করেন। ৩ ভাইদের মধ্যে তিনি মধ্যম। ছোট বেলা থেকে গান গাওয়ার নেশা জাগে। অভাব অনটনের মধ্যে লেখাপড়া তেমন একটা করতে পারেননি। এর মধ্যে ১৯৯৬ সালে ৭টি গান নিয়ে “সুন্দরী নারী” নামক একটি ক্যাসেট বের হয়। ২০০৪ সালে আরও ৭টি গান নিয়ে “সবিতা আমার হারিয়ে গেছে” নামক ক্যাসেট বের হয়। মাঝে মধ্যে গ্রামের অনুষ্ঠানে তিনি সঙ্গীত পরিবেশন করেন। নেই কোন অর্থ কড়ি, চা শ্রমিক সন্তান থাকায় সামনের দিকে এগুতে পারছেন না। চলতি বছরের বিটিভির একটি টিম মিরতিংগা চা বাগানে আসলে দেখা হয় কান্তি বাড়াইকের সাথে। তারা ২টি গান রেকডিং করেন। এরমধ্যে ৩০ এপ্রিল দুপুর ২টায় বিটিভিতে গান ২টি প্রচার করা হয়। গানের কলি “ আমার গান যখন তুমি শুনবে, আমাকে তোমার মনে পড়বে”/ চা বাগানে নতুন পাতা, সবুজ বরণ টিলা”। এটি ইউটিভিতে সার্জ করলে দেখা যাবে। (bangla new song kanti baraik).

124 copy

পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী চা শ্রমিক সন্তান হয়েও মনের প্রবল ইচ্ছা জোর নিয়ে তিনি প্রায় ২০০টি সঙ্গীত রচনা করেছেন। তাঁর লেখা গান ও সুর দিয়ে তিনি নিজেই পরিবেশন করেন।  বিশেষ করে তিনি মুক্তিযোদ্ধা, খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষে, শহর-গ্রামাঞ্চল  ও শিশু শিক্ষার্থীসহ আধুনিক গান লিখা রয়েছে। সামনে আরও এ্যালবাম বের করার ইচ্ছা রয়েছে। তিনি কোন মিউজিক সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবী জানান গানের একটু সুযোগ করে দেয়ার জন্য। #

কমলগঞ্জের ইভা জাতীয় পর্যায়ে দেশাত্ববোধক গান প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছে

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

Eva, Kamalgonj
জাতীয় শিা সপ্তাহ-২০১৮ উপলে আয়োজিত দেশাত্মবোধক গান প্রতিযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ে প্রথম হয়েছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর বিএএফ শাহীন কলেজের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী জারিন মোসাররাত ইভা। তাঁকে আগামী ঈদুল আজহার পরে ঢাকায় জাতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে শ্রেষ্ঠত্বের সনদপত্র ও ক্রেস্ট প্রদান করা হবে।  গত ১৫-১৬ মে অনুষ্ঠিত ঢাকা সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজে জাতীয় পর্যায়ে দেশাত্মবোধক গানে ৩৫ টি ইভেন্টে ৬ষ্ট-৮ম শ্রেণির শিার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করে সে সারাদেশের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করে। এছাড়া স্থানীয়ভাবে ইভা বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে খ্যাতি অর্জন করেছে।
জারিন মোসাররাত ইভা কমলগঞ্জ পৌরসভার চন্ডিপুর এলাকার বাসিন্দা অ্যাডভোকেট মোঃ আব্দুল আহাদের একমাত্র কন্যা। সে সকলের দোয়াপ্রার্থী।

না ফেরার দেশে চলে গেলেন অভিনেত্রী তাজিন আহমেদ

বিনোদন ডেস্ক

ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তাজিন আহমেদ আর নেই, (ইন্নালিল্লাহি… রাজিউন)। মঙ্গলবার ২১ মে বিকাল চারটা ৩৫ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দুপুর ১২টার দিকে উত্তরার বাসাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হন তাজিন আহমেদ। এরপর তাকে উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের রিজেন্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে কয়েক ঘণ্টা লাইফ সাপোর্টে রাখার পর তাজিন আহমেদ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এই অভিনেত্রীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন অভিনয় শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব নাসিম। তিনি বলেন, মৃত্যুর আগে তাজিনকে ইলেক্ট্রিক শক দিয়েও রাখা হয়েছিল। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। তাজিন ৪ টা ৩৫ মিনিটে আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন।

জানা যায়, তাজিন আহমেদের এজমার সমস্যা ছিল। হার্টের কোনো সমস্যা ছিল এটা জানা ছিল না। হঠাৎ করেই দুপুর ১২ টার দিকে তিনি হৃদরোগে আক্রান হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর করে তাজিন আহমেদ ভোরের কাগজ, প্রথম আলোসহ বিভিন্ন পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেছেন। আনন্দ ভুবন ম্যাগাজিনের কলামিস্টও ছিলেন তিনি। পরে মার্কেন্টাইল ব্যাংকে পাবলিক রিলেশন অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মা দিলারা জলির প্রোডাকশন হাউজ ছিল। মায়ের হাত ধরেই অভিনয়জগতে প্রবেশ করেন তাজিন। ‘নাট্যজন’ নাটকদলের হয়ে তিনি মঞ্চে কাজ করেছেন। ২০০০ সালে ‘আরণ্যক’ নাট্যদলে যোগ দিয়ে এখনো ‘আরণ্যক’-এর সঙ্গে যুক্ত আছেন। টিভিনাটকে অভিনয় করে পরবর্তীসময়ে দর্শকের কাছে প্রিয় হয়ে ওঠেন তাজিন আহমেদ। রেডিও এবং টেলিভিশনে উপস্থাপনাও করেছেন। লেখালেখিও করেন তিনি। তাজিনের লেখা ও পরিচালনায় তৈরি হয় ‘যাতক’ ও ‘যোগফল’ নামে দুটি নাটক। তার লেখা উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো হচ্ছে ‘বৃদ্ধাশ্রম’, ‘অনুর একদিন’, ‘এক আকাশের তারা’, ‘হুম’, ‘সম্পর্ক’ ইত্যাদি।

কমলগঞ্জে ২৬ লাখ ৫৭ হাজার টাকা ব্যয় নতুন বিদ্যুতায়নের শুভ উদ্বোধন

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

Pic- MP Kamalgonj
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ২৬ লাখ ৫৭ হাজার টাকা ব্যয় বিদ্যুতায়নের উদ্বোধন করা হয়েছে। রবিবার (২০ মে) বিকাল ৪টায় উপজেলার করিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকারি প্রতিশ্র“তি সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক চিফ হইপ বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ উপাধ্য ড. মো: আব্দুস শহীদ এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ বিদ্যুতায়ন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিকভাবে শুভ উদ্বোধন করেন।
মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সভাপতি মো: কামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক, উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি এম মোসাদ্দেক আহমেদ মানিক, কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো: মোকতাদির হোসেন পিপিএম, কমলগঞ্জ পৌর মেয়র মো: জুয়েল আহমেদ, ১নং রহিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো: ইফতেখার আহমেদ বদরুল, উপজেলা বিআরডিবি চেয়ারম্যান মো: ইমতিয়াজ আহমেদ বুলবুল, কমলগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম গোলাম ফারুক মীর, কমলগঞ্জ পৌর কাউন্সিলর আনসার শোকরানা মান্না, দেওয়ান আব্দুর রহিম মুহিন, মোছা: মুছলিমা বেগম ও উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক মো: আব্দুল মালিক বাবুল।
কমলগঞ্জ পৌরসভার করিমপুর-গোপালনগর-নছরতপুর-যোদ্ধাপুর গ্রামের ১০৭ জন গ্রাহককে বিদ্যুতের আওতায় আনা হয়েছে। এতে ১.৭৭ কি:মি: লাইনে ২৬ লাখ ৫৭ হাজার টাকা ব্যয় হয়।

রাস্তায় বৈদ্যুতিক খুঁটির টানা তার নির্মাণের অভিযোগে সংবাদ সংগ্রহকালে : কমলগঞ্জে ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে দুই সাংবাদিককে হুমকি ও অবরুদ্ধ

 নিজস্ব প্রতিবেদক

Kamalgonj Pic-2
মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নবনির্মিত লাইন স্থাপনে বৈদ্যুতিক খুঁটির সাথে তারের টানা রাস্তার মাঝখানে স্থাপন করার অভিযোগে সরেজমিনে সংবাদ সংগ্রহকালে ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে দলবল নিয়ে দুই সাংবাদিককে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আড়াই ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সাংবাদিকদের উদ্ধার করে। এ ঘটনায় রহিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের কাছে দু:খ প্রকাশ করেন। গতকাল রবিবার সকাল পৌণে ১১ টায় কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ বড়চেগ গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।
সরেজমিনে দেখা যায়, রহিমপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ বড়চেগ গ্রামের আসাদ মিয়ার বাড়ির পার্শ্ববর্তী রাস্তায় নবনির্মিত লাইন স্থাপনে বৈদ্যুতিক খুঁটির তারের টানা রাস্তার মাঝখানে স্থাপন করা হয়। জনসাধারণের অসুবিধা না করে তারের টানা খুঁটি রাস্তার পাশে স্থাপন করার জন্য এলাকাবাসী গত শনিবার কর্মরত শ্রমিকদের আপত্তি জানান। বিষয়টি অবলোকনের জন্য ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকাবাসীর অভিযোগের পর স্থানীয় ইউপি সদস্য মাহমুদ আলীর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অনুমতি ছাড়া সাংবাদিকদের প্রবেশ বিষয়ে প্রশ্ন করে উত্তেজিত হয়ে উঠেন। এরপর ফোন কেটে তিনি তার ছেলে বাবেল সহ দুই মোটরসাইকেল নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে এসেই কমলগঞ্জের সমকাল প্রতিনিধি প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ ও ইত্তেফাক প্রতিনিধি নূরুল মোহাইমীন মিল্টন এর উপর আক্রমনের চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে ইউপি সদস্য মাহমুদ আলী (৫৫) ও তার ছেলে বাবেল মিয়া (২৫) সাংবাদিকদের উপর মারমুখী হয়ে উঠলে স্থানীয়রা তাদের প্রতিহত করেন। তারা রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় ওই দুই সাংবাদিকে মেরে গুম করারও হুমকি দেন। এরপর সাংবাদিকরা সেখানে আটকা পড়লে খবর পেয়ে অন্যান্য সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে আসেন এবং কমলগঞ্জ থানার ওসি মোকতাদির হোসেন পিপিএম এর নির্দেশে থানার এসআই মো. মাহবুব সহ পুলিশের একটি ফোর্স ঘটনাস্থল থেকে বেলা দুই টায় সাংবাদিকদের নিয়ে আসেন। এই ঘটনা নিয়ে এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোন মুহুূতে বড় ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসি।

Kamalgonj Pic-1
দক্ষিণ বড়চেগ গ্রামের মসু মিয়া, লেবু মিয়া, আসিদ মিয়া, মাসুক মিয়া, হারুনুর রশীদ সহ এলাকাবাসী বলেন, ইউপি সদস্য মাহমুদ আলী পূর্ব থেকেই বিভিন্ন বিষয়ে গ্রামের একটি অংশের উপর ক্ষুব্ধ। বৈদ্যুতিক খুঁটির টানা তার রাস্তায় স্থাপন করলে যাতায়াতে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হবে ভেবে রাস্তার পাশে স্থাপন করার জন্য আপত্তি জানানোর কারনেই ইউপি সদস্য মাহমুদ আলীর ইন্ধনে গ্রামের কয়েক ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করান। বিষয়টি দেখার জন্য সাংবাদিকদের দ্বারস্থ হই এবং সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে আসলেও তাদের মেরে ফেলার হুমকি ও অবরুদ্ধ করে রাখেন।
ঘটনা শুনে রহিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইফতেখার আহমদ বদরুল বেলা আড়াইটায় ইউনিয়ন পরিষদে সাংবাদিকদের নিয়ে হামলাকারী ইউপি সদস্য মাহমুদ আলীসহ অন্যান্য সদস্যদের উপস্থিতিতে অনাকাঙ্খিত ঘটনার জন্য পরিষদের পক্ষ থেকে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে দু:খ প্রকাশ করেন।
কমলগঞ্জ থানার এসআই মাহবুব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, রাস্তায় বৈদ্যুতিক খুঁটির টানা তার স্থাপন করা ঠিক হয়নি। সাংবাদিকদের সাথে ইউপি সদস্য ও তার ছেলের অশোভন আচরনের বিষয়টি এলাকাবাসি আমাকে জানিয়েছে। পরে ঘটনাস্থল থেকে তাদের নিয়ে আসি।
এদিকে কমলগঞ্জের দুই সাংবাদিককে হুমকি ও অবরুদ্ধের ঘটনায় কমলগঞ্জ প্রেসকাবের আহ্বায়ক ও পৌর মেয়র মো. জুয়েল আহমদ, সাংবাদিক সমিতি কমলগঞ্জ ইউনিটের সভাপতি আব্দুল হান্নান চিনু ও কমলগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটি এর সভাপতি পিন্টু দেবনাথ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান।
কমলগঞ্জ থানার ওসি মোকতাদির হোসেন পিপিএম বলেন, ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি এবং এ ঘটনায় কোন লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

মনিপুরী “লাই-হারাওবা” উৎসব

আর কে সোমেন:

0
প্রতি বছরের ন্যায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের কোনাগাঁও গ্রামের “উজাও- লাইরেম্বী লাইশং” মন্দির প্রাঙ্গণে গতকাল (১৭মে বৃহস্পতিবার) বিকেল থেকে শুরু হয়েছে মনিপুরী মৈতৈ জনগোষ্ঠীর অতি প্রাচীনতম ধর্মীয় অনুষ্ঠান “লাই-হারাওবা বা ঈশ্বরকে আনন্দদায়ক করে তোলা” উৎসব-২০১৮।
উদয়ন সংঘের আয়োজনে তিনদিন ব্যাপী এ উৎসবে রয়েছে মনিপুরীদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক নানা অনুষ্ঠান। এতে ভারত ২০জন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করছেন। উৎসবটি ধর্মীয় প্রথা অনুযায়ী প্রতিদিন মাইবীর ঐশ্বরীক বাণীসহ লোকগান, লোকনৃত্য ও ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পরিবেশনের মাধ্যমে অনু্ষ্ঠিত হবে।  মনিপুরী লাই-হারাওবা একটি উৎসব যা মৈতৈ সংস্কৃতির সঙ্গে ওতোপ্রোত ভাবে জড়িত। এটি মূলত, সনামহী ধর্মের ঐতিহ্যগত দেবতাদেরকে উৎসাহিত করার জন্য উদযাপন করা হয়। এই উৎসবে প্রদর্শিত নৃত্য সমূহকে মণিপুরী নৃত্যশৈলীর একটি সুপ্রাচীন নৃত্যধারা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মনিপুরী সমাজে প্রচলিত অন্যতম প্রাচীন লোকনৃত্যানুষ্ঠান ‘লাই হারাওবা জাগোই’ থেকেই এসেছে এই “লাই-হারাওবা উৎসব”।
এই নৃত্যে প্রকৃতি পূজার পরিচয় মেলে। লাই শব্দের অর্থ ইশ্বর, হারাওবা অর্থ আনন্দ এবং জাগোই অর্থ নৃত্য। অর্থাৎ নাচ গানের মাধ্যমে ঈশ্বরকে আনন্দদায়ক করে তোলা। এর ইতিহাস এরকম সৃষ্টিকর্তা যখন জড় ও জীব পৃথিবী সৃষ্টি করলেন এবং পরবর্তীকালে  সষ্টার মূর্তির অনুকরণে মনুষ্য সৃষ্টিতে সফলতা পেলেন তখন দেবদেবীগণ আনন্দে যে নৃত্য প্রকাশ করেছিলেন তারই নাম দেয়া হয়েছে লাই- হারাওবা নৃত্য। তাই লাই হারাওবা নৃত্যে দেখা যায় পৃথিবীর সৃষ্টিতত্ত্ব  থেকে শুরু করে গৃহায়ন, শস্যবপন, জন্ম-মৃত্যু সবকিছুই নৃত্য ও সঙ্গীতের সুর লহরীতে ঝংকৃত হয়। এ নৃত্যের আঙ্গিক অংশগুলো যেমন লৈশেস জাগোই (সৃষ্টিনৃত্য), লৈতা জাগোই (গৃহায়ন নৃত্য) লৈসা জাগোই (কুমারী নৃত্য) প্রভৃতি মনিপুরী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে লোক সংস্কৃতি হিসেবে প্রদর্শিত হয়।  সৃষ্টিলগ্ন থেকে ছয় ধরনের প্রধান লাই-হারাওবা উৎসব উর্যাপিত হয়ে থাকলেও বর্তমানে লাই-হারাওবা নৃত্য দুই ভাবধারায় পরিবেশিত হয়। এই ভাবধারা দুটি হলো মৈরাঙ লাইহারাউবা ও উমঙ লাইহারাউবা। এই দুটি ধারাতেই পরিবশিত হয় নানা ধরনের কাহিনি নির্ভর নৃত্যগীত। এই নাচে তান্ডব ও লাস্য উভয় ধারাই ব্যবহৃত হয়। এই নৃত্য শৈব নৃত্যধারার হলেও, এতে পরবর্তী সময়ে রাসনৃত্যের ভঙ্গীপারেঙ-এর প্রভাব পড়ে ব্যাপকভাবে। এই নৃত্যধারার সাথে জড়িয়ে আছে, মণিপুরের সনাতন ধর্মে বর্ণিত সৃষ্টিতত্ত্ব। মণিপুরের লোক পুরাণ মতে- নয়জন লাইবুঙথ (দেবতা) এবং সাতজন লাইনুরা (দেবী) পৃথিবী সৃষ্টি করেছিলেন। আদিতে পৃথিবী জলমগ্ন ছিল, আর সেই জলের উপর সাতজন লাইনুরা নৃত্য করছিলেন। এই দৃশ্য দেখে নয়জন লাইবুঙথ স্বর্গ থেকে লাইনুরাদের লক্ষ্য করে মাটি নিক্ষেপ করতে থাকেন। নৃত্যরতা সাতজন লাইনুরা সেই ছুঁড়ে দেওয়া মাটির উপর নেচে নেচে পৃথিবীর স্থলভাগ তৈরি করেন। এই ভাবনা থেকে লাই-হারাওবা নৃত্যের সূচনা হয়। এই নৃত্যে অংশগ্রহণ করেন কিছু দেবদাস এবং দেবদাসী। উল্লেখ্য, মণিপুরে দেবতাদের সেবায় যে পুরুষরা সারাজীবন নিজেদেরকে উৎসর্গ করেন, তাদের বলা হয় মৈবা (দেবদাস)। একইভাবে যে নারীরা দেবতাদের সেবায় সারাজীবন নিজেদেরকে উৎসর্গ করেন, তাদের বলা হয় মৈবী (দেবদাসী)।

কমলগঞ্জে মণিপুরি “লাই-হারাওবা” উৎসব শুরু

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

Pic- 1
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের কোনাগাঁও গ্রামে তিনদিনব্যাপী মণিপুরি “লাই-হারাওবা” উৎসব-২০১৮ শুরু হয়েছে। “উজাও- লাইরেম্বী লাইশং” মন্দির প্রাঙ্গনে গত বৃহস্পতিবার (১৭ মে) সন্ধ্যা ৭টা থেকে মৈতৈ মুণিপুরি জনগোষ্ঠীর অতি প্রাচীনতম এ ধর্মীয় উৎসব শুরু হয়। এ উৎসবে ভারত থেকে ১৯ সদস্যের একটি টিম অংশ নিয়েছে।
উদয়ন সংঘের আয়োজনে তিনদিনব্যাপী এ উৎসবে ধর্মীয় প্রথা অনুযায়ী প্রতিদিন মাইবীর ঐশ্বরীক বাণীসহ লোকগান, লোকনৃত্য ও ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পরিবেশিত হবে।  কমিটির আহবায়ক হামোম তনুবাবু ও সম্পাদক এ হেমন্ত জানান মুণিপুরি “লাই-হারাওবা উৎসব” এটি মূলত একটি নৃত্য-উৎসব। এই নৃত্যকে মণিপুরি নৃত্যশৈলীর একটি সুপ্রাচীন নৃত্যধারা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মুণিপুরি সমাজে প্রচলিত অন্যতম প্রাচীন লোকনৃত্যানুষ্টান ‘লাই হারাওবা জাগোই’ থেকেই এসেছে এই “লাই-হারাওবা উৎসব”।

Pic- 2
এই নৃত্যে প্রকৃতি পূজার পরিচয় মেলে। লাই শব্দের অর্থ দেবতা, হারাওবা অর্থ আনন্দ এবং জাগোই অর্থ নৃত্য। এর ইতিহাস এরকম সৃষ্টিকর্তা যখন জড় ও জীব পৃথিবী সৃষ্টি করলেন এবং পরবর্তীকালে ¯্রষ্টার মূর্তির অনুকরণে মনুষ্য সৃষ্টিতে সফলতা পেলেন তখন দেবদেবীগণ আনন্দে যে নৃত্য প্রকাশ করেছিলেন তারই নাম দেয়া হয়েছে হারাওবা নৃত্য। লাই হারাওবা নৃত্যে পৃথিবীর সৃষ্টিতত্ত্ব থেকে শুরু করে গৃহায়ন, শস্যবপন, জন্মমৃত্যু সবকিছুই নৃত্য ও সঙ্গীতের সুর লহরীতে ঝংকৃত হয়। এ নৃত্যের আঙ্গিক অংশগুলো যেমন লৈশেস জাগোই (সৃষ্টিনৃত্য), লৈতা জাগোই (গৃহায়ন নৃত্য) লৈসা জাগোই (কুমারী নৃত্য) প্রভৃতি মুণিপুরি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে লোক সংস্কৃতি হিসেবে প্রদর্শিত হয়। যাহা এ উৎসবে পরিবেশিত হচ্ছে।

অর্থি নৃত্য প্রতিযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ে ২য় স্থান লাভ

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

Arti
১২ মে শনিবার ঢাকায় জাতীয় শিশু একাডেমীতে অনুষ্ঠিত জাতীয় শিশু সপ্তাহ ২০১৮ এর প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে দ্বিতীয় স্থান লাভ করে।   মনিপুরী নৃত্যে ৮টি বিভাগের সেরাদের নিয়ে এ  প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়।   প্রথম হয়েছে ঢাকা বিভাগ।  ৩য় হয়েছে রাজশাহী।বিভাগ ।

অর্থি সিনহা মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আম্বিয়া কে,জি স্কুলে অধ্যক্ষ মমতা রানী সিনহার মেয়ে।  পিতা অমুল্য কুমার সিনহা, শ্রীমঙ্গল উপজেলা নিবার্হী অফিসের সিএ।  অর্থি সকলের আশির্বাদ ও দোয়া কামনা চেয়েছে।