সদ্য সংবাদ

বড়লেখায় পুলিশ-ডাকাত গুলিবিনিময় ২ ওসিসহ আহত ১৭-অস্ত্রসহ ৭ ডাকাত আটক

Barlekha-30

বিশেষ প্রতিনিধি :

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় পুলিশ-ডাকাত গুলিবিনিময়ে বড়লেখা থানার ওসিসহ ১৭ জন আহত হয়েছেন। ৩০ আগস্ট মঙ্গলবার রাত তিনটার দিকে উপজেলার দক্ষিণভাগ ইউনিয়নের পূর্বদক্ষিণভাগ এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় অস্ত্রসহ ৭ ডাকাতকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন-হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার যাদবপুরের জিতু মিয়া (৪২) ও হরিচন্দ্রপুরের আব্দুল খালিক (৩৭), মাধবপুর উপজেলার কালীনগরের আসিক আহমদ (৩৫), শিবপুরের খলিলুর রহমান (২৩), সাতপারিয়ার জাহাঙ্গীর (২৫), কামাল (৩৬) ও এখতিয়ারপুরের নুর মিয়া (২৮)। এসময় তাদের কাছ থেকে ৫টি মোবাইল, ৪ রাউন্ড কার্তুজ, ৩টি রাম দা, ১টি দা, ২টি ছোরা, ১টি চিরা পাঞ্জা, ১টি সিদ কাটি, ১টি লাইট উদ্ধার করা হয়।
থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত তিনটার দিকে উপজেলার দক্ষিণভাগ ইউনিয়নের পূর্বদক্ষিণভাগ এলাকার প্রবাস ফেরৎ ধনু মিয়ার বাড়িতে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে একদল ডাকাত। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ একটি মাইক্রোবাস যোগে ধনু মিয়ার বাড়ির সামনে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করে ডাকাতরা গুলি ছুড়ে। এতে মাইক্রোবাসের (সিলেট-ছ-১১০৬১৭) কাঁচ ভেঙে যায়। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি ছুড়ে। এতে পুলিশসহ উভয়পক্ষের ১৭ জন আহত হন। আহতরা হলেন-বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মনিরুজ্জামান, ওসি (তদন্ত) আকবর হোসেন, এসআই আনোয়ার উল¬্যাহ, অমিতাভ তালুকদার, দ্রুবেষ চক্রবর্তী, দেবাশীষ, কনস্টেবল আজগর, কামিল, শহীদুর, আতাউর। তাঁদের শরীরের বিভিন্নস্থানে গুলির ছররা লেগেছে। তাঁরা বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। অপরদিকে ডাকাত দলের আহতরা হলেন-জিতু মিয়া, আব্দুল খালিক, আসিক আহমদ, খলিলুর রহমান, জাহাঙ্গীর, কামাল ও নুর মিয়া। তাদের বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মনিরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ডাকাতির খবর পেয়ে ধনু মিয়ার বাড়ির সামনে গেলে ডাকাতরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ ২৫ রাউন্ড গুলি ছুড়ে। এতে পুলিশসহ উভয় পক্ষের ১৭ জন আহত হন। আমার কোমরে গুলির ছররা লেগেছে। ব্যান্ডেজ করতে হয়েছে। ওসি তদন্তেরও হাতে ব্যান্ডেজ লেগেছে। গ্রেফাতারকৃত ডাকাতদের মধ্যে পেশাদার ও জেলখাটা ডাকাত রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে। অস্ত্র আইন, ডাকাতির প্রস্তুতি ও পুলিশের উপর আক্রমনের তিনটি পৃথক মামলা করা হবে।