সদ্য সংবাদ

বিভাগ: জাতীয়

জাতীয় পর্যায়ে জুড়ীর দুই তরুন ইয়ূথ আইকনে ভূষিত হলেন

এম.কে.পাল জয়

21
যুক্তির আলিঙ্গনে মুক্ত করি অজ্ঞতার জট’ জাতীয় বিতর্ক উৎসব’১৮, মাইকেল মধুসূদন ডিবেট ফেডারেশন কর্তৃক আয়োজিত জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা যশোর শহরে  জেলা স্কুল মাঠে সারা দেশ থেকে প্রায় ২৫০০ প্রতিযোগিদের নিয়ে অনুষ্টিত হয়।   ঢাকা শহরের বাইরে জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা যশোরে এই প্রথম।

জাতীয় বিতর্ক উৎসব’১৮ আহ্বায়ক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মবিনুল ইসলাম মবিন, প্রকাশক ও সম্পাদক দৈনিক গ্রামের কাগজ। প্রথম পর্বের  প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা জেলা প্রশাসক  মোঃ আশরাফ উদ্দিন।   বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান।      সংসদীয় রম্য বির্তক, আঞ্চলিক বির্তক উপস্থিত বিতার্কিকদের নিজেদের সংস্কৃতি চিন্তায় সচেতন হতে শিক্ষা দেয়। বিভিন্ন সেশনে ইয়ং বাংলা এ্যাওয়ার্ডি যারা তাদের জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহন ও সেশনে এক মিনিটের বক্তব্য প্রদান করার সুযোগ দেয়া হয়। ইয়ং বাংলা এ্যাওয়ার্ডি যারা উপস্থিত ছিলেন তাদের জাতীয় বিতর্ক উৎসব’১৮ ইয়ূথ আইকন এ্যাওয়ার্ডে ভুষিত করা হয়। আর জুড়ী উপজেলার সাগরনালের তরুন মোঃ মিফতাহ আহমেদ লিটন ও ছোটধামাইয়ের বিজয় রুদ্র পালেরর হাতে এ্যাওয়ার্ড হাতে তুলে দেন বাংলাদেশ প্রথম এভারেস্ট জয়ী মুসা ইব্রাহিম ও জায়েদী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জনাব নাসের শাহরিয়ার জায়েদী।

পরে মিট দ্যা সেলিব্রেটি পর্বে অংশ গ্রহন করেন- মুসা ইব্রাহিম,সাংবাদিক ফারজানা করিম, ফুটবলার মান্নাফ রাব্বী ও মাইকেল মধুসূদন ডিবেট ফেডারেশনের চেয়ারম্যান জহির ইকবাল নান্নু।

আবার চালু হচ্ছে ১০ টাকা কেজি চাল

 ডেস্ক রিপোর্ট

21
বাজারে চালের দর নিয়ন্ত্রণে আগামী মার্চ থেকে আবার খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালু করছে সরকার। এ কর্মসূচির আওতায় ৫০ লাখ হতদরিদ্র মানুষ ১০ টাকা কেজি দরে প্রতিমাসে ৩০ কেজি করে চাল পাবে। এই কর্মসূচির জন্য বছরে ৭ লাখ ৫০ হাজার টন চাল দরকার হবে। বৃহস্পতিবার খাদ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর থেকে দ্বিতীয় পর্বে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সরকারি গুদামে চালের সংকট থাকায় তা স্থগিত করা হয়েছিল। বর্তমানে সরকারের গুদামে চালের মজুদ বাড়ায় হতদরিদ্রদের জন্য কর্মসূচিটি আবার চালু করা হচ্ছে।   পল্লী অঞ্চলের হতদরিদ্রদের সাহায্যার্থে প্রতি বছর মার্চ, এপ্রিল, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর- এই পাঁচ মাসে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্দেশ্য নিয়ে এই কর্মসূচি চালু করে সরকার। ২০১৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলায় এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

শুরুতে হতদরিদ্রদের তালিকায় স্বচ্ছল ব্যক্তিদের নাম থাকা, বাইরে বেশি দামে চাল বিক্রি করা, ওজনে কম দেয়াসহ নানান অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভুয়া সুবিধাভোগীদের কার্ড বাতিল, ডিলারশিপ বাতিল, ডিলারদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ও বিভাগীয় মামলা, জরিমানাসহ বিভিন্ন ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেয়া হয়। পরে সরকার যাচাই-বাছাই করে ৫০ লাখ হতদরিদ্রের তালিকা খাদ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে।   খাদ্যমন্ত্রী বলেন, চলতি আমন মৌসুমে ছয় লাখ টন চাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। ইতিমধ্যে ৫ লাখ ৪০ হাজার টন চাল সংগ্রহ করা হয়েছে। বাকিটাও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংগ্রহ করা হবে।   তিনি বলেন, বর্তমানে সরকারের খাদ্যশস্য মজুত আছে ১৪ লাখ ২০ হাজার টন। এর মধ্যে ১০ লাখ ৪০ হাজার টন চাল এবং বাকিটা গম।  খাদ্যসচিব শাহবুদ্দিন আহমদ খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং মিডিয়ার দায়িত্বশীল ভূমিকা ও সহযোগিতা কামনা করেন। সংবাদ সম্মেলনে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বদরুল হাসানসহ খাদ্য অধিদপ্তর ও মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা নেই চা-শ্রমিকদের

 লাবণ্য লিপি

21তখন পড়ন্তবেলা। বাগানের কাজ শেষ করে পাশের পাহাড়ের কোলঘেঁষা ছড়ায় সৃষ্ট খালে স্নান করতে এসেছিল কিশোরী মিনতি কৈরি। স্নান করতে নেমেছিলেন আরও দুজন নারী। পাশে হাঁড়িপাতিল মাজাঘষা করছিলেন অন্য এক নারী। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যে পানিতে তারা স্নান করছেন সেই পানিতেই তারা তাদের নিত্যপ্রয়োজনীর ধোওয়া-মোছাও করে থাকেন। তবে খাওয়ার পানি তারা এখান থেকে নেন না। খাওয়ার পানি সাধারণত টিউবওয়েল থেকে সংগ্রহ করেন। নিজেদের বাড়ির আঙিনায় টিউবওয়েল না থাকলে অন্য কারো টিউবওয়েল থেকে পানি নিয়ে আসেন। কিন্তু শুধু খাওয়ার পানি নিরাপদ হলেই হবে না। খাবারের জন্য ব্যবহৃত বাসনকোসনও নিরাপদ পানিতে পরিষ্কার করা উচিত এটা জানেন? উত্তরে মিনতি বলেন, আমরা সব সময় এই পানিতেই বাসন মাজি। কিচ্ছু হয় না! শুধু খাওয়ার পানিই নয়, স্বাস্থ্যকর স্যানিটেশন সম্পর্কেও তাদের পরিষ্কার ধারণা নেই। শ্রীমঙ্গলের বেশিরভাগ বাগান ঘুরে দেখা গেছে, সেখানে টয়লেটের ব্যবস্থা থাকলেও সেটা শ্রমিকদের চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল এবং স্বাস্থ্যকর নয়। পাঁচ-ছয় বছর আগেও চা-বাগনের লেবার লাইনে বসবাসরত শ্রমিকদের জন্য স্যানিটেশনব্যবস্থা ছিল না। দিনের বেলা তারা বাগানের নম্বর টয়লেট ব্যবহার করলেও রাতের অন্ধকারে তারা সাধারণত খোলা জায়গায়ই প্রাকৃতিক কাজ সারেন বলে তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। কথা হয় ভুরভুরিয়া চা-বাগানের চম্পা হাজরার সঙ্গে। টয়লেট আছে কিনা জানতে চাইলে পলিথিনে মোড়া ছোট একটা ঘেরটোপ দেখিয়ে দেন। ওটাই তাদের টয়লেট। তিনি আরও জানান, ‘পাকা পায়খানা আমরা কনে পাব? দু-তিন বছর আগে কোম্পানির লোক এসে আমাদের কাছ থেকে ৮৫০ টাকা করে নিয়ে গেছিল পাকা পায়খানা বানিয়ে দেবে বলে। তারপর এসে সিমেন্টের একটা করে কমোড দিয়ে গেছে। কিন্তু পাকা পায়খানা বানিয়ে নেব ক্যামনে। আমাদের কি টাকা আছে? আমরা গরিব মানুষ। আমাদের এই পায়খানায়ই চলে যায়। শিশুরাও কি এই পায়খানাই ব্যবহার করে? উত্তর এলো, ‘বাচ্চাদের আর শরম কী! ওরা বাইরে যে কোনো জায়গায়ই করতে পারে। না পারলে এইখানেই যায়!’

বাগানের লেবার লাইনের বাসস্থান ঘুরে দেখা গেছে, কিছু বড় বাগান কর্তৃপক্ষ তাদের শ্রমিকদের জন্য লেবার লাইনে স্যানেটারি ল্যাট্রিন তৈরি করে দিলেও বেশিরভাগ বাসায় স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশনব্যবস্থা নেই। বাঁশ বা গাছের ডালের তৈরি কাঠামোয় ছালা-চট অথবা পলিথিন দিয়ে ঘেরা টয়লেটই তারা ব্যবহার করেন। পয়োনিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থাও সেখানে নেই। শুধু তাই নয়, বিশুদ্ধ খাওয়ার পানির ব্যবস্থাও সব লেবার লাইনে নেই। এলাকার সব বাগানের পাশ দিয়েই বয়ে গেছে কোনো না কোনো ছড়া। এসব ছড়ার নামানুসারে এখানকার বেশিরভাগ বাগানের নামকরণ করা হয়েছে। যেমনÑ জাগছড়া, খাইছড়া, খেজুড়িছড়া, আমরাইলছড়া, ফঁসিকুড়িছড়া, হরিণছড়া, উদনাছড়া, বরমাছড়া, লাখাইছড়া, কামাসুইছড়া ইত্যাদি। বলতে গেলে এসব ছড়াই তাদের পানির প্রধান উৎস। চা-বাগানের শ্রমিকরা এসব ছড়ার পানিতেই তাদের গোসল, কাপড় ধোওয়া ও বাসন ধোওয়ার কাজ করেন। তবে খাওয়ার পানির জন্য সরকারি ও বেসরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় শ্রমিকদের জন্য টিউবওয়েলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু টিউবওয়েলের পানিতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকায় সে পানি তারা শুধু খাওয়ার পানি হিসেবেই ব্যবহার করেন। টয়লেট ব্যবহারের পর এবং খাবার আগে সাবান দিয়ে হাত ধোওয়া হয় কিনা জানতে চাইলে কিশোরী গৌরী হাজরা হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়েন পাশের নারীর গায়ে। যেন তারা খুব মজার কথা শুনেছেন। তারপর হাসতে হাসতে কটাক্ষ করেন, ‘সাবান দিয়ে হাত ধুইতাম? সাবান তুমি দিয়ে যাবানি!’ টয়লেট ব্যবহারের পর হাত ধোওয়ার অপরিহার্যতা সম্পর্কে তাদের ন্যূনতম ধারণাও নেই! অভাব, অসচেতনতা এবং সর্বোপরি পানির সহজলভ্যতা এর কারণ বলেই মনে হলো তাদের সঙ্গে কথা বলে। স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজের নবজাতক ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ এবং সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. আকতারুজ্জামান বলেন, দূষিত পানি ও অস্বাস্থ্যকর স্যানিটেশন শিশুদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। বিশুদ্ধ পানির অভাবে ডায়রিয়া, কলেরা, আমাশয়, টাইফয়েড, জন্ডিসসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হতে পারে শিশুরা। দূষিত পানি ও দূষিত পানি দ্বারা তৈরি খাবার, পানীয় পান করলে শিশু, কিশোরীসহ যে কেউ হেপাটাইটিস ‘এ’ ও হেপাটাইটিপ ‘বি’তে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এতে লিভারে মারাত্মক তি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। দূষিত পানি ছাড়াও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাতেও এ রোগের ভাইরাস ছড়ায়। দূষিত পানি দীর্ঘদিন পান করতে থাকলে কিডনি, আলসার, অ্যাজমা এমনকি মরণব্যাধি ক্যানসারে আক্রান্ত হতে পারে শিশুরা। এ ছাড়া যেসব এলাকায় স্বাস্থ্যকর স্যানিটেশনব্যবস্থা নেই, সেসব এলাকার শিশুদের কৃমি ও হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হওয়ারও আশঙ্কা থাকে। বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন সমস্যা আছে এমন এলাকার স্বাস্থ্যসম্মত পয়োনিষ্কাশন বা স্যানিটারি ল্যাট্রিন ব্যবহার, ল্যাটিন ব্যবহারের আগে ও পরে হাত পরিষ্কার করা এবং জুতা পরে যাওয়ার ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। বিশুদ্ধ খাওয়ার পানির সংকট থাকলে পানি টগবগে করে ফুটিয়ে নিতে হবে। ফুটানোর ব্যবস্থা না থাকলে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বা ফিটকিরি ওই এলাকাগুলোয় সরবরাহ করা যেতে পারে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের পল্লী অঞ্চলের পানি সরবরাহ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. মোস্তফা বলেন, আমরা বাংলাদেশের সব জেলা ও উপজেলাতেই বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যাপারে গুরুত্ব দিচ্ছি। আমরা সিলেটের চা-বাগান এবং এর আশপাশের এলাকাগুলোয় বেশ কিছু টিউবওয়েল ও রিংওয়েল করেছি। এগুলো থেকে এলাকাবাসী বেশ ভালো মানের বিশুদ্ধ পানি পাচ্ছে। এ ছাড়া ওই অঞ্চলের অন্য যেসব এলাকায় এখনো বিশুদ্ধ পানি সংকট রয়েছে, আমরা পর্যায়ক্রমে সেসব এলাকাতেও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করতে যাচ্ছি। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচ) সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের জুন মেয়াদে ‘চা-বাগান কর্মীদের জন্য নিরাপদ খাওয়ার পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হওয়ার কথা রয়েছে। বিশুদ্ধ খাওয়ার পানি সরবরাহ ও পরিবেশগত স্যানিটেশনব্যবস্থা সম্প্রসারণের মাধ্যমে চা-বাগানের কর্মীদের জীবনযাত্রার মানের উন্নয়ন করাই এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য।

আমাদের সময় থেকে সংগ্রহ

শ্রীমঙ্গলের সাতগাঁও উপবন ট্রেন লাইনচ্যুতঃ যোগাযোগ বন্ধ

 কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

FB_IMG_1519372266109-300x169

বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে সিলেট-ঢাকাগামী যাত্রীবাহী আন্তঃনগর উপবন এক্সপ্রেসের ১১টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে দুর্ঘটনায় পতিত হয়েছে। এতে সিলেটের সাথে সারাদেশের ট্রেন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। আখাউড়া রিলিফ ট্রেন দুর্ঘটনা কবলিত ট্রেনটির উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে।

আখাউড়া রেলজংশনের লোকোসেড অফিস সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশে সিলেট থেকে ছেড়ে আসে। রাত ১টা শ্রীমঙ্গল রেল এলাকার সাতগাঁও বরাবর দ্রুত চলন্ত অবস্থায় ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এই ঘটনায় ঢাকাগামী হাজার হাজার যাত্রী দুর্ভোগে পড়েন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন আখাউড়া রেলওয়ে রিলিফ ট্রেনের কর্মকর্তা শিপন মিয়া।

ট্রেনের পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, ট্রেনটি ১২.৪০ মিনিটে শ্রীমঙ্গল স্টেশন ছেড়ে যায়। সাতগাঁও স্টেশনের আউট সিগন্যালের কাছে আসার পর ট্রেনের ১১টি বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ আপাতত বন্ধ রয়েছে।

শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার মো: সাখাওয়াত হোসেন বলেন, কখন লাইন চালু হবে এটা এখন বলা যাচ্ছে না। আখাউয়া রিলিফ ট্রেন কাজ করছে।

আখাউড়া রিলিফ ট্রেন কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দুর্ঘটনাকবলিত ১১টি বগির মধ্যে ৩টি বগি উদ্ধার হয়েছে। আনুমানিক বিকাল ৪টায় দুর্ঘটনাকবলিত বগির উদ্ধার কাজ হতে পারে।

খবর নিয়ে জানা গেছে, দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনের যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে দুর্ঘটনাস্থলে পুলিশের চারটি টিম মোতায়েন করা হয়েছে।

একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

কমলকুঁড়ি ডেস্ক

677a-5a8c7087d0d11

বিনম্র শ্রদ্ধা, যথাযথ মর্যাদা ও পূর্ণ ভাবগাম্ভীর্য পরিবেশে অমর একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে জাতি ভাষা শহীদদের স্মরণের মাধ্যমে ‘মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ পালন শুরু করেছে।

অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। খবর বাসসের

রাত ১২টা ১টি মিনিটে প্রথমে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং এর পরপরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় অমর একুশের কালজয়ী গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি…’ বাজানো হয়।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

মন্ত্রিসভার সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধান, কূটনীতিক, আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা এবং উচ্চ পদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপতি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পৌঁছলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আক্তারুজ্জামান তাকে স্বাগত জানান।

এরপর জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

এরপর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ মন্ত্রিবর্গ ও দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে নিয়ে দলের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারে পুনরায় পুস্পস্তবক অর্পণ করেন।

বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ দলীয় নেতাদের নিয়ে শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

পরে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর সেনা, বিমান ও নৌবাহিনী প্রধান পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে মহাপুলিশ পরিদর্শক পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

আমাদের চা সারাবিশ্বে স্থান করে নিক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

Pi-1

চায়ের বহুমুখী ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমরা চাই— আমাদের চা সারাবিশ্বে নিজের স্থান করে নিক, আরো উন্নত হোক।’ রোববার সকালে বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে বাংলাদেশ চা প্রদর্শনী ২০১৮-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ চা বোর্ড (বিটিবি) যৌথভাবে বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে তিনব্যাপী এই প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। দেশ-বিদেশের চা প্রেমীদের কাছে চায়ের ইতিহাস-ঐতিহ্য তুলে ধরা হবে এই প্রদর্শনীতে। খবর বাসসের

চা গবেষণা ইনস্টিটিউট চায়ের গুণগত মান বৃদ্ধির জন্যও গবেষণা আরো জোরদার করবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিভিন্ন ফ্লেভারযুক্ত চা ছাড়াও চা থেকে বিভিন্ন প্রসাধন সামগ্রী, যথা- টি সোপ, টি শ্যাম্পু, টি টুথপেস্ট প্রভৃতি এবং খাদ্য সামগ্রী, যেমন- টি কোলা, চা-এর আচার প্রভৃতি উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। এ সুযোগ আমাদের কাজে লাগাতে হবে।’

Pic Kamal

তিনি বলেন, ‘চা উৎপাদনের জন্য যে দু’টি পাতা একটি কুঁড়ি আমরা নিচ্ছি, তা ছাড়াও যে চা গাছটা থেকে যাচ্ছে তা বহুমুখীকরণে আমাদের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।’
বাংলাদেশ চা বোর্ড চা ও চা জাত পণ্য বহুমুখীকরণের ওপর কাজ করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে মূল্য সংযোজিত বিভিন্ন ধরনের চা উৎপাদন ও বাজারজাত করা হচ্ছে। সাতকড়া চা, লেমন চা, মশলা চা, জিনজার চা, তুলসি চা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি বলেন, কেমিক্যাল ফার্টিলাইজার ও পেস্টিসাইডস ব্যবহার না করে অর্গানিক পদ্ধতিতেও চা উৎপন্ন করা হচ্ছে। বিভিন্ন বাগানে সিটিসি ব্ল্যাক টি এর পাশাপাশি গ্রিন টি ও অর্থোডক্স টি তৈরি করা হচ্ছে। চায়ের মোড়কজাত ও বাজারজাতকরণে এসেছে নতুনত্ব।

বিভিন্ন কোম্পানি আকর্ষণীয় মোড়ক, সিলিন্ডার ও টি ব্যাগে চা বাজারজাত করছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এসব ভ্যালু অ্যাডেড চা উচ্চমূল্যে বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। চা গাছের পোকা মাকড় দমনে নতুন নতুন উপায় উদ্ভাবন করাসহ ফ্লেভার্ড চায়ের বিষয়েও গবেষণা চলছে। এতে করে চায়ের উৎপাদন যেমন বৃদ্ধি পাবে তেমনি এর গুণগত মান আরো উন্নত হবে, সেটাই আমাদের আশা।’ চা উৎপাদনের জন্য প্রচুর বৃষ্টিপাতের প্রয়োজনীয়তার পাশাপাশি সেই বৃষ্টির পানি যেন বাগানে জমতে না পারে তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিতে হয় উল্লেখ করে ধানের বিভিন্ন প্রজাতির মত ক্ষরা সহিষ্ণু বা অল্পবৃষ্টি সহিষ্ণু চা উৎপাদনের দিকেও সংশ্লিষ্টদের নজর দেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। এবার দেশে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হওয়াকে চা বাগানের মালিকদের জন্য সুখবর উল্লেখ করে তিনি চা শ্রমিকদের কল্যাণে বিশেষভাবে দৃষ্টি দেওয়ার জন্যও বাগান মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান। শেখ হাসিনা বলেন, তিনিই পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে এ অঞ্চলে চা চাষকে উৎসাহিত করেছিলেন এবং সে সরকারি খাতকে উন্মুক্ত করে দেওয়াতেই এই পঞ্চগড়ে চা চাষের শুরু। আজকে এই চা ইংল্যান্ডের হ্যারডসেও পাওয়া যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী মাটির রকম ভেদে চায়ের স্বাদ ভিন্ন হয় উল্লেখ করে বলেন, আবার এক জায়গার চায়ের সঙ্গে আরেক জায়গার চা ব্লেন্ড করেও খাওয়া হয়। খুব কড়া চায়ের জন্য আসাম টি এবং সুগন্ধি চা হচ্ছে দার্জিলিং টি। শ্রীলংকায় হয় মসলা চা, সর্দি-কাশিতে এটি খুবই ভাল শরীরের জন্য। আসামের সঙ্গে দার্জিলিং চা মিক্স করে খেতে ব্যক্তিগতভাবে তিনি পছন্দ করেন বলেও উল্লেখ করেন। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, বাণিজ্য সচিব শুভাশিষ বোস এবং চা-বাগান মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশীয় চা সংসদের চেয়ারম্যান আর্দাশিল কবির অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। বিটিবির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলাম অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন। দেশের চা শিল্পের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি ভিডিও চিত্র অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত হয়। শেখ হাসিনা অনুষ্ঠান স্থল থেকে মতিঝিলে ৩০তলা বিশিষ্ট ‘বঙ্গবন্ধু চা ভবন’-এর নির্মাণ কাজের ফলক উন্মোচন করেন। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে চায়ের নতুন জাত ‘বিডি ক্লোন-২১’ অবমুক্ত করেন এবং সাতটি ক্যাটাগরিতে চা উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার দিয়ে সম্মানিত করেন।

ইতালির উদ্দ্যেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

কমলকুঁড়ি ডেস্ক :

1518324146

চার দিনের সরকারি সফরে জাতিসংঘের কৃষি উন্নয়ন তহবিলের (আইএফএডি) গভর্নিং কাউন্সিলের সভায় যোগ দিতে আজ রবিবার ইতালির উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ও সফরসঙ্গীদের নিয়ে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দুবাইয়ের উদ্দেশ্য রওনা দেন শেখ হাসিনা। দুবাইয়ে যাত্রাবিরতির শেষে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় রোমের ফিউমিসিনো বিমান বন্দরে পৌঁছার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

ইতালিতে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাবেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আবদুস সোবহান সিকদার। সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী ১২ ফেব্রুয়ারি ভ্যাটিক্যান সফর করবেন। সেখানে পোপ ফ্রান্সিস ও সেক্রেটারি স্টেট অব ভ্যাটিক্যান সিটি কার্ডিনাল পেইটরো পারোলাইনের সঙ্গে বৈঠক করবেন শেখ হাসিনা। ১৩ ফেব্রুয়ারি সকালে রোমে আইএফএডির সদর দপ্তরে গভর্নিং কাউন্সিলের ৪১তম অধিবেশনে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন। এবারের কাউন্সিলের প্রতিপাদ্য ‘ফ্রম ফ্রাগিলিটি টু লং টার্ম রেজিলেন্স: ইনভেস্টিং ইন সাসটেইনেবল রুরাল ইকোনমিকস’।

সম্মেলনে আইএফএডির প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী মধ্যাহ্নভোজে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। একই দিন সন্ধ্যায় শেখ হাসিনা রোমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংবর্ধনায় যোগ দেবেন। ইতালী সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীসহ বিভিন্ন কর্মকর্তা। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

খালেদা জিয়ার ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড

72

নিউজ ডেস্ক::

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ বাকি আসামিদের ১০ বছর করে কারাদণ্ড ও দুই কোটি ১০ লাখ করে জরিমানা করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার পুরান ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় এ রায় দেন। মোট ৬৩২ পৃষ্ঠার রায়ের বিশেষ অংশ পাঠ করেন বিচারক।

রায় ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন খালেদা জিয়া ও আরো দুই আসামি।

প্রথমেই বিচারক রায়ের প্রসিকিউশনের অভিযোগগুলো পড়ে শোনান।

এ মামলায় মোট আসামি ছয়জন। তার মধ্যে তিনজন পলাতক। এই তিনজন হলেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

২০১০ সালের ৫ আগস্ট খালেদা জিয়া ও তাঁর ছেলে তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপপরিচালক হারুন-আর রশিদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ খালেদা জিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

মামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন—মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমা

সারাদেশে বিজিবি মোতায়েন

 কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

291806_14-300x180

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় প্রদানে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের অনুরোধে রাজধানীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহরে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।বুধবার দুপুর থেকে দেশের ৭টি জেলায় এবং সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাজধানীতে বিজিবি সদস্যরা টহল শুরু করেছে। এর মধ্যে রাজধানীতে ২০ প্লাটুন, সিরাজগঞ্জে ৩ প্লাটুন, বগুড়ায় ৩ প্লাটুন, নারায়ণগঞ্জে ৩ প্লাটুন, নোয়াখালীতে ১ প্লাটুন, লক্ষ্মীপুরে ১ প্লাটুন এবং চাঁদপুরে ১ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করার সংসাব পাওয়া গেছে। এ ছাড়া রাজশাহী, খুলনা, চট্টগ্রাম শহরে র‌্যাব, পুলিশ ও বিজিবির যৌথ টহল চলছে।
অপরদিকে, রাজধানীর প্রবেশপথগুলোতে তল্লাশির পাশাপাশি মহাসড়কে কড়া নজরদারি শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। দেশের বিভিন্ন জায়গায় নৌপথ, রেলস্টেশন এবং বাস টার্মিনালে তল্লাশি চলছে। এসব বিষয়ে আজ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, রায়কে কেন্দ্র করে যাতে কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, জানমালের ক্ষতি না হয়, এ জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। তারা সব সময় যে কোনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সতর্ক থাকবে। রায়কে ঘিরে জ্বালাও পোড়াও হলে জনগণের জানমালের রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষীবাহিনী তা প্রতিহত করবে।বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মহসীন রেজা জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা প্রশাসনের অনুরোধে বিজিবি নামানো হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বিজিবি সদস্যরা তাদের দায়িত্ব পালন করবেন। এদিকে বিজিবি-১ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল শামীম মাসুদ আল ইফতেখার জানান, রাজশাহী জেলা প্রশাসনের অনুরোধে ৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। তারা মহানগর এলাকায় দায়িত্ব পালন করবেন।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় আদালতে যাবেন খালেদা জিয়া

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট :
291806_14-300x180

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আগামীকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে রাজধানীর বকশীবাজারের ঢাকা আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ আদালতে উপস্থিত হবেন। খালেদা জিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে দুদকের দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালত রায় ঘোষণা জন্য বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দিন ধার্য রয়েছে। খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে আদালতে আসবেন বেগম খালেদা জিয়া। এদিন ঢাকার ৫নং বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় ঘোষণা করা হবে। গত ২৫ জানুয়ারি রাজধানীর বকশীবাজারের আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫নং বিশেষ জজ আদালত রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য ৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন।