সদ্য সংবাদ

শমশেরনগরে চা-শ্রমিক সংঘের সমাবেশ বাচাঁর মতো মজুরি, গণতান্ত্রিক শ্রম আইন ও অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকারের দাবি

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট


আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস ‘মহান মে দিবস’ উদযাপনের ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে চা-শ্রমিক সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির উদ্যোগে কমলগঞ্জ উপজেলার শমসেরনগরে সমাবেশ করেছেন চা শ্রমিকরা। রোববার (৫ মে) সকাল সাড়ে ১১ টায় সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয় সম্মুখে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বাঁচার মতো মজুরি, গণতান্ত্রিক শ্রম আইন ও অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকারের দাবি জানানো হয়।
শমসেরনগরে চা-শ্রমিক সংঘের প্রবীণ চা শ্রমিক নেতা স্যামুয়েল বেগম্যান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট-এনডিএফ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সভাপতি কবি শহীদ সাগ্নিক, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সভাপতি মো. নুরুল মোহাইমীন মিল্টন ও ধ্রুবতারা সাংস্কৃতিক সংসদ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অমলেশ শর্ম্মা। সমাবেশের শুরুতে সিলেট আইন মহাবিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যক্ষ, বিশিষ্ট আইনজীবী, সাম্রাজ্যবাদ-সামন্তবাদ বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অগ্রসৈনিক, ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক, পূর্ব-পাকিস্তান চা-শ্রমিক সংঘের কোষাধ্যক্ষ ও আইন উপদেষ্ঠা রাজনীতিবিদ এডভোকেট মনির উদ্দিন আহমদ এর মৃত্যুতে তাঁর অসমাপ্ত কাজকে অগ্রসর করার প্রত্যয়ে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দাড়িয়ে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চা-শ্রমিক সংঘের যুগ্ম -আহবায়ক হরিনারায়ন হাজরা, সুনছড়া চা-বাগানের প্রশান্ত কৈরী, রঞ্জু নাইড়–, পুষ্প কালিন্দী, গণেশ বাসফোর, সুনীল কর, রাজনগর চা-বাগানের শ্রমিকনেতা নারায়ন গোড়াইত, হেমরাজ লোহার, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস, মৌলভীবাজার জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শাহীন মিয়া, মৌলভীবাজার জেলা রিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সোহেল মিয়া প্রমূখ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ১৮৮৬ সালে রক্তঝরা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে শ্রমিক শ্রেণি সামাজিক স্বীকৃতি এবং বিশ্বব্যাপী ৮ ঘন্টা শ্রম, ৮ ঘন্টা বিশ্রাম ও ৮ ঘন্টা বিনোদনের দাবি প্রতিষ্ঠিত করে। ৮ ঘন্টা শ্রম দিবস এবং মহান মে দিবসে ছুটি কারো দান নয় বরং শ্রমিক শ্রেণীর রক্তস্নাত পথে অর্জিত অধিকার। প্রয়াত চা-শ্রমিকনেতা মফিজ আলীসহ তৎকালীন চা-শ্রমিক নেতৃবৃন্দের ভূমিকায় ১৯৬৪ সালে ৩ মে শমসেরনগরে পূর্ব-পাকিস্তান চা-শ্রমিক সংঘের উদ্যোগে প্রথম মহান মে দিবস পালন করে। সেই সময় মে দিবসে চা-শ্রমিকদের ছুটি ছিল না। পূর্ব-পাকিস্তান চা-শ্রমিক সংঘের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে চা-শ্রমিকরা মে দিবসে আজও ছুটি ভোগ করছেন। দেড়শ বছরের বেশি সময় চা-শ্রমিকদের ছুটির দিনের মজুরি থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছিল, চা-শ্রমিক সংঘের আইনী ও প্রচার আন্দোলনের কারণে ২০১৬ সাল থেকে চা-শ্রমিকরা ছুটির দিনের মজুরি পাচ্ছেন, যদিও সে ক্ষেত্রেও রয়েছে বে-আইনী শর্ত।
সমাবেশ থেকে বর্তমান বাজারদরের সাথে সংগতিপূর্ণভাবে মাসিক ২০ হাজার টাকা মূল মজুরি হিসেবে দৈনিক ৬৭০ টাকা মজুরি, চা-শিল্পে নৈমিত্তিক ছুটি(বছরে ১০ দিন) কার্যকর ও অর্জিত ছুটি প্রদানে বৈষম্যসহ শ্রম আইনের বৈষম্য নিরসন করে গণতান্ত্রিক শ্রমআইন প্রণয়ন এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিনে মজুরি ও উৎসব বোনাস প্রদানে সকল অনিয়ম বন্ধ করে শ্রমআইন মোতাবেক নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র, সার্ভিস বুক প্রদান এবং ৯০ দিন কাজ করলেই সকল শ্রমিককে স্থায়ী(পাক্কা দফা) করার দাবি জানানো হয়।