সদ্য সংবাদ

বিভাগ: জাতীয়

শাসন না নির্যাতন এক কি ?

:: সাইফুল আলম ::

নির্যাতন শব্দটির ব্যাখ্যা আইনে স্পষ্ট করা থাকলেও শাসনের কোন ব্যাখ্যা বিশ্লেষন আছে কি না আমার জানা নেই। তবে শাসন শব্দটি সামাজিক উপলব্ধি হতে পারে। আইনে যেকোনো নির্যাতন একটি সুস্পস্ট অপরাধ।যার জন্য বিচার ব্যবস্থাও প্রচলিত রয়েছে। যে কোন ধরনের শারীরিক মানসিক নির্যাতন অপরাধ হলেও শাসনটা হয়ে থাকে অধিকারের ভিত্তিতে। যার উপরে অধিকার রয়েছে তাকেই কেবল শাসন করা যায়। যেমন পরিবারের অভিবাক, শিক্ষকরা কোন বিষয় সংশোধন কিংবা প্রকৃত মানুষ গঠনের জন্য ক্ষেত্রবিশেষে নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকে তাদের অনুগত সন্তান,ভাই বোন কিংবা ছাত্র/ছাত্রীদের শাসন করে। এক্ষেত্রে উদ্দেশ্যটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদিও এরকম শাসনও অনেক সময় শারীরিক কিংবা মানসিক নির্যাতনের কাতারে চলে যায় তবে উদ্দেশ্য যদি সৎ থাকে তাহলে এরকম শাসন কে নির্যাতন বলতে আমি একমত নই। কারন যুগপোযোগী পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মাধ্যমে পারিবারিক মূল্যবোধ তৈরী এবং সামাজিক অবক্ষয় রোধে মোটিভেশনের পাশাপাশি শাসনও গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি। কাজেই এরকম শাসন কে কখনো নির্যাতন মনে করার মানসিকতা দুর করারও জন্য সংশ্লিষ্টদের মোটিভেশন দরকার। আর এরকমটা হলে সাম্প্রতিক ভিকারুননিসার দুখ্যজনক ঘটনা নাও ঘটতে পারত!তবে নিকট অতীতে অনেক শিক্ষকের আচরনও যথেষ্ট প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।যা কাম্য নয়।

আমি একজন শিক্ষক পিতা-মাতার সন্তান। যেটি আমি সব সময় গর্ব করি।আমার মা কে এখনো অনেক সমাজের উচ্চ মর্যাদায় আসীন অনেকেই পা ছুয়ে সালাম করে। যা আমিও সুযোগ পেলে আমার শিক্ষকদের করে থাকি।ছাত্র শিক্ষকের সম্পর্কটা আসলে এরকমই হবার কথা।ধর্ম গ্রন্থেও মা বাবার পরে শিক্ষকের মর্যাদার কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে এই মর্যাদা ধরে রাখাও অনেক চ্যালেন্জিং।

গ্রাম,শহর হয়ে রাজধানীর নামী দামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা লাভ করার সুযোগ আমার হয়েছিল। শিক্ষকদের শাসন আর ভালবাসার অভিজ্ঞতা ছিল মনে রাখার মত। আর এরকম অভিজ্ঞতাই আমাকে এ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। যাতে প্রতিক্ষেত্রেই “ভদ্র এবং বিনয়ী” এর সার্টিফিকেট পেয়ে থাকি।

শিক্ষকদের শাসনের অভিজ্ঞতা আজও মনে পরে। আমাদের সময় শাসন হত পড়াশুনা না করা,দেরিতে ক্লাসে আসা,শৃংখলা কিংবা নৈতিকতা পরিপন্থি কোন কাজ করার জন্য। আর শাসনের ধরন হত দাঁড়িয়ে থাকা এক পা কিংবা দু পায়ে ভর করে কিংবা বেন্চের উপর।বেতের প্রহার (যেই বেত আমরাই বাঁশ ঝাড় থেকে সংগ্রহ করতাম), নিল ডাউন, একজন আরেকজনের কান ধরে টানা ইত্যাদি। মজার কথা হল এরকম শাসনের শিকার হলে পরিবার কখনো জানত না। আমি যখন ক্লাস ফোরে একদিন দুপুরের বিরতির নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ক্লাসে হাজির না হওয়ায় শিক্ষক আমাকে বেত দিয়ে প্রচুর প্রহার করেছিল,মজার ব্যাপার তখন পাশের রুমে আমার মা আমার কান্নার শব্দ শুনেও ঐ শিক্ষক কে কোন অনুরোধ করেননি। বরং আমাকে আবার শাসন করেছিল দেরিতে ক্লাসে এসেছিলাম কেন! তখন বলিনি “ উই ওয়ান্ট জাস্টিস”! বর্তমান প্রেক্ষাপটে যা কখনো সম্ভব নয়।

বর্তমানে ছাত্র /অভিবাবকের সাথে শিক্ষকের সম্পর্কে আস্থাহীনতা দূর করা প্রয়োজন।তাতে শাসন কখনো নির্যাতন হবে না।

লেখক- অফিসার ইনচার্জ ,জেলা গোয়েন্দা শাখা (উত্তর জোন),সিলেট।

(সংগ্রহ)

টঙ্গীতে ইজতেমা মাঠে দুই পক্ষের সংঘর্ষ : আহত অর্ধশতাধিক

কমলকুঁড়ি ডেস্ক

21

আজ  শনিবার দুপুরের দিকে বিশ্ব ইজতেমার আধিপত্য নিয়ে তাবলিগ জামাতের বিবদমান দুইটি গ্রুপের মধ্য সংঘর্ষ হয়েছে।   সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক ব্যক্তি।   এর মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। আহতদের টঙ্গী সরকারি হাসপাতাল ও উত্তরার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এখনও দুই পক্ষে থেমে থেমে সংঘর্ষ চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

তাবলিগ–সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ৩০ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫ দিনের জোড় (সম্মিলন) এবং ১১-১৩ জানুয়ারি ২০১৯ পর্যন্ত তিন দিনের ইজতেমা করার ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের তাবলিগ জামাতের মুরব্বি সাদ কান্ধলভীর অনুসারীরা। অপরদিকে তাবলিগের হেফাজতপন্থী মাওলানা জোবায়েরের অনুসারীরা ডিসেম্বরের ৭ থেকে ১১ তারিখ পর্যন্ত জোড় এবং আগামী বছরের জানুয়ারির ১৮ থেকে ২০ তারিখ পর্যন্ত তিন দিন ইজতেমার ঘোষণা দিয়েছেন। দুই পক্ষের বিবদমান বিরোধের জেরে হেফাজতপন্থীরা মাঠ দখল করে সতর্ক পাহারা ব্যবস্থা করেছেন।

22

শনিবার সকালে সাদ গ্রুপের লোকজন মাঠে প্রবেশ করতে গেলে সেখানে উত্তেজনা দেখা দেয়। জোবায়ের গ্রুপের লোকজন লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। অন্যদিকে সাদ গ্রুপের লোকজন কামারপাড়া এলাকায় রাস্তা বন্ধ করে সেখানে অবস্থান নেন। দুপুরের দিকে মাঠের গেট ভেঙ্গে সাদ গ্রুপের লোকজন মাঠে প্রবেশ করেন। এ সময় দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

তাবলিগের মাঠ দখলমুক্ত করার দাবিতে ২৭ নভেম্বর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সাদপন্থীরা। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, তাবলিগের অপর পক্ষটি উগ্রপন্থায় বিশ্বাসী। তারা কোমলমতি মাদ্রাসাছাত্রদের হাতে লাঠিসোঁটা দিয়ে ইজতেমা মাঠ পাহারায় বসিয়ে দিয়েছে।

মৌলভীবাজারের চারটি আসনে ২৭ জনের মনোনয়ন পত্র জমা

11

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

47106922_928816673955182_1963347907415375872_n
মৌলভীবাজার জেলার ৪টি আসনে ২৭ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। বুধবার (২৮ নভেম্বর) মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো.তোফায়েল ইসলামের কাছে ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারি রিটানিং অফিসারের কাছে দলীয় নেতাকর্মী নিয়ে পৃথক দলীয় মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

মৌলভীবাজারে-৩ (সদর ও রাজনগর) আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ১০ জন। তার মধ্যে একজন প্রার্থী মৌলভীবাজার-৪ আসনের। বাকি ৯জন মৌলভীবাজার-৩ আসনের প্রার্থী।

46918173_740744776282862_7267154312021671936_n

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মো. নেছার আহমদ। বিএনপির দুইজন প্রার্থীর মধ্যে মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি এম নাসের রহমান ও আরেকজন তার স্ত্রী রেজিনা নাসের। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের লুৎফুর রহমান কামালী। বাসদের প্রার্থী মো. মগনু মিয়া। জাসদের প্রার্থী মো. আব্দুল মছব্বির। খেলাফত মজলিসের মাওলানা আহমদ বিলাল । মৌলভীবাজার-৪ (কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল) আসনে গণ ফোরামের প্রার্থী এড শান্তিপদ ঘোষ।
ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন মো: আসলাম, বিএনএফ এর আশা বিশ্বাস। মৌলভীবাজার-৪ কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল আসনে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন ৪ জন। বুধবার দুপুরে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রির্টানিং অফিসার মো.নজরুল ইসলাম ও কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারি রিটানিং অফিসারের কাছে দলীয় নেতাকর্মী নিয়ে পৃথক দলীয় মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন।

46969490_740744872949519_444072117730803712_n
তারা হলেন, আওয়ামীলীগের প্রার্থী সাবেক চীফ হুইপ উপাধ্যক্ষ ড. আব্দুস শহীদ এমপি, ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির হাজী মুজিবুর রহমান চৌধুরী হাজী মুজিব ও তার ছেলে মুঈত আশিক চিশতি। ইসলাম আন্দোলন বাংলাদেশে মো.সালাউদ্দিন আহমদ।

47056315_2236833683267671_3113165572301389824_n
মৌলভীবাজার ১ জুড়ী-বড়লেখা আসনে ৬জন প্রার্থী। মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী) আসন থেকে বিএনপির দুই প্রার্থী মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন। একজন সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাড. এবাদুর রহমান চৌধুরী ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি নাসির উদ্দিন মিঠু।   বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রার্থী হুইপ মো. শাহাব উদ্দিন আহমদ এমপি। ইসলাম শাসনতন্ত্র আন্দোলনের মো. গিয়াস উদ্দিন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট আহমেদ রিয়াজ, আমিনুল ইসলাম (জামায়াত নেতা) স্বতন্ত্র প্রার্থী।

47152461_2291016091005870_5466775957945712640_n
মৌলভীবাজার -১, কুলাউড়া আসনে ৭জন মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন: মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এর সাবেক ডাকসুর ভিপি এবং সাবেক আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান মো. মনসুর আহমদ। সাবেক জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি বিকল্প ধারার থেকে নৌকা প্রতীকে এম এম শহীন মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন। বর্তমান আওয়ামীলীগের এমপি আব্দুল মতিন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হাফিজ মতিউর রহমান। ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা আসলাম হোসেন রাহমানী, বাংলাদেশ বিল্পবী ওয়ার্কার্স পার্টি থেকে প্রশান্ত দেব সানা, জাতীয় পাটির লাঙ্গল প্রতীকে অ্যাড মাহবুবুল আলম শামীম মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন।

10

মৌলভীবাজার জেলার ৪টি আসনে মনোনয়ন পেলেন ১২ জন প্রার্থী : মৌলভীবাজার-৩ থেকে স্বামী-স্ত্রী মনোনয়ন, মৌলভীবাজার-৪ থেকে পিতা পুত্র মনোনয়ন

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

12
মৌলভীবাজার জেলার ৭টি উপজেলা নিয়ে ৪টি সংসদীয় আসন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার ৪টি আসনে বিভিন্ন দল থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন ১২ জন প্রার্থী। এর মধ্যে মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী) আসনে আওয়ামীলীগের বর্তমান সংসদ সদস্য হুইপ মো: শাহাব উদ্দিন, বিএনপির থেকে সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট এবাদুর রহমান চৌধুরী ও শিল্পপতি নাসির উদ্দিন মিঠু। মৌলভীবাজার-২ আওয়ামীলীগে নেতৃত্বাধীন (বিকল্পধারা) সাবেক বিএনপির সংসদ সদস্য এম এম শাহীন, জাতীয় এক্যফ্রন্টের সাবেক আওয়ামীলীগ সংসদ সদস্য ডাকসুর ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর, মৌলভীবাজার-৩ (মৌলভীবাজার সদর-রাজনগর) থেকে জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি নেছার আহমদ, সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এম সাইফুর রহমান পুত্র জেলা বিএনপির সভাপতি এবং সাবেক সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান ও এ আসনে এম নাসের রহমানের স্ত্রী রেজিনা নাসেরও মনোনয়ন পেয়েছেন।

13

মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আওয়ামীলীগে থেকে বর্তমান সংসদ সদস্য ও সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি সাবেক চিফ হুইপ আলহাজ¦ উপাধ্যক্ষ ড. মো: আব্দুস শহীদ।  বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব) ও তাঁরই পুত্র আশিক মুঈদ চৌধুরী। এ আসন থেকে বিএনপির নেতৃত্বাধিন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা গনফোরাম সভাপতি অ্যাডভোকেট শান্তি পদ ঘোষ।
আওয়ামীলীগের (নৌকা) প্রতীকের প্রার্থী  চূড়ান্ত হলেও মৌলভীবাজার জেলার ৪টি আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে মোট ৮ জনকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এই ৮ জন থেকে ৪ জনকে প্রার্থী রাখা হবে। তবে কোন ৪ জন ধানের শীষ নিয়ে প্রতিদন্ধিতা করবেন তা এখনও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছেনা।

নাসিমের বিরুদ্ধে লড়বেন কনকচাঁপা

নিউজ ডেস্ক

গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয় থেকে সোমবার (২৬ নভেম্বর) রাতে মনোনয়নের চিঠি গ্রহণ করেছেন কণ্ঠশিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা। সিরাজগঞ্জ-১ (কাজীপুর) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ও ১৪ দলের মুখ্যপাত্র মোহাম্মদ নাসিমের বিরুদ্ধে ধানের শীষের পক্ষে লড়বেন তিনি।

এদিকে রবিবার (২৫ নভেম্বর) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে দলীয় প্রার্থীদের চিঠি দেওয়া হয়। দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের কাছ থেকে সিরাজগঞ্জ-১ আসনে লড়তে মনোনয়নের চিঠি সংগ্রহ করেন মোহাম্মদ নাসিম।

বর্তমান ২৬ এমপি বাদ পড়লেন

কমলকুঁড়ি ডেস্ক রিপোর্ট

21

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের ২৬ আসন থেকে বর্তমান সংসদ সদস্য বাদ পড়েছেন। এ ছাড়া আট আসনে বর্তমান এমপির পাশাপাশি আরও আট প্রার্থীকে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

আসনগুলো হলো:- নেত্রকোনা-২ আসন থেকে বাদ পড়েছেন যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়। এ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন আশরাফ আলী খান খসরু।  নীলফামারী-৩ থেকে বাদ পড়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফা। আসনটি জোট শরীকদের ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। মাগুরা-১ থেকে বাদ পড়েছেন এ টি এম আব্দুল ওয়াহাব। মনোনয়ন পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর এপিএস সাইফুজ্জামান শিখর।

মৌলভীবাজার-৩ আসনে সায়রা মহসিনের পরিবর্তে মনোনয়ন পেয়েছেন নেছার আহমেদ।

খুলনা-২ থেকে বাদ পড়েছেন মিজানুর রহমান। এ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর চাচাত ভাই শেখ সালাউদ্দিন জুয়েল। খুলনা-৬ থেকে বাদ পড়েছেন শেখ মোহাম্মদ নুরুল হক, মনোনয়ন পেয়েছেন আক্তারুজ্জামান বাবু।

বাগেরহাট-২ থেকে বাদ পড়েছেন মীর শওকত আলী বাদশা, মনোনয়ন পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ভাতিজা শেখ তন্ময় (শেখ হেলাল উদ্দিনের ছেলে)।

পটুয়াখালী-৩ বাদ পড়েছেন সাবেক বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন। পেয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার ভাগ্নে এ এস এম শাহজাদা। পিরোজপুর- ১ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম এ আউয়ালের পরিবর্তে মনোনয়ন পেয়েছেন স ম রেজাউল করিম।  ঢাকা-১৩ আসন থেকে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানকের পরিবর্তে মনোনয়ন পেয়েছেন মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান।

মাদারীপুর-৩ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক আবদুস সোবাহান গোলাপ। এ আসনে সংসদ সদস্য ছিলেন আ ফ ম বাহার উদ্দিন নাছিম। শরীয়তপুর-১ আসনে বাদ পড়েছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক। এ আসনে মননোয়ন পেয়েছেন দলের কার্য নির্বাহী সদস্য ইকবাল হোসেন অপু।

শরীয়তপুর-২ মনোনয়ন পেয়েছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম। বাদ পড়েছেন সাবেক ডেপুটি স্পিকার শওকত আলী। টাঙ্গাইল-৩ আসনে আমানুর রহমান রানার পরিবর্তে মনোনয়ন পেয়েছেন তার বাবা আতাউর রহমান খান। পাবনা-২ আসনে বাদ পড়েছেন খন্দকার আজিজুল হক আরজু। মনোনয়ন পেয়েছেন আহমেদ ফিরোজ কবীর। কিশোরগঞ্জ-২ সোহরাব উদ্দিনের পরিবর্তে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে পুলিশের সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদকে।

কক্সবাজার-৪ আসনে আব্দুর রহমান বদির পরিবর্তে তার স্ত্রী শাহীন আক্তার মনোনয়ন পেয়েছেন। নওগাঁ-৫ আসনে আব্দুল মালেকের পরিবর্তে মনোনয়ন পেয়েছেন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত আব্দুল জলিলের ছেলে নিজামুদ্দিন জলিল জন।

ফরিদপুর-১ আসনে বাদ পড়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান। পেয়েছেন সাবেক সচিব মঞ্জুর হোসেন বুলবুল।  নরসিংদী-৩ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম মোল্লার পরিবর্তে পেয়েছেন জহিরুল হক ভূঁইয়া মোহন। নড়াইল-২ আসনে ওয়ার্কার্স পার্টির শেখ হাফিজুর রহমানের পরিবর্তে মনোনয়ন পেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা।

চট্টগ্রাম-৯ আসন থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুর রহমান নওফেল। আসনটিতে এর আগে সংসদ সদস্য ছিলেন মহাজোটের শরীক জাতীয় পার্টির জিয়াউদ্দিন বাবলু। টাঙ্গাইল-৬ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন আহসানুল ইসলাম টিটু। আহসানুল ইসলাম টিটু আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য মকবুল হোসেনের ছেলে। এ আসনে সংসদ সদস্য ছিলেন আব্দুল বাতেন। সিলেট-১ আসনে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের পরিবর্তে তার ছোট ভাই এ কে এম আবুল মোমেন মনোনয়ন পেয়েছেন।  কুষ্টিয়া-৪ আব্দুর রউফের পরিবর্তে মনোনয়ন পেয়েছেন সেলিম আলতাফ জর্জ।

সিরাজগঞ্জ -৩ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আজিজ। এ আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ছিলেন গাজী আমজাদ হোসেন মিলন। এ ছাড়া জামালপুর-৫ আসনে রেজাউল করিম হিরার পাশাপাশি নাম আছে ইঞ্জিনিয়ার মোজাফফর আহমেদের। ঢাকা-৭ আসনে হাজী মো. সেলিমের পাশাপাশি নাম আছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আ. লীগের সভাপতি আবুল হাসনাত। বরিশাল-৫ আসনে জেবুন্নেসা আফরোজের পাশাপাশি নাম আছে কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুকের। লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে বেসামরিক বিমান পর্যটনমন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামালের পাশাপাশি নাম আছে গোলাম ফারুকের। ঢাকা-৫ আসনে হাবিবুর রহমান মোল্লার পাশপাশি নাম আছে কাজী মনিরুল ইসলাম মনুর।

কিশোরগঞ্জ-১ আসনে সৈয়দ আশরাফের পাশাপাশি নাম আছে মশিউর রহমান হুমায়ুনের। পটুয়াখালী-২ আসনে আ স ম ফিরোজের পাশাপাশি নাম আছে সামসুল হক রেজা। চাঁদপুর-১ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন আলমগীরের পাশাপাশি নাম আছে গোলাম রহমানের।

মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনে ৬ষ্ঠ বারের মতো নৌকার মনোনয়ন পেলেন উপাধ্যক্ষ ড. মো: আব্দুস শহীদ এমপি

M A Shahid MP
কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনে ৬ষ্ঠ বারের মতো নৌকার মাঝি হতে দলীয় চুড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক চিফ হুইপ, সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা উপাধ্যক্ষ ড. মো: আব্দুস শহীদ এমপি। রোববার (২৫ নভেম্বর) দুপুরে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার স্বাক্ষরিত চুড়ান্ত প্রার্থী হিসাবে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে তাকে চূড়ান্ত মনোনয়নের চিঠি দেওয়া হয়েছে। এদিকে উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদের মনোনয়ন চুড়ান্ত হওয়ায় খবরে নির্বাচনী এলাকা কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গলে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা আনন্দ উল্লাস প্রকাশ করতে থাকেন। কোথাও কোথাও সমর্থকরা একে অপরকে মিষ্টি মূখ করান।
উল্লেখ্য, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদীয় আসন ২৩৮ মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ)  নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন বর্তমান সাংসদ উপাধ্যক্ষ ড. মো: আব্দুস শহীদ, কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যাপক মো: রফিকুর রহমান, শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রনধীর কুমার দেব,  মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আব্দুল আহাদ চৌধুরী, মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সৈয়দ মনসুরুল হক ও মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামীলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. এ এস এম আজাদুর রহমান। ঢাকায় গত ১৪ নভেম্বর গণ ভবনে সবাই দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে স্বাক্ষাৎ করেছেন।
বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট ও মাঠ জরিপের মাধ্যমে সবদিক বিবেচনা করে এই আসনে ৬ষ্ঠ বারের মতো আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সাবেক চিফ হুইপ, সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা উপাধ্যক্ষ ড. মো: আব্দুস শহীদ এমপি-কে দলীয় মনোনয়ন প্রদান করেন।
ষষ্ঠবারের মতো দলীয় মনোনয়ন লাভের প্রতিক্রিয়ায় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার এলাকার প্রিয় নেতাকর্মী ও জনগণের দোয়া-আশীর্বাদ এবং ভালোবাসা ও শুভকামনার ফসল আওয়ামী লীগের এই মনোনয়ন। সে জন্য জননেত্রী শেখ হাসিনা ও দলের মনোনয়ন বোর্ডের সবার কাছে আমি চির কৃতজ্ঞ।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমার রাজনৈতিক ভিশন হচ্ছে নির্বাচনী এলাকার গণমানুষের ন্যায়সঙ্গত দাবি আদায় ও তাদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখা। নির্বাচনী এলাকার জনসাধারণের শিক্ষা, চিকিৎসা, নিরাপত্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে অসমাপ্ত কাজগুলো বাস্তবায়ন করা।’
উল্লেখ্য, উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ এমপি মৌলভীবাজার- ৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনে পরপর পাঁচবার নৌকা প্রতীকে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। গত দশ বছর তাঁর নির্বাচনী এলাকায় মানুষ শান্তিতে ও নির্বিঘেœ ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করতে পেরেছেন। এলাকায় চাঁদাবাজদের কোনো দৌড়াত্ম ছিল না। শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জে আওয়ামী লীগের অধিকাংশ কর্মীদের মতে, রাজনৈতিক দূরদর্শীতা, মেধা ও প্রজ্ঞা দিয়ে দলমত নির্বিশেষে তিনি এই অঞ্চলের গণমানুষের নেতা হয়ে উঠেছেন। অর্জন করেছেন আস্থা, বিশ্বাস আর ভালোবাসা।
উপাধ্যক্ষ মো. আব্দুস শহীদ মৌলভীবাজার-৪ আসন থেকে ১৯৯১ সালে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একই আসন থেকে এরপর ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮ ও ২০১৪ সালে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। আব্দুস শহীদের সঙ্গে এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সাবেক অর্থমন্ত্রী এম. সাইফুর রহমানের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছিল। ২০০৯- ২০১৪ পর্যন্ত তিনি জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ, ২০০১- ২০০৬ পর্যন্ত সংসদে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ, এবং ১৯৯৬- ২০০১ পর্যন্ত জাতীয় সংসদে হুইপের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি। এ ছাড়াও তিনি দশম সংসদে সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি, সংসদ কমিটি, পিটিশন কমিটি ও কার্যপ্রণালী বিধি সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য। মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলেরও তিনি সদস্য।
উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ ২০০৬ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ছিলেন। ১৯৬৬ সালের ছয় দফা ও ১৯৬৯ সালের ১১ দফা আন্দোলনে ও পূর্বাপর সকল আন্দোলনে সিলেট জেলা সংগ্রাম পরিষদের সদস্য হিসাবে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ করেন। ১৯৬৫ সালে ছাত্রলীগ মনোনীত সিলেট মদনমোহন কলেজ ছাত্র সংসদে নাট্য ও প্রমোদ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৬৬- ১৯৬৮ পর্যন্ত তিনি সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সমাজকল্যাণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭৩ সালে আব্দুস শহীদ আওয়ামী লীগে যোগ দেন। ১৯৯১- ২০০০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম মেম্বার, ১৯৬৯ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক ছিলেন। একই সময়ে তিনি ছাত্রলীগ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহসভাপতি ছিলেন।
উপাধ্যক্ষ মো. আব্দুস শহীদ ১৯৭১ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে এম.কম ডিগ্রি লাভ করেন। সম্প্রতি (২০১৮) তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল উপজেলার নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের উপর গবেষণা করে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সিনেট সদস্য আব্দুস শহীদ শিক্ষার প্রসারে এলাকায় তাঁর ভূমিকা সর্বজনবিদিত। শ্রীমঙ্গলে উপাধ্যক্ষ মো. আব্দুস শহীদ কলেজ ও দ্বারিকা পাল মহিলা ডিগ্রি কলেজ এবং কমলগঞ্জের আব্দুল বারী মুলফত উদ্দিন হাফিজিয়া ইবতেদায়ি মাদরাসা ও সাজেদা বারী শিশু সদনের তিনি প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। পিছিয়ে পড়া চা-জনগোষ্ঠীর শিশুদের শিক্ষা প্রসারে চা বাগান এলাকায় তাঁর উদ্যোগে ৩৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ নির্বাচনী এলাকায় রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, স্কুল-কলেজ-মাদরাসার অবকাঠামোগত প্রভূত উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। শ্রীমঙ্গল উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিতকরণে তিনি ভূমিকা রেখেছেন। কৃষির উন্নয়নেও তার অবদান প্রশংসিত। দুই উপজেলায় ফসল উৎপাদন ও রক্ষায় সেচব্যবস্থার উন্নয়নে স্লুইসগেইট ও রাবারড্যাম এবং বাঁধ তৈরি করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ নভেম্বর) কমলগঞ্জে বিষ্ণুপ্রিয়া ও মৈ-তৈ মণিপুরীদের মহারাসলীলা

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

Ras-1

দুটি পাতা একটি কুঁড়ি প্রকৃতির অপার লীলাভূমি সমৃদ্ধময় মনিপুরীদের ঐতিহ্যবাহী শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণের মহারাসলীলা ২৩ নভেম্বর শুক্রবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এলাকা জুড়ে বিরাজ করছে উৎসব আমেজ। আনন্দের বাহারে মানুষের তনু মন উল্লাসিত।
মহারাস বলতে প্রেমরসকে বুঝানো হয়েছে। বস্তুত রস শব্দ থেকেই রাস শব্দটির উৎপত্তি। রস আস্বাদনের জন্য রাধাকৃষ্ণের লীলানুকরণে নৃত্য গীতের মাধ্যমে যে উৎসব উদযাপন করা হয় তাই রাসোৎসব। নৃত্য, সংগীতে  মনিপুরীদের প্রাচীন জাতীয় লোক নৃত্য ‘লাই হারাওবা থেকেই রাস নৃত্যের সৃষ্টি।
প্রতি বছর কার্তিক পূর্ণিমা তিথিতে স্বাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণময় শিল্পকলা সমৃদ্ধ মনিপুরী সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী মহারাসলীলা উৎসব। মনিপুরী অধ্যূষিত মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ও আদমপুরের আশ্বিন মাসের শুরু থেকেই উৎসবের সাড়া পড়ে যায়। উপজেলার মনিপুরী সম্প্রদায়ের লোকের সঙ্গে অন্য সম্প্রদায়ের লোকেরাও মেতে উঠে এ আনন্দ উৎসবের। দেশের বিভিন্ন স্থান সহ  ভারত থেকেও মনিপুরী সম্প্রদায়ের লোকজন সহ জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে অনেকেই ছুটে আসেন মহারাসলীলা অনুষ্ঠান উপভোগের জন্যে। মনিপুরী সম্প্রদায় অধ্যুষিত কমলগঞ্জের মাধবপুর ও আদমপুরের রাসোৎসবের জন্যে তৈরী মণ্ডপগুলো সাদা কাগজের নকশায় সজ্জিত মণ্ডপগুলোতে দূর-দূরান্ত থেকে আগত শিশু নৃত্য শিল্পীদের সুনিপুণ অভিনয় যেন মন্ত্র মুগ্ধ করে রাখে দর্শনার্থীদের।

Kamalgonj Pic--Rass

রাসলীলা উপলক্ষে মাধবপুর শিববাজারস্থ জোড়াম-পে আজ শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে গোধীলীলগ্ন পর্যন্ত রাখালনৃত্য, সন্ধ্যা ৭ ঘটিকায় আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, রাত ৯ ঘটিকায় নট সংকীর্ত্তন, রাত্র ১১ ঘটিকা থেকে ঊষালগ্ন শ্রীশ্রীকৃষ্ণের মহারাসলীলানুসরণ অনুষ্ঠানে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় সংসদের সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ ড. মো: আব্দুস শহীদ এমপি। অন্যদিকে আদমপুরস্থ তেতইগাঁও মণিপুরী কালচারাল কমপ্লেক্সে ৩৩তম মহারাসলীলা উৎসব দিবারাত্রী সাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে অন্যান্য অনুষ্ঠানের মধ্যে গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকেবেন সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ ড. মো: আব্দুস শহীদ এমপি।
জানা যায় ১৭৭৯ খৃস্টাব্দে মণিপুরের মহারাজ স্বপ্নাবিষ্ট হয়ে যে নৃত্য গীতের প্রবর্তন করেছিলেন তা-ই রাস নৃত্য। মহারাজার মৃত্যুর একশত বছর পরে মহারাজ চন্দ্র কীর্তির শাসনামলে গোটা রাস নৃত্য আচৌকা ভঙ্গী, বৃন্দাবন ভঙ্গী, খুডুম্বা ভঙ্গী, গোষ্ট ভঙ্গী, গোষ্ট বৃন্দাবন ভঙ্গী, আচৌবা, বৃন্দাবন ভঙ্গী তাণ্ডব পর্যায়ে পড়ে। উলে¬খ্য, মহারাজ ভাগ্য চন্দ্রের পরবর্তী রাজাগনের বেশিরভাগই ছিলেন নৃত্য গীতে পারদর্শী এবং তারা নিজেরাও রাস নৃত্যে অংশগ্রহণ করতেন। এর ফলে মনিপুরীরা এ কৃষ্টির ধারাবাহিকতার সূত্র ধরেই ১৯৪২ খৃস্টাব্দ থেকে আজও কোনও রূপ-বিকৃতি ছাড়াই কমলগঞ্জে উদযাপিত হয়ে আসছে এ রাস উৎসব। মনিপুরী এ নৃত্যকলা শুধু কমলগঞ্জের নয় গোটা ভারতীয় উপমহাদেশের তথা সমগ্র বিশ্বের নৃত্য কলার মধ্যে একটি বিশেষ স্থান দখল করে নিয়েছে।
১৯২৬ সালের সিলেটের  মাছিমপুরে মনিপুরী মেয়েদের পরিবেষ্টিত রাস নৃত্য উপভোগ করে মুগ্ধ হয়েছিলেন বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। পরে কবিগুরু কমলগঞ্জের নৃত্য শিক্ষক নীলেশ্বর মুখার্জীকে শান্তি নিকেতনে নিয়ে প্রবর্তন করেছিলেন মনিপুরী নৃত্য শিক্ষা।
Pic- Ras Lila

  রাসোৎসবের কয়েকদিন পূর্ব থেকে চলেছে এর প্রস্তুতি। মনিপুরী সম্প্রদায়ের বাড়ি বাড়ি কুমারী ও কিশোরদের রাস লীলায় অংশগ্রহণ করার জন্যে নৃত্য ও সংগীতের তালিম নেয়ার ধুম পড়ে । কিশোরীরা  রাসলীলায় অংশগ্রহণ করে এবং রাখাল নৃত্যের শিশু-কিশোর অংশগ্রহণ করে। রাখাল নৃত্য সাধারণ দিনের বেলায় অর্থাৎ সূর্যাস্তের আগেই অনুষ্ঠিত হয়। কার্তিক মাসের পূর্ণিমা তিথি ২৩ নভেম্বর শুক্রবার দুপুরে শিশু শিল্পীরা রাখাল সাজে সজ্জিত হয়ে একটি মাঠে সমবেত হবে। এদের পরনে থাকবে ধূতি, মাথায় ময়ূর, পালকের মুকুট, কপালে চন্দ্রের তিলক, গলায় সোনার মালা, হাতে বাঁশি ও পায়ে নূপুর। এরপর বাঁশি হাতে বাদ্যের তালে তালে নৃত্য করতে করতে শ্রীকৃষ্ণের বিভিন্ন অনূকরণে একজন শিশু শিল্পী মাঠে প্রবেশ করবে। অনেকক্ষণ ধরে চলবে এই নৃত্য গীতি। রাতে শুরু হবে মহারাস লীলা। শুরুতেই পরিবেশিত হয়  রাসধারীদের অপূর্ব মৃদঙ্গ নৃত্য। মৃদঙ্গ নৃত্য শেষে প্রদীপ হাতে নৃত্যের তালে তালে সাজানো মঞ্চে প্রবেশ করেন শ্রীরাধা সাজে সজ্জিত একজন নৃত্যশিল্পী তার নৃত্যের সঙ্গে সঙ্গে বাদ্যের তালে তালে পরিবেশিত হবে মনিপুরী বন্দনা সঙ্গীত। শ্রীকৃষ্ণ রূপধারী বাঁশী হাতে মাথায় কারুকার্য খচিত ময়ুর পুচ্ছধারী এক কিশোর নৃত্য শিল্পী তার বাঁশির সুর শুনে  ব্রজ গোপী পরিবেষ্টিত হয়ে কুমারী শ্রী রাধা মঞ্চে আসবে। শুরু হবে সুবর্ণ কংকন পরিহিতা মনিপুরী কিশোরীদের  নৃত্য প্রদর্শন।
এ রাসোৎসব ঘিরে কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর জোড়া মন্ডপ এলাকায়  প্রতি বছরই বসে মেলা। কৃষি সরঞ্জাম, মাটির তৈরী সামগ্রী, ঘর কন্যার সামগ্রীসহ নানা দ্রব্যের পসরা সাজিয়ে বসেন বিক্রেতারা। এছাড়া মণিপুরীদের নিপুন হস্তে তৈরী তাঁতের বিভিন্ন রকমের কাপড়। সারারাত ধরে চলে মেলা। মেলায় মনিপুরীদের তৈরী সামগ্রীর দোকান গুলোতে থাকে  ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়।
মহারাত্রির আনন্দের পরশ পেতে আসা হাজার হাজার নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর,কবি-সাহিত্যিক, সাংবাদিক, দেশী-বিদেশী পর্যটক, বরেণ্য জ্ঞাণী-গুণী লোকজনসহ প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠবে গোটা উৎসব অঙ্গন। মণিপুরী সম্প্রদায়ের পূণ্যস্থাণ হিসাবে বিবেচিত মাধবপুর ও আদমপুরে রাসোৎসবের জন্য তৈরী সাদাকাগজের নকশায় সজ্জিত মন্ডপগুলো এই একটি রাত্রির জন্য হয়ে উঠবে লাখো মানুষের মিলনতীর্থ। মনিপুরী শিশু নৃত্যশিল্পীদের সুনিপুন নৃত্যাভিনয় রাতভর মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখবে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের।

রাস উৎসবে আসার রাস্তা ঃ
সড়ক কিংবা রেলপথে দেশের যেকোন স্থান থেকে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে আসা যায়। কমলগঞ্জ উপজেলা সদরের ভানুগাছ বাজার চৌমুহনী থেকে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান সড়ক হয়ে প্রায় ৪ কিঃ মিঃ দূরে মাধবপুর জোড়া মন্ডপস্থ বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী সম্প্রদায়ের রাসলীলা অনুষ্ঠান স্থলে যাওয়া যায়। অন্যদিকে কমলগঞ্জ উপজেলা সদরের ভানুগাছ বাজার চৌমুহনী অথবা উপজেলা চৌমুহনী থেকে যেকোন যানবাহনে আদমপুর সড়ক দিয়ে প্রায় ৮ কিঃ মিঃ এগিয়ে গেলেই আদমপুর বাজার। আদমপুর বাজারের পার্শ্বেই মণিপুরী মৈ-তৈ সম্প্রদায়ের মহারাসলীলার অনুষ্ঠানে যাওয়া যায়। #

ইসি নতুন যেসব সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে

নিউজ ডেস্ক:: আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরিসহ নানা বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন ইসি। এই নির্দেশনা দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৃহস্পতিবার বৈঠক করবে ইসি।বুধবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ইসির সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।

তিনি বলেন,‘অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান জোরদার করা, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নারী ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়া নির্বিঘ্ন করা, রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের নিরাপত্তা, নির্বাচনী সামগ্রীর হেফাজত করা, নির্বাহী ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের নিরাপত্তায় পুলিশ পাহারা দেওয়া, নির্বাচনের আগে, ভোটের দিন ও ভোট পরবর্তী সময়ের সার্বিক পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখার বিষয়গুলো নিয়ে বিশেষ সভায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি নির্দেশনা থাকবে।’

ইসি সচিব বলেন, ‘নির্বাচনী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন। সভা থেকে নির্বাচনের আগে-পরে ও ভোটের দিনের পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু রাখতে ১২ দফা নির্দেশনা দেওয়া হবে।’

হেলালুদ্দীন আরো বলেন, ‘এর মধ্যে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বাসভবন ও অফিস কার্যালয়ে নিরাপত্তা জোরদার করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও রয়েছে।’

সচিব বলেন, ‘বিশেষ সভা থেকে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে নির্বাচনপূর্ব শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টিতে করণীয় স্থির করা, নির্বাচনী আইনের বিধান প্রতিপালনের পরিবেশ তৈরি করা, নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা পরিকল্পনা তৈরি করার মত বিষয় আছে। এ ছাড়া যাতে সব প্রার্থী প্রচার-প্রচারণায় সমান সুযোগ পান, নির্বাচনের আচরণ বিধিমালা প্রতিপালনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা যাতে নির্বিঘ্নে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে পারেন- সেজন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুলিশ সদস্য নিয়োগ করা হবে।’

ইসি সচিব বলেন, ‘নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বেড়ে যায়। বৈধ অস্ত্রের অপব্যবহারও বেড়ে যায়। এমনকি কিছু গোষ্ঠী বা আন্ডারগ্রাউন্ডের সন্ত্রাসীদের তৎপরতাও বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এগুলো রোধে পুলিশের করণীয় ঠিক করা হবে। এ সময় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলার মাত্রা যাতে না বাড়ে সে বিষয়টিতেও বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেওয়া হবে। সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অপর চার কমিশনার উপস্থিত থাকবেন। এ ছাড়া এই সভায় পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি), জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব, সব মহানগর পুলিশ কমিশনার, উপমহাপুলিশ পরিদর্শক ও পুলিশ সুপাররা (এসপি) উপস্থিত থাকবেন।

ইসি সচিব আরো বলেন, ‘সীমান্তবর্তী ও দুর্গম এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ সতর্কতা জারি করা হবে। জঙ্গি চক্র যাতে মাথা চাড়া দিয়ে না উঠতে পারে- এ বিষয়গুলোতেও আলাদা নির্দেশনা থাকবে। এ ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিশেষ সভায় সেনা সদস্যদের কোনো প্রতিনিধি থাকবে না জানিয়ে সচিব বলেন, ‘সেনা প্রতিনিধিদের প্রতীক বরাদ্দের পর আইনশৃঙ্খলা বৈঠকে ডাকা হবে। যে সভাটি আগামী ১০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।’

বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এবং পৌরসভার মেয়র হিসেবে নির্বাচিত কোনো জনপ্রতিনিধি আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবেন না

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

images

বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এবং পৌরসভার মেয়র হিসেবে নির্বাচিত কোনো জনপ্রতিনিধি আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবেন না। বুধবার (১৪ নভেম্বর) বিকেলে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার সময় সূচনা বক্তব্যেই প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

পরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, বুধবার গণভবনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে বর্তমানে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ ছাড়াও পৌর মেয়ররাও ছিলেন। কিন্তু শুরুতেই শেখ হাসিনা জানিয়ে দেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিতরা নৌকার টিকিট পাচ্ছেন না আগামী নির্বাচনে।

তিনি বলেন, এটা আমাদের নীতিগত সিদ্ধান্ত। আমরা উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েছি, আমরা পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী দিয়েছি, সিটি করপোরেশনেও মেয়র প্রার্থী দিয়েছি। এছাড়া জেলা পরিষদ নির্বাচনেও আমরা প্রার্থী দিয়েছি। আমরা তাদের জিতিয়েও এনেছি। কাজেই তারা তো অলরেডি পদ পেয়ে গেছেন। তাদের তো পাওয়ার দরকার নেই। বরং যারা এখনও পদ পাননি, তাদের মধ্য থেকে আমরা সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন দেবো।

তিনি বলেন, একটি কথা নেত্রী তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, যারা জেলা পরিষদ, উপজেলা বা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কিংবা পৌরসভার মেয়র পদে নির্বাচিত হয়েছেন, তারা তো একটি পদে আছেনই। যদি তারা এখন কেউ এমপিও হতে চান, তাহলে ওই পদ খালি করে এমপি হতে হবে। এটা একটা ঝুঁকি। এই ঝুঁকিটা আমরা কেন মাঝপথে জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নেব?

ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের দলের অনেক নেতা আছেন, যাদের অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে, অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে, অনেক জেল-জুলুমের মুখে পড়তে হয়েছে। তাদেরও কিছু প্রাপ্য রয়েছে। আপনারা যারা পদে আছেন, তারা তো কিছু একটা পেয়েছেন। কিন্তু যারা পাননি, আমরা তাদেরকে প্রোভাইড করব। এ কথাটি প্রধানমন্ত্রী বলেছেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি যারা আছেন, তারা যেন এখানে আর আশা না করেন (সংসদ সদস্য পদে দলীয় মনোনয়ন)। তারপরও বিশেষ কোনো প্রয়োজনে যদি কাউকে দিতে হয়, সেটা পরিস্থিতি বলে দেবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে দলের মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে বসা হবে। তখন দেখা যাবে কোথায় কী পরিস্থিতি দাঁড়ায়। তবে আমাদের সাধারণ যে সিদ্ধান্ত, আমরা জেলা বা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কিংবা সিটি করপোরেশন বা পৌরসভার মেয়র যারা আছেন, তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তারা এখানে মনোনয়ন চাইবেন না এবং তারা মনোনয়ন চাইলেও আমরা তাদের দেবো না। এই কথা আমরা তাদের জানিয়ে দিয়েছি।

সুত্র- সংগ্রহ