সদ্য সংবাদ

সংস্কৃতি চর্চাকে বিকশিত করতে তৃণমূল পর্যায়ে শেখ হাসিনার সরকার কাজ করে যাচ্ছে – কমলগঞ্জে সংস্কৃতি-বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুর

Pic- Kamalgonj-1

 কমলকুঁড়ি রিপোর্ট   :
সংস্কৃতি-বিষয়কমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুর এমপি বলেছেন, সংস্কৃতি চর্চাকে বিকশিত করতে তৃণমূল পর্যায়ের নিয়ে শেখ হাসিনার সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এই সংস্কৃতি জাতি সংঘ স্বীকৃতি দিয়ে গেছে। কমলগঞ্জ উপজেলা একটি বিচিত্রময় এলাকা। এখানে নানা ভাষাভাষি, জাতি গোষ্ঠীর বসবাস। প্রত্যেক মানুষের তাদের নিজ নিজ ভাষা সংস্কৃতি বিকাশে অধিকার রয়েছে। এরই মধ্যে তিনটি ভাষা গুরুত্বপূর্ণ বাংলা, ইংরেজি ও সংস্কৃতি। বাংলাদেশে অসংখ্য ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সম্প্রদায়ের বসবাস। এসব নৃ-গোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি বাংলাদেশকে ফুলের বাগানের মত বিকশিত করে রেখেছে। গতকাল মঙ্গলবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে আদমপুর ইউনিয়নের তেতইগাঁও গ্রামে মণিপুরী কালচারাল কমপ্লেক্স্র প্রাঙ্গণে  বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতির বিকাশ ও মাতৃভাষায় প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা চালুসহ শিশুশিক্ষার মান উন্নয়নের ক্ষেত্রে করণীয় বিষয়ক সচেতনতামূলক সম্মেলনী-২০১৮-তে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথাগুলি বলেন গণ-প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান নুর।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মূল আয়োজক বাংলাদেশ মণিপুরী আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট সমাজসেবক সমরজিত সিংহ। বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী ফোরামের সভাপতি পিডিসন প্রধানের সভাপতিত্বে শিক্ষক সাজ্জাদুল হক স্বপন ও শিক্ষিকা বিলকিছ বেগমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযৃক্তি বিশ্ব বিদ্যালয়ের নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ড: আব্দুল আউয়াল বিশ্বাস,ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের ভাষা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাক ড: সৌরভ সিকদার, মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মো: তোফায়েল ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহাজালাল, কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক রফিকুর রহমান,অ ান্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের উপ-পরিচালক ড: কানিজ ফাতেমা,  প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের সিলেট বিভাগীয় উপ-পরিচারক তাহমিনা খাতুন, কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক, মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান তফাদার রিজুয়ানা ইয়াসমীন (সুমী) ও বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী ফোরামের সহ-সভাপতি জিডিসন প্রধান সুছিয়াং।
সম্মিলনীর শুরুতেই বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের মণিপুরী, খাসিয়া, চা জনগোষ্ঠী, সাওতাল সসম্প্রদায়ের শিল্পীদেও ৪০ মিনিট স্থায়ী একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। এর পর উত্তরীয় পরিয়ে ও ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয় প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিদের।
প্রধান অতিথি সংস্কৃতি মন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান নুর আরও বলেন, আপনারা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সম্মিলিত সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রস্তাবনা তুলে ধরলে তিনি মন্ত্রী হিসাবে বাস্তবায়ন করা সহজ হবে। আর এ জন্য সরকারের বিভিন্ন বিভাগের বিষেজ্ঞরা কর্মরত রয়েছেন। ক্ষুদ্র জাতির গোষ্ঠীর মাঝে চা জনগোষ্ঠী অনেকটা পিছিয়ে আছে। তাদের সংস্কৃতির বিকাশে আগামীতে চা শিল্পাঞ্চলে একটি সংস্কৃতি কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। সংস্কৃতি মন্ত্রী বলেন, মানুষের মাথা পিছু আয় বেড়েছে। মানুষ এখন আর না খেয়ে থাকে না। আগে আগে যে কোন অনুষ্ঠানে এলে হাততালি জন্য বলা লাগে না। এমনিতেই হাততালি দেয়া হয়। এখন সকলের হাতে মোবাইল ফোন হাততালি তেমন দেয়া হয়। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, দেশের মানুষও এগিয়ে যাচ্ছে। তা একমাত্র এই শেখ হাসিনার সরকারের আমলে হয়েছে। তিনি সরাসরি ভোট চাইছেন না। শুধু অনুরোধ করে বলেন, যদি গণতন্ত্র বিশ^াস করি নির্বাচনের মাধ্যমে এগিয়ে যাব। বিগত ১০ বছর আগের শেখ হাসিনার নেতৃত্বে চলমান ১০ বছরের বাংলাদেশের কথা ভেবে সবাই সিদ্ধান্ত নিলেই অবশ্যই আবারও আওয়ামীলীগকে নির্বাচিত করবেন এটাই বাস্তবতা।  এক কথায় শেখ হাসিনার কোন বিকল্প নেই। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি দেখে যে কোন পন্থের মানুষ বলবে শেখ হাসিনার কোন বিকল্প নেই ।
অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক, সাংবাদিক ও প্রশাসনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।