সদ্য সংবাদ

মোদি-কোহলিরা একই দিনে ঢাকায় পা রাখছেন

full_60976824_1432795489নিউজ ডেস্ক: আগামী ৬ জুন নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরে মিলেমিশে যাচ্ছে ক্রিকেট আর কূটনীতি! একটা দেশের প্রধানমন্ত্রী প্রথমবারের মতো প্রতিবেশী কোনও দেশে সফরে আসছেন– আর সে দিনই তাদের ক্রিকেট দল সে দেশে সিরিজ খেলতে পা রাখছে। এমন দৃষ্টান্ত শুধু দক্ষিণ এশিয়ায় কেন, গোটা দুনিয়াতেই বিরল।

আগামী জুন মাসের প্রথম শনিবার শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যে দুদিনের বাংলাদেশ সফরে আসছেন, দুদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তা এদিনই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে।

যেটা কোনও সরকারই বিবৃতিতে বলেনি, তা হল ওই একই দিনে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে টেস্ট আর ওয়ান-ডে সিরিজ খেলতে কলকাতা থেকে ঢাকা এসে নামছে ভারতীয় দল। ফলে দিল্লি থেকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বিমান ঢাকায় অবতরণ করার একটু আগে-পরেই সেই একই শহরে এসে নামবে ভিরাট কোহলিদের বিমান। অর্থাৎ দেশের প্রধানমন্ত্রী আর দেশের ক্রিকেটাররা একই দিনে, একই সময়ে শুরু করবেন বাংলাদেশের মন জয় করার অভিযান!

ভারতীয় পার্লামেন্ট যতদিন না স্থল সীমান্ত চুক্তি অনুমোদন করছে অথবা তিস্তা চুক্তি নিয়ে ভারতে ঐকমত্য হচ্ছে– ততদিন তিনি যে বাংলাদেশ যেতে চান না, এটা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অনেক আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন। অবশেষে গত মাসে স্থলসীমান্ত চুক্তি নিয়ে ভারতে সব বাধা দূর হওয়ার পরই শুরু হয় তার বাংলাদেশ সফরের প্রস্তুতি- এবং আজ দুদেশের মধ্যে আলোচনাক্রমে ঘোষিত হল সফরের চূড়ান্ত দিনক্ষণ। কিন্তু এই তারিখ নিয়ে আলোচনারও একটা চমৎকার পটভূমি আছে।

আসলে শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে নরেন্দ্র মোদি যখন বাংলাদেশে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন, তখন বাংলাদেশ সরকার ভারতকে জানায় জুন মাসটাই এর জন্য উপযুক্ত হবে– কারণ সে সময় শেখ হাসিনার কোনও বিদেশ সফরের পরিকল্পনা নেই। জুন মাসেও আবার দুটো তারিখ নিয়ে কথাবার্তা চলছিল। একটা মাসের গোড়ার দিকে আর অন্যটা মাসের শেষ দিকে।

কিন্তু জুনের ১৭/১৮ তারিখ নাগাদ আবার রমজান শুরু হয়ে যাবে, আর রোজার মাসে মুসলিম-গরিষ্ঠ একটা দেশে হাই-প্রোফাইল বিদেশি অতিথির আপ্যায়ন করাটা সব সময়ই বেশ সমস্যার – এই যুক্তিতে বাংলাদেশের পছন্দ ছিল জুনের প্রথম সপ্তাহটাই। কিন্তু এত কম সময়ের মধ্যে সফরের সব গ্রাউন্ডওয়ার্ক শেষ করা যাবে কি না, একটু সংশয় ছিল তা নিয়েই।

এরই মধ্যে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় খেয়াল করে, ঠিক একই সময় ভারতীয় ক্রিকেট দলও বাংলাদেশ সফরে যাচ্ছে। আর প্রতিবারের মতো কোনও দ্বিতীয় সারির অনভিজ্ঞ দল নয়, সব তারকাকে নিয়ে পূর্ণশক্তির ভারতীয় দলই সেখানে পাঠানো হচ্ছে। ব্যাস, এটা জানার পর নরেন্দ্র মোদির দফতর ৬ জুন তারিখটাকে ‘ফাইনাল’ করে ফেলার ব্যাপারে আর দ্বিতীয়বার ভাবেনি। কারণ একই দিনে ক্রিকেট আর কূটনীতিকে মিশিয়ে বাংলাদেশের মাটিতে ভারতের এমন চমৎকার বিজ্ঞাপন করার সুযোগ চট করে মিলবে না। এমন সুযোগ হাতছাড়া করার বান্দা অন্তত নরেন্দ্র মোদি নন।

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড সূত্রে জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশ সফরের জন্য স্কোয়াডে নির্বাচিত সব ক্রিকেটারকেই ৫ জুন কলকাতায় চলে আসতে বলা হয়েছে, যেটা আবার বর্তমান বোর্ড প্রেসিডেন্ট জগমোহন ডালমিয়ারও শহর। পরদিন ৬ জুন, পুরো ভারতীয় দল এক সাথেই রওনা দেবে ঢাকার পথে। এখন যে কথাবার্তা চলছে, তাতে সেই দলের ‘হাই পারফরম্যান্স ম্যানেজার’ বা ‘টিম ডিরেক্টর’ হিসেবে দেখা যেতে পারে ক্রিকেট লেজেন্ড সৌরভ গাঙ্গুলিকেও।

বঙ্গসন্তান সৌরভ বাংলাদেশে ‘ব্র্যান্ড ইন্ডিয়া’র সবচয়ে জনপ্রিয় অ্যাম্বাসাডরদের একজন, বাংলাদেশ ইতিহাসে তাদের যে প্রথম টেস্ট খেলেছিল তাতেও বিপক্ষ দলের নেতৃত্বে ছিলেন তিনি। সেই সৌরভ গাঙ্গুলি আর নরেন্দ্র মোদি একই দিনে যদি বাংলাদেশে নামেন, তাহলে শুধু মিরপুর বা ফতুল্লা নয় – কূটনীতির পিচেও ভারতের জন্য ব্যাটিংটা অনেক সহজ হয়ে যাবে, ৬ জুন তারিখটা চূড়ান্ত করার আগে দিল্লির এমন একটা ভাবনাও কিন্তু কাজ করেছে।

ভারত সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজ তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে তারা যে কতটা গুরুত্ব দেন, এই সফর হবে তারই প্রমাণ। এই সফরে দুই প্রধানমন্ত্রী স্থল সীমান্ত চুক্তিতে চূড়ান্ত স্বাক্ষর করবেন। কানেক্টিভিটি এবং জ্বালানি খাতেও দুদেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি সমঝোতা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি ও হাসিনার মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা তো হবেই, তা ছাড়া ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী দেখা করবেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গেও। সফরের দ্বিতীয় দিন, অর্থাৎ ৭ জুন নরেন্দ্র মোদি ঢাকার বঙ্গবন্ধু সম্মেলনে একটি সুধী সমাবেশেও ভাষণ দেবেন।

কিন্তু সফরের ভাঁজে ভাঁজে ক্রিকেটকেও গুঁজে দেওয়ার কোনও চেষ্টাই যে বাদ যাবে না- সেটাই এখনই চোখ বুজে লিখে দেওয়া যায়।