সদ্য সংবাদ

শমশেরনগরে ময়লার স্তুপে নালার মুখ বন্ধ, বর্ষায় পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতার আশঙ্কা

কমলকুঁড়ি রিপোর্ট

Kamalgonj Pic Drane

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর বাজারে ময়লার স্তুপে বাজারের পানি নিষ্কাশনের প্রধান নালার মুখ বন্ধ হয়ে গেছে। বাজারের বিভিন্ন ছোট নালাসহ চা বাগানের টিলা থেকে নেমে আসা  পানি নিষ্কাশনে বর্ষায় বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাজার পরিচ্ছন্নকারীরা প্রতিদিনকার ময়লা ফেলে এ অবস্থার সৃষ্টি করেছেন বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
মৌলভীবাজার জেলার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি জনপদ হচ্ছে শমশেরনগর। কমলগঞ্জ, কুলাউড়া ও রাজনগর উপজেলার ২৫ টি ইউনিয়নবাসীর দৈনন্দিন হাটবাজার হচ্ছে এখানে। ফলে  অতিরিক্ত ক্রেতাবিক্রেতার চাপে প্রতিদিনই প্রচুর পরিমাণে ময়লা আবর্জনা জমে। ভোর রাতে পরিচ্ছন্নতাকারীরা এসব আবর্জনা ফেলছে বাজারের দক্ষিণ দিকে শমশেরনগর-কমলগঞ্জ সড়কের হাজী মো: উস্তওয়ার বারিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের বড় নালার মুখে। ময়লা আবর্জনা জমে নালাল মুখ সম্পূর্ণরুপে বন্ধ হয়ে গেছে।
শমশেরনগর-কমলগঞ্জ সড়কের দুই দিকেই এ বাজারের দুটি বড় কাঁচা বাজার। এ দুটি বাজার থেকে ও আরও দুটি সড়ক থেকে বেশ কয়েকটি ছোট নালা এসে মিশেছে হাজী মো: উস্তওয়ার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের বড় নালায়। মাছ বাজার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে সেখানে গবাদি পশুর মাংস বিক্রির দোকানের পিছনেও দীর্ঘ দিন থেকে ময়লা আবর্জনা ফেলে বিশাল আকারের আবর্জনার স্তুপে পরিণত হয়ে এখন আর  সেখানে ময়লা রাখারও স্থান নেই। এ সুযোগে পরিচ্ছন্নতাকারীরা গত মাস দুয়েক ধরে ময়লা আবর্জনা এ নালার মুখে ফেলছেন। ফলে বড় নালাটির মুখ বন্ধ হয়ে এখনই পিছনের ধানি জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
হাজী মো: উস্তওয়ার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি আইয়ূব আলী, শিক মো: সালাহ উদ্দীন তফাদারসহ এলাকাবাসী আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এখন যদি নালার মুখ থেকে আবর্জনা অপসারণ না করা হয় তা হলে আসন্ন বর্ষায় পিছনের ধানি জমিতে বড় ধরনের জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে। সাথে সাথে বাজারের ছোট ছোট অন্যান্য নালার পানি এসে সড়ক নিমজ্জিত করবে। বাজারের পরিচ্ছন্নতাকামীরা বলেন, আসলে শুধু তারা নন বাজারের অনেক দোকানদাররাও নালার মুখে আবর্জনা ফেলেন। তাছাড়া ময়লা আবর্জনা ফেলার নির্ধারিত স্থান করে দিলে তারা সেখানেই আবর্জনা ফেলবেন।
শমশেরনগর বণিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি আব্দুল মালিক ও সাধারন সম্পাদক এম এ আউয়াল ময়লা আবর্জনার স্তুপে নালার মুখ বন্ধের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আসলে এখানে আবর্জনা ফেলার কোন নির্দিষ্ট স্থান না থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত নালার মুখ থেকে আবর্জনা অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে তারা আরও বলেন, বিকল্প একটি স্থান খোঁজা হচ্ছে যেখানে স্থায়ীভাবে ময়লা আবর্জনা ফেলা যাবে। এ ব্যাপারে তারা মৌলভীবাজার- ৪ আসনের সাংসদ উপাধ্য ড. মো: আব্দুস শহীদ ও মৌলভীবাজার-২ আসনের সাংসদ আব্দুল মতিনের সহায়তা কামনাও করেছেন।