সদ্য সংবাদ

বিভাগ: জাতীয়

আজ আওয়ামীলীগের ২০তম সম্মেলন এর উদ্বোধন

কমলকুঁড়ি ডেস্ক:
1477063885-1
দেশের ঐতিহ্যবাহী বৃহত্তর প্রাচীন রাজনৈতিক দল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক জাতীয় কাউন্সিল আজ ২২ অক্টোবর শনিবার। স্মরণকালের বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দুদিনব্যাপী ২০তম জাতীয় কাউন্সিল উদ্বোধন করবেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সকাল ১০টায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্মেলনের অনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন তিনি।
এবারের জাতীয় কাউন্সিলে আওয়ামী লীগের স্লোগান হচ্ছে, ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলেছি দুর্বার। এখন সময় বাংলাদেশের মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার’। সম্মেলনকে ঘিরে সারাদেশেই দলটির মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। এ সম্মেলন উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে সাজসাজ রব-১৬ কোটি মানুষের মধ্যে অপার আনন্দ, উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন রোজ গার্ডেনে জন্ম আওয়ামী লীগের। এখন ঐতিহ্যবাহী এই দলটির বয়স ৬৭ বছর। এ পর্যন্ত দলটির ১৯টি জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর আগে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ১৯তম জাতীয় সম্মেলন ২০১২ সালের ২৯ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পুনর্নিবাচিত হন শেখ হাসিনা ও  সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। দলীয় সুত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনে ৬ হাজার ৫শ’ ৭০ জন কাউন্সিলর অংশ নেবেন। সম্মেলনের কাউন্সিল অধিবেশন ২৩ অক্টোবর রোববার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত হবে। সর্বশেষ কাউন্সিল অধিবেশনে নতুন কার্যনির্বাহী সংসদ নির্বাচন করা হবে। এসময় কমিটি নির্বাচনের কার্যক্রম পরিচালনা করবে এ নির্বাচন কমিশন। তিন সদস্যের এ কমিশনের সদস্যারা হলেনÑ অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, ড. মশিউর রহমান এবং সাবেক সচিব রশিদুল আলম।
উদ্বোধনী অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ, বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এ ছাড়াও দেশের কুটনীতিক, রাষ্ট্রদূত, খ্যাতনামা বুদ্ধিজীবী এবং সাংবাদিকরাও আমন্ত্রণ পেয়েছেন। অন্যদিকে ১২টি দেশের ৫৫জন অতিথি এই সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন বলে আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে।
ঢাকাসহ সারাদেশ থেকে আসা কাউন্সিলরদের তালিকা অনুযায়ী আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে কাউন্সিলর কার্ড স্ব-স্ব প্রতিনিধিদের কাছে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ডেলিগেট কার্ড, পোস্টার, লিফলেট, ব্যানার, স্বেচ্ছাসেবক ইউনিফর্মসহ সম্মেলনের জন্য প্রয়োজনীয় সব উপকরণ তৈরির কাজও শেষ। সম্মেলনের ঘোষণাপত্রও প্রস্তুত হয়েছে।
সম্মেলন উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে জেলা শহরগুলো সাজানো হয়েছে। শুধু দেশেরই নয়, প্রবাসী বাঙালিদেরও দৃষ্টি এখন আওয়ামী লীগের সম্মেলনের দিকে। আগামী নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে দলটি কেমন নেতৃত্ব আনছে, ঘোষণাপত্রে কী ঘোষণা থাকছে, সেটি দেখার অপেক্ষায় এখন দেশের ১৬ কোটি মানুষ।
অন্যদিকে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি মাথায় রেখে আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনকে নির্বিঘেœ করতে ঢেলে সাজানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দুই হাজার স্বেচ্ছাসেবক।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে সম্মেলনস্থল, প্রবেশপথসহ চারপাশে দলীয় স্বেচ্ছাসেবকরা কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন সম্মেলনের শৃঙ্খলা ও স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য সচিব আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম।
তিনি জানান, সম্মেলনে স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনের দুই হাজার স্বেচ্ছাসেবক নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন। তারা সম্মেলনস্থল, ৭টি প্রবেশপথসহ আশপাশের এলাকায় ৫০টি ইউনিটে ভাগ হয়ে কাজ করবেন। প্রত্যেক ইউনিটে একজন টিম লিডার থাকবেন, তারা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করবেন।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গিয়ে দেখা গেছে, সম্মেলন স্থলে চোখ ধাঁধানো আলোকসজ্জার ব্যবস্থাসহ নানা রঙের ব্যানার ফেস্টুন ও পোস্টারসহ অপরূপ সাজে সাজানো হয়েছে উদ্দ্যানটি। নৌকার আঙ্গিকে তৈরি করা হয়েছে সম্মেলনের মূল মঞ্চ। এর আগে সম্মেলন উপলক্ষে রাজধানীসহ বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কের ওপরে তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। এসব তোরণগুলোতে বিএনপি-জামায়াতের আগুনসন্ত্রাসের বিভিন্ন আলোক চিত্র সাঁটানো হয়েছে। তাছাড়া জঙ্গিবাদের পক্ষ অবলম্বন করে বিএনপি ও তাদের সমমনা রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন সময়ে দেওয়া বক্তব্য সন্নিবেশিত থাকবে লিফলেট, ব্যানার ও পোস্টারে।
সাজ-সজ্জা উপ কমিটির সদস্য সচিব মির্জা আজম বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে আওয়ামী লীগের এই সম্মেলন হবে সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ। এর মাধ্যমে সরকারের উন্নয়ন-অগ্রগতি এবং গৌরব বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরা হবে। ঢাকা শহরসহ সারা দেশে আলোকসজ্জা শেষ হয়েছে। সরকারের উন্নয়ন-অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে এসব সাজ-সজ্জায়।
সম্মেলন উপলক্ষে বিভিন্ন দেশ থেকে আগত অতিথিদের হাতে দেওয়া হবে বিএনপি-জামায়াতের আগুন সন্ত্রাসের ভিডিও সিডি। সেখানে জঙ্গিবাদের পক্ষে দেওয়া তাদের বক্তব্য তুলে ধরা হবে।
ডিজিটালের ছোঁয়া লেগেছে আওয়ামী লীগের সম্মেলনে : রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের সাজসজ্জার সাথে সাথে ফেসবুকের প্রোফাইল ছবিতেও আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের ছাপ পড়েছে।
১২ দেশের ৫৫জন অতিথি আসছেন। এরমধ্যে রয়েছে চীন, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, ভারত, কানাডা, অস্টোলিয়া, ইতালি, শ্রীলংকাসহ ১২টি দেশের ৫৫ জন বিদেশি অতিথি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন।
দু’দিনব্যাপী এ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় নেতা, কাউন্সিলর, প্রতিনিধি, দেশি-বিদেশি অতিথি ও শুভানুধ্যায়ী মিলে ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষের আগমন আশা করা হচ্ছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৭টি প্রবেশপথ করা হয়েছে। এছাড়া থাকছে দলের গঠনতন্ত্র ও ঘোষণাপত্রের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস।
১৫০/৮৪ ফুট সুবিশাল মঞ্চ তৈরি : সম্মেলনকে ঘিরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মূল মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে দলীয় প্রতীক নৌকার আদলে। লম্বায় ১৫০ ফুট, চওড়ায় ৮৪ ফুট। মঞ্চের ছাদের উচ্চতা ৪২ ফুট। নির্মাণকাজে যুক্ত কর্মীরা জানান, মূল মঞ্চ হয়েছে পাঁচ স্তরের। একেবারে সামনের অংশটির উচ্চতা হবে আড়াই ফুট। যেখানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা হবে। সাত ফুট উচ্চতার স্থানটিতে দলীয়প্রধান শেখ হাসিনাসহ গুরুত্বপূর্ণ নেতারা বসবেন। আর পেছনের বিভিন্ন উচ্চতার তিন সারিতে কেন্দ্রীয় নেতাসহ ৫৮ জনের বসার স্থান করা হয়েছে।
মঞ্চের সামনে বিশাল প্যান্ডেল করা হয়েছে। এর ভেতরে ২০ হাজার চেয়ার রাখা হয়েছে। রয়েছে ১৬টি এলইডি টেলিভিশন। গত ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে শতাধিক কারিগর মঞ্চ তৈরির কাজ করেছেন। চারুকলার প্রায় দেড় ডজন ছাত্র সুদৃশ্য এই মঞ্চ নির্মাণে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে। বৃহস্পতিবার রাতেই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে মঞ্চটি বুঝিয়ে দিয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা

প্রেসক্লাব-বঙ্গবন্ধু মিডিয়া কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

কমলকুঁড়ি ডেস্ক :

1476894309

দেশে সাংবাদিকতার ‘স্বাধীনতা’ নেই বলে যারা প্রশ্ন তোলেন তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সাংবাদিকতার স্বাধীনতা পাচ্ছেন না- এই কথাগুলো কীভাবে বলেন যদি স্বাধীনতা নাই থাকে তো।

বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) বেলা পৌনে ১২টার দিকে প্রেসক্লাবে ‘জাতীয় প্রেসক্লাব-বঙ্গবন্ধু মিডিয়া কমপ্লেক্সের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন আয়োজনে তিনি এ কথা বলেন।  তিনি বলেন, সংবাদপত্রকে এবং সাংবাদিকদের যত রকম সুবিধা দেওয়া যায়, সব ব্যবস্থা আমরা করেছি। এতোগুলো মিডিয়াতে কর্মসংস্থান হচ্ছে। উন্নয়নে অনেকগুলো পদক্ষেপ নিয়েছি। সেই ’৯৬ সাল থেকেই সাংবাদিকদের সহযোগিতার চিন্তা-ভাবনা আমরা করেছি। কল্যাণ ট্রাস্ট করেছি, আইন হয়েছে, ওয়েজ বোর্ড চলছে অষ্টমে আরও নানান কিছু। প্রেসক্লাবের জায়গা নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এই জায়গাটা যাতে প্রেসক্লাব পায় এই ব্যবস্থা বঙ্গবন্ধু করেছেন। লিখিতভাবে প্রেসক্লাবের জমি লিজ দিয়েছিলেন তিনি। তাকে হত্যা করা হলো, এরপর থেকে আর উন্নতি সেভাবে হয়নি।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৫ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য

কমলকুঁড়ি ডেস্ক:

primary-education-depertment-300x186দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর প্রায় ১৫ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। কিন্তু নিয়োগ প্রক্রিয়া সহসাই গতি পাচ্ছে না। প্রধান শিক্ষকের পদ একধাপ উন্নীত হওয়ায় সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতি দিতে এখন তিন দপ্তরে ঘুরছে ফাইল।
সহকারী থেকে প্রধান শিক্ষকের পদে পদোন্নতির দীর্ঘ প্রক্রিয়ার ফলে ব্যাঘাত ঘটছে পাঠদান। দীর্ঘদিন পদোন্নতি বঞ্চিত সহকারী শিক্ষকরা দ্রুত পদোন্নতি দিয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়ে আসছেন দীর্ঘ সময়। পদোন্নতির মাধ্যমে সহকারী শিক্ষকদের ৬৫ শতাংশই প্রধান শিক্ষক হন।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানায়, প্রধান শিক্ষকদের পদ তৃতীয় থেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করায় এখন তারা কর্মকর্তা, আর তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে।
এ প্রক্রিয়ায় সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির ফাইল প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় হয়ে পিএসসিতে যাবে। কিন্তু গত প্রায় ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলছে ফাইল চালাচালি।
অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, ৬/৭ মাস আগে তারা সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির ফাইল মন্ত্রণালয়ে পাঠান। কিন্তু ফাইলে ত্রুটি থাকায় আবারও ফেরত পাঠানো হয়। পরে কিছুদিন আগে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয় চূড়ান্ত ফাইল। এখন মন্ত্রণালয় সচিবালয়ে ওই অধিদপ্তরের জনবল দিয়ে সেই ফাইল যাচাই-বাছাই করছে। সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির জন্য চাকরির মেয়াদ, প্রশিক্ষণ, এসিআর এবং তিনি গ্রাজুয়েট কিনা- এগুলো যাচাই-বাছাই করা হয়। ৬৪ জেলার প্রার্থীদের এ প্রক্রিয়ায় কত সময় লাগবে তা নির্দিষ্ট করে জানাতে পারেনি কেউ।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, কেবলই যাচাই-বাছাই শুরু হলো। শেষ হতে বেশ সময় লাগবে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রায় আট বছর ধরে বড় ধরনের পদোন্নতি বন্ধ রয়েছে। তবে ২০১২ সালে উপজেলাভিত্তিক কিছু পদোন্নতি হলেও প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণিতে পদোন্নতি দেওয়া আর হয়নি। আর ২০১৪ সালে প্রধান শিক্ষকদের পদ দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করে সরকার।
এদিকে, দীর্ঘ সময় পদোন্নতি না হওয়ায় পদ শূন্য থাকায় সহকারী শিক্ষকরাই প্রধান শিক্ষকের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে মফস্বলের প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষা কার্যক্রম বিঘ্ন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা।
প্রধান শিক্ষকের পদ আগে তৃতীয় শ্রেণিতে থাকায় সহকারী শিক্ষকদের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর পদোন্নতির কাজটি শেষ করতো বলে জানান অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আলমগীর।
তিনি বলেন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত হওয়ায় এখন পিএসসির মাধ্যমে পদোন্নতি হবে। সহকারী শিক্ষকদের ফাইল মন্ত্রণালয় যাচাই-বাছাই করছে জানিয়ে তিনি বলেন, এরপর পিএসসিতে যাবে। পিএসসি অনুমোদন দিলে পদোন্নতি দেওয়া হবে
তিনি জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রায় ১৫ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। তবে যাচাই-বাছাই শেষে কতোদিন সময় লাগবে তা নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেনি অধিদপ্তর বা মন্ত্রণালয়।

প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে দুর্গোৎসবের সমাপ্তি

 

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট :-

শুভ বিজয়া দশমীর পর সারাদেশে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে এবারের মতো সমাপ্তি ঘটেছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। মঙ্গলবার  সারাদেশে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা চোখের জলে মা দেবী দুর্গাকে বিভিন্ন নদী, খাল, বিল, পুকুর ও জলাশয়ে প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়েছে।

20161011_135300-1-1গত ৭ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মাধ্যমে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ৫ দিনের দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর মহাসপ্তমী, মহাষ্টমী ও মহানবমীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের হাজার হাজার নারী-পুরুষ ধর্মীয় নানা আচার অনুষ্ঠান পালন করেন। বিজয়া দশমীর দিনে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে তারা এ আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেন।

বিজয়া দশমী উপলক্ষে আজ ছিল সরকারি ছুটির দিন। আজ বিজয়া দশমীর পূজা আরম্ভ হয় সকাল ৮টা ৫২ মিনিটে এবং পূজা সমাপন ও দর্পন বিসর্জন হয় সকাল ৯ টা ৪৯ মিনিটে।

20161011_134635-1-1

এদিকে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় বিভিন্ন মন্ডপের প্রতিমা বির্সজনের পুর্বে শোভাযাত্রা বের হয়। শেষে বিসর্জন দেয়া হয়। তারপর শুরু হয় শান্তবারি প্রদান। ছবিতে কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নের লক্ষীপুর সার্বজনীন  দূর্গোৎসব এর প্রতিমা বিসর্জনের দৃশ্য।

জেনে নিন আদার উপকারীতা

কমলকুঁড়ি ডেস্ক :

d83bcd7df76890e70f799ea9f6229e9ax473x245x18-1

 

সুস্বাদু রান্নার জন্য রান্না ঘরে আদা চাই-ই চাই। কিন্তু আদা শুধু খাবারের স্বাদ ও গন্ধ বাড়ায় না, এক টুকরো আদা পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা বাড়িয়ে জীবনও বদলে দিতে পারে। কি বিশ্বাস হচ্ছে না তো!তাহলে দেরি কেন আসুন প্রতিবেদন পড়ে জেনে নেই নিয়মিত আদা খেলে কি হয়?

* নিয়মিত আদা খেলে পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা বাড়ে। সহজেই স্পার্ম কাউন্ট বৃদ্ধি করে আদা।
* প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক উপাদানে ভরপুর আদা। তাই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। নিয়মিত আদা খাওয়ার অভ্যাস করলে ছোটখাটো অনেক রোগের হাত থেকেই মুক্তি মেলে।* দুর্বল লাগছে? কারণ, যাই হোক এক টুকরো আদা খেয়ে নিন। অনেকটা শক্তি পাবেন। পরে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, জানুন দুর্বলতার কারণ।
* অম্বলের কারণে বুক জ্বলার সমস্যা? ২ কাপ জলে এক টুকরো ছেঁচে গরম করে চায়ের মতো তৈরি করে পান করুন।
* বমিভাব বা বমি হচ্ছে? আদা কুচি চিবিয়ে খান অথবা আদার রসের সঙ্গে সামান্য নুন মিশিয়ে পান করুন। তাৎক্ষণিক সমাধান পাবেন।
* আদার রস ব্যথা কমাতেও ওষুধের মতো কাজ করে। যেখানে আঘাত সেখানে লাগাতে পারেন আদার রস। এমনকি আদার রস পান করলেও ব্যথা কমে।
* ক্ষুধামান্দ্যে ভুগছেন? তা হলে চিবিয়ে অথবা রস করে আগে আদা খেয়ে নিন। আধা ঘণ্টার মধ্যেই ক্ষুধামান্দ্য দূর হবে এবং খাবারে রুচি ফিরবে।
* গলা খুশখুশ কমাতেও উপকারী আদা। ঠান্ডা লেগে কাশি হলেও আদা গলা স্বাভাবিক রাখতে কাজে লাগে।
* আদা হজমের সমস্যায় খুব ভাল কাজ করে। প্রতিদিন সকালে এক কাপ আদা-চা পান করলে গোটা দিন অম্বল বা হজমের সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন আপনি।

জানা-অজানা : খালি পেটে পানি পান করার উপকারিতা

ice_water-576x4321সকালে ঘুম থেকে উঠেই খালি পেটে পানি পান করা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো, তা আমরা অনেকেই জানি। কিন্তু এটা ঠিক কী কী উপকারে আসে আর তার সুফল কেমন করে পাওয়া যায়, তা হয়তো অনেকেরই অজানা। অল্প কিছু বিষয় মেনে চললেই সকালে খালি পেটে পানি পান করে সুস্থ-সবল থাকার পথে একধাপ এগিয়ে থাকা সম্ভব। সকালে পানি পানে শুধু পাকস্থলীই পরিষ্কার হয় না, এটা অনেকগুলো রোগের ঝুঁকি থেকে আমাদের বাঁচতে সহায়তা করে। প্রথমত, এই অভ্যাস মলাশয়কে ঠিকঠাক ও সচল রাখতে সহায়তা করে এবং পরিপাকক্রিয়া থেকে সঠিকভাবে নানা পুষ্টি উপাদান গ্রহণে শরীরকে সাহায্য করে। ভালো হজমশক্তি আপনা থেকেই অনেকগুলো স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধানে উপকারে আসে।

দ্বিতীয়ত, পর্যাপ্ত পানি পানে শরীরের ত্বক উজ্জ্বল ও সুন্দর থাকে। রক্ত থেকে ‘টক্সিন’ বা বিষাক্ত নানা উপাদান দূর করে পানি। শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এই পানি। কেননা, পানি নতুন রক্ত কোষ এবং পেশি কোষ জন্মানোর প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে। আর ওজন কমিয়ে রাখতেও পানি পান করা পর্যাপ্ত উপকারী। সকালে পানি পানের পর অল্প কিছুক্ষণ অন্য কিছু না খাওয়াই ভালো। এই পানি-চিকিত্সার কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই এবং এটা পরিপাক ক্রিয়ার জন্য দারুণ উপকারী। প্রতিদিন সকালে গড়ে চার গ্লাস পানি (প্রায় এক লিটার) পান করা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভালো। প্রথম দিকে এটা অনেক বেশি মনে হলেও কিছুদিন এভাবে পানি পান করলে বিষয়টা সহজেই আয়ত্ত হয়ে যাবে এবং এর উপকারিতাও টের পাওয়া যাবে।

সংগ্রহ

৩৭ দেশে রপ্তানি হচ্ছে শ্রীমঙ্গলের ‘অক্টোপাস’

31685_36

শ্রীমঙ্গল  প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের বেকার নারীদের হাতে তৈরি করা পুতুল অক্টোপাসসহ ১৫টি পণ্য রপ্তানি হচ্ছে বিশ্বের ৩৭ দেশে। এতে বেকারত্বের হাত থেকে মুক্তি পাচ্ছে হাইল হাওর পারের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রায় চার শ’ নারী। যারা তাদের বাড়ির আনুষঙ্গিক কাজের ফাঁকে এবং লেখাপড়া চালিয়ে তৈরি করছে এসব পণ্য।

নারীদের তৈরি করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে,  রেটটেলস অক্টোপাস ডিপ গ্রিন, রেটটেলস চৌবে মুন স্টার, রেটটেলস আউল, কেটার পিলার, রেটটেলস পিক্সি,ওয়ান্স আপন এ টাইম বলেরিনা, লার্জ এনিমেল জিরাফ, অর্গানিক জিরাফ, অর্গানিক বানি পালি পিন্‌ক, ডেকোরেশন নাটক্রেকার, স্লিপি বানী, ব্লান্‌কট পার্ট ও পিক্সি ডুডু। জানা যায়, ইউএসএইড এর অর্থায়নে বেসরকারি সংস্থা সিএনআরএস কর্তৃক বাস্তবায়িত ক্রেল প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছিল এসব নারীদের। তারা দীর্ঘ দুই মাস প্রশিক্ষণ নিয়ে শুরু করে হাতে বুননের বিভিন্ন পণ্য তৈরির কাজ। ইতিমধ্যে আরো কয়েকটি গ্রুপের বেকার নারীদের তৈরি বেশকিছু পণ্য বৃটেন, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, মালেয়শিয়াসহ বিশ্বের ৩৭টি দেশে রপ্তানি করা হয়েছে।

সরজমিনে উপজেলার মির্জাপুর এলাকার দক্ষিণ পাচাউন গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, একটি বাড়িতে ২৫ জন নারী গোলাকার হয়ে বসে সুই উলজাতীয় সুতা দিয়ে তৈরি করছে অক্টোপাস। এ সময় কথা হয় দক্ষিণ পাচাউনের কলেজ পড়ুয়া মেয়ে সুরভী ভৌমিকের সঙ্গে, সে জানায়, তারা একটি গ্রুপে ২৫ জন মেয়ে ক্রেল প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে দুই মাস হাতে বুননের প্রশিক্ষণ শেষে বর্তমানে কাজের অর্ডার পেয়ে পুতুল তৈরির কাজ করছেন। তিনি জানান, ট্রেনিং শেষেই ২৫ জন করে দুইটি গ্রুপের ৫০ জন নারীর কাছে অক্টোপাসসহ বিভিন্ন আইটেমের পতুল তৈরির অর্ডার এসেছে। নুরুননেছা বেগম বলেন, ‘দক্ষিণ পাচাউন ১ ও দক্ষিণ পাচাউন ২ হাতে বনুন পেবল গ্রুফ নামে ২৫ জনের দুটি গ্রুফ রয়েছে। দুটি সেন্টারে প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে মোট ৫০ জনকে পুতুল বানানোর ওপরে ট্রেনিং দেয়া হয়। গত ৩রা সেপ্টেম্বর দুই মাসের ট্রেনিং শেষ হয়েছে। মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী সুরশ্রী ভৌমিক বলেন, হাতের কাজ শিখতে পারায় আমার খুব ভালো লেগেছে। ট্রেনিং শেষেই আমরা অক্টোপাসের প্রথম অর্ডার পেলাম। খুব খুশি লাগছে। প্রথম তিন হাজার টাকার অর্ডার পেয়েছি। এবারই প্রথম শুধু অক্টোপাস তৈরির অর্ডার পেয়েছি। দুটি গ্রুফে ৫০টির অর্ডার পেয়েছি।

একই কলেজের ইতিহাসের অনার্স ৪র্থ বর্ষের ছাত্রী সুরভি ভৌমিক বলেন, আমরা অনেক কষ্ট করে কাজ শিখেছি। একটি অক্টোপাস বানাতে অনেক সময় লাগে। অনেক পরিশ্রম হয়। ৩০ টাকা থেকে বাড়িয়ে মজুরির পারিশ্রমিক আরো বাড়ানো দরকার। আরো বেশি অর্ডার পেলে আমাদের আয় বাড়বে। মির্জাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী লুবনা আক্তার বলেন, আমি স্কুলের পড়ালেখার পাশাপাশি প্রশিক্ষণ নিয়েছি। আমার দলে কয়েকজন কলেজের মেয়ে ও এলাকার ভাবিরা মিলে ২৫ জন আছি। ইতিমধ্যে আমরা বেশকিছু পুতুল তৈরি করেছি। এখন ৫০ পিসের ছোট একটি অর্ডার আমরা পেয়েছি। আমি বিশ্বাস করি এর মাধ্যমে আমি আমার পড়াশোনার খরচ নিজেই চালিয়ে নিতে পারবো।

ক্রল প্রকল্পের কমিউনিকেশন অফিসার ইলিয়াস মাহমুদ পলাশের বলেন, ক্রেল প্রকল্পের মাধ্যমে কীভাবে প্রাকৃতিক সম্পদের উপর নিভর্রশীল না থেকে স্বাবলম্বী করা যায় হাইল হাওর তীরবর্তী গ্রাম সমূহের নারী-পুরুষ তাদের নিয়ে আমরা কাজ করছি। আমরা নারীদের পাশাপাশি হাওর পাড়ের পুরুষদেরও বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী করার চেষ্টা করছি। হাতে বুননের কাজের রুরাল সেন্টার ম্যানেজার রেজোয়ান কাউসার বলেন, আমরা বেসিকেলি বিশ্বের ৩৭টি দেশে এক্সপোর্ট করি। আমাদের প্রোডাক্ট ৩ থেকে ৪শটি আইটেম রয়েছে। এর মধ্যে সিলেট ও শ্রীমঙ্গলে ১৫টি ডিজাইনের ওপর কাজ করছে। আমরা হাওর পাড়ের বেকার ও গরিব প্রায় ৪০০ মেয়েদেরকে হাতে বুনানো প্রশিক্ষণ সোসাইটির মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। প্রতিটি গ্রুফে ২৫ জন করে রয়েছে। ট্রেনিং শেষে তারা হাতে বুনন নামে একটি সংস্থার কাছ থেকে জন প্রতি ২টি করে অক্টোপাসের অর্ডার পেয়েছে। হাতেবুনন সংস্থা সুই সুতা নিজেরাই দিবে। তারা শুধু পারিশ্রমিক হিসেবে প্রতিটি অক্টোপাস তৈরির মজুরি পাবে ৩০ টাকা। তিনি জানান, এখন তো নতুন। এসব মেয়েরা বাসা-বাড়ির সকল কাজের ফাঁকে প্রতিদিন ২/৩ ঘণ্টা করে কাজ করলে এখন মাসে অন্তত ১৫শ থেকে দুই হাজার টাকা বাড়তি আয় করতে পারবে। আর একবছর পর অর্ডার আরও বাড়বে তখন মাসে অন্তত ৫/৬ হাজার টাকা রুজি করতে পারবে।

হাইল হাওর কর্ম এলাকার কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, হাইল হাওড়ের চারপাশের হাওর নির্ভরশীলদের হাওরের উপর নির্র্ভরশীলতা অনেক কমে গেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার জন্য কৃষকদের আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদের প্রশিক্ষণ পেয়ে হাইল হাওর তীরবর্তী বিভিন্ন গ্রামের মানুষ এখন বর্ষাকালেও সবজি ফলাচ্ছে। এ ছাড়া ২০০ মেয়েরা হাতে বুননের কাজ করছে। ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড প্রটেকটেড এরিয়া ম্যানেজমেন্ট অফিসার পলাশ সরকার বলেন, ক্রেল প্রকল্প হাইল হাওরের চারদিকের বিভিন্ন গ্রামে আধুনিক পদ্ধতিতে জলবায়ু সহিষ্ণু সবজি চাষ করেছে যা দেখে এলাকার অন্য কৃষকরাও উদ্বুদ্ধ হচ্ছে।  এ ছাড়াও হাওর নিভর্রশীলদের তালিকা করে ক্রেল প্রকল্প গত চার বছরে হাইল হাওর সাইটের ২৮টি গ্রামের ১৩৮৯ জনকে বিভিন্ন আয় বৃদ্ধিমূলক কাজে প্রশিক্ষণ দিয়েছে যার মধ্যে রয়েছে, সবজি চাষ, মাছ চাষ, হাঁস মুরগি পালন, হাতে বুনন, মোবাইল সার্ভিসিং প্রশিক্ষণ ইত্যাদি। মির্জাপুরের কাশিপুর গ্রামের জলবায়ু সহিষ্ণু সবজি চাষের প্রদর্শনীর চাষি আকবর আলী বলেন, ক্রেল প্রকল্প আমাকে প্রশিক্ষণ দিয়ে উন্নত বীজ ও উপকরণ দিয়েছে যার মাধ্যমে আমি এই বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন জাতের সবজি ফলিয়ে লাভবান হয়েছি। মির্জাপুরের লামাপাড়ার আলী আকবর ক্রেলের মাধ্যমে মোবাইল সার্ভিসিংয়ের প্রশিক্ষণ পেয়ে মির্জাপুর বাজারে দোকান স্থাপন করে মাসে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করছেন। আকবর বলেন, আমি ও আমার পরিবার পূর্বে হাওরের উপর নির্ভরশীল ছিলাম, ক্রেল প্রকল্প আমাকে মোবাইল সার্ভিসিংয়ের উপর ৭ দিনের প্রশিক্ষণ দিয়েছে এবং অধিক আয়ের সুযোগ করে দিয়েছে। বর্তমানে আমি সাবলম্বী ও সুখী।

প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের দুটি পুরস্কার গ্রহণ করলেন

 কমলকুঁড়ি ডেস্ক রিপোর্ট :
hasina_79035

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্লানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন ও এজেন্ট অব চেঞ্জ অ্যাওয়ার্ড পুরস্কার প্রদান করেছে জাতিসংঘ। লিঙ্গ সমতা ও নারীর ক্ষমতায়নে বিশেষ অবদানের জন্য এ পুরষ্কার পান তিনি।

বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার ভোরে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ইউএন প্লাজায় প্রধানমন্ত্রীকে জাতিসংঘ উইমেন এবং গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফোরাম এই পুরস্কার দুটি প্রদান করেন।  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে মাল্টার প্রেসিডেন্ট মেরি রুইস কোলেরিও পার্সা এবং জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুনের স্ত্রী ও ফার্স্ট লেডি বান সুন তায়েক প্লানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন পুরস্কার পেয়েছেন। পুরস্কার গ্রহণ করে শেখ হাসিনা বলেন, এই স্বীকৃতির জন্য আমি গর্ববোধ করছি। আমাকে এই সম্মান দেওয়ার জন্য জাতিসংঘ উইমেন অ্যান্ড গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফোরামকে ধনব্যাদ জানাই। এই পুরস্কার প্রমাণ করছে, বাংলাদেশের নারীরা সত্যিকারার্থেই পরিবর্তনের এজেন্ট।  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমার এই পুরস্কার তাদের জন্য, যেসব নারী পুরুষের সঙ্গে সমান অংশীদারত্বে কাজ করে যাচ্ছে। আমি এই পুরস্কার বাংলাদেশের সেসব মানুষের জন্য উৎসর্গ করছি, যারা আমার পরিবর্তনের লক্ষ্যে বিশ্বাস রেখেছেন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পরীক্ষার ফল প্রকাশ

jatiya

কমলকুঁড়ি ডেস্ক :

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন সিলেবাসের ২০১৪ সালের ডিগ্রি পাস ও সার্টিফিকেট কোর্স চূড়ান্ত পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে।
শনিবার রাতে প্রকাশিত এ ফলাফলে পাশের হার ৭৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ। জাতীয় বিবশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বদরুজ্জামান জানান, মোট এক লাখ ৬৯ হাজার ৭৪ জনের মধ্যে এক লাখ ২৪ হাজার ৫৩৬ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছের। এরমধ্যে বিএ-তে ৫১ হাজার ৯২২ জনের মধ্যে ৩৮ হাজার ৩৫০ জন, বিএসএস-এ ৭৫ হাজার ৪৩৩ জনের মধ্যে ৫৫ হাজার ৯৫৯ জন, বিবিএস-এ ৩৮ হাজার ৫৭২ জনের মধ্যে ২৮ হাজার ৪৮ জন এবং বিএস-সিতে তিন হাজার ১৪৭ জনের মধ্যে দুই হাজার ১৭৯ জন পাশ করেছেন। পরীক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন ও কলেজওয়ারী ফলাফল (www.nu.edu.bd) এবং (www.nubd.info) ওয়েবসাইট থেকে জানা যাবে। যে কোনো মোবাইল ফোন থেকে SMS করেও ফলাফল জানা যাবে। এক্ষেত্রে Message অপশনে গিয়ে nu<space>deg <space> Reg no লিখে ১৬২২২ নম্বরে Send করতে হবে। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আরও জানান, একই সালের ডিগ্রি পাস ও সার্টিফিকেট কোর্স (পুরাতন সিলেবাস) পরীক্ষায় প্রথম বর্ষের আট হাজার ৮৮২ জনের মধ্যে ছয় হাজার ৩২৪ জন, দ্বিতীয় বর্ষের এক লাখ ৯০ হাজার ৯৮৯ জনের মধ্যে এক লাখ ৮১ হাজার ২৭২ জন এবং সার্টিফিকেট কোর্সের ৩৩২ জনের মধ্যে ১২১ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন।

ফলাফল সম্পর্কে কোনো পরীক্ষার্থী বা সংশ্লিষ্ট কারও কোনো আপত্তি/অভিযোগ থাকলে ফলাফল প্রকাশের এক মাসের মধ্যে (৯ অক্টোবর) পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বরাবর লিখিতভাবে/ অনলাইনে www.nubd.info সাইটের মাধ্যমে জানাতে হবে বলে জানান তিনি। এরপর আর কোনো আপত্তি/অভিযোগ গ্রহণযোগ্য হবে না বলে তিনি জানান।

অনলাইনে সমাজসেবায় পরিচিত মুখ রাজশাহীর আইরিন খান

masha-al-airin-khan-19
 শামীউল আলীম শাওন :
২০১৪ সালের রমজান মাসে ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে পথশিশুদের সহায়তা করার জন্য ফেসবুকে ‘চেষ্টা’ নামে একটি অনলাইন ইভেন্ট খুলে ছিলাম। ইচেছ ছিল ৫ হাজার টাকা সংগ্রহ করবো। সেটা দিয়ে পথশিশুদের ঈদের নতুন জামা ও সেমাই আর চিনি কিনে দিব। যাতে অন্তত ঈদের দিনটা একটু আনন্দে কাটাতে পারে। ফেসবুক ইভেন্টটা ব্যাপক সাড়া জাগায়। কিভাবে হয় তা জানি না। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে টাকা আসতে থাকে। এমনকি বিদেশ থেকেও। এতে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ইভেন্টের জন্য প্রায় ৭০ হাজার টাকার মত সংগ্রহ হয়ে যায়। তবুও টাকা আসতেই থাকে। ফলে বাধ্য হয়ে আমাদেরকে ইভেন্টটা ক্লোজড করে দিতে হয়।  ঠিক এমন করেই নিজের জীবনে ভালো কাজের অনুভূতি প্রকাশ করছিলেন একজন উদ্যেমী স্বেচ্ছাসেবী তরুণী- মাশা আল আইরিন খান।
বাংলা নববর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি’তে নিপীড়নের ঘটনার প্রতিবাদে ‘বিচার হবে না?’ নামে ফেসবুক ইভেন্ট খুলে সে। ইভেন্টের মাধ্যমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একত্রিত করে ধারাবাহিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। অনলাইনের মাধ্যমে একত্রিত হয়ে আন্দোলন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সেটাই ছিল প্রথম।এছাড়াও ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক ড. রেজাউল করিম হত্যার বিচারের দাবিতে রাজপথে আন্দোলনে নেমেছে সে। এখন মাশা দুরবিন ফাউন্ডেশন’র সাথে শারিরিক-প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার নিয়ে এবং ইয়ুথ স্কুল ফর সোশ্যাল এন্টারপ্রিনিয়াস ফাউন্ডেশন’র সঙ্গে তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি নিয়ে কাজ করছেন। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কাজ সম্পর্কে জানতে চাইলে মাশা আল আইরিন খান বলেন, সবসময় সমাজের জন্য উন্নয়নমূলক কাজ করতে চাই। বিশেষ করে নারীদের উন্নয়নে কাজ করার ইচ্ছে আছে। এছাড়াও সামাজিক উদ্যোক্তা হিসেবে আতœপ্রকাশ ঘটতে পারে।
উদ্যেমী নারী মাশা আল আইরিন খান স্কুল জীবন থেকেই নানা সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলেন। এর মধ্যে স্কাউটস, রেড ক্রিসেন্ট ইন্টারন্যাশনাল ও রক্তদান কার্যক্রম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এভাবেই ছোটবেলা থেকেই নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী বিভিন্নভাবে সমাজের মানুষের উপকার করার চেষ্টা করেন তিনি। তবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ভর্তি হওয়ার পর থেকে সে নিয়মিতভাবে সমাজকল্যাণমূলক কাজ শুরু করে।
রাবিতে অনার্সে পড়াশোনা চলাকালে একটা বিজ্ঞপ্তি দেখে ২০১৩ সালে তিনি রাজশাহীতে একটিভ সিটিজেনের ইয়ুথ লিডারশিপ ট্রেনিংয়ে অংশ নেন। যার আয়োজক ব্রিটিশ কাউন্সিল ও সিসিডি বাংলাদেশ। সেখানে মাশা চার দিনের প্রশিক্ষণ শেষে সমাজ উন্নয়নমূলক কাজে যুক্ত হন। কিছু দিন পরে তিনি রাজশাহীতে অবস্থিত বাংলাদেশের প্রথম কমিউনিটি রেডিও পদ্মায় ‘ইয়ুথ ভয়েস’ নামে একটি অনুষ্ঠানের কোঅর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পান। যা একটিভ সিটিজেনের সোশ্যাল এ্যাকশন প্রোজেক্টের সেরা গ্রুপ প্রোজেক্ট নির্বাচিত হয়। এরপর একটিভ সিটিজেনের ইয়ুথ লিডারশিপ ট্রেনিং থেকে শিক্ষা নিয়ে ভালো কাজ করায়, ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাজ্যে সাত দিনের ইন্টারন্যাশনাল স্টাডি ভিজিটে যাওয়ারও সুযোগ পান মাশা। সম্প্রতি তিনি ব্যান্ড ফোরামের ‘ইয়ুথ ফেস্ট’ এ নারী উদ্যেক্তা হিসেবে রাজশাহী বিভাগীয় পর্যায়ে জয়ী হয়েছেন।
মাশা আল আরিন খান স্কুল জীবনে আর্ট প্রতিযোগিতায় পুরস্কার ও সার্টিফিকেট আর ভাষা প্রতিযোগিতায় ভালো প্রশ্ন করার জন্য বই উপহার পেয়েছেন এবং কলেজ জীবনে বিজ্ঞান মেলায় নির্ধারিত বক্তৃতায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন।মাশা আল আইরিন খান বর্তমানে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ছাত্রী শাখার রাবির সদস্য এবং তরুণ-তরুণীদের নিয়ে সমাজ উন্নয়নমূলক কাজ করছেন। সেই সঙ্গে অনলাইনের মাধ্যমেও নারী উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কাজ করছেন তিনি। এরই পাশাপাশি মাশা নগরীর সানডায়াল কোচিং সেন্টারে ইংরেজীর প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন।
রাজশাহী শহরের দক্ষিণ প্রান্তে প্রবাহিত পদ্মা নদীর তীরবর্তী এলাকা পাঠানপাড়া। সেই এলাকার মেয়ে মাশা আল আইরিন খান। ১৯৯০ সালের ১৫ আগস্ট রাতে রাজশাহীর লক্ষ্মীপুর মোড়ের শারমিন ক্লিনিকে তার জন্ম। বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওবায়দুল্লাহ্ খান। মা জান্নাতি মহল। ৪ ভাইবোনের মধ্যে মাশা তৃতীয়। বড় ভাই শাহারিয়ার খান। বড় বোন মারিয়া আফরিন খান। ছোট্ট ভাই সাদিদ উদজ্জামান খান।মাশার লেখাপড়ার হাতেখড়ি মায়ের হাতে। ১৯৯৬ সালে ৬ বছর বয়সে রাজশাহীর পি.এন গভঃ গার্লস স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হয় সে। স্কুলজীবনে সবসময়ই এক থেকে দশ এর মধ্যেই অবস্থান ছিল তার। পি.এন স্কুল থেকে ২০০৭ সালে এসএসসি আর নিউ গভঃ ডিগ্রি কলেজ থেকে ২০০৯ সালে এইচএসসি পাস করেন তিনি। এরপর ২০১০-১১ সেশনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হয়ে সম্প্রতি স্নাতক শেষ করেছে। বর্তমানে মাস্টার্সে পড়াশোনা করছেন।

লেখকঃ রাজশাহী থেকে প্রকাশিত দৈনিক সোনার দেশ-এ স্টাফ রির্পোটার এবং রাজশাহী কোর্ট কলেজ, রাজশাহীতে বাংলা বিভাগে বিএ (অনার্স)-এ অধ্যয়নরত।